অভিমানি বউ । Romantic Love Story । রোমান্টিক ভালবাসার গল্প

অভিমানি বউ

—এই শোন না…. (নিধি)
—হুম বলো, কি বলবে…. (আমি)
—বলছিলাম আমি একটা জবের অফার পাইছি।
একটু অবাকই হলাম নিধির কথা শুনে….
—তো…???
—আমি জবটা করতে চাই…..
—তোমাকে কেন জব করতে হবে, আমি যা ইনকাম করছি তাতে কি হচ্ছে না নাকি…..
—হচ্ছে তবুও আমরা তো ফ্যামেলি প্লানিং করছি তাই না, ভবিষ্যৎ এর জন্য তো কিছু জমাতে হবে তাই না….
—-কেন আমি যেটা প্রতিমাসে জমাচ্ছি সেটা কি আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানাদির জন্য যথেষ্ট মনে হচ্ছে না তোমার..???
—দুজনে মিলে জমালে আরো বেশি হত, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎটা আরো বেশি সুরক্ষিত ও ভাবনা হীন হতো, আর আমারো তো বাড়িতে সারাদিন একা একা বোর লাগে…..
—দেখ তুমি যদি আমাদের ভবিষ্যৎ এর চিন্তা করে জবটা করতে চাও সেটা অবশ্যই ভাল আইডিয়া, বা যদি একাকিত্ত দুর করার জন্য সেটাও ভাল, তবে আমার মনে হয় আমার ইনকাম আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে যথেষ্ট, আর তোমার একাকিত্ত দুর করতে তুমি কিছু ফুল গাছ কিন, কিছু পোষা পাখি আর একটা একুরিয়াম, একুরিয়ামে নানা প্রজাতির মাছ পালবে, রঙিন মাছ গুলো দেখতেও অনেক সুন্দর লাগবে….,তাতে বাড়িটাও সুন্দর হয়ে উঠবে, আর ওদের সাথে দিনটা তোমার ভালই কাটবে একা ফিলটা আর আসবে না, ওদের পরিচর্চা করতে করেই তোমার সময় ফুরিয়ে যাবে দেখো……
—এটা বললেই হয় যে জবটা আমায় করতে দিবে না, এত পেচিয়ে বলার কি আছে……
—এমন করে বলছ কেন, আমি তো এখনো না করিনি….
—না করনি, তবে হ্যা যে বলবে না সেটাও বুঝে গেছি….
—দেখ আমি এমনটা কখনই ভাবিনী, আমি তোমাকে বিকল্প পথ গুলো দেখিয়ে দিয়েছি সুধু…..
—লাগবে না আমার বিকল্প পথ, আমি যে আমার লেখা পড়ার সঠিক মূল্যায়ন না পাই বা সেটা কাজে না লাগাতে পারি সেটাই তুমি চাও….
—দেখ তেমন কিছুই না…. দুজনে যদি জব করি তো সংসারের ভারসাম্য নষ্ট হবে, সারাদিন শেষে তুমি আমি দুজনেই ক্লান্ত হয়ে ফিরব, তখন এখনকার মত সুন্দর সন্ধা রাতে জোস্না দেখা হুট করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কোনটাই হবে না, আমার মুড থাকলেও দেখা যাবে তোমার নেই, আমি ছুটি পাইলেও তুমি পাচ্ছ না…. তাই বলছি তুমি বিকল্প পথটাই গ্রহন করো সেটাই ভাল হবে তোমার আমার জন্য……
—তোমরা ছেলেরা সব সময় চাও মেয়েদের দমিয়ে রাখতে…. যাতে আমরা নিজে কিছু করতে না পারি….

কথাটা বলেই খাবার টেবিল থেকে উঠে গেলো নিধি…..
মেয়েরা যে আসলেই কম বুঝে এইটা তাঁর বড় একটা প্রমান……
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাসাই এসে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসছিলাম তখনই নিধি কথা গুলো বলল,
ও আসেন পরিচয় দিই আপনাদের…..
আমি রাশেদ, একটা মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে সহকারি ম্যানেজার পদে আছি…..
আর ও নিধি যার সাথে এতখন কথা বললাম, আপনাদের ভাবী মানে আমার বউ…..
মেয়েটা আমাকে না জানিয়েই চাকরির আবেদন করছে হয়ত, আর সেটা কনফর্ম হবার পরেই আমাকে বলছে, এর আগেও অনেকবার চাকরি করতে চাইছিল, আমি না করাতে পারেনি….
তাই এবার না জানিয়ে….

খাবার শেষ করে উঠে এসে দেখি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে মুখ ভার করে….
টেবিলের উপর একটি খাম, খামটা হাতে নিয়ে ভেতর থেকে কাগজটা বের করলাম, একটা বড় কম্পানির জব অফার… স্যালারিও বেশ ভাল….
এবার পাগলিটার দিকে এগোলাম, পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম, কেমন যেনো ফোপানোর আওয়াজ আসছে….
কাছে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম, কোন রেসপন্স নেই….
পেছন থেকেই আমার দিকে ঘোরালাম, তবুও অন্য দিকে মুখ করে রইল…..
চোয়ালটা ধরে সোজা করে চোখে চোখ রোখে বললাম
—পাগলিটার এত্ত অভিমান কেন শুনি….???
—কই কিসের অভিমান, আমার কারো উপর কোন অভিমান নেই….
—সত্যি নেই…
—না নেই…
—তাহলে আমাকে না নিয়ে এখানে একা একা দাঁড়িয়ে কান্না করছিলে কেন….
—কই কান্না করলাম …??
—তাহলে চোখে পানি কেন….???
—এমনি….
—চাকরিটা করলে তুমি খুশি…???
এবার একটু অবাক হলো মনে হয়…
—সত্যি দিবে চাকরিটা করতে….???
—হুম দিব তবে একটা শর্ত আছে….….
—কি সেটা….???
—তোমার চাকরির কোন প্রেশার যেন আমার সংসারে না পড়ে, আমার সাজানো গোছান সংসারে যেন তার কোন আচ না লাগে….
—লাগবে না গো আমি কষ্ট হলেও ঠিক সামলে নিব….
—আল্লাহ যেন তাই করেন, আর যদি আচ লাগে তো তোমাকে এর মূল্য দিতে হবে, কঠিন মূল্য….
—কিচ্ছু হবে না দেইখো….
—আচ্ছা এবার একটু মিষ্টি করে হাসো….
—এতই হাসছি পাগলটাও একটু হাসুক মিষ্টি করে….
বলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আমায়, আমিও শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম বুকে……
—কবে থেকে জয়েন করছ…???
—কেন লেটারটা পড়েন নি….
—হুম পড়েছি…
—তো জানতে চাইছেন কেন….
—কিছু একটা হারানোর আশঙ্খাই….
—কি হারাবে…???
—জানি না গো….
—আচ্ছা জানতে হবে না, অনেক রাত হয়ছে চলেন ঘুমাই গিয়ে…..
—হুম চলো….
এর পর দুজনে শুয়ে পরলাম, কিন্তু চোখে কোন ঘুম নেই, কি যেন একটা ভয় কাজ করছে….
সারাদিন ব্যাস্ততা আর নির্ঘুম অর্ধরাত নিয়ে এক সপ্তা চলে গেলো, দেখতে দেখতে নিধির জয়েন করার দিনও এগিয়ে আসল…..
সকালে দুজনে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে এক সাথেই বেরোলাম, দুজনের অফিস দুইদিকে তাই দুজন বাসা থেকে বেড়িয়ে দুদিকে রওনা হলাম…..

অফিসে পৌছানোর পর নিধিকে ফোন দিলাম,
—হ্যা বলো, ঠিক মত পৌছাইছো অফিসে…
—হুম, তুমি…
—হ্যা এই মাত্র বসের থেকে দায়িক্ত বুঝে নিলাম….
—আচ্ছা কাজ করো আমিও কাজ করি…
—আচ্ছা বাই….
—বাই….

দুপুরেও কথা হলো সন্ধায় নিধি আগেই ফিরেছে আমি একটু লেট করে বাসাই পৌছালাম, একটা ফাইল শেষ করতেই লেট…..
নিধি ফ্রেশ হয়ে রান্না শুরু করে দিয়েছিল, আমিও ফ্রেশ হয়ে ওকে হেল্প করলাম, লেখাপড়ার সুবাদে বাইরে থাকার কারনে রান্নাটা বেশ ভালই পারি…..

দুজনে রান্না করে খাওয়াদাওয়া করে একটু ছাদে গেলাম, নিধির সারা দিন কেমন কাটল সেটা নিয়ে গল্প করলাম বসে বসে….
দুজনেই ক্লান্ত তাই বেশি রাত না করে ঘুমিয়ে পরলাম….
এভাবেই চলছিল আমাদের দিন, নিধির চাকুরির বয়স যত বাড়ছিল ব্যাস্ততাও বাড়তে লাগল, যা আমি আগেই জানতাম…. দুমাস যাবার পরে এত বেশি ব্যাস্ত হয়ে পরল যে নিধিই এখন রাত করে ফিরে…..
রাতে আমার পরে ফেরে, ফোন দিলে রিসিভ কখনো করে কখনো না….
এমন দেখা যায় আমি বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে রান্না করে ওর জন্য বসে আছি তবুও ওর আসার কোন নাম নেই, ফোন করলেও পাওয়া যায় না….
দিনে দিনে আমার সাজানো সংসারটা কোমন বিবর্ন হতে শুরু করল, আমার রঙিন ভুবনে মরু ঝড় আছড়ে পরতে লাগল, আমার সেই সংক্ষাই সত্যি হতে চল….
কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না, নিধির সাথে যে কথা বলব সেটাও পারছিলাম না রাত করে ফিরে খেয়েই ঘুম, কথা বলার সুযোগ কই, ছুটির দিনে একটু কথা বলব সেটাও পারছি না,
মনে হচ্ছে নিধি নয়, আমিই ওর বউ আর ও আমার স্বামী….
আমি সারাদিন বসে থাকি আর ও বাইরে কাজ করে ফিরে আমার উচিৎ ওর সেবা যত্ন করা….

হচ্ছিলও তেমনি…
তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমিই জবটা ছেড়ে দিব, নয়ত এভাবে সংসার টিকবে না, আর নিধির দৌড় কতদুর সেটাই দেখব আমি……
একদিন রাতে খেতে বসেই নিধিকে বললাম
—আমি জবটা ছেড়ে দিচ্ছি….
—কেন, সমস্যা কি…
—কি সমস্যা তোমার চোখে পড়ছে না…???
আমরা কি আগের মত আছি, নাকি আমাদের সংসারটাই আগের মত আছে,….??? ঘরবাড়ির কি অবস্থা দেখছে…???
—-সবই তো আগের মতই আছে….
—-ওও, তোমার তাই মনে হয়….???
—হ্যা…
—আচ্ছা বাদ দাও তুমি তো জব করছই, সেটা দিয়েই সংসার দিব্বি চলে যাবে, সাথে ভবিষ্যৎএর জন্য সঞ্চয়টাও হয়ে যাবে তাই আমি আগামি মাস থেকে আর জবটা করছি না….. সংসারের জাবতীয় খরচ তুমিই বহন করবে এখন থেকে…..

এর পর আমি জবটা ছেড়ে দেই, বস অনেক না করার সত্যেও, শেষ পর্যন্ত বসকে কথা দিতে হয়ছে যদি জব করি তবে তার অফিসেই করব, তিনি বেতন বাড়ানোর কথাও বলেছিলেন, তবুও আমি রাজি হয়নি দেখেই ঐ কথাটা বলেন…..
জব ছাড়ার পর আগে বাড়িটা গোছালাম, এর পর কিছু পোষা পাখি ও একটা মাঝারি একুরিয়াম ও অনেক গুলো রঙিন সামুদ্রিক মাছ কিনলাম যাতে ওদের সাথে সময়টা কাটানো যায়….
ধীরে ধীরে ওরা অনেক আপন হয়ে উঠল, আর নিধি ক্রমেই দুরে যাচ্ছে….
আসতে আসতে কিছু ফুল গাছ দিয়ে পুরো বাড়িটা সুন্দর করে সাজিয়ে ফেললাম….
অনেক সুন্দর পরিবেশ হয়ে গেছে যেন প্রাকৃতির মাঝেই আছি…. শহরে এমন পরিবেশ চিন্তাই করা মুসকিল…..
সকালে নাশতা বানিয়ে নিধির টিফিন রেডি করে দেই, এর পর ও চলে গেলেই আমি পাখির পানি খাবার দিয়ে মাছকে খাইতে দিই, গাছ গুলোতে পানি দিই, কিছু দিন পরেই গাছ গুলোতে ফুল আসতে শুরু করল, ফুলের গন্ধে ঘর ভরে যেতে লাগল, বিশেষ করে হাসনাহেনা, কামিনী, গন্ধরাজের গন্ধে……
এখন আর নিধির জন্য একাকিত্ত বোধ হয় না আছি কাজের লোকের মত, দেখি ও কত দুরে যাই….

ইদানিং টুকটাক কথা কাটাকাটিও হচ্ছে….
তো সেদিন বাজারে যাব, ঘরে কিছু নেই, বললাম টাকা দাও, কারন আমি জব করি না টাকাও নেই….
বলে সেদিনই না টাকা দিলাম বাজার করতে…. সব শেষ…???
যদি জিনিসের দাম জানত তো এই কথা বলত না….
বিদ্যুৎ গ্যাস বাড়িভারা এটা সেটার জন্য টাকা চাইলেই কেমন যেন করে….
অথচ আমি কখনো ওকে কোন বিষয়ে কিছু বলতাম না…..
এভাবেই চলছিল আমাদের দিন….
মাস শেষ, বাড়িওয়ালা দুবার এসে গেছে বাড়ি ভাড়ার জন্য…. তাই নিধিকে বললাম
—-বাড়ি ভাড়াটা তো দিতে হয়, দুবার চেয়ে গেলো….
—-আমার কাছে টাকা নেই….
—টাকা নেই মানে এত টাকা বেতন পাও সেটা কি করো…???
—সে হিসাব তোমাকে দিব কেন…??? আর একটু হিসেব করে তো খরচ করো না, টাকা ইনকাম করতে কত কষ্ট হয় জানো, দুদিন পর পর বাজার করব টাকা দাও….. এটা করব টাকা দাও, ওটা লাগবে টাকা দাও…. কোথা থেকে আসে এত টাকা….????
আর এই যে এত বাজে খরচ করে তার টাকাই কই থেকে আসে শুনি… মাছ পাখি গাছ…..
—বাহ্ সুন্দর আজ তোমার মনে হলো টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয়, আজ তোমার মনে হলো আমি বাজে খরচ করি, আজ তোমার মনে হলো টাকা কই থেকে আসে না…..????

শোন আমি যখন জব করতাম তখন তো এইটা ভাব নি… যখন যা ইচ্ছে কিনতে, আমি তো তোমাকে কখনো বলিনি টাকা নেই, আমি তো অফিস শেষ করে বাজার করে ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম কখনো বলিনি তুমিও তো বাজারটা করতে পার, কোন দিন গেছো বাজারে জিনিসের কত দাম, কোন দিন কি ভেবেছ আমি কি করে সংসার চালাই?????
আজ কয়েকটা মাস সংসার চালাতেই তোমার ধর্য শেষ???? আজ আমাকে বাজে খরচের কথা বলছ না…??? এটা ওটা কিনতে টাকা খরচ করি তার খোটা দিচ্ছ….???
আমি রাত করলে হাজারটা কৈফিয়ত দিতে হয়, আমি তোমায় কি কখনো বলেছি রাত করে ফিরলে কেন…????
আমি অফিস থেকে ফিরে তোমাকে না না কাজে হেল্প করেছি এই ভেবে সারাদিন একা থাক, একটু সঙ্গ দেই, তুমি চাইলে না ঘুমিয়ে গল্প করেছি, তুমি কি একটা দিন আমায় হেল্প করেছ, ভাল মন্দের খবর নিয়েছ, রাত জেগে গল্প করা, ঘুরতে যাওয়া না হয় বাদ দিলাম….. আমি জব করলে বাড়ি ভাড়া চাইতে আসতে হয়নি অথচ এখন ওয়ার্নিং দিয়ে যায়…..
আমি তোমাকে বলেছিলাম জব করে সংসার সামলাতে পারবে না, তখন তো আমার উপর অভীমান করলে, এখন কি বলবে….???

মনে করে দেখ অনেক ভাবে বুঝিয়ে ছিলাম তোমায়….
তখন বুঝ নি, এখন….
মনে আছে একটা শর্ত দিছিলাম…??? কোথায় সেই শর্ত….??? পেরেছ রাখতে….????
শর্ত অনুযায়ী তোমাকে সেই চরম মূল্য দিতে হবে এখন……
আমি আমার কথা থেকে এক পাও নড়ব না…..
কালকেই তুমি এই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাবে, চাইনা তোমাকে, তোমার জব নিয়ে থাক তুমি….. আমার সংসারে তোমার মত মানুষের কোন যাইগা নেই…..

তখন তোমাকে জব করতে নিষেধ করেছিলাম তখন কি বলেছিলে যেন????
আমরা পুরুষরা তোমাদের অধিকার দেই না, মূল্যয়ন করি না দমিয়ে রাখতে চাই না….???

আজকের পর থেকে তুমি মুক্ত, কেও দমিয়ে রাখতে চাইবে না তোমার অধিকারে হস্থক্ষেপ করবে না…. কাল থেকে তুমি স্বাধীন……
যে আমার সংসার সাজানোর দায়িক্ত নিয়ে তা আরো মলিন করে দেই চাইনা তাকে আমি, কাল সকালের পর আমি তোমার মুখও দেখতে চাই না…….
তোমার চেয়ে মাছ পাখি গাছই অনেক ভাল, ওদের নিয়েই থাকব আমি….. তোমাকে দরকার হবে না আর……
বলেই নিধির সামনে থেকে চলে এলাম…..
পরের দিন সকালে বাড়ির সব কাজ শেষ করে বেরোলাম অফিসের উদ্দেশ্য….. আবার চাকরিতে জয়েন করতে হবে….. না হয় অন্য কোন চাকরি খুজতে হবে……
রিসেপসনে বতে কিছুখন অপেক্ষা করতে বলল, নতুন রিসেপসনিষ্ট, তাই বসিয়ে রাখল…. না হলেযখন জব করতাম সব সময় বসের রুমে যাওয়ার অনুমতি ছিল আমার….
বসের সাথে দেখা করতেই বস ভাল মন্দ জিগেশ করতে লাগলেন, আবার জয়েন করতে চাই শুনে খুশি হলেন…..
এমনকি পরের দিন থেকেই জয়েন করতে বললেন…. কর্পোরেট অফিস থেকে লোক এনে কাজ করতে হচ্ছে তাই….. পরের সপ্তাহতে জয়েন করব বলে কথা দিয়ে চলে আসলাম…….
সেখান থেকে বেড়িয়ে বাড়ি ফিরলাম গিয়ে দেখি নিধি বারান্দায় বসে আছে, অফিসে যাই নি নাকি….. আর আমিও তো বলেইছি যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে……
—কি হলো তুমি যাওনি এখনো…???. যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে যাও……
তবুও চুপ করেই বসে রইল…..
বিকেল হয়ে গেলেও সেভাবেই বসে রইল, তাই রাগ করেই বললাম
—কি হলো এখনো বসে আছো…. যাও যেখানে ইচ্ছা, এখানে তোমার কোন যাইগাই নেই……
কোন কথা বলছে না….
—কি উঠবে নাকি ঘারে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিব…???.এবার দেখলাম চোখ মুছতে লাগল…. আমার রাগটা আরো বেড়ে গেলো….
ঘরে গিয়ে ওর সব পোশাক সুটকেসে ভরে নিয়ে ওকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম, শ্বশুর বাড়িত উদ্দশ্য…..

সেখানে দিয়ে শ্বশুর শ্বাশুড়িকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে এলাম…..
কদিন পরেই চাকরিতে যোগ দিলাম ওদিকে শ্বশুরের ফোন আসতে লাগল একের পর এক…. তাকে সব বুঝিয়ে বললাম আর এও বললাম আরো কিছু দিন ওখানে থাক বুঝুক কি ভুল সে করেছে…..

মাস খানিক পরে বাড়ি ফিরে দেখি দরজার শামনে সুটকেস আর সিড়ীতে নিধি বসে, সেদিকে না তাকিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকব এমন সময় নিধি এসে পা জড়িয়ে ধরল…..
—কি করছ কি, মানুষ দেখবে তো, পা ছাড়ো….
—না আগে আমাকে ক্ষমা করেন, না হলে আমি পা ছাড়ব না….
—আচ্ছা পা ছেড়ে ভেতরে চলো তারপর যা হবার হবে….
এর পর আসতে আসতে সব ঠিক হতে সুরু করল, আর কোন ঝামেলা হয়নি, এখন আমার পাখি মাছ ও গাছে হাত দেয়া নিষেধ, নিধি নিজেই সব করে, ওদের নিয়েই ওর সারা দিন কাটে….. আর একাকী বোধ করে না, এখন অনেক সুখে আছি আমরা……

আমরা মেয়েদের অধিকার থেকে বঞ্চিত নয়, তাদের দমিয়ে রাখতে চাই না, তাদের অবমূল্যয়ন করতে চাই না,
আমরাও চাই তারা নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগাক, নিজে কিছু করে দেখাক, তাই বলে পরিবার,, সংসার ছেড়ে নয়…..
আগে পরিবার এর পর সব, আপনি যেটা করতে চাচ্ছেন সেটাতো পরিবারের মঙ্গলের জন্যই তাই না….
আর সেই কাজ করতে গিয়ে যদি পরিবারের ক্ষতি হয় তবে সে কাজ করে লাব কি….????
যদি দুজনে মিলে কিছু করা যায় তো সবই সম্ভব……
,
সমাপ্ত

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *