অবুঝ বউ part-2

অবুঝ বউ

Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
.
২য় পর্ব

কি জ্বালায় পড়লাম । বউ তো শুধু কথায় কথায় কান্না করে ।
” এই চুপ করো কান্না করবে না । চুপ করো বলছি । আচ্ছা তুমি রাক্ষসী না। তুমি অনেক ভালো । হ্যাপি?
” হ্যা।

কি মেয়ে মাইরি ? এক নিমিষেই কান্না হারিয়ে গেলো।
” আচ্ছা শোনো ( হাত ধরলাম )
” এই তুমি আমার হাত ধরছো কেন?
” হাত ধরবো না?
” হাত ধরলে আমি কিন্তু আবার কান্না করবো
” কেন?
” ভাবি বলছে কোনো ছেলে যেন শরীর টাস করতে না পারে । আব্বুও বলছে কোনো ছেলের সাথে মিশতে না।।
” কবে বলছে ?
” আমি যখন ক্লাস টেন এ পড়ি তখন ।
” আজও মনে আছে ?
” হুম ।
” তাহলে আমার সাথে বসে গল্প করছো যে?
” তুমি দেখতে অনেক টা আমার ভাইয়ার মতো । তাই ।
” কি?
ইচ্ছে করছে কচুর গাছে গলায় ফাশি দেই। একটু রোমান্টিক হওয়ার জন্য হাত ধরলাম । কিন্তু হাত ধরার পর বর ভাই হয়ে গেলাম।
কি।কপাল মাইরি আমার ।
.
” যাও বইন তুমি আম্মুর কাছে যাও।
” হিহিহি
” হাসছো কেন? ( মেয়েটার হাসিটা তো অনেক সুন্দর )
” বউকে কেউ বোন ডাকে?
” তুমি এটা বোঝো?
” হুম । আব্বু তো আম্মুর নাম নিয়ে ডাকতো । ভাইয়াও ভাবির নাম নিয়ে ডাকতো ।
” ভালো।
” তুমিও আমার নাম নিয়ে ডাকবে
” তোমার নাম কি ?
” ওহ তোমায় তো আমার নামই বলি নি আমি পুতুল ।
” হুম । আর আমি
” বলতে হবে না আমি তোমার নাম জানি। হারামজাদা ।
” কি?
” হ্যা। তোমার আম্মুই তো বললো দেখতো হারামজাদা ঘুম থেকে উঠলো কি না। তাই জন্য তো আমি এলাম।
” তাই জন্য কি আমার নাম হারামজাদা ?
” আমি কি জানি? নবাবজাদা নাম শুনছি কিন্তু হারামজাদা নামটা এই প্রথম শুনলাম । খারাপ না। ভালোই আছে ।
” আল্লাহ গো আমারে তুইল্লা নাও উপরে ।
” কোথায় যাবে ?
” জাহান্নামে ।
” আম্মু বলছে ওটা অনেক বাজে জায়গা। খুব কষ্ট দেয় । ওখানে যাওয়ার দরকার নেই । তুমি তারচেয়ে বরং অন্য কোথাও গিয়ে আমার জন্য চকলেট নিয়ে এসো। ভাইয়া যেগুলো দিছে সব শেষ ।
” কি? চকলেট ?
” হুম ।
” কাল রাতে তুমি চকলেট কই পাইছিলা?
” বাসা থেকে নিয়ে আসছি । ভাবি বললো একা একা নাকি বসে থাকতে হবে তাই নিয়ে আসছিলাম ।
” তোমার নাম তো গ্রিনিস বুক আব ওয়াল্ড এ রেকর্ড হওয়া উচিত।
” এই বইটার নাম আমি অনেক শুনেছি। কিন্তু রাইটার এর নাম জানি না ।
” আম্মু ও আম্মু আমি পাগল হয়ে গেলাম। কই তুমি ?
” কি হইছে এমন ষাড়ের মতো চেচাচ্ছিস কেন ?
” তোমার এই পছন্দ করা বউ আমায় পাগলা গারদে পাঠাবে সিয়র।
” কেন? কি হইছে ?
” কিছু হয় নি। তুমি ওকে নিয়ে যাও।
” কতো লক্ষী একটা মেয়ে । আয় মা তুই আমার সাথে ।
” আচ্ছা আন্টি তোমার ছেলের নাম হারামজাদা না?
” কে বললো?
” তুমিই তো তখন বললে?
” আরে ওটা তো এমনি বলছি । কেন তুই ওর নাম জানিস না ?
” শুনছিলাম সুমন। আর তুমি যখন হারামজাদা বললে তখন ভাবলাম হয়তো হারামজাদা নিক নেম।
” পাগলী মেয়ে ।
” তোমরা দু’জনই রুম থেকে বের হবে ?
” যাচ্ছি । তাড়াতাড়ি খেতে আয় ।

রুম থেকে বের হয়ে খাওয়ার জন্য গেলাম । গিয়ে দেখি বউ টিভি দেখছে । এমা এতো কার্টুন দেখছে । যাই হোক বউয়ের সাথে তো একটা দিকে মিল আছে ।
এতক্ষণ শুধু বউয়ের দিকে তাকাইছিলাম কিন্তু এবার বউয়ের পাশের জন কে দেখে আমার মাথা তো হ্যাং। আমার আম্মু ওকে খাইয়ে দিচ্ছে আর ও বাচ্চাদের মতো টিভি দেখছে ।
আমি কি সত্যি আমার বাসায় আছি নাকি অন্য কোনো গ্রহে চলে আসলাম । আমার আম্মু গত তিন চার বছর ধরে আমায় তুলে খাওয়ায় না। বললে বলে আল্লাহ তোর হাত দেয় নি । নিজের হাতে খা। আর এখন ?
দুজনেই কি হেসে হেসে কথা বলছে । মনে হয় দুই শখি অনেক দিন পর দেখা হইছে ।

দূর এই অসময়ে আবার কে ফোন করে
তাও আবার অপরিচিত ।
” হ্যালো
” সুমন
” না হারামজাদা ।
” কি?
” না মানে হ্যা। আমি সুমন। আপনি কে?
” আমি ভাবি বলছি
” আমার কোনো বড় ভাই নাই ।
” আমি পুতুলের ভাবি বলছি ।
” পুতুল ? কে পুতুল ?
” পুতুল কে চিনো না তোমার বউ।
” ওহহ হ্যা একটু আগেই তো নাম শুনলাম । কি যে হইছে কিছু বুঝছি না । সরি ভাবি।
” ইটস ওকে । কেমন আছো ?
” সেটাই তো বুঝতে পারছি না । এমন অবস্থায় আছি হাসবো নাকি কাদবো কিছুই বুঝতে পারছি না ।
” কেন পুতুল কিছু করছে ?
” ও আবার কি করবে ? আচ্ছা ভাবি পুতুলের বয়স ১৮ হইছে তো?
” কেন?
” দেখে তো মনে হয় না ।
” আসলে ও এমন হওয়ার পিছনে কারণ আছে । ও বাইরের পরিবেশ বাইরের সমাজ সম্পর্কে কিছুই জানে না । ওর কোনো ধারণা নেই মানুষ কেমন হতে পারে । আমরা যেমন ও সবাইকে তেমন ভাবে । তাই হয়তো ওখানেও সেই কাজ গুলো করছে যেগুলো বাসায় করতো।
” বুঝলাম না ভাবি আমি
” কাল হয়তো বাবা তোমাদের নিয়ে আসার জন্য যাবে । যখন আসবে তখন তোমায় ওর সব কান্ড বলবো ।
” আচ্ছা ।
” ওর সাথে রাগ করে কথা বলতে যেও না একবার কান্না শুরু হলে চুপ করাতে পারবে না ।
” তাই ।
” হুম । বাসর রাত তো ভালোই কাটালে সেটা তো আমি আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।
” বাসর? কপালে না থাকলে ঘি…….
” হাহাহাহা
” হাসছেন ? আপনার বাসরে কি আপনি এমন করছেন ?
“আমি কি তোমার বউয়ের মতো
” তাও ঠিক । সকালে আমি একবার হাত ধরছিলাম
” তারপর
“তারপর আর কি? বললো আপনি নাকি ছেলেদের টাস করতে না করছেন ।
” ওহহ আচ্ছা । তাহলে ভালোই তো আছো। নতুন বিয়ে করে ভালোই মজা করছো।
” শুধু মজা । যার উপরে আর মজা হয় না ….
” তো আমার ননদ কি করছে ?
” উনি কার্টুন দেখছে আর আম্মু ওকে খাওয়াই দিচ্ছে ।
” বাহ ভালো তো আমার কাজটা আন্টি করছে ।
” হুম . …..
“তুমি ওর সাথে কখনো উঁচু গলায় কথা বলিও না তাহলে কিন্তু তোমার কাছেও আসবে না । বাসর তো কোন দূর । । । ।
” হুম বুঝলাম । । ।
” ও কিন্তু অল্পতে অনেক ভয় পায়।
” ভালো।
” এখন তুমি ওকে ফোন দাও দেখি তোমার জন্য কিছু করতে পারি কি না
” আমার জন্য আবার কি করবেন ?
” চেষ্টা করে দেখি তোমার বউকে আন্টির রুম থেকে তোমার রুমে নিয়ে আসা যায় কি না।
” তাই ? আচ্ছা । ভাবি আর একটা কাজ
” কি?
” ও আম্মু কে আন্টি বলে ডাকে।
” ওহহ আচ্ছা
” এই পুতুল তোমার ভাবি ফোন করছে
পুতুল কে ফোন টা দিয়ে রেকর্ড অন করে দিলাম। কি বললো পরে শুনতে হবে তো………
……….
………
……..
…….
……
…..
….

..
.
To be continue

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *