তোকে চাই। পার্ট_১১ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 11

তোকে চাই সকল পর্ব

রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টে বসে আছে শুভ্র,,পাশে একটা মেয়ে।।মেয়েটাকে চিনতে আমার খুব বেশি কষ্ট হলো না।।এই সেই তিতা লাউ,,আই মিন মিথিলা।।।শুভ্র তাকে কিছু একটা বলছে আর মিথিলা শুভ্রর হাত চেপে ধরে বসে আছে।।ব্যাপারটা দেখে মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো।।এটাই উনার ইম্পর্টেন্ট মিটিং যার জন্য আমাকে ড্রপ করার মতো টাইম তার হলো না।।আমার থেকে এই মেয়েটা উনার কাছে বেশি ইম্পোর্টেন্ট??হবেই না বা কেন,,,আমার তো মনে হয়,,,,আমি ছাড়া এই পৃথিবীর সবাই উনার কাছে ইম্পোর্টেন্ট।।।আমার থাকা না থাকা আসলেই কি উনাকে বিন্দুমাত্র ভাবায়??আমার তো মনে হয় না।।।।মাথা ব্যাথাটা আবার নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে,, ইচ্ছে করছে দুজনের মাথা খুব জোড়ে ঠুসে দিই।।

ড্রাইবার চাচা??গাড়ি ঘুরান,,,বাসায় যাবো।।

কেন মা??কোচিং যাবেন না?

না চাচা,,শরীরটা ভালো লাগছে না,,বাসায় যাবো,,

আইচ্ছা মা।।।

বাড়ির দরজায় পা দিতেই মামানি হাজির,,,তার চোখে-মুখে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট,,,,

কি রে??চলে এলি যে??(অবাক হয়ে)

ভালো লাগছিলো না,তাই চলে এলাম,,,একটু ফ্রি স্পেস দরকার,,আম বোর।।

তাহলে এক কাজ কর,,আমার সাথে শপিং এ চল।।।

হঠাৎ শপিং এ কেন মামানি?

ভাইজানের বাসায়,যাবো।।কতোদিন পর যাচ্ছি,, তাই ভাবলাম ওদের জন্য কিছু কেনাকাটা করবো,,,তুই আমাকে হেল্প করবি চল।।।তাছাড়া,মাইন্ডও ফ্রেশ হয়ে যাবে,,,চল না,, মা।।

আচ্ছা চলো,,,(হালকা হেসে)

লক্ষী মেয়ে,,চল… ….(গালে হাত রেখে)


প্রায় দু’ঘন্টা ধরে শপিং মলে ঘুরে বেড়াচ্ছি এখনো একটা শাড়ি পছন্দ করতে পারে নি মামানি।।।তার ধারনা তার ভাবিমা কে যেনতেন জিনিস দেওয়া যাবে না,,অবশ্যই স্পেশাল শাড়ি দিতে হবে।।তাই এতো ঘুরাফেরা।।একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি,,আমার চোখে মুখে বিরক্তি স্পষ্ট,,হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,,,”এই শাড়িটা কেমন??”।।কথাটা শুনে আমি আর মামানি দুজনেই ফিরে তাকালাম।।।সাহেল ভাইয়া ফিরোজা রংয়ের একটা শাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।।।শাড়িটা দেখে মামানি বেশ খুশি হলেন বলেই মনে হলো,,খপ করে শাড়িটা নিজের হাতে নিয়ে তৃপ্তির হাসি দিলেন,,,

থেংকিউ বাবা,,,,শাড়িটা আসলেই সুন্দর।।

চাচিমনি তুমি আমাকে থেংকিউ বলছো??(মুখ গোমড়া করে)

তুমি কে??আমায় চেনো??(কনফিউজড হয়ে)

দেখছো চিনতে পারো নি??আমি সাহেল,,,(মন খারাপ করে)

সাহেল??আরে,,,তুই তো তালগাছের মতো লম্বা হয়ে গেছিস??

শুধু লম্বা?(ভাব নিয়ে)

হ্যান্ডসামও হয়েছিস,,,,

উনাদের কথা শুনে আমি হেসে দিলাম,,,তখনই মামানি আমাকে ইশারা করে বলে উঠলেন,,” ও রোদ,,শুভ্রর……”

রোদের সাথে পরিচয় হয়েছে,,সেদিন শুভ্র আর রোদের সাথে দেখা হয়েছিলো(মুচকি হেসে)

ওহ,,তাহলে তো ভালোই,,চল তাহলে এবার আমাকে হেল্প করবি,,,

আচ্ছা চলো,,

সাহেল বেশ মজার মানুষ,,পুরোটা সময় আমাকে আর মামানিকে হাসিয়েছে,,,একদম লাঞ্চ করে তবেই বাসায় ফিরেছি।।সাহেল মামানিকে একটা শাড়ি গিফ্ট করেছে,,,আমাকেও দিতে চেয়েছিলে বাট আমি নেই নি।।কিন্তু গাড়ি থেকে নামার সময় সাহেল এক প্রকার জোড় করেই হাতে একটা গিফ্ট বক্স ধরিয়ে দিয়েছে,,,মামানি নিতে বলাই আমিও আর মানা করি নি।।।গিফ্ট বক্সটা খুলে বেশ অবাক হলাম,,,বাক্সে খুবই সুন্দর একটা পায়েল,,,একদম নিউ কালেকশান।।।সারাদিনের ঘুরাঘুরিতে একদম টায়ার্ড হয়ে পড়েছি,,,বিছানার উপর উনার ফোনটা পড়ে থাকতে দেখে আমার ফোনের কথা মনে পড়লো,,সারাদিনে একবারও চেক করা হয়নি।।ব্যাগ খুঁজে ফোন বের করেই চরম অবাক হলাম,,,একটা আননোন নাম্বার থেকে ৬৪ মিসড কল।।কার এতো দরকার পড়লো যে এতোবার কল দিয়েছে।।।এসব ভাবতে ভাবতেই ফোন আর গিফ্ট বক্সটা বিছানার উপর রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।।।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আবারো অবাক হতে বাধ্য হলাম,,,বিছানায় রাখা আমার পায়েলটার পুঁতি-পাথর সব ঘরের মধ্যে ছিটাছান হয়ে পড়ে আছে,,আমার ফোনটারও সেম অবস্থা,,,ফ্লোর থেকে চোখ উঠিয়ে উপরে তাকাতেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো,,,,শুভ্র সোফায় বসে খুব মনোযাগ দিয়ে লপটপে কাজ করে চলেছে,,,,আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে,,, কাজটা কার।।।উনার সামনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রাগী গলায় জিজ্ঞেস করলাম,,,

এসব কে করেছে???

আমি কিভাবে জানবো??(লেপটপের দিকে তাকিয়ে)

নেকামু করবেন না,,,আমি জানি এসব আপনিই করেছেন,,,

তো??

তো মানে?এসবের মানে কি???

করেছি বেশ করেছি।।

বেশ করেছেন মানেটা কি??আমি যেহেতু আপনার কোনো জিনিস টাচ করি না,,আপনারও উচিত আমার জিনিস টাচ না করা,,,আমি আপনাকে সেই অধিকার দেই নি।।।

আমার কথাটা শুনেই উনার চোখদুটো লাল বর্ণ ধারন করলো,,হুট করে দাঁড়িয়ে,,আমাকে শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরলেন,,,মনে হচ্ছে আমার হাড্ডি মাংস এক হয়ে যেতে বেশি দেরি নেই।।।

আমাকে অধিকার দাও নি??তো কাকে দিয়েছো সাহেলকে???(দাঁতে দাঁত চেপে)

বাজে কথা বলা বন্ধ করুন আর ছাড়ুন আমাকে,,,,

কেনো ছাড়বো হ্যা??আমার টাকা নেই??নাকি আমার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই যে সাহেল থেকে তোমার জিনিস নিতে হবে,,,,,নাকি ওর দেওয়া জিনিসে মধু আছে??(আরো জোরে চেপে ধরে)

থাকলেই আপনার কি???উনি জিনিসটা মন থেকে ভালোবেসে দিয়েছেন মধু তো থাকবেই,,,আর আপনার দেওয়াতে থাকে শুধু দায়বদ্ধতা,,, ছাড়ুন আমায়,,,(চিৎকার করে)

তাই?ভালোবাসা???এত্তো ভালোবাসা??ওর ভালোবাসায় ডুবে গিয়েই বুঝি আমার ফোন রিসিভ করার টাইম পাওনি,,হ্যা??(রাগী চোখে)

আপনার যা মনে হয় তা ভাবতে পারেন,,আই ডোন্ট কেয়ার।।

বলে উনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে গিয়ে উল্টো দুজনেই খাটে গিয়ে পড়লাম।।।উনার জন্য বেশ সুবিধায় হলো বলে হচ্ছে,,,,আমাকে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরলেন,,,

ইউ ডোন্ট কেয়ার না???তোমার কোনো ধারনা আছে,,,,ড্রাইভার চাচা যখন ফোন দিয়ে বললো,,তুমি অসুস্থ তাই মাঝ রাস্তা থেকে ঘুরে আসছো,,আমি কতোটা,টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম।।।ছুটে এসেছি বাড়িতে।।।আর এখানে এসে তো দেখি,,অসুস্থতার নামে রংলিলা চলছে,,,,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

আপনাকে বলেছি আমাকে নিয়ে টেনশন করতে??আপনি আপনার ইম্পোর্টেন্ট মিটিং নিয়ে টেনশন করুন সাথে আপনার জাস্ট ফ্রেন্ড মিথিকে নিয়ে,,,,আমি রংলিলা করছি না প্রেমলিলা করছি,,সেটা নিয়ে আপনাকে না ভাবলেও চলবে,,,

চুপপ একদম চুপপ,

ছোট ভাই -ভাবি,,,খালাম,,,,আআআআআআআ(দুহাতে মুখ ঢেকে)আমি কিছু দেখি নাই।।মাফ করবেন ছোট ভাইজান,,আসলে দরজা খোলা ছিলো ত,,,তাই আর নক করি নাই।।।

রাহেলার হঠাৎ আগমনে আমি ভীষন লজ্জায় পড়ে গেলাম,,,সে তো ভাবছে অন্যকিছু কিন্তু এখানে তো হচ্ছে অন্যকিছু,,,,আমি আবারও ছুটাছুটি শুরু করলাম,,কিন্তু উনি ছাড়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করছেন বলে মনে হচ্ছে না।।আমাকে আগের মতোই চেপে ধরে রেখে রাহেলাকে বললেন,,,

এসে তো গেছিসই এখন আর সরি বলে কি লাভ??তুই নিচে যা আমরা আসছি,,,

রাহেলা আইচ্ছা বলেই লজ্জারাঙা মুখ নিয়ে একপ্রকার ছুটে বেরিয়ে গেলো।।।উফফফ,,কি লজ্জার ব্যাপার।।।এই খাটাস টাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে এই মুহুর্তে,,,

কি সমস্যা আপনার??ছাড়ুন বলছি,,,আর হ্যা,,,আপনার জন্য একটা খুশির সংবাদ,,,আমি কালই বাসায় চলে যাবো,,,

বাসায় চলে যাবা মানে??(ভ্রু কুঁচকে)

বাসায় চলে যাবো মানে বাসায় চলে যাবো।।এখানে আর আমি থাকছি না,,কারো জীবনে অপ্রয়োজনীয় আর অবহেলার বস্তু হয়ে থেকে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।।।

এত্তো সাহস??এই বাসা থেকে বের হয়ে দেখাও পা ভেঙে রেখে দিবো।।।

কেন??সমস্যা কি আপনার??আপনি তো এটাই চান যে আমি আপনার,জীবনে না থাকি,,তো থাকবো না।।এতে আপনার সমস্যা থাকুক বা না থাকুক,, আমার কোনো যায় আসে না।।।আমি কালই চলে যাবো,, মানে চলে যাবো।।

না তুমি যাবে না,,,আমি যেতে দিবো না।।।আজ থেকে কোচিং ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনোই বন্ধ।।কিভাবে যাও,, সেটাই আমি দেখবো।।।

কথাটা বলেই উঠে গেলেন।।আমার মধ্যেও জেদ চেপে বসলো,,,আমি তো যাবোই,,,


ডায়নিং এ বসে আছি,,,সবাই যার যার মতো খাচ্ছে আর আমি ভাবছি কিভাবে বাড়ি যাওয়া যায়???উনি তো কিছুতেই এলাও করবে না।।হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো,,,

মামানি,,, আমিও তোমার সাথে যাবো,,,

কোথায়??(অবাক হয়ে)

তোমার বাপের বাড়ি,,নিবে না আমায়??

তা নিবো,,কিন্তু তোর কোচিং??

দুই/তিনদিনেরই তো ব্যাপার,,কিছু হবে না।।।আমায় নিয়ে চলো না প্লিজ,,

না,,তোমার কোথাও যাওয়া হবে না,,,,(গম্ভীর মুখে)

না না আমি যাবো,,,,

আমি না করেছি মানে না,,,

মামু???উনাকে একটু বলো না,,,, আমি যাবো(নেকা কান্না করে)আমার মোটেও কিছু ভালো লাগছে না,,,

শুভ্র থাক যেতে দে,,,বাচ্চা মেয়ে,

বাবা??তুমি ওকে আস্কারা দিও না প্লিজ,,,এমনি ফাজিল একটা,,

এই তুই চুপ কর,,,রোদ মা,,তুই আমার সাথে যাচ্ছিস,,হ্যাপি???

হুমমম অন্নেক,,,,

উনি আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছেন,,তাতে আমার কি??আমার কাজ তো হয়ে গেছে।।।এবার দেখি শুভ্র বেবি,, তুমি আমাকে কই পাও,,,,,

আমি বিছানায় পা উঠিয়ে,,বই হাতে বসে আছি,,আর আমার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শুভ্র।।।আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে চলেছি ক্রমাগত।।উনার দিকে না তাকিয়েই বুঝতে পারছি উনি আমার প্রতি চরম বিরক্ত,,,উনি বিরক্ত হোন,,,দরকার পড়লে বিরক্তির ঠেলায় নাচানাচি করুক,,,হো কেয়ারস্???

তুমি যাবে না।।

উনার কথাটা আমার কানে ঢুকলো ঠিকই আর সাথে সাথেই অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে গেলো,,,,উনার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে আমি বইয়ের দিকে বেশ মনোযোগ নিয়ে তাকিয়ে আছি,,,ভাবটা এমন যে,,বইয়ের পাতা থেকে চোখটা সরলেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,,,আর আমি কিছুতেই সেই রিস্ক নিতে চাচ্ছি না।।আমার ভাবের ১২ টা বাজিয়ে উনি বইটা টেনে নিয়ে ছুড়ে ফেললেন,,,এবার আর কি করা???অসহায় দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালাম,,,,

কথা কানে যাচ্ছে না??(রাগী গলায়)

যাচ্ছে তো,,,

তাহলে কথাটা ভালো করে শুনে রাখো,,তুমি মার সাথে যাচ্ছো না,,,,

কিন্তু কেন??(অবাক হয়ে)

আমি বলছি তাই,,,,

আজিব তো,,আপনার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে আপনি কি আমাকে ঘরে বন্ধী করে রাখবেন??এটা কি ঠিক বলুন??আমি তো অন্যকারো সাথে যাচ্ছি না,,,মামানির সাথেই যাচ্ছি,,,আমি বাসায় থাকতে থাকতে বোর,,,(মন খারাপ করে)

উনি আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে উঠলেন,,,

আচ্ছা যাও,,বাট কালকেই চলে আসবে,,,

কিহ,,পাগল নাকি,,,কালই তো যাচ্ছি,,কাল কিভাবে আসবো???

আমি কিছু জানি না কাল চলে আসবে ব্যস,,,,

বলেই উনি রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।।।বললেই হলো নাকি, “কাল চলে আসবে”।। এবার গেলে একমাসেও আমার দেখা পাবে না বাচ্চু।।।হুহ,,জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।।


সকাল ১০ টা,,আমি ব্যাগ প্যাক করছি,,আর উনি ঘরের মধ্যে পায়চারী করছেন।।।দেখে মনে হচ্ছে বেশ টেনশনে আছেন,,,

কি ব্যাপার??এভাবে দৌড়াচ্ছেন কেন??(ভ্রু কুচঁকে)

এক্সকিউজ মি,,,আমি দৌড়াচ্ছি না হাটঁছি।।

তো এভাবে হাঁটছেনই বা কেন??(বিরক্ত হয়ে)আপনার অফিস নাই,,,আর ইম্পর্টেন্ট মিটিং???(মুখ ভেঙিয়ে)

সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না(রাগী গলায়)….আচ্ছা না গেলে হয় না??(করুন গলায়)

না হয় না।।(কাপড় গুছাতে গুছাতে)

তাহলে আমিও যাবো,,,

হোয়য়য়াটটটট???

বলে কি,, উনি সাথে থাকলে তো পুরা প্ল্যানটাই শেষ হয়ে যাবে।।।যেভাবেই হোক,,, উনাকে তো আটকাতেই হবে।।

আপনি কেন যাবেন??(অবাক হয়ে)

তোমাকে আমার ভরসা হচ্ছে না,,,যদি পালিয়ে যাও,,,

লাইক সিরিয়াসলি??আপনার মাথায় এরকম থার্ড ক্লাস চিন্তায় ঘুরে,,,আর আপনি সাথে গেলে আদর্শ স্বামী-স্ত্রী হওয়ার মহান ড্রামা করা লাগবে,,,সেটা না আপনার পক্ষে সম্ভব না আমার পক্ষে।।। এখন ভেবে দেখুন।।।

উনি চুপ করে আছেন,, হয়তো প্ল্যানটা কাজে লেগেছে।।।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে উঠলেন,,”,সিহাব থেকে দূরে থাকবা,,,”। আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকালাম,,,এই সিহাবটা আবার কোন পদার্থ।।।

সিহাবটা আবার কে??(ভ্রু কুঁচকে)আর দূরেই বা থাকতে যাবো কেন??

সিহাব মামুর ছেলে।।।এক নাম্বারের ছেঁচড়া,,, সুন্দরী মেয়ে দেখলেই পিছে লেগে যায়।।।আর আমার জিনিসে ওর বরাবরই এক্সট্রা নজর লেগে থাকে।।।আগে নিলীর পিছনে লেগে থাকতো,,এখন নিশ্চয় তোমার পেছনে লাগবে,,,ইচ্ছে তো করে,,,,

ওয়ান সেকেন্ড,,, ওয়ান সেকেন্ড,,,,হোয়াট ডিড ইউ সে???আমি আপনার জিনিস??(ভ্রু কুঁচকে)

সেটা কখন বললাম???

মাত্রই বললেন,,,(রাগী গলায়)আমাকে আপনার জিনিস বলে মনে হয়???

তুমি ভ,,ভুল শুনেছো,,আমি বুঝাতে চাচ্ছিলাম,, তুমি এবাড়ির বউ সো তোমার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে গেলে তো মানসম্মান আমাদেরই যাবে নাকি???তাই বলছি সিহাব থেকে দূরে থেকো,,,মার সাথে যাবে সবসময় মার সাথে সাথে থাকবে,,মার সাথেই ঘুমাবে,,,সিহাবের সাথে ফর্মালিটি দেখিয়েও কথা বলার দরকার নেই,,,ওর থেকে ডিস্টেন্স বজায় রাখবে,,,ওর হাতে কিচ্ছু খাবে না।।মাথায় উড়না রাখবে,,,

ওয়েট,,আপনি একটা কাজ করুন,,সবগুলো কাগজে লিখে দেন,, আমি মুখস্ত করে নিবো,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

তুমি আমার সাথে ফাজলামো করছো??(রাগী চোখে)

তো কি করবো শুনি??আমি কি বাবু নাকি??যে……

কি রে তোরা ঝগড়া করছিস নাকি???(ভ্রু কুঁচকে)

কথাটা শুনে দুজনেই দরজার দিকে তাকালাম,,,মামানি দাঁড়িয়ে আছে,,হাতে একটা লাল শাড়ি।।আমরা দুজনেই থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি,,কি বলবো বুঝতে পারছি না।।আমাদের এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মামানি আবারও বলে উঠলেন,,,

কি ব্যাপার তোরা ঝগড়া করছিস??কিন্তু কেনো??(অবাক হয়ে)

আমি মোটেও ঝগড়া করছি না,,,সব দোষ তোমার ছেলের,,উনি আমাকে কিছুতেই যেতে দিতে চাচ্ছেন না,,(মুখ গোমরা করে)

শুভ্র??তুই ওকে যেতে দিতে চাচ্ছিস না কেন??(রাগী গলায়)

আমি মানা করেছি নাকি??নিয়ে যাচ্ছো যাও,,,কিন্তু তোমার গুণোধর ভাইপো কে আমার বউ থেকে দূরে থাকতে বলবে,,,উল্টোপাল্টা কিছু করলে,,আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না,,,,

বলেই রেগে বেড়িয়ে গেলেন।।।মামুনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থেকে আমার দিকে তাকালেন,,,মনে হচ্ছে অবাক হয়েছেন।।হওয়ারই কথা,, আমি নিজেও চরম অবাক হয়েছি।।উনার মতি-গতি কিছুই বুঝতে পারি না।।তবে উনার বলা “আমার বউ” কথাটা শুনে কেনো যেনো প্রচন্ড আনন্দ লাগছে।।মামানি আমার কাছে এসে বললেন,,

বাহ,,রোদ।।আমার ছেলে তো তোকে নিয়ে খুবই ইনসিকিউর ফিল করে,,,প্রেম চলছে নাকি??(দুষ্টু হাসি দিয়ে)

মামানির মুখে এমন কথা শুনে আমি আরো অবাক হলাম।।ছেলের বউয়ের সাথে কোনো শাশুড়ী কে এভাবে কথা বলতে আমি আগে কখনো দেখি নি।।আমাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে উনি আবার বলে উঠলেন,,”হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না,,,নে এই শাড়িটা পড়ে জটপট তৈরি হয়ে নিচে চলে আয়,,”


শাড়িটা বেশ সুন্দর,,এমনিতেই লাল শাড়ি আমার ফেবারিট রং।।আর মা বলে আমার গায়ে নাকি লাল রংটা বেশ মানায়।।সুন্দর করে শাড়িটা পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই অবাক হলাম,,,কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে আমায়।।।হায়,,ইচ্ছে করছে নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে যাই।।নিচ থেকে মামানির কন্ঠ ভেসে আসায়,,,ঝটপট রেডি হয়ে নিচে নেমে এলাম।।।নিচে নেমেই যেনো বোকা বনে গেলাম,,সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,,ইভেন শুভ্রও।।।নীরবতা ভেঙে মামানি বলে উঠলো,,,

মাশাআল্লাহ!!!! খুব সুন্দর লাগছে।।আজ আমার ছেলের বউ থেকে কারো নজরই সরবে না।।।

মামুও একই কথা বললেন,,,আমিও লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে মামানির সাথে দরজার দিকে পা বাড়াতেই কেউ একজন হাত টেনে ধরলো,,,,পেছনে তাকিয়ে দেখি শুভ্র চোখ দুটোতে রাগের আগুন জ্বালিয়ে আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন,,আমি কিছু বুঝতে না পেড়ে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালাম,,,ঠিক তখনই উনি বলে উঠলেন,,

শাড়িটা চেঞ্জ করে তারপর যাও,,,,

কেনো??(অবাক হয়ে)

এই শাড়িতে তোমাকে ভালো লাগছে না,,,আর এতো সেঁজেছো কেন??পেতনি লাগছে,,,ওগুলো ক্লিন করে তারপর যাবে,,,

শুভ্র??ওকে যথেষ্ট সুন্দর লাগছে,,তোকে আর মাতাব্বরী করতে হবে না,,ছাড় ওকে……

কিন্তু মা??(করুন চোখে)

আমি ছাড়তে বলেছি।।।

মামানির কথায় উনি আমাকে ছেড়ে দিলেন,,,কিন্তু চোখ দেখে মনে হচ্ছিলো পারলে এখনি খেয়ে ফেলেন আমায়।।।গাড়িতে বসে আছি,,আমার পাশেই মামানি।।।ভাবছি এখান থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য মামানিকে কিভাবে রাজি করানো যেতে পারে???গাড়িটা আমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়েই যাবে।।।ভাবছি কি করা যায়,,,গাড়িটা আমাদের বাসার কাছাকাছি আসতেই ন্যাকা কান্না শুরু করে দিলাম,,,,

#চলবে…..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *