তোকে চাই। পার্ট_১০ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 10

তোকে চাই সকল পর্ব

উনাদের গল্পের মূল বিষয় যে আমি,,সেটা বুঝতে বাকি রইলো না।।।উনাদের মুখে “রোদ” নামটা শুনেই থমকে দাঁড়ালাম,,,,

তুই কি রোদকে ভালোবাসিস??

চুপ করে আছিস কেন??সাব্বির যা বলছে তার উত্তর দে,,,

তোরা প্লিজ চুপ করবি??এসব বলতে এতো রাতে এখানে এসেছিস নাকি??(বিরক্ত হয়ে)

তোর যদি তাই মনে হয় তাহলে তাই,,,এখন উত্তরটা দে,,,

হয়তো না।।

হোয়াট??হয়তো??একটা হয়তোর মধ্যে তুই একটা মেয়ের জীবন বেঁধে রাখছিস??(চড়া গলায়)

কিন্তু আমার মনে হয় তুই রোদকে ভালোবাসিস,,নয়তো ওইদিন রাতে আশিকদের ওভাবে পিটিয়েছিলি কেন??আর সাহেলকে ওর পাশে দেখলে তোর রাগই বা লাগে কেন??

ভয়,,,

হোয়াট??(সাব্বির+রোহান)

লাইক সিরিয়াসলি?? যাকে ভালোইবাসিস না তাকে নিয়ে আবার কিসের ভয়???

হারানোর ভয়,,,

ফাজলামো করিস??ভালোবাসিস না আবার হারানোর ভয়,,,সব কিছুর একটা লিমিট আছে,,,,

দেখ শুভ্র,,,আমরা সবাই জানি যে,,সাহেল রোদ কে পছন্দ করে,,তুই ওকে ভালো না বাসলে,,শুধু শুধু মেয়েটাকে ধরে রেখে কষ্ট দিচ্ছিস কেন।।।সাহেল ওকে ভালো রাখবে,,,

পাগল হইছিস তুই??রোদ আমার বউ(চিৎকার করে)

রোহান ভুল কি বলেছে শুভ্র???ওকে ভালোবাসিস না,,,স্ত্রী হিসেবে পুরোপুরি মানতেও পারিস না,,,আবার হারামোর ভয়ও পাস,,এসব কি???এতো টানাপোড়েনের চেয়ে সাহেলের কাছেই কি রোদ ভালো থাকবে না???

না থাকবে না।।কারন আমি থাকতে দিবো না।।

কিন্তু কেনো শুভ্র?

ওকে আমার প্রয়োজন,,,ওকে ছাড়া আমার চলবে না,,,

মানে কি???খুলে বলবি প্লিজ??ভালোবাসিস না আবার বলছিস প্রয়োজন??বলদ মনে হয় আমাদের??(রাগী কন্ঠে)

যা সত্য তাই বলছি।তোরা তো জানিস নিলী মারা যাওয়ার পর আমি কতোটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম।।।তিন মাসে সাত সাতটা বার সুইসাইড এটেম্প করেছি,,,,হয়তো আরো করতাম কিন্তু তোদের জন্য হয়ে উঠে নি।।।আমার অবস্থা কেমন হয়েছিল তা হয়তো তোরাই ভালো জানিস।।আমার সিচুয়েশনটা হয়তো তোরা বুঝতে পারতি বাট আমার মনের অবস্থাটা।।।প্রতিটি মুহূর্ত দম বন্ধ হয়ে এসতো।।নীলির কথা মনে পড়তেই,, নিজেকে শেষ করে দিতে মন চাইতো,,,যে মেয়েটাকে একদিন না দেখলে পাগলামো শুরু করতাম,,, সেই মেয়েটাকে নিজ হাতে মাটিচাপা দিয়েছি ভাবতেই শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতো।।।তখন মরে যাওয়াটাই আমার কাছে সবচেয়ে শান্তির বলে মনে হতো।।।কেউ শখ করে সুইসাইড করে না,,,কতটা কষ্ট বুকে চেপে তারা এই ডিসিশন নেই সেটা আমি বুঝেছি প্রতিটি মুহূর্তে।।। ভালোবাসাটা ভুলে যাওয়া কি এতোই সহজ???তোদের কাছে হয়তো বিষয়টা অতিরঞ্জিত বলে মনে হয় কিন্তু আমার কাছে নয়।।তোরা ভাবছিস আমি কেনো নীলিমাকে ভুলে যায় না??কিন্তু সত্যিটা হলো আমি ওকে ভুলতেই চাই না।।আরে নীলি কি ওকে ভুলে যাওয়ার জন্য আমাকে ভালোবেসেছিলো??আজ ও নেই আর তাই আমি ওকে নিজের জীবন থেকে ছুঁড়ে ফেলবো??ভুলে যাবো??এতোটা নিচ আমি??আমার ভালোবাসাটা কি এতোটাই ঠুনকো??কিন্তু হ্যা,,ভালোবাসাটাই জীবনের সব কিছু নই,,রেসপনসেবলিটি,, ফ্যামিলি অনেক কিছুই জড়িয়ে থাকে এই জীবনটার সাথে।।আমি শুধু নিজেকে নিয়েই পড়ে ছিলাম,,এদিকে যে আমার চিন্তায় মা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বুঝতে পারি নি,,,,একদিন বাবা আমাকে এসে বললো,, মা নাকি তিনদিন যাবৎ হসপিটালে এডমিট,, কথাটা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম।।তিনদিন ধরে মা অসুস্থ আর আমি জানি না???বাবার কাছ থেকে জানতে পারলাম মার অসুস্থ হওয়ার কারনটা আমি।।।আমাকে নিয়ে চিন্তায় মা এতোটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে,,,,ছোট থেকেই মার আদরের ছেলে আমি,,,তাই হয়তো আমার অবস্থাটা মা মেনে নিতে পারে নি।।।আর আমিও পারিনি মার অবস্থাটা মেনে নিতে,,,তাইতো নিজের কষ্টটাতে হালকা পর্দা মেলে দিয়ে হসপিটালে ছুটে গিয়েছিলাম,,,সেটাই ছিলো তিনমাসের মধ্যে প্রথম নিজের ইচ্ছায় ঘরের বাইরে পা ফেলা।।মাকে দেখে বুঝতে পেরেছিলাম,,মাকে বাঁচাতে হলে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে আর বেঁচে থাকতে হবে সুস্থভাবে।।।শুরু হলো অভিনয়,,,নিজের সাথেই যুদ্ধ,, প্রতিটি মুহূর্তে নিজের অস্তিত্বটাকেই হারিয়ে ফেলছিলাম।।হঠাৎ করেই বাবা ভাইয়ার বিয়ে ঠিক করলো।।ডক্টরদের ধারনা মাকে হাসি-খুশি রাখলে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন,,,আর মাকে খুশি করার এটাই বেস্ট ওয়ে।।।ভাইয়ার বিয়ের দিন হঠাৎই বাবা ডেকে বললেন,,”রোদ কে বিয়ে করতে হবে”।।কথাটা শুনে আমি চরম অবাক হয়েছিলাম,,,ওই বাচ্চা মেয়েটাকে নাকি বিয়ে করবো,,পাগল নাকি বাবা??আমি শুধু নীলিকে ভালোবাসি,,,শুধু শুধু কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে যাবো কেনো??,,,কিন্তু সেদিনও আমার যুক্তিটা ব্যর্থ হলো মার করুন চাহনীতে,,,বাবার এককথা,,রোদের মাঝে মার ছায়া আছে,,রোদই নাকি পারবে নীলিকে ভুলিয়ে দিতে।।।কথাটা শুনে প্রচন্ড রাগ লাগছিলো,, ওরা কেনো বুঝতে পারছে না যে আমি নীলিকে ভুলতে চাই না।।।ভেবেছিলাম রোদ হয়তো রাজি হবে না,,,কারন ও তো জানে আমি নীলিকে কতোটা ভালোবাসে।।।কিন্তু এবারও নিরাশ হতে হলো আমাকে,,রোদ বিয়েটা করেই নিলো।।।সব ক্ষোভ,,,কষ্ট,,,সবকিছু রোদের উপরই গিয়ে পড়লো।।ওকে দেখলেই রাগ লাগতো,,কিন্তু বিয়ের পরের দিন ওর বলা কথাগুলো আমাকে নাড়া দিলো,,,সত্যি তো বাচ্চা মেয়েটার তো কোনো দোষ নেই,,,সেদিন মনে হচ্ছিলো যদি একবার নীলিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারতাম,,,বলতে পারতাম প্লিজ ফিরে আসো,,,আমি মরে যাচ্ছি,,দম বন্ধ হয়ে আসছে।।

এটুকু বলে উনি চুপ হয়ে গেলেন,,,আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।।উনার প্রতিটি কথা আমার বুকে যেন তীরের মতো বিঁধছে,,,হয়তো উনি কাদঁছেন,,,আমিও কাঁদছি,,জানি না কেনো,, কিন্তু আজ খুব কান্না পাচ্ছে,,খুব।।উনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলতে শুরু করলেন,,,,

বাবার কথাটা সত্য ছিলো,,,আমি ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে এসেছি।।এমন নয় যে আমি নীলিকে ভুলে গেছি,,,আশ্চর্যের বিষয় হলো রোদ আশেপাশে থাকলে আমি নীলিকে আরো বেশি করে ফিল করি।।রোদের নিশ্বাসের শব্দে ওর চাহনীতে নীলিমার প্রকাশ স্পষ্ট।।।আমি রোদের চোখে সবার মতো,,আমার জন্য বিরক্তিকর সহানুভূতি দেখিনি,,ওর চোখে সবসময় একটা ভরসা,,, নীলিমার জন্য ভালোবাসা আর সম্মান দেখেছি।।। রোদ সবসময় নীলির প্রতি আমার ভালোবাসাটাকে সম্মান করে,,সবার মতো আমার পাগলামো বা বাড়াবাড়ি বলে মনে করে না,,,ওর সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ও আমাকে রাগিয়ে হোক,,বিরক্ত করে হোক,,হাসিয়ে হোক,,এই ডিপ্রেশন থেকে দূরে রেখেছে।।এতোদিন পর ওর জন্যই আমি প্রথম হেসেছি।।এখনো বড্ড কষ্ট হয়,,,মনে হয় বুক থেকে কলিজাটা কেউ ছিঁড়ে নিচ্ছে,,, কিন্তু রোদের কথায়,,কাজে কষ্টগুলো নীলির সাথে কাটানো সুন্দর স্মৃতিগুলোর কাছে চাপে পড়ে।।।এখন আমি হেল্পলেস,,,রোদকে আমার চাই।।।মা কে বাঁচাতে হলে আমায় বাঁচতে হবে,,আর আমায় বাঁচতে হলে রোদকে আমার কাছে থাকতে হবে।।।জানি আমি স্বার্থপরের মতো কাজ করছি কিন্তু রোদকে হারিয়ে ফেললে হয়তো আমিও হারিয়ে যাবো।।

আরে,,এটা কি ভালোবাসা নয়??

না,,,এটা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়তা,,,

আমি আর দাঁড়ালাম না,,,,আসলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।।ঝটপট নিচে নেমে রাহেলার কাছে ট্রে টা ধরিয়ে দিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম,,,,আজ আমি কাঁদবো,,,অনেক কাঁদবো,,,

ওয়াশরুমে চুপচাপ বসে আছি,,,,পাশের ট্যাব থেকে অঝোরে পানি ঝরছে তার সাথে তাল মেলাচ্ছে আমার চোখ।।।জানি না আমি কেন কাঁদছি,,,,নিজের জন্য নাকি শুভ্রর জন্য।।আমার এই ভাগ্যটার জন্য কে দায়ী??শুভ্র??শুভ্রকে আমি কিভাবে দোষ দেবো??সত্যিই তো ভালোবাসার মানুষকে ভুলে যাওয়া কি এতো সহজ??আমি উনার জায়গায় থাকলে কি পারতাম মেনে নিতে???যে সয় সেই বুঝে কষ্ট কাকে বলে,,শুভ্রর কষ্টের সামনে আমার কষ্টটা নিতান্তই তুচ্ছ।।।নিজেকে খুব অসহায় লাগছে,,মনে হচ্ছে যদি কোনোভাবে শুভ্রর কষ্টগুলো ধুয়ে মুছে দিতে পারতাম,,,,কিন্তু আমি হেল্পলেস।।।আমারও আজ খুব করে মনে হচ্ছে,,, নীলিমা আপু,,ফিরে আসো তুমি,,,একবার ফিরে আসো,,তোমার শুভ্রকে আমি তোমার কাছেই ফিরিয়ে দেবো,,,,আমি উনার হাসিটাকে পেতে চাই,,উনাকে না পেলেও আমার চলবে,,,কান্নাভেঁজা শুভ্রকে আমি আর নিতে পারছি না,,,প্লিজ ফিরে আসো।।।তুমি তো সবসময় বলতে,,আমার কোনো কথায় তুমি ফেলতে পারো না,,,দেখো তুমি মিথ্যে বলতে আমাকে।।।সবসময় মিথ্যে বলতে।।হঠাৎ উনার গলার আওয়াজ পেয়ে উঠে দাঁড়ালাম,,,আমাকে ডাকছেন।।মুখে-চোখে পানি দিয়ে বেরিয়ে আসতেই দেখি উনি ওয়াশরুমের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।।।চোখগুলো লাল হয়ে আছে,,মুখটাও মলিন,, হয়তো কেঁদেছেন।।।আমাকে দেখেই বলে উঠলেন,,

তুমি ঠিক আছো?

হুম(মাথা নেড়ে)কেন???

না,, তোমার চোখ-মুখ ফুলে আছে যে তাই বললাম??

এ,,এমনি,,ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাই হয়তো।।

ওহ

উনার “ওহ” কথাটা আমার বুকে গিয়ে লাগলো।।অন্য সময় হলে হয়তো,,এখন আমাকে ইচ্ছে মতো বকে দিতেন,,,,কিন্তু আজ শুধু একটা “ওহ”।।

নীলিমা আপুকে খুব মিস করছেন তাই না???(টলমলে চোখে)

আমার কথাটা শুনেই উনি উল্টোদিক ফিরে ব্যালকনির দিকে পা বাড়ালেন,,, হয়তো চোখের জল লুকানোর চেষ্টায় আছেন।।

আমিও মিস করছি খুব,,,,

কথাটা শুনেই উনি ফিরে তাকালেন,,চোখে ভার হয়ে থাকা অশ্রুগুলো নেমে গেল গাল বেয়ে,,আমার চোখেও জল।।উনি ধীরে ধীরে বিছানায় গিয়ে বসলেন,,মাথা নিচু করে দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে রেখেছেন,,,শরীর হালকা কেঁপে কেঁপে উঠছে,,,বুঝতে পারছি কাদঁছেন।।।মাঝে মাঝে অবাক হয়,,, কাউকে এতোটাও ভালোবাসা যায়???আমার বুকটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত,,নিজের স্বামীকে এভাবে কাদঁতে দেখলে নিজেকে যে কতোটা অসহায় বলে মনে হয় সেটা কাউকে বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।।সাহস নিয়ে উনার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম,,কাঁপা কাঁপা হাতে উনার কাঁধে হাত রাখতেই বাচ্চাদের মতো কাদঁতে লাগলেন।।।হয়তো আমার হাতের ছোঁয়ায় ভরসা খুঁজে পেয়েছেন।।আমি হাত রাখতেই উনি ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বলে উঠলেন,,,

ভীষন কষ্ট হচ্ছে রোদ।।আমার সাথেই কেনো হলো এমন??বলতে পারো??আমি আজ সবার কাছে অপরাধী,,, আমার দিকে সবাই আঙ্গুল তুলে দাঁড়িয়ে আছে।।।বাবার কাছে আমি অপরাধী,,তোমার কাছে অপরাধী,,, সাব্বির রোহান ওদের কাছেও আমি অপরাধী,,, ওদের ধারনা আমি আমার জেদ আঁকড়ে ধরে আছি।।।এটা আমার জেদ নয় রোদ,,,বিশ্বাস করো।।সবাই আমাকে দোষী করে,,নিশ্চিতে নিশ্বাস নিচ্ছে,,,কিন্তু আমার যে দম বন্ধ হয়ে আসছে।।।আমি ছেলে বলে আমার কষ্টগুলোর কোনো মূল্যই নেই,,,আমি কাকে দোষী বলবো,,,কাকে বলবো হ্যা তুমিই অপরাধী,,, বলতে পারো???প্রতিটি নিশ্বাস যেন বুকে কাঁটার মতো বিঁধছে,,,আমি বাঁচতে পারছি না রোদ,,,আর পারছি না।।।

উনার কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলার ভাষায় খুঁজে পাচ্ছি না,,,শুধু কেঁদেই যাচ্ছি,,,জানি না কি মনে করে হঠাৎই উনাকে জড়িয়ে ধরলাম,,,খুব শক্ত করে,,হয়তো উনি ছুড়ে ফেলে দেবেন আমায় তাতে কি,,,তবু যেনো উনার সাথে মিশে গিয়ে উনার কষ্টগুলোকে ধুমড়ে মুচড়ে দিতে ইচ্ছে করছে।।কিন্তু উনি তেমন কিছুই করলেন না,,,উল্টো আমাকে আলতো হাতে জড়িয়ে নিলেন নিজের সাথে,,,, কষ্টগুলোকে ভাগ করে দিতে চাচ্ছেন হয়তো।।।দুজনেই কাঁদছি,,,দুজনের কান্নায় একটা মানুষকে ঘিরে,,,উনার চোখের জলে আমার চুল,,আর আমার চোখের জলে উনার টি-শার্ট ভিজে একাকার।।।উনি একটি হেঁচকি তুলে বাচ্চাদের মতো বলে উঠলেন,,,

নীলিকে এনে দিবা রোদ??প্লিজ,,,,একবার এনে দাও না।।আমি না আর পারছি না।।বিশ্বাস করো,,একটুও সহ্য হচ্ছে না আমার।।।আমি মরতেও পারছি না আবার বাচঁতেও পারছি না।।আমাকে বাঁচাও রোদ,,,আমার নীলিকে চাই,,শুধু একটু দেখবো ওকে,,একটা নজর।।কতোদিন দেখি না।।।

উনার কথায় হুহু করে কেঁদে উঠলাম,,বুঝতে পারছি উনি উনার মাঝে নেই।।আবরার শুভ্র কখনো নিজের ইমোশন গুলো দেখায় না।।।নীলি আপু মারা গেছেন চারমাস হতে চললো,,,এরমধ্যে কেউ উনাকে কাঁদতে দেখেনি শুধু আমি ছাড়া।।।হঠাৎই খেয়াল করলাম উনার শরীর বড্ড গরম,,,আবারো জ্বর উঠে গেছে,,সেদিনও এমন হয়েছিলো আজ আবারো।।।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উনাকে উঠিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম,,,রাত ১২ঃ৩০ বাজে,,এতো রাতে মামানিকে ডাকা ঠিক হবে না।।উনি তো নিজেই অসুস্থ।।।তাই এক বাটি পানি আর একটা কাপড়ের টুকরো নিয়ে পাশে বসতেই উনি আমার কোলে মাথা রেখে কোমর জড়িয়ে ধরলেন,,,উনার গায়ের তাপে আমার শরীর কেঁপে উঠছে,,,উনি বিরবির করে কিছুএকটা বলছিলেন,,,কান পেতে যেটুকু শুনতে পেলাম,,তা হলো….

নীলি,,এবার আর যেয়ো না,,, তুমি,, চলে গেলে আমি কাঁদবো,,,

সম্পূর্ণ বাচ্চাদের মতো কথা,,,সবার মাঝেই একটা বাচ্চা লুকিয়ে থাকে,,,সেটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে,,,বিষয়টা কিন্তু খারাপ না,,বেশ ইন্টারেসটিং।। আমি মনের অজান্তেই হেসে দিলাম,,,,নিজেই পিচ্চি আবার আমাকে পিচ্চি বলে,,,হুহ,


কারো হেঁচকা টানে ঘুম ভেঙে গেলো,,কোনোরকম চোখটা খুলেই দেখি শুভ্র অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তাঁকিয়ে আছে,,আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই বলে উঠলেন,,,

হোয়াট দ্যা হেল রোদ,,,তোমাকে না বলছি আমার থেকে দূরে থাকবে,,তবু এভাবে আমার কলিজার উপর শুয়ে আছো কেন??

উনার কথায় ব্যাপক রাগ লাগছে,,আরে ব্যাটা বলে কি??আমি উনার কলিজার উপর শুয়েছিলাম নাকি উনি আমার কলিজার উপর শুয়েছিলেন,,,এতো দেখি চোরের মায়ের বড় গলা,,,

আমি না আপনি শুয়েছিলেন,,তাও আবার আমার কলিজার উপর,,,,

বাজে কথা বলবে না,,আমি বোকা নই,,,পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু বাজে চিন্তা,,,

হোয়াট??আমি বাজে চিন্তা করছি,,আর আপনি যে কাল রাতে…..

কাল রাতে কি হ্যা??পড়া কমপ্লিট করছো তুমি???ফাজিল মাইয়া,,,পড়াশুনা বাদ দিয়ে শুধু মাখামাখি করার চেষ্টা,,,

উনার কথা শুনে মনে হচ্ছে,,, উনার সবগুলো চুল টেনে টেনে ছিঁড়ি।। সারাটা রাত নায়কা সাবানার মতো সেবা করার পর সকালবেলা ব্যাটা নায়ক উমরসানির মতো স্মৃতিশক্তিই হারায় ফেলছে,,,কেমনডা লাগে??ফাজিল পোলা,,,এতোকষ্ট করে কেন করলাম সেবা??হোয়াই??আগে জানলে ব্যাটাকে এমনি ফেলে রাখতাম,,মরে ভূত হয়ে নীলি আপুর সাথে,,লা,,লালা,,লা,, লা করে ঘুরে বেড়াতি,,সেটাই বেস্ট হতো।।।।হুহ।।

আচ্ছা এই পানিভর্তি বাটি এখানে কেন??(ভ্রু কুচকে)

ওখানে ডুবে মরবো তাই,,,(মুখ ভেঙিয়ে)

কথাটা বলেই ওয়াশরুমে চলে গেলাম,,এই অসহ্যকর লোকটার সামনে বসে থাকার কোনো মানেই হয় না।।।


ডায়নিং রুমে বসে আছি।।।সবাই খাবার নিয়ে ব্যস্ত আর আমি “হা” করে তাকিয়ে থাকতে ব্যস।।।খাবারের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট আপাতত জিরো,,,আমার সামনে শুভ্র বসে আছে,,ছেলেরা যে কতোটা সুন্দর হতে পারে তার প্রমান দিতেই হয়তো উনাকে এতোটা সুন্দর লাগছে,,,উফফ,,,ব্ল্যাক ড্রেসাপে এতো ড্যাশিং লাগছে,,ইচ্ছে হচ্ছে জোস বানিয়ে খেয়ে নিই।।।হঠাৎই উনি বলে উঠলেন,,,

মুখটা অফ করে খাওয়ার দিকে মনোযোগ দাও,,,

কত্তোবড় অপমান,,,ছিহ,,,মামু,, মামানি তো আছেই,,,আরিফ চাচা পর্যন্তও মুখ চেপে হাসছে,,,ব্যাটা খাটাস।।।মুখটা গোমড়া করে বসে আছি।।কিন্তু তাতে কারো কোনো ভাবান্তর হলো বলে মনে হলো না,,,সবাই সেই আগের মতোই হেসে চলেছে,,,উনি আবারও বলে উঠলেন,,,

আমার আজ ইম্পর্টেন্ট মিটিং আছে,,,সো আজ আমি তোমাকে ড্রপ করতে পারবো না,,,ড্রাইবার চাচাকে বলে রাখছি,,উনি তোমাকে পৌঁছে দিবে,,,

কি এমন ইম্পর্টেন্ট মিটিং যে ওকে ড্রপ করতে পারবি না।।

বললাম তো ইম্পর্টেন্ট,,আমি আসছি।।।

কথাটা বলেই উনি উঠে গেলেন।।।আমার তো যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে,,মিটিং হলেই এতো সাজুগুজু করে যেতে হবে নাকি??নির্ঘাত কোনো মেয়ের সাথে মিটিং,,হুহ,,জানি তো।।।

মামানিকে বলে আমিও বেরিয়ে পড়লাম কোচিং এর উদ্দেশ্যে,,, মাঝপথে গিয়েই আমার চোখ চড়কগাছ,,,,

#চলবে,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *