একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-১০

 


একটু বেশিই অভিমানী সকল পর্ব

গল্পঃ- একটু বেশিই অভিমানী
পার্ট ১০ ও  শেষ
#অদ্রিতআলমাসুদ
.
নিচে নামতে নামতে দেখলাম অধরা মিশুর সাথে খেলছে আর দৌঁড়াচ্ছে।দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হঠাৎ করে অধরা সিড়ির হাতলটার সাথে ধাক্কা খেয়ে ফ্লোরের কিনারায় গিয়ে পরে।
.
তার জন্য অধরার মাথার কিছু অংশ কেটে যায়।ওদের খেলা দেখতে ভাল লাগলেও অধরার পরে যাওয়া দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গেল।
.
মিশু অধরাকে ধরে দেখতে কি হয়েছে অধরার।অধরার কান্নার শব্দ পেয়ে বাড়ির সবাই চলে এসেছে।আমি দৌঁড়ে অধরার কাছে গিয়ে মিশুকে এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে অধরাকে আমি আমার কোলে নিলাম।
.
—তোকে না বলেছিলাম তুই আমার মেয়ের কাছে আসবি না।তার পরেরও তুই আমার মেয়েকে ধরেছিস কেন?(আমি)(কিছুটা জোড়ে)

—আসলে….(মিশু)

—কি আসলে?আজকে তোর জন্য আমার মেয়ে ব্যাথা পেল।তুই আসলেই একটা রাক্ষসী।আমি বুঝে গিয়েছি তুই আমার মেয়েকে বেঁচে থাকতে দিবি না।

—তুমি ভুল বুঝছ।আমি ত অধরার সাথে শুধু একটু খেলা করছিলাম।

—তোকে আমার আমার মেয়ের সাথে খেলা করতে কে বলেছে?

—কেউ না।(মাথা নিচু করে)

—তাহলে খেলতে এসেছিস কেন?

—আমি কি আমার মেয়ের সাথে একটু খেলতেও পারব না?(অভিমানী সুরে)

—না।তুই আমার মেয়ের সাথে খেলা ত দূরের কথা তোকে যদি আমি এরপর থেকে অধরার আশেপাশেও দেখি তাহলেও আমি তোকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিবো।হয় তুই এইবাড়িতে থাকবি নাহলে আমি আর আমার মেয়ে থাকব।(মিশু আমার কথা শুনে কান্না করতে করতে রুমে চলে গেল)

—সাগর,তুই মিশুর সাথে এমনটা না করলেও পারতি।(মা)

—আমি জানি কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয়।

—তুই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আমরা যেমন তোর জন্য কান্না করেছি তার চেয়ে বেশি মিশু তোর আর মেয়েটির জন্য কান্না করত।তুই কি মিশুকে ক্ষমা করে দিতে পারিস না?

—না।

—কেন?মিশু কি এমন ভুল করেছে যার জন্য তুই ওকে ক্ষমা করতে পারবি না?(আপু)

—ঐ আমার জীবন থেকে আটটি বছর কেড়ে নিয়েছে।ওর জন্যই আমি আমার পরিবারের কাছে থেকে আটটি বছর দূরে থেকেছি।ওকে আমি কোন শাস্তি না দিয়েই ক্ষমা করে দিব?

—মিশু যে অপরাধ করেছে সেই অপরাধ ত তুইও করেছিস।

—কিভাবে?

—তুইও ত এই আটটি বছর মিশুর কাছ থেকে তার স্বামী আর মেয়েকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলি।

—কিসের মেয়ে আর কিসেরই বা স্বামী?যে স্বামী তার মেয়ের জীবন বাঁচাতে তার স্ত্রীর পা ধরে তার মেয়ের জীবন ভিক্ষা চায়।তারপর তার স্ত্রী তার কথা শুনে না সে কি কখনও কারো স্বামী হতে পারে?আর যে মেয়েকে মারতে চেয়েছিল সেই বা বড় হলে এইসব শুনলে সেই মহিলাকে ভালবাসে বলে তুমি মনে কর?আমি ত মনে করি না।

—তুই এইসব তোর মেয়েকে জানতে দিবিই বা কেন?যদি তোর মেয়ে এইসব না জানে তাহলেই ত আর কোন অসুবিধা হয় না।

—কিসে অসুবিধা হবে আর কিসে না সেইটা আমি জানি না।

—সাগর,ভাই আমার তোকে একটা কথা বলি।সম্ভব হলে আমার কথাটা রাখিস।

—কি কথা?

—মিশু যেমন দোষ করছে তুইও তেমনি একই দোষ করেছিস।আর দুই জনে শাস্তিও পেয়ে গিয়েছিস।এখন আর মিশুকে কষ্ট দিস না।মেয়েটা এমনি অনেক কষ্ট পেয়েছে।ওকে শেষবারের মত ক্ষমা করে দে। নতুন বছরে এটাই আমাদের তর কাছে শেষ চাওয়া।নতুন বছরে নতুন করে সব শুরু কর। কথাটা একটু ভেবে দেখিস।

—আচ্ছা,দেখব।
.
তারপর আমি অধরার মাথায় মলম লাগিয়ে দিলাম।আমি আর অধরা নাস্তা করে ঘুরতে চলে গেলাম।দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেল।
.
আমি অধরাকে খাবার খায়িয়ে রুমের দিকে যেতে লাগলাম।আজকে সারাদিনে আর মিশুকে আমার বা অধরার পাশে আসতে দেখি নেই।
.
হঠাৎ কি মনে করেই জানি অধরা আমাকে মিশুর রুমের পাশে নিয়ে আসল।আমিও তার সাথে আসলাম।মিশুর রুমের সামনে আসতেই দেখলাম মিশু আমার ছবি ধরে কান্না করছে আর কি জানি বলছে।
.
—বাবাই,মাম্মাম কান্না করছে কেন?(অধরা)

—মামুনি আমি ত জানি না।(আমি)

—আমি জানি।বলব?

—ঠিক আছে বল।

—সকালে তুমি মাম্মামকে বকেছ তাই মাম্মাম কান্না করছে তাই না?

—হ্যাঁ।

—বাবাই,আমি মাম্মামের কাছে যাই?

—আচ্ছা যাও।কিন্তুু তাড়াতাড়ি আমার রুমে চলে এসো।নাহলে আজকে আমার বুকে ঘুমোতে দিবোনা কিন্তু!!!

—আচ্ছা।(আমি সেখান থেকে চলে আসলাম)

—মাম্মাম।(অধরা)

—মামুনি,তুমি এখানে এসেছ কেন?তোমার বাবাই দেখলে তোমাকে আবার বকবে। (কান্না করে দিয়ে)

—বাবাই,আর কিছু বলবে না।

—কেন?

—বাবাই,আমাকে তোমার কাছে দিয়ে গিয়েছে আর বলেছে একটু পরে বাবাইয়ের কাছে দিয়ে আসতে।

—তাই? (নাঃ সাগরকে যতটা নির্দয় ভেবেছিলাম না সাগরের মনে এখনো আমার জন্য কিছুটা হলেও জায়গা আছে। তুমি চিন্তা করোনা সাগর আমি তোমার মন জয় করে ছাড়বই ছাড়ব)

—হ্যাঁ। মাম্মাম কি ভাবছো? (ধাক্কা দিয়ে)

—আচ্ছা তাহলে আসো আমার কাছে।
.
তারপর অধরা মিশুর কোলে বসে খেলা করতে লাগল।কিছু সময় পর মিশু অধরাকে কোলে নিয়ে আমার রুমে দিয়ে আসল।
.
—তোমাকে ধন্যবাদ।(মিশু)

—কেন?(আমি)

—অধরাকে আমার কাছে দিয়ে আসার জন্য।

—অধরা জেদ করেছিল তাই দিয়ে এসেছি।নাহলে আমার কোন ইচ্ছেই নেই আপনার মতো রাক্ষসীর কাছে আমার মেয়েকে দিয়ে আসতে যাব।
.
কথাটা শুনার পর মিশুর মনে হলো সে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে ।তারপর মিশু দৌঁড়ে নিজের রুমে চলে গেল।দেখতে দেখতে পনের দিন কেটে গেল।
.
প্রতিদিন সকালে আমি অধরাকে নিয়ে ঘুরতে যাই।ঐদিকে মিশু অধরাকে মায়ের ভালবাসা দিয়ে অনেকটাই নিজের করে দিয়েছে।অধরার হাসি মুখ দেখে আমিও কিছু বলি না।আজকেও অধরাকে নিয়ে আমি ঘুরতে যাব তখনই অধরা আবার আর একটা জেদ ধরে বসল।
.

গল্পঃ একটু বেশিই অভিমানী
পার্ট ১৫ (শেষ)

অদ্রিতআলমাসুদ

.
—মামুনি,চল আমরা ঘুরে আসি।(আমি)

—বাবাই,আমাদের সাথে আজকে মাম্মামও যাবে।(অধরা)

—না,তোমার মাম্মাম আমাদের সাথে যাবে না।বাড়িতে তার অনেক কাজ আছে।

—আজকে আমার বাড়িতে কোন কাজ নেই।(মিশু)

—তাহলে চল মাম্মাম।আমরা ঘুরে আসি।

—না।তোমার মাম্মাম আমাদের সাথে যাবে না।

—আজকে একটু তোমার সাথে আমিও যাই।তোমার সাথে গেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে? (বুঝছে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতে হবে)

—হ্যাঁ।

—কি ক্ষতি হবে? (করুণ সুরে)

—আপনি বাড়ি থেকে গেলে বাড়ির কাজ কে করবে?

—কেন?আমি,মা আর ভাবী আছি না?আমরা করব।(আপু)

—তোমরা বাড়ির কাজ করে কষ্ট পাবে আর ঐ আমাদের সাথে ঘুরে বেড়াবে তা হবে না।

—বাবাই,মাম্মামকেও আমাদের সাথে নিয়ে যাই না।

—না।

—আজকে একটু নিয়ে গেলে কি হবে সাগর?

—আমি একবার না করেছি না।সবসময় তুমি যা চেয়েছ তাই এনে দিয়েছি দেখে তোমার জেদও বেরে গেছে।এখন থেকে তোমাকে আর কিছুই এনে দিব না।(অনেকটা জোড়ে বললাম।যার জন্য অধরা অনেকটা ভয়ও পেয়ে গেল)

—থাক,আমি তোমাদের সাথে যাব না।তুমি আর অধরাই ঘুরে আস।তাও তুমি অধরাকে আর বকা দিয়েও না।

—বাবাই,তুমি অনেক অনেক পচা।আমি তোমার সাথে আর ফিরে যাব না।তুমি আমাকে বকেছ।তুমি অনেক পচা।আমি মাম্মামের সাথেই থাক।তোমার কাছে আর কখনই যাব না।তুমি আমাকে ভালবাসো না।আমি তোমাকে ঘৃণা করি।(অধরা কান্না করতে করতে ভিতরে চলে গেল)

—এখন আপনি খুশি হয়েছেন?(মিশুকে বললাম)

—আমি খুশি হবো কেন?

—আপনি যা চেয়েছিলেন তাই ত হল তাই আপনি খুশি হবেন না?

—আমি কি চেয়েছিলাম? (অবাক হয়ে)

—আপনি চেয়েছিলেন আমার মেয়ে যেনো আমাকে ঘৃণা করে,আমার সাথে আর ফিরে না যায় এমন কি আমাকে দুই চোখ নাই দেখতে পারে আর এখন ত সেইটাই হল।বাবা আর মেয়ের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পেরেছেন আপনি খুশি হবেন না ত কে খুশি হবে?

—সাগর,বিশ্বাস কর আমি এইসব কিছুই করতে চাইনি।

—তাহলে কি চেয়েছিলেন?এর থেকেও খারাপ কিছু করতে?

—না।আমি ত চেয়েছিলাম তোমাকে আর আমার মেয়েকে নিয়ে সবার মতো একটা সুখি সংসার করতে।

—হয়েছে হয়েছে অনেক নাটক করেছেন আর নাটক করবেন না।কিভাবে যে এত নাটক করতে পারেন আমি সেইটাই বুঝি না।

—বিশ্বাস কর আমি কোন নাটক করছি না।

—বিশ্বাস তাও আবার আপনাকে?একবার বিশ্বাস করে পরিবার হারিয়েছিলাম।তারপরও আবার বিশ্বাস করে আজকে মেয়েকেও হারালাম।

—মেয়েকে হারাবে কেন?মেয়ে ত তোমারই আছে।মেয়েটা শুধু একটু রাগ করেছে।

—আমার মেয়েকে আমি আপনার থেকে বেশি চিনি।ঐ যেরকম জেদি মেয়ে হয়ত আর কখনও আমার মুখও দেখবে না।

—না না।তুমি ওকে ভুল বুঝছ।অধরা তোমার উপর শুধু অভিমান করেছে।

—আমি কোন ভুল করছি না।কেন যে অধরাকে নিয়ে আমি এখানে আসতে গেলাম।এখানে এসে নতুন করে কিছু পেলাম না উল্টো আজকে মেয়েটাকে হারালাম।(চোখের কোণে পানি)
.
কথাটা বলে আমি বাড়ির বাহিরে চলে আসলাম।পিছনে থেকে মিশু,মা, আপু, ভাবী অনেকবার ডেকেছিল কিন্তুু আমি শুনিনি।
.
বাড়ির বাহিরে এসে ভাবতে লাগলাম আমি এখন কি করব?আমার বেঁচে থাকার জন্য যে একটি কারণ ছিল আজকে সেও বলল আমাকে সে ঘৃণা করে।
.
আমি মিশুর কি এমন ক্ষতি করেছিলাম যার জন্য মিশু এইভাবে আমার কাছে থেকে সবকিছু কেড়ে নিল?না আমি কিছু ভাবতে পারছি না।
.
দেখতে দেখতে দুপুর হয়ে গেল।বাড়ি থেকে অনেকবার ফোন দিচ্ছে তাই রাগ করে মোবাইলটিকে পানিতে ছুঁড়ে মারলাম।
.
আমার বারবার মনে হচ্ছে গাড়ির নিচে গিয়ে আত্মাহত্যা করি।কয়েকবার আত্মাহত্যা করার জন্যও গিয়েছিলাম।কিন্তুু গাড়ির সামনে গেলেই আমার অধরা মামুনির মুখটা ভেসে উঠে।
.
তাই আমি আর আত্মাহত্যা করতে পারলাম না।মনে মনে ভাবলাম আমি যদি এই শহরে থাকি তাহলে কখনও না কখনও আত্মাহত্যা করবই।
.
এর চেয়ে ভাল আমি এই শহর ছেড়ে আবার চলে যাই।যা ভেবেছিলাম সেই কাজই করলাম।আমি শহর ছেড়ে আবার শ্রেয়ার বাসায় চলে আসলাম।
.শ্রেয়াদের বাড়িতে আসতে আসতে রাত ১২:০০ টা বেজে গেল।দরজার বেল বাজাতেই শ্রেয়া দরজা খুলে আমাকে দেখে অনেকটাই অবাক হল।
.
—ভাইয়া,তুমি আজকেই এসে পরলে যে।তোমার ত আরও পনের দিন পরে আসার কথা ছিল।(শ্রেয়া)

—হ্যাঁ,ভালো লাগছিল না তাই এসে পরলাম।(আমি)

—এসে ভালই করেছ।তোমাদের ছাড়া আমারও এতদিন ভাল লাগে নেই।আচ্ছা অধরা কোথায়?ওকে ত দেখতে পাচ্ছি না।

—অধরাকে রেখে এসেছি।

—কেন?

—অধরা বলল আরও কিছুদিন পর মার সাথে থাকবে তাই ওকে রেখেই আসলাম।

—অহ।তুমি তাহলে খেতে আসল আমি খাবার দিচ্ছি।

—না রে আজকে আমি আর খাব না।

—কেন?

—ভাল লাগছে না।তুইও গিয়ে ঘুমিয়ে পর।

—আচ্ছা।

.
আমি আমার ঘরে গিয়ে শুয়ে রইলাম।আজকে বুকের উপরটা অনেক খালি খালি লাগছে।আজকে থেকে আমার বুকের উপর আমার মামুনিটা ঘুম আসবে না এইটা ভাবতেই চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।
.
অন্যদিকে এতরাত হয়ে গেছে আমি এখনো বাড়ি যাইনি আর আমার মোবাইলও বন্ধ দেখে বাড়ির সবাই অনেক চিন্তা করছে।
.
বাবা আর ভাইয়াও আমাকে খুঁজতে গিয়েছে।একটু পর বাবা আর ভাইয়া বাড়িতে ফিরে আসল।
.
—কি হল সাগরকে কোথাও খুঁজে পেলে?(মা)

—না।(বাবা)

—তাহলে কি ছেলেটা আবার আমাদের উপর অভিমান করে হারিয়ে গেল?(কথাটা বলেই মা কান্না করে দিল)

—হয়তোবা (বাবা)

—মাম্মাম,বাবাই কোথায়?আমার অনেক খিদে লেগেছে।বাবাইকে বল না আমাকে খায়িয়ে দিতে।(অধরা)

—মামুনি,তুমি আস আমি তোমাকে খায়িয়ে দিচ্ছি।

—না।আমি বাবাইকে ছাড়া খাব না।

—মামুনি জেদ করে না।আমার কাছে আস আমি তোমাকে খায়িয়ে দিচ্ছি।

—বাবাই,কি আমাকে রেখে দিপুর কাছে চলে গেছে?

—দিপু কে?

—শ্রেয়া ফুপির ছেলে।

—শ্রেয়া তোমার ফুপি হয়?

—হ্যাঁ।বল না বাবাই কোথায়?

—তুমি আগে চল তোমাকে খায়িয়ে দেই তারপর আমরা তোমার বাবাইয়ের কাছে যাব।

—না।আমি তোমার কাছে যাব না।তোমার জন্য আজকে বাবাই আমাকে বকেছে আর আমিও বাবাইকে কতকিছু বলেছি।যদি তোমার কাছে আমি না যেতাম তাহলে বাবাই আমাকে রেখে চলে যেত না।তুমি পঁচা।আমি তোমার কাছে আর কখনও যাব না।ফুপি ও ফুপি বলনা বাবাই কোথায়?আমাকে একটু বাবাইয়ের কাছে নিয়ে চল।(অধরা কান্না করতে করতে আপুর কাছে চলে গেল)

—মামুনি কান্না করে না।তোমার বাবাই তোমার সাথে খেলছে।তুমি যদি আজকে লক্ষি মেয়ের মতো খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড় তাহলে কালকে আমরা তোমার বাবাইয়ের কাছে যাব।নাহলে আর তুমি কখনই বাবাইয়ের কাছে যেতে পারবে না।

—ঠিক আছে।তাহলে চল খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

—আচ্ছা,চল।
.
আপু অধরাকে খাবার খায়িয়ে ঘুম পারিয়ে দিল।তারপর সবাই মিলে আমার লাগেজটা খুঁজে আমার ঠিকানা বের করল।পরেরদিন আমি অফিসে এসেছি কিন্তুু কাজে মন নেই।
.
মন থাকবেই কি করে আমার মনকে যে কতদূরে রেখে এসেছি।দুপুরে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে আমি অবাক হয়ে গেলাম।
.
কারণ আমার পরিবারের সবাই এইখানে এসেছে।অধরা আমাকে দেখে কান্না করতে করতে আমার কাছে আসল।আমি অধরাকে কোলে তুলে নিলাম।
.
—বাবাই,তুমি আমাকে রেখে চলে এসেছ কেন?(অধরা)

—অফিসে কাজ ছিল তাই।(আমি)

—আমি জানি তুমি আমার উপর রাগ করে চলে এসেছ।আমি আর কখনও মাম্মামের কাছে যাব না।

—কেন যাবে না?

—মাম্মামের কাছে গেলে তুমি আবার আমাকে রেখে হারিয়ে যাবে।

—অধরা তোমার আছে তোমারই থাক।আমি আর তোমাদের বাবা-মেয়ের মাঝে আসব না।শেষবারের মতো বলছি আমি কোন কিছু নিজের ইচ্ছেতে করি নেই।সবকিছু হয়েছে ছোট একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে।আমি আর তোমার অভিমান সহ্য করতে পারছি না।আমার অনেক কষ্ট হয়।আজকে যদি তুমি আমাকে ফিরিয়ে দাও তাহলে আমি আর এইজীবন রাখব না।(মিশু কান্না করে)

—সাগর,অনেক ত হল অভিমান।মেয়েটাকে এমন করে কষ্ট পেতে আমরা আর দেখতে পারছি না।এইবার অন্তত মেয়েটাকে ক্ষমা করে দে।(বাবা)

—হ্যাঁ,ভাইয়া।মিশু আপু তুমি এইবারের মতো ক্ষমা করে দাও।মিশু আপুকে ছাড়া তুমিও ত খুশি নেই।মিশু আপু যেমন তোমার ছবি নিয়ে রাতে কান্না করত তুমিও ত তেমনি মিশু আপুর জন্য প্রতিরাতে কান্না করতে।অনেক হয়েছে অভিমান এখন নাহয় ক্ষমা করে দাও।(শ্রেয়া)

—বাবাই,মাম্মাকে ক্ষমা করে দাও। (অধরা)

—ঠিক আছে।তোমরা এত করে বলছ যখন মিশুকে ক্ষমা করেই দিই।
.
অবশেষে আমার অভিমান শেষ হলো ।তারপর সবাই মিলে আমাদের বাড়িতে চলে আসলাম।মাঝে মাঝে শ্রেয়াদের বাড়িতে যাই শ্রেয়াকে দেখতে।
.
শ্রেয়াও আমাদের বাড়িতে আসে।সবকিছুই ভাল মতো হয় কিন্তুু রাতেই সব কষ্ট আমাকে একাই পেতে হয়।কারণ দুই মা-মেয়ে আমার বুকের দুই পাশে মাথা না রেখে ঘুমোতেই পারেনা।
.
তারা দুইজন প্রতিদিন রাতে আমার বুকের দুই পাশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।এইভাবেই চলছে আমাদর সুখের সংসার।
.
#সমাপ্ত
.
#বিঃদ্রঃ গল্পটি কাল্পনিক হলেও আমার অভিমানটা বাস্তব।কারণ গল্পের মতোই আমার অভিমান অনেক খারাপ।একবার যার উপর রাগ করি তার সাথে আর সহজে কথা বলি না।হয় কয়েকবছর কেটে গেলেও তারপরও আর কথা বলি না

একটু বেশিই অভিমানী সিজন ২ হবে কী???

 

Related Posts

One thought on “একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-১০

  1. ভাইয়া সিজন ২ দিলে ভাল হয়।
    Golpota Khub Balo Lalsae.
    Arokom Aro Golpo Chi.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *