কমিশনারের মেয়ে যখন আদরের বউ

কমিশনারের মেয়ে যখন আদরের বউ
.
.
……১ম পর্ব
.
.
– ঐ ছেলে, দাঁড়া ওখানে..।
ক্যামপাস থেকে বের হয়ে কলেজের সামনে আসতেই কয়েকজন ছেলের মধ্য থেকে গন্ডা মার্কা এক ছেলে আমাকে ডাক দিয়ে কথাটি বললো..আমি দাঁড়াতেই তারা সবাই কাছে আসলো।
– তোর নাম নিলয় না?
– হুমম,,তো??
– মীম কি হয়??
কথাটি শুনেই সবার দিকে একবার করে তাকালাম। সবার মধ্যেই কেমন যেনো একটা রাগি রাগি ভাব দেখলাম।
– কেনো?? (আমি)
– যা জিঙ্গাসা করছি তার এনস দে।
– তোমাদের ইচ্ছায় নাকি? আর আমাকে তুই করে বলছো কেনো?
– খেয়েছিস কখনো?
– কি খাবো…?
– মাইর??
– হা হা হা হা হা…(আমি)
– হাসিস কেনো? তোর কপালে খুব খারাপই আছে। আজ খালি বলে গেলাম যেনো মীমের আশে পাশে না দেখি।
– যত্তসব..(আমি)
কথাটি বলেই পিছনে ঘুরে চলে আসতে যাবো তখনি আবার বললো..
– কথাটা মাথায় রাখিস, না হলে পরেরবার তোর ঠিকানা যে কোথায় হবে বুঝতে পারবি না।
কথাটি শুনে আবারো মুচকি হাসলাম। কিন্তু কথা হল এরা মীমের কি হয়? আর এরাই বা কারা?
(পরেরদিন ক্যামপাসে)
মীম সামনে বই মেলে পড়তে পড়তে হেটে যাচ্ছে। আমি হুট করে পাশে যেয়েই বললাম..
– ও মীম মীম মীম,তোকে পটাতে গিয়ে আমি খাইযে হিমশিম।
– তোমাকে কে পটাতে বলেছে?
– তাহলে পটে গেছো?
– আমি??
– না তো কি আমার শ্বশুর? ও হা বললে না তো তোমার বাপ কি করে?
– সময় হলেই বুঝিয়ে দেবো কি করে আমার আব্বু। আর শোনো তোমাকে মানা করার পরও আবার আসছো?
– ভালোবাসি তো তাই..আচ্ছা তুমি কি লোক লাগিয়েছো আমাকে পিটানোর জন্য?
– আমি?
কথাটা শুনেই মীম আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালো। যেনো এ ব্যাপারে সে কিছুই জানে না।
– কি হল? (আমি)
– জ্বি না,,আর শোনো বারবার বলছি তোমাকে মানা করার পর আমার কাছে আসছো,,কিন্তু এর ফল ভালো হবে না।
– হিহিহিহিহি
মীম চলে গেলো আর আমি মুচকি হেসে দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে মনে বললাম, আমার ফল কে খারাপ করবে? মীম তুমি তো জানো না আমিও একটা গ্যাং চালায়। অবশ্য সেটা ক্রাইম গ্যাং না। পরে বলবো তোমায়।
.
মীম ওর ক্লাসে চলে গেলো। মীম পড়ে অনার্স এর ২য় বর্ষে আর আমি ৩য়। একদিন ক্যামপাসে বসে বসে আমি আর রফি মিলে শেয়ারিট অন করে গান দেয়ার সময় ফোনে তাকিয়ে দেখি আমি মীম নামটা ভেসে উঠেছে। তখনি বন্ধু রফিকে বললাম..
– কীরে তোর কি দুইটা ফোন নাকি?
– মানে? (রফি)
– তোর নামও এসেছে স্ক্রীনে আর মীম নামও এসেছে।
– কী বলিস? (রফি)
– হুমম দেখ..
ফোনটা ওর হাতে দিয়ে দেখালাম। ঠিক তখনি কেউ একজন মীম বলে ডাক দিলো। ডাকের উদ্দেশ্যে তাকাতেই দেখি, একটা মেয়ে কালো বোরখার সাথে চোখে মাশকারা লাগিয়ে, নিচের ঠোঁট একদিকে টেনে এনে দাঁত দিয়ে চেপে হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলো উনিই মীম।
ব্যাস, নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে। তাকাতেই ব্যস্ত আমি। কি এক অপরুপ মায়া। পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছি।
– ঐ মাম্মা..কি হল তোর? (রফি)
হারামিটার কথা শুনে লাফ মেরে উঠে বললাম..
– হারামি ডাকার আর সময় পেলিনা?
– কেন? আর মীম নাম এখনো আছে।
– দে তো ফোনটা,,আর খালি দেখতে থাক।
মীম আর ওর কয়েকজন বান্ধবীরা মিলে একটু দুরে বসেই আড্ডা দিচ্ছে আর ফোনে কি যেনো দেখছে। এতক্ষন সেটা কেনো যে খেয়াল করিনি, এটা ভেবেই নিজেকে বকা দিলাম।
(কাছে যেতেই)
– আমি মীম তাই না?? (আমি)
দেখলাম সবাই আমার দিকে চোখ বড় করে তকিয়ে আছে। তখনি বললাম..
– মানে এটা কার শেয়ারিটের নাম?? (যদিও জানি সেটা কে)
– আমার। কিন্তু কেনো?
– দরকার..
– কী দরকার? আর আপনি কিভাবে জানেন?
– তোমার সাথে আমার প্রেম হবে তাই। (আমি)
– মানে?? (সবাই উঠে দাঁড়ালো)
– হুমমম, শেয়ারিট অন রেখে কি করো? (আমি)
তখনি মীম ওর ফোনটা হাতে নিয়ে বললো..
– হায়রে শেয়ারিট করে তখন তোর কাছ থেকে গান নিয়েছিলাম তো মিনিমাইজ করে সেটা সেভাবেই আছে রে।

[ads2]
(একটা বান্ধবিকে উদ্দেশ্য করে বললো)
– আচ্ছা যাই হোক,,চলো শুরু করি? (আমি)
– কি শুরু করবো?? (হেব্বি রাগি লুক নিয়ে বললো মীম)
– আরে চলো শুরু করি আমাদের শেয়ারিটময় ভালোবাসা।
– কিহহহহ…? ঐ তোর, সাথে এতক্ষন ভালো করে কথা বলেছি বলে তুই কি মনে করেছিস?
কথাটি শুনে মুচকি হেসে মীমের খুব কাছে যেয়ে ডান হাত দিয়ে ওর নাক টেনে ধরে বললাম..
– প্রেয়সী,
“কি এমন হবে ক্ষতি?
পড়ন্ত বিকেলে আমার হাত হাত রেখে নিরালাতে
হাটো যদি”?
ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মীম চলে গেলো। আর আমি মুচকি হাসতে লাগলাম ওর চলে যাওয়ার দিকে। ঠিক তখনি, রফি বললো..
– নিলয় চল, আকাশ ভাই ফোন দিয়েছে, আজ মিশন আছে ওমুক পাড়াতে ভুলে গেছিস??
– আরে আগে বলবি তো? আমি তো ভুলেই গেছিলাম। চল এখন।
..
তারপর থেকেই আমি মীমের উপর ক্রাশিত। আর এত সাহস দেখাচ্ছি কারন, আমারো একটা গ্যাং আছে বলেই কাউকে কেয়ার করি না। নিজেকে বস ভাবি সবার। তাই কাউকে কেয়ার তো দুরে থাক, আমাকে হুমকি দিলে তার দুইদিন পরেই সে হসপিটালে চলে যায়।
তাই মীমের হুমকি আমি হাসি মুখেই নিয়ে নিই।
(পরেরদিন)
বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি কলেজে, তখনি দেখি মীম আমাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। আমি উঠে ওর সামনে যেতেই।
– আবার তুমি? (বিরক্ত হয়ে)
– তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো?
– আবার জিঙ্গাসাও করছো??
– আচ্ছা যাও আর কোনদিন আসবো না তোমার সামনে।
– যাক বাবা বাচলাম (মুচকি হেসে)
মীম কথাটি বলে চলে যেতেই ওর হাত ধরে কাছে টেনে এনে বললাম..
– বিরক্তি হওয়াও একটা আর্ট। যা সবাই সবার উপরে করতে পারে না, মীম পঁচা ডিম।
মীম চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি ওর হাত ছেড়ে দিলাম। তখনি ওর নাক টেনে বললাম..
– ভালোবাসি তো তাই এমন করি।
– বের করছি তোর ভালোবাসা দাঁড়া।
– হিহিহিহি.
মীম আর দাঁড়ালো না। সোজা চলে গেলো। তখন আমি আর রফি ক্লাসে গেলাম।
(ক্লাস শেষ করে)
কলেজের গেটে আবারো আসতেই..
– ঐ তোকে না মানা করেছি মীমের থেকে দুরে থাকতে?
– সরি ভাইয়া, আর কখনো এমন হবে না, প্লীজ এবারের মত মাফ করে দেন? প্রমিস করছি আর কখনো মীমের আশে পাশে থাকবো না। (আমি)
– যা এবারের মত ছেড়ে দিলাম। কিন্তু কথাটা যেনো মাথায় থাকে।
আগের দিনের সেই লোকগুলো আবারো এসে আমাকে কথাগুলো বললো।
– আচ্ছা ভাইয়া আর হবে না।
কথাটি বলে চলে আসতে যাবো.. তখনি
– হিহিহিহিহিহি..(আমি)
– হাসিস কেনো? (ওরা)
– আমি কি চান্দু নাকি? হুমকিতে ভালোবাসা ছেড়ে দেবো?
– তোকে তো এইবার আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।
– হাহাহাহাহা…কি মজার জোকস..
ঠিক তখনি পিছনে দেখলাম আমার গ্যাং এর কয়েকটা ছেলে দাড়িয়ে আছে। বুঝলাম রফি ওদেরকে আবহাওয়া খারাপ দেখে ডেকেছে।
– জোকস তাই না?? আজ চলে যাচ্ছি, কিন্তু নেক্সট টাইম যদি এমন দেখি কপালে খুব খারাপই আছে বলে দিলাম।
– হাহাহাহা,,যাও যাও বেবিরা..
ভেংকচি কেটে চলে আসলাম। রফিকে বললাম..
– খোঁজ লাগাতো ওরা কারা? দুইদিনের মধ্যেই ওদের হসপিটালে দেখতে চাই।
– আচ্ছা, এখন চল আমার বাসায়। আমার মা কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করছে।
– হুমম
দলের সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম রফিদের বাসাতে
.

চলবে……….
Next part_ কমিশনারের মেয়ে যখন আদরের বউ 2

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *