তোকে চাই। পার্ট_২ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 2

তোকে চাই সকল পর্ব

মানুষ এতোটা নিষ্ঠুর কি করে হতে পারে??আমি যে একজন মানুষ,,আমারও যে কষ্ট হয় এটা হয়তো উনি ভুলেই গেছেন।।।নিজের কষ্টটাকে আমার কষ্ট দিয়ে ঢাকার কি অসাধারন প্রচেষ্টা!!!!আমি কিছু বলার ভাষায় খুজেঁ পাচ্ছি না,,,সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে বদ্দউম্মাত বলে মনে হচ্ছে,,,,হঠাৎ ই আমার পোড়ে লাল হয়ে যাওয়া হাতটা চেপে ধরলেন,,,ব্যথায় কুকিয়ে উঠলাম আমি,,কিন্তু সেদিকে তার খেয়ালই নেই।।মনে হচ্ছে,, আমার ব্যথাতেই পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছেন তিনি,,,আমার চোখের পানিকে উপেক্ষা করে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বলে উঠলেন,,,,

এই এই মেয়ে,,,কথা কানে যায় না??আমার থেকে দূরে থাকতে বলি নি???এতো বেহায়া কেনো তুমি???বাবাকে তো হাত করেছো টাকার লোভে,,,এখন আমাকে হাত করতে চাও??(আরো শক্ত করে চেপে ধরে)লাস্ট বারের মতো ওয়ার্ন করছি তোমায়,,,,বিয়ে তো করেছো,,বাট কাছে আসার চেষ্টাও করবে না,,,আমার কাছে আসার অধিকার শুধু এবং শুধুই নিলীর,, বুঝতে পারছো তুমি??(হাত ছেড়ে দিয়ে চিৎকার করে)তোমাদের মতো সো কল্ড মিডিলক্লাস মেয়েদের বলেও কোনো লাভ নেই,,,তোমরা হয়তো এসব উত্তরাধিকারসূত্রেই পাও,,,তাই না??(তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)

এবার আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না।।।নিজের পরিবারকে কেউ আমারই সামনে নিঃসংকোচে অপমান করছে আর আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছি সেটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না,,,,অনেক হয়েছে আর নয়,,,নিজের রাগ,,,ক্ষোভ,,অভিমান সবকিছুকে ভিত্তি করে অসীম সাহস নিয়ে উনার কলার চেপে ধরলাম।।।উনার রক্তচক্ষু চাহনী আমার নজর এড়ায়নি,,,কিন্তু নাহ,,,আজ আর ভয় নয়,,,এই আধুনিক যুগে এসে,,, মধ্যযুগের মহিলাদের মতো স্বামীর অত্যাচার মুখ বুঁজে সহ্য করবো এমন শিক্ষা বাবা আমায় দেয় নি।।।

আপনার সাহস কি করে হয় আমার ফ্যামেলি নিয়ে কথা বলার??আমি চুপ করে আছি তারমানে এই নয় আপনি যা খুশি তাই বলবেন,,,,লিসেন মিস্টার শুভ্র,,,এতো নেকা সাজার চেষ্টা করবেন না।।কি যেনো বলছিলেন?আমি আপনাকে লোভে পরে বিয়ে করেছি,,,ইচ্ছা করলে আটকাতে পারতাম,,,আপনার জীবন নষ্ট করেছি,,ব্লা ব্লা।।।তাহলে এই একই প্রশ্ন যদি আমি আপনাকে করি তাহলে??কেনো নষ্ট করলেন আমার জীবন???কেনো??যদি নিলীমাকে এতোই ভালোবাসেন,, সেটা বিয়ে করার সময় মনে ছিলো না??ইচ্ছা করলে তো আপনিও আটকাতে পারতেন বিয়েটা,,,কেনো আটকান নি??কিসের লোভে??শরীরের??

রোদদদদদদদ,,,,,,

চেচাঁবেন না,,,,আপনার চেচাঁনোতে আমার কথা থামবে না,,,,অনেক বলেছেন,,,,এবার আমার পালা,,,,

তোমার সাহস কি করে হয় আমার কলার ধরার??

সাহস??(তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)সাহসের দেখেছেন কি??আগে আমার প্রশ্নের জবাবগুলো দেন।।।কেনো করলেন বিয়েটা??নিশ্চয় বলবেন বাবা-মার মুখের দিকে তাকিয়ে,,,ওদের চাপে,,,,,আরো কতো কিছু।।।তো মিস্টার শুভ্র,,বাপ -মা কি আপনার একার আছে??আমরা কি আকাশ থেকে টুপ করে পড়েছি নাকি??নাকি আপনার বাবা-মায়ের ইমোশন আছে,,,কষ্ট আছে।। আর আমার বাবা মার নেই??তারা কি পাথর???নাকি টাকা দিয়ে ওগুলোও অনলি মি করে রেখেছেন???আর কি যেনো বলছিলেন??টাকা??হুহ,,,আই স্পিট অন ইউর মানি।।আপনার টাকা ছুঁয়ে নিজের হাত নোংরা করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নেই।।।আর আপনার কাছে যাওয়ার কথা???হাসালেন আমায়,,,,আপনি ভাবলেন কি করে,,আপনি বলবেন আর আমি ডেং ডেং করে আপনার কাছে চলে যাবো???আমি আপনার মতো থার্ডক্লাস রুচি বহন করি না,,,,আরে,,আমি আপনাকে ওয়ার্ন করছি,,,ডোন্ট ট্রাই টু টাচ মি।।আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি না।।নিহাত,,বাবা-মার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি,,,নয়তো আপনার মতো লো ক্লাস মেন্টালিটির কোনো লোককে,,, আমি রোদ তাকিয়েও দেখতাম না।।আর হ্যা,,,এতোদিন কিছু বলিনি তারমানে এই নয় যে আমি কথা বলতে পারি না,,,,আমি চুপ করে ছিলাম শুধুমাত্র আপনার কথা ভেবে।।।ভেবেছিলাম নীলিমা আপুকে হারিয়ে আপনি ডিপ্রেসড,,,,বাট আই ওয়াজ রং আপনি ডিপ্রেসড নন,,,,ইউ আর মেন্টালি সিক।।আর কোনো সাইকো কে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না,,,,ইউ গট ইট???
বলেই কলার ছেড়ে দ্রুত নিচে চলে আসলাম,,,ওখানে দাঁড়িয়ে থাকার বিন্দুমাত্র শক্তি আর নেই,,,রুম থেকে বেরিয়েই কয়েক দফা জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিলাম,,,,মাই গড😱রোদদদ,,,আই এম প্রাউড অফ ইউ,,,ওয়াহ্,,,ব্রেফ গার্ল,,,পুরাই নো বলে ছক্কা মেরে দিয়েছিস,,,,ওয়ে হোয়ে,,,সাইকোটার মুখটা দেখার মতো ছিলো।।ইচ্ছে করছে লুঙ্গি ডান্স দেই।ইশশশ,,,,আরে কে কোথায় আছিস আমার প্রশংসা কর,,,অতি খুশি লাগে কেরে???এসব ভাবতে ভাবতে বিশ্বজয়ী একটা হাসি নিয়ে নাচতে নাচতে নিচে চলে আসলাম,,,

কি রে ছোট নাতবউ??এতো খুশি লাগছে কেন তোকে??বর বেশি বেশি আদর করেছে নাকি??(মুখ টিপে হেসে)

আমি অধিক আনন্দে হিতাহিত ঞ্জান হারিয়ে দাদিকে জড়িয়ে ধরে বলে ফেললাম,,,,না গো বর আমাকে নয়,,,আমি বরকে আদর করে এলাম,,,,

তাই বুঝি??

হুমমম,,,,বলেই বুঝতে পারলাম।।।রং জায়গায় রং কথা বলে ফেলছি।।।ছি,,ছি,,আংকেল,,ভাইয়া,,,আন্টি সবার সামনে কি বলে ফেললাম।।।আল্লাহ মাটি ফাঁক করে দাও,,,নয়তো আকাশে ফোটো করে দাও,,,আমি আর বাচঁতে চাই না।।।আড়চোখে সবাইকে দেখছি,,, সবাই মিটিমিটি হাসছে,,ইভেন মামুও।।।আজকে বুঝতে পারছি লজ্জা কাকে বলে,,কত প্রকার ও কি কি??এর আগেও আমার ফলিশনেসের জন্য এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে আমায়,,,সেদিনও এই খাটাশ টার জন্য,,,,আর আজও,,😥

ফ্ল্যাসব্যাক,,,,

সেদিন শুভ্র ভাইয়ারা ফুল ফ্যামিলি আমাদের বাসায় ইনভাইটেট ছিলো।।আপু আর অভ্র ভাইয়ার বিয়ের কথা চলছিল তখন,,,,এক্সাম শেষে কলেজ থেকে বাসায় ফিরেই যেই না তাড়াহুড়ো করে রুমে ডুকতে যাবো,,কেউ একজন পিছন থেকে হেচঁকা টান দিয়ে পাশের গেস্টরুমে ডুকিয়ে দরজা দিয়ে দিলো,,,,ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে চিৎকার করতেই একজোড়া হাত আমায় দেয়ালের সাথে চেপে ধরে,, শক্ত হাতে মুখ চেপে ধরলো,,,,ভয়ে মনে হচ্ছিলো হৃৎপিণ্ড নামক জিনিসটা যকোনো টাইম বেরিয়ে আসবে,,,,চোখটা মিটমিট করে যা দেখলাম তাতে ভয় চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে শেষ সীমানায় গিয়ে পৌছাঁলো।।হ্যাং মেরে দাড়িয়ে আছি,,,,
যাকে আমি যমের মতো ভয় পাই,, সে যদি অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় আমাকে দেয়ালে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে,,তবে তা ভয় পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সুইটেবল বলে আমি মনে করি।।।শরীরে বাথ টাওয়াল জড়িয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শুভ্র ভাইয়া,,,উন্মুক্ত বুকে লেপ্টে থাকা লোম আর বিন্দু বিন্দু জল জানান দিচ্ছে,,, মাত্রই শাওয়ার নিয়েছেন তিনি।।ফরসা মুখটাকে হালকা লাল হয়ে থাকা চোখদুটো আরো আকর্ষনীয় করে তুলছে,,,কিন্তু প্রশ্নটা হলো,, আমাকে এখানে কেনো আনা হয়েছে??আর এভাবে চেপে ধরে থাকার কারনটাই বা কি???মেয়ে হিসেবে অবশ্যই আমার রেগে যাওয়া উচিত কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমার রাগ ভয়ের নিচে চাপা পড়ে আপাতত তান্দুরী চিকেনে পরিনত হয়েছে।।।আমি যেভাবে ভয়ে কাঁপা-কাঁপি করছি,,আমার ধারনা,, রাগের যদি কোনো ক্রোমোজোম থেকে থাকে তাহলে তারাও ইতোমধ্যে এই ব্যাটার ভয়ে রীতিমতো কাঁপা-কাঁপি শুরু করে দিয়েছে।।এই ব্যাটা যে লুচু নাম্বার ওয়ান,,,সে সন্দেহ আমার প্রথম দিনই ঘুচে গেছে।।উনি যে হাই লেবেলের বেশরম সেটাও আজ জানা হয়ে গেলো।।।ভয়ে-লজ্জায় না পারছি ওনাকে কিছু বলতে,, না পারছি উনার দিকে তাকাতে,,, এভাবে বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে থাকাও আমার পক্ষে সম্ভব না,,,হাত-পা অসম্ভব ঠান্ডা হয়ে আসছে।।তার ওপর নেমকহারাম হার্টটা আমার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে ।।উনিও কিছু বলছেন না,,,তাই ভয়ে ভয়ে আমিই বলে উঠলাম,,,,


আ,,,আমাকে এ,,,এখানে কেনো এ,,,এনেছেন??

গুড কোশ্চেন,,,,তোমাকে এখানে আনার পিছনে আমার বড় সড় একটা প্লেন আছে,,,(শয়তানী হাসি দিয়ে).

ম,,মানে?ক,,,কি পপপপ্লেন,,,(কাদোঁ গলায়)

এই মেয়ে কাঁপছো কেন??(রাগী গলায়)

আ,,আ,,আপনি প,,প্লিজজ,,,আমার সাথে এ,,এমন কিছু করবেন না।(কাঁদো কাঁদো হয়ে)

এমন কিছু মানে?(ভ্রু কুঁচকে) লাইক সিরিয়াসলি??(চিৎকার করে)এই মেয়ে??তোমার মাথায় কি আসলেই কয়েকটা তাড় ছিঁড়া নাকি??হাউ কেন ইউ থিংক এবাউড ইট??সারাদিন সিরিয়াল দেখলে তো এসব চিন্তায় মাথায় ঘুরবে,,,ফুপ্পিকে জানাতেই হবে,,,

আমি থতমত খেয়ে গেলাম,,,,প্রচুর লজ্জা লাগছে,,ছি ছি সত্যি তো আমি অনেক বেশি ভেবে ফেলেছি,,,কিন্তু আমি মোটেও সারাদিন সিরিয়াল দেখি না,,হুহ।।।আচ্ছা উনি মাকে কি জন্য বিচার দিবে??আল্লাহ বাঁচাও আমায়,,,,,

ক,,,কি বলবেন ম,,,মাকে?

বাচ্চা মেয়ের মাথায় যে এসব বাজে চিন্তা-ভাবনা ঘুরে বেড়ায় সেটা তো মা হিসেবে ফুপ্পির জানার পুরো অধিকার আছে,,,আর ভাই হিসেবে বিষয়টা উনাকে জানানো আমার কর্তব্য,,,তাই না??(চোখ টিপে)

ন,,,না।। প,,,প্লিজ মাকে কিছু বলবেন না।।প্লিজজজ,,,,,বি,,,বিশ্বাস করুন আমি মোটেও ওমন কিছু ভাবি নি,,,(মাথা নিচু করে করুন গলায়)

কেমন কিছু??

ওই তো,,,(বলতে গিয়েই দেখি উনি মুখ চেপে হাসছেন,,,তাই আর কথা না বাড়িয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম)

আচ্ছা তুমি চাচ্ছো যে,, আমি তোমার মাকে কিছু না বলি,,রাইট??

হুমম হুমম(তাড়াহুড়ো করে)

ওক্কে বলবো না,,,

সত্যিই(খুশি হয়ে)

হুমমম,,,বাট একটা শর্ত আছে,,,তোমাকে আমার জন্য একটা কাজ করতে হবে,,,,ইউ কেন টেক ইট লাইক আ ডিল,,,ইউ নো না??গিভ এন্ড টেক,,,,(বাঁকা হাসি দিয়ে)

ক,,কি করতে হ,,,হবে??

সিম্পল,,,তোমার রুমে একটা পার্সেল রেখে আসছি,,ওইটা তুমি কাল কলেজ যাওয়ার সময় নীলিকে দেবে,,,,

আমি ওনাকে কোথায় পাবো??(অবাক হয়ে)

আমাদের ভার্সিটি গিয়ে দিয়ে আসবা,,,

কিহ্।।।আপনার মাথা খারাপ??আমি একা কিভাবে??আর আপনার জিএফ আপনি যেতে পারেন না?(রেগে গিয়ে)

আমি যেতে পারবো না কজ বাবা আমাকে কাল এক মিনিটের জন্যও ছাড়বে না,,,তাছাড়া ম্যাডাম আমার উপর রেগে আছে ওর মানও ভাঙাতে হবে,, সো ইউ আর দ্যা বেটার অপশন ফর মি,,(চোখ টিপে)

আমি যাবো না।।(অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে)

ওকে যেয়ো না,,আমি যাচ্ছি ফুপ্পির কাছে,,কতো কিছু বলার আছে,,,,(যেতে নিলে)

এই নাহ নাহ,,,আমি যাবো(মুখ গোমরা করে)

গুড গার্ল

হাঠৎই অভ্র ভাইয়া রুমে ডুকে আমাদের এভাবে দেখে অবাক হয়ে দাড়িয়ে পড়ে,,, ভাইয়াদের জন্য চা নিয়ে এসে আপু শুভ্র ভাইয়াকে এভাবে দেখে চায়ের কাপ ফেলে দিয়ে চোখ চেপে ধরে চিৎকার দিয়ে ওঠে,,,তারপর বাকিসব ইতিহাস।।আপুর চিৎকারে আর কাপ ভাঙার শব্দে সবাই রুমে এসে হাজির।।সবাই চোখে একঝাঁক প্রশ্ন নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে,,,আর আমি???সে আর নাই বা বলি।।অবশেষে নীরবতা ভেঙে আম্মু গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,,,

রোদ??তুমি এই সময় এখানে কি করছিলে???

আআ,,আসলে,,পার,,পার (শুভ্র ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে থেমে গেলাম)

কি পার,পার করছিস?(ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলো আপু)

তারপর আমি যা,বলেছিলাম তাতে করে শুভ্র ভাইয়াসহ সবারই চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছিলো,,,আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমি এখানে গোসলের পারমিশন নিতে আসছিলাম।।।জানি কথাটা শুনে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু কি করা??পার্ দিয়ে অন্য কোনো ওয়ার্ড আসছিলোই না,,,আর উনার টাওয়ালটা দেখে গোসল ওয়ার্ডটাই ফট করে বেরিয়ে গেলো।।।এরপর শুভ্র ভাইয়া ওনাদের কিছু বুঝিয়েছিলেন,,,কি বুঝিয়েছিলেন তা আমি এখনও জানতে পারি নি,,,,তারপর থেকেই সবাই এই বিষয়টা নিয়ে মজা নেয় আর হুহা করে হাসাহাসি করে।।।


দাদীর কথায় বাস্তবে ফিরে এলাম,,,

ওইতো আমার দাদুভাই চলে এসেছে,,,কি গো দাদুভাই মুখটা এমন করে রেখেছো কেন??আদর কম হয়েছে নাকি??(মুখ টিপে হেসে)

ইশশশ,,,এবার আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো।।দাদীটাও না,,,কি দরকার ছিলো এভাবে লজ্জায় ফেলার??এবার আমি আড়চোখে ওনার দিকে তাকালাম,,,উনার রিয়েকশনটা দেখতে চাচ্ছি।।কিন্তু আমাকে ব্যর্থ হতে হলো,,,উনার মুখে রাগ বা লজ্জা কিছুই খোঁজে পাচ্ছিলাম না।।।দাদীকে কিছু না বলে চুপচাপ পাঁচ মিনিটের মধ্যে খেয়ে উঠে গেলেন।।।আমি ব্যাপারটা নিতে পারছিলাম না।।আমার ধারনা মতো এই মুহূর্তে উনার আমার প্রতি প্রচুর রেগে থাকার কথা,,,কিন্তু এখানে তো কাহিনীই উল্টায় গেছে।।।শাস্তি পেতে হবে না ভেবে আমার খুশি হওয়ার কথা কিন্তু এই মুহূর্তে আমি খুশি হতে পারছি না,,,একটা খটকা রয়ে যাচ্ছে।।।এরমধ্যে মামু বলে উঠলেন,,,

রোদ মা??কাল কিন্তু তোমাদের বাড়ি যাওয়ার কথা,, সব গুছিয়ে নিও।।।শুভ্রকে আমি বলে দিবো।।অভ্র-রুহি,, তোমরাও তৈরি হয়ে নিও,,,

আমরা,সবাই সম্মতি জানাতেই মামু লেপটপটা হাতে নিয়ে অফিসে চলে গেলেন।।।সারাটা দিন আপু আর মামানিকে কাজে হেল্প আর দাদীর সাথে দুষ্টামি করে কেটে গেলো,,,কিন্তু অবচেতন মন শুধু একটা কথায়,ভাবছে,,,,এই ব্যাটার মাথায় চলছে টা কি??এতো সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র তো উনি নন।।।রাতে আরেকটু জ্বালিয়ে বাজিয়ে দেখতে হবে,, ব্যাপারটা কি।।


রাত প্রায় ১২ টা বাজতে চললো উনার কোনো খোঁজ নেই।।সেই সকালে বেরিয়েছিলেন আর ফিরেননি।।।এবার বেশ দুশ্চিন্তা হচ্ছে,,,,উনার নাম্বার আমার কাছে আছে,,,কিন্তু আমার পক্ষে উনাকে ফোন দেওয়া পসিবল নয়,,ফার্স্টলি উনি আমার ফোন পিক করবেন না এন্ড সেকেন্ডলি উনাকে ফোন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।।।ইউ অল নো,,,ইগু ইজ আ বিগ ম্যাটার।।।ঠিক ১২ঃ৩০ মিনিটে উনি বাসায় ফিরলেন,,এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন।।উনাকে বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে।।আমার খুব ইচ্ছা করছিলো উনার সাথে কথা বলি,,কিন্তু উনার সাথে কথা বলার মতো কোনো টপিকই আমাদের মধ্যে নেই,,কি বলা যায় ভাবছি,,,

এই যে মিস্টার??

ইচ্ছা করেই কাঁচা ঘুমটা ভাঙলাম যেনো রেগে যায়,,কিন্তু উনি আমার ইচ্ছায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে,, ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,,কিছু বলবা??

উনার কথাটা স্বাভাবিক হলেও তার সেই অতি স্বাভাবিক কথাটা আমার কাছে অতি অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।।।আমি উনার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম,,

কি ব্যাপার??আপনি এখানে শুয়েছেন কেন??

তো কই শুবো?

তা আমি কি জানি??আমি এখন ঘুমাবো,,আর আমি আপনার সাথে এক বিছানায় কিছুতেই শোবে না,, সো ইউ কেন গো নাও।।

অনেকটা ঝাঁঝালো কন্ঠেই বললাম,,,কিন্তু এবারও রাগ না করে ,, কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা বালিশ নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লেন।।।এবার আমি অবাকের চরম সীমাই পৌঁছে গেলাম।।হচ্ছে টা কি এসব??উনি কি করতে চাইছেন??চুপিচুপি আমাকে মেরে নদীতে ফেলে দেওয়ার প্লেন করছেন না তো??হায় আল্লাহ,, কি হবে এখন??সেদিন রাতে ঘুমেরা আর চোখে ধরা দিলো না,,,সকাল সকাল উঠে নামায পড়ে নিলাম,,,উনি বাচ্চাদের মতো ঘুমোচ্ছেন,,খুব নিষ্পাপ লাগছে দেখতে কিন্তু মুখে একটা ক্লান্তির ছাপ।।।আচ্ছা উনার কিছু হয়েছে কি??হঠাৎ এমন পরিবর্তন কি আদৌ মেনে নেওয়া যায়??


ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে পড়লাম আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে।। খুবই ভালো লাগছে,, বাবা-মার সাথে পুরো একটা দিন থাকবো ভাবতেই নাচতে ইচ্ছা করছে,,,,আবার, পুষে রাখা অভিমানটাও চাড়া দিয়ে উঠছে বার বার।।উনি পুরো রাস্তা নির্বাক ছিলেন,,, গম্ভীর মুখে গাড়ী ড্রাইভ করে গেছেন শুধু,,,উনার এমন ব্যবহার আমায় বড্ড ভাবাচ্ছে।।বাইরের দৃশ্য আর পিছনের ছিটে বসে থাকা আপু আর ভাইয়ার খুনসুটি ঝগড়া ইনজয় করতে করতেই বাড়ি পৌঁছে গেছি।।।বাড়ি এসে বাবা-মাকে ভালোমন্দ জিগ্যেস করা ছাড়া আর একটা কথাও বলেননি উনি।।সকাল থেকে ই চুপচাপ বসে আছেন রুমে।।।দুপুরে কোনোরকম খেয়ে আবার রুমে চলে গেছেন।।।সবাই ড্রয়িংরুমে আড্ডা দিচ্ছিলো কিন্তু আমার মন পড়ে আছে উনার কাছে।।আচ্ছা উনার সাথে কি আমার কথা বলা উচিত???আর কিছু না ভেবে চলে গেলাম রুমে।।উনি কপালে হাত রেখে বিছানায় শুয়ে ছিলেন।।।কোনোরকম বনিতা না করে বলে উঠলাম,,,

এই যে শুনছেন??

হুমম (চোখ মেলে তাকিয়ে) কিছু বলবে?

আপনি কি ঠিক আছেন?? মানে,,বলছিলাম যে,,আপনাকে মোটেও ঠিক লাগছে না,,,কোনো সমস্যা হচ্ছে আপনার??চাইলে আমাকে বলতে পারেন(এক নিশ্বাসে বলে গেলাম)

রোদ,,,

উনার ডাকে আমি কেঁপে উঠলাম।।। এতো নরম আর করুন সুরে কেউ আমায় ডাকে নি এর আগে।।উনার কন্ঠটাই যেনো হাজারো আকুতি মিশে আছে,,,

রোদ,,,আমার সাথে একটু বাইরে কোথাও যাবে প্লিজজ???


(উইথআউট পারমিশন কেউ গল্প কপি করবেন না প্লিজ।।কি আশ্চর্যের ব্যাপার,,আমার গল্পগুলো কপি পোষ্টেই বেশি রেসপন্স পায়,,,ইট হার্ট’স মি😔😔)


উনার কথাটা শুনে যেনো আকাশ থেকে পড়লাম।।যে মানুষটা আমাকে এক মিনিটের জন্য সহ্য করতে পারে না সে কিনা আমাকে তার সাথে ঘুরতে যেতে বলছে,,,ব্যাপারটা হজম করতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে,,,,

যাবা রোদ???প্লিজজ,,,আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে রোদ,,,(করুন চোখে)

উনার কথায় কি রিয়েকশন দিবো বুঝতে পারছি না।।মস্তিষ্ক বলছে কোথাও গন্ডগোল আছে,,,নো রোদ ডোন্ট গো।।।কিন্তু মনটা তো নাছোড়বান্দা,,,তাই মনটাকে জয়ী করে রাজি হয়েই গেলাম।।।।

গাড়িতে বসে আছি আর উনি ড্রাইভ করছেন।জানি না কোথায় যাচ্ছি,,,কেনো যাচ্ছি?মনের মধ্যে নানা কথা উঁকি দিচ্ছে।।আচ্ছা,, উনি যদি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে আমাকে মেরে ফেলেন??এসব ভেবে ভয়ে কেঁপে উঠছি কিন্তু ওই যে মন,,যে সবর্দা মস্তিষ্কের বিপরীতে হাঁটে সে বড্ড নিশ্চিন্তে বসে আছে।।কেনো যেনো মনে হচ্ছে উনার সাথে থাকলে কোনো বিপদ আমায় ছুঁতেই পারবে না।।হঠাৎ করে ব্রেক কষাতে ভাবনার সুতো কাটলো।।উনি আমাকে নামতে বলে সামনের দিকে চলে গেলেন।।।একটা নির্জন জায়গায় গাড়ি থামিয়েছেন তিনি।।পরিবেশটাতে বেশ শান্তি শান্তি ভাব আছে,,,,মন ভালো হয়ে যাবার মতো পরিবেশ।।উনার দিকে এগিয়ে গেলাম,,, ঘাসের উপর মাথা নিচু করে বসে আছেন তিনি।।।একদিনেই মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে।।বড্ড মায়া লাগছে,,,,মনে হচ্ছে উনি ভেতরে ভেতরে গুমরে মরছেন।।জানি না কি ভেবে হঠাৎ উনার কাঁধে হাত রাখলাম।।তিনি যদি একঝটকায় আমার হাতটা কাঁধ থেকে সরিয়ে দিতেন তাহলে হয়তো তা আমার জন্য স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হতো,, কিন্তু তিনি যা করলেন তার জন্য আমি কোনো কালেই প্রস্তুত ছিলাম না।।।উনার কাঁধে হাত রাখতেই উনি বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে উঠলেন।।আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।।এমন কিছু হতে পারে আমি স্বপ্নেও ভাবি নি।।এই মানুষটাকে হাসতে দেখেছি,,রাগতে দেখেছি,,ধমকাতে দেখেছি কিন্তু কাঁদতে?? দেখি নি কখনো।।এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়ি নি,,কি বলে সান্ত্বনা দেওয়া যেতে পারে তাও জানা নেই,,,,তারউপর উনার এমন অদ্ভূত বিহেভিয়ারের কারণটাও জানি না,,,,তাই চুপ করে রইলাম,,কিছু বললাম না।।এই অসীম নীরবতায় শুধু উনার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে,,,আমার ভেতরটাও দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে,,হঠাৎ উনি আমার হাত উনার বুকে রেখে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠলেন,,,

এইখানটাই খুব কষ্ট হচ্ছে রোদ,,,আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না রোদ,,,আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।।বড্ড ভালোবাসি আমি নীলিকে বড্ড ভালোবাসি।।।ওকে ছাড়া আমি বেঁচে থাকতে পারছি না,,,,মরে যাচ্ছি আমি,,মরে যাচ্ছি।।(অঝোরে কাদঁছেন তিনি)জানো রোদ??ভালোবাসার পাল্লায় আমি সবসময় নীলির কাছে হেরে যেতাম।।আমার থেকেও বেশি ভালোবাসতো ও আমায়,,,তবু ধরে রাখতে পারলাম না,,,দেখো এই হাতটা আজ ফাঁকা,,,ও বলছিল কখনো ছাড়ঁবে না এই হাত কিন্তু ও কথা রাখে নি,,,ধোঁকা দিয়েছে আমায়,,,ধোঁকা,,,,,

আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না,,,,উনার কষ্টগুলো আজ বেরিয়ে আসছে সাথে আমাকেও কাঁদিয়ে মারছে।।একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন তিনি,,,

ওকে আমার চাই রোদ,,,,এনে দিবে ওকে?দাও না এনে,,,প্লিজ এনে দাও না,,প্লিজজজজ(বাচ্চাদের মতো আবদার করে)

বাচ্চাদের মতো আবদার করে যাচ্ছেন তিনি,,,কিন্তু উনাকে আমি কি করে বুঝাবো,,এটা যে আমার সাধ্যের মধ্যে নেই।। আমিও অঝরে কেঁদে চলেছি,,উনার চোখের জল যে বড্ড পোড়াচ্ছে আমায়,,,,

রোদ,,এই রোদ,,,বলো এনে দিবা??কিছু বলছো না কেন???জানো ওর শেষ কথা কি ছিলো??ও বলেছিলো,,শুভি একটা মিষ্টি মেয়ে দেখে বিয়ে করে নেবে কথা দাও।।।ওর কথা আমি রেখেছি,,ওর পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করেছি।।।তোমাকে খুব ভালোবাসতো নীলি,,,সবসময় বলতো তোমার কাজিনটা বড্ড মিষ্টি শুভি।।।কিন্তু ও আমার কথা রাখেনি,,চলে গেছে,,আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।।।(হেঁচকি দিতে দিতে)আমি বড্ড বাজে রোদ,,,বড্ড বাজে।।।তুমি কাল ঠিকই বলেছিলে,,আমি খুব নিচ একটা মানুষ,, এতটাই নীচ যে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকেও ধরে রাখতে পারি নি।।।তোমার জীবনটাও নষ্ট করে দিয়েছি রোদ,,,সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছি,,,,আমি বাঁচতে চাই রোদ,,,,আমি নীলিকে চাই,,,নীলি,,কে,,,

বলতে বলতেই উনি আমার কাঁধে ঢলে পড়লেন,,,গাঁয়ে হাত দিয়ে দেখি জ্বরে শরীরে পুড়ে যাচ্ছে।।অনেক ডাকার পরও যখন উনার সাড়া পেলাম না,,তখন আমি রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলাম,,,এই নির্জন জায়গায় আমি কার কাছে সাহায্য চাইবো??হঠাৎ ফোনে বেজে উঠলো,,স্কিনে ভাইয়ার নাম ভাসতেই জানে পানি এলো যেনো,,,,দ্রুত ফোন পিক করে,,,ভাইয়াকে উনার অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা বললাম,,,কিন্তু ঠিকানা??আমি তো নিজেই জানি না কোথায় আছি এই মুহূর্তে,, কি করবো এখন??আর কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যা নেমে আসবে,,ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আমার।।ভাইয়া হঠাৎ বলে উঠলেন আমি যেনো ফোনের লোকেশন অন রাখি,,,উনারা ট্রেস করে চলে আসবেন।।কথাটা শুনে কিছুটা হলেও শান্তি পেলাম,,,একটা আশার কিরন উঁকি দিয়ে গেল মনে।।।উনার গাঁয়ে হাত দিয়ে দেখলাম,,জ্বর বাড়ছে।।নিজেই তো একটা বাচ্চা আমি,,, মাত্র ১৭ বছর বয়স,,কতই আর বড় হয়েছি??ভয়ে হাত পা কাঁপছে,,, চারপাশে কারো সাড়াশব্দ নেই।।এই সময় আমার সাথে খারাপ কিছু হয়ে গেলে??কে বাঁচাবে আমায়??তারওপর উনি।।কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।।উনার মাথায় পট্টি দেওয়া উচিত,,কিন্তু এখানে কিভাবে??গাড়ি চেক করে একটা ওয়াটার পট পেলাম,,তাতে পানিও ছিলো,,,কিন্তু কাপড়??বাংলা সিনেমার দরদী নায়িকা সাবানার মতো অনেক চেষ্টা করেও শাড়ির আঁচল ছিড়তে পারলাম না,,,,মেজাজটাই বিগরে গেলো,,, ধেৎ,, সামান্য একটা শাড়ির আঁচল ছিড়তে পারি না আমি??শুভ্র ঠিকই বলে আমি আসলেই একটা মগা।।শুভ্রর পাশে বসে একমনে এসব ভাবছিলাম,,,হঠাৎ কি যেনো ভেবে,,উনার পকেটে হাত দিলাম,,অনেক খুজেঁ একটা রুমালও পেলাম,,,ব্যস হয়ে গেলো।।।রুমাল ভিজিয়ে উনার কপালে রেখে,, উনার বলা কথাগুলোই ভাবছিলাম,,,একটা মানুষ এতটা ভালো কি করে বাসতে পারে??নীলিমা আপু বড্ড লাকি,,তাকে ভালোবাসার মতো একটা মানুষ আছে,,যে তাকে পাগলের মতো ভালবাসে।।নীলিমা আপু আর শুভ্রকে দেখে আমারও বড্ড ইচ্ছে হতো শুভ্র ভাইয়ার মতো আমাকেও কেউ এমন করেই যদি ভালোবাসতো।।কিন্তু কে জানতো,,,যে আমি শুভ্র ভাইয়াকেই পাবো,,,আর শুভ্র ভাইয়া হারাবে তার ভালোবাসাকে।।।নিয়তি এতো নিষ্ঠুর কেনো??আমার এখনো সেই দিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে,,,কতো হাসি-খুশি ছিলো সবাই।।কিন্তু একটা ঝড় এসে,,, আনন্দমাখা দিনগুলোকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেলো,,,,স্বপ্নগুলোকে করে দিলো তছনছ,,,,কি ভয়ঙ্কর ছিলো সেই দিনটা,,,

ফ্ল্যাসব্যাক……

পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই দেখি শুভ্র ভাইয়া গেটে দাঁড়িয়ে আছে।।উনাকে আমার কলেজের সামনে দেখে অবাক হলাম।।।উনি এখানে কেন???

#চলবে

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *