একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-০৭

গল্পঃ- একটু বেশিই অভিমানী 💖
পার্ট -০৭
#অদ্রিতআল মাসুদ


একটু বেশিই অভিমানী সকল পর্ব

.
ছিঃ ছিঃ কেমন করে পারলাম আমি সাগরকে এতোটা কষ্ট দিতে। নিজের মারার মত এতো জঘন্যতম সিদ্ধান্ত নিতে। এখন কোন মুখে আমি সাগরের সামনে যাব। সাগর ঠিকই বলেছে আমার মধ্যে কোনোরকম মনুষ্যত্ব নেই। না আমি আর এই জীবন রাখবো না। আমার জন্য শুধুমাত্র আমার জন্য আজ আমার সাজানো সংসার ভেঙ্গে গেছে। আজ আমি স্বামী হারা সন্তান হারা পরিবার হারা। এ জীবন রাখার কোনো মানেই নেই।
.
মিশু আচমকা বসা থেকে দাড়িয়ে দৌড়ে রুমে চলে যায়। মিশুর আচমকা ওঠে যাওয়াতে নীলা ভাবীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে দেয়।
— মা, ওমা শুনছেন (ভাবী)
–কি হলো কি আবার তোমার?? (কান্না ভেজা কণ্ঠে)
–মিশু আচমকা ওঠে গেলো যে??আমার যেনো কেমন লাগছে মা। চলুন তো একবার দেখি আসি। ও আবার নিজের কোনো ক্ষতি করে ফেলবে না তো? (ভাবী)
–চল তো দেখে আসি। (মা)

মা ভাবী মিশুর রুমে গিয়ে যা দেখল তাতে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেলো।মিশু বিষ খেয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে। একেতো আমার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া তারপর আবার মিশুর আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টা। ভাবী বাবা, ভাইয়াকে ফোন করে এম্বুলেন্স করে মিশুকে হসপিটালে নিয়ে যায়। দুটো সক্ড মা সহজে সহ্য করতে পারেন নি মাকেও হসপিটালে এডমিট করা হয়।
.

অন্যদিকে আমি,শ্রেয়া আর আমার মেয়ে একটা স্টেশনে এসে নামলাম।
.
—ভাইয়া,এখন আমরা কোথায় যাব?(শ্রেয়া)

—তাই ত ভাবছি।(আমি)

—তোমার কি এখানে কেউ চেনা পরিচিত আছে?

—না।

—তাহলে এখানে কেন আসলে?

—যাতে করে আমাদের কেউ না চিনতে পারে।

—অহ।

—এখন চল।

—কোথায়?

—সামনে গিয়ে দেখি কোথাও থাকার মতো ঘর পাওয়া যায় কিনা?তারপরে ত আবার একটা চাকরিও খুঁজতে হবে।

—আচ্ছা,চল।
.
তারপর বাড়ি খুঁজতে লাগলাম।বাড়ি খুঁজতে খুঁজতে দুপুর হয়ে গেল।কিন্তুু কোথাও বাড়ি খুঁজে পেলাম না।শ্রেয়ার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে ওর ক্ষুধা পেয়েছে।
.
কিন্তুু মুখ ফুটে আমাকে বলতে পারছে না।তাই আশেপাশের একটা হোটেলে গিয়ে আমরা খেয়ে নিলাম।আমার মেয়েকে শ্রেয়া দুধ খায়িয়ে আবার ঘুম পারিয়ে রেখেছে।খাওয়া শেষ হওয়ার পর আমরা একটা বাড়ি দেখলাম যেখানে লেখা ঘর ভাড়া দেওয়া হবে।আমরা সেখানে গিয়ে বেল বাজালাম।একজন আংকেল বের হয়ে আসল।
.
—কি চাই?(আংকেল)

—আপনাদের পাশের ঘরটি ভাড়া দেওয়া হবে?(আমি)

—হ্যাঁ।

—আসলে আমরা থাকার জন্য ঘর খুঁজছিলাম।

—অহ।তা তোমরা কি স্বামী স্ত্রী?

—না।আমরা ভাই-বোন।

—তাহলে তোমাদের মা-বাবা কোথায়?আর এই মেয়েটি কার?

—আমাদের মা-বাবা বেঁচে নেই আর এই মেয়ে আমার।

—অহ।তাহলে তোমার স্ত্রী কোথায়?

—ও আমার মেয়েকে জন্ম দেওয়ার সময় মারা গেছে।আমাদের এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই তাই আমি আমার মেয়ে আর আমার বোনকে আমার সাথে নিয়ে এসেছি।

—অহ।তোমরা তাহলে কিছুসময় অপেক্ষা কর আমি ভিতরে থেকে চাবি নিয়ে আসছি।

—আচ্ছা।
.
কিছুসময় পর বাড়িওয়ালা আংকেল চাবি নিয়ে আসল।আমরা ভিতরে গিয়ে ঘর দেখে নিলাম।আমি আর শ্রেয়া মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা এখানেই থাকব।
.
ঘরটিতে দুইটা রুম ছিল।তাই আমাদের জন্য ভালই হয়েছে।আমি আর শ্রেয়া মিলে ঘর দুইটা পরিষ্কার করে নিজেদের মতো সাজিয়ে নিলাম।
.
কাজ করতে করতে রাত হয়ে গেল।মাঝে মাঝে আন্টি এসে দেখা করে গেছে।তারা বাড়িতে দুই জনেই থাকে।তাদের ছেলে পড়াশোনা করার জন্য অন্য দেশে গিয়েছে।
.
রাতের খাওয়াটা আমরা তাদের কাছেই খেলাম।পরেরদিন থেকে চাকরি খুঁজতে লাগলাম।আমার মেয়ের নাম রেখেছি অধরা।অধরাকে শ্রেয়াই সবসময় খেয়াল রাখে।
.
অন্যদিকে বাবা আর ভাইয়া সম্পূর্ণ শহর খুঁজেও আমাকে আর আমার মেয়েকে পায়নি।বাড়িতে আসার পরও তারা অনেক কান্না করল।
.
এখন মিশু অনেকটাই নিরব হয়ে গেছে।কারো সাথে তেমন কথা বলে না।সারাদিন-রাত শুধু কান্নাই করে।আর সারাক্ষণ বলে বেড়ায় সাগর দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও।
.
আমি না বুঝে একটা ভুল করে ফেলেছি।দয়া করে আমাকে এতবড় শাস্তি দিও না।আমি বাঁচতে পারব না তোমাকে ছাড়া।আমার মেয়েটাকে আমার কাছে ফিরে দাও।
.
প্রতিরাতে তোমাদের ছাড়া ঘুম আসতে আমার দম বন্ধ হয়ে আছে।আমি আর পারছি না তোমাদের ছাড়া থাকতে।মিশু প্রতিরাতে আমার ছবি দেখে এইসব বলে আর কান্না করে।
.
ঐদিকে আমি নতুন একটা চাকরি পেয়েছি।আমার বেতন ভালই।অধরার সব খেয়াল শ্রেয়াই রাখে।কারণ আমি সারাদিন অফিসে থাকি।
.
বাড়িওয়ালা আংকেল-আন্টিও অধরাকে অনেক আদর করে।চাকরি পাওয়ার কয়েক মাস পর শ্রেয়াকে আমি পাশের একটা ভার্সিটিতে ভর্তি করে দেই।
.
শ্রেয়া ভার্সিটিতে প্রথমে ভর্তি হতে চায় নেই।কিন্তুু আমি এক প্রকার জোড় করেই ভর্তি করিয়েছি।কারণ আমি চাই নেই একটা মেয়ের জীবন এইভাবেই নষ্ট হয়ে যাক।
.
দেখতে দেখতে আট বছর কেটে গেল।শ্রেয়ার সাথে বাড়িওয়ালা আংকেল-আন্টিও ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।তারা শ্রেয়ার ব্যবহার দেখেই বিয়ে করাতে চেয়েছিল।
.
শ্রেয়ার একটা ছেলে হয়েছে নাম দিপু।অধরা এখনও অনেক বড় হয়ে গেছে।অধরা এখন ক্লাস টুতে পড়ে।আমাদের দিন ভালই চলছিল হঠাৎ কি জানি হল অধরা একদিন স্কুল থেকে এসে আমাকে বলল….
.
—বাবাই,ও বাবাই।(অধরা)

—কি হয়েছে আমার ছোট পরীটার?(আমি)

—বাবাই,আমার মা কোথায়?(আমি অনেকটা অবাক হলাম।কারণ এই আট বছরে অধরা একবারও তার মার কথা জিজ্ঞাস করেনি)

—কেন?মাকে দিয়ে কি করবে?

—আমাকে মা এনে দাও।

—আমিই ত তোমার মা-বাবা।

—না না।তুমি শুধু আমার বাবা।আমাকে আমার মা এনে দাও।

—মা দিয়ে কি করবে?

—আমার সব বান্ধুবীদের তাদের মা খাবার খায়িয়ে দেয়,তাদেরকে স্কুলে নিয়ে আসে।তাদের কত আদর করে।কিন্তুু আমাকে কেউ আদর করে না।(কান্না করে)

—কে বলেছে?আমি ত তোমাকে আদর করি।তাছাড়া তোমার শ্রেয়া আন্টি ত তোমাকে কত আদর করে।

—না না।আমি জানি না।মাকে আমার কাছে এনে দাও।

—অধরা মার কি হয়েছে?(শ্রেয়া)

—দেখ না আন্টি।বাবাই আমাকে আমার মার কাছে নিয়ে যায় না।

—কেন?মা আমরা তোমার সাথে আছি ত।তাহলে তোমার মা লাগবে কেন?

—লাগবে।তুমি বুঝবে না।

—অধরা মা তুমি এখন দিপুর সাথে খেলতে যাও।তোমাকে পরে মার কাছে নিয়ে যাব।

—আচ্ছা।(অধরা চলে গেল)

—ভাইয়া,এখন কি করবে?এতদিন ত অধরা ওর মার কথা বলে নেই।আজকে আবার বলল কেন?

—স্কুলে ওর বান্ধুবীদের মা দেখে তাই।

—এখন তাহলে কি করবে?

—দেখি বাচ্চা ত ভুলে যাবে।

—আচ্ছা।
.
রাতে ঘুম আসার সময় অধরা আমার বুকে শুয়ে রয়েছে।
.
—বাবাই,তোমার মা-বাবা কোথায়?(অধরা)

—তারা আমার উপর রাগ করে দূরে চলে গেছে।(আমি)

—কেন?

—তোমার মা আমার নামে তাদের কাছে পচা পচা কথা বলেছে তাই।

—তার জন্যই কি তুমি মার উপর রাগ করে আমাকে নিয়ে এখানে চলে এসেছ?

—হ্যাঁ।

—তোমার কি তোমার মা-বাবার কথা মনে পরে না?

—হ্যাঁ,পরে।

—বাবাই,আমার মা কি অনেক খারাপ?

—না।

—আমাকে মার কাছে কবে নিয়ে যাবে।

—তাড়াতাড়িই।এখন চুপ করে ঘুমিয়ে পর।

—আচ্ছা।
.
অধরা সব সময় আমার বুকেই ঘুম আসে।আমার মেয়েটা ছোট হলে কি হবে অনেক দুষ্টু।তার সবকিছু জানতে হবে আর বুঝতে হবে।
.
তাছাড়া তার চলবেই না।অধরা আমার মতোই অনেক জেদি।আমি ভেবেছিলাম অধরা ওর মার কথা ভুলে যাবে।কিন্তুু না উল্টো দিন দিন আরও বেশি করে বলতে লাগল।
.
—শ্রেয়া,এত তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসতে বললে কেন?(আমি)

—দেখ না ভাইয়া,অধরা কেমন জেদ ধরে বসে আছে।বারবার বলছে খাবার খাবে না।(শ্রেয়া)

—আমার মামনিটার কি হয়েছে?

—তুমি আমাকে মামনি ডাকবে না।(অধরা)

—কেন?

—তুমি অনেক পঁচা।

—কেন?মামনি আমি কি করেছি?

—তুমি আমাকে আমার মার কাছে নিয়ে যাওনি।

—তুমি এখন খেয়ে নাও তারপর তোমাকে নিয়ে যাব।

—না,আমি জানি আমি খাবার খাওয়ার পর তুমি আমাকে আর নিয়ে যাবে না।

—তুমি কি সত্যিই তোমার মার কাছে যেতে চাও?

—হ্যাঁ।

—ঠিক আছে।তোমার পরীক্ষা শেষ হলে আমি তোমাকে নিয়ে যাব।কিন্তুু একমাসের বেশি থাকব না।

—আচ্ছা।প্রমিস।

—পাক্কা প্রমিস।এখন তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।

—ঠিক আছে।কিন্তুু পরীক্ষার পরে না নিয়ে গেলে আমি আর কখনও খাবার খাব না।

—আচ্ছা।এখন খাবার খাও।

—তুমি আমাকে খায়িয়ে দাও।

—তাহলে হা কর।(আমি অধরাকে খায়িয়ে দিলাম।তারপর অধরা দিপুর সাথে খেলতে চলে গেল)

—ভাইয়া,তুমি কি সত্যিই অধরাকে ওর মার কাছে নিয়ে যাবে?(শ্রেয়া)

—তুই ত জানিস অধরা আমার মতোই জেদি হয়েছে।ওকে যদি পরীক্ষার পরে না নিয়ে যাই তাহলে সত্যিই আর কিছু খাবে না।তাছাড়া কিছুদিন ধরে মা-বাবাকেও দেখতে অনেক ইচ্ছে করছে।

—কিন্তুু তুমি কি তোমার পরিবারের মানুষকে ক্ষমা করতে পারবে?

—তারা ত আমারই আপনজন তাদের উপর আর কতদিন রাগ করে থাকতে পারব।

—আর মিশু?

—ওকে আমি জীবনেও ক্ষমা করব না।তাছাড়া আমার মনে হয় না মিশু এখনও আমাদের বাড়িতে আছে।কারণ আমি আসার আগে ওকে মুক্তি দিয়ে দিয়েছিলাম।

—ঠিক আছে।তাহলে যেও।
.
দেখতে দেখতে অধরার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল।!আমিও অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিলাম।শ্রেয়াকে বিয়ে দেওয়ার আগেই বাড়িওয়ালা আংকেল-আন্টিকে সব সত্যি বলে দিয়েছিলাম।
.
তাদের বলে আমি দীর্ঘ আট বছর পর নিজের শহরে পা রাখলাম।শহরের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে।কিছু সময় পর আমাদের বাড়ির সামনে আসলাম।আমাদের বাড়িটা সেই আগের মতোই আছে।কিছুই পরিবর্তন হয় নেই।
.
—বাবাই,এইটা কি আমাদের বাড়ি?(অধরা)

—হ্যাঁ।(আমি)

—আমাকে একটু নিচে নামিয়ে দাও।

—কেন?

—আগে দাও তারপর বলছি।

—আচ্ছা।
.
আমি অধরাকে নিচে নামিয়ে দিলাম।তারপর অধরা এক দৌড়ে আমাদের বাড়ির ভিতরে চলে গেল।আমিও পিছনে পিছনে যেতে লাগলাম।অধরা বাড়ির ভিতরে গিয়ে বেল বাজাল।মা এসে দরজা খুলে দিল।
.
—কাকে চাই?(মা)

—আমার মাকে।তুমি কি আমার বাবার মা?(অধরা)

—সে এখানে থাকে কে বলেছে?

—আমার বাবা বলেছে।

—কোথায় তোমার বাবা?

—আমার পিছনে।তুমি একটু দাঁড়াও আমি আমার বাবাকে নিয়ে আসছি।

—আচ্ছা।
.
অধরা আমার কাছে দৌঁড়ে এসে আমাকে এক প্রকার টানতে টানতে মার সামনে নিয়ে গেল।মা আমাকে দেখে অনেকটা অবাক হয়েছে তার সাথে মার চোখে জলও এসে গিয়েছে।
.
—সাগর,বাবা তুই এসেছিস?জানিস বাবা তোর জন্য আমি আর তোর বাবা প্রতিদিন কান্না করি।আমি জানতাম তুই একদিন না একদিন আমার কাছে ফিরে আসবি।(মা)(কথাগুলো বলে আমাকে ধরতে আসল)

—এই এই আপনি আমাকে ধরতে এসছেন কেন?(আমি পিছনে সরে গেলাম)(হঠাৎ করেই পুরনো কথাগুলো মনে পরে গেল)

—বাবা,তুই এমন করছিস কেন?আমি তোর মা।

—আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।আপনারা ত আমাকে আজ থেকে আট বছর আগেই মেরে ফেলেছেন।

—বাবা,এখন আর পুরনো কথাগুলো বলে আমাদের কষ্ট দিস না।আমরা সব ভুলে গেছি তুইও ভুলে যা।

—আপনারা ঘটনাটা ভুলতে পারেন কিন্তুু আমি পারব না।

—বাবাই,ইনি কি তোমার মা?(অধরা)

—হ্যাঁ।(অধরাকে আমি আমার কোলে তুলে নিলাম)

—তাহলে তুমি উনার সাথে এমন করে কথা বলছ কেন?

—তুমি সেইটা বুঝবে না।

—এইটা কি তোমার মেয়ে?(ভাবী)

—হ্যাঁ।

—সাগর,আমার দাদুভাইকে একটু আমার কাছে দে।(মা)

—না।আমি ওকে কারো কাছেই দিব না।অধরা জেদ করারই আমি ওকে নিয়ে এখানে কিছুদিন থাকতে এসেছি।যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন তাহলে আমি ওকে নিয়ে এখনি চলে যাব।

—না না।তুই আবার আমাদের থেকে চলে যাস না।তুই তোর ব্যাগ নিয়ে তোর ঘরে যা।
.
আমি অধরাকে আমার কোলে নিয়ে আমার ঘরের দিকে যাচ্ছি ঠিক তখনই হঠাৎ করে দৌঁড়ে কে যেন আমার সামনে চলে আসল।
.
#দৌড়বে….

Related Posts

3 thoughts on “একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-০৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *