অনুভূতি ! পর্ব_৩

অনুভূতি
৩য় পর্ব
মিশু মনি

অনুভূতি ! পর্ব_১

অনুভূতি ! পর্ব_২

 

৮.
সকালবেলা ঘুম ভেঙে গেলো মেঘালয়ের। ঘুম থেকে উঠে বিছানার উপর বসলো। মনে পড়ে গেলো স্বপ্নের কথা। আজ রাতেও একটা স্বপ্ন দেখেছে ও। আগের দুদিনের মতই তবে আজকে একটু ভিন্নতা ছিলো। আজ দেখলো, মেয়েটি খুব কাঁদছে, তার চোখের জলে সমুদ্র হয়ে যাচ্ছে। জল দিয়েই সমুদ্র! এত কাঁদছিল কেন মেয়েটা! বারবার কাঁদছে আর মেঘালয়ের দিকে তাকাচ্ছে। যেন খুব করে চাইছে মেঘালয় ওর চোখ মুছে দিক। তারপর আবার উঠে সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটা শুরু করেছে। একই স্বপ্ন পরপর তিনদিন দেখার মানেটা বুঝতে পারছে না ও।
মেঘালয় গালে হাত দিয়ে চিন্তা করতে লাগলো। যখন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলো না, তখন উঠে দাঁড়ালো। বাইরে যাওয়া যাক। তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে পোশাক বদলে বাইরে বেড়িয়ে পড়লো।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সকাল সারে দশটা। এখন ওর কোনো কাজ নেই। কি করা যায় তাহলে? কোথাও যেতেও ইচ্ছে করছে না। মনটা কেমন যেন হয়ে আছে। খুব বিক্ষিপ্ত লাগছে। হঠাৎ মনে পড়লো একবার সুপার শপে যাওয়া যায়। মিশুর বোনের শরীর কেমন হলো সেটাও জেনে নেয়া দরকার আর কিছু কেনাকাটা ও সেরে ফেলতে হবে। শপে ঢুকতেই মিশুর সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো। মিশু খুব মায়াবী গড়নের একটা হাসি দিলো।
মেঘালয় এগিয়ে গিয়ে বলল, “ছোটবোনের শরীর কেমন এখন?”
– “ওষুধ খেয়েই অনেক টা সুস্থ হয়ে গেছে। এখন বেশ ভালো আছে। আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো আমি।”
মেঘালয় মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “বেশ। এখন কিছু কেনাকাটা করা দরকার। পিংক ল্যাকমি লিপস্টিক আর লাল ম্যাট লিপস্টিক দিন তো।”
মিশু ওর কথামত লিপস্টিক নিয়ে এসে রাখলো। মেঘালয় প্যানকেক ও দিতে বললো একটা।আর কোনো কিছুর নাম ওর মনে নেই। তাই রোদেলার নাম্বারে ফোন দিয়ে শুনে নিলো সানস্ক্রিন কোন ব্রান্ডের নিতে হবে? জিনিস গুলো প্যাকেটে নিয়ে বিল মিটিয়ে বাইরে চলে এলো মেঘালয়। আজ দশ মিনিটেই কেনাকাটা হয়ে গেলো! কিন্তু মিশুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব যে ইচ্ছে হয়। ওর সাথে কথা বলতেও মন টানে। কিন্তু এভাবে তো আর কারণ ছাড়া কথাও বলা যায়না।
মেঘালয় আরেকবার ভিতরে ঢুকে মিশুকে গিয়ে বলল, “আপনার ছুটি কি বার থাকে?”
– “আমাদের কোনো ছুটি নেই। মাসে চারদিন ছুটি নিতে পারি কিন্তু আমি নেইনা।”
মেঘালয়ের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। মাত্র সাত হাজার টাকার জন্য ১২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটা। তাও আবার সাপ্তাহিক কোনো ছুটিও নেই! সূর্যের আলো দেখার সুযোগ টাও বোধহয় পায়না সে। ওর জন্য একটা কাজের ব্যবস্থা করতেই হবে।
বাইরে এসে কয়েকজন কে কল দিয়ে খোজ খবর নিলো কোথাও সেরকম সুযোগ আছে কিনা। কিন্তু কেউই সেরকম বলতে পারলো না। ভার্সিটিতে না গিয়ে সোজা ওর বাবার অফিসে চলে আসলো মেঘালয়। ওর মুখ থেকে মিশুর অবস্থার কথা শুনে বাবা কি বলবেন বুঝতে পারলেন না। এখন কোনো লোক অফিসে নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা, তাছাড়া গ্রাজুয়েট ছাড়া কাউকে নেয়ার সুযোগ ও নেই। মিশু তো সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলো, ওকে কি চাকরী দেবেন উনি! কিন্তু মেঘালয়ের অনুরোধ রাখলে ছেলেটা অনেক খুশি হবে। অনেক ভেবেচিন্তে বাবা বললেন, “আমার একজন অফিসের কাজে সহযোগিতা করার জন্য কাউকে দরকার। এসিস্ট্যান্ট এর চাকরী দিলে পারবে সে?”
– “পারবে আব্বু। শুধু কাজের চাপ একটু কম দিও। আর বাচ্চামেয়ে তো, একটু মানিয়ে নিও তুমি।”
বাবা হেসে বললেন, “আচ্ছা সে দেখা যাবে। বেতন কিন্তু বারো হাজার দিবো।”
– “ওর জন্য এটাই অনেক আব্বু। মাত্র সাত হাজার টাকায় ১২ ঘন্টা ডিউটি করে ও।”
– “আচ্ছা, এখানে ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা অব্দি থাকলেই হবে।”
মেঘালয় খুশিতে ওর আব্বুকে জড়িয়ে ধরলো। সবসময় আব্বু ওর ইচ্ছে গুলো পূরণ করে দেন। এখন মিশুকে এই খুশির কথাটা জানাতে হবে।
মেঘালয় শপিং ব্যাগটা আব্বুর কাছে দিয়ে আবারো সুপার শপে চলে গেলো। কিন্তু গিয়ে দেখল মিশু নেই। ঘন্টা খানেক আগেই তো এখানে ছিলো মেয়েটা! বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ও মিশুকে পাওয়া গেলো না। মন খারাপ করে বেড়িয়ে এলো ও। মিশুর বোন বোধহয় অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাই মিশু বাসায় চলে গেছে হয়ত। দোকানে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করলে কি যে ভাবে! কিছু জিজ্ঞেস করাও যায়না।
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর ওর ইচ্ছে করলো একবার মিশুর বাসায় চলে যেতে। এই ভালো খবর টা ওকে জানাতেই হবে তো। আর সে চাইলে কালই জয়েন করতে পারে এটাও ওকে বলা দরকার। কিন্তু মেয়েটা বাসায় গেছে কিনা সেটাও তো জানেনা মেঘালয়। আজ কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে নেই। কিছুই ভালো লাগছে না।।এর কারণটাও ধরা যাচ্ছেনা। বোধহয় সেই স্বপ্নটা!
পায়ে হেঁটে অনেকদূর আসার পর মেঘালয় দেখতে পেলো রাস্তার পাশে মিশু দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে চেয়ে আছে। খুবই মলিন মুখ আর বিষন্ন দেখাচ্ছে। যেন কোনো কঠিন অসুখ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে ও। মেঘালয়ের ডাক শুনে চকিতে ফিরে তাকালো মিশু।
মেঘালয় বলল, “এখানে কেন তুমি? ডিউটি ছেড়ে এখানে কি করছো? আমি গিয়ে তোমাকে পেলাম না।”
– “শরীর টা ভালো লাগছিলো না। তাই ছুটি নিলাম আজ। এর আগে কখনো ছুটি নেইনি। আপনার কথা শোনার পর নিতে ইচ্ছে করলো।”
– “কোথায় যাবে এখন?”
– “জানিনা, আমার খুব ঘুরতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোথায় যাবো একা একা,আর হাতও খালি একদম। তাই রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করছি।”
– “আর আমি ছটফট করছি।”
– “কেন?”
– “তোমাকে দোকানে গিয়ে খুঁজলাম। একটা ভালো খবর দেয়ার আছে।”
– “বলুন।”
মেঘালয় বলল, “ভালো খবর এভাবে দেয়া যাবে না। এক জায়গায় যেতে হবে।”
মিশু অবাক হয়ে বলল, “ভালো খবর দিতে চাইলে এক জায়গায় গিয়ে দিতে হবে?”
– “হ্যা, ভালো খবর ভালো জায়গায় দিতে হয়।”
মিশু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, “চলুন তাহলে।”
মেঘালয় ওকে নিয়ে লোকাল বাসে উঠে পড়লো। বাসায় গাড়ি থাকা সত্ত্বেও গাড়ি নিয়ে বের হয়না ও। সাধারণ মানুষ দের মত চলাফেরা করতেই ভালো লাগে। বাসে উঠতেই কিছুক্ষণ পর দুইটা সিট ফাঁকা হয়ে গেলো। জানালার পাশের সিটে বসলো মিশু। মেঘালয় ওর পাশেই বসলো। মিশু উৎসুক চোখে বাইরে তাকাচ্ছে আর অবাক হচ্ছে কিছু না কিছু দেখে। ওর মনটা ভালো হয়ে গেছে। ইস! হাসলে কত সুন্দর দেখায় মেয়েটাকে! ও বোধহয় জার্নি খুব ভালোবাসে। ইচ্ছে করছে ওকে নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে। মেয়েটা যাই দেখবে শুধু অবাক হবে, ভালো লাগবে খুব।
চিন্তাটা মাথায় আসতেই মাথা চুলকে ভাবতে লাগলো মেঘালয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই বন্ধুরা বলছিল কোথাও ট্যুরে যাওয়ার কথা। দশ বারো জন বন্ধু বান্ধবী গেলে মিশুকে বললে সেও যেতে পারে। ট্রাভেলিং করতে কে না ভালোবাসে?
মেঘালয় বলল, “আচ্ছা মিশু তুমি ট্রাভেলিং ভালোবাসো?”
– “হ্যা খুব ভালোবাসি। কেন?”
– “আমরা দশ জন বন্ধু বান্ধবী মিলে ট্যুরে যাচ্ছি।তুমি কি যাবা আমাদের সাথে? গেলে তোমার মনটা ভালো হয়ে যাবে।”
মিশু বেশ উৎফুল্ল হয়ে বলল, “হ্যা আমি যাবো। অবশ্যই যাবো। কবে যাবেন?”
ওর খুশি দেখে মন ভরে গেলো মেঘালয়ের। হেসে বলল, “খুব শীঘ্রই যাচ্ছি। প্রিপারেশন নাও।”
এবার মিশুর মুখে মেঘ নেমে এলো। মুখটা কালো করে বলল, “না থাক যাবো না।”
– “কেন?”
– “আমার টাকা নেই এখন হাতে।”
– “আমার কাছে ধার নিও,এসে ফেরত দিয়ে দিও।”
মিশু মুখ কাচুমাচু করে বলল, “এমনি তেই আপনি দুই হাজার টাকা পাবেন আমার কাছ থেকে।”
– “ধুর বাদ দাও তো। তুমি যাচ্ছো। আমি আমার বন্ধুদের কনফার্ম করে দিচ্ছি।”
মিশুর মনটা আনন্দে ভরে গেলো। কিন্তু চাকরী তে তো তিনদিন ছুটি নিতে হবে তাহলে। ছুটি নিলে মাস শেষে বোনাস টা আর পাওয়া যাবেনা। সেটাও চিন্তা হচ্ছে,ঘুরতে যেতেও ইচ্ছে করছে। কি করা যায় ভাবতে লাগলো ও। হঠাৎ ও খেয়াল করলো, মেঘালয় যে সিটে বসেছে তার সামনের সিটের পিছনে হাত রেখেছে। হাত ঘেমে গেছে বেশ। কিন্তু হাতে এত সুন্দর ঘনঘন লোম! ঘর্মাক্ত হাতটাকেই মনেহচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য!
মেঘালয়ের হাতের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর মিশুর চোখ চলে গেলো মেঘালয়ের কপালে। কপাল টাও ঘেমে গেছে। কপালের দিকের চুলগুলো দেখেও কেমন যেন ফিল কাজ করছে ভেতরে। মনেহচ্ছে মেঘালয়ের সমস্ত শরীরেই এমন সৌন্দর্য! এমন বাহ্যিক জিনিস গুলো দেখেও এত ভালো লাগছে কেন বুঝতে পারছে না মিশু।
মেঘালয় মিশুকে বাস থেকে নামতে বললে নেমে পড়লো ও। তারপর দেখল পিছনে স্টার কাবাব রেস্টুরেন্ট! এই রেস্টুরেন্টটা নাকি মোহম্মদপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত গুলোর একটি। এখানে কেন নিয়ে এলো মেঘালয়!
মিশু মেঘালয়কে অনুসরণ করে ভিতরে গিয়ে বসলো। মেঘালয় ওর বন্ধুদের সাথে ফোনে কথা বলে এসে খাবার অর্ডার করলো। মিশু চুপচাপ বসে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে।
মেঘালয় এসে বসতে বসতে বলল, “আমরা আগামী পরশু যাচ্ছি। দুদিনের ট্যুর।”
মিশু অবাক হয়ে বলল, “পরশু! একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে না?”
– “দেরি করা যাবেনা। এসেই তোমাকে আবার চাকরী তে জয়েন করতে হবে।”
– “মানে!”
মেঘালয় খুব সুন্দর ভাবে মিশুকে বুঝিয়ে বলল চাকরীর ব্যাপার টা। সব শুনে মিশুর চোখে পানি এসে গেছে। অচেনা একটা মানুষ ওকে নিয়ে এত কিছু ভেবেছে! কত উপকার করলো মানুষ টা, আবার ট্যুরেও নিয়ে যেতে চাইছে। দেবদূত হয়ে এসেছেন উনি!
মিশুর মুগ্ধ চাহনি খুব ভালো লাগলো মেঘালয়ের। মেয়েটা খুশি হলেও সুন্দর লাগে, মুগ্ধ হলে আরো বেশি সুন্দর লাগে! এখন থেকে বেশী বেশী সারপ্রাইজ দিয়ে ওকে মুগ্ধ করে দিতে হবে! তাহলে অন্তত এই সুন্দর চাহনি টা উপভোগ করা যাবে।
খাবার চলে এলো কিন্তু মিশু কিছুই খেতে পারলো না। ওর সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে! কাল থেকে আর মার্কে টে ডিউটি তে যেতে হবেনা। বিকেলে একটা সিভি নিয়ে মেঘালয়ের বাবার অফিসে গিয়ে ওনার সাথে দেখা করতে হবে। ট্যুর থেকে ঘুরে এসে তারপর চাকরী তে জয়েন!
মিশুর গাল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। অন্য কোনো লোক হলে মিশুর এত ভালো লাগত না। ট্যুরে যেতে বললেও সে যেতো না। কিন্তু মেঘালয়ের মানবতা, বিবেকবোধ, সম্মানবোধ সবকিছু এত বেশী সুন্দর যে, ওকে সন্দেহ করলে অন্যায় হয়ে যাবে। ছেলেটা দেবতাসুলভ একদম!
মিশু কাঁদছে আর মেঘালয় মুখ টিপে হাসছে। এই মুগ্ধ কান্নাটাও অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওর। এত সুন্দর করে কেউ কাঁদতে পারে! জানা ছিলোনা মেঘালয়ের। আজ মিশুর নতুন নতুন রূপ ধরা দিচ্ছে ওর কাছে।

৯,
মিশু চোখ মুছতেও ভূলে গেছে। তাক লেগে হা করে চেয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। মেঘালয় অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে।
এবারে বলল, “কাঁদার মত কিছু ঘটেছে কি?”
– “সরি। আসলে সাধারণত এমনটা তো হয়না।”
মেঘালয় মুখ টিপে হেসে বলল,”আমি একটু অসাধারণ তো তাই আরকি। নাও খাও এবারে।”
মেঘালয়ের তাড়া দেখে মিশু একটু একটু করে খেতে আরম্ভ করলো। ওর এখন বেশ ভয় ভয় লাগছে।মেঘালয় কেমন রহস্যময় ভাবে হাসি দিচ্ছে। এই হাসিতে কিছু লুকিয়ে নেই তো? বড়লোকের ছেলেদের কত কত পরিকল্পনা থাকে! কিন্তু মেঘালয় তো সেরকম নয়। তবুও ওর হাসি দেখে ভয় হচ্ছে মিশুর। এভাবে হাসছে কেন ছেলেটা?
মেঘালয় মিশুর কান্না দেখে হাসছে। আর ওর চাহনী টাই কেমন রহস্যজনক! মিশু অযথাই ভূল বুঝছে ওকে। কিন্তু সে কথা কে বোঝাবে মিশুকে? মিশু তো ভয়েই অস্থির হয়ে বারবার তাকাচ্ছে মেঘালয়ের বাঁকা ঠোঁটের দিকে।
মেঘালয় বললো, “ম্যাম কি কিছু ভাবছেন?”
– “আমি মনের কথা চেপে রাখতে পারিনা।একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না তো?”
– “না, বলো।”
– “আসলে বলছি যে, আপনি এরকম একটা চাকরীর ব্যবস্থা করে দিলেন আবার আমাকে নিয়ে ট্যুরে যেতে চাইছেন। আমার না খুব ভয় করছে। আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই তো?”
মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো। যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর টাইপ অবস্থা। মিশুর জন্য এতকিছু করার পরও সে ভাবছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা? আসলে মেয়েরা বোধহয় এমনই। ওরা সবকিছু ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু সন্দেহ ছেড়ে দিতে পারেনা।সন্দেহ এদের রক্তের সাথে মিশে আছে।
মিশু বললো, “আপনি কি রাগ করলেন?”
– “না,আমি বড্ড আনন্দ পাচ্ছি। এভাবে কৃতিত্ব দিলে কি রাগ করা যায়?”
– “না মানে আমি এভাবে বলতে চাইনি। মাথায় হুট করে আসলো তাই। সরি।”
– “গভীর রাতে একা পেয়েও যে আপনাকে সম্মানের সহিত ফার্মেসি তে নিয়ে গেলো, বাপের ঘুম ভাঙিয়ে বিকাশে টাকা নিয়ে ওষুধ নিয়ে দিলো, আবার বাসায় পৌছে দিলো, সে এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করে আপনাকে নিয়ে অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করবে? আজব!”
মিশু খুব লজ্জা পেয়ে গেলো মেঘালয়ের কথা শুনে। সত্যিই তো! এত কিছুর পরও কেন যে মিশু সন্দেহ প্রবণ হয়ে পড়লো নিজেও বুঝতে পারছে না।
মিশু বললো, “আমি দুঃখিত। প্লিজ কিছু মনে করবেন না। আমি আসলে এসব ভেবে বলিনি কথাটা। আমি না একটু এরকম ই।”
মিশুর অসহায় মুখ দেখে হাসি পেলো মেঘালয়ের। হেসে বলল,”ঠিক আছে বুঝতে পেরেছি। তোমাকে আমাদের সাথে ট্যুরে যেতে হবেনা। আমিই একটু বেশী বেশী বলে ফেলেছি বোধহয়। অফিসের ঠিকানা দিচ্ছি,চাইলে চাকরীতে জয়েন করতে পারো। আমার বাবার নিশ্চয় ই কোনো উদ্দেশ্য নেই।”
মিশু বেশ লজ্জা পেয়ে গেলো মেঘালয়ের কথা শুনে। মাথা নিচু করে ফেলল। ওর কান্না পেয়ে যাচ্ছে। আসলে একটু বেশিই ইমোশনাল এই মেয়েটা। কথায় কথায় কান্না আসে ওর। কেউ কঠিন করে কিছু বললেই চোখে পানি এসে যায়।
মেঘালয় মিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে আবারো মুখ টিপে হাসলো। মেয়েটাকে নিয়ে দারুণ মুশকিলে পড়া গেলো তো। কিছু বললেও সে সহ্য করেনা, আবার না বললেও পারা যায়না কিছুতেই। মাথাটা ঝাঁকিয়ে মেঘালয়, উঠে এসে মিশুর পাশে বসতে বসতে বলল,”আচ্ছা ঠিকাছে বাচ্চা মেয়েটা। মন খারাপ করোনা কেমন? তুমি যা চাইবে, তাই হবে। এবার খেয়ে নাও।”
মিশু চুপচাপ খেতে আরম্ভ করে দিলো। টুকটুক করে খাবার মুখে দিতে দিতে বারবার আড়চোখে মেঘালয়ের দিকে তাকাচ্ছিলো। ছেলেটা আসলেই অনেক ভালো। একটু রহস্যময় হলেও খুব উদার মনের। পর্বতারোহী রা বুঝি এমন ই হয়!
মেঘালয় উঠেই গিয়ে ফোনে কথা বলে আসলো। মিশুর খাওয়া ততক্ষণে হয়ে গেছে। মেঘালয় এসে সামনে বসলো। মিশু খেয়েদেয়ে চুপচাপ চেয়ে আছে মেঝের দিকে।
মেঘালয় আর কিছু না বলে উঠে দাঁড়াল। মিশুও পিছুপিছু এলো। কেউ কোনো কথা বলছে না। মেঘালয় যেদিকে যাচ্ছে,মিশুও পিছুপিছু যাচ্ছে ওর। একটা চেম্বারে নিয়ে এসে মেঘালয় মিশুকে বসতে বসলো। এটা যে ডাক্তারের চেম্বার সেটা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হলোনা মিশুর। কিন্তু অসুখ টা আবার কার? মেঘালয় কি অসুস্থ?
একটু পরে মিশুর বিস্ময় আরো বেড়ে গেলো যখন ডাক্তার এসে ওকেই নানান প্রশ্ন করতে লাগলো। তাহলে এই হচ্ছে আসল ব্যাপার! সামান্য শরীর খারাপের কথা শুনে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছে। অদ্ভুত মানুষ একটা!
ডাক্তার জানালেন অনেক আগে থেকেই মিশুর শরীরে জ্বর বইছে। শরীর অনেক দূর্বল আর অপুষ্টিতে ভুগছে। একটু পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে, আর কিছু ওষুধ লিখে দিলেন। ওষুধ গুলো ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়ে মেঘালয় মিশুর হাতে দিয়ে বললো, “এইগুলা নিয়ম করে খাবেন ম্যাডাম। অসুস্থ শরীরে অফিসে কাজ করবেন কি করে?”
মিশুর মুখে কোনো কথা নেই। ও বিস্ময়ের ঘোরে শুধু বারকয়েক বিড়বিড় করলো। মেঘালয় এগিয়ে এসে রাস্তায় সিএনজি দাড় করালো। তারপর মিশুকে তাতে উঠতে বললো। মিশু অবাক করা চোখে ওর দিকে চেয়ে থেকে গাড়িতে চেপে বসলো। মেঘালয় ওর পাশেই বসে পড়লো।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “তোমার বোনের শরীর কেমন এখন?”
-“মোটামুটি সুস্থ। ওষুধ খেলেই ও ঠিক হয়ে যায়।”
– “ওহ আচ্ছা। তুমিও ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যাবা।”
– “আচ্ছা। এখন আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
– “আমরা নেভারল্যান্ডে যাচ্ছি।”
মিশু ফিক করে হেসে ফেললো, “সিএনজি তে করে নেদারল্যান্ড? বাহ! আজকালকার সিএনজি বুঝি ফ্লাইং করে?”
মিশুর হাসি দেখে মেঘালয় ও হেসে ফেললো। হাসতে হাসতে বললো, “নেদারল্যান্ড নয় মিশু, নেভারল্যান্ড।”
মিশু ভ্রু কুঁচকে বললো, “নেভারল্যান্ড! সেটা আবার কোথায়? ”
মেঘালয় মুখ টিপে হাসলো। হা করে চেয়ে থাকা মিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে ও বললো, “নেভার ল্যান্ড মিরপুরে অবস্থিত ম্যাম।”
-“জীবনেও নাম শুনিনি আমি। কি আছে সেখানে? প্লেন উড়াউড়ি করে নাকি?”
– “আজব প্রশ্ন! প্লেন উড়াউড়ি কেন করবে? সেখানে আমরা বেড়াতে যাচ্ছি। তুমি না বললা খুব বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করছে?”
মিশু লজ্জা পেয়ে গেলো খুব। লাজুক স্বরে বলল, “ও আচ্ছা। সেখানে কি কি আছে? পার্ক?”
– “নদী, নৌকা, রেস্টুরেন্ট আর সবুজে ঘেরা একটু প্রকৃতি। মজার ব্যাপার কি জানো? প্লেনের উড়াউড়ি না থাকলেও সেখানে ময়ূরপঙ্খী আছে।”
মিশু অবাক হয়ে বললো,”ঢাকার ভিতরে এমন প্লেস আছে! আমিতো জানতাম না। ময়ূরপঙ্খি আছে! উফফ তাড়াতাড়ি চলুন না প্লিজ।”
– “সিএনজি কি আমি চালাচ্ছি?”
মিশু আবারো লজ্জা পেয়ে গেলো। মুচকি হাসলো এবার ও। মেঘালয়ের খুব আনন্দ হচ্ছে। মেয়েটির এই আনন্দিত মুখটাই দেখার জন্য ওকে সীতাকুণ্ড ট্যুরের প্লানটা জানিয়েছিলো। সামান্য কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনলেই মেয়েটি বড্ড আনন্দিত হয়ে ওঠে। পাগলী একটা! এই ফুটফুটে মেয়েটাকে কি ওইরকম বন্দি দশায় মানায়? এ জন্যই বড্ড মন কেমন করছিলো মেঘালয়ের।
মেঘালয় বলল,”ওটা মূলত একটা রেস্টুরেন্ট। তবে শ্যুটিং স্পট। পরিবেশ টা অনেক সুন্দর করেছে। আর রেস্টুরেন্ট এ চাইনিজ,থাই থেকে শুরু করে দেশী খাবার দাবার ও পাওয়া যায়।”
মিশু অবাক হয়ে বলল,”আপনি যে বললেন ময়ূরপঙ্খী? রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে নৌকা চলে?”
মেঘালয় এবারে হো হো করে হেসে উঠলো। আচ্ছা পাগলি মেয়ে তো। রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে নৌকা কখনো চলে নাকি? বরং অনেক সময় নৌকার উপরেই রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠে। কিন্তু নেভার ল্যান্ড তো কয়েক একর জমির উপরে তৈরী। রেস্টুরেন্ট একদিকে আছে। এটা বুঝতেও কষ্ট হচ্ছে ওর?
মেঘালয়ের উত্তর শুনে মিশু লজ্জা পেয়ে বলল,”আমি একটু এমন ই। কিচ্ছু বুঝিনা। তবে একবার বললে আর ভূলিনা।”
মেঘালয় হাসল। এই বাচ্চা স্বভাব টাই দেখার অপেক্ষায় ছিলো ও এতদিন! মেয়েটি বড্ড মায়াবী, শুধু মায়ায় জড়িয়ে ফেলে!
মিশু সিএনজির ভিতর থেকেই বাইরে টা দেখার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। মেঘালয় বললো,”তোমার কি সবকিছু দেখতে খুব ভালো লাগে?”
– “হ্যা লাগে। খুউউব লাগে। কিন্তু দেখার সুযোগ পাইনা তো। সারাক্ষণ অফিসে বন্দি থাকতে হয়। আর এখন এই দেখুন সিএনজি থেকে কিচ্ছু দেখা যায় না।”
মিশুর ছেলেমানুষি কণ্ঠ শুনে আবারো হাসি পেলো মেঘালয়ের। ও মনে মনে ভাবলো, এখন থেকে বাইক নিয়ে বের হতে হবে। তাহলে ঘুরাঘুরি করে খুব আনন্দ পাবে মেয়েটা।
মিশুর পরিবারের অবস্থা শুনতে শুনতে অনেক দূর চলে এলো ওরা। মেঘালয় সিএনজি থেকে নেমে রিক্সা নিলো। এবার মিশুর মুখটা উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। রিক্সা থেকে সবকিছু বেশ সুন্দর দেখা যায়! একদম বাচ্চাদের মত লাফিয়ে উঠছে আনন্দে।
নেভারল্যান্ডে ঢোকার আগেই মিশুর খুশি আর দেখে কে? রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্য দেখে দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছে ও। রাস্তাগুলো এত সুন্দর কেন! নদীও দেখা যাচ্ছে। মিশু আনন্দে লাফাচ্ছে।
চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখানোর পর মিশুকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট এ এসে বসলো মেঘালয়। খাবারের মেন্যু দেখে খাবার অর্ডার করতে বলল মিশুকে। মিশু কি অর্ডার করলো নিজেও জানেনা। খাবার চলে আসতেই হা করে চেয়ে রইলো মেঘালয়ের দিকে। এই খাবার জীবনেও দেখেনি ও। কিভাবে খেতে হয় তাও জানেনা। মেঘালয় কাঠি ও কাটা চামচ দিয়ে ওকে শিখিয়ে দিলো কিভাবে খাবার টা খেতে হবে।
মিশু মেঘালয়ের দেখাদেখি খাবার খাচ্ছে। এখন একটু একটু খেতে পারছে। কিন্তু খাবারের স্বাদ বেশী সুন্দর না,শুধু নামেই সুন্দর। এজন্যই বিদেশী খাবার গুলো ভালো লাগেনা ওর। খাবার খেতে খেতে রেস্টুরেন্ট এর পরিবেশ উপভোগ করছিলো মিশু। বেশ উন্নত আর সুন্দর, সাজানো গোছানো পরিবেশ। চারদিক টা অনেক সুন্দর বলতে হবে। মেঘালয় দারুণ একটা সারপ্রাইজ দিলো আজ ওকে।
কিন্তু ময়ূরপঙ্খী তে ওঠা হলোনা। অল্প ক’জন যাত্রী নিয়ে ময়ূরপঙ্খী যাত্রা করেনা। যাত্রী পূর্ণ হলে তবেই নৌকা ছাড়ে। মিশুর খুব মন খারাপ হয়ে গেলো এটা শুনে। মেঘালয় ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আরেকদিন নিয়ে আসবো এখানে।
অনেকবার বলার পর একটু মন ভালো হলো মিশুর। পুরোটা বিকেল জায়গাটায় ঘুরাঘুরি করে বাসার উদ্দেশ্যে বের হলো ওরা। এর মধ্যে টুকটাক কথা হয়েছে দুজনাতে সেটা শুধুমাত্র পড়াশুনা, ছেলেবেলা এসব নিয়েই। লোকাল বাসে করে রওনা দিলো ওরা। মিশু জানালার পাশে বসে বাইরে চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগলো। মেঘালয়ের ইচ্ছে করছে রোজ মিশুকে এভাবে বাইরে ঘুরতে নিয়ে বের হতে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব?
৯.
রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ইয়ারফোনে গান শুনছিলো মিশু। পুরনো দিনের কিছু গান। শুনতে শুনতে একটা গল্পের বই পড়ছিলো। একটা গান শেষ হওয়ার পর আরেকটা গান আসতেই বেশ চমকালো মিশু! গানটা পুরনো দিনের হলেও তার সুর এত মধুর আর মায়ায় জড়ানো! কিছুক্ষণ পড়া বন্ধ করে গান শুনতে লাগলো। শিল্পী গান গাইতে আরম্ভ করার পর একদম চোখে জল এসে যাওয়ার মত অবস্থা হলো। এত মায়া দিয়ে গান গাইছে সে! কণ্ঠে যেন জাদু আছে। কিন্তু কে এই শিল্পী? ওনার গান তো আগে কখনো শোনা হয়নি। এত ভালো গান গায়, অথচ তার গান আগে শোনা হয়নি!
মিশু অবাক হয়ে প্লে লিস্টে ঢুকলো। গানের ডিটেইলস দেখে ভিরমি খেয়ে গেলো একবার। শিল্পীর নাম দেখে কয়েক মুহুর্ত চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইলো, “Meghaloy Ahmed”
এলবামের ছবিতেও মেঘালয়ের ছবি দেয়া। প্রথম টায় স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছিলো মিশুর। এই ছবির ছেলেটার সাথে তো আজকেই সারাদিন ঘুরাঘুরি করেছে ও। তার গান প্লে লিস্টে বাজছে আবার এত মধুর কণ্ঠ! সবকিছু কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে যেন! এটা কিভাবে সম্ভব? মেঘালয় কি গান গায়? এটা তো মিশু জানতো না।
আজ কিছু গান ডাউনলোড করেছে মিশু। এ গানটাও আজকেই ডাউনলোড করা। কিন্তু মিশু তখন জানতো না মেঘালয়ের গাওয়া গানও আছে এতে! আর মেঘালয় তো আরোহী হিসেবেই পরিচিত, সে আবার গান গায় কবে থেকে?
তৎক্ষণাৎ ফেসবুকে ঢুকে গেলো মিশু। মেঘালয়ের নাম দিয়ে সার্চ দিয়ে ওর পেইজে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করার পর দেখতে পেলো সত্যিই মেঘালয় মাঝেমাঝে গান গায়। রেডিও তে গাওয়া গান এটা! রেডিও তে গেয়ে রেকর্ডিং করে আপলোড দিয়ে দিয়েছে। দেখার পর অজান্তেই কেঁদে ফেললো মিশু।
বেশ কিছুক্ষণ অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো। ছেলেটা পর্বতারোহী, মাঝেমাঝে গানও গায়। মোটামুটি জনপ্রিয় একজন মানুষ। অথচ এত আপনজন দের মত মিশেছেন যেন মিশু ওনার বন্ধু! রোজ রোজ মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করা, রাতে ওষুধ কিনে দেয়া, বিকাশে টাকা নেয়া, বাইকে তোলা, আবার আজ ডাক্তার দেখানো, স্টার কাবাবে খাওয়াদাওয়া, নেভারল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়া সবকিছু স্বপ্নের মত মনেহচ্ছে। এসব শুধুমাত্র স্বপ্নেই সম্ভব। বাস্তবেও সম্ভব সেটা ভাবাই যায়না!
মিশু বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলো। কাঁদতে কাঁদতে হেডফোনে মেঘালয়ের গানটা ফুল ভলিউম দিয়ে বারবার শুনতে লাগলো। কেন যে কাঁদছে সেটা ও নিজেও জানেনা। গানে মেঘালয়ের মায়াবী সুরের টান শুনে আরো কান্না বেড়ে যাচ্ছে মিশুর।
চলবে..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *