একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-০৮

 


একটু বেশিই অভিমানী সকল পর্ব

গল্পঃ- একটু বেশিই অভিমানী
পার্ট ০৮
#অদ্রিতআলমাসুদ
.
সামনে তাকিয়ে দেখি মিশু দাঁড়িয়ে আছে।আমি মনে করেছিলাম ডিভোর্স পাওয়ার পর মিশু এখান থেক চলে গিয়েছে।আগে জানতে পারলে এ বাড়িতে কখনো আসতাম না ।
.
যদিও অধরাকে ওর মাকে দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছি।অধরাকে ওর মাকে দূরে থেকে দেখিয়ে নিয়ে যাব সেইটাই ভেবেছিলাম।কিন্তুু সেইটা আর হল না।
.
—বাবাই,উনি কে?(অধরা)

—তুমি যাকে দেখার জন্য জেদ ধরে এখানে এসেছ সেই উনি।(আমি)

—তার মানে উনি আমার মাম্মাম?

—হ্যাঁ।

—সাগর,এইটা আমার মেয়ে?একটু দেও আমার কোলে!! (চোখের কোণে জল।হাত দিয়ে অধরাকে নিতে চাইল)

—না।অধরাকে আপনি ধরবেন না।অধরা আপনার কেউ হয় না।অধরা শুধু আমার মেয়ে।(অধরাকে দূরে সরিয়ে নিলাম)

—সাগর,এমন কর না।আমার মেয়েকে একটু আমার কাছে দাও।

—না দিব না।

—বাবাই,আমি মাম্মমের কাছে যাই? (আবদার করে)

—না।

—কেন বাবাই?

—তুমি বলেছ তোমার মাকে দেখবে তাই আমি তোমাকে নিয়ে এসেছি।যদি তুমি তার কাছে যাও বা তার কোলে যাও তাহলে আমি তোমাকে রেখেই চলে যাব।আর কখনই আমি তোমার কাছে আসব না।

—না না।বাবাই আমি তার কোলে কখনই যাব না।

—সাগর,ওর সাথে ত অন্তত এমন কর না।আমার মেয়ে আমার কোলে আসতে চেয়েছে একটু ওকে আসতে দাও।

—কি বলছেন এইসব?আপনার মাথা কি ঠিক আছে?একজন চরিএহীনের মেয়েকে কোলে নিতো চাচ্ছেন?তাহলে ত আপনিও চরিএহীন হয়ে যাবেন।

—সাগর,দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও।আমি আর কখনই এইসব বলব না।

—কেন বলবেন না?আপনি ত ঠিকই বলেছেন।আমি ত একজন চরিএহীন তাই না?

—না না। (মিশু কান্না করে)

—আরে হ্যাঁ।এখন কষ্ট করে সরে আমাকে আমার ঘরে যেতে দেন।(আমি আমার ঘরের দিকে যেতে লাগলাম)

—ঐদিকে কোথায় যাচ্ছ?

—কেন?আমার ঘরে।

—তোমার ঘর ত উপরে।

—আমার ত মনে পরে না।উপরে ত আপনার ঘর।
.
তারপর আমি অধরাকে নিয়ে আমার ঘরে চলে আসলাম।বাপ-মেয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে আসলাম।
.
—বাবাই,আমার না খিদে লাগছে।(অধরা)

—তাই?(আমি)

—হ্যাঁ।

—তাহলে এখন আমাকে কি করতে হবে?

—এখন তুমি আমার জন্য খাবার এনে আমাকে খায়িয়ে দিবে।

—ঠিক আছে।তাহলে চল আমরা খেয়ে আসি।

—আচ্ছা চল।
.
আমি অধরাকে আবার কোলে নিয়ে বাড়ির বাহিরের দিকে হাঁটতে লাগলাম।
.
—কোথায় যাচ্ছিস?(মা)

—বাহিরে।(আমি)

—কেন?মেয়েটার না খিদে লাগছে।ওকে খাওয়াবি না?

—অধরাকে খাওয়ানোর জন্যই ত আমি বাহিরে নিয়ে যাচ্ছি।বাবা-মেয়ে মিলে ভালো একটা হোটেল দেখে সেখানে খেয়ে আসব।

—কেন?বাড়িতে ত রান্না হয়েছে।বাড়িতে খেয়ে নে।

—আমার জন্য আবার এই বাড়িতে রান্না হয় কবে থেকে?আর যে মেয়েকে তোমরা সবাই মিলে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে সেই মেয়ের জন্যও যে রান্না হয়েছে বলে আমি মনে করি না।
.
মা আর আমাকে কিছু বলতে বলতে পারল না।আমি অধরাকে নিয়ে চলে আসলাম।একটা হোটেলে গিয়ে আমরা কিছু খেয়ে তারপর জয়দের বাড়িতে গেলাম।
.
সেখানে জয়ের মেয়ে ইতির সাথে অধরা খেলা করতে লাগল আর আমি,জয় আর জয়ের স্ত্রী কথা বলতে লাগলাম।কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা হয়ে আসল।
.
তাই আমি অধরাকে নিয়ে আবার বাড়ির দিকে আসতে লাগলাম।বাড়িতে এসে বেল বাজানোর পর মিশু দরজা খুলে দিল।দরজা খুলে আমাকে দেখে মিশু কান্না করতে করতে আমাকে জড়িয়ে ধরল।
.
—এই এই আপনি কি করছেন?আপনি চরিএহীন মানুষকে জড়িয়ে ধরছেন কেন?ছাড়েন ছাড়েন।(আমি)

—তুমি অধরাকে নিয়ে কোথায় গিয়েছিলে?জানো তোমাদের জন্য আমার কত চিন্তা হচ্ছিল?(মিশু)

—বাহ আপনি ত ভালই নাটক করতে শিখে গেছেন।তা এখন কি কোন নাটক কোম্পানিতে কাজ করেন নিশ্চয়ই?? (খোঁচা মেরে)

—তোমার কাছে এইগুলো সব নাটক মনে হচ্ছে?

—তা নয় ত কি?আমি কি পাগল যে সব সত্যি মনে করব?

—ভাই,তুই কেমন আছিস?(ভাইয়া)

—ভাই কে ভাই?

—কেন?তুই।

—আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমি কারো ভাই না।

—তুই কি এখনও আমাদের ক্ষমা করতে পারস নাই?(বাবা)

—তোমরা কোন ভুল করেছ নাকি যে ক্ষমা করব?তোমাদের যা বুঝানো হয়েছ তোমরা তাই করেছ।এতে ত তোমাদর কোন দোষ নাই।

—তাহলে তুই এমন করে কথা বলছিস কেন?

—আমি যে এর থেকে ভাল করে কথা বলতে পারি না।

—মা-বাবার সাথে এমন করে কথা বলে?

—হা হা হা মা-বাবা?কিসের মা-বাবা
??? তোমরা তো আমাকে অনেক আগেই মেরে ফেলেছো? তাহলে মৃত মানুষের কাছে এসে আবার মা-বাবার অধিকার চাচ্ছো কেন?

—সাগর,এমন করে বলিস না।অনেক কষ্ট হয়।

—আমারও সেইদিন অনেক কষ্ট হয়েছিল।সেইদিন বারবার করে বলার পরেও তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করনি। আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য বেঁচে ছিলাম। এই পৃথিবীতে একমাত্র অধরা ছাড়া আমার কেউ নেই। কেউ নেই। (কান্না সুরে)

—সাগর,ভাই আমার তুই এসেছিস?(শান্তা আপু)(পিছনে থেকে বড়বোন বলল)

—হ্যাঁ।কেমন আছো?(আমি)

—ভালো।তুই?

—আমিও ভাল আছি।

—এইটা তোর মেয়ে?
(অধরার দিকে ইশারা করে)

—হ্যাঁ।

—কি নাম রেখেছিস?

—অধরা।

—বাবাই,উনি কে?

—উনি তোমার ফুপি।

—উনিও কি আমাকে শ্রেয়া মাম্মামের মতো আদর করবে?(অধরা শ্রেয়াকে মা বলেই ডাকে।কারণ শ্রেয়াই ছোট থেকে অধরাকে বড় করেছে।)

—হ্যাঁ,মামুনি।

—তাই আমি উনার কোলে যাই?

—আচ্ছা যাও।

—তুই কি আবার নতুন করে বিয়ে করেছিস?(মা)

—কেন?বিয়ে করলে সমস্যা আছে নাকি?

—তাহলে এই মেয়েটার কি হবে?(মিশুকে দেখিয়ে)

—আমি কি জানি।😏😏

—বাড়িতে তোর বউ তুই আবার বিয়ে করেছিস কেন? (মা রেগে গিয়ে)

—বউ কে বউ?😅😅

—কে বউ মানে? মিশু তোর বউ।

—আমি ত ওকে ডির্ভাস দিয়েই গিয়েছি।তাহলে ঐ আবার আমার বউ হলো কি করে?😪

—আমি ত ডির্ভাস পেপারে সাইন করি নেই।

—আপনি সাইন না করলে আমি করব?আমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে একটা কেন দরকার হলে আরও কয়েকটা বিয়ে করতে পারি।

—তাহলে তুমি সেইদিন অধরাকে নিয়ে চলে গিয়েছিলে কেন?

—নিয়ে যাব না ত কি করব?আমি বসে বসে নিজের নিষ্পাপ মেয়েকে আপনার হাতে মরতে দেখতাম?

—আমি আমার মেয়েকে মারব কেন? (মিশু কান্না সুরে)

—এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন?অধরাকে মারার জন্য জন্মের আগেই অ্যাবরশন করতে গিয়েছিলেন।আমি আপনার পা ধরেও সেইদিন আটকাতে পারি নাই।আর যখন অ্যাবরশনটা হলো না তখন নিজেকে ফাঁসি দিতেও আপনি পা পিছু হননি। এখন কিসের দাবি নিয়ে এসেছেন হুম।

—আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না?

—জীবিত মানুষের থেকে ক্ষমা নেয়া যায় মিস মিশু।
আমি আর বেঁচে নেই, সেদিনি মরে গেছি যখন আপনার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে আপনি আমাকে পরিবারের সকলের কাছে দোষী বানিয়েছেন। আমি জীবিত থাকতে অন্তত আপনাকে ক্ষমা করব না।আপনি আমার নামে মিথ্যা বলে আমার কাছে থেকে আমার পরিবারকে কেড়ে নিয়েছেন।এমনি নিজের বাবার হাতে পশুর মতো মার খায়িয়েছেন। এতো সহজে কি করে ক্ষমা করি বলুনতো??

—আমি কিছু করিনি।সব হয়েছে একটা ছোট ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে।

—আমি কিছু শুনতে চাই না।

—দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও। (কান্না করে)

—দয়া?কিসের দয়া?আপনার কাছে নিজের সন্তান বাঁচানোর জন্য আপনার পায়ে অবধি ধরেছি। যে ধর্মে “স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত” সেই বেহেশত আপনার পায়ের কাছে তবুও আপনার মনে বিন্দু মাত্র দয়া হয়নি। কতো করে বলেছি আমি নির্দোষ আমি নির্দোষ তবুও আপনারা কেউই(সবাইকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে) আপনারা আমাকে বুঝতে আসেননি। এখন আসছেন আমার থেকে দয়া চাইতে। (কিছুক্ষণ নিরবতা) অবশ্য আপনাকে ক্ষমা করতে পারি যদি আপনি আমার একটা কাজ করতে পারেন।

—কিকিকি কাজ? (কাঁপা কণ্ঠে)

—আমার আর আমার মেয়ের জীবনের হারিয়ে যাওয়া আটটি বছর ফিরিয়ে দেন।তাহলেই আমি আপনাকে ক্ষমা করে নিজের করে নিব।

—সেইটা দেওয়া আমার কেন?কারে পক্ষেই সম্ভব না।

—তাহলে আর কখনই আমার সামনে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নিয়ে আসবেন না আর হ্যাঁ আমার আর আমার মেয়ের কাছে থেকে দূরে থাকবেন।নাহলে আমি একমাস থাকার জন্য এসেছিলাম তা না করে কালকেই চলে যাব।
.
কথাটা বলেই আমি অধরাকে কোলে নিয়ে আমার ঘর চলে আসলাম।আমার পিছনে পিছনে শান্তা আপু ও সুমন ভাইয়াও চলে আসল।
.
#দৌড়বে…..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *