অনুরাগের ভালোবাসা |২য় ও শেষ । Heart Touching Love Story

গল্প– অনুরাগের ভালোবাসা
পার্ট-২য় ও শেষ
👇

পার্ট-১

নিলয়ের চোখ কপালে উঠে যায়।
…মেয়েটি আর কেউ নয়। রাত্রি
নিলয়কে দেখে .. ছেলেগুলো চলে যায়।
চলে যাওয়ার অবশ্য কারণ আছে। আর তা হলো… ছেলে গুলো তার পাশের বাসার।
…যদি নিলয় তাদের বাসাতে বলে দেয়।
–আনেক দিন পর রাত্রির সাথে এভাবে দেখা হবে।
নিলয় কখনো কল্পনাও করেনি।
–রাত্রি নিলয়কে দেখে নিশ্চুপ হয়ে আছে।
মাথা নিচু করে।
তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।
এমন সময় একটা CNG চলে আসে।
নিলয় উঠে চলে যায়।
…আসলে নিলয় আমি…মাথা উঁচু করে।
দেখে নিলয় নেই। (রাত্রি)
–মনে মনে অনেকটা খুশি হয়ে ছিল। রাত্রি
নিলয়ের দেখা পেয়ে। কিন্তু এমনটা করবে।
তার জানাছিল না। রাত্রি ভারে ..
এই কি নিলয়ের মনে তার ভালোবাসা।
যে নিলয় আমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাগল ছিল। ১মিনিট সময় ও হলো না। আমার
সাথে কথা বলার।…
কান্না করতে করতে …রাত্রি কলেজে চলে যায়।
…নিলয় কলেজে গিয়ে মনমরা। হয়ে। বসে আছে…এমন সময় –আরে নিলয় ভাইয়া
তুমি! —একটা মেয়ে।
–হ্যা কিন্তু তোমাকে ঠিক চিনতে পারলাম না। (নিলয়)
–আমি তোমার বান্ধবী রাত্রির..মামাতো বোন (আশা)
–ওহ তা এখানে …(নিলয়)
–এই কলেজে কিছুদিন আগে ভর্তি হয়েছি।
আর আজই প্রথম।
কিন্তু তুমি এই কলেজে। রাত্রি আপু বলছিলো তুমি
ওর কলেজে পড়। (আশা)
— হ্যা পড়তাম। কিন্তু আর পড়ি না।(নিলয়)
— ও আচ্ছা । তা কেন ঐ কলেজ থেকে এই কলেজে ভর্তি হলা। ভাইয়া (আশা)
–এমনি। আচ্ছা আমি এখন যাই। ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। পরে কথা বলবো নি। (নিলয়)
এই বলে নিলয় চলে যায়।
সে আর থাকতে চায় না। ওখানে, কারণ ওখানে
থাকেলে আরো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
আর তা ছাড়াও ক্লাসের সময় হয়েছে।
–আশাও তার ক্লাসে চলে যায়।
কলেজ ছুটির পর…আশা বাসাই গিয়ে..
রাত্রি কে ফোন দেয়।
…হ্যালো…আশা কেমন আছিস। (রাত্রি)
–ভালো। তুমি কেমন আছো আপু? (আশা)
–হ্যা ভালোই আছি। করুন স্বরে..তা কি মনে করে ফোন দিছিস। (রাত্রি)
–আপু তোমার নিলয় নামের যে বন্ধুকে..
দেখিয়েছিলে না। ঐ ভাইয়ার সাথে আজকে..
দেখা হয়েছিলো আমাদের কলেজে। (আশা)
–কি বললি তোদের কলেজে ও এখন পড়ে।
(রাত্রি) দেহে মনে হয় প্রাণ ফিরে পেল রাত্রি।
–কেন তুমি জানো না। (আশা)
–না। ও আমার সাথে আর কথা বলে না।
আজ থেকে প্রায় দেড় মাস হচ্ছে (রাত্রি)
…কি বলো আপু। কৈই ভাইয়া তো আমাকে কিছুই বললো না।
ওহ এখন বুঝছি তাই তো ভাইয়া ক্লাসের কথা।
বলে চলে গেলো।…
আচ্ছা .. কিছু কি হয়েছে তোমাদের..(আশা)
–হ্যা। তার পর তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা
আশাকে সব বলে। (রাত্রি)
–তার মানে তুমি এখন নিলয় ভাইয়ার
শূণ্যতা অনুভব করছো। মানে তাকে ভালোবেসে ফেলেছো। (আশা)
–আরে তা না। (রাত্রি)
–হুম সেটা তো বুঝতেই পাচ্ছি।
–আচ্চা সমষ্যা নাই। আমি তো আছি।
…কাল কলেজে গিয়ে। দেখি কি করা যায়। (আশা)
আচ্ছা বাই। এই বলে ফোন কেটে দেয় (রাত্রি)
পরের দিন। কলেজে টিফিন পিরিয়ডে।
আশা। নিলয়ের সাথে দেখা করে।
–ভাইয়া একটু ফোন নাম্বার টা দেবেন। (আশা)
নিলয় তেমন কিছু না ভেবে নাম্বার দিয়ে দেয়।
–কলেজ শেষ করে বাসায় এসেই।
ফোন দেয় রাত্রি কে। আশা
–হুম কি ব্যাবস্থা করলি (রাত্রি)
–আপু তেমন কি করতে পারিনি। তবে তার
… নতুন নাম্বার নিয়ে এসেছি। (আশা)
–নাম্বার কি করবো ওতো আমার সাথে কথাই
বলতে চায় না। (রাত্রি)
–এটাই তো তার সাথে কথা বলার
…সহজ উপায়। আর তোমার প্রেমের ফাঁদও
ভালো হবে। তুমি। নিলয় ভাইয়ার সাথে
–অচেনা হয়ে কথা বলবে ..
তাহলেই আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। (আশা)
–হুম তোর প্যানেলটা খারাপ না।
আচ্ছা নাম্বার দে। (রাত্রি)
নাম্বার পেয়ে রাত্রি অনেক খুশি হয়।
রাতে নিলয়ের নাম্বারে ফোন দেয় (রাত্রি)
… রিং হওয়াই অবাক হয়ে যায় রাত্রি।
কারণ তার ফোনে কলিংএ
–স্বপ্ন ভেংগে গেছে। ভুল মানুষকে ভালোবাসে।
–নতুন করে আর স্বপ্ন দেখতে চায় না মন।
এমন কলিং রিং শুনে ফোন কেটে দেয়। রাত্রি
…. কান্না করতে থাকে রাত্রি। আমি কি এতোটাই
অপরাধ করেছি যে। আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা তার ফোনে সেভ করে রেখেছে।
–এসব ভাবতে ভাবতে হাতের ফোনটি..
কেঁপে উঠে।… তাকিয়ে দেখে আর কেউ নয়।
নিলয় ফোন ব্যেক করেছে।
রাত্রি ফোন রিসিভ করে।

… আসসালামুয়ালাইকুম। কে বলছেন?(নিলয়)
–রাত্রির মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।
অনেক দিন পর যে খুব কাছের মানুষের কন্ঠ শুনতে পেলো সে।…

–কি হলো কে বলছেন কথা বলুন। (নিলয়)

…চেনা হয়েও অচেনা মানুষ আমি। করুন স্বরে
(রাত্রি)
–মানে…(নিলয়)
–মানে হলো চিনবেন না। আপনি কথা ঘুরিয়ে (রাত্রি)
…. আপনি কি আশা বলছেন (নিলয়)

–কোন আশা..কে আপনার গার্লফ্রেন্ড নাকি?(রাত্রি)

–…না। কিন্তু আপনি কে…আর কেনো ফোন
দিয়েছেন…(নিলয়)
…কি হলো বলেন!

..আমি কি আপনার বন্ধু হতে পারি। (রাত্রি)
–আজব মেয়ে তো আপনি। আমাকে
আপনি চিনেন না। জানেন না। আবার
… বন্ধু হতে চান। (নিলয়)
–কেন অপরিচিত থেকে পরিচিত হওয় যায় না। (রাত্রি)
আমার পরিচিত হওয়ার কনো প্রয়োজন নেই।
এই বলে। নিলয় ফোন কেটে দেয়।

–রাত্রির তেমন মন খারাপ হলো না।
কারণ ..নিলয় তেমন অচেনা কারো সাথে কথা বলে না। সেটা আগে থেকেই যানে … বরং রাত্রি মনে মনে একটু খুশি।
তার সাথে অনেক দিন পর কথা বলে।
— পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে..
নিলয় কে… morning sms দেয়।

–নিলয়রে sms এর শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
…smsটি সেন্ট করে দেখে। কালকের ঐ নাম্বার থেকে morning sms আসছে।
… হঠাৎ রাত্রির কথা মনে পরে যায়।…
প্রতিদিন তাকে ফোন দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতো। ….এখন আর তার ফোন আসে না।
..
অবশ্য তার জন্যই আসে না। অযাথা তাকে..নিয়ে
স্বপ্ন দেখতে গেলো। নিলয়
–sms এর reply দেয় নিলয়। morning 2
তার একটা ভালো লাগা কাজ করে। যদিও সে অচেনা। তবুও যদি রাত্রির মতো প্রতিদিন বন্ধু হিসাবে … ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়।
ফোনটি বিছানায় রেখে ফ্রেস হতে চলে যায় (নিলয়)..
–ফ্রেস হয়ে এসে দেখে আর …কোনো sms
আসে নি।… নাস্তা করে কলেজে চলে যায়।
—কলেজে আশার সাথে নিলয়ের দেখা হয়।
–আশা তুমি তো পরশু দিনে আমার নাম্বার নিয়েছিলে‌। ফোন দিয়ে ছিলে কি?(নিলয়)
….না। …আমর ফোনে টাকা ছিলো না।
তাই দেইনি। কেন বলুন তো ভাইয়া। (আশা)
–না এমনি। কালকে একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসছিল। তাই…কথাও হয়েছিল তা আর বললাম না।
–আশা আবার …আমার সাথে অচেনা হয়ে
-এমন করছে না তো। মনে মনে ভাবলো (নিলয়)
–ভাইয়া একটা কথা বলবো। কিছু মনে করবেন না তো। (আশা)
–না। বলো …(নিলয়)
–কালকে আপনার সাথে কথা বলার পর ..
কলেজ শেষ করে বাসায় গিয়ে। রাত্রি আপু কে
ফোন দিয়ে। যান্তে চেয়েছিলাম। আপনি কেন?
ঐ কলেজ ছেড়ে আমাদের কলেজে আসলেন।
….আপনি ঐ দিন বলতে চেয়ে আবার কি যেনো
ভেবে ক্লাসের নাম করে চলে গিয়েছিলেন।
আমার মনের ভিতর কৌতুহল যাগে..তাই
আপুর কাছ থেকে জানতে পারবো।
–ভেবে ফোন দেই। কিন্তু আপু বললো। আপনি
না…কি আপুর সাথে কথা বলেন না।
অনেক দিন ধরে …আপনার দেখা নেই। আর
আপনি যে আমাদের কলেজে ভর্তি হয়েছেন।
তাও আপু জানেনা….আপনাদের মাঝে কি
হয়েছে বলবেন। একটু ….
জানার পরো বললো (আশা)
নিলয়ের মনে অনুভূতি যাগানোর জন্য।
–নিলয় সব খুলে বলে।‌
–আচ্চা ভাইয়া। আপনি কি এখনো রাত্রি..
আপুকে ভালোবাসেন…
–ভালোবাসার মানুষ কে কি কখনো ভুলে
থাকা যায়…
–ভাইয়া আপনি কি জানেন। সে দিনের পর থেকে। আপনার শূন্যতায় আপু আপনাকে ভালোবাসে ফেলেছে। …আপনাকে অনেক
খুঁজেছে। কিন্তু কোথাও পায়নি। কলেজেও
যাচ্ছিলেন না।
আপু প্রায় পাগলের মতো অবস্থা।
কিন্তু। বৃষ্টির ঐ দিনে আপনাকে পেয়েও
হারিয়ে ফেলে। আপনি আপুর সাথে…
কথা না বলেই চলে যান। তবুও…আপনার উপর একটুও অভিমান করেননি। বরং সে আপনার
দেখা পেয়ে….মনে মনে অনেক শান্তনা পেয়েছিলো।
….আর…আপনি কি না। এই বলে (আশা)
থেকে গেলো।
–আশা তুমি বলতে পারবে… রাত্রি এখন কৈই
আছে। ওর ফোন নাম্বার কি আছে তোমার কাছে (নিলয়)
–হুম। আপনার কাছেই তো আছে।
মানে—(নিলয়)
–আপনি যার সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন
না। আমাকে বললেন। (আশা)
–হ্যা….
–ঐটাই রাত্রি আপুছিল।
—নিজের উপর খুব…ঘির্ণা হচ্ছে । নিজের
ভালোবাসার মানুষের কন্ঠোও চিনতে পারলাম না। অবশ্য চিনবোই বা কি করে…অনেক দিন ধরে আর একটা কথাও হয়নি। তার পরও।
ওর কন্ঠ আগের থেকে…অনেকটা মলিন কন্ঠের…হয়েছে। তাই চিন্তে পারিনি।
–ভাইয়া। শুধু ভাববেন। না কি আপুকে…
আরো কষ্ট দিবেন। (আশা)
….কলেজ ছুটির পর। আশাকে বললাম।
তোমার রাত্রি আপুকে ফোন দিয়ে। …
্যাড ওয়ার্ড পার্কে আসতে বলো। ..
—২০ মিনিট অপেক্ষা করার……পর দেখলাম
কেউ যেনো আমাদের দিকে আচ্ছে।
….হ্যা আর কেউ নয়। রাত্রি…অনেকটা শুঁকে গেছে। হয়তো আমার জন্যই।
—তো আমি একটু আড়ালে গেলাম…
—রাত্রি কাছে এসে। কি জন্য এখানে আসতে
বললি বল। তুমি একটু অপেক্ষা করো।
আমি একটু এদিক থেকে আসি।
….রাত্রির আর নিলয়ের মাঝে কথা বলার…
সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কথা বললো। (আশা)
–রাত্রি দারিয়ে অপেক্ষা করছে।
—রাত্রি অনুভব করলো।কেউ যেনো পিছোন
থেকে জরিয়ে ধরেছে।
—মুখ ঘুরেই ঠাঠস থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।নিলয়ের
গালে। রাত্রি নিলয়কে দেখে আর তার গালে
থাপ্পড় দেওয়াতে …হতোভম্ব হয়ে যায়।
সে…যে আবার তার ভালোবাসার মানুষটির গালে থাপ্পড় মেরেছে। যার জন্য …এতো দিন
দূরে ছিলো। নিশ্চুপ হয়ে আছে…
দু,জনেই।
—নিলয়ও কখনো ভাবেনি আবার এরকম হবে।
তবে কি রাত্রি তাকে। ভালোবাসে না।
তাহলে কি ….আশা তাকে মিথ্যা বললো।
এসব ভাবছে আর। গালে হাত দিয়ে আছে।
….আসলে সরি আমি জানিনা। তুই আমাকে পিছোন থেকে জরিয়ে ধরেছিস।
অন্য কেউ ভেবে থাপ্পড় দিয়েছি।
….পিলিজ এবারের মতো ক্ষমা করে দে।
—আর ভুল বুঝিস না। (রাত্রি)
—হুম ক্ষমা করতে পারি …তবে।তুমি করে বলতে হবে। আর এখনি আমার গালের বেথ্যার ঔষধ দিতে হবে।
….ওরে আমার সোনা বাবু…বেথ্যার ঔষধ লাগবে তোমার …কাছে আসো। বলেই
রাত্রি —নিলয়ের গালে ঠোঁটের মিষ্টি ঔষধ দিতে থাকে।….
….
….
সমাপ্ত।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *