এক্স বেষ্ট ফ্রেন্ড! Romantic valobasar Golpo

এক্স বেষ্ট ফ্রেন্ড
সম্পূর্ণ গল্প

লেখকঃJoy Khan

আজ প্রায় দুই বছর পর বাসায় আসছি। আর আসার সময় গলির কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত একজনকে দেখেছি যার সাথে দেখা হওয়ার কথা ছিল না।
আসার সময় সেই চিরচেনা মুখটা দেখেছি যার সাথে একদিন দেখা না হলে আমার ভাল লাগত না। আমি অবশ্য ওকে দেখে কিছুটা চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওকে দেখে আমি বুঝতে পারি নি ও চমকেছে কি না। কারন মানুষটাকে এখন অনেক অপরিচিত মনে হয়।
যাইহোক আমি জয় বাবা মায়ের আদরের ছেলে। আর যার কথা বলছিলাম ও নিলীমা। আমি দুবছর আগে পড়াশুনা শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আর নিলীমা কি করছে তা আমি জানি না। তবে ও আমার সাথেই অনার্স কমপ্লিট করেছে। আর এতদিনে ওর বিয়েও হয়ে যাওয়ার কথা। কারন গত বছর শুনেছিলাম ওর জন্য নাকি পাত্র খোঁজা হচ্ছে।
আসলে আপনারা ভাবছেন এই নিলীমাটা কে। এটা ভাববারই কথা। কারন কোন কিছু ভালভাবে না জানলে এই বিষয়টাকে আর তেমন ভাল লাগে না।
নিলীমা হলো আমার এক্স বেষ্ট ফ্রেন্ড। বিষয়টা হাস্যকর। কিন্তু ও আসলেই আমার এক্স বেষ্ট ফ্রেন্ড।
আর ও যে আমার এক্স বেষ্ট ফ্রেন্ড এর পিছনেও একটা কারন আছে। এই পৃথিবীতে কারন ছারা কোন কিছুই হয় না।
ছোট্ট একটা কারনে ওর সাথে আমার এই সম্পর্কটা ভেঙে যায়। আমি আজও বুঝতে পারি না আমি সেদিন এরকম কেন আচরণ করেছিলাম।
যখনি একথা ভাবছিলাম তখন দেখলাম আমি কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আমার বাড়ী অতিক্রম করে ফেলছি। আসলে ভাবনা এরকম একটা জিনিস যা আপনাকে বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে।
তারপর আমি এই চিন্তা মাথাথেকে ঝেড়ে বাসায় ঢুকলাম। আমাকে দেখে আম্মু দৌড়ে আমার কাছে আসল আর আমি আম্মুকে দেখে জড়িয়ে ধরলাম।
আমিঃ কেমন আছ আম্মু?
আম্মুঃ তোকে ছারা কি আমি ভাল থাকতে পারি বল।
আমিঃহুম।
আম্মুঃ তা তুই কেমন আছিস?
আমিঃ আল্লাহর রহমতে আর তোমাদের দোয়ার আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।
আমিঃ আব্বু কই?
আম্মুঃ এই সময় তোর আব্বু কই থাকে তা তুই জানিস না।
আমিঃ হুম। আচ্ছা ভিতরে চল।
তারপর আম্মুর সাথে কথা বার্তা বলে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে আমার চিরচেনা সেই রুমটায় প্রবেশ করলাম বিশ্রাম নেওয়ার জন্য।
রুমে ঢুকে শুয়ে আছি আর এপাশ ওপাশ করছি কিন্তু ঘুম আসছে না। তাই একটু চোখ বুজলাম আর ঠিক তখনি আগের কথা গুলো মনে পরে গেল।
আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে আমার আর নিলীমার মাঝে ভাল একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এই আড়াই বছর ধরে আমাদের এই ভাল সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেছে।
নিলীমা আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড ছিল। সেই ক্লাস ওয়ান থেকে আমরা একসাথে লেখাপড়া করছি। আর যতই দিন পার হয়েছে আমাদের সম্পর্ক ততততই গভীর হয়েছে। কলেজ লাইফ ভার্সিটি লাইফ আমরা একসাথেই কাটিয়েছি। কিন্তু ভার্সিটি লাইফের শেষের দিকে আমারদের সম্পর্কটা একদম ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
নিলীমার সাথে যতদিন আমার সম্পর্ক ছিল ততদিন আমি কোন গার্লফ্রেন্ডের প্রয়োজন বোধ করিনি। কারন ও সবসময় আমাকে গার্লফ্রেন্ডের মতোই সাপোর্ট করতো।
রাত জেগে কথা বলা। ক্লাস পালিয়ে ঘুরতে যাওয়া সবকিছুই নিলীমা আমার সাথে করত। কিন্তু ও আমার গার্লফ্রেন্ড ছিল না। আর আমরা একজন আরেকজনকে ওরকম মনেও করতাম না কারন আমাদের সম্পর্কটা অন্যান্য সম্পর্কের চেয়ে ভিন্ন ছিলো।
তবে এটা সত্যি যে ওকে কোন ছেলের সাথে মিশতে দেখলে আমার ভাল লাগত না আবার আমাকে কোন মেয়ের সাথে মিশতে দেখলে ওর ভাল লাগত না।
এরমধ্যে একদিন আমি আমাদের নিচের ক্লাশের কিছু মেয়েদের সাথে কথা বলছি তখনি দেখলাম নিলীমা রেগেমেগে আমার দিকে আসছে। আর ও আমার কাছে এসে বলল
নিলীমাঃ কি করছিস তুই এখানে?
আমিঃ কথা বলছি।
নিলীমাঃ তা তো আমিও দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তুই ওদের সাথে কথা বলছিস কেন?
আমিঃ আমার ইচ্ছা (ওকে রাগানোর জন্য)
নিলীমাঃ তোর ইচ্ছা মানে তোকে না বলেছি কোন মেয়ের সাথে কথা বলবি না(রেগে)
আমিঃ আমি তোর কথা শুনব কেন?
নিলীমাঃ শুনবি না মানে?
আমিঃ তুই কি আমার গার্লফ্রেন্ড লাগিস যে তোর কথা আমার শুনতে হবে।
নিলীমাঃ কি বললি তুই তুই আমার কথা শুনবি না।
আমিঃ না শুনব না(মনে মনে হেসে)
নিলীমাঃ আচ্ছা ঠিক আছে থাক তুই।
একথা বলে নিলীমা চলে গেল আর পিছনে তাকালো না।
আমি ওর কান্ড দেখে মনে মনে হাসছি। এর কিছুক্ষণ পরে আমি নিলীমাকে খুজছিলাম কিন্তু কোথাও ওকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর আমি আমাদের ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি নিলীমা আকাশের সাথে কথা বলছে তাও আবার হেসে হেসে। তাই আমি ওদের সামনে গিয়ে বললাম
আমিঃ নিলীমা এটা কি হচ্ছে।
নিলীমাঃ কোথায় কি হচ্ছে?
আমিঃ তুই ওর সাথে কথা বলছিস কেন?
নিলীমাঃ আমার ইচ্ছা।
আমিঃ তোর ইচ্ছা মানে?
নিলীমাঃ আমার ইচ্ছা মানে আমার ইচ্ছা। আর তোকে তার কৈফিয়ত দিতে পারব না।
আমিঃ তুই কি আমার সাথে মজা করছিস?
নিলীমাঃ না আমি তোর সাথে মজা করব কেন?
আমিঃ তাহলে? ও তুই তখনকার প্রতিশোধ নিচ্ছিস।
নিলীমাঃ না আমি তোর থেকে প্রতিশোধ নিতে যাব কেন।
আমিঃ হয়েছে এবার নাটক বন্ধ কর বাসায় যাব।
নিলীমাঃ তুই বাসায় যাবি না অন্য কোথাও যাবি সেটা তোর ব্যাপার। আমাকে বলছিস কেন?
আমিঃ দেখ নিলীমা ফাইজলামি ভাল লাগে না চল তো
নিলীমাঃ তোর যেতে মন চাইলে তুই যা আমাকে টানছিস কেন?
আমিঃ তাহলে আমি কি একা বাসায় যাব?
নিলীমাঃ তোর ইচ্ছা।
তারপর আমি নিলীমাকে কিছু না বলে বাসার দিকে রওয়না দিলাম।
আমি মনে করেছি ওর সাথে তখন আমি এমন করার ও আমার সাথে এমন করল। তাই আমি এই কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললাম। কিন্তু কে জানত নিলীমা ঐ কথাগুলো সিরিয়াসলি নিবে।
পরদিন ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য আমি নিলীমাকে ফোন দিলাম কিন্তু ওর ফোন বন্ধ পাচ্ছিলাম। তাই আমি তারাতারি করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।
ক্যাম্পাসে গিয়ে আমি ভিন্নরকম চিত্র দেখলাম। নিলীমা আজও আকাশের সাথে কথা বলছে। এবার আমার মেজাজটা এমনিতেই খারাপ হয়ে গেল। কারন নিলীমাকে অন্য কোন ছেলের সাথে দেখলে সহ্য করতে পারি না।
তাই আমি সরাসরি নিলীমার কাছে গিয়ে ওকে বললাম
আমিঃ এগুলা কি হচ্ছে নিলীমা?
নিলীমাঃ কই কি হচ্ছে (অবাক হয়ে)
আমিঃ তুই আমাকে রেখে চলে এসেছিস আর তাছারা তোর ফোনও বন্ধ। তার উপর আবার আকাশের সাথে এখানে কথা বলছিস।
নিলীমাঃ আমার ইচ্ছা।
আমিঃ তুই হঠাৎ এমন করছিস কেন?
নিলীমাঃ তুইকি আমার বয়ফ্রেন্ড লাগিস যে তোকে আমার সবকিছু বলতে হবে(রেগে)
আমিঃ এগুলা কেমন কথা। আর তাছারা কাল তো আমি তোরসাথে দুষ্টামি করেছিলাম।
নিলীমাঃ তুই দুষ্টামি করলেই কি আর না করলেই কি
আমিঃ নিলীমা তুই হঠাৎ এমন করছিস কেন?
নিলীমাঃ দেখ বেষ্ট ফ্রেন্ড আছিস বেষ্ট ফ্রেন্ডই থাক এর চেয়ে বেশি কিছু হওয়ার আশা করিস না।
আমিঃ আমি আবার কখন কি করলাম?
নিলীমাঃ কিছুই করিস নি যা এখান থেকে। তোর সাথে এখন আমার আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
নিলীমার কথা শুনে আমার খুব খারাপ লাগল তাই আমি ওর সামনে না থেকে ক্লাসে চলে গেলাম।
তারপর বেশ কিছুদিন নিলীমা আমাকে এভয়েড করতে লাগল। আর ও আকাশের সাথে একটু বেশি মিশতে লাগল। আর ওর এরকম আচরনে আমি বুঝে নিয়েছি ও কি চাইছে। আর তারপর থেকেই আমাদের সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরেছিল। আর সম্পর্কে ফাটল ধরলে দুরত্ব অনেক বেড়ে যায়। যার কারনে নিলীমার সাথে আমার কথা বলাই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ও আমার সাথে আর কথা বলতে আসে নি আর আমিও ওর সাথে নিজ থেকে কথা বলতে যাই নি। হয়তো আমার ভিতর ওর জন্য একটা রাগ ছিল যার কারনে সম্পর্কটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
এভাবে চলতে চলতে আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছিল আর পরীক্ষার পর ঢাকায় চলে আসি আর রেজাল্ট পাওয়ার পর চাকরিতে লেগে যাই যার কারনে ওর সাথে কথা বলার সুজোগ আর মিলেনি। কিন্তু এর মাঝে এটা বুঝতে পেরেছি যে নিলীমা আমার অনেকটা জুড়ে আছে। আমি ওকে অনেক ভালবাসি।

যখন শুয়ে শুয়ে এই কথাগুলো ভাবছিলাম তখন আম্মু আমার রুমে আসল আর এসে বলল
আম্মুঃ সেই দুপুরে এসেছিস যা একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে আয়।
আম্মুর কথায় আমি বাস্তবতায় ফিরলাম তারপর ফ্রেশ হয়ে এলাকায় বের হলাম। কতদিন পর এলাকায় বের হলাম।
এলাকায় বের হওয়ার পর ছোটভাই বড়ভাই বন্ধু সবার সাথে দেখা হলো। তারপর আমি রিয়াদের সাথে কালাম মামার চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে বসলাম।
রিয়াদের সাথে কথা বলে আমি এটা বুঝলাম যে আমি চাকরির জন্য যাওয়ার পর আকাশের সাথে নিলীমার ভাল একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে ওঠে। ওরা প্রায়ই একসাথে আড্ডা দিত। আর তাছারা ওদের আড্ডায় আকাশের আর ফ্রেন্ডরাও থাকত। আর আকাশ নাকি নিলীমার অজান্তে ওর ফ্রেন্ডদের বলত নিলীমা নাকি ওর গার্লফ্রেন্ড।
একদিন নিলীমা এটা জেনে যায় আর তারপর থেকে ও আকাশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।
আজ বাসায় এসেছি তিনদিন হয়েছে। এই তিনটা দিন ভালোই কেটেছে তবে প্রত্যেকটা মিনিটে মিনিটে নিলীমাকে মিস করেছি। কারন আগেতো আমরা একজনকে ছাড়া অন্যজন থাকতে পারতাম না। আমাদের ভার্সিটি অফ থাকলেও আমরা দেখা করতাম আর ঘুরতে বের হতাম।
আজকে রাতে শিরোনামহীন এর একা পাখি গানটা শুনছিলাম আর ফেসবুকিং করছিলাম ঠিক তখনি একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট আসল। রিকুয়েষ্ট আসা আইডিটার নাম হলো অভিমানী। এখন এটা ছেলের আইডি না মেয়ের আইডি তা দেখার জন্য আমি তার এবাউট এ ঢুকলাম দেখলাম একটা মেয়ের আইডি।
আমি আবার পরিচিত ছারা কোন মেয়েকে ফ্রেন্ড করি না। তাই আমি তাকে মেসেজ দিলাম
আমিঃ আপনি কি আমাকে চিনেন?
সাথে সাথে ঐ আইডি থেকে রিপ্লে আসল হুম চিনি।
আমিঃ কে আপনি?
সেঃ বলব না।
আমিঃ তাহলে আপনি আমাকে চিনেন না।
সেঃ আপনি জয়। বাসা….. জায়গায়।….. ভার্সিটি থেকে পাস করেছেন আর বর্তমানে জব করছেন।
আমিঃ আপনি এতকিছু জানলেন কিভাবে।
সেঃ বলব না।
আমিঃ আচ্ছা বলব না আপু আমি এখন ঘুমাব পরে কথা বলব।
সেঃ ঐ আমি আপনার কোন কালের আপু হই আর বলব না মানে?(রেগে)
আমিঃ কথায় কথায় বলব না বলছেন তো তাই আপনি বলব না। আর আপনি আমার আপু হন না তো কি হন?
সেঃ আস্তে আস্তে জানতে পারবে। হি হি হি।
আমিঃ আচ্ছা বায়।
তারপর আমি ডাটা অফ করে অফলাইনে চলে আসলাম।
আমি ভাবছি এই আইডিটা কার। আমার সম্পর্কে কতকিছু জানে। আমার কোন ফ্রেন্ড নয় তো। যাই হোক আমার কি।
তাই আমি আর কোন চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পরলাম।
এভাবে বেশ কিছুদিন চলে গেল। এখন প্রতিদিন ঐ আইডিটা থেকে মেসেজ আসে। রিপ্লে না দেওয়া সত্বেও দিতে হয় কারন মেয়ে মানুষ না দিলে ভাববে ভাব দেখাই। আর এটা যে একটা মেয়ের আইডি তা ও শিওর হয়েছি কেননা মেয়েটা অডিও কলে কথাও বলেছে। তবে আজকাল বিশ্বাস নেই ছেলেরাও মেয়েদের গলায় কথা বলতে পারে।
মেয়েটার সাথে আমার কথা বলতে ভালই লাগে। কারন ও অনেকটা নিলীমার মত কথা বলে। আমি অনেকবার চিন্তা করেছি ও হয়তো নিলীমা কিন্তু পরে চিন্তা করলাম নিলীমা চাইলে তো আমার সাথে সরাসরিই কথা বলতে পারে। এভাবে লুকোচুরির মাধ্যমে নয়। তাই নিলীমার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেই।
আজকে সকালে আমি আম্মু আব্বু একসাথে ব্রেকফাস্ট করছি তখন আব্বু বলল
আব্বুঃ জয় তোমার জন্য আমরা মেয়ে পছন্দ করে রেখেছি।
আমিঃ মানে?
আব্বুঃ মানে তোমার বিয়ের জন্য আমি আর তোমার আম্মু পাত্রী ঠিক করে রেখেছি।
আমিঃ কবে?
আম্মুঃ আর আগেই।
আমিঃ কিন্তু আমাকে জানাওনি কেন?
আব্বুঃ এখনতো জানালাম।
আমিঃ এটা কেমন কথা। আমার সাথে কার বিয়ে হবে তাকে আমার দেখতে হবে না। তার সম্পর্কে জানতে হবে না।
আম্মুঃ মেয়েকে তুই চিনিস।
আমিঃ মানে?
আব্বুঃ মানে টানে কিছু না। তুই বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নে।
আব্বুর কথা শুনে আমি কিছু না বলে উঠে রুমে চলে আসলাম। আমার জন্য মেয়ে ঠিক করে রেখেছে অথচ আমাকেই জানানোর প্রয়োজন মনে করল না। তারমধ্যে এই নিলীমাকে ভালবাসি এখন কিভাবে কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।
রাতে ফেসবুকিং করছি এমন সময় ঐ আইডি থেকে মেসেজ আসল।
কিন্তু আমি কোন রিপ্লে দিলাম না। তারপর আবার আসল এবারও দিলাম না। এবার একটা মেসেজ আসল মেসেজটা ঠিক এই রকম
সেঃ কি হয়েছে রিপ্লে দিচ্ছ না কেন? মন খারাপ। কি হয়েছে আমাকে বলতে পার?
তার মেসেজ দেখে আমি বললাম
আমিঃ না কিছু না।
সেঃ কি হয়েছে বল প্লিজ।
আমিঃ তেমন কিছুই না।
সেঃ তাহলে রিপ্লাই দিচ্ছ না কেন?
আমিঃ এমনি একটু টেনশনে আছি।
সেঃ কি জন্য
আমিঃ আব্বু বলল তারা নাকি আমার জন্য পাত্রী ঠিক করে রেখেছে।
সেঃ এজন্য মন খারাপ। সমস্যা নেই আমি আঙ্কেলকে বলব যে তুমি আমাকে ভালবাস তাই ঐ মেয়েকে তুমি বিয়ে করতে চাও না।
আমিঃ আসলে সেরকমটা নয়।
সেঃ তাহলে?
আমিঃ আসলে আমি নিলীমাকে ভালবাসি। আর এর মধ্যে আব্বু আম্মু নাকি মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে।
সেঃ এই নিলীমাটা কে?
আমিঃ আমার এক্স বেষ্টফ্রেন্ড।
সেঃ এক্স বেষ্টফ্রেন্ড মানে?
তারপর আমি ওকে সব কিছু বললাম। আমার কথা শুনে ও বলল
সেঃ তাহলে আমার কি হবে?
আমিঃ তোমার কি হবে মানে?
সেঃ তুমি যেমন নিলীমাকে ভালবাসো তেমন আমিওতো তোমাকে ভালবাসি।
আমিঃ মানে?
সেঃ আমি তোমাকে ভালবাসি।
আমিঃ আমি কি কখনো বলেছি আমি তোমাকে ভালবাসি?
সেঃ না
আমিঃ তাহলে?
সেঃ তাহলে তুমি আমার সাথে এত কথা বলতে কেন?
আমিঃ কথা বললেই কি ভালবাসা হয়ে যায়।
সেঃ যাও তোমার সাথে কথাই নেই।
একথা বলে সে অফলাইনে চলে গেল। আমি কিছু লিখেও লিখলাম না। আর এটা বুঝতে পারলাম মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে।
পরদিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রুমে শুয়ে শুয়ে মোবাইলে গেমস খেলছি এমন সময় আমার রুমে কে যেন ঢুকল। তাই আমি সামনে তাকিয়ে দেখি খুব পরিচিত এক মানবী আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও আমার কলার ধরে ফেললো। ওর কলার ধরা দেখে আমি দাড়িয়ে গেলাম আর দাড়ানো মাত্রই ও আমাকে জড়িয়ে ধরল। আর খুব শক্ত করেই ধরল যেন আমি কোথাও পালিয়ে যাব।
একটুপর ও জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। এখন আমার কি করা উচিত আমি তা ও জানি না। আমি শুধু বিস্মিত হয়ে দাড়িয়েই আছি।
একটুপর নিলীমা আমাকে বলতে লাগল
নিলীমাঃ আমাকে ভালবাসিস কখনও বলিস নি কেন?(ভাঙা গলায়)
আমিঃ কে বলল আমি তোকে ভালবাসি?
নিলীমাঃ আমি বলেছি।
আমিঃ তুই বললেই হলো আমি তোকে ভালবাসি না।
নিলীমাঃ সত্যিই ভালবাসিস না।
আমিঃ না।
আমার কথা শুনে নিলীমা এক ঝটকায় আমাকে দুরে সরিয়ে দিয়ে ওর মোবাইলে কি যেন বের করতে লাগল।
ও বের করে আমার মুখের দিকে এনে বলল
নিলীমাঃ তাহলে এটা কি?
আমি ওর মোবাইলের দিকে তাকিয়েতো পুরাই অবাক হয়ে গেলাম।
কারন আমার আইডি থেকে লেখা আমি নিলীমাকে ভালবাসি। কিন্তু আমি তো ওকে একথা বলি নি। আর ওকে বললেওতো এই কথা বলব না যে আমি নিলীমাকে ভালবাসি। বলতাম আমি তোকে ভালবাসি।
সামথিং ইস রং। আর তাছারা আমি তো অন্য কাউকেও এই কথা বলি নি। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। হঠাৎই আমার মনে পরল আমি অভিমানী নামে এক আইডির সাথে চ্যাটিং করতাম। তার মানে কি ঐ আইডিটা ওর ছিল।
আমি যখন এসব ভাবছিলাম তখন নিলীমা আমার কলার ধরে বলল
নিলীমাঃ বল এগুলা কি?
আমিঃ তার মানে এই আইডিটা তোর ছিল?
নিলীমাঃ হুম আমার ছিল।
আমিঃ চিটিং।
নিলীমাঃ চুপ কোন কথা বলবি না এমনিতেই অনেক কাদিয়েছিস।
আমিঃ আমি আবার তোকে কখন কাদালাম?
নিলীমাঃ কাদাস নি। আজ কত বছর ধরে তুই আমার সাথে কথা বলিস না।
আমিঃ ওটা তো তোর কারনেই হয়েছিল।
নিলীমাঃ আমার কারনে মানে?
আমিঃ তুইতো আমাকে এভয়েড করেছিলি। আমি কতবার গিয়েছিলাম তোর কাছে।
নিলীমাঃ আমি তো তোর উপর তখন রাগ করে ছিলাম। আর তারপর তুই কি করেছিস
আমিঃ আমি আর কি করব তোকে আকাশের সাথে দেখে আমার সহ্য হয়নি তাই আমিও তোকে এভয়েড করেছিলাম।
নিলীমাঃ কেন আমার প্রতি কি তোর কোন অধিকার ছিল না? তুই আমার উপর অধিকার খাটাত পারতি না।
আমিঃ তখন কি আর অধিকার এর কথা মনে ছিল।
নিলীমাঃ এখন আর কোন কথা বলবি না চুপচাপ আমাকে তো বুকে জড়িয়ে নে।
আমিঃ জড়িয়ে তো নেবই তার আগে বল তুই আমাকে কবে থেকে ভালবাসিস।
নিলীমাঃ এখনও বাসি না আগে এই তুই বলা বন্ধ কর তাহলে ভাবব।
আমিঃ তাই।
নিলীমাঃ হুম।
তারপর আমি নিলীমাকে আমার বুকে জড়িয়ে নিলাম। আর নিলীমা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আর বলল
নিলীমাঃ অনেক ভালবাসি তোমাকে।
আমিঃ আমিও
নিলীমাঃ কখনও আর ভুল বুঝে ছেড়ে চলে যাবে না তো?
আমিঃ আর কখনও না(শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)
এর কিছুক্ষণ পর আমরা আমার রুম থেকে বের হতেই দেখলাম আম্মু। আর আম্মু নিলীমাকে দেখেই বলল
আম্মুঃ কেমন আছ বউমা?
নিলীমাঃ ভাল। তুমি কেমন আছ?
আমিঃ কে বউমা?(অবাক হয়ে)
আম্মুঃ কেন নিলীমা।
আমিঃ মানে?
আম্মুঃ মানে হলো আমরা নিলীমার সাথেই তোর বিয়ে ঠিক করেছি।
আমিঃ কি এখানেও চিট। তা এটা কিভাবে কি হলো?
আম্মুঃ তা বউমার থেকেই জেনে নে।
একথা বলে আম্মু হাসতে হাসতে চলে গেল।
আর আমি নিলীমার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তারপর আমরা দুজন ছাদে এসে আড্ডা দিতে লাগলাম আর জমে থাকা কথাগুলো একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করতে লাগলাম।
নিলীমার কথা শুনে এটা বুঝতে পারলাম যে নিলীমার জন্য যখন পাত্র পক্ষ আসছিল তখন নিলীমা আম্মু আব্বুর কাছে এসে বলেছে ও আমাকে ভালবাসে। আর আমি নাকি ওর উপর খুব রাগ করে আছি। ও আব্বু আম্মুকে আমার আর ওর সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বলেছে। তারপর তারা বুঝতে পেরে নিলীমার বাবার কাছে প্রস্তাব পাঠায়। নিলীমা রাজি থাকায় তারাও আর আপত্তি করে নি।

সমাপ্ত।

অধিকার সবার উপর খাটানো যায় না। যার প্রতি আপনি অধিকার খাটাতে পারবেন তার উপর সবসময় অধিকার খাটান তা না হলে আপনার ভালাবাসা কখনোই পূর্ণতা পাবে না।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *