অবুঝ বউ part-11

অবুঝ বউ
,
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
.
১১তম পর্ব
,
পুতুল কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে রোজ দিনের মতো আমার পাশে বসে চুল থেকে পানি ঝাড়াচ্ছে,,,
কিন্তু আমি চুপচাপ শুয়ে আছি ,,,
কোনো কথা বলছি না ,,,
ও বেশ কিছু বার আমায় জাগানোর চেষ্টা করালো ,, কিন্তু আমি তো জেগে আছি,,, আমায় আর কি করে জাগাবে,,,

“” এই ওঠো না,,, আর কতো ঘুমাবা ,,,
এবার ধাক্কা দিচ্ছে,,,
আমি ধীরে ধীরে চোখ খুললাম ,,,
“” কি হলো ডাকছো কেন,,,
“” আর কতো ঘুমাবা ,,
“” আর একটু ,,,,
.
.
পুতুল আমার আরও কাছে এসে আমার মুখের কাছে মুখ নিয়ে আসলো।।।
আমি ইচ্ছে করে কোলবালিশ টার মাঝে মুখ লুকালাম,,,,,


এবার আর ওর দিকে তাকাচ্ছি না,, চুপচাপ শুয়ে আছি ,,,
কিন্তু একটু একটু কান্নার শব্দ আসছে ,,,
পাগলীটা কি কান্না করছে নাকি,,,,
চোখ তুলে তাকালাম ,,,,
সত্যি সত্যি পিচ্চি টা কাঁদছে ,,,

“”” এই পিচ্চি কাঁদছো কেন ,,,
“” যদি কোলবালিশ কে এতো ভালোবাসবে তাহলে আমায় বিয়ে করার কি দরকার ছিল ,,,
“”” মানে কি বলছো,,,
“”” তুমি কোলবালিশ ধরে শুয়ে আছো আমার দিকে তাকাচ্ছ ও না,,,,
“” আরে বাবা বেশ কিছু দিন পর কোলবালিশ টা পেলাম,,, অনেক দিনের বন্ধু ,,,
“”” কোলবালিশ পেয়ে তুমি আমায় ভুলে গেছো,,,
“”” কি বলো,,, কিভাবে ,,,
“”” আমার দিকে একবার ও তাকাও নি,,,
“”” তাকাইছি তো,,,
“” আমি শাড়ি পড়ছি দেখছো,,,

মনের মাঝে লাড্ডু ফুটছে বউটাকে দেখার জন্য ,,, কিন্তু না তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে ,,,
এই জন্য হালকা ভাবে বললাম ,,,
“” হ্যা দেখছি ,,, অনেক ভালো লাগছে ,,,
“”” কোলবালিশ পেয়ে তুমি আজ আমায় একবার ও জড়িয়ে ধরলা না,,,
“”” শাড়ি পড়ছো তাই ,,, শাড়ি সমস্যা করতে পারে ,,,
“”” তাহলে আমি শাড়ি চেঞ্জ করছি এখনি,,,,
এই যা এবার ফেঁসে গেলাম বোধ হয় ,,,,
পুতুল আমার পাশে থেকে উঠে একটু পাশে গিয়ে শাড়ি খুলতে লাগলো,,,
আমি চুপিচুপি পিছনে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ,,,

“” এই পাগলী কি করছো,,,
“”” শাড়ি খুলছি,,,
“” কেন,,,
“”” শাড়ি সমস্যা করে ,,,
“” কে বলছে ,,,
“”” তুমি ,,,
“”” আমি তো শুধু তোমায় রাগানোর জন্য বলছি ,,,
“”” কেন,,,
“”” আমার পিচ্চি বউকে আমি রাগাবো না তো কে রাগাবে ,,,
“”” হুম ,,, আমি কিন্তু পিচ্চি নেই ,,,
“”” হুম,,, শাড়ি পড়ে পিচ্চি কে অনেক বড় লাগছে ,,,
“”” আমি পিচ্চি না,,,
“”” তাহলে একটু আগে ভ্যা ভ্যা করে কান্না শুরু করছিলে কেন ,,,
“”” তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছিলে না কেন ,,,,
“”” শুধু এটার জন্য ,,,
“”” হুম ,, আর আমার আদর কোলবালিশ কে দিচ্ছো তাই ,,,
“”” পাগলী তোমার আদরের ভাগ কেউ নিতে পারবে না ,,,
“”” সত্যি করে বলো কখনো কাউকে আদরের ভাগ দিবে না ,,,
“”” কখনো না,,, আমার এতো সুন্দরী একটা বউ থাকতে আর কাকে আদর করতে যাবো,,,
“”” তাহলে কোল বালিস আমি লুকাই রাখবো ,,,
“”” কেন,,,, ওটা আবার কি করলো,,,
“”” ওটা তো আজ আমার আদরের ভাগ নিছে,,,
“”” ওটা তো কোনো মেয়ে না,,,
“”” তাতে কি হইছে ,,, বেশি কথা বললে আমি ওটা কেটে ফেলবো ,,,
“”” এই না ,, তুমি ওটা লুকিয়ে রাখিও,, এটাই বেটার ,,,
“”” আচ্ছা ,,
“”” তো এখন আমি আদর করবো কাকে,,,
“”” কেন আমায় আদর করবে,,,

বউকে কোলে তুলে নিলাম ,,, এরপর খাটে নিয়ে রাখলাম ,,,

“”” এই কি করছো,,,
“”” আমার পিচ্চি বউকে আদর করছি ,,,
“”” এখন হবে না ,, আপনি এখন গোসল করে রেডি হয়ে নাস্তা করতে আসবেন ,,,
“”” আর তুমি ,,,
“”” আমি আম্মুর সাথে নাস্তা রেডি করবো,,,
“” আর একটু পরে যাও,,
“”” না,, অনেক দেরী হয়ে গেছে ,,,
“”” আচ্ছা যাও,,,,
“” আহারে রাগ করছে ,,, রাগ করে লাভ নাই ,, যাও ওয়াসরুমে,,,,


আমি ওয়াস রুম থেকে ফ্রেস হয়ে এসে টেবিলে নাস্তা করতে গেলাম ,,,
গিয়ে দেখি আব্বু আম্মু সবাই বসে আছে ,,,
পুতুল শাড়ি পড়ছে বলে সবাই বলছে ওকে কতো সুন্দরী লাগছে ,, ,,
আমি শুধু শুনছি আর বলছি দেখতে হবে না বউটা কার,,
তবে অবাক হলাম পুতুল আব্বুর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে ,,,
আমি যাকে এতো ভয় পাই তার সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলছে পুতুল ,,,
বাহ ভালো তো ভালো না,,,,,


আমি গিয়ে চুপচাপ বসে পড়লাম ,,,
“”” আজ দুপুরে রান্না হবে না ,,, ( আম্মু )
“”” কেন আম্মু ,,,
“” আমার রান্না করতে ভালো লাগছে না ,,,
“” আজ তো শুক্রবার আমার ছুটি ,,,
“” তো,,,
“”” আজ আমি আর পুতুল রান্না করবো,,,
“”” আমি তো রান্না ভালো করে পারি না ,,,
“”” আমি শিখাই দিবো,,,
“”” আচ্ছা ,,,
“” এবার একটা নতুন মেম্বার আনার ব্যাবস্থা করো,,, ( আব্বু )
“”” মানে ,,,
“”” তুই তো আর আমার ব্যাবসা দেখবি না,, আমিও তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি ,,, তাই আমার নাতি কি আমার ব্যবসা বুঝিয়ে দিবো,,, তাড়াতাড়ি একটা নাতি আনার ব্যবস্থা কর,,,

আমি কিছু বলছি না,, শুধু মাথা নিচু করে শুনছি ,,,
আড় চোখে পুতুলের দিকে তাকালাম ,, ও মিটিমিটি হাসছে ,,,
শুধু হাসছে না আব্বুর দিকে তাকিয়ে tnx বলছে ,,
বুঝতে পারলাম এটা এদের সবার মাষ্টার প্ল্যান ,,,

“”” পুতুল ,,,
“”” হ্যা আব্বু ,,,
“” আমি আর তোমার আম্মু একটু বাইরে যাবো,, সন্ধ্যায় ফিরবো ,,, তোমরা শুধু নিজেদের খাবার রান্না করো,,,
“”” আচ্ছা ,,,


আম্মু আব্বু নাস্তা করে একটু পরে রেডি হয়ে আব্বুর কোন যেন বন্ধুর বাসায় গেলো,,,
আমি রুমে এসে শুয়ে আছি ,,,
পুতুল রুমে এসে হাসছে ,,,
“” কি হলো হাসছো কেন,,,
“”” আমায় বেবি দিবে না তুমি ,, এবার কোথায় যাবে ,,,
‘”” যানি তো তোমরা সবাই মিলে মাষ্টার প্ল্যান করছো,,,
“”” হুম ,,,
“”” তবে তোমায় দেখাচ্ছি মজা ,,
পুতুল কে টেনে খাটে শোয়ালাম ,,,
“”” এই রান্না করতে হবে না ,,,
“”” আব্বু আম্মু তো চলে গেছে ,, আমরা বাইরে খেতে যাবো,,,
“”” না,, তুমি আমায় রান্না শিখাবে,, আম্মু বলছে তুমি অনেক ভালো রান্না পারো,,,
“” আম্মু তোমায় শিখাবে,,,
“” না তুমি,,,
“” কি করতে হবে আমায়,,,
“”” তুমি শুধু আমায় বলবে কোনটা কখন কতটা দিতে হবে ,,,
“”” আচ্ছা চলো,,,

পুতুল আর আমি রান্না ঘরে আসলাম ,,
আমি সব কিছু দেখিয়ে দিচ্ছি আর ও তা তা করছে,,,
কিন্তু আমি ওকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরার লোভটা সামলাতে পারলাম না ,,,
পিছনে থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ,,,
পুতুল চমকে উঠলো এবং শিউরে গেল,,,
হাতে থাকা বাটি পড়ে গেলো ,,,
বাটি টা ভেঙে গেছে ,,,

নিজেদের অজান্তে কোনো এক অজানা দেশে হারিয়ে যাচ্ছি আমরা,,,
হঠাৎ পুতুল চিৎকার করে উঠলো,,,
পুতুলের চিৎকারে বাস্তবে ফিরে আসলাম,,,
নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি পুতুলের পায়ে কেটে গেছে একটু,,, বাটির ভাঙ্গা টুকরো দিয়ে ,,,
পুতুল অনেক কান্না করছে ,,,

“” এই পাগলী কান্না করছো কেন,,,,
“””,,,,,,,,,,,,
“”” আমি আছি তো বাবা

কিন্তু আমার কোনো কথাই শুনছে না,,,
এখন ওর ভয়টা কাটাতে হবে ,, তার জন্য ওর কান্না থামাতে হবে ,,,
কি করি,,,
ও কান্না করছে সেই অবস্থায় ওকে লিপ কিস করলাম,,,,
এখন কান্না পুরোপুরি বন্ধ ,,,, ,,,
,,,,
,,,,
,,,,
,,,,
,,,,
,,,,
To be continue

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *