কমিশনারের মেয়ে যখন আদরের বউ

কমিশনারের মেয়ে যখন আদরের বউ
.
.৩য় ও শেষ পর্ব)
.
.
….
লোকগুলোকে দেখে খুব অবাক হলাম। কারন, যাদেরকে পিটিয়েছি তারা সবাই পুলিশ ছিলো। নরমালে এসে তাহলে আমারকেই খেয়াল করতো? তখনি অফিসার গোছের লোকটি আমাকে ডাকলো..কাছে যেতেই..
– তোমার নাম নিলয় না…?
– হুমমম
– ঠাসসসস..কেন মারলাম জানো..?
-……..
– ঐ এটাকে গাড়ি তোল..থানায় নিয়ে চল।
তখনি পিছন থেকে ওদের মধ্য থেকে কেই একজন এসে আমাকে গাড়িতে তুললো..
গাড়িতে করে যখন থানায় আসলাম। তখন প্রায় বেলা ১১ টা বাজে। থানার মধ্যে প্রবেশ করতেই আমাক টেনে অফিসারের রুমে নিয়ে গেলো।
রুমে ঢুকে দেখি কেউ একজন বসে আছে চেয়ারে উলটো দিক হয়ে।
– স্যার নিয়ে এসেছি।
তখনি লোকটি ঘুরে তাকালো। নাম প্লেট দেখে বুঝলাম উনার নাম আশরাফ খান। পুলিশ কমিশনার… সবাইকে ইশারা করে চলে যেতে বললো..
– নিলয় নাম তোমার তাই না?
– হুমম..
– জানো এখানে কেনো এনেছি ধরে তোমাকে?
– হুমম..
– কেনো..?
– কারন, আমি পুলিশকে মেরেছিলাম।
উনি এসে কষে গালে একটা চড় দিলেন,,দিয়ে বললো…
– নাহ সেটার জন্য না। সেটার জন্য হলে ঐদিনই তোমাকে ধরে আনতাম।
-…….
– মীমকে চেনো??
ওনার কথা শুনে বুকের মধ্যে ঢিপ করে উঠল। তখনি মনে পড়ে গেলো মীমের সেই কথাটি। যখন সময় হবে তখন জানতে পারবে আমার বাপ কি করে। কিন্তু উনি যে পুলিশ কমিশনার সেটা কে জানতো?
– তোমাকে অনেক আগেই ধরে আনতে পারতাম। কিন্তু তোমাকে বারবার সুযোগ দিয়েছিলাম। তারপরও তুমি আজ মীমের সাথে দেখা করেছো..
– আর করবো না,,সেটা মীম জানে।
– চুপপ বেয়াদপ..গ্যাং চালাস তাই না?
পুলিশকে মারিস তাই না? আজ দেখাবো পুলিশেদের গায়ে হাত দেয়ার পরিনাম কি হয়।
-….
– ঐ কে আছিস? এটাকে এখনি নিয়ে যা, নিয়ে পিটাতে থাক..
ওনার কথা মত সেই লোকগুলো সবাই আসলো। ওদের মধ্যে একজন আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে হাজতের মধ্যে পুরে দিলো।
সাথে ওরাও ঢুকলো। কিন্তু সবার হাতে একটা করে স্টীক। বুঝে নিলাম আমার কপালে এইবার সত্যিই খারাপ কিছু আছে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই,যাকে আমি মাথায় আঘাত করেছিলাম। সে আমাকে তার স্টীক দিয়ে আমার মাথাতেই আঘাত করলো।
আমি পড়ে যেতেই বললো..
– হিরো হয়েছিস তাই না? বারবার মানা করার পর শুনিসনাই তাই না? আবার পুলিশদের কে পিটিয়েছিস।
– আমি তো ইচ্ছে করে মারিনি,,তোমরা আমাকে গালি দিয়েছিলে বলেই মেরেছিলাম।
– চুপপ…
সবাই একসাথে পিটাতে লাগলো। আমার আর কিছু মনে নেই। যখন ঙ্গান ফিরলো তখন দেখি আমি হসপিটালে। পাশে রফি, আকাশ ভাই, আর দলের সবাই দাঁড়িয়ে আছে।
– কেমন আছিস এখন? (রফি)
-…..
– তোকে যখন ধরে নিয়ে গেছিলো তখন একজন দেখে ফোন দেয়। তখনি বুঝে গেছিলাম।
-…..
– আজ যদি আকাশ ভাই না থাকতো তাহলে তোকে ওরা মেরে ফেলতো। খুব ঝামেলার পর তোকে ঐখান থেকে বের করে এনেছে।
– রফি চুপ করো তো…এসব কথা বলো না..নিলয় তুই রেষ্ট নে এখন সব ঠিক আছে। আমরা গেলাম..। (আকাশ ভাই)
আকাশ ভাই চলে যাওয়ার সময় ওনার এক হাত শক্ত করে ধরলাম..
– কি হয়েছে নিলয়..কিছু বলবি??
– ভাইয়া,,পর কি আপন হয় কখনও?
– মানে..?
– আপনরা কি পর হয়??
– কি হয়েছে তোর?

[ads2]

– হিহিহি…ভাইয়া আজ তোমরা না থাকলে পাশে আমি বোধহয় মারা যেতাম। আজ বলে না,সেই ১৪ বছর বয়স থেকে তোমরা আমাকে আগলে রেখেছো। তুমি,,রফি,,রফির মা,,তোমরা তো সবাই পর। তাহলে কেনো এতকিছু করছো? কেনো তোমরা আমার এত আপন?
– ধুরর পাগল এসব না,,মানুষ তো মানুষের জন্য।
– হা হা হা,,তাই না…? তাহলে আমার বাবা কি মানুষ না? আমার মা কি মানুষ ছিলো না? আজ মাকে খুব মিস করছি ভাই।
– কি হয়েছে ভাই?
– আজ মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী খুব মনে পড়ছে তাকে। আমার মা মরেনি, বাবা নামক পশুটার জন্য সে মরে গেছে। তাও আমার চোখের সামনে। ঐ লোকটাই আমার মাকে খুন করেছে ভাই।
– আরে পাগল এসব কি বলছিস? এসব বাদ দে..এখন রেষ্ট নে। আমরা ব্যাবস্থা করছি সব।
আকাশ ভাইয়া চলে গেলো। ভাবতেই অবাক লাগছে আমার জন্মদাতা বাবা যা করেনি আমার জন্য এরা তার থেকে বেশি কিছু করেছে। হাসি পেল মনে মনে। ঠিক তখনি দেখলাম মীম দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু এ এখানে কেনো? সময়টা দেখে নিলাম। ৬ টা বাজে।
দৌড়ে কাছে এসে বললো..
– নিলয় এখন কেমন আছো?
-…..
– বলো না কেমন আছো?
– তুমি এখানে কেনো?
– বাবার কাছ থেকে জানতে পারি সব।
– ওহ..
– নিলয় একটা কথা বলি তোমাকে?
– হুম..
– আমি তোমাকে ভালোবাসি..
– হাহাহাহাহা..
– হাসলে কেনো?
– ভালোবাসো আমাকে??
– হুমম,ভালোবেসে আমি তোমার পাশে থাকতে চাই। তোমাকে সব কাজে সাহায্য করতে চাই।
– এটা ভালোবাসা না। এটা করুনা।
– মানে??
– আমার সবকিছু জানার পর তুমি ভালোবাসলে। এর আগো তো বাসোনি। তাহলে এটাকে কি বলে ভালোবাসা নাকি করুনা?
– আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি।
– আমি বাসি না..আর চলে যাও এখান থেকে, চাই না আর কারো করুনা পেতে।
– নিলয় সত্যিই ভালোবাসি তোমাকে। তুমি যদি ফিরিয়ে দাও আজ আমাকে তাহলে আমি কিন্তু…
– যাও যাও..
মীম আর কোনো কথা না বলে কাঁদতে কাদতে চলে গেলো।
আমিও কাদলাম। কিন্তু কিছুই করার নেই। সেতো আমাকে আগেই ভালোবাসতে পারতো। যখন ওরা মারলো,,আমার সব কথা শুনলো। তখনি ভালোবাসা দেখাতে এসেছে।
(১৫ দিন পর)
১৫ দিন পর আমি অনেকটা সুস্থ হলাম। তাই আমি আর রফি মিলে কলেজে এসেছি।
শহীদ মিনারের উপর দুজনে বসে গল্প করছি তখনি…গাড়ির হর্ণ শুনলাম। সামনে তাকাতেই দেখি..
আশরাফ খান মনে মীমের আব্বু গাড়িতে বসে আছে।
আমরা তাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। উনি কাছে আসলেন..
-ঠাসসসসস….
– আজ কেনো মারলেন ওকে (রফি)
– চুপপপ…কোনো কথা বলবে না কেউ।
– কিন্তু আমি তো এবার কিছুই করিনি।
– করোনি মানে?এবার আরো বড় অপরাধ করেছো।।চলো..
– নাহ আমরা কিছু করিনি থানায় যেতে পারবো না..(রফি)
– বললাম না চুপ করে আসতে? না হলে কিন্তু…
আমরা আর কিছু না বলে ওনার গাড়িতে যেয়ে বসলাম। উনি গাড়ি চালাতে লাগলেন।
যখন থামলাম তখন দেখি একটা অনেক বড় বাড়ির সামনে এসেছি।
– এটা তো থানা না,,কোথায় নিয়ে আসলেন? (আমি)
– চুপপ করে থাকতে বলেছি। আসো আমার সাথে।
আমি আর কিছু না বলেই ওনার সাথে গেলাম। কিন্তু এখানে কেনো এনেছে বুঝতে পারলাম না। বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই..একজন মায়ের বয়সি মহিলা দৌড়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললো..
– আমার মেয়েটাকে বাঁচাও নিলয়। সে মরে যাবে তোমাকে ছাড়া। আমরা তাকে অনেক ভালোবাসি। প্লীজ তুমি আমার মেয়েটাকে বাঁচাও। মীম তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
তখনি মনে পড়লো এখানে নিয়ে আসার কারন টা। আর বুঝেও নিলাম কমিশনার কেন পটে গেলো।
তবে আনটির কান্না দেখে বুকটা ধক করে উঠলো। কেমন যেনো শুন্য শুন্য মনে হল। আমার মায়ের কথা মনে পড়াতেই বললাম..
– ভয় নেই আনটি, আমি মীমের পাশেই থাকবো। কিন্তু ও কোথায়?
– ও ওর রুমেই আছে। চলো রেখে আসি।
আমরা যখন রুমে আসলাম তখন দেখি মীম চোখটা বন্ধ করে শুয়ে আছে। আনটি আর রফি চলে গেলো। আমি আসতে আসতে ওর পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম মুখটা অনেক শুকনো। চোখের নিচে কালি পড়েছে। বুঝলাম প্রতিদিন ঠিকমত না খাওয়াতে,,কান্না করাতে,,এমনকি রাত জাগাতে এই হাল হয়েছে।
একটু টুল টেনে ওর বা পাশের দিকে বসে পড়লাম। বা হাতটা আলতো করে ধরলাম। সে নড়ে উঠল..
আমি হাত ছেড়ে দিলাম তখনি সে আমার হাতটি শক্ত করে ধরল..বুঝলাম সে ঘুমিয়ে ছিলো না। জেগেই ছিলো
– তুমি তাহলে আসলে..(মীম)
– হুমমম
– আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি নিলয়। তোমার পাশে থাকতে চাই আজীবন।
– হুমম
– করুনা না নিলয়,আমি সত্যিই ভালোবেসে তোমার পাশে থাকতে চাই।
– জানি।
– আমাকে ভালোবাসবে তো?
– নাহ..
– কেনো??
– কারন, তোমাকে তো ভালোই বাসি পাগলি।
আমার কথা শুনে মীম আমার হাতটি আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলো ওর চিকন আঙ্গুল দিয়ে। আমিও মীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
সে আমার দিকে মুচকি হেসে অপলক চেয়ে রইল।
তখনি মনে হল,,
“”দূরের মানুষগুলো কেন এত আপন হয়ে যায়?
আর কাছের মানুষগুলো কেনো পর হয়ে যায়??
এটা কি কোনো অবহেলা? নাকি কাছে থাকি বলে তার মুল্য না বোঝা?
তবে কাছের মানুষ দুরে গেলেই বোঝা যায় শুন্যতা কাকে বলে? বোঝা যায় সে আমাদের কাছে কতটা মুল্যবান””
———-(সমাপ্ত)——–
.
.
.
.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *