অচেনা এক মেয়ে ! Awesome love story

অচেনা এক মেয়ে
লেখা ঃ সাদা কালো মেঘ

মিলা ভয় পেয়ে আমকে জরিয়ে ধরে ফেলছে, অবশ্য আমিও ভয় পেয়েছি কিন্তু বুঝতে দেওয়া যাবে না, মিলা কে আজকের আগেও আমি চিনতাম না তাহলে চলুন শুনি মিলা কে,,,

আমি ঘুরতে খুব ভালবাসি বলতে পারেন ঘুরা আমার নেশা, সময় পেলেই ঘুরতে বের হয়ে পরি বন্ধুদের নিয়ে।
আমার পরিচয় তা দিয়ে নেই আমার নাম হাসনাইন হামিম সবাই হামিম বলে ডাকে,,
পেশায় ফুল্লি বেকার সবেমাত্র পড়াশুনা শেষ করেছি ।

এখন আসি আসল কথায় বাংলাদেশের বেশিরভাগ দর্ষনীয় জায়গা আমার ঘুরা শেষ ,,

এরকম ই একদিন ১০ জন বন্ধু মিলে প্লান করলাম ঘুরতে যাবো বান্দরবান এর পাহাড়ি এলাকা থানচি থানার রেমাক্রি ইউনিয়ন এর জলপ্রভাত নাফাকুম,আফিয়াকুম দেখতে।
তো আমরা চলে গেলাম নাফাকুম আফিয়াকুম,,

এখানে যেতে প্রথম এ বান্দরবান যেতে হবে পরে বান্দরবন থেকে চাদের গাড়িতে থানচি,, ৪/৫ ঘন্টা লাগবে, তারপর আর্মিদের কাছে নাম এন্ট্রি করে তাদের একজন গাইড আমাদের সাথে দিবে সেখান থেকে ট্রলার এ পাহাড় এত মাঝ দিয়ে ২ ঘন্টায় থানচি,,
থানচি থেকে ২-৩ ঘন্টা হেতে এই নাফাকুম, আফিয়া কুম যেতে হয়।

বুঝতেই পারছেন অত্যন্ত নিঝুম যায়গা যেখানে বসবাস করে পাহড়ি রা, কোন নেটওয়ার্ক থাকে না , শুধু পাহাড় আর বন।

আমিরা থানচি রাত কাটিয়ে সকালে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে হেটে নাফাকুম এর উদ্দেশ্য রওনা দিলাম আমরা ছিলাম ১১ জন গাইডসহ। গাইড আমাদের নিয়ে যাচ্ছে রাস্তা দেখিয়ে,, প্রায় ২.২০ ঘন্টা হাটার পর আমরা নাফাকুম এসে পরলাম, এখানে গোসল করে আবার আফিয়াকুম এর উদ্দেশ্য রওনা হলাম যদও অনেকের অবস্থা খারাপ হেটে,,
কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমি একা একা গহীন বনে এসে পরছি, আশে পাশে শুধু বন আর পাহাড় ,, কোন সাড়া শব্দ নাই,, আমি ভয়ে চুপসে গেলাম কি করবো এখন।
বুঝতে বাকি নাই যে আমি এখানে আমার দল থেকে হারিয়ে গেছি।

তাই মাথায় চিন্তা করলাম ন্যাশনাল চ্যানেল এ প্রাইভাল সারভাইভার দেখেছি এরকম যায়গায় হারিয়ে গেলে কিভাবে বেচে থাকতে হয়।

মন কে শক্ত করলাম, পকেটে সিগারেট এর প্যাকেট ছিল একটা ধরাইলাম বসে বসে টানটাছি।
একটু পর খেয়াল করলাম কোন কান্নার শব্দ আসতেছে, তখন খুব ভয় পেলাম ভাবলাম হয়ত আমার জীবন এখানেই শেষ , সাহস করে এগিয়ে গেলাম যদি কোন পাহাড়ি মানুষ থাকে ।
একটু এগোতেই যা দেখলাম তাতে আমি অবাক হলাম আবার খুব ভয় ও পেলাম, ভাবলাম ভুত, পেত্নি কিছু না তো।

সামনে একটা মেয়েকে বসা দেখলাম আমি কাছে যেতে টের পেয়ে তাকিয়ে আমাকে দেখে বিচলিত হলো,, আমি এখন বুঝতে পারলাম একটা মেয়ে সাহস করে কাছে গিয়ে ডাক দিলাম তুমি এখানে?

মেয়েটা আমার কথা শুনে মনে হলো সাহস পেল,,
অচেনা ঃ আমার নাম মিলা আমি বান্ধবী দের সাথে ঘুরতে আসছিলাম কিন্তু আমি একটু ভিতরে আসছিলাম কিন্তু হারিয়ে গেছি এখন রাস্তা খুজে পাচ্ছি না। কিন্তু আপনি কে? এখানে কেন?

তাও আমার ভয় তা কাটে না কারিন শুনছি ভুত না কি মানুষ এর রুপ দিতে পারে, কিন্তু আর একটু কাছে গিয়ে দেখলাম না আসলেই মানুষ একটা মেয়ে।

আমি ঃ আমিও তোমার মতই যাক তাও বাচা গেলো একা হলে তো ভয়েই মরে যেতাম
মিলা ঃ ঠিক বলছেন
হামিমঃ শুনছি এক্টা ছেলে আর একজন মেয়ে একসাথে থাকলে সব কিছু জয় করা সম্ভব সো আমরাও এখান থেকে জীবিত বের হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ ।

মিলা ঃ ইনশআল্ললাহ

আমার খুব খুদা লাগছে বিকাল হয়ে গেছে একটু পর সন্ধা নেমে যাবে এখন ই কিছু খাবার জোগাড় করতে হবে,,
আমি মেয়েটা কে বললাম চল দেখি কিছু পাই কি না না হলে তো না খেয়েই মরে যাবো।

এখানে পাহাড়ি রা প্রচুর কলা চাষ করে পাহাড় এ আবার এমনিও কলা গাছ হয়।

একটু দুরে যেতেই একটা কলা গাছ দেখলাম কিন্তু কলা পাকে নাই,, কিন্তু পেরে রেখে দিলেই পেকে যাবে ।
তাই করলাম কলা গাছ তা ভেংগে কলা পারলাম,,

এখন চিন্তান করতাছি রাত তা কিভাবে পার করবো একটা যায়গা পছন্দ করলাম সেখনে গাছের পাতা ডাল দিয়ে কোন রকম বসার মত জায়গা করলাম।

যেহেতু আমি স্মোক করতাম তাই কপাল ভাল লাইটার ছিলো, সেটা দিয়ে আগুন জালাইলাম,, আর খুদায় কাচা কলাই খেতে লাগলাম দুজন ই।

রাত তখন কয়টা বাজে ঠিক জানিনা তবে মনে হলো ১০/১১ টা হবে,, খুব টায়ার্ড লাগছে কিন্তু ভয় এ ঘুম ও আসতেছে না।

মিলা কে জিজ্ঞেস্ত করলাম তুমি কোথায় থাক কিসে পরো বাড়ি কোথায়
মিলাঃ আমি এবার অনার্স ৩ য় বর্ষ এ পড়ি, বাড়ি ফেনী, ঢাকায় থাকি। ভার্সিটির ভ্রমন এ আসছি তারপর বাকিটা ইতিহাস।

এভাবেই অনেক্ষন গল্প করলাম আজকে আকাশে চাদ ছিল চাদের আলো তে মিলার মুখ তা হাল্কা দেখা যাচ্ছে,, খুব মায়াবী গালের বা পাশে একটা তিল আছে যেটার প্রতি আমি খুব দুর্বল।

হঠাৎ কিসের যেনো ভয়ংকর একটা শব্দ হলো মিলা ভয় পেয়ে আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো কিন্তু আমি ধরবো কাকে?
আমার ও তো খুব ভয় হচ্ছে।

না হামিম ছেলদের ভয় পেতে নাই সাহস রাখতে হবে ,

হামিমঃ মিলা ভয় পেয়ো না আমি আছি তো
মিলা কিছু বলল না,, আতংকের মধ্যে রাত গভীর হতে থাকলো,, একটু শীত লাগতাছে,,মিলা এখনো আমাকে ধরেই আছে আমাকে ছারছে না আর কাপতাছে হয়ত অনেক ভয় পেয়েছে,, বড়লোক এর মেয়ে এরকম জংগল এত ভিতরে রাতে ভয় পাওয়া টা স্বাভাবিক ।

হঠাৎ ঘুমিয়ে গেলাম কারন খুবই ক্লান্ত ছিলাম,,, পাখির কিচির মিচির ডাকে ঘুম ভাংলো,, বুঝলাম সকাল হয়ে গেছে।।
মিলা এখনো আমাকে ধরে বসে ঘুমিয়ে রয়েছে তার চুল গুলো হাল্কা কপাল এর উপরে আছে খুবই মায়াবী লাগছে তাকে,, যে কোন ছেলে এই অবস্থায় দেখলে প্রেমে পরে যাবে,,

মোবাইল টা বের করলাম তার একটা ছবি তুলে রাখলাম,, মোবাইল টাও বন্ধ হয়ে গেলো চার্জ নাই আর কত থাকবে,,।

হঠাৎ নারাচড়ার শব্দ পেয়ে মিলার ঘুম ভেংগে গেলো, আমাকে ধরে ঘুমিয়ে ছিল এটা দেখে খুব লজ্জা পেল, তাই সরিও বলল।

আর এ আর সরি বলতে হবে না চলো দেখি কলা গুলা পাকছে কি না,, হ্যা হালকা পাকছে এখন খাওয়া যায়।।
কাল কলা গুলা কে পাতা দিয়ে ডেকে রাখছিলাম যাতে একটু গরম পেয়ে তারতারি পেকে যায় কাজে লাগছে।

কলা খাওয়ার পর একটা আলাদা শক্তি পেলাম এরকম পিউর কলা ঢাকা শহরে পাওয়া যায় না।

চলো এখন দেখি চেস্টা করে কোথাও বের হওয়া যায় কি না,, মিলাও বললো চলেন,, এভাবে অনেক্ষন হাটার পর কোন কুল কিনারাই পাচ্ছি না, শুধু পাহাড় আর জংগল।

কিছুক্ষন বসলাম, মিলা আমাকে বললো হয়ত এখানেই আমাদের থাকতে হবে আজীবন ।
তাহলে তো ভালই হয়ে
মিলা ঃ কি বললেন?
না কিছুনা ঠিক ই বের হয়ে যাবো আর্মি আমাদের খুজে বের করবে।

যদিও মিলার সাথে আমার সময় গুলা ভালই লাগতাছে শুধু খাবার পেলেই হয়।

হঠাৎ প্রচুর বৃস্টি শুরু হলো ভিজা ছাড়া আর কোন উপায় নাই তারপর ও একটা গাছের নিচে বসলাম,, ভেজা শরীর এ মিলা কে খুব সুন্দর লাগছে ঠান্ডায় সে কাপতাছে এখন তার শরীর এর অনেক কিছুই বুঝা যাচ্ছে,,
আমার কু মতলব আসতেছে মাথায়, তার কাছে গেলাম,,
না না হামিম এগুলা কি করছো একটা অসহায় মেয়েকে কিছু করে কাপুরুষ রা তুমি কি কাপুরুষ, আমার বিবেক বাধা দিলো তাকে আমার সার্ট তা খুলে গায়ে জড়িয়ে দিলাম।
আমার গায়ে নিচে গেঞ্জি ছিল,, যদিও আমার ও শীত লাগতাছে কিন্তু বীরপুরুষ সাজতে গেলাম আর কি ।
মিলা মানা করছিল কিন্তু আমি তার কথা শুনলাম না বললাম চলো এখন সামনের দিকে যাই দেখি মানুষ পাই কি না।
অনেকদূর হাটলাম দুপুর হয়ে গেলো প্রায় পা গুলাও অবস হয়ে যাচ্ছে পেট এ ও খুদা,, কিছু করার নাই জীবন তো বাচাতে হবে,,

মিলা বললো কি করব এখন,, জানিনা মিলা যা আছে কপাল এ।

কিছুদুর যেতেই মানুষ বাস করার কোন চিহ্ন পেলাম,, কিছুদুর সামনে এগোতেই দেখলাম একটা পারা,, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী একসাথে থাকে,, তাদের মধ্যে থেকে দুজন আমাদের কাছে আসল,, তারা যা বললো কিছুই বুঝতে পারলাম না তবে মনে হলো বললো তোমারা এখানে কিভাবে আসলা,,

তখন আমি বললাম আমরা আমাদের দল থেকে হারিয়ে এখানে এসে পরছি এখন আর বের হতে পারছি না।

আগে জানতাম তারা বাংলা বুঝে কিন্তু তাদের কথা আমাদের বুঝতে সমস্যা হয়।
যাইহোক সব খুলে বললাম তারা তাদের পারার সর্দার এর কাছে নিয়ে গেলো,, তাদের একজন হেড থাকে তাকে হেড বলা হয়,, তার কথায় অই পারায় সব কিছু হয়,, তার কাছে নিয়ে যাওয়ার পর সব খুলে বললাম সে কিছু বললো যে তোমাদের চিন্তা নাই এখানে আপাতত ফ্রেশ হয়ে কিছু খাওয়া দাওয়া করো।।

আমাদের জন্য রান্না হলো একটা রুম এ নিয়ে গেলো আমাদের রুম গুলা বাস এর তৈরি, কাঠ, গাছ দিয়ে দেখতে খুবই সুন্দর আমাদের একটু পর রুম এ খাবার দিয়ে গেলো,, আলু বর্তা, ডাল আর মাংস।
কিসের মাংস সেটা জানিনা তাই বর্তা আর ডাল দিয়ে খেলাম অনেক খুদা লাগছিল মাংস খেলাম না কারন তারা শুওওর খায় এগুলা যদি সেটা হয়। মিলা কেও না করলাম খেতে।
সেদিন হেড এর সাথে অনেক গল্প করলাম তাদের লাইফ সম্পর্কে সে অনেক কিছু বলল,, তাদের মধ্যে না কি মেয়েরাই বাহিরে কাজ করে আরো অনেক কিছু,, তারা মনে করছে আমরা জামাই বউ তাই আমাদের একটা ছোট রুম এ থাকতে দিলো,, মিলা কে বললাম কিছু করার নাই আমাকে বিশ্বাস করতে পারো আজকের রাত তা পার করো কাল তো তারা আমাদের রেমাক্রি দিয়ে আসবে।
মিলা ও বুঝলো কিছু করার নাই বাধ্য হয়েই আমার সাথে থাকতে হবে।
রাতে কারোর ই ঘুম আসছেনা এক অজানা ভয় কাজ করছে,, মিলা একপাশে আমি একপাশে শুয়ে আছি।

হঠাৎ মিলা কে বললাম এই দুইটা দিন খুব মিস করবো,,
আমিও মিস করবো (মিলা)
একটা কথা বলবো মিলা?
তুমি অনেক চুপচাপ থাকো,, কিন্তু তোমার মাঝে একটা মায়া আছে, কেন জানি এই দুইদিন এ তোমাকে খুব কাছের মনে হচ্ছে।
আর এ কি যে বলেন,, আমি কথা বলি কিন্তু এই সিচুয়েশনে আসলে চুপ হয়ে গেছি আপনার সাথে এভাবে পরিচয় হবে কখনো ভাবি নাই,, না হলে হয়ত এতদিন এ উপরেই চলে যেতাম। (মিলা)
আর এ না আল্লাহ ই রক্ষা করতো, হঠাৎ কিসের জানি একটা শব্দ হলো আবারও মিলা আমাকে ভয়ে জরিয়ে দরলো,, এরকম শব্দ বার বার হয়না কেন মনে মনে।

হঠাৎ মিলা আমার থেকে সরে গিয়ে সরি সরি খুব ভয় পেয়ে ছিলাম তাই।
আর এ না কি যে বলো তোমাকে তো আমি আজীবন এর জন্য এভাবে জরিয়ে রাখতে চাই।
কি??(মিলা)
না কিছুনা বলছিলাম কালকে তাহলে আমরা চলে যাবো।
হুম
আমার তো এখানেই থাকতে মনে চাচ্ছে,
আপনি থেকে যান ওনাদের সাথে (মিলা)
তুমি সাথে থাকলে থাকবো
আমার এই জংগল এ থাকার ইচ্ছা নাই (মিলা)

আমি আসলে মিলা কে ভালবেসে ফেলছি কিন্তু না এখন কিছু বলা যাবেনা আগে জানতে হবে সে আমাকে পছন্দ করে কি না।।
মিলা কে জিজ্ঞেস করলাম তার কোন রিলেশন আছে কি না,,
মিলাঃ কি মনে হয় আপনার?
আমিঃ মনে হয়ত অনেক কিছু কিন্তু তুমি বলো
মিলাঃ না নাই আমি বিয়ের আগে প্রেম করব না ভাবছি তাই করিনাই,
আমিঃ গুড, খুশি হলাম
মিলাঃ খুশি হওয়ার কি আছে?
আমিঃ না তুমি বুঝবনা, একটা কথা বললে রাখবা?
মিলাঃ রাখার মত হলে রাখবো
আমিঃ আমাকে তুমি করে বলতে হবে
মিলাঃ দেখি
আমিঃ না দেখি না বলতে হবে
ওকে
রাত গভীর হতে লাগলো আমি আর মিলা একি রুম এ আমার মাথায় অনেক সময় শয়তানি বুদ্ধি আসে কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল করি।

আর কার মাথাই ঠিক থাকবে বলেন একটা যুবতী মেয়ে যদি পাশে থাকে ।
তারপর ও নিজেকে সান্তনা দিলাম যে মেয়েদের দুর্বলতা কাজে লাগাতে নাই।
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম,, সকালে মিলার আগে আমার ঘুম ভেংগে গেলো, আজকেও দেখি মিলা আমাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে আমি কিছু বললাম না তার দিকে শুধু তাকিয়ে আছি,,

একটা মেয়ের মাঝে এত মায়া থাকতে পারে,, কতক্ষন যে তাকিয়ে আছি নিজেই জানিনা।
মনের আজান্তেই তার কপালে একটা চুমু দিলাম,, স্পর্শ পেয়ে মিলা জেগে গেলো।
এ অবস্তায় দেখে আমার নিজেকে ছাড়িয়ে নিল, নিজের কাছে খুব খারাপ লাগলো কি করলাম আমি, চুমু দিলাম মিলা বুঝে ফেলল না তো। বুঝলে তো মান ইজ্জত শেষ ।
কিন্তু মিলা কিছু বলল না হয়ত বুঝে নাই না হলে বুঝেও না বুঝার বান করছে, তাতে আমার কি😆
সকালে নাস্তা করে আমাদের সাথে একজন কে দিয়ে দিলো যে আমাদের রেমাক্রি পর্যন্ত এগিয়ে দিবে, হেড কে সহ সবাই কে বিদায় দিয়ে আমরা রওনা হলাম ৪ঘন্টার মত লাগবে রেমাক্রি যেতে।
পাহাড়ি দের সাথে থেকে তাদের কাছ থেকে কিছু ভাষা শিখলাম এই দরুন,,
কাউকে ভালবাসলে তারা বলে “মুই তেরে উসপাং” মানে আমি তোমাকে ভালবাসি

মিলা কে এইটা বলতে হবে তাহলে সে বুঝবেনা,, এভাবে ২ঘন্টা হাটার পর,, দুরে মানুষ দেখতে পেলাম।
ওমা এই দেখি আর্মির টিম, তারা আমাদের হারানোর কথা শুনে খুজতে এসেছে যাক এখন আর ভয় নাই
তাদের কাছে গিয়ে কথা বলে সব কিছু খুলে বললাম তারা আমাদের নিয়ে হাটা শুরু করলো।। প্রান টা যেন ফিরে ফেলাম।

রেমাক্রি এসে ট্রলার এ উঠলাম,, মিলা আমার পাশেই বসে আছে বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে মনে হচ্ছে কিছু বলবে কিন্তু বলতে পারছে না,,
আমি বুঝতে পারছি যে তার ৷ বুকে অনেক কথা আছে যা আমাকে বলবে,,
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম মিলা চুপ কেন এভাবে বসে আছো কিছু বলবা?
কিন্তু সে চুপ মনে হচ্ছে রাগ ও হচ্ছে আবার কথাও বলছে না,,

আবার বললাম কি হয়েছে তোমার মন খারাপ?

এভাবে বসে আছো কিছু বলবা?
আপনার তো বুঝার বয়স হয়নাই,,, আপনি কি কিছুই বুঝেন না?
আমি একটু অবাক হলাম তার কথা শুনে,, চোখে ছিল রাগ মনে হচ্ছে এখন ই আমাকে গিলে ফেলবে,,
আমি আবার মেয়েদের এই চাহনি খুব ভায় পাই,, তার রাগ অভিমান আমি বুঝতে পারছি, মিলা কি শুনতে চায় আমার কাছে?

আমি কিছু বললাম না এভাবেই আমরা থানছি এসে পরলাম থানছি আসার পর মোবাইলে নেটওয়ার্ক আসল বাসায় ফোন দিয়ে জানালাম, বাসায় সবাই অনেক টেনশন এ ছিলো ।
থানছি থেকে আর্মি আমাদের বান্দরবন এর গাড়িতে উঠিয়ে দিলো।

তারপর সেখান থেকে বান্দরবন এসে বাস এ করে দুজন ই ঢাকার জন্য রওনা হলাম,, এর মাঝে মিলা আমার সাথে তেমন কথা বলে নাই,, শুধু চুপচাপ রইছে আমি কিছু জিগ্যেস করলেই হ্যা না এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।।

বুঝলাম না হঠাৎ করে মিলার কি হলো সন্ধায় হালকা নাস্তা করে গাড়িতে উঠে পরলাম মিলা জানালার পাশে বসে আছে আর আমি তার পাশে।

আর ভাবতাছি কিভাবে মিলা কে বলবো আমি যে এই দুইদিন এ তাকে অনেক ভালবেসে ফেলছি,, বুকে আসছে কিন্তু তার দিকে তাকালে সাহস হচ্ছে না। না এবার সাহস নিয়ে বলতেই হবে,,

শুনো মিলা তোমাকে কিছু বলবো,, মিলা আমার দিকে তাকিয়ে কি বলবেন বলেন?
অভিবান এর শুরে রাগ তা এখনো কমে নাই,,
মেয়ে মানুষ এর এত রাগ কেন বুঝি না বাবা।।

তার চাহনি দেখে আমার সাহস শেষ হয়ে গেছে, 😃তাই কথা ঘুরিয়ে বললাম না তোমার চুল গুলা অনেক সুন্দর৷

এটা বলার জন্য আমাকে ডাকছেন?(মিলা)
রাগি গলায়।
আমি আবার ভয় পেলাম, না কিছু বলবো না আর মেয়েটা আমাকে খেয়েই ফেলবে।

আমাদের বাস চলছে শা শা করে,, কিন্তু আজকের জার্নি তা মনে হচ্ছে তারতারি শেষ হয়ে যাবে না এরকম মনে হচ্ছে কেন আমার এরপর মিলার সাথে দেখা হবে না এর ভয়ে না ত”?
না আর কিছু ভাবতে পারছি না গড়ি অনেকদূর চলে আসছে মিলা ও ঘুমিয়ে আছে কিন্তু আমার কাদে মাথা রেখে আমার হাত তা ধরে , খুব ভালো লাগছে তাকে বাতাস এ চুল গুলো উরছে মাঝে মধ্যে আমার মুখে এসে লাগছে,,
মেয়েদের শরীর এ আলাদা একটা গন্ধ আছে যা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।।

হঠাৎ মাঝ রাস্তায় মানে জার্নি ব্রেক দিল হাইওয়ে হোটেল এ কুমিল্লায় আমি একটু ঘুমাতে পারলাম না আসলে মিলা পাশে থাকলে তো আর ঘুম আসার কথাও না, মিলা জেগে গেলো এভাবে দেখে কিছু বললো না।।
চলেন খুদা লাগছে কিছু খাবো,, হোটেল এ গিয়ে কিছু খেয়ে নিলাম। আবার গাড়ি ছেড়ে দিল ভোর ৫ টায় আমাদের সায়দাবাদ নামিয়ে দিল মিলা থাকে উওরা আর আমি গাজীপুর।

এত সকালে এখন গড়ি পাই কোথায় না ছি এন জি নিয়ে চলে যেতে হবে, একটা চি এন জি নিয়ে উঠে পরলাম।

ভাড় ঠিক করে রওনা হলাম এর মাঝে আমি শুধু মিলার কথা ভাবছি না এই মেয়েটা কি কিছু বুঝে না আমি কি বলতে চাই , আমি আবার সাহস নিয়ে মিলা কে বললাম মিলা শুনো i love you মিলা আমার দিকে কিভাবে যেনো তাকালো তার তাকানো দেখে ভয় পেয়ে বললাম না তুমি এই মুভি টা দেখেছো?
না আমি এসব মুভি দেখি না (মিলা)
না আজ ও হলো না একটু পর যে যার মত বাসায় চলে যাবো আর কখন বলবো আমি এই গুলা ভাবতে ভাবতে উওরা চলে আসলাম,,

না আর বলা হলো না মন টা খারাপ হয়ে গেলো,, ছি এন জি থেকে নেমে গেলাম কারন উওরা এসে পরছি উওরা আসতে ৭ টা বেজে গেছে।

ছি এন জি থেকে নেমেও মিলা একটু কথা বলছে না চুপ করে আছে,,
তাহলে তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি তারপর আমি চলে যাই ।

মিলা আমার দিকে তাকালো তার তাকানো এত ভয়ংকর কেন,,মনে হচ্ছে আমি কোন বড় অপরাধ করছি মিলার চোখ টলমল করছে, মনে হচ্ছে এখনি চোখ থেকে বৃস্টি নামবে।
আমি তার কিছুই বুঝতেছিনা সে কি চায়।
তার চোখ দেখে আমি আর কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না, এমনি তেই রাস্তায় দাড়িয়ে আছি কিছু করলে মান ইজ্জত থাকবে না, ভালবাসার কথা বলা তো দুরে থাক।

মিলা কি করবা বাসায় যাবা না অনেক চিন্তা করছে সবাই,,
মিলা আমার দিকে তাকিয়ে এবার কথা বললো হ্যা যাবো।
এখনি যাবা?
এত কথা বল কেন?(মিলা)
না এখানে দাড়িয়ে আছি তো তাই,,
দাড়িয়ে থাকো, গাধাদের দাড়িয়ে থাকতে হয় কিচ্ছু বুঝোনা গাধা কোথাকার (মিলা)
আমি তার কথা শুনে একটু অবাক হলাম কি হইছে মিলার,,
না মানে তোমকে দেখলে আমার ভয় করে কেন জানি,,তোমার চাহনি দেখে মনে হয় গিলে খেয়ে ফেলবে।

এত ভয় পাও আবার ঠিক ই তাকিয়ে থাকো, ঘুমাইলে না ঘুমিয়ে চেয়ে থাকো (মিলা)
কি ব্যাপার মিলা এগুলা বলে কেন সে কি না ঘুমিয়ে আমাকে দেখে?

না আর কিছু ভাবতাছি না, মিলা চলো এখন যাই বিকালে আসবোনে সবার সাথে দেখা করি তারা চিন্তা করছে,, ঠাস ঠাস।।

আমি গাল ধরে আছি কি ব্যাপার মিলা আমাকে চড় মারলো কেন বুঝলাম না, হঠাৎ করে দেখলাম আমাকে জড়িয়ে ধরছে মিলা,, আর এ মানুষ আছে তো কি করছো?

থাকুক মানুষ তাতে কি,, তুমি একটা গাধা ভালবাসো অথচ ভয় এ কিছু বলতে পারো না,তোমাকে মেরেই ফেলবো আমি , (মিলা)

তুমি যেভাবে তাকাও আমার খুব ভয় লাগে কি করব।

শুধু ভয় তাই দেখলা ভালবাসা টা দেখলা না?হ্যা মনে হইছে তুমি আমাকে ভালবাসো কিন্তু হারানোর ভয় এ কিছু বলিনাই,
এইতো এখন দেখছি আমিও তোমাকে অনেক ভালবেসে ফেলছি মিলা এভাবেই সারাজীবন আগলে রাখবো।

মিলা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তার চোখে পানি কিন্তু এবার আনন্দের পানি,, তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম এবার যাই বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে।
ওকে চলো।

মিলা কে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি চলে আসলাম বললাম আবার বিকালে দেখা হবে,,,

আজ ৩ বছর পর আমাদের একটা মেয়ে হইছে নাম অবনি আমি আমার মেয়ে এবং মিলা কে নিয়ে বান্দরবান বেড়াতে আসছি।।
এই কয়েকবছর মিলার হাতে অনকে চড় খাইছি কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি ভালবাসা পাইছি,,

মিলা অনেক রাগি কিন্তু তার মন তার থেকেও ফ্রেশ,, রাগ করে অনেক কিছু বললে পরক্ষনে তার থেকে বেশি ভালবাসা দেয়।

এভাবেই একটা অচেনা মেয়ে নিজের সোলমেট হয়ে গেল, যাকে ছাড়া এখন কল্পনাও করতে পারি না। সারজীবন ভালবাসার মানুষ পাশে থাকা অনেক বড় পাওয়া।

সমাপ্ত,,
ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন,, মোবাইলে টাইপিং তাই একটু ভুল হতে পারে।

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *