কপিরাইট কি? কপিরাইট ক্লেইম কি? ইউটিউবার দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট!

শুধু মিউজিক না, যেকোন কন্টেন্ট কপিরাইটের ব্যাপারটা বলি। স্টেপ বাই স্টেপ বলছি।

[[প্রথম বিষয়]]
প্রডিউসারঃ
এনার কপিরাইট সার্টিফিকেট নেয়া আছে সরকারের কাছে। উনি যা প্রডিউস করবেন তাই কপিরাইট হবে। মূল কথা প্রডিউসার হয় নিজের অথবা অন্য কারো কাছ থেকে নাটক/সিনেমা/গান তৈরি করিয়ে কিনে নেন অথবা নিজের হাউস/প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে নাটক/সিনেমা/গান/অনুষ্ঠান তৈরি করেন। অর্থাৎ পুরো কন্টেন্ট এর মালিক তিনি। কারন তার টাকাই এটা তৈরি হচ্ছে।

প্রডাকশন(ইন হাউজ)
ধরুন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটি গান তৈরি করবে। এবার গানটি যিনি লিখবেন গীতিকার তাকে এজন্য টাকা দিতে হয়। যিনি সুর করবেন সুরকার, তাকে টাকা দিতে হয়, যিনি বা যারা মিউজিক তৈরি করবেন তাদের প্রত্যেককে টাকা দিতে হয়, এই প্রসেসকে কম্পোজিং, টিউনিং এবং সিংগিং এর মধ্যে ফেলতে পারেন। কারন ফাইনালি গানটা একজন গায়ক/গায়িকাকে দিয়ে গাওয়াতে হয়। তাকেও তার পারিশ্রমিক দিতে হয়। সুতরাং বর্তমানে, মিউজিক ভিডিওর জন্য একটি মিউজিক কম্পোজিশন ফি দিতে হয় নূন্যতম ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা। এটা শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ভেদে কমবেশি হতে পারে।

প্রডাকশন (আউটডোর)
এদের কাজ মিউজিকটাকে ভিডিওতে রূপান্তর করা। এজন্য মডেল ঠিক করতে হয়, তাদের টাকা দিতে হয়, ডিরেক্টর লাগে, ক্যামেরা ম্যান লাগে, ক্যামেরা লাগে, লাইটিং লাগে, মেকাপম্যান লাগে, প্রডাকশন ডিজাইনার লাগে। এদের প্রত্যেককে টাকা দিতে হয়।

শূট্যিং এর পর এডিটিং
এডিটিং প্যানেল আলাদা। এডিটিং এর জন্য লোকদের প্রত্যেককে টাকা দিতে হয়। এভাবে উপরের সব স্টেপ পার হওয়ার পর, একটি মিউজিক ভিডিও অথবা নাটক অথবা অনুষ্ঠান বা সিনেমা তৈরি হয়। সরকারী ভ্যাট ট্যাক্সও আছে (প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)।

অতএব, উপরে হিসেব অনুযায়ী একটি মিউজক ভিডিও তৈরিতে (ধরুন অপরাধী গানের মতো) সাড়ে তিন থেকে ৪ লক্ষটাকা বা তার কমবেশি খরচ হয়। আর পুরো টাকাটা পরিশোধ করে ঈগল মিউজিক/লেসার ভিশন/জি মিউজিক এরকম প্রতিষ্ঠান কিনে তাদের চ্যানেলে দেয় অথবা টিভি স্টেশনগুলো কিনে তাদের টিভিতে প্রচার করে।

এবার ভাবুন, ৪/৫ লাখ টাকা দামের একটি মিউজিক ভিডিও অথবা অডিও যদি অন্য কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে, তাহলে তাদের চোখে পরলে তারা কি ছেড়ে দেবে?? ((যারা কপি করে, তারা বলে আমি কি দোষ করলাম! একটি গান ইউজ করেছি বলে কপিরাইট স্ট্রাইক/ক্লেইম দিলো??))

এবার তাহলে ভাবুন সেই গানটি মিউজিক ভিডিওতে রূপান্তর করতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ গেলে প্রডিউসারের (ঈগল মিউজিক অথবা এরকম প্রতিষ্ঠানের) তারা কি কপিবাজকে ছেড়ে দেবে??

[[দ্বিতীয় বিষয়]]
ইউটিউবের পলিসি অনুসারে যে কোন গানের কভার করা যায়, তবে সেই কভার এর ইনকাম অর্থাৎ রেভিনিউ শেয়ার হবে নাকি পুরো টাকা অরিজিনাল ওউনার (যারা মূল গান প্রডিসার) তারা নেবে সেটা নির্ভর করে একমাত্র সেই প্রডাকশন হাউস/প্রতিষ্ঠানের উপর। ইউটিউবের Create সেকশনে একটা অপশন আসে কপিরাইট মিউজিকের পলিসি কি হবে সেটা দেখা যায়। বাংলাদেশি কোন প্রডাকশন হাউস গান কভার করার অনুমতি ইউটিউবে দেয়না। তারা চায়না কেউ কভার করুক। তাই কপিরাইট মেরে খেয়ে দেয়।

[ads2]

[[তৃতীয় বিষয়]]
ইউটিউবে কন্টেন্ট আইডি নামে একটি সুবিধা আছে। এই সুবিধা একমাত্র প্রতিষ্ঠান পেয়ে থাকে। চ্যানেল নতুন সেটআপ করার সময় জিজ্ঞেস করে আপনি কি ব্যক্তি নাকি প্রতিষ্ঠান? তখন যারা প্রতিষ্ঠান দেয়, তাদের কাছে পরে ট্রেড লাইসেন্স এবং লোকাল কপিরাইট সার্টিফিকেট দেখতে চায় (যদি কেউ কন্টেন্ট আইডি সুবিধা নিতে চায়।) কন্টেন্ট আইডি হলো ইউটিউবের এমন একটি ফিচার যার মাধ্যমে একটি ভিডিও/অডিও সুরক্ষিত হয়ে যায়। ওই ভিডিও বা অডিও যদি অন্য কেউ কপি করে তাহলে সেই ফিচার সাথে সাথে ধরে ফেলে। যেটাকে ক্লেইম বলে। আগে সরাসরি স্ট্রাইক দিতো। এখন রেভেনিউ শেয়ার অথবা পুরোপুরি রেভেনিউ নিয়ে যায় তারা। তাই স্ট্রাইক দেয়না, ক্লেইম মেরে টাকা নিয়ে যায়। অবশ্য কন্টেন্ট আইডি সুবিধা পেতে হলে ১০০% নিজের করা ভিডিও+নিজের কম্পোজ করা মিউজিক হতে হয়।

[[চতুর্থ বিষয়]]
এবার প্রশ্ন করতে পারেন, অনেক চ্যানেল দেখি নাটক/গান/সিনেমার অংশ আপলোড করে, তাদের কপিরাইট ধরেনা কেনো? এর কারন তারা কন্টেন্ট আইডি করেনি। তবে তাদের কন্টেন্ট কপিরাইট। ম্যানুয়ালি ধরতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো, অনেক নাটকে কপিরাইট ফ্রি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ইউজ করে তাই তারা কন্টেন্ট আইডি করতে পারেনা।

[[পঞ্চম বিষয়]]
যারা টুকটাক বিভিন্ন ক্লিপ/মিউজিক কপি করেন (দেশি প্রডাকশন) সেক্ষেত্রে কপিরাইট আইন ভাঙ্গলে সেইসব প্রতিষ্ঠান চাইলে আপনার বিরুদ্ধে কেস করতে পারে।।

সুতরাং যারা বিভিন্ন যায়গা থেকে মিউজিক ব্যবহার করেন, তারা অধিক সাবধানতা অবলম্বন করুন। ধরুন, একটি মিউজিক নিলেন যাতে আপাতত কপিরাইট আছে কিনা বুঝতে পারলেন না। একটি ভিডিওতে ব্যবহার করলেন, টাকা আয় করতে থাকলেন। এক সময় ৫ মিলিয়ন ১০ মিলিয়ন ভিউ হলো, তখন কপিরাইট আসলে তার পর থেকে সব টাকা তারা নিয়ে যাবে। অনেকটা কোকিলের বাসায় কাকের বাচ্চা বড় হওয়ার মতো ঘটনা। সুতরাং ইউটিউব অডিও লাইব্রেরি ব্যতিত মিউজিক ইউজ করা রিস্কি। অনেকে NCS এর কথা বলবেন হয়তো, কিন্তু আমি নিজেই একটা মিউজিকে ক্লেইম খেয়েছি। কারন এনসিএস মিউজিক দেয় পরিচিতি পাওয়ার জন্য, এক দিন এক প্রতিষ্ঠান এসে যদি বলে তোমাকে ৫ হাজার ডলার দেবে, তখন কিন্তু এনসিএস সেই মিউজিক ঠিকই বিক্রি করে দেয়, আর যিনি কিনলেন তিনি কন্টেন্ট আইডি করে নেন। তখন ওই মিউজিক যারা ব্যবহার করে ধরুন, ৫ লাখ লোক ওই মিউজিক ফ্রি ইউজ করেছে, তাহলে সেই ৫ লাখ লোকের ভিডিওর ভিউর সমস্ত টাকা এরপর থেকে ক্লেইম করে যিনি কিনলেন তিনি নিয়ে যান।

[[অনেকের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এই লম্বা পোষ্ট করা, যাবতীয় তথ্য এখানেই দেয়া হয়েছে। সুতরাং ইনবক্সে কেউ নক দিলে উত্তর পাবেন না।]]

==========
এই পোস্টটি Md Abul Kalam Azad ভাই শেয়ার করেছেন তাই আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম আশা করি আপনারা সবাই উপকৃত হবেন আর এরকম ভালো ভালো তথ্য পেতে আমাদের পেজটিতে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন ধন্যবাদ

scorch ; Youtube Help BD 

Related Posts

One thought on “কপিরাইট কি? কপিরাইট ক্লেইম কি? ইউটিউবার দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *