কিশোরী বউ পর্ব-৮ এবং শেষ। স্বামী স্ত্রীর অভিমানী ভালবাসার গল্প

কিশোরী বউ সকল পর্ব 

কিশোরী বউ (সিজন ০২)
writer – কাব্য আহমেদ
#part_8 & End

সকালে

–তিথি ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাই
তিথিঃ চোখ মেলে নিজেকে হসপিটালে দেখে অবাক হয় তারপর সব মনে করতে থাকি ::::::: বুঝলাম কাল রাতে কাব্য ধাক্কা মারার পর আর কিছু মনে নেই ::: মনে হয় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম::::


উঠে বসতে গেলাম কিন্ত মাথা যেমন ভারী লাগছে কিন্ত বুকের উপরে খুব ভারী অনুভব করছি
::::::
খুব কষ্ট করে মাথা তুলে দেখলাম★ যা দেখলাম তাতে পুরো অবাক হলাম*****
কাব্য আমার বুকের উপরে ঘুমিয়ে আছে 😊 বরটা আমার কী অবস্থা করেছে মনে হয় অনেক কান্না করেছে

–তিথি কাব্যর দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে অনেক কিছু ভাবছে কিন্ত তিথির এই নড়ে উঠাতে কাব্যর ঘুম ভেঙে যাই।

কাব্যঃ মনে হয় এভাবেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম _ মাথাটা খুব ভারী লাগছে
খুব কষ্ট করে উঠে বসলাম কিন্ত তিথির দিকে নজর যেতেই বড় ধরনের শক্ খেলাম//

তিথিঃ পাগলটা এভাবে আমাকে দেখে অবাক হচ্ছে পাগল একটা///////

কাব্যঃ কী অবস্থা করেছে বউটা চেনাই যাচ্ছে না++

★দুজনের মাঝে চোখে চোখে কিছু কথা চলছে তাদের মধ্যে

তিথিঃ আমার একটি বেবি লাগবে (কোন কিছু না বুঝেই বলে দিলাম)

কাব্যঃ এমন পরিস্থিতিতে যে তিথি এমন কথা বলবে ভাবিনি তাই ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই– না এখন না আগে তুমি পড়াশোনা কমপ্লিট করবে তারপর এমন চিন্তা করবে

তিথিঃ আমি হবো বলছি হবো(রেগে উঠে বসে)

কাব্যঃ বাবা কী রাগ(মনে মনে) আচ্ছা হও তাহলে আমার আর কী করার হও

তিথিঃ হুম হবো তো

কাব্যঃ আচ্ছা কীভাবে হয় বলোতো???

তিথিঃ কেন? বেশি বেশি করে চুমু খেলে:::::::::

কাব্যঃ তিথির এমন কথা শুনে হা হা করে হেসে দিলাম পাগলি বউ একটা ****★**

তিথিঃ হাসির কী বললাম(মুখ ফুলিয়ে)

কাব্যঃ না কিছু নেই,, কিন্ত তুমি বেবি নিতে চাইছো কেন??

তিথিঃ জানতে চাও??

কাব্যঃ হুম

তিথিঃ তুমি ধীরে ধীরে আমাই ভুলে যাচ্ছ একদম আর ভালবাসনা তাই যদি বেবি নিই তাহলে তুমি আর আমাকে কষ্ট দিতে পারবে না, আমার বেবির জন্য হলেও তুমি আমাই ছেড়ে যেতে পারবে না:::

কাব্যঃ বাহ্ আমার বউয়ের বুদ্ধি আছে বটে***

তিথিঃ quality আছে boss

★দুজনে মিলে হাসতে লাগল

কাব্যঃ আচ্ছা ওসব বিষয় তুমি সুস্থ হও তারপর দেখা যাবে

তিথিঃ না না তা হবে না আমার অল্প দিনের মধ্যেই চাই

কাব্যঃ তাই?? তাহলে তো এখানে থেকেই কিছু কাজ সেরে ফেলি/??(মুখ এগিয়ে নিয়ে এসে)

তিথিঃ এই না না লুচু কোথাকার লজ্জা নেই যাও ব্রাশ করে আসো গন্ধ মুখ নিয়ে চুমু খেতে এসেছে ইয়াক্কক্ককথুউউ
যাও এখান থেকে তোমার বেবির মায়ের জন্য breakfast নিয়ে এসো

কাব্যঃ আচ্ছা মহারাণী আচ্ছা, আমি একটু পরেই আসছি
মুচকি হাসি দিয়ে চলে আসলাম বাইরে এসে ডক্টর এর কাছে থেকে সব কিছু জেনে নিলাম তারপর প্রয়োজনীয় কিছু মেডিসিন আর breakfast নিয়ে আবার তিথির কেবিনে চলে আসলাম

তিথিঃ এতো দেরি কেন???

কাব্যঃ sorry (কান ধরে) আসলে ডক্টর এর সাথে কথা বলতে যেয়ে দেরী হয়ে গেল

তিথিঃ থাক আর বলতে হবে না চুপচাপ বসো

–একটি লোক এসে সব কিছু দিয়ে গেলো

কাব্যঃ নাও এবার ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও তারপর মেডিসিন গুলো খেতে হবে নাহলে সুস্থ হবে না

তিথিঃ তাহলে তো খাবোই না কারণ আমি সুস্থ হলে তুমি আর আমার care করবে না আবার hostile রেখে আসবে

কাব্যঃ না আর রেখে আসবো না কারণ বেবি নিতে হলে তো আর বউকে ছেড়ে থাকতে হয় না। নাও এবার খেয়ে energy বাড়িয়ে নাও রোম্যান্স এর সময় এটার প্রয়োজন হয় খুব

তিথিঃ হুম আইছে,,, তুমিও ফ্রেশ হয়ে নাও চেহারার তো মানচিত্র সব পাল্টে গেছে

–তারপর আর কী তারা ফ্রেশ হয়ে দুজনে মিলে একে-উপরকে খাওয়ইয়ে দিলো

কাব্যঃ এখন কেমন লাগছে??

তিথিঃ হুম ভালো

কাব্যঃ আমি তোমাকে এখনই বাসাই নিয়ে যেতে চাই যাবে???

তিথিঃ সত্যি????(খুশী হয়ে)

কাব্যঃ হ্যা সত্যি

তিথিঃ চলো চলো আগে বলবে না?? এক্ষনই চলো

কাব্যঃ আচ্ছা আচ্ছা,, তিথি উঠে দাঁড়াতে পারবে না বলে কোলে তুলে নিলাম

তিথিঃ একি এটা কী করছ? সবাই দেখবে তো

কাব্যঃ চুপ(তিথির মুখে আঙুলল দিয়ে) একদম চুপ! আমার বউকে আমি কোলে নিয়েছি তাতে অন্যের কী::::

তিথিঃ নিজেকে আজ খুব বড় ভাগ্যবতী লাগছে আসলেই আমি ধন্য কাব্য তোমাকে পেয়ে(মনে মনে)

কাব্যঃ তিথিকে কোলে করে বাইরে নিয়ে আসলাম সবাই আমাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তারপর রিসিপশনে যেয়ে বিল পরিশোধ করে গাড়ী নিয়ে চলে আসলাম

–গাড়িতে বসে দুজনের মাঝে কিছু কথা কিছু দুষ্টুমি এভাবে তারা বাসাই চলে আসল

কাব্য দরজার কলিংবেলে চাপ দেয়
একটু পরেই কাব্যর মা এসে দরজা খুলে দেই

কাব্যঃ মা চলে এসেছি

মাঃ সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি যা সর

কাব্যঃ আমাকে সরিয়ে দিয়ে তিথির কাছে গেল

তিথিঃ কেমন আছো মা???

মাঃ হুম মা আছি তুমি এখন কেমন আছো???

তিথিঃ হুম সমপন্ন সুস্থ

মাঃ এসো ভেতরে এসো

কাব্যঃ দুই মা মেয়ে আমাকে রেখে ভিতরে চলে গেল মনে হচ্ছে আমি যেন কিছুই না হুহ
রাগ হচ্ছে খুব নিজের রুমে চলে গেলাম

আর ওইদিকে তিথি আর মা হেসে হেসে কথা বলছে আমার বউ আমি নিয়ে এসেছি আমি একটু মন ভরে কথা বলব কতদিন কথা হয়নি আর মা যেনো ছাড়ছেই না

–এভাবে দুপুর গড়িয়ে রাত হয় কাব্য রুমে বসে থাকে খেতে ডাকলে সবাই একসাথে এসে lunch করে কিছু কথা বলে আবার রুমে চলে আসে ঠিকই কিন্ত কাব্য রুমে থাকে আর তিথি ও তার শাশুড়ি মিলে রুমে চলে যাই

কাব্যঃ ধুর আর ভালো লাগে না এতো অপেক্ষা যাই দেখে আসি কি করছে
মায়ের রুমের কাছে যেয়ে দেখি তিথি মায়ের কোলের উপরে সুয়ে সুয়ে গল্প করছে :::::কোনকিছু না ভেবেই মায়ের রুমে চলে গেলাম

মাঃ কীরে কী হলো??

কাব্যঃ না কিছু না “” এই মেয়ে তোমার সাহস কী করে হয় আমার মায়ের কোলে সুয়ে থাকতে?? যাও এখান থেকে

তিথিঃ হুহ আইছে তোমার মা ছিল কিন্ত এখন আমার আর কারোর না

কাব্যঃ কে বলেছে? আমার মা তুমি তো সেদিন আসলে

মাঃ কী শুরু করলি তোরা থাম এবার **** আচ্ছা আমি দুজনেরই মা

কাব্যঃ মানলাম

-কাব্য ও তিথি তাদের মাকে একটু আদর দিয়ে

কাব্যঃ এবার ঘুমাও মা সারাদিন-রাত মনে হয় টেনশন করেছ

মাঃ হুম এবার শান্তির ঘুম আসবে যাও তোমরাও ঘুমিয়ে পড়ো

তিথিঃ হুম good night

–কাব্য ও তিথি রুমে চলে গেল

কাব্যঃ (রুমের দরজা লক করে) এবার কী হবে??

তিথিঃ কী???

কাব্যঃ সারাদিন আমার থেকে দূরে থেকেছো এখন তার ফল পাবে

তিথিঃ হুম কাছে এসো বুঝিয়ে দিচ্ছি

কাব্যঃ মানে???

তিথিঃ এসোই না
কাব্যঃ তিথির সামনে এগিয়ে গেলাম আর তিথি আমায় সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে ইয়ে করে দেই
মানে বুঝেন না??
বুঝতে হবে না এখন আদর করতে দিন
–তিথি আর কাব্য দুজনে মিলে ভালবাসার পরশে মাখামাখি করছে এক অতৃপ্ত সুখ
থাকনা তারা এমন ভালো -এভাবে কাটুক তাদের জীবন সুখী হোক তারা

৫ বছর পর

মিথিঃ আব্বু আব্বু আম্মু তোমাতে এতো তুমু খাই কেন??

কাব্যঃ কী করে বলি আমার আম্মুনি তোমার আম্মু কেন এতো তুমু খাই

মিথিঃ আমাই এত্তুও খাই না তুমু

কাব্যঃ হুম তোমার মায়ের তো শাসন দরকার দাড়াও আজই বকে দেব

তিথিঃ হুম ওটাই পারো কাছে এসে দেখো ইঞ্জেকশন দিয়ে দেবো

কাব্যঃ হুম ওইটুকুই খুব ভালো পারো

তিথিঃ হুম অফিস থেকে এসে কাজ পাও না মেয়ের সাথে আমার নামে নালিশ দাও

মিথিঃ তো কি বলব তুমি থুধু আমাল আব্বুকে তুমু দাও আমাকে দাও না

তিথিঃ ওলে আমাল মামুনিইই (কোলে তুলে নিয়ে) উম্মম্মম্মম্ম আয়ায়ায়া উমা উমা উমা উমা

আর কতো লাগবে??

মিথিঃ আরও অনেত অনেত

তিথিঃ হুম দেবো কিন্ত তোমার বাবাকে খেতে দিই অনেক দূরে থেকে আসল

মিথিঃ আচ্ছা

তিথিঃ যাও ফ্রেশ হয়ে নাও

কাব্যঃ আমারটিও দাও

তিথিঃ কী???

কাব্যঃ ওইযে তুমু

তিথিঃ ইহহ্ লজ্জা করে না মেয়ের সামম্মম্মম

–কাব্য তিথিকে আর কিছু বলতে না দিয়ে লম্মবা একটা কিস করে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যাই

তিথিঃ অসহ্য বর একটা কিছু না বুঝে কী করে ঠিক নেই(রেগে গিয়ে)

মিথিঃ আমি কিছু দেখিনি🙈🙈🙈

তিথিঃ ওলেলে লক্ষী মামনিই চলো–

কাব্যঃ মা কোথাই???(খেতে খেতে)

তিথিঃ রুমে আছে, বয়স হয়েছে তো আর বেশি বেড়াতে দেওয় যাবে না এখন বিশ্রাম নিক

কাব্যঃ হুম

–খাওয়া দাওয়া করে বিভিন্ন সংলাপ কথা আনন্দে রাত হয়ে গেল

★★মিথি ঘুমিয়ে গেছে আর কাব্য অফিস এর কাজ সেরে উঠে বসে দেখে তিথি তার দিকে তাকিয়ে আছে
কাব্যঃ কী হলো???

তিথিঃ আমার একটা জিনিস লাগবে

কাব্যঃ কী???

কাব্যর কানের কাছে এসে
তিথিঃ মিথির জন্য একটা ভাইয়া লাগবে

কাব্যঃ তিথির এমন কথা চমকে উঠে ওর দিকে তাকাই দেখি ও লজ্জাই শেষ

–এভাব তাদের আরো একটি মধুর রাত পার হলো আর হ্যা মিথি হলো তাদের পরিবারের একমাত্র মেয়ে
আর তিথি পড়াশোনা শেষ করে এখন একজন ভালো ডক্টর।।।

::::::::::::::::::::::::::::সমাপ্ত::::::::::::::::::::::::::::::::

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *