অনুভূতি ! পর্ব_২

অনুভূতি
২য় পর্ব
মিশু মনি

অনুভূতি ! পর্ব_১

৫.
বাইরে আসতেই মেঘালয় দেখতে পেলো একটা ছোট্ট মেয়ে পা চেপে ধরে রাস্তায় পড়ে আছে। পা দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়ছে।
আশেপাশের কেউ মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছেও না। মেঘালয় ছুটে গিয়ে বাচ্চাটির সামনে বসে ওর পায়ের দিকে তাকালো। কোথাও লেগে কেটে গেছে মনেহচ্ছে। মেয়েটি ভয় পেয়ে কাঁদছে। মেঘালয় বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা ইভা সুপার শপের ভিতরে ঢুকে পড়লো। দোকানের কর্মচারীরা হা করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মেঘালয়ের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ও একদম চেনা মানুষ দের মত মিশুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, “ফাস্ট এইড বক্স থাকলে দিন তো।”
মিশু দ্রুত ড্রয়ার থেকে বক্স বের করে মেঘালয়ের হাতে দিলো। ও সেটা নিয়ে খুব যত্ন সহকারে পায়ের কাটা অংশটুকু পরিষ্কার করে দিয়ে স্যাভলন লাগিয়ে দিলো। বাচ্চাটি কেঁদে ফেললো যন্ত্রণায়। মিশু এসে বুকে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটিকে। তারপর টুলের উপর বসে বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে বসলো আর মেঘালয় বাচ্চাটির পায়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে দিতে লাগলো।
মিশুর বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না। এত সুন্দর মনের একজন মানুষ! কত্ত বড়লোক অথচ এরকম ময়লা কাপড়ের একটা বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে কান্না থামাচ্ছিলো! কতটা মহান হলে এটা করা যায়! আসলে কিছু কিছু মানুষ সত্যিই তাদের ব্যক্তিত্ব দিয়েই সবার থেকে আলাদা হয়। মানবতা আর বিবেকবোধ টা অনেক প্রখর হয় তাদের। মেঘালয় তাদেরই একজন।
মেঘালয় খুব যত্নে ব্যান্ডেজ করিয়ে দেয়ার পর মিশুকে বলল, “সরি, ফ্লোরে একটু ব্লাড আর স্যাভলন পড়েছে।”
– “আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।”
– “থ্যাংকস মিশু। আপনি কি এখনি লাঞ্চের জন্য বের হবেন?”
– “হ্যা, কেন?”
– “আমরা রেস্টুরেন্ট এ আছি, একটু তাড়াতাড়ি আসবেন।”
মেঘালয় দ্রুত উঠে মেয়েটিকে কোলে নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো। মিশু অবাক হয়ে চেয়ে রইলো দরজার দিকে। দোকানের সব কর্মচারীও বেশ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে। রাস্তায় কত লোকজন, কই কেউ তো নিজের কাজ ফেলে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেয়নি। বিবেক নাড়া দিলেও কিছু করার থাকেনা হয়ত, সবাই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হন। বাচ্চাটির সাড়া গায়ে অনেক ময়লা। ইচ্ছেকৃত ভাবে ময়লা ছোঁয়ার মানসিকতা সবার থাকেনা, শুধুমাত্র মেঘালয় দেরই থাকে! মিশু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফ্লোরটা পরিষ্কার করে ফেললো।
তারপর লাঞ্চ করার জন্য রেস্টুরেন্ট এ চলে আসলো। এসে দেখলো মেঘালয় সামনে দুই প্লেট বিরিয়ানি নিয়ে বসে আছে। ওর পাশেই ছোট্ট মেয়েটি।
মিশু এগিয়ে গিয়ে সামনের চেয়ারে বসতে বসতে মেয়েটিকে বলল, “এখনো ব্যথা পাচ্ছো সোনামণি?”
বাচ্চাটি দুদিকে মাথা নাড়লো। তারমানে ব্যথা পাচ্ছেনা। মেঘালয় মিশুকে বলল,”হাত ধুয়ে আসুন।”
তারপর এক প্লেট বিরিয়ানি মিশুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,”এটা আপনি আর এই খুকুমণি টা খাবেন। ওকে তুলে খাইয়ে দিন একটু। আমি তুলে খাওয়াতে পারিনা।”
মিশু এখন এতটাই অবাক হয়ে গেলো যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। মেঘালয় নতুন নতুন রুপে ধরা দিচ্ছে ওর কাছে। এত বিস্ময় ও কি করে লুকাবে? কত সুন্দর একজন মানুষ!
মেঘালয়ের হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ে গেলো বোধহয়। ও ব্যস্ত হয়ে বললো, “ওহ শিট”
বলেই উঠে দ্রুত ছুটে বেড়িয়ে গেলো। মিশু উৎসুক চোখে চেয়ে ওর চলে যাওয়া দেখলো। মেঘালয় ফিরে এলো একটু পরেই। মুখটা খুব কালো করে ফেলেছে। কি হলো ওর হঠাৎ!
মেঘালয় এসে বসতেই মিশু জিজ্ঞেস করলো, “কি হয়েছে?”
– “আমি শপিং ব্যাগটা মনেহয় রাস্তায় ফেলে রেখে ওকে নিয়ে দোকানে ঢুকেছিলাম। ওকে কোলে নিয়ে ভিতরে যাওয়ার সময় আমার হাতে কিছু ছিলোনা। তারমানে ওটা রাস্তায় ই ফেলে রেখে গেছিলাম।”
মিশু কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “পেলেন না?”
– “না…”
মিশু কি বলবে বুঝতে পারলো না। এটাই কি মানুষের মানবতা! হায়রে, একটা অসহায় বাচ্চার কান্না দেখেও কেউ এগিয়ে আসেনি,অথচ ব্যাগটা দশ মিনিটেই কেউ না কেউ পেয়ে কুড়িয়ে নিয়ে গেছে। দুটো সানগ্লাস ই অনেক দামী ছিলো।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “প্রথম গ্লাসটার মত সেইম কোনো সানগ্লাস কি আরো আছে?”
– “হ্যা আছে।”
– “আমাকে নিতে হবে। ওটা চোখে দেয়া অবস্থায় একজন কে দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো।”
মিশুর খুবই মন খারাপ হয়ে গেল কথাটা শুনে। আহারে! বেচারা বোধহয় প্রিয়জনের জন্য কিনেছিলো সানগ্লাস টা। সেটা হারিয়ে ফেললো। মনেহয় মেয়েটিকে খুব ভালোবাসেন উনি। সত্যিই ওনার প্রিয়জন অনেক ভাগ্যবতী। যার এমন একজন মনের মানুষ আছে। কত উদার আর সুন্দর একজন মানুষ! ইস! আমার জীবনে যদি এরকম কেউ আসতো!
মিশু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। গরীবের সব স্বপ্ন দেখা মানায় না। থাক ওসব, বাচ্চাটিকে বিরিয়ানি তুলে খাওয়াতে হবে। মিশু উঠে হাত ধুয়ে এসে বাচ্চাটিকে খাওয়াতে লাগলো। মেঘালয়ের অনুরোধে নিজেও মুখে দিতে লাগলো।
মেঘালয় বলল, “মিশু আপনার বাসায় কে কে আছেন?”
– “মা আর ছোট বোন।”
– “ওনাদের দেখাশোনা আপনাকেই করতে হয়?”
– “হ্যা।”
– “কম্পিউটার জানেন আপনি?”
– “না।”
– “ও আচ্ছা। আপনি খাচ্ছেন না কেন? খান।”
মিশু আবারো একবার মুখে দিলো। ছোট্ট বাচ্চাটি আর কাঁদছে না। খাবার খাচ্ছে আর আশেপাশে তাকাচ্ছে। মিশুও আস্তে আস্তে মুখে দিচ্ছে। এমন সময় দুজন ছেলে এসে মেঘালয় কে দেখে বলল, “আরে মেঘালয় ভাই না?”
মেঘালয় উৎফুল্ল হয়ে বলল, “জি ভাই।”
– “আরে ব্রাদার আমিতো আপনার বিশাল সাইজের ফ্যান। সিলিং সমান মাগার সিলিং ফ্যান নই কিন্তু।”
মেঘালয় হো হো করে হেসে বলল, “তাই নাকি! ব্রাদার বসেন, একসাথে খাই।”
ছেলেটি একবার মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল, “না ভাই। আপনি খান। আমরা পাশের টায় বসছি। তো বস, একটা সেলফি নেই?”
– “শিওর।”
ছেলে দুটি মেঘালয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুললো। নিশ্চয় ই এটা ফেসবুকে আপলোড দিবে। এটা এখন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। মিশু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো মেঘালয়ের দিকে। সবাই কত্ত সম্মান করে ওনাকে। আর উনি কত সুন্দর সহজ ভাবে মিশে যান সব শ্রেণির মানুষের সাথে!
মেঘালয় তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে বলল, “আমি এই পিচ্চিকে ওর বাসায় রেখে তারপর বাসায় ফিরবো। আপনি ওই সানগ্লাসের মতই দুটো সানগ্লাস খুঁজে রেখে দেবেন। বিকেলে এসে নিয়ে যাবো।”
মিশু মাথা নেড়ে বলল, “আচ্ছা।”
মেঘালয় পিচ্চিটাকে কোলে নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো। ওর সেই ফ্যান দুইজন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রাস্তার দিকে। মেঘালয়ের কোলে এরকম বস্তির একটা বাচ্চা দেখে ওরা খুবই অবাক হয়ে গেছে।
৬.
ঘুম ভাঙার পর ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো সাত টা বাজে। অবাক হয়ে কয়েকবার চোখ পিটপিট করলো মেঘালয়। সকাল সাতটা! গত রাতে কখন ঘুমিয়েছে ও? কিছুই মনে পড়ছে না তো। ফোনের স্ক্রিনের দিকে আরেকবার তাকালো। এখন 7PM তারমানে সন্ধ্যা সাতটা বাজে। এবার মনে পড়েছে। বিকেলে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে একটা ফ্রেশ ঘুম দিয়েছিলো ও। অনেক্ষণ ঘুমিয়েছে, এবার বাইরে যেতে হবে।
উঠে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তার টেবিলে বসে আম্মুকে ডেকে বললো, “এক কাপ চা দিও তো আম্মু।”
তারপর টোস্ট নিয়ে কামড়াতে শুরু করে দিলো। আম্মু চা নিয়ে এসে সামনে রেখে বললো, “আমার শ্যাম্পু এনেছিস?”
– “কিসের শ্যাম্পু?”
– “এরই মধ্যে ভূলে গেলি? ভালো তো।”
মেঘালয়ের মনে পড়ে গেলো। আম্মু শ্যাম্পু আনতে বলেছিলো। আর রোদেলার এক ইয়া বড় লিস্ট ছিলো শপিং এর। মিশুকে বলেছিলো বিকেলে সানগ্লাস নিতে যাবে কিন্তু ঘুমের কারণে যাওয়া হয়নি। এখন একবার গিয়ে নিয়ে আসা দরকার।
আম্মু বলল, “কি রে কি হলো তোর আবার?”
মেঘালয় চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলল, “আম্মু তোমাদের ম্যারেজ ডে যেন কবে?”
– “হঠাৎ এ প্রশ্ন?”
– “বলো না কবে?”
– “এইতো ১২ ই ভাদ্র।”
মেঘালয় মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, “আচ্ছা ঠিকাছে। এবার তোমাকে একটা শাড়ি গিফট করবো।”
আম্মু হেসে বলল, “আচ্ছা আচ্ছা। এখন যাই, রান্না বসাবো। তুই কি বেরোবি?”
– “হুম, তোমার শ্যাম্পু আনতে যাবো।”
আম্মু হেসে রান্নাঘরের দিকে গেলো। মেঘালয় চা শেষ করে বাইরে বেড়িয়ে আসলো।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে সাড়ে নয়টা বেজে গেলো। দুইবন্ধু একসাথে বাসার দিকে ফেরার সময় এগোরার সামনে এসেই মিশুর কথা মনে পড়ে গেলো। সানগ্লাস টা আর আম্মুর জন্য শ্যাম্পু নিতে হবে। এখন তো প্রায় দশটা,দোকান বন্ধ হয়ে গেলো কিনা কে জানে!
মেঘালয় রিক্সা ঘুরিয়ে ইভা সুপার শপে চলে এলো। ওর বন্ধু পূর্বও সাথে এসেছে।
মার্কেটে ঢুকতেই মিশু অবাক হয়ে তাকালো। এগিয়ে এসে বলল, “আর দুই মিনিট পরে এলেই তো দোকান বন্ধ পেতেন।”
– “হুম, ভাগ্য ভালো ছিলো। দিন সানগ্লাস টা।”
পূর্ব অবাক হয়ে বলল, “তুই শুধুমাত্র সানগ্লাসের জন্য রিক্সা ঘুরালি? রাত্রিবেলা কি সানগ্লাস পড়বি নাকি? কাল নেয়া যেত না?”
মেঘালয় হেসে বলল, “সানগ্লাস পড়ে পূর্ণিমা দেখবো।”
মিশু সানগ্লাস নিয়ে এসে বলল, “এই নিন। আরো কিছু লাগবে?”
– “মুন গ্লাস পাওয়া যায়না?”
মিশু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল,”মানে?”
– “সানগ্লাস আছে মুনগ্লাস নেই?”
মিশু হেসে বলল, “জোৎস্না উপভোগ করার জন্য কোনো গ্লাস লাগেনা।”
পূর্ব বলল, “বাহ! দারুণ বলেছেন তো!”
মিশু মুচকি হাসলো। পূর্ব একটা টুথব্রাশ কিনে নিলো আর মেঘালয় একটা শ্যাম্পুর বোতল নিলো। তারপর বিল মিটিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসলো। মিশুও আসলো ওদেরই পিছুপিছু। মেঘালয় পিছনে মিশুকে দেখতে পেয়ে বলল, “ডিউটি শেষ?”
– “হ্যা শেষ।”
– “বাসা কতদূর?”
– “রিক্সাভাড়া ত্রিশ টাকা নেয়।”
মিশু ভদ্রতার খাতিরে দাঁড়িয়েই রইলো ওদের পাশে। মেঘালয় ভাবছে ওর কি করা উচিৎ? ওদের রিক্সাটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ই আছে,সেটায় মিশুকে পাঠিয়ে দেয়া উচিত না? তারপর পূর্বকে বলল, “দোস্ত আয় আজ আমরা হেঁটে বাসায় ফিরি।”
– “হেঁটে যাবি? আচ্ছা চল।”
মেঘালয় রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সাথে ত্রিশ টাকা দিয়ে বলল, “মামা ওনাকে বাসায় রেখে আসেন তো।”
তারপর মিশুকে বলল, ” এটাতেই বাসায় চলে যান।”
মিশু বিস্ময়ে কোনো কথাই বলতে পারলো না। ছেলেটাকে যতই দেখছে, ওর বিস্ময় বেড়ে যাচ্ছে! বিবেকবোধ থাকলে এরকম ই থাকা উচিৎ। তারপর হাসিমুখে মেঘালয় কে ধন্যবাদ জানিয়ে রিক্সায় গিয়ে উঠলো। কারণ ততক্ষণে মেঘালয় ও পূর্ব রাস্তায় নেমে গেছে হাঁটার জন্য। না বললেও হয়ত লাভ হবেনা। রিক্সা ছেড়ে দেয়ার পর কিছুদূর এসে একবার মাথা ঘুরিয়ে মেঘালয়ের দিকে তাকালো মিশু। এই রাতে হেড লাইটের আলোয় দূর থেকে খুবই অপূর্ব দেখাচ্ছে মেঘালয় কে!

৭.
একটা মেয়ে খুব কাছ থেকে তাকিয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। মেয়েটির মুখটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। মেঘালয় কে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকছে সে। ডাকতে ডাকতে সে সমুদ্রের তীরে গিয়ে দাঁড়ালো। আবারো উত্তাল ঢেউ এসে ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
লাফিয়ে উঠে বিছানার উপর বসে পড়লো মেঘালয়। গত রাতেও এরকম একটা স্বপ্ন ও দেখেছে। মেয়েটির মুখটা স্বপ্নে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়না। কিন্তু এটুকু অনুভূত হয় যে, মেয়েটি অনেক করুণ ও মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এর অর্থ কি? ওর অবচেতন মন কি কাউকে নিয়ে এভাবে ভাবছে? যে খুব ভয়াবহ বিপদের দিকে যাচ্ছে আর হাত বাড়িয়ে ডাকছে মেঘালয় কে?
একমনে বসে বসে চিন্তা করতে লাগলো ও। কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। যত বান্ধবী আছে, সবাই তো বেশ ভালো আছে। দিব্যি এনজয় করে সবসময়। এরকম মায়াবী দুঃখিনী কেউ তো বন্ধুত্বের তালিকায় নেই। একবার ভাবলো, ধুর, সব স্বপ্নের মানে হয় নাকি? স্বপ্ন তো স্বপ্নই। কিন্তু অবচেতন মন যা ভাবে, সেটাই স্বপ্নে এসে ধরা দেয় এই যুক্তিটা তো ফেলে দেয়া যায় না। অনেক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইলো মেঘালয়। আর ঘুম আসছে না। এমনি তে অনেক কল্পনাপ্রবণ আর প্রখর অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ মেঘালয়। আর স্বপ্নে কাউকে দেখলে জেগে ওঠার পর তাকে খুব আপন মনে হয়। বারবার তার কথা মনে পড়ে। কিন্তু তার মুখটা তো স্পষ্ট নয়।
মেঘালয় উঠে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে এসে গিটার হাতে নিয়ে বেলকুনিতে এসে বসলো। তারপর টুংটাং করে সুর তোলার চেষ্টা করলো।
একটু পর গেয়ে উঠলো,
“তুমি আর তো কারো নও, শুধু আমার…
যত দূরে সরে যাও রবে আমার…
স্তব্ধ সময় টাকে ধরে রেখে, স্মৃতির পাতায় শুধু তুমি আমার…
কেন আজ এত একা আমি? আলো হয়ে দূরে তুমি….
আলো আলো আমি কখনো খুঁজে পাবো না…
চাঁদের আলো তুমি কখনো……”
এ পর্যন্ত গেয়ে হঠাৎ থমকে গেলো মেঘালয়। বেলকুনি থেকে দেখতে পেলো রাস্তা দিয়ে একটা মেয়ে ছুটে যাচ্ছে। মেয়েটি দেখতে একদম মিশুর মত। মিশু ই মনে হলো। হ্যালুসিনেশন নয়তো? কিন্তু গিটারের শব্দ যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা হ্যালুসিনেশন নয়। খুবই দ্রুত হাঁটছে মেয়েটা। মিশু হোক আর যে ই হোক,নিশ্চয় ই কোনো বিপদে পড়েছে। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে এভাবে। একবার দেখা উচিৎ বিষয়টা।
গিটার রেখে এক ছুটে বেড়িয়ে আসলো মেঘালয়। লিফটে উঠেও মনে হচ্ছে লিফট একদম ধীরে চলছে। তিনতলা থেকে নামতেও যেন অনন্তকাল চলে যাচ্ছে!
নিচে নেমে ছুটে রাস্তায় এসে দেখলো মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছেনা। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো মেঘালয়ের। এটা হ্যালুসিনেশন নয়,নিজের চোখে দেখেছে ও। মেয়েটি কোনদিকে ঢুকে গেলো কে জানে। ফিরে এসে বাইকটা নিয়ে স্টার্ট দিলো ও। কিছুদূর এগিয়ে এসেই মেয়েটিকে দেখা গেলো। অনেক দ্রুত ছুটে এসেছে মেয়েটা, প্রায় মেইনরোডের কাছে চলে এসেছে। মেঘালয় গিয়ে ওর সামনে বাইক দাড় করালো।
মুখের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো একদম। এটা তো সত্যিই মিশু! খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছে মিশুকে। ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। ও অবাক হয়ে বলল, এত রাতে তুমি এভাবে কোথায় যাচ্ছো?
মিশু হন্তদন্ত হয়ে বলল, “আমার ছোট বোনটা আলসারের পেশেন্ট। হঠাৎ ও খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ফার্মেসী তে যাচ্ছি।”
– “এভাবে একা বের হয়েছো ভয় করেনা? নিজেই সুস্থ শরীরে বাসায় নাও ফিরতে পারো। বোনের সুস্থতা পরে।”
– “কেন? রাস্তার অমানুষ নামক পুরুষ রা আমাকে ছিড়ে ছিড়ে খাবে?”
প্রশ্নটা মিশুর মুখ থেকে শুনে ধাক্কা লাগলো বুকে। কঠিন একটা সত্য মেয়েটি অনায়াসে বলে ফেলেছে।
মেঘালয় বলল, “সেটাও আমাদের দেশে সম্ভব।”
মিশু বললো, “আমার বাসায় কেউ নেই আর। এই শহরে আমার এমন আপনজন ও কেউ নেই যে এখন ওষুধ এনে দিবে। তাই আমাকে ই যেতে হবে। ছোট বোনটা বুক চেপে ধরে কাঁতরাচ্ছে, সহ্য করতে পারছিলাম না। যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছে।”
মেঘালয় বাইক স্টার্ট দিয়ে বলল, “বাইকে ওঠো।”
একবার বলামাত্র ই মিশু বাইকে গিয়ে উঠলো। এখন এতকিছু ভাবার সময় নেই। তাছাড়া এই দুদিনে মেঘালয় কে যতটা চিনেছে ও, এরকম মানুষ থাকলে কিছুটা ভরসা করা যেতেই পারে। মেঘালয় জোরে বাইক ছেড়ে দিয়ে বলল, “ওষুধ খেলেই কি সুস্থ হবে? নাকি হসপিটালে নিতে হবে?”
– “ওষুধ খেলেই অনেক টা সুস্থ হয়ে ওঠে। আসলে অনেক দিন ধরে সুস্থই ছিলো। মাঝেমাঝে হঠাৎ ব্যথা ওঠে ওর। প্রচুর ভাজাপোড়া খায় আর পানি কম খায় তো।”
– “এটা ঠিক রাখার দায়িত্ব কিন্তু তোমার ই।”
– “হুম,কিন্তু আমিতো বাসায় থাকিনা সারাদিন। মেয়েটা কথা না শুনলে কি করবো বলুন?”
মেঘালয় খুব দ্রুত বাইক নিয়ে ফার্মেসির সামনে এসে দাঁড়ালো। মিশু দোকানে গিয়ে ওষুধ নিয়ে আবার কি যেন ভেবে অর্ধেক ওষুধ ফেরত দিলো। দূর থেকে দেখলো মেঘালয়। তারপর বাইক রেখে দোকানের সামনে এসে মিশুকে জিজ্ঞেস করলো, “কি সমস্যা?”
মিশু আমতা আমতা করে বলল, “না মানে অল্প করে নিচ্ছি। পরে আবার নিয়ে যাবো।”
– “আবার কোনো এক রাতে এভাবে ছুটতে ছুটতে আসবে? তোমরা পারোও বটে।”
মিশু মেঘালয়ের চোখে চোখ রেখে বেশ রাগী গলায় বলল, “এভাবে বিদ্রুপ করছেন কেন? আমার কাছে টাকা নেই আর।”
মেঘালয় লজ্জা পেয়ে গেলো। আসলেই এভাবে বিদ্রুপের সুরে বলাটা উচিৎ হয়নি। সমস্যাটা বোঝা উচিৎ ছিলো। মেঘালয় দোকানদার কে বলল, “ভাইয়া, বিকাশে পে করে দিই?”
দোকানদার বললেন, “জি ভাইয়া দিন।”
– “বিকাশ নাম্বার টা দিন।”
দোকানদার নাম্বার বলতে গেলে মেঘালয় পকেটে হাত দিতে গিয়ে দেখলো প্যান্টে তো পকেট ই নেই। আসলে ও তো রাতে মোবাইল, ওয়ালেট, টাকা পয়সা সব বের করে রেখে একটা কোয়ার্টার প্যান্ট আর টি শার্ট পড়ে ঘুমিয়েছিলো। এখন কি হবে?
মিশু অবাক হয়ে চেয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। নিরুপায় হয়ে গেলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের চেহারা যেমন হয়,মেঘালয়কে ঠিক তেমনি দেখাচ্ছে এখন। মিশুর মায়া লাগছে মেঘালয়ের জন্য। মনেহচ্ছে মেঘালয়ের বোনের জন্য ওষুধ নিতে এসেছে, আর মিশু ওর সাথে বেড়াতে এসেছে। মিশু চুপচাপ চেয়ে আছে ওর দিকে।
মেঘালয় দোকানদারের ফোনটা নিয়ে ওর আব্বুকে কল দিয়ে বলল,”আব্বু এক্ষুনি এই নাম্বারে ২ হাজার টাকা সেন্ড করো তো।”
ওপাশে কি বলল বোঝা গেলো না। মেঘালয় হাসতে হাসতে বলল, “সরি রোমান্টিক সিনে ডিস্টার্ব করার জন্য।”
মিশু বেশ লজ্জা পেয়ে গেলো একইসাথে দারুণ অবাক ও হলো। ফোন দিয়ে আব্বু বলে ডাকলো অথচ এটা কি বললো ও! আব্বুকে কি এভাবে বলা যায়? লজ্জা লাগেনা? ছি ছি… ছেলেটা ভারী দুষ্টু তো!
মেঘালয় ফোনটা দোকানদার কে দিয়ে মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল,”কি দেখো?”
মিশু বলল,”এত টাকা দিতে বললেন কেন?”
– “বেশী করে ওষুধ নিয়ে যাও।”
মিশু হা করে চেয়ে রইলো অনেক্ষণ। মেঘালয় মানুষ নাকি দেবদূত! এমন মানুষ ও আছে এখনো দুনিয়ায়! আসলে পর্বতারোহী রা বুঝি সত্যিই খুব ভালো হয়!
দোকানদার জানালেন টাকা এসে গেছে। মিশু ওষুধ নিলো অনেকগুলো। মায়ের প্রেশারের ওষুধ ও নিলো। মেঘালয় ততক্ষণে গিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়েছে। মিশু গিয়ে বাইকের পিছনে উঠে পড়লো।
মেঘালয় মনে মনে ভাবলো, “জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়ে আমার বাইকের পিছনে উঠেছে। রোদেলাকেও কখনো কলেজে রেখে আসিনি। মিশু নামের মেয়েটাই উদ্বোধন করে দিলো!”
মিশু জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা পর্বতারোহী রা এত ভালো হয় কেন?”
– “কে বলেছে?”
– “আমার মনেহয়।”
– “কতজন পর্বতারোহী কে দেখেছো?”
মিশু একটু থেমে বলল, “দুবার এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত কে আমি বেশ ভালো করেই চিনি। ওনার সাথে অনেকবার কথা হয়েছে আমার। আমার লাইফে এত ভালো মানুষ আমি কখনো দেখিনি।”
মেঘালয় অবাক হয়ে বলল,”সিরিয়াসলি! মুহিত ভাইয়ের সাথে কথা বলেছো তুমি! সত্যিই ওনার সাথে কারো তুলনা চলেনা। কত ভালো একজন মানুষ। আর আমাদের দেশটাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে অনেক অবদান রাখছেন। প্রতিদিন অসংখ্য ছেলেমেয়ে অনুপ্রাণিত হয় ওনার কথায়।”
– “সেজন্যই বললাম। পর্বতারোহীরা এত অনুপ্রেরণার উৎস হয় কি করে?”
মেঘালয় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,”আসলে পর্বতারোহণ মানে কিন্তু মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় বরণ করে নেয়া। প্রতি পদে পদে মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকে। মূলত মৃত্যুকে অত কাছে থেকে দেখেন বলেই ওনারা অনুপ্রেরণা দিতে সবচেয়ে বেশী দক্ষ। এভারেস্ট এর যত উপরে উঠবা, দেখবা শুধু লাশ আর লাশ। এসব দেখে কেমন লাগে ভাবতে পারো? যেখানে নিজের মৃত্যুও যেকোনো মুহুর্তে হতে পারে।”
মিশু ভয়ে শিহরিত হয়ে বললো, “এত রিস্ক নিয়ে আপনি কেন যান?”
মেঘালয় হেসে বলল,”আমিতো মাত্র কয়েকবার গিয়েছি শুধুমাত্র বেইসক্যাম্পের জন্য। প্রথমবার অভিযানে গিয়ে একটা মোটামুটি উচ্চতম পর্বত জয় করে ফেললাম আর রাতারাতি বিখ্যাত ও হয়ে গেলাম। কিন্তু শুধুমাত্র কৌতুহল বশত আর ভালোলাগার টানেই আমি আরোহণ করেছি। বিখ্যাত হওয়ার জন্য নয়।”
মিশু হেসে বললো, “সেটা আমি জানি। তবে অত রিস্ক নিয়ে যাওয়ার কি দরকার?”
– “সেজন্যই আম্মু আর যেতে দেয়না। আমিতো চেয়েছিলাম একবার এভারেস্ট অভিযানে যাবো। কিন্তু আম্মু রাজি নয়। আমার বড় ভাইয়ের নাম ছিলো হিমালয়। সে পাহাড় থেকে খাদে পড়ে মারা গেছে।”
মিশু আঁৎকে উঠলো, “সেকি! আপনার ভাই এভাবে… তবুও আপনি অভিযানে যান?”
মেঘালয় বেশ সহজ গলাতেই বলল, “আমার আব্বুর নাম আকাশ। উনি আকাশের মতই বিশাল স্বপ্ন দেখেন। ছোটবেলা থেকেই আব্বু পাহাড়ে বেড়ে উঠেছে। তাই পাহাড় প্রীতি অনেক ওনার। ছেলেদের নামও রেখেছেন পাহাড় পর্বতের নামে। আব্বু চেয়েছিলেন তার ছেলেও তার মত ট্রেকার হবে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ মনেহয়। সেই সুখটুকু উনি আমাদের দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাইয়ার নাম রেখেছিলেন হিমালয় আর আমার নাম মেঘালয়। কিন্তু বিদেশে একবার পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে হিমালয় ওপারে চলে গেছে। আমি তখন খুবই ছোট। গভীর খাদে পড়ে গেছে ভাইয়া, ওর লাশটাও আমরা উদ্ধার করতে পারিনি।”
মিশুর কান্না পেয়ে যাচ্ছে মেঘালয়ের কথা শুনে। ও অজান্তেই মেঘালয়ের কোমরে হাত রেখে শক্ত করে ধরলো পেছন থেকে। কি ভয়ংকর কথা! এতবড় দূর্ঘটনার পরও মেঘালয় পাহাড়ে যায়,পর্বতারোহণে যায়!
মেঘালয় বললো, “আব্বু আমাকে বলেছিল, হিমালয়ে সবচেয়ে উচ্চতম ১৪ টি পর্বত আছে, এর যেকোনো একটি যদি জয় করতে পারিস তাহলে আমার কষ্টটা কমবে। আব্বুর কথা রাখার জন্যই আমি আরোহণে গিয়েছিলাম। আমার এখন পর্বত ছাড়া ভালো লাগেনা কিন্তু আম্মু যেতে দেয় না। একটা মাত্র আদরের ছেলেকে হারাতে চায়না আর।”
মিশু আরো শক্ত করে ধরে মেঘালয়ের পিঠে মাথা রেখে বললো, “আপনার আম্মুই ঠিক বলেছেন। আর যাওয়ার দরকার নেই। আপনার আব্বুর ইচ্ছে তো পূর্ণ হয়েছে।”
মিশুর কথাটা ভালো মত শুনতে পেলো না মেঘালয়। ওর সেদিকে মনোযোগ নেই। মিশু এভাবে জাপটে ধরে পিঠে মাথা রেখেছে, তাতে কেমন যেন অন্যরকম অনুভূত হচ্ছে! বেশ ভালো লাগছে আর মনেহচ্ছে এভাবেই থাক। এরকম অনুভূতি প্রথমবার হচ্ছে ওর।
নিজের বাসার সামনে এসে মেঘালয় বলল, “আমার বাড়ি এটাই। এখানেই দেখতে পেয়েছি তোমাকে। তা এখন কোনদিকে যাবো ম্যাম? ”
মিশুর এতক্ষণে হুশ হলো। সাথে বেশ লজ্জা লাগলো। ওরকম ভয়ংকর মৃত্যুর কথাগুলো শুনতে শুনতে কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিলো মিশুর। আবেগে কখন এভাবে ওকে ধরে ফেলেছে বুঝতেই পারেনি। সোজা হয়ে বসতে বসতে বলল, “আমি একাই যেতে পারবো। আপনি বাসায় যান।”
মেঘালয় বলল, “বাসায় রেখে আসি। পর্বতের চেয়েও বেশী রিস্ক শহরের অলিগলিতে বুঝলে? পর্বতকে ভালোবাসলে সহজে মৃত্যু আসেনা, দূর্ঘটনা ছাড়া। কিন্তু তুমি যতই দেশপ্রেমী হও, দেশের কিছু নরপশু তোমার উপর পশুত্ব ফলাবেই।”
মিশু আর কিছু বললো না। এটা বেশ ভালোই জানে ও। প্রতি পদে পদে এরকম পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। চুপচাপ রাস্তা দেখিয়ে দিলো।
মেঘালয়ের খুব ইচ্ছে করছিলো মিশু যদি আরেকবার পিঠের উপর মাথাটা রাখতো। কিন্তু সেটা ঠিক না। তাই ইচ্ছেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলো। মিশুর কথামত এগোতে লাগলো বাইক নিয়ে। কিছুদূর আসার পর হঠাৎ রাস্তায় পূর্ব ও সায়ানের সাথে দেখা। ওরা মেঘালয়কে দেখে থামতে বললো। মেঘালয় থামার পর সায়ান বলল, “পিছনে ভাবি নাকি রে?”
মিশু লজ্জা পেয়ে সরে বসলো একটু। কিন্তু পূর্ব ভ্রু কুঁচকে তাকালো। রাতেই তো মেয়েটাকে সুপার শপ থেকে রিক্সায় তুলে দিয়েছিলো ওরা। সে এখন মেঘালয়ের বাইকে কি করছে! আজব ব্যাপার! কোনো রহস্য আছে মনেহচ্ছে।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো “এতরাতে তোরা কোথা থেকে আসলি?”
পূর্ব বলল, “বিড়ি খাইতে গেছিলাম।”
– “বিড়ি নাকি গঞ্জিকা হুম?”
– “আমি গঞ্জিকা টানিনা সেটা ভালো করেই জানিস।”
– “ওকে, কাল কথা হবে। এই মেয়েটার খুব বিপদ। আগে ওকে রেখে আসি।”
পূর্ব ও সায়ান অবাক চোখে তাকালো। মেঘালয় আবারো বাইক স্টার্ট দিলো। মিশু জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা গঞ্জিকা কি জিনিস?”
মেঘালয় হেসে বললো, “গাঁজা। খাবা নাকি?”
-“ছি, মরলেও না।”
মেঘালয় শব্দ করে হাসলো। মিশুর দেখানো পথ অনুযায়ী পৌছে গেলো এসে। মেঘালয়ের বাসা থেকে বাইকে পাঁচ ছয় মিনিটের পথ। মেঘালয় বাসার সামনে মিশুকে নামিয়ে দিয়ে বললো, “বোনের দিকে খেয়াল রাখবেন।”
– “আচ্ছা। আপনাকে…”
মিশুকে থামিয়ে দিয়ে মেঘালয় বলল, “বাংলা সিনেমার ডায়ালগ ঝাড়বা না তো। বাসায় গিয়ে বোনকে ওষুধ খাওয়াও।”
মিশু একবার মেঘালয়ের চোখে চোখ রেখে ভিতরের দিকে পা বাড়ালো। মাথার ওড়না টা ঠিক করতে করতে ভিতরে ঢুকে গেলো। একতলা বাড়িটার দিকে একবার তাকিয়ে মেঘালয় বাইক স্টার্ট দিলো।
চলবে..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *