অনুভূতি ! পর্ব_৮

অনুভূতি
পর্ব -০৮
মিশু মনি

অনুভূতি সকল পর্ব 

অনুভূতি ! পর্ব_১

অনুভূতি ! পর্ব_২

২৫.
-“বিয়ে করবা আমায়?”
নিঃসংকোচ প্রস্তাব! কোনো কথাবার্তা ছাড়াই কেউ এভাবে বিয়ে করতে বললে সত্যিই আশ্চর্য হতেই হয়। তার উপর মেঘালয়ের মত একজন মানুষ এ কথা বলছে এটাও অবিশ্বাস্য। ঢোক গিলে মিশু তাকিয়ে রইলো ওর দিকে।
মেঘালয় খুব নরম গলায় বললো, “আমাকে বিশ্বাস করতে পারো?”
– “হুম পারি। কিন্তু আপনি কেন এরকম প্রস্তাব দিচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না।”
মেঘালয় একটু নড়ে বসলো। তারপর মিশুর মুখোমুখি হয়ে বসে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, “আমাকে কতদিন ধরে চেনো তুমি? প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিলো?”
– “রাস্তায়, বৃষ্টির দিনে। আপনার রেইনকোট চেয়ে নিয়েছিলাম আমি।”
মেঘালয় বললো, “এটাই পয়েন্ট। তুমি যখন আচমকা এসে বললে, ‘আপনার রেইনকোট টা একটু দেবেন? আমার বৃষ্টি সহ্য হয়না’ কথাটা চুড়ির মিষ্টি রিনিঝিনির মত এখনো কানে বাজে আমার। আমি একদম অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। স্তব্ধ হয়ে তাকিয়েছিলাম তোমার দিকে। তুমি ব্যস্ত হয়ে বারবার চাইলে, আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম তোমার আচরণে। বিশ্বাস করো, সেদিন ই অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করতে শুরু করে ছিলো। তারপর তোমার শপে গিয়ে যখন তোমাকে কষ্ট করে ডিউটি করতে দেখি,বুকের ভেতরে কেমন কষ্ট অনুভূত হচ্ছিলো। তোমার জন্য কিছু করার ইচ্ছে অনুভব করছিলাম।”
মিশু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে। বললো, “তারপর?”
মেঘালয় বললো, “আমি সেদিন রাতেই অনেক জায়গায় ফোন দিয়ে কথা বলে রেখেছিলাম তোমার চাকরীর জন্য। মাঝরাতে তোমাকে রাস্তায় ছুটতে দেখে গিয়ে যখন বাইকে তুললাম, কেবলই মনে হচ্ছিলো তোমার জন্য একমাত্র ভরসার হাতটা হয়ত আমার ই। তখন বুঝিনি ধীরেধীরে তোমার প্রতি একটু একটু করে মায়া বাড়ছে আমার। এই মায়াটার নামই হয়ত ভালোবাসা।”
মিশু মুগ্ধ হয়ে শুনছে। ভালো লাগছে ওর। মেঘালয় সেইদিন থেকেই ওকে নিয়ে এত ভাবে ব্যাপার টা ভালো লাগার মত। কিন্তু কিছু না ভেবেই প্রশ্ন করে বসলো, “আপনি দেখতে অনেক সুন্দর, আমার মত কুৎসিত একটা মেয়ের মাঝে কি পেলেন শুনি?”
মেঘালয় মিশুর দিকে আপাদমস্তক তাকিয়ে হাসলো। তারপর বললো, “তুমি মোটেও কুৎসিত নও। তোমার দেহের গাঁথুনি একদম আকর্ষণীয়,যদি ঠিকঠাক কেয়ার করতে পারো তবে আর দু তিন বছর পর তোমার চেহারা দেখলে যে কোনো পুরুষের রাতের ঘুম হারাম হবে।”
মিশু লজ্জায় নীল হয়ে গেলো একেবারে। এসব আবার কেমন কথা! লজ্জায় মাথাই তুলতে পারছে না। মাথা নিচু করেই বললো, “আমার দেহের গাঁথুনি মানে! আপনি এসবের দিকেও নজর দেন?”
– “উহু, রাগ করোনা। তুমি নিজেকে কুৎসিত বললা সে জন্যই বললাম। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, যদি টানা ছয় মাস আসন করো, তুমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ছেলেরা একবার তাকাতে বাধ্য।”
– “বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। ছি, এসব… ”
মিশু লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছে একদম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলো ও। ওর লজ্জানত মুখের দিকে তাকিয়ে মেঘালয় বললো, “এটা গেলো দৈহিক সৌন্দর্য, আর মানসিক সৌন্দর্যের কথা বলতে গেলে বলবো, তোমার রুচিবোধ অনেক উন্নতমানের। আর তোমার মাঝে একটা ইনোসেন্ট ভাব আছে, তুমি নিজের ইচ্ছেকে সবসময় প্রায়োরিটি দাও। কাজের পরিণতি নিয়ে ভাবো না। ব্যাপার টা ভালো লাগে আমার।”
মিশু জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলো, “আমাকে নিয়ে এতকিছু গবেষণা করা হয়ে গেছে আপনার?”
মেঘালয় মধুর ভঙ্গিতে হাসলো। এরকম করে মিশুকে বলতে পেরেছে দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছে। সাধারণত এরকম কথাবার্তা কাউকে বলে না ও, সবার সাথে সবকিছু শেয়ার করতেও পারেনা। সত্যিই মিশু অনেক আপন হয়ে গেছে, যার দরুন অনায়াসে ওকে এসব বলা যাচ্ছে।
মেঘালয় বললো, “কি হলো মিশু? কিছু বলবে না?”
মিশু ওর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললো, “যা যা বললেন সব সত্যিই?”
– “হুম সত্যি। আমি কিছুতেই আর তোমাকে দূরে রাখতে পারছি না, আমরা বিয়ে করে ফেলবো।”
– “সরাসরি বিয়ে?”
– “হুম বিয়ে। তারপর চুটিয়ে প্রেম করবো।”
মিশু উঠে দাঁড়িয়ে এসে মেঘালয়ের সামনে দাঁড়ালো। তারপর ওর চোখের দিকে চোখ রেখে বললো, “আপনি কি সিরিয়াস?”
– “হুম একদম সিরিয়াস। আমি এইমাত্র সিদ্ধান্ত নিলাম আমি কাল পরশুর মধ্যেই তোমাকে বিয়ে করবো।”
– “কিহ! এত দ্রুত? কিভাবে সম্ভব এটা?”
চোখ দুটো স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড় আকার ধারণ করেছে মিশুর। সবই কেমন স্বপ্নের মত লাগছে। মেঘালয় ঠিক আছে তো?
মেঘ বললো, “তুমি করতে পারবা কিনা সেটা বলো?”
– “আচমকা বিয়ের কথা শুনে আমার মুখ এমনিতেই হা হয়ে গেছে,তার উপর কাল পরশুর মধ্যে বিয়ে হবে শুনে আর গলা দিয়ে শব্দই বের হচ্ছে না।”
মেঘালয় হেসে বললো, “শুধুমাত্র কথার উপর নির্ভর করে আজকাল বিশ্বাস করা যায়না। এজন্যই বিয়ে করে ফেললে তোমার তো আর ভয় থাকবে না। বিয়ে করে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে তোমাকে রেখে দিবো, সেখানে থেকে পড়াশোনা করবা। সময় হলে বাসায় জানাবো আমি।”
মিশুর মাথা ঘুরছে। এই ছেলেটা এলিয়েনের মতন দুম করে নেমে এসে এসব কি বলছে? আকাশ থেকে নেমে আসেনি তো?
মেঘালয় উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে। মিশু একটু ভেবে বেশ জোড়ালো ভঙ্গিতে জবাব দিলো, “এত তাড়াতাড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়াটা কি ঠিক? দুজন দুজনকে জানার অনেক বাকি, একসাথে বাকি জীবন থাকতে পারবো কিনা সবই তো বুঝতে হবে। তারপর না হয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এজন্য অনেক সময় দরকার।”
মেঘালয় একটু নিশ্চুপ হয়ে ভাবলো। মিশু যা বলেছে সবই সত্য। কিন্তু মিশুর জন্য যেটুকু জানে,এর বেশি কিছু জানার প্রয়োজন মনে করছে না ও। মিশুকে এভাবেই ভালোবাসতে, বিয়ে করতে আর সারাজীবন আগলে রাখতে ওর কোনো সমস্যাই হবেনা। কিন্তু মেঘালয়ের সম্পর্কে জানতে মিশুর হয়ত একটু সময়ের প্রয়োজন।
ও বললো, “তুমি এখন কি চাইছো? সময় নিতে?”
মিশু দুম করেই বললো, “আমার খুব বিয়ে নামক পাগলামি টা করতে ইচ্ছে করছে।”
– “সিরিয়াসলি?”
– “হুম, আমার তো আর কেউ নেই। একটা ছোট্ট ঘর,আর ঘরভর্তি ভালোবাসা থাকলে ব্যাপার টা মন্দ হয়না।”
বলেই হাসলো। মেঘালয় ওর গাল টেনে দিয়ে বললো, “ওরে আমার দুষ্টু টা রে। বিয়ে করার এত ইচ্ছে? অনেক যন্ত্রণা সইতে হবে কিন্তু।”
– “কি যন্ত্রণা?”
– “প্রচণ্ড জ্বালাবো, একটা রাতও ঘুমাতে দিবো না।”
– “সারা রাত কি রাস্তায় হাঁটবেন?”
– “হ্যা, হাঁটবো, ঘুরবো, আর বিয়ের পর বর কনেরা যা যা করে আর কি।”
– “কি কি করে?”
মিশু হা করে মেঘালয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করলো। পরক্ষণেই আবার নিজেই লজ্জায় কুকড়ে যেতে লাগলো। অনেক্ষণ লজ্জানত হয়ে মাথা নিচু করে মেঘালয়ের পায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। খুব সুন্দর পা দুটো ওর। তারপর হঠাৎ মুখ টিপে বললো, “একটা জিনিস দেখবো তারপর বিয়েতে মত দিবো।”
মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, “কি জিনিস?”
– “শার্ট খুলুন।”
– “মানে!”
চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো মেঘালয়ের। শার্ট খুলবো মানে কি?
মিশু নির্লজ্জের মত বললো, “আপনার রোমশ বুকটা একবার দেখবো। ওখানে বাস করতে পারবো কিনা না দেখে কিভাবে বিয়ে করি?”
মেঘালয় হতভম্ব! এ কেমন অত্যাচার? আজ অব্দি জগতে কোনো মেয়ে পাত্রের জামা খুলে বডি দেখতে চেয়েছে নাকি? আজব মাইরি।
ও আস্তে আস্তে সব বোতাম খুলে শার্টটা খুলে ফেললো। একান্তই নির্জনে এভাবে মেঘালয়ের প্রশস্ত বুকটা দেখতে পেয়ে লজ্জায় গাল লাল হতে শুরু করেছে মিশুর। অন্যদিকে একটা ভালোলাগায় বিভোর হয়ে রইলো ও। ফর্সা বুকে ঘন ঘন লোম দেখে একবার নাক ডুবাতে ইচ্ছে করছে। আর গলার দিকে এতবেশি সুন্দর যা দেখলে শরীরে শিহরণ বয়ে যায়। একটা ছেলের গলা এত সুন্দর হতে পারে সেটা কল্পনাও করতে পারেনি মিশু। মেঘালয়ের কাঁধ, গলা সত্যিই ভয়ংকর সুন্দর! একদম খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। মিশুর ইচ্ছে করছে ওর ভেজা পা একবার দেখতে। কিন্তু সেটা সবচেয়ে নির্লজ্জ ব্যাপার হয়ে যাবে, থাক ওসব বলা যাবেনা।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “আরো কিছু দেখাবো?”
মিশু জিহ্বায় কামড় দিয়ে বললো, “না না। আমি আর কিছু দেখবো না।”
মেঘালয় শব্দ করে হেসে উঠলো। কি পরিমাণ ইনোসেন্ট হলে এভাবে শার্ট খুলতে বলা যায়? মেঘালয়ের জায়গায় অন্য কোনো ছেলে থাকলে আজকে মিশুর এই হাসিমাখা সুন্দর মুখটা আর থাকতো না। কয়জন ছেলেই বা আজকাল বিশ্বাসযোগ্য আছে? মেঘালয় নিজেই কন্ট্রোল হারাতে বসেছিলো।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ও। যা হয়েছে ভেবে আর কি হবে, বিয়েটা তাড়াতাড়ি করে ফেলতে হবে। বাচ্চাটাকে বুকে চেপে ধরতে না পারলে শান্তি হচ্ছেনা কিছুতেই।
মিশু জিজ্ঞেস করলো, “কি ভাবছেন?”
– “এখানে নাক ডুবিয়ে শরীরের গন্ধ নিবা না?”
মেঘালয় নিজের বুকের দিকে দেখিয়ে এ কথা বলেছে। মিশুর পুরো শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। ছেলেটাকে যতটা ভালো মনেহয়,ততটা নয়। দুষ্টুও আছে। ইচ্ছেটা হচ্ছিলো ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছে হলেই তো আর করা যায়না। ভাবতে ভাবতে মিশু এগিয়ে এসে সত্যিই ওর বুকে মাথা রাখলো। মানব মন বড়ই অদ্ভুত, মেয়েদের মন আরো বেশি অদ্ভুত। মেয়েরা যা ভাবে,তা করেনা। আর যা করে, তা ভাবেনা।
২৬.
রৌদ্রময়ী কোথায় যাবে নিজের ও অজানা। কোনো গন্তব্য নেই ওর। কিন্তু এরকম বিয়ের সাজে কতক্ষণ ই বা থাকা যায়? লোকজন তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। মাত্র কিছু টাকা আছে, সেটা নিয়ে কোনো ড্রেস কিনে নষ্ট করে ফেলা যাবেনা। যেকোনো মুহুর্তে টাকাটা লাগতে পারে।
এসব ভাবছে আর হাঁটছে রোদ। শরীর টা টলছে ওর। একদিকে খুব খিদে পেয়েছে,অন্যদিকে একটানা কয়েক ঘন্টা ধরে কাঁদছে। আর শরীর চলছে না, কিছু খেয়ে নেয়া দরকার। কিন্তু খাওয়ার রুচি টুকুও নেই। যশোর স্টেশন থেকে বেড়িয়ে এদিক সেদিক ঘুরছে ও। মাথাটা কেমন যেন ঘুরে উঠলো। ধপ করে পড়ে গেলো মাটিতে।
নিখিল এখানে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলো। দুপুরের হঠাৎ বিয়ের কথা শুনে সারারাত বাইরে বাইরে ঘুরছিলো। শেষরাতে ও ফুটপাত ধরে হাঁটছে আর সিগারেট টানছে। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। বুক ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। এমন সময় রাস্তায় একটা কনের সাজে পড়ে থাকা মেয়েকে দেখে থমকে দাঁড়ালো সে। এখনো ভোর হতে অনেক বাকি। এত রাতে রাস্তায় একটা মেয়ে এভাবে পড়ে আছে কেন! তাও আবার বিয়ের সাজে।
ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে সোজা করে দিতেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো নিখিলের। এটা তো রোদ! রোদ এখানে এভাবে পড়ে আছে? এই মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে নিখিল তার প্রিয়তমাকে হারিয়েছে। এখন রাস্তায় পড়ে থাকা কি কারণে? নিখিলের রাগে শরীর গর্জে উঠছে। আজকে রোদের কপালে চরম দুঃখ আছে। যে যন্ত্রণা টা ও নিখিলকে দিয়েছে সেটার পরিমাপ অনুযায়ী আজকে কষ্ট পাবে ও। নিখিলের যে কি ইচ্ছে করছে,রাগে ফুঁসছে ও। এই মুহুর্তে রোদের ওর সামনে পড়ে একদম ঠিক কাজটাই হয়েছে। আজ ওকে ইচ্ছেমত কয়েকটা থাপ্পড় লাগাতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু মেয়েদেরকে খুব সম্মান করে নিখিল তাই কিছু বলতে পারবে না হয়ত।
স্টেশনের দিক থেকে একটা রিক্সা ডেকে এনে সেটায় রোদকে তুলে নিলো নিখিল। তারপর শক্ত করে ধরে রইল। রিক্সাওয়ালাকে বাসার ঠিকানা জানিয়ে দিলো। আকাশে শুক্লপক্ষের চাঁদ। সুন্দর জোৎস্না ছড়িয়েছে চারিদিকে। বেহুশ হয়ে পড়ে থাকা রোদের মুখের দিকে তাকিয়ে এক ধরণের মায়া অনুভব করলো নিখিল। মেয়েটাকে খুব অসহায় দেখাচ্ছে। একটু সুস্থ স্বাভাবিক হোক,ওর কাছে পালানোর আসল ঘটনাটা জেনে নিতে হবে। কোনো একটা বড় কারণ নিশ্চয় ই আছে। নয়ত রোদের মত মেয়ে বাসা থেকে কখনোই পালাবে না।
বোনের বাসায় পৌছে ধরাধরি করে রিক্সা থেকে নামালো রোদকে। দরজায় নক করতেই আপু এসে খুলে দিয়ে হা করে চেয়ে রইলো। বললো, “কিরে নিখিল। সারারাত বাইরে ছিলি এখন আবার একটা মেয়েকে নিয়ে ফিরলি। তাও আবার অজ্ঞান! বিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনেছিস নাকি?”
– “আপু,তোকে পরে সব বলছি। আগে একে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে একটু সেবা যত্ন কর।”
নিখিলের বড় বোন যথেষ্ট আন্তরিক আর খুবই ভালো একটা মেয়ে। ও রোদকে ভেতরে নিয়ে শুইয়ে দিয়ে সেবা যত্ন করতে লাগলো।

২৭.
মিশু মেঘালয়ের বুকে হাত রাখতেই মেঘালয়ের মুখ থেকে যন্ত্রণার আওয়াজ বের হলো। মিশু অবাক হয়ে খেয়াল করলো, মেঘের বুকে অজস্র আচড়ের দাগ। গলায় তাকিয়ে দেখে একদম হিংস্র কিছু আচড়, নখ বসে গেছে। লাল হয়ে ফুলে গেছে কয়েক জায়গায়। ও আঁৎকে উঠলো।
মেঘালয় বললো,”দেখেছো কি অবস্থা করে ফেলেছো?”
মিশু মুখটা করুণ করে বললো,”এই অবস্থা আমি করেছি?”
– “তাছাড়া? কি পরিমাণ অত্যাচার চালাচ্ছিলে আমার বুকের উপর। দুহাত দিয়ে একদম। আচড়াতে আচড়াতে অবস্থা খারাপ করে দিয়েছো।”
আচড় দেয়া জায়গাগুলোতে আলতো করে স্পর্শ করলো মিশু। মেঘালয় ব্যথা পেয়ে শব্দ করে উঠছে। ফর্সা গলা আর বুকের এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে খারাপ লাগছে মিশুর।
মেঘালয় বললো,”আগামী এক সপ্তাহ এই দাগ থাকবে মনেহচ্ছে।”
– “সেকি! এত গভীর ক্ষত করে ফেলেছি আমি?”
– “হুম ম্যাম। চিন্তা করছি আমি বাইরে বের হবো কিভাবে? মেয়ে হলে নাহয় হিজাব বাঁধতাম। এই অবস্থা দেখলে লোকজন কি যে ভাব্বে! ”
মিশু চিন্তিত হয়ে বললো,”লোকজন অনেক আজেবাজে জিনিস ভাব্বে।”
– “তা তো ভাব্বেই। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবো নতুন বিয়ে করছি ভাই। সেজন্য বউ এ দশা করছে।”
– “নতুন বিয়ে করলে বউ এ দশা কেন করবে?”
– “জানো না কেন করবে?”
– “না তো। কেন?”
মেঘালয় হেসে বললো,”ওটা একটা শাস্ত্র। বাসর রাতে বরের গলা,বুক,কাঁধে বড়বড় নখ দিয়ে আচড় দিয়ে দাগ করে দিতে হয়।”
মিশু অবাক হয়ে বললো, “কি বলছেন এসব? আমিতো এমন শাস্ত্র কক্ষনো শুনিনি। বউরা কেন এরকম হিংস্র কাজ করবে? আমি বাবা পারবো না। আচ্ছা, আমাকে ও কি আবারো এভাবে আচড় দিতে হবে?”
মিশুর অবুঝের মতন কথাবার্তা দেখে দারুণ মজা লাগছে মেঘালয়ের। ও মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “হুম দিতে হবে।”
– “তোমার ব্যথা লাগবে না?”
– “নাহ লাগবে না। লাগলেও কিছু করার নাই।”
– “আমি পারবো না। তখন তো অজান্তেই এরকম করে আচড় দিয়ে ফেলেছিলাম। সিরিয়াসলি আমি জেনেশুনে এসব করতে পারবো না।”
মেঘালয়ের আরো হাসি পেয়ে গেলো। ও হাসি চেপে রেখে বললো,”তাহলে কামড় দিয়ে কাজ চালিয়ে দিবা। কামড়ে দাগ বসালেই হলো।”
– “আমি কি কুত্তা? মানুষ কি মানুষ কে কামড়ায়?”
মেঘালয় হেসে বললো,”তুমি কুত্তা না, বউরা তো কামড়ায় ই। কিছু করার নেই। বিয়ের শাস্ত্রে এটাও আছে। এটা তো মানতেই হবে তাইনা?”
– “এসব আজেবাজে শাস্ত্র কে বানিয়েছে বলুন তো? যত্তসব বাজে বাজে কথা। আমি আচড়াতেও পারবো না,কামড়াতেও পারবো না।”
– “তাহলে তো বিয়ে পরিপূর্ণ হবেনা ম্যাম। এটা যে শাস্ত্র।”
– “কি মুছিবত! দাগ করতেই হবে?”
– “হুম হবে। নিয়ম পালন করতে হবেনা?”
মিশু একটু ভেবে বললো,”তোমার ব্যথা লাগবে না?”
মিশুর করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে এবার সত্যিই বড্ড হাসি পেলো মেঘালয়ের। কিছুতেই হাসি চেপে রাখতে পারলো না। শব্দ করে হেসে ফেললো। মিশু জিজ্ঞেস করলো, “হাসছেন কেন আপনি? আমি কি হাসার মতন কিছু বলেছি? ”
– “একদম ই নাহ। তুমি একটা কাজ করতে পারো। তাহলে নিয়ম ও পালন হয়ে যাবে, আর আমি ব্যথাও পাবো না।”
মিশু মেঘালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কি সেটা শুনি? আমি সেটাই করবো তাহলে।”
মেঘালয় কণ্ঠে একটু আবেগ ঢেলে বললো, “ঠোঁট দিয়ে কামড় দিতে পারো।”
কথাটা শোনামাত্র এক পলকেই মিশুর চেহারা নীল বর্ণ ধারণ করলো লজ্জায়। এতবেশি লজ্জা পেলো যে, না পারছে দাঁড়িয়ে থাকতে,না পারছে বসে পড়তে। লজ্জায় চোখ মেলে থাকতেও পারছে না। ওর এমন লাজুক চেহারাটা মেঘালয় হা হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখছে। মিশু মুহুর্তেই পিছন ফিরে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো। মেঘালয় উঠে পিছন দিক থেকে ওকে জড়িয়ে ধরে মিশুর কাঁধের উপর মাথা রাখলো। আবেশে চোখের পাতা ঘনঘন কাঁপছে মিশুর। অন্যরকম একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে ও।
মেঘালয় ওর লাল মসৃণ গালের সাথে নিজের খোঁচা খোঁচা দাড়ি ঘষে দিলো। সমস্ত শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো মিশুর। এ কেমন অনুভূতি! এমন অনুভূতি কক্ষনো হয়নি ওর। মেঘালয় আলতো করে মিশুর কাঁধ থেকে এক গোছা চুল সরিয়ে ওর ঘাড়ে খুব নিবিড় ভাবে দুই ঠোঁট দিয়ে চাপ দিলো। জিভটা চামড়া স্পর্শ করতেই দারুণ ভাবে শিহরিত হয়ে উঠলো মিশু। দ্রুত নিশ্বাস পড়তে লাগলো। সুখের আবেশে চোখে জল এসে গেছে। কোনো নড়াচড়া করতে পারলো না ও। মেঘালয় আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। একটু পিছিয়ে আসতেই মিশু ঢলে পড়ে যাচ্ছিলো। মেঘালয় মিশুকে টেনে এনে নিজের কোলের উপর বসিয়ে দিয়ে সিটে হেলান দিলো। মিশু ওর বুকে মাথা লুকিয়ে চুপটি মেরে রইলো।
এভাবে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর চোখ বুজেই বিড়বিড় করে মিশু বললো,”এটাকে কি চুমু বলে?”
– “হুম।”
মিশু কেঁপে উঠলো। আবারো বিড়বিড় করে বললো,”আমার না খুব ভালো লেগেছে। খুউউব ভালো লেগেছে। আমি আমার জীবনে কতবার কতরকম গাড়িতে উঠেছি। কক্ষনো এরকম আরাম লাগেনি।”
মেঘালয় ফিক করে হেসে বললো,”গাড়িতে ওঠা আর চুমু বুঝি এক হলো?”
– “কেন হবেনা? না মানে কখনো এত ভালো লাগেনি কোনোকিছু। সেজন্য বললাম। আর কোনো উদাহরণ পাচ্ছিলাম না ত।”
মেঘালয় মিশুর মাথাটা বুকে চেপে ধরে বললো,”পাগলী টা। এত অবুঝ কেন তুমি? আমি ভেবেছিলাম তুমি খুব ম্যাচিউরড। কিন্তু এতটা ইনোসেন্ট সেটা সত্যিই কল্পনা করিনি।”
– “কেন? আমি কি করেছি?”
– “নাহ, কিছু করোনি। অবুঝ মেয়েটা। খুকুমণি বললেও কম বলা হবে।”
মিশু কিছু বললো না। অনেক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা তুলে তাকালো মেঘের দিকে।মেঘালয়ের চোখ একদম লাল হয়ে গেছে। মিশু অবাক হয়ে বললো,”আপনার চোখ লাল কেন?”
মিশুর চুলে হাত বুলিয়ে দিলো মেঘালয়। কিভাবে মেয়েটাকে বুঝাবে ওর ভেতরে কি তুমুল ঝড় শুরু হয়ে গেছে। মেয়েটা যে কিচ্ছু বুঝেনা। একটা সেকেন্ড ও স্থির হয়ে থাকতে পারছে না মেঘ, প্রচণ্ড ছটফটানি কাজ করছে ভেতরে। মিশুকে কিভাবে বুঝাবে সেটা? একটা ছোট নিশ্বাস ফেলে মেঘালয় বললো, “রাতে না ঘুমালে আমার চোখ লাল হয়ে যায়।”
মিশু মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “ওহ আচ্ছা। এই আমার না কেমন কেমন লাগছে।”
হাসলো মেঘালয়। তার নিজের ই তো কেমন কেমন লাগছে। মিশুর কেমন লাগছে সেটা অনুধাবন করতে ওর কোনোই সমস্যা হলোনা। তবুও জিজ্ঞেস করলো, “কেমন কেমন?”
– “একটা কেমন কেমন, দুইটা কেমন কেমন, অনেক গুলা কেমন কেমন।”
মিশুর বাচ্চাদের মতন কথা বলার ভঙ্গি দেখে হেসে ফেললো মেঘালয়। সুখের মুহুর্ত গুলোতে মেয়েটার বয়স যেন হুট করেই অনেক কমে যায়। খুব কিউট লাগে তখন। গালটা টেনে দিতে ইচ্ছে করে।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “সেই কেমন গুলা কেমন গো মিশু? একটু কওনা শুনি?”
– “আমি নিজেই তো বুঝতে পারছি না সেই কেমন গুলা কেমন। তবে ইচ্ছে করছে।”
– “কি ইচ্ছে করছে?”
মিশু ওর বুকে মুখটা আরো একটু লুকিয়ে বিড়বিড় করে বললো, “আপনি একটু আগে যেটা করলেন, আরেকবার সেটা করুন।”
শিউরে উঠলো মেঘালয়। কি বলবে মিশুকে? নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে বললো, “নারে পাগলী। ওটা করা যাবেনা আর।”
– “এটাও কি শাস্ত্রে আছে?”
– “হুম আছে। বিয়ের আগে এসব করতে হয়না রে।”
– “তাহলে আপনি কেন করলেন?”
থতমত খেয়ে গেলো মেঘালয়। এর উত্তর কি দেবে সে? আবেগের বশে অজান্তেই করে ফেলেছে। সেটা বললে তো মেয়েটা বুঝবে না। ও বললো, “আমিতো জানি রাত পোহালেই এই মেয়েটাকে আমি বিয়ে করে নিচ্ছি। সেজন্যই করেছি।”
-” আপনি আবার জানুন রাত পোহালেই আমাকে বিয়ে করে নিচ্ছেন। তারপর আবার করুন।”
মিশুর মাঝে এখন চরম আকারের ঘোর কাজ করছে। তার উপর একটু ঘুম ঘুম ভাব ও চলে এসেছে ওর। এমন ভাবে বলছে যে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে বুকের সাথে পিষে ফেলি। ওর বুকের ভেতর ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে। ও নিজেও জানেনা এভাবে বলে কিভাবে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে মেঘালয়কে। এতদিন শুধু মনের আকর্ষণ ছিলো, এখন দৈহিক আকর্ষণ অনুভূত হচ্ছে। ভেবেছিলো আরো কয়েকদিন সময় দেবে মিশুকে যাতে ও মেঘালয়কে বুঝতে পারে। কিন্তু এখন আর সে ইচ্ছে নেই, ইচ্ছে করছে এক্ষুনি ওকে বিয়ে করে নিয়ে স্বর্গসুখের অন্যতম একটা স্তরে ওকে ঘুরিয়ে আনতে। অচেনা একটা পাগলামিতে পেয়েছে দুজনকে।
মিশু বললো, “কি ভাবছো? করবে না?”
– “উহু মিশু, এটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও।”
– “কেন? আপনার বুঝি ভালো লাগেনি?”
– “ব্যাপার টা ভালো লাগা খারাপ লাগার নয় রে। ব্যাপার টা অন্যকিছু।”
– “কি ব্যাপার? আমার গা ঘেমে গেছে বলে?”
– “কি বিপদে পড়লাম রে বাপ! মেয়েটাকে একটু বুঝ দাও কেউ। মিশু, তুমি কি দয়া করে আমার কোল থেকে উঠে সামনের সিটে গিয়ে বসবা? প্লিজ?”
– “না বসবো না। এভাবে বললে আমি কান্না করবো। আমি চেয়েছি বলে আপনি আমাকে দূরে গিয়ে বসতে বলবেন কেন? আমি কোলেই বসে থাকবো, আর আপনি আবারো ঠিক ওইভাবে ওইভাবেই একবার জিভ দিয়ে ছুঁয়ে দিবেন।”
মেঘালয় মিশুকে ছেড়ে দিয়ে সিটে হেলান দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এই মেয়েটা একেবারেই খুন করে ফেলেছে। এতটাও ইনোসেন্ট স্বভাবের মেয়েও জগতে আছে সেটা ওর জানা ছিলোনা। অনায়াসে এভাবে বললে কি মাথা ঠিক রাখা যায়?
– “মিশু, তোমার কি লজ্জা লাগেনা এসব বলতে?”
– “এখন লাগছে না। আপনি তো বললেন রাত পোহালেই আমাকে বিয়ে করে নেবেন। আর একটা মেয়ের সবচেয়ে আপন হচ্ছে তার বর।বরকেই তো বলবো তাইনা?”
– “এটা বুঝো আর আমার ব্যাপার টা বুঝো না? ন্যাকামি করো?”
– “আরে বাবা সত্যি বুঝিনি। বুঝলে কি আর বারবার বলি বলো? কোথায় সমস্যা একটু বলবে?”
– “আমি নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারবো না রে। টিকতে পারবো না,বুঝো না কেন?”
– “কেন পারবা না?”
মেঘালয় মাথাটা তুলে মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল, “ধরো তুমি একজন রাইটার। তুমি আমাদের এই জার্নিটা নিয়ে একটা গল্প লিখবা। সেই গল্পটা পড়ে দুনিয়ার সমস্ত পাঠক বুঝে যাবে আমার মধ্যে কি হয়ে যাচ্ছে। একটা দুইমাসের বাচ্চাও এই গল্পটা পড়লে বুঝবে মেঘের ভেতরে কেমন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আর তুমি বুঝতে পারছো না। আজব না?”
মিশু হেসে বললো, “তাহলে আমি লিখালিখি শুরু করে দিই? পাঠকদেরকে জিজ্ঞেস করে করে জেনে নিবো তোমার ভেতরে কি চলছে? মেঘের ভেতরে বিদ্যুৎ চমকানোই স্বাভাবিক। আর তারপর সেই মেঘ থেকে জলকণা বৃষ্টি হয়ে ঝড়বে আমার গায়। ঠিক না?”
মেঘালয় বললো, “তোমাকে আর সাহিত্য চর্চা করতে হবেনা। নিজেও পাগল হইছো, আমাকে ও বানাইছো। এরপর পাঠকদেরকেও বানাবা। পাজি মেয়ে কোথাকার, দয়া করে উঠে গিয়ে ওই কোণায় জানালার সিটে বসে থাকো। আর একটাও কথা বলবা না। কালকে বিয়েটা হতে দাও, তারপর দেখে নিবো কত বৃষ্টিতে ভেজার শখ। অধিকারের বৃষ্টি দেখেছিলে কখনো?”
মিশু আর কিছু বললো না। মুখটা গোমরা করে উঠে গিয়ে সামনের সিটে জানালা দিয়ে মাথা বের করে বাইরে তাকিয়ে রইলো। মেঘালয়ের খুব খারাপ লাগছে মিশুর জন্য। ও জানে মিশু এখন বাইরে তাকিয়ে খুব কান্না করছে। কাঁদুক, তবু ওর কাছে যাওয়া যাবেনা। বিপজ্জনক মেয়ে একটা।
একবার ওর দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে বসে রইল মেঘালয়। মিশুকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে ভেবে নিজের ই কান্না করতে ইচ্ছে করছে।
চলবে..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *