কিশোরী বউ পর্ব-২। স্বামী স্ত্রীর অভিমানী ভালবাসার গল্প

কিশোরী বউ সকল পর্ব 

কিশোরী বউ (সিজন ০২)
writer – কাব্য আহমেদ
#part_2

ইশ! এখনো ফোন করছে না কেনো গাধাটা? মনে হয় কষ্ট পেয়েছে। খুব খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। কাব্য বেশ পালটে গেছে। আগে কিছু বললে সেটাতে কষ্ট পেতো না। বরং অভিমান করতো। কিন্তু, এখন! কিছু বললেই কষ্ট পায়। ভাবতে ভাবতে মোবাইল হাতে নিয়ে কল করল তিথি।
তিথি ফোন করেছে। বেশ! অবাক হলাম। একটু আগেইতো বিরক্তি নিয়ে ফোন রেখে দিলো। ফোন রিসিভ করলাম,
– হ্যালো। (তিথি)
– হ্যা, বলো।
– কি বলব?
– ফোন করলে যে, তোমার না গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে। (আমি)
– এসব বাদ দাও। আগে বলো কল করেছিলে কেনো?
– মানে!
– মানে, একটু আগে কল করেছিলে কেনো? কোন দরকার?
– নাহ, এমনি।
– এমনি কল করার কোনো প্রয়োজন নেই। দরকার হলো কল করো। না হয় ডিস্টার্ব করার কোনো প্রয়োজন নেই।
রেগে বলল তিথি। টুত টুত করে ফোন কেটে দিলো।
সব মাথার উপর দিয়ে গেলো আমার।
( তিথি)
খুব রাগ হচ্ছে। আগে তো কল করলে বলতো ” তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। তাই কল করেছি “।
কিন্তু, এখন দেখুন। বুঝি তো সব বুঝি আমাকে আগের মতো আর ভালোবাসা হয় না। মানছি কয়েকদিন ধরে অবহেলা করছি ওকে। তাই বলে এই অবহেলা এভাবে নিবে সে। আমাকে জরিয়ে ধরে বলতেইতো পারে যে,” তুমি কিন্তু অবহেলা করছো আমাকে। আমি অবহেলা নয় ভালোবাসা চাই তোমার ”
কিন্তু, কাব্য এখন বলে না এগুলো। কি মনে হয় ওর? বড় হয়ে গেছি আমি। তাই বলে আগের মতো ভালোবাসবে না। কিন্তু, আমি তো আগের মতোই ভালোবাসা চাই। নতুন করে কোনো ভালোবাসা চাই না।
সামিরা ঠিকই বলেছে, ” অবহেলা করলে তোর কাব্যর ভালোবাসা পিছন দিকের দরজা দিয়ে পালাবে ”
এখন তো দেখছি ঠিক তাই হচ্ছে।
,
চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছি। তিথি, তিথি, তিথি। সারাক্ষণ শুধু তিথি নিয়েই চলছে মনে হরতাল। ভাবলাম কি আর হলো কি?
ভাবলাম তিথি যেহেতু ফোন করেছে। সেহেতু নিশ্চয়ই বলবে, “সরি, আগে তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। ”
কিন্তু, হলো ঠিক তার উলটো। তিথি রেগে মেগে কল কেটে দিলো। এতো রাগে তো তিথি আমার উপর দেখাতো না। তাহলে কেনো করছে এসব তিথি।
( তিথি )
হ্যা, রাগ করেছি ওর উপর। আমার অধিকার আছে রাগ করার। আমি কি সাধে রাগ করি? বোকারাম একটা। বুঝে না যে, কি চাই আমি?
হ্যা, ওকে বলেছিলাম সপ্তাহে একবার আমার সাথে দেখা করতে আসতে। কিন্তু, সেটা রেগে বলেছিলাম। আমি রেগে ছিলাম ওর উপর।
আমার প্রতি এই ভালোবাসা ওর। এতো যদি ভালোবাসত তাহলে এতো কান্নাকাটির পরও আমাকে আলাদা ফ্লাটে থাকতে দিতে পারত। আবার আমার পড়াশোনার বাহানা করে। আমি কি কখনো খারাপ রেজাল্ট করেছি নাকি? কতো করে চাইলাম ওর সাথে থাকতে আর ও কি না আমাকে ওর থেকে দূরে থাকার জন্য পাঠিয়ে দিলো। নিশ্চয়ই আরেকটা বিয়ে করেছে।
বেশ করেছি। সপ্তাহে একদিন আমার সাথে দেখা করতে বলছি। এখন তো মনে হচ্ছে বললাম না কেনো যে, ” আর জীবনেও দেখা করবি না আমার সাথে “।
তিথি রেগে হাত মোচড়াচ্ছে।
আগেতো রাগ করার পরও সপ্তাহে দু-তিন দিন দেখা করার জন্য আসত। কিন্তু, এখন! এখন ঠিক সপ্তাহে একদিন আসে। এতোটা গুরুত্ব দিতে হবে আমার রাগের। না, হয় বলেই ফেলেছিলাম ভুল করে।
আর ও কি না সেটাই পালন করছে। নিকুচি করি তোর ভালোবাসার।
ঠোঁট ভেঙে কান্না করে দিলো তিথি।
– কিরে তিথি? কাঁদছিস কেনো? ( সামিরা)
– আমার যা মন চায় করব। তাতে তোর কি?
রেগে গিয়ে বলল তিথি।
– আরে বাবা। আমি আবার কি করলাম? এতো রেগে কথা বলছিস কেনো?
– বেশ করেছি! যা আমার সামনে থেকে।
– আচ্ছা, যাচ্ছিরে বাবা। কখন আবার ফেটেফুটে যাবি।
– আবার দাঁড়িয়ে আছিস।
ধমক দিলো তিথি।
– আরে যাচ্ছিতো।
সামিরা চলে গেলো। ” এই মেয়েটার মাঝে মাঝে যে কি হয়? আল্লাহই জানেন। ”
মনে মনে বলল সামিরা।
,
আচ্ছা, তিথির এই অবহেলার পিছনে কারন কি? কি এমন দোষ করেছি আমি? যার জন্য তিথি আমাকে এতো অবহেলা করছে।
– স্যার, আসতে পারি?
– ওও, হ্যা আসুন।
ম্যানেজার সাহেব রুমে ডুকলেন,
– বাসা যাবেন না? রাত হয়ে গেছে তো।
– হুম।
আনমনা হয়ে বললাম।
– আচ্ছা, আপনি কি কোনো কিছু নিয়ে ডিপ্রেশনে আছেন? কিছুদিন ধরে আপনাকে টেন্স দেখাচ্ছে।
– নাহ।
– ওও। আচ্ছা, আমি এখন যাই স্যার?
– হুম।
ম্যানেজার সাহেব চলে গেলেন। আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম। অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম। শশুড় সাহেবের সাথে দেখা। উনাকে এতো করে বলার পরও উনি এই চাকরীটা ছাড়েন নি।
উনি এই কেয়ারটেকার এর চাকরীটাই করবেন।
– কেমন আছো বাবা?
– ভালো, আপনি কেমন আছেন?
– ভালো বাবা, আচ্ছা আমার তিথিমনিটা কেমন আছে?
– খুব ভালো।
– হুম, তুমি আমাকে শান্তি দিলে বাবা। তিথিকে তোমার হাতে তুলে দিতে পেরে আমি নিজেকে একজন শ্রেষ্ট বাবা মনে করছি। এখন মরেও শান্তি পাবো। তোমার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ বাবা।
– আরে একি বলছেন আপনি? আপনি একটুও চিন্তা করবেন না প্লিজ।
– হুম, আমার আর চিন্তা করার কি আছে? তুমি তো আছোই।
আমি একটা হাসি দিলাম। গাড়িতে এসে বসলাম। তিথির অবহেলা আমাকে প্রচুর ডিপ্রেশনের মধ্যে ফেলে দিছে।
কেনো করছে এমনটা তিথি? কয়েকটা দিনের মধ্যেই এতো পরিবর্তিন। আগের মতো আর পাগলামি করে না তিথি। মিস করি তিথির পাগলামি গুলো।
বাসায় এসে পড়লাম। আম্মু কফি করে দিলেন। বারান্ধায় বসে খেতে লাগলাম। এতোটা একা নিজেকে আর কখনো মনে হয়নি।
মোবাইল হাত নিয়ে বসে আছি। তিথি কখনো কল করবে কি? আমার আশা করাটাই বৃথা।
( তিথি)
উফফ! একটুও পড়তে পারছি না। বারবার মোবাইলের দিকে চোখ যাচ্ছে। কাব্য কখন কল করবে। আজ বাসায়ও এলো না। অবশ্য না আসারই কথা। আরো একদিন আছে। আজ ৫দিন হলো ওর আসার। ৫দিন আগে একবার এসেছিল কাব্য। আরো দুইদিন পর আসবে। একদিন আগে এলে কি সমস্যা? আমার এই একটা কথার এতো গুরুত্ব। কিন্তু, সেদিন তো আমি খুব কান্নাকাটি করে বলেছিলাম যেন, আমাকে ওর থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়। সেদিনের কথার কোনো গুরুত্ব ছিল না ওর কাছে।
এতো ভেবে লাভ নেই। এমনিতেই অনেক পড়া। কিন্তু, পড়তেই তো পারছি না। গাধাটা ফোন দিচ্ছে না কেনো?
একটুও ভালোবাসে না আমাকে। আগের মতো কাছে টেনে নেয় না। আর আমি কি করে বলি যে ভালোবাসো আমাকে। আর আমি মেয়ে হয় কি করে ওকে কাছে টেনে নেই।
,
নাহ, আর পারছি না থাকতে কল করলাম তিথিকে। তিথি ফোন রিসিভ করল। কিছুক্ষণ নিরবতা। তারপর,
– কি হলো কথা বলছো না কেনো? ( তিথি )
– সরি, তোমার গলার স্বরটা শোনার ইচ্ছে করছিল। তাই ফোন করলাম।
তারপর কিছুক্ষণ নিরবতা।
– তো, সরি বলার কি আছে?
– জানি, ডিস্টার্ব হচ্ছো তুমি। তোমার পড়ার ডিস্টার্ব হচ্ছে। তাই সরি বললাম।
– হ্যা, ডিস্টার্ব হচ্ছি আমি। কল রাখো এখন।
রাগ করে ফোন কেটে দিলো তিথি।
( তিথি )
খুব কান্না পাচ্ছে। এতোটা চিনল ও আমাকে। আমি ওর সাথে কথা বলতে ডিস্টার্ব হই। ওর কথা শুনে বিরক্ত হই।
কাব্য তুমি কেনো বুঝনা? তোমার একটা কথা শোনার জন্য আমি প্রতিটা সেকেন্ড অপেক্ষা করি। আমার কি ইচ্ছে করে না তোমার সাথে কথা বলতে?
হো হো করে কেঁদে দিলো তিথি। ওয়াসরুমে ডুকে শাওয়ার ছাড়ল। এই রাতের মধ্যেও গোসল করবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো। শাওয়ারের নিচে হো হো করে কাঁদতে লাগল। নিজেকে হালকা করার পদ্ধতি অবলম্বন করছে তিথি।
,
জানতাম এমনটাই করবে তুমি। তবুও কল করলাম বেহায়ার মতো। তোমার কথা শুনতে ইচ্ছে করে খুব। তাইতো কল করি। আর তুমি বরাবরের মতোই খারাপ ব্যবহার করো আমার সাথে।
( দু-দিকে দুজন। দুজনেরই মনে অভিমান পাহাড়সম। একজনের উপর আরেকজনের পাহাড়সম অভিযোগ। কবে মিটবে তাদের অভিযোগ।)
,
সারারাত একফোঁটাও ঘুমালাম না। তিথির অবহেলা যে আমি সহ্য করতে পারছি না। তিথি কি করে এতোটা পালটে যেতে পারে।
( তিথি)
উফফ! কি অসহ্য লাগছে? বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। গায়ে খুব ব্যাথা করছে। জ্বর ট্বর এলো নাকি। রাতে অনেক সময় নিয়ে গোসল করেছিলাম। সেটারই প্রতিদান পাচ্ছি।
– আরে, আরে উঠিছিস কেনো?
উঠতে গেলেই কথাটা বলল সামিরা।
– কেনো? কলেজে যাবো না নাকি? ( তিথি)
– কি বলিস? জ্বরে তোর গা পুড়ে যাচ্ছে। আর তুই বলছিস কলেজে যাবি?
– হ্যারে, ক্লাস মিস করা যাবে না।
– মাফ কর বইন। তুই আমার এই একটা কথা শুনে আমাকে ধন্য কর। আজ প্লিজ কলেজে যাস না। ( সামিরা)
কি আর করা? এতো করে বলল। তারপরও কি করে যাই?
– তুই যাবি না?
– তোকে এই অবস্থায় রেখে আমি যাবো। ইম্পসিবল…
– ওহ।
– ভালো কথা এখন শুয়ে পড়। আমি দেখছি কিছু করা যায় কি না?
সামিরা চলে গেলো।
তিথি মোবাইল হাতে নিলো। কি ব্যাপার? কাব্য আজ একবারও কল করল না। কালতো আমাকে আঘাত দিয়ে ফোন কেটে দিলো। অথচ আজ এখনো কল করেনি। ভালোতো। খুব ভালো।
– দিস না কল। তোর কলের জন্য কি টেকা পড়ছে আমার। ঘৃনা করি তোকে।
চিৎকার করে বলল তিথি। সামিরা রান্না ঘর থেকে দৌড়ে রুমে এলো,
– কিরে কি হলো তোর?
– যাই হোক। তকে বলব কেনো?
– আরে তুই…
– তুই যাবি এখান থেকে।
– তোর মাঝে মাঝে কি যে হয়?
– তুই আর এক মিনিট এখানে থাকলে। তোর ঘাড় মটকাতে একটুও দেরী করব না আমি।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল তিথি। সামিরা চলে গেলো।
তিথির রাগে দুঃখে প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। আবার কান্না মুছে নিলো।
– কাঁদছি কেনো আমি? একটুও কাঁদবি না তিথি। কার জন্য কাঁদছিস তুই? ঐ বুইড়াটার জন্য। ঐ গাধারামটার জন্য।
তিথি নিজেই নিজেকে বলল। বারবার চোখের পানি মুছতেছে। তবুও আবার জল গড়িয়ে পড়ছে চোখ থেকে। চোখের জল যেন থামছেই না।
,
কাঁদতে কাঁদতে তিথির জ্বর আরো বেড়ে গেলো। সামিরা ডাক্তার ফোন করে আনল। ডাক্তার তিথিকে চেক করে কিছু ঔষধ দিয়ে গেলেন।
তিথি জ্বরের ঘোরে আবোল-তাবোল বকছে। সামিরা ভাবল,
– কাব্যকে ফোন করে কি তিথির অবস্থার কথা বলল? নাহ, যদি অফিসে থাকে।
মোবাইল রেখে দিলো ফোন করল না।
(আমি)
অফিসে বসে আছি। কিন্তু, বসে থাকাতেও বিরক্তি এসে গেছে। ভালো লাগছে না কিছু। তিথি একবারও কল করল না। অবশ্য জানতাম কল করবে না। আর আমি!
আমি কল করলে তো তিথির বিরক্তির সীমা থাকে না। তার চেয়ে বরং কল না করাই ভালো। আমি চাই না তিথি বিরক্ত হোক। কিন্তু, একটাবারও কি কল করবে না?
কখনো এতো কান্না আসেনি আমার। যতটা এখন আসছে। তিথিকে আগের মতো হবে না কখনো। আগের মতো ভালোবাসবে না আমাকে।
(সামিরা)
তিথি জ্বরের ঘোরে কাব্য, কাব্য করছে। কি করব? বুঝতে পারছি না। মাথায় জ্বল পট্টি দিলাম। খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিলাম। জ্বর তো কমছেই না। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। কি করব বুঝতে পারছি না?
কাব্যকে একটা কল করে দেখি।
সামিরার নাম্বার থেকে কল এসেছে। রিসিভ করলাম,
– আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
– ওয়ালাইকুম আসসালাম। হঠাৎ কল করলে যে, কোনো দরকার?
– আসলে, ভাইয়া। সকাল থেকেই তিথির খুব জ্বর। আর জ্বরের ঘোরে বারবার আপনার নাম জপছে। কোনো কিছুতেই কমছে না।
– কি বলছ কি? সকাল থেকে জ্বর আর তুমি এখ জানাচ্ছো আমাকে?
– আসলে, আমি ভেবেছিলাম। আপনি হয়ত অফিসে থাকবেন। তাই আপনাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না।
– আচ্ছা, আমি এখনি আসছি।
ফোন কেটে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাসায় গিয়ে সোজা তিথির রুমে গেলাম। সামিরা তিথির মাথায় জল পট্রি দিচ্ছিল। তিথি চোখ বন্ধ করে আছে,
– ডাক্তার দেখিছো?
– হুম, ঔষধও তো খাওয়ালাম কিন্তু, কমছেই না।
আমি তিথির শিয়রে বসলাম। কপালে হাত দিয়ে দেখলাম অনেক জ্বর। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। আস্তে করে ডাকা দিলাম,
– তিথি, তিথি।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
তিথি আস্তে আস্তে করে চোখ খুলল। পিট পিট করে তাকাল আমার দিকে। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
– তুমি এসেছো।
– হুম।
তিথি অতিরিক্ত বাচ্চার লাগছিল। বাচ্চাদের মতো কথা বলছিল,
– আমি তোমার উপর রেগে আছি।
– কেনো?
– আজ একবারও কল করোনি আমাকে। দেখতেও আসনি।
আমি হেসে দিলাম।
– সরি, ভুল হয়ে গেছে। আমিতো অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। সময় পাইনি।
তিথি মুখ ফুলিয়ে রইল।
– সরি, বললাম তো। এবার একটু হাসো।
তিথি একটু জোর করেই হাসল।
– জ্বর বাধালে কি করে? নিশ্চয়ই রাতে গোসল করেছো অনেক সময় নিয়ে?
– হুম।
– কেনো?
ভ্রু কুঁচকে বললাম,
– তোমার উপর রাগ করে।
– আমি আবার কি করলাম?
– আমি তো তোমার বউ তাই না। তুমি যেকোনো সময় কল করবে। তাহলে, রাতে বললে কেনো আমি বিরক্ত হচ্ছি। আমি কি তোমার কথা শুনলে বিরক্ত হই? তুমি জানো আমি তোমার কলের জন্য সারাক্ষণ অপেক্ষা করি।
তিথি কেঁদে ফেলল।
– সরি। আমার ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো এমন ভুল হবে না। কান্না করো না প্লিজ।
– আপনি আমাকে একটুও ভালোবাসেন না।
ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল তিথি।
– বাসি তো।
– তাহলে, আমাকে আদর করেন না কেনো? ভালোবাস না কেনো?
– তুমি তো এখন অসুস্থ। আগে সুস্থ হও। তারপর আদর করবে বেশী করে কেমন।
– না, আমাকে এখনি আদর করতে হবে।
তিথি হাত বাড়িয়ে হালকা করে আমার কলারে ধরে ঠান মারল। আমি একটু ঝুকে গেলাম। তিথি একটা চুমু দিলো আমার গালে।
– এখন উঠো কিছু খাবে।
– না,খাবো না।
– কেনো?
– আমার ঐসব খাবার ভালো লাগে না। একটুও মিষ্টি না ওগুলা।
– খেতে হবে তো।
– না, খাবো না। ওগুলো ভালো লাগে না আমার।
– তাহলে, কি খাবে?
– চুমু।
চোখ বন্ধ অবস্থায় বলল। আমি হেসে দিলাম। তিথিকে এখন আগের সেই তিথি মনে হচ্ছে। ছোট্র তিথি মবে হচ্ছে। আমার দিকে তাকাল তিথি। পিট পিট করে তাকিয়ে রইল,
– এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
– তোমাকে দেখছি।
– কেনো আগে দেখনি?
– হুম, দেখেছিলাম। কিন্তু, এখন বেশ অন্যরকম মনে হচ্ছে।
আমি আধশোয়া হয়ে বসে ছিলাম। তিথি একটু কষ্ট করে উঠে বসল,
– আরে উঠছো কেনো?
তিথি ধরে উঠালাম। তিথিও আধশোয়া হয়ে বসল। আমার বুকে মাথা রেখে শুলো। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম।
– আচ্ছা, তোমার শরীরে এটা কিসের ঘ্রাণ?
– কি জানি?মনে হয় পারফিউমের। কেনো?
– ঐ ঘ্রাণ টা না খুব হট।
– মান!
আমি হেসে উঠলাম।
– মানে, ঐ ঘ্রাণটা আমার খুব ভালো লাগে। খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
– আর আমাকে?
– তোমাকে আরো বেশী ভালো লাগে। তোমাকেও আমার খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
– তাহল, খাও।
– খাবো?
– হুম।
তিথি বুক থেকে মাথা তুলল। শার্টের বোতামগুলো খুলতে শুরু করল। শার্টের সব বোতাম খুলে ফেলা শেষ। তিথি বুজে হামলে পড়ল। চুমু দিতে লাগল। মাঝে মাঝে কামড়ও দিতে লাগল। নাক ডুবিয়ে দিলো বুকে।
– এবার আমাকে খাও। ( তিথি)
আমার গলা জরিয়ে ধরে বলল।
– মানে!
– মানে, আমাকে চুমু খাও।
আমি তিথির কপালে একটা চুমু খেলাম।
– উঁহু, ওখানে না।
– তাহলে?
– এটায়। ঠোঁটে। তুমি যখন আমার ঠোঁটে চুমু খাও না। আমার মনে হয় আমি কোথায় যেন হারিয়ে যাই। কি যেন হয়ে যায় আমার? আর তোমার ঠোঁট দেখলে না আমার মনে হয় কামড়ে দিই।
তিথি আমার ঠোঁটে ওর ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। আমার মাথার পিছনে হাত রেখে চেপে ধরল ঠোঁট। ঠোঁট চুষতে লাগল। কামড়ে দিলো হালকা করে। আমিও তিথির মাথার পিছনে চুলের উপর হাত রাখলাম।
,
অনেক্ষণ পর ঠোঁট ছাড়ল তিথি। একটা মিষ্টি হাসি দিলো।
– জানো, তুমি আমাকে আদর করলে না আমার একটুও মনে হয় না যে আমি অসুস্থ।
তিথি আমার বুকে শুয়ে পড়ল। আমাকে জরিয়ে ধরল আষ্টেপৃষ্ঠে।
আমি ভাবছি, তিথি যেন সবসময়ই এমন থাকে। বদলে যেন না যায়।
– আমাকে আরো একটু আদর করো না প্লিজ।
– আচ্ছা, করবনে। আগে তো একটু সুস্থ হও।
– না, আমার এখনি চাই।
– আচ্ছা, আগে খাবার খেয়ে ঔষধ খাও। তারপর আদর করব।
উঠিতে গেলেই তিথি পিছন থেকে শার্টের কলারে ধরল। টান মেরে বসিয়ে দিলো। আমার বুকে মাথা রাখল,
– তুমি এতো খারাপ কেনো? কেনো বুঝনা তুমি আদর করলে আমি আর অসুস্থ থাকে না। আমি সুস্থ হয়ে যাই।
ঠোঁট কামড়ে কেঁদে দিলো তিথি। আমি তিথির মাথায় হাতে বুলিয়ে দিলাম। তিথি আমাকে জোর করে শুইয়ে দিলো। আমার বুকে হামলে পড়ল। আমি বুঝি না জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও এই মেয়ের শরীরে এতো শক্তি আসে কোথা থেকে? আমার গালে মুখে চুমু দিতে লাগল।
আমি আর পারলাম না। তিথিকে আবদ্ধ করে নিলাম বাহুডোরে। তিথি শুইয়ে দিলাম বিছানায়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম।
গলার পাশে চুমু দিতে লাগলাম। তিথি আমার মাথা আঁকড়ে ধরল। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। কেপে কেপে উঠল তিথি।
– তিথি
– হুম।
– আরো ভালোবাসতে হবে?
– হুম, অনেক!
– এখন যদি তুমি খাবার না খাও তাহলে আর আদর করব না।
তিথি আমার চুল আঁকড়ে ধরল। আমার মাথা চেপে ধরল।
– প্লিজ, এমন করো না।
– তাহলে, আগে খাবার খেয়ে ঔষধ খাবে তো?
– খাবার খেয়ে ঔষধ খেলে, ভালবাসবে তো?
– হুম।
– আচ্ছা, খাবো।
তিথিকে খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিলাম।
– এখন আদর করো।
চোখ বন্ধ করে বসে রইল বিছানায়। আমি তিথির কপালে একটা চুমু দিলাম,
– আগে শুয়ে পড়ো। এখন ঘুমাতে হবে তোমাকে।
– না, ঘুমাবো না। আমাকে আগে আদর করো।
– করব তো। আগে ঘুমাও।
– তাহলে শুয়ে পড়ো। ( তিথি)
– আমি কেনো শুব?
– আমি তোমার বুকে ঘুমাবো।
আমি হেসে দিলাম। পাগলি। তিথি আমার বুজে শুয়ে পড়ল। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। হঠাৎ করেই সামিরা রুমে ডুকল,
– তিথির জ্বর…
বলেই হা করে তাকিয়ে রইল। মুখ ঘুরিয়ে নিল,
– সরি, সরি। আমি আসলে বুঝতে পারিনি রোমান্স করছিলে তোমরা।
আমি তিথিকে সরাতে চাইলে। তিথি উউ করে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরল,
– না, আসলে হয়েছে কি?তিথি…
– না, বুঝতে পেরেছি। তিথির জ্বর এখন কেমন আছে?
– একটু কমেছে মনে হয়।
– ওও, তাহলে আমি যাই।
রুম ত্যাগ করল সামিরা। তিথি ঘুমুচ্ছে বেঘোরে। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম,
– তিথি,
– হুম।
– তুমি না আদর চাইলে। করব?
– হুম।
ঘুমের মধ্যেই বলে উঠল। আমি হেসে দিলাম।
পাগলি ঘুমের মধ্যেও ভালোবাসা চাই তার।
চলবে……..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *