অবুঝ বউ part-14 & end

অবুঝ বউ
,
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
.
শেষ পর্ব
,
দৌড়ে পুতুলের কাছে গেলাম ,, এরপর ওকে ধরে খাটে বসালাম,,,
ইচ্ছে করছে কোষে একটা থাপ্পড় দেই,, কিন্তু রাগটাকে কন্ট্রোল করলাম,,,
রাগ করে ওর দিকে শুধু তাকাইছি তাতেই কান্না শুরু করে দিছে ,,
ইটিপ পিটিশ স্বর্ট ফিল্ম টাতে ঠিকই বলেছিলো,, মেয়েরা কান্না দিয়ে সকল যুদ্ধ জয় করে নেয়,,,,
পা টা আবার নতুন করে ব্যান্ডেজ করলাম,,,

“”” আমিও তোমার সাথে যাবো,,,
“”” আম্মু একটু পরে আসবে তো ,,,
“” আমার একা ভয় করে ,,,


কি যে করি ,,, এই পিচ্চি মেয়ে কে নিয়ে কোন ঝামেলায় পড়লাম ,,,
কিছুই করার নেই ,,,
পুতুল কে নিয়ে অবশেষে অফিসে আসলাম ,,
অফিসের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে ,,, কারণ পুতুল হাটতে পারছিলো না,,, তাই কোলে করে ভিতরে নিয়ে যাচ্ছিলাম,,,,
লজ্জা ও লাগছে কিন্তু কিছু করতেও পারছি না ,,,

আমার কেবিনে এসে বসলাম ,,,
একটু পরেই পিয়ন এসে বললো বস আমায় ডাকে,,,
এটা শুনে বুঝতে পারলাম আজ আমার ক্লাস নিবে,,,,

“” পুতুল ,,,
“” হুম ,,,
“” তুমি এখানে বসে গেমস খেলো আমি আসছি ,,,
“” কোথায় যাবে তুমি ,,,
“” পাশের রুমে ,,,
“” আচ্ছা,,,,


“” স্যার আসবো,,,
“” আরে সুমন সাহেব আসেন আসেন,,,,
“” স্যার ডেকেছেন,,,
“” দেখলাম বউকে নিয়ে অফিসে আসছেন ,,, তাও আবার হিরো স্টাইলে
“” আসলে স্যার ওর পা কেটে গেছে আর বাসায় ও কেউ নেই ,,, আর ও একটু ভয় পায় ,,,
“” তাহলে ফোন করে বললেই তো পারতেন ,,, তাহলে অবশ্য আজকের এই নতুন আপডেট রোমিও জুলিয়েটকে দেখতে পেতাম না ,,,

লজ্জায় কি বলবো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না ,,,

“” আপনার ঋজ কাজ করতে হবে না ,,,
“” বুঝলাম না স্যার,,,
“” আপনার আজ ছুটি ,, বউকে নিয়ে বাসায় যান,,,
“” ঠিক আছে স্যার,,,
“” আর সুমন সাহেব ভালোবাসা টা সারা জীবন এমনি যেন থাকে,,, এটা এমন জিনিস একবার হারালে আর ফিরে পাবেন না,,,
“” দোয়া করবেন স্যার,,,


বসের রুম থেকে আমার কেবিনে এসে দেখি সব কলিগ এসে পুতুলের সাথে কথা বলছে ,,,

“”” আপনি তো অনেক ভাগ্যবান,,, এমন স্বামী পেয়েছেন,,,
“” আমার স্বামী টা যদি এমন হতো ,,,
“” সুমন কে কতো বার ভালোবাসি বলেছি কিন্তু কানেই নেয় নি,,,,


সব কলিগ এমন অনেক মন্তব্য করছে ,,,
আমার অবুঝ পিচ্চি বউটা শুধু সবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ,, কোনো কথা বলছে না ,,, মুখের মাঝে কেমন একটা বিরক্তিকর ছাপ পড়ে গেছে ,,, বুঝতে পারলাম পিচ্চিটার এসব ভালো লাগছে না ,,,
পুতুল হয়তো আমায় দেখতে পেয়েছে ,,, আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে ,,,


“” কি হচ্ছে এসব ,,,
“” আপনার বউয়ের সাথে পরিচিত হচ্ছি,,,
“” পরিচিত হওয়া শেষ ,,,
“” আমরা তো কতো কি বললাম কিন্তু আপনার বউ তো কোনো কথা ই বললো না ,,,
“” এই জন্য তো ও আমার বউ,, যান আপনারা আপনাদের কাজ করেন ,,,

সবাই নিজের নিজের কাজে চলে গেলো,,,


“” চলো,,,
“” কোথায়,,,
“” বাসায় যাবো,,,
“” অফিসে কাজ করবে না ,,,,
“” না,,, এতো কাজ করে কি হবে ,,,,
“” আচ্ছা চলো,,,,


পুতুল কে নিয়ে বাসায় আসলাম ,,, যদিও কোনো পার্কে যাওয়া ইচ্ছে ছিলো ,, কিন্তু ও তো হাঁটবে না,,, কোলে কোরে নিয়ে ঘুরা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ,,,


বাসায় এসে দেখি আম্মু আব্বু বাসায় আসছে ,, ,,,

“”” কি রে দুই জনে কোথায় গেছলি,,,
“” অফিসে ,,,
“” পুতুল আবার কবে অফিসে জয়েন করলো,,,
“” তোমরা কেউ বাসায় ছিলে না তাই ওকে আমার সাথে করে নিয়ে গেছলাম ,,,
“”” ওহহ,,,,


এভাবেই কেটে গেলো বেশ কিছু দিন ,,,
একদিন আমি অফিসে কাজ করছি ,,, তখন আম্মু ফোন দিলো,,,
“”” হ্যা আম্মু ,,
“” তাড়াতাড়ি বাসায় আয়,,,
“” কেন আম্মু ,,,
“” পুতুল অসুস্থ ,, পারলে সাথে করে একজন ডাক্তার কে নিয়ে আসিস,,,
“” কি বলো,,, আমি এখনি আসছি ,,,

বসের রুমে গিয়ে বসকে বলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বের হলাম,,,

বাসায় আসার পথে হাবিব কে ফোন দিলাম ,,,
“”” হ্যালো,,,
“” কি রে শালা,,, কেমন আছিস,,, বিয়ে করে তো ভুলেই গেছিস,,,
“” কই তুই ,,,
“” এই তো বাসায় আসলাম একটু ,,,
“” তাড়াতাড়ি আমার বাসায় আয়,,,
“” কপন রে কি হইছে ,, তোর গলা এমন শোনাচ্ছে কেন ,,,
“” আম্মু ফোন করে বললো পুতুল অসুস্থ ,,,
“” পুতুল মানে ভাবি অসুস্থ,,,
“” হুম ,,,
“” কি হইছে ,,,
“” এতো কিছু জানি না ,, তুই তাড়াতাড়ি আমার বাসায় আয় ,,,
“” আচ্ছা আমি যাচ্ছি ,,,

হাবীব আমার স্কুল জীবনের বন্ধু,,
আমাদের বন্ধুত্বটা অনেক মজবুত,,,


তাড়াতাড়ি করে বাসায় আসলাম ,,, এসে দেখি সবাই আমার রুমে ,,,

“” কি হইছে আম্মু,,,
“” হঠাৎ কেন জানি পড়ে গেছে ,,,
“” কি বলো,,,
“” ডাক্তার কই,,,
“” ফোন করছি,,, ও আসছে,,,, ,,,

হাবীব চলে আসছে ,,,
“” কি হইছে ,,, ভাবী কই,,,
“” আমার রুমে,,,
“” তাড়াতাড়ি চল,,,
“” হুম ,,,

হাবীব রুমে এসে পুতুল কে দেখলো,,,
একবার পুতুলের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে ,,,
কিছুই বুঝতে পারছি না ,,,
ও কি রোগী দেখছে নাকি লুকো চুপি খেলছে,,,
আবার দেখি মুচকি মুচকি হাসে,,,
এদিকে টেনশনে আমার জান বের হয় বের হয় অবস্থা আর শালা হাসছে ,,,,,

“” শালা তোরে ডাকাটাই ভুল হইছে ,, তুই ভাগ আমি অন্য ডাক্তার নিয়ে আসছি ,,,
“” কেন রে আমি আবার কি করলাম,,,
“”” টেনশনে এদিকে আমার ফাটছে আর তুই শালা হাসছিস,,,
“” হুম ,,,
“” কি হয়েছে সেটা তো বল,,,
“”” ভাবি সমস্যা নেই ,, ছোট্ট একটা অনেক বড় সমস্যা হইছে ,,,
“” কি বলছিস ভাই কিছুই তো বুঝছি না ,,, এবার কিন্তু তোরে পিটাবো,,,
“” তুই আমায় কি পিটাবি আমার সাথে চল তোর গুটিল ছুটাচ্ছি,,, আর আন্টি আপনি কাল ভাবিকে নিয় আমার চেম্বারে আসবেন ,,, এই হারামজাদার সাথে পাঠাবেন না,,,
“” আচ্ছা বাবা,,,

কিছুই বুঝছি না ,, হাবিব ও হাসে আম্মু ও হাসে,,, এখানে কি কেউ লাফিং গ্যাস ছাড়ছে নাকি,,, কই না তো তাহলে তো পুতুল ও হাসতো আমিও হাসতাম,,,,

“” তুই কি এখন অফিসে যাবি,,,
“” না,,,
“” তাহলে আমার সাথে আয়,,, তোরে ঔষধ এর দোকানে নিয়ে যাই,,,
“” আচ্ছা চল,,,,
,,,
,,,
,,,
,,,
,
“” দোস্ত ঔষধ নিতে হবে ,,, তুই মিষ্টির দোকানে আসলি,,,
“” এটাই তো ঔষধ,,,
“” মানে ,,,
“” মানে শালা তুই আব্বু হবি,,,
“” কি,,,, সত্যি ,,,,
“” হুম ,,,
“” আগে বলবি তো,,, আমি শুধু শুধু চিন্তা করছি ,,,
“” তুই যে বলদ সেটা তো আমি জানতাম না ,,, এখন মিষ্টি খাওয়া ,,,
“” তোর যতো গুলো খুশি মিষ্টি খা,,,
,

হাবীব কে মিষ্টি খাইয়ে ওর বাসার জন্য মিষ্টি পাঠালাম ,,,
এরপর অফিসে গিয়ে সবাই কে মিষ্টি খাইয়ে আসলাম,,,
শ্বশুর বাড়ি তে মিষ্টি পাঠালাম ,,,
সবশেষে আমি মিষ্টি নিয়ে বাসায় আসলাম ,,,
কি যে আনন্দ হচ্ছে আজ আমার বলে বোঝাতে পারবো না ,,,

বাসায় এসে চিৎকার করে বললাম আমি বাবা হবো,,,

“” আমরা জানি তো,, এতো জোরে বলা লাগবে ,,,
“” তোমরা কিভাবে জানলে,,, হাবিব তো কিছু বলে নি,,,,
“” সবাই কি আর তোর মতো বলদ,,,
“” হইছে,,, পুতুল কই,,,
“” রুমে ,,,


দৌড়ে রুমে আসলাম ,,,
পুতুল আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে দেখছে ,,,
দৌড়ে গিয়ে পুতুল কে জড়িয়ে ধরলাম ,,,

“” কি করছো,,,
“” আমার লক্ষী বউটাকে আদর করছি ,,
“” পেটে শক্ত করে ধরছো কেন,,,, বেবির লাগবে তো,,,
“” ওহহ তাই তো ,,, এই যে মিষ্টার আপনি ভালো আছেন তো,,, এই যে আপনার পিচ্চি আম্মু ,,,
“” ঐ আমি পিচ্চি না,,,
“” না আপনার আম্মু এখন পিচ্চি না ,,, অনেক বড় হয়ে গেছে,,,,
“” তুমি কি করছো,,,
“” কথা বলছি ,,,
“” ও কি শুনতে পাচ্ছে ,,,
“” হুম ,, কথা বলছে তো আমার সাথে ,,,
“” তাই,,,
“” হুম ,,, তোমার চাওয়া টা পূরণ হলো,,,
.
পুতুল আমায় জড়িয়ে ধরলো ,,, পরম সুখে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছি ,,,

এভাবেই কেটে গেল আরও বেশ কিছু দিন ,,,
পরিবারের সবাই আমরা পুতুলের অনেক যত্ন নেই ,, কখনো কোন কাজ এ হাত দিতে দেয় না আম্মু ওকে,,,

পুতুলের বাচ্চা হওয়ার আর মাত্র দুই মাস আছে ,,

“” আব্বু ডাকছেন আমায় ,,,
“” পুতুলের বাচ্চা হওয়ার আর কত দিন আছে ,,,
“” দুই মাস,,,
“” এই দুই মাস তোমার অফিসে যাওয়ার দরকার নেই ,,,
“” কেন আব্বু ,,,
“” যেটা বলছি সেটাই,, তোর আম্মু একাই থাকে বাসায় কখন কি হয় না হয়,,,
“” তাই বলে আমার চাকরি ,,,,
“” তোমার চাকরি দিয়ে আমার সংসার চলে না,,, তোমার চাকরির থেকে আমার কাছে পুতুলের দিকে নজর রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ,,,
“” আচ্ছা ,,,

এখন থেকে সব সময় বাসায় থাকি,,, পুতুলের সাথে সব সময় গল্প করি,, ও আমায় জড়িয়ে ধরে ঘুমায় ্্্
আমি জেগে জেগে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেই ,,,

কিছু দিন পর আমি পুতুলের পছন্দের কিছু সবজি আনতে বাজারে গেলাম,,,,
হঠাৎ আম্মু ফোন করলো,,,
“” হ্যা আম্মু ,,,
“” পুতুল অনেক অসুস্থ হয়ে পরছে তাড়াতাড়ি আয়,,,
“” আম্মু আমি আসছি ,,
“” এম্বুলেন্স নিয়ে আয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে ,,,
“” আচ্ছা ,,,
,,
,,

হাবীব কে ফোন দিলাম ,,,
“” বল কি অবস্থা ,,,
“” অবস্থা ভালো না ,,, আমার বাসায় তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্স পাঠিয়ে দে,,,
“” ভাবি কি খুব অসুস্থ ,,,
“” হুম ,,
“” আমি এখনি এম্বুলেন্স পাটাচ্ছি,,, তুই তাড়াতাড়ি নিয়ে হাসপাতালে চলে আয়,,,

আমি বাসায় যাওয়ার আগেই আব্বু বাসায় আসছে ,,
পুতুলের কাছে যেতেই আব্বু আমায় একটা থাপ্পড় দিলো,,,

“” তোকে বাসায় থাকতে বলছি ,,, তুই বাইরে কি করিস,,,

আমি কিছু বললাম না ,,, এম্বুলেন্স আসলো,,,
পুতুল কে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম ,,,

হাসপাতালে হাবিব আগে থেকে সব কিছু রেডি করে রাখছিলো,,,
তাই হাসপাতালে যাওয়ার সাথে সাথেই পুতুল কে ওটি তে নেওয়া হলো,,,
কিন্তু পুতুল শক্ত করে আমার হাত ধরছে,,,,
“” হাতটা ছাড়ো,,, নয়তো তোমার সমস্যা হবে দেরি হয়ে গেলে,,,
“” তুমি ও আমার সাথে চলো,,, আমার একার ভয় করবে ,,,

সবাই মিলে অনেক বুঝালাম ,,,
কিন্তু পুতুল কিছু শুনছে না ,,,
ও একটা কথাই বলছে শুধু ,,
তুমি আমার সাথে চলো,,,

অবশেষে হাবিব আমায় ভিতরে আসতে বললো,,
আমিও ভিতরে গেলাম ,,,
আমি পুতুলের হাত শক্ত করে ধরে আছি ,,,
অপারেশন শুরু করার আগে হাবিব কে বললাম ,,
“” ভাই আমার কলিজা টা এখন তোর হাতে ,,,
“” চিন্তা করিস না ,, আল্লাহ কে ডাক,,,

পুতুল কে অজ্ঞান করা হলো,,
আমি তবুও পুতুলের হাত শক্ত করে ধরে আছি ,,,
আমার অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে ,,,
হাবীব আমায় বললো,,,
“” তুই প্লিজ বাইরে যা,,, তুই এখানে থাকলে আমি আমি অপারেশন এ মনোযোগ দিতে পারবো না ,,, তুই ভালো করেই জানিস তোদের কোনো বন্ধুর চোখের পানি আমার সহ্য হয় না ,,,

আমি ওর কথায় কোনো উওর দিলাম না,,, কারণ আমি না চাইলেও আপনাআপনি পানি চলে আসবে ,,,
তাই ওর হাতটা খুব যত্ন করে বেড়ে রেখে বাইরে চলে আসলাম ,,,
মনে হচ্ছে ওর হাতটা আমায় বলছে একা রেখে যেও না আমার ভয় করে ,,,
বাইরে এসে আব্বু আম্মুর সাথে বসলাম ,,,

“” কান্না করছিস কেন ,,, আল্লাহ কে ডাক সব ঠিক হয়ে যাবে ,,,
একটু পরে একজন নার্স এসে একটা কাগজ হাতে দিয়ে বললো তাড়াতাড়ি এই ঔষধ গুলো নিয়ে আসেন,,,
আমি দৌড়ে গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসলাম,,,
প্রায় ৩০ মিনিট পর হাবিব বের হলো,,,

“” কি অবস্থা ভাই ,,,
“” বাচ্চা ভালো আছে ,, তোর মেয়ে হইছে,,,
“” আলহামদুলিল্লাহ ,,, পুতুল কেমন আছে ,,,
“” ভাবি,,,
“” কি হইছে বল,,,
“” কান্না করিস না ,,,
“” কি হইছে পুতুলের
“””সব ঠিক হয়ে যাবে
“” কি হইছে আগে সেটা বল,,,
“” ভাবির এখনো জ্ঞান ফেরে নি,,, যদি ৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফেরে তবে ,,,
“” এই চুল ,, একদম চুপ ,,, ঐ কথা মুখে আনবি না,,,
“” আল্লাহ কে ডাক ভাই ,, যাতে সেটা কখনোই না হয়,,, এখন সব কিছু আল্লাহ কাছে ,,,

আম্মু আব্বু দুজনেই কাঁদছে ,,,
আমি কি বলবো কিছু বুঝতে পারছি না ,,,
চোখ দিয়ে ঝরনা বয়ে যাচ্ছে ,,,

“” পুতুলকে এখন কোথায় নিয়ে গেলো,,,
“” কেবিনে দেওয়া হইছে ,,, তবে ,,
“” তবে কি,,,
“” তুই ভিতরে যাস না ,,
“” এমন বলিস না ভাই ,,, আমায় প্লিজ ভিতরে যেতে দে,, নয়তো পিচ্চি টা অভিমান করে আর কোনো দিনও চোখ খুলবে না,,,
হাবীব কে অনেক রিকুয়েষ্ট করলাম,,,
অবশেষে হাবিব আমায় ঢুকতে দিলো,,,

পুতুলের হাতটা ধরে বসে আছি ,,,
শুধু পুতুলের চোখ খোলার অপেক্ষায় আছি ,,,
একটু পরে হাবিব আসলো,,
“” ভাবির জ্ঞান ফিরছে ,,,
“” না রে এখনো জ্ঞান ফেরে নি,,,
“” তাহলে দোস্ত ,,,
“” প্লিজ দোস্ত ঐ কথা বলিস না ,, আমি সহ্য করতে পারবো না ,,, ও আমায় ছেড়ে কোথায় যেতে পারে না ,,,
আমি কেমন জানি পাগলের মতো মেঝেতে বসে পুতুলের হাতে মাথা রেখে আনমনে ও কে বলে যাচ্ছি
“”” ঐ পিচ্চি এই দেখো আমি তোমার সাথে বসে আছি ,, চোখ খোলো না ,,, তুমি তো আমায় জড়িয়ে না ধরে ঘুমাও না,,, তাহলে আজ কেন এতো সময় ধরে ঘুমিয়ে আছো,,, চোখ খোলো প্লিজ,,,
আম্মু আব্বু পাশে কাঁদছে ,,,
আমার তো মন আর মানছেই না,,
হাবীব ও কাঁদছে ,,,
পুতুলের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়ে জোরে কান্না করতে শুরু করলাম ,,,
মনে হচ্ছে অনেক দামী একটা জিনিস হারিয়ে ফেললাম ,,,

কিন্তু সবাই কে অবাক করে দিয়ে একটু পরে পুতুলের হাতটা নড়ে উঠলো,,,
এটা দেখা মাত্রই হাবিব পুতুলের বীট চেক করলো,,,
হাবীব এর মুখে একটু হাসির আভা ,,,
“” হাসছিস কেন তুই ,,,
“” তোদের ভালোবাসার জোড়ে হয়তো ভাবি আবার আমাদের মাঝে ফিরে এলো,,, বিশ্বাস কর আল্লাহ মনে হয় তোদের ভালোবাসায় অনেক খুশি ,,,

আল্লাহর রহমতে।পুতুল ঐ দিন সুস্থ হয়ে যায় ,, কয়েক দিন পর পুতুল আর বাচ্চা কে নিয়ে বাসায় আসি,,,
শুরু হয় নতুন করে সংসার ,,,
তবে এখন আব্বুর ব্যাবসা দেখতে হচ্ছে ,, আর আব্বু আমার বাচ্চা দেখছে ,,,
এখন সময় মতো বাসায় যাই,,
আবার সময় মতো ফোন ও করি,,,
বাচ্চার আম্মু হয়েছে তবুও পিচ্চি বউটা কথায় কথায় কান্না করা অভ্যাস টা ছাড়তে পারলো না,,,,,
,,
,,
,,
,,
The end
,,
,,

সম্পূর্ণ গল্পটা কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন ,,,,,

Related Posts

2 thoughts on “অবুঝ বউ part-14 & end

  1. অসাধারণ থেকে অসাধারন
    এর থেকে ভালো কোনো গল্পই হয় ন

    1. অনেক অনেক ধন্যবাদ পাশেই থাকবা ভাই এই রকমের ভালোবাসার গল্প পড়ার জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *