একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-০৬

গল্পঃ- একটু বেশিই অভিমানী 💖
পার্ট -০৬
#অদ্রিতআল মাসুদ


একটু বেশিই অভিমানী সকল পর্ব

অন্যদিকে বাবা আর ভাইয়া আমাকে আর আমার মেয়েকে সম্পূর্ণ শহর খুঁজতে লাগল।কিন্তুু আমাদের কোথাও পেল না।আমার বড় বোনকে আমাদের কথা বলার পরেরদিনই সে তার স্বামীকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে পরল।
.
একটা কথা বলা হয় নি আমার বড়বোন আমাকে সবার থেকে বেশি ভালবাসত।আমার বড়বোন আমার সাথে হওয়ার ঘটনা জানার পর মা-বাবাকে আমার সাথে এমন করতে না করেছিল।কিন্তুু তারা কেউই আমার বোনের কথা শুনেন নি।
.
—মা মা তোমরা সবাই কোথায়?(আমার বড়বোন)(এখনই আমাদের বাড়িতে আসল)

—কি হয়েছে?আর তুই কখন আসলি?

—আমি কখন এসেছি সেইটা পরে বললেও হবে।আগে বল সাগর কোথায়?

—সাগর আর সাগরের মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। (বাবা)

—পাওয়া যায় নি মানে কি?তোমরা হয়ত ঠিক মতো সাগরকে খুঁজনি।

—আমরা সবাই জায়গায় সাগরকে খুঁজেছি।(ভাইয়া)

—তাছাড়া আমরা সাগরকে খুঁজব না ত কে খুঁজবে।(বাবা)

—তোমরা সাগরের কে হও যে তোমরা সাগরকে খুঁজবে?

—আমরা কে হয় মানে?আমরা সাগরের পরিবার।সাগর আমার ছেলে। (বাবা)

—কিসের পরিবার?কিসের ছেলে?আমার ভাইকে যেইদিন পশুর মতো মেরেছিলে সেইদিন মনে ছিল না সাগর তোমার ছেলে?

—সাগর,ভুল করেছিল দেখেই আমি সাগরকে মেরেছিলাম।
—মিশু,তোমাদের সাগরের বিরুদ্ধে কি না কি বলেছে আর তোমরা ভেবে নিলে সাগর ভুল করেছে?তাছাড়া আমি বিশ্বাস করি না আমার ভাই কোন ভুল করতে পারে।

—মিশুর কথায় আমি সাগরকে মারি নি। (বাবা)

—তাহলে কেন মেরেছ?

—সেইটা তোর মার কাছেই শুন।

—অহ।তার মানে মার কথায় তুমি সাগরকে মেরেছিলে?

—হ্যাঁ।(মা)

—কিন্তুু কেন?সাগর তোমার কি এমন ক্ষতি করেছিল যার জন্য ওকে এমন ভাবে মার খাওয়ালে?

—আমার কিছু করে নি।সাগর আমাদের পরিবারের সব মানসম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। (মা)

—সাগর কি এমন করেছে যার জন্য আমাদের বাড়ির সব মানসম্মান মাটিতে মিশে গেছে।

—তাহলে শুন।
.
সেইদিন আমি,তোর ভাবী মিশুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম।মিশুর বাচ্চা সুস্থ আছে কিনা ত জানার জন্য।কিন্তুু আমি সেখানে গিয়ে যা দেখলাম ত আমি নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারি নেই।
.
আমি ভাবিও নি আমি মরার আগে আমাকে এইসবও কখনও দেখতে হবে।আমি দেখলাম সাগর একটা মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেল।
.
মেয়েটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল মেয়েটার পেটে না হলেও ছয়মাসের একটা বাচ্চা আছে।সাগরের সাথে জয়ও ছিল।মেয়েটাকে ডাক্তার দেখানো শেষ হওয়ার পর সাগর,জয় আর সেই মেয়েটা চলে গেল।তারপর আমরা একটা নার্সকে ডাক দিলাম।

. —এই যে শুনছেন।(মা)

—হ্যাঁ,বলেন।(নার্স)

—আচ্ছা ঐ যে তিনজন তারা এখানে কেন এসেছি?(আমাদের দিকে ইশারা করে)

—আপনাকে বলব কেন?তাছাড়া তাদের পরিচিত মানুষ ছাড়া এইসব কাউকে বলা যায় না।

—তারা আমাদের চেনা মানুষ।আমাদের একটু কষ্ট করে বলেন।

—তারা তাদের সাথের মেয়েটিকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিল।

—কেন মেয়েটির কি হয়েছে?

—মেয়েটির পেটে ছয়মাসের একটা সন্তান আছে।তাই তাকে দেখাতে এসেছিল সে ঠিক আছে কিনা।

—আচ্ছা,এইসব ত সাধারণত বাড়ির মেয়েরা দেখাতে আনে।কিন্তুু মেয়েটির সাথে ছেলে দুইটি এসেছে কেন?

—আমি শুনেছিলাম মেয়েটিকে যে ছেলেটি বিয়ে করেছে আর তাদের একটা সন্তান হবে এই খবর এখনও ছেলেটির বাড়ির মানুষ জানে না।তাই ছেলেটি তার একটা বন্ধুকে সাথে করে নিয়ে এসেছে।

—কিহ!!

—হ্যাঁ।

—একটা কথা বলতে পারবেন?

—কি?(নার্স)

—মেয়েটির স্বামীকে?

—ঐ যে মেয়েটির পিছে পিছে যে যাচ্ছে সেই।আচ্ছা এখন তাহলে আমি যাই।আমার কাজ আছে।

—দেখেছেন মা?আমি ত আপনাদের বলেছিলাম আপনার ছেলের কারো সাথে সম্পর্ক আছে কিন্তুু আপনারা ত আমার কথা শুনেন নি।আজকে নিজের চোখেই দেখে নিন।(মিশু)

—তাই ত দেখছি।

—মা,আমাদের মনে হয় সাগরকে এমন অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ঠিক হয় নি।(ভাবী)

—তাই ত দেখছি।আমি জীবনে ভাবতেও পারি নি সাগর এমন একটা নিচু কাজ করতে পারবে।

—এখন আমার কি হবে মা?আমি এই চরিএহীন ব্যাক্তির সাথে আর সংসার করতে পারব না। (মিশু)

—তুমি ঠিকই বলেছ।সাগর আসলেই চরিএহীনই।সাগর যে এতটা খারাপ হয়ে যাবে আমি জীবনে ভাবতে পারি নেই। (মা)

—মা,আমার এখন কি হবে?

—তুমি চিন্তা কর না।এখন আগে বাড়িতে গিয়ে তোমার বাবার(সাগরের বাবা) সাথে কথা বলে নেই।যা সিদ্ধান্ত সেই নিবে।

—আচ্ছা।

—এখন চল বাড়িতে যাই।
.
তারপর আমি বাড়িতে এসে তোর বাবাকে ফোনে জানাই।এইসব শুনার পরে তোর বাবা অনেক রেগে যায়।রাতে তোর বাবা আর ভাই একটু আগেই বাড়িতে এসে পরে।তারপরে কাহিনী ত তুই জানিসই।
.
—সাগর এমন কিছু করতে পারে আমি বিশ্বাস করি না।তোমরা সবাই আমাকে মিথ্যা বলছ।(শান্তা আপু আমার বড় বোন)

—প্রথমে আমিও বিশ্বাস করতে চাই নি।কিন্তুু নিজের চোখের সামনেই সাগরকে আর ঐ মেয়েটাকে দেখেছি তাই আর না বিশ্বাস করে পারি নি।(মা)

—তোমার দেখায় কোন ভুল আছে।আমি বিশ্বাস করি না তোমাদের।(কান্না করে)

—না রে মা আমাদের কোথাও কোন ভুল নেই।(মা)

—তুমি আমার সাথে চল।(শান্তা আপু)

—কোথায় যাবে?(সুমন।শান্তা আপুর বর)

—সাগর আর সাগরের মেয়েকে খুঁজতে।(আপু)

—এখন?(সুমন)

—হ্যাঁ,এখনই।

—আচ্ছা,চল।
.
তারপর আমার বড়বোন সেখান থেকে উঠে আমাকে খোজার জন্য দরজা দিয়ে বের হবে তখনই দরজার সামনে কাউকে দেখে আমার বড়বোন আর তার স্বামী আটকে গেল।

—আপনি কে?(শান্তা আপু)

—এই ত সে যার সাথে আমি সাগরকে অনেকদিন অনেক কফি সপে দেখেছি।(মিশু)

—সাগরের সুন্দর সংসারটা ভেঙ্গে এখন এখানে কি নিতে এসেছ?(মা)

—আন্টি,আনার কোথাও ভুল হচ্ছে।(মেয়েটি)

—কি ভুল হচ্ছে?মা ত ঠিকই বলেছে।(ভাইয়া)

—আসলে আপনারা যাকে ভাবছেন আমি সে না।(মেয়েটি)

—তাহলে তুমি কে?(বাবা)

—আমি সাগরের অফিসের CEO।(ম্যাম)

—কিহ?(মিশু)

—হ্যাঁ।

—তাহলে যে আমি সাগরের সাথে আপনাকে বিভিন্ন কফিসপে দেখেছিল সেইটা কি ভুল ছিল? (মিশু)

—না।আপনি একদম ঠিক দেখেছেন।

—সাগর আপনার সাথে কফিসপে গিয়েছিল কেন?

—আসলে গত কয়েকমাসে আমাদের অফিসের সাথে বিভিন্ন অফিসের সাথে মিটিং হয়েছে।সেই মিটিং গুলো আমরা বিভিন্ন কফিসপে করছি আর তখন হয়ত আপনি আমাদের দেখেছেন।

—তাহলে আমি সাগরকে এতদিন ধরে ভুল বুঝেছি? (মিশু)

—হয়তো।আচ্ছা,সাগর কোথায়?আর আপনাদের মেয়ে কোথায়?আজকে অফিসের কাজ থেকে একটু বিরতি পেলাম তাই আজকে দেখতে চলে আসলাম। (ম্যাম)
.
তখনই বাড়ির গেট দিয়ে জয় আর একটা মেয়ে আসল।মেয়েটির কোলে ছোট একটা বাচ্চাও আছে।
.
—জয়,তুমি এইটা কাকে সাথে করে নিয়ে এসেছ?(মা)

—কেন,আন্টি?(জয়)

—সাগরের অবৈধ বউ আর তার সন্তানকে আমাদের বাড়িতে দিতে এসেছ? (মা)

—আন্টি,আপনি এইসব কি বলছেন?

—মা,ত ঠিকই বলছে।ঐ মেয়েকে আমাদের বাড়িতে পা ও রাখতে দিব না।(মিশু)

—মিশু,তোমার কোথাও বুঝতে ভুল হচ্ছে। (জয়)

—আমার কোথাও বুঝতে ভুল হচ্ছে না।ওর জন্য আজকে সাগর আমার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছে। (মিশু)

—কি?সাগর ওর মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে? (জয়)

—হ্যাঁ।তাও আবার ওর জন্য।(মেয়েটির দিকে ইশারা করে)

—আমি কি করেছি?(মেয়েটি)

—তোমার আর সাগরের অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই আজ থেকে চার মাস আগে সাগরের বাবা সাগরকে ইচ্ছে মতো মেরেছিল আর একটু হলে সাগর মরেই যেত।(ভাবী)

—এক মিনিট,আপনার কি মাথা ঠিক আছে? (জয়ের স্ত্রী)

—মানে?

—মানে আপনি এইসব কি বলছেন সাগর ভাইয়ের সাথে আমার কিসের অবৈধ সম্পর্ক? (জয়ের স্ত্রী

—তোমার আর সাগরের কোন অবৈধ সম্পর্ক নেই?

—না। (জয়ের স্ত্রী)

—তাহলে এই সন্তানটি কার? (মা)

—এইটা ত আমার আর আমার বউ নিধির সন্তান।(জয়)(মেয়েটিকে ধরে)

—তোমার বউ নিধি মানে?

—মানে এই মেয়েটি যাকে আপনারা সাগরের অবৈধ বউ ভাবছেন সে আসলে আমার বউ। (জয়)

—কিকিকিকি?(মা অবাক হয়ে ফ্লোরে বসে পরল)

—তার মানে এই মেয়েটি তোমার বউ? (মিশু)

—হ্যাঁ।

—তাহলে সেইদিন নার্স যে বলল এইটা সাগরের বউ আর সাগরের পরিবারের কেউ জানে না যে সাগর বিয়ে করেছে আর বাচ্চাও হবে। (ভাবী)

—আন্টি,আপনাদের আবারও কোথাও ভুল হচ্ছে। (জয়)

—কিসের ভুল? (মা)

—আসলে আমি আর নিধি লুকিয়ে বিয়ে করেছিলাম।আমার পরিবারের কেউই জানত না যে আমি বিয়ে করেছি।দেখতে দেখতে নিধির পেটে সন্তানও চলে আসে।সন্তানকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মাঝে মাঝে আমি সাগরকে আমাদের সাথে নিয়ে যেতাম।কিছুদিন আগে সাগরই আমার পরিবারের সবার কাছে কথাটা বলে তাদের বুঝায় অবশেষে তারা আমাদের মেনে নেয় তাই ত আজকে সাগরের জন্য মিষ্টি নিয়ে এসেছিলাম। (জয় একদমে কথাগুলো বলল)

—তার মানে এই মেয়েটির সাথে সাগরের কোন সম্পর্ক নেই?(বাবা)

—না,আংকেল। (জয়)

—আমরা কি করে এতবড় ভুল করতে পারলাম? (বাবা)

—তোমরা ভুল কর নি।তোমরা পাপ করেছ।আমরা নিস্পাপ ভাইটা সেইদিন কত করে বলেছিল ঐ কোন দোষ করে নি।কিন্তুু তোমরা ওর কোন কথাই শুননি।পশুর মতো শুধু মেরেছিলে।সেইদিন যদি রহিম কাকা আর কাকি ওকে হাসপাতালে না নিয়ে যেত তাহলে এতদিনে সাগরের কবরে দূর্বাঘাস গজিয়ে যেত।(কান্না করে)

—তুই কি সব বলছিস।এমনিতেই আমার ছেলেটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না তার উপর মুখ দিয়ে কি অলক্ষুণে কথা বলছিস? (মা)

—আমি কিছু অলক্ষুণে বলছি না আর সাগর তোমাদের ছেলে হবে কবে থেকে?সেইদিন না বললে এমন ছেলে হওয়ার সময় মেরে ফেললেই তোমাদের জন্য ভাল হতো।তাহলে আজকে ওকে নিজেদের ছেলে হিসাবে দাবি করছ কেন? (শান্তা আপু কান্না করে)

—আমাদের ভুল হয়ে গেছে।তুই এখন আর এইসব বলিস না।কথাগুলো শুনতে অনেক কষ্ট হয়।(বাবা)(কান্না করে)

—কেন বলব না?তোমরা যখন এইসব আমার ভাইকে বলেছিলে তখন ভাবনি আমার ভাইয়ের কতটা কষ্ট হয়েছিল?আমার ভাইকে যদি আমি খুঁজে না পাই তাহলে আজকে থেকে আমিও তোমাদের আমার পরিবার হিসাবে পরিচয় দিব না।সাগর যেমন তোমাদের কাছে মৃত তেমনি আমিও মনে করব আমার কাছেও তোমরা সবাই মৃত। (শান্তা আপু)

—দুইদিন হয় নি আমরা এক ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না আর এখন তুই এইসব কি বলছিস? (মা)

—আমি ঠিকই বলছি আর সেইদিন তোমরা বলেছিলে সাগরকে আর তোমরা তোমাদের ছেলে হিসাবে পরিচয় দিবে না।তাহলে আজকে কেন তোমরা ওকে ছেলে বলে পরিচয় দিচ্ছ?সাগর তোমাদের ছেলে না।সাগর শুধু আমার ভাই।আজকে থেকে সাগর আর আমার সাথে তোমাদের সব সম্পর্ক এখানেই শেষ। (শান্তা আপু)

—মা-বাবাকে তুমি এইসব কি বলছ?এখন থাম।(সুমন ভাইয়া। শান্তা আপুর বর)

—আজকে আমি থাম না।ওদের আজকে সব শুনতে হবে। (শান্তা আপু)

—তুমি না সাগরকে খুঁজতে যাবে?তাহলে তাড়াতাড়ি চল সাগরকে খুঁজতে যাই।নাহলে আবার সাগর ওর মেয়েকে সাথে করে নিয়ে দূরে কোথাও চলে গেল আর পাব না। (সুমন ভাইয়া)

—হ্যাঁ,তুমি ঠিক বলেছ।চল তাড়াতাড়ি যাই।

—হ্যাঁ,চল।

—তোমরা একটা কথা ভাল মতো শুনে রাখ আজকে যদি আমি সাগরকে খুঁজে না পাই তাহলে আমার শুশুর বাড়ির দরজা তোমাদের সবার জন্য সারাজীবনের জন্য বন্ধ কথাটা মনে রেখ আর আমার সাথে কোন যোগাযোগও করবে না। (শান্তা আপু)

—হয়েছে এখন তাড়াতাড়ি চল। (সুমন ভাইয়া)

—আপু,আমরাও তোমাদের সাথে যাব।(জয়)

—আচ্ছা চল।

—আমি কি আপনাদের সাথে গিয়ে সাগরকে খুঁজতে পারি?(ম্যাম)

—হ্যাঁ,চলুন।
.
সবাই আমাকে খুঁজতে চলে গেল।আসলে অফিসের একজন ভাল কর্মচারী ছিলাম তাই ম্যাডামও আমাকে খুঁজতে বের হল।
.
—ওগো,তুমি আমার ছেলে আর আমার নাতনিকে আমার কাছে এনে দাও।(মা)

—বিনা দোষে আমি আমার ছেলেকে এইভাবে মারতে পারলাম?আজকে শুধু মাএ আমার দোষে আমার ছেলে বাড়ি থেকে চলে গেছে।(বাবা)(কান্না করে)

—বাবা,এখন কান্নার সময় না চল আবার সাগরকে খুঁজে আসি।(ভাইয়া)

—হ্যাঁ,হ্যাঁ।চল তাড়াতাড়ি যাই।
.
বাবা আর ভাইয়া আবার আমাকে খু্ঁজতে বেরিয়ে গেল।মা আর ভাবী বসে বসে কান্না করতে লাগল।অন্যদিকে মিশু কথাটা শুনার পর থেকে মুর্তির মতো এক জায়গায় বসেই রয়েছে।
.
ছিঃ ছিঃ কেমন করে পারলাম আমি সাগরকে এতোটা কষ্ট দিতে। নিজের মারার মত এতো জঘন্যতম সিদ্ধান্ত নিতে। এখন কোন মুখে আমি সাগরের সামনে যাব। সাগর ঠিকই বলেছে আমার মধ্যে কোনোরকম মনুষ্যত্ব নেই। না আমি আর এই জীবন রাখবো না। আমার জন্য শুধুমাত্র আমার জন্য আজ আমার সাজানো সংসার ভেঙ্গে গেছে। আজ আমি স্বামী হারা সন্তান হারা পরিবার হারা। এ জীবন রাখার কোনো মানেই নেই।

#দৌড়বে….

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *