তোকে চাই। পার্ট_১২ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 12

তোকে চাই সকল পর্ব

কি ব্যাপার??কাঁদছিস কেনো??(অবাক হয়ে)

এমনি।(মুখ গোমরা করে)

মোটেও এমনি না,,,এমনি এমনি কেউ কাঁদে নাকি??বল কি হয়েছে??

আম্মুর জন্য মন খারাপ লাগছে,,,

হঠাৎ করে মন খারাপ কেনো লাগছে??

এই রাস্তায় এসেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো,,,সামনেই আমাদের বাসা অথচ আমাকে বাসাটা পাস করে চলে যেতে হচ্ছে(আরো জোরো কান্না করতে করতে)

ইসসস,,,কাঁদিস না মা।।একটা কাজ কর,,সামনে নেমে ওদের সাথে দেখা করে নে,,,তাহলেই তো হয়।।।

না,,থাক

কেনো??

ওদের সাথে দেখা হলেই তো থাকতে ইচ্ছে করবে।।কবে থেকে দেখি না।।আম্মু আব্বু ছাড়া তো কখনো থাকিই নি।।।কিন্তু বিয়ের পর তাদের দেখার জন্যও বাহানা লাগে,,,(মুখ ভার করে)

এভাবে বলছিস কেনো???আমরা কি ওই টাইপ শশুড় শাশুড়ি নাকি??আমার মেয়েটা কাঁদবে আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো।।ভাইয়ার বাসা থেকে এসেই তোকে তোর বাবা-মার কাছে পাঠাবো,,কেমন??

মামানি??তারচেয়ে আমি আজ থেকে যাই??প্লিজ প্লিজ,,,এমনিতেও তো ওখানে আর মন বসবেই না,, সবসময় মন খারাপ লাগবে।।।(করুন চোখে)

কিন্তু,,,

কোনো কিন্তু না প্লিজজজজ???

আচ্ছা যা,,,(মুচকি হেসে)

আর একটা কথা মামানি,,,

কি??(ভ্রু কুঁচকে)

উনাকে এখনি বলো না যে আমি আমাদের বাসায় আছি,,,

উনিটা কে??(ভ্রু কুচকে)

উফফফ,,,তোমার ছেলে,,

হাহাহাহা,, ও আচ্ছা।।কিন্তু বলবো না কেন??

তুমি তো জানো না,,,তোমার ছেলেটা আস্ত একটা খাটাস।।যদি জানে আমি বাড়ি চলে গেছি তো এই মুহুর্তে তোলে নিয়ে যাবে।।।(মনে মনে)

কি হলো?? চুপ হয়ে গেলি কেনো??

না মানে,,,তোমাকে অসুস্থ অবস্থায় একা ফেলে চলে যাচ্ছি তাই বকবে অনেক(মাথা নিচু করে)

আচ্চা ঠিক আছে বলবো না,,,এবার একটু হেসে দেখা তো,,,(গালে হাত রেখে)

অবশেষে প্ল্যান সাকসেসফুল হলো।।ইচ্ছে করছে মামানিকে জড়িয়ে ধরে চুমো খাই।।বাট নিজেকে সংযত করলাম।।অতি আবেগ ভালো নই,,হিতে বিপরীত হতে পারে।।।পাঁচমিনিট হলো বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি,,,এই পর্যন্ত ২০ বার কলিংবেল চেপেছি বাট নো রেসপন্স।।কতো সুন্দর একটা মোড নিয়ে এসেছিলাম,,,,ভেবেছিলাম মা দরজা খুলবে আর আমি তাকে চমকে দিয়ে একটা টাইট করে হাগ দিবো।।।কিন্তু ওই যে ভাগ্য,, কখনোই প্ল্যান মাফিক কিছু হয় না।।ধেৎ ভালো লাগে না।।।শেষমেষ দরজাটা খুললো আমার শ্রদ্ধেয় পিতা মহোদয়।।

কিউটু???(চিৎকার করে)

বাবাকে জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে আছি কিন্তু বাবা একদম নিস্তেজ,,,ধীরে ধীরে হাতের বাধঁন হালকা করে বাবার মুখের দিকে তাকিয়েই অবাক হলাম,,,একি বাবা কাদঁছে???

আব্বু??কাঁদছো কেন??পেট ব্যাথা করছে??

আমার কথায় বাবা হালকা হেসে দিলেন।।ছোটো বেলা থেকেই দেখে আসছি,,,আমরা কেউ কাঁদলেই বাবা ভ্রু কুচকে গম্ভীর স্বরে বলে উঠতেন,,,”কি ব্যাপার??পেট ব্যাথা করছে??”বাবার ধারনা,, বাচ্চাদের কান্নার প্রধান ও একমাত্র কারণ পেটব্যাথা।।।বাবা হঠাৎ হাসি থামিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন,,,

সরি,, কিউটি(কান্নাভেজা স্বরে)

কেনো??(ঠোঁট উল্টিয়ে)

এতো তাড়াতাড়ি আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য,,,তোর স্বপ্নগুলো বলি দিতে বাধ্য করার জন্য,,,আমার বাচ্চাটাকে রাতারাতি অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য,,,

তুমি চুপ করবা??আমার মেয়েটাকে বাচ্চা বাচ্চা বলতে বলতে খেয়ালই করো নি,,তোমার কিউটিকে যে লাল শাড়িতে একদম বউ বউ লাগছে,,,

মার কথায় বাবা আর আমি সামনের দিকে তাকালাম,,,মার চোখটাও টলমল করছে,,,ইসস এই দুটো মানুষ আমায় এতোটা ভালো কিভাবে বাসে??মা ছুটে এসে যেই না আমায় জড়িয়ে ধরবে তখনি মার পেছন থেকে কেউ বলে উঠলো,,,

কি ব্যাপার??এখানে বুড়ি বুড়ি গন্ধ পাচ্ছি,,,,(ভ্রু কুঁচকে)

ভাইয়া,,,(অম্লান হাসি দিয়ে)

বাহ,,,মাশাআল্লাহ!!! আমার বোনটাকে লাল শাড়িতে একদম পেত্নীর মতো লাগছে(দাঁত কেলিয়ে)

মা??দেখছো আমি নাকি পেত্নী??(ঠোঁট উল্টিয়ে)

ভালোবাসার মানুষগুলো আশেপাশে থাকলে সময়গুলোকে স্টেচু বলে দাড় করিয়ে দিতে ইচ্ছে করে,,,কিন্তু তা তো আর হবার নয়।।।তাই দেখতে দেখতে তিনটি দিন কেটে গেলো।।এই পর্যন্ত মামানির সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে,,মামানি আজই বাড়ি ফিরেছে।।শুভ্র আমাকে তার সাথে না দেখতে পেয়ে কেমন রিয়েকশন দিতে পারে,, তাই ভাবছি।।।উনার কি আদৌ যায় আসবে,,,আমার থাকা না থাকাতে???হয়তো কাজ আর ফাইলের ভীরে আমি উনার মাথা থেকেই বেরিয়ে গেছি।।।এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালাম।।।কতোদিন স্বপ্ন দেখা হয় না,,,আজ একটা মিষ্টি স্বপ্ন দেখলে মন্দ হয় না।।।কিন্তু তা আর হলো কই??চোখটা খুলে ঘুম ঘুম চোখে কাউকে সোফায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে দেখলাম,,,,থাকুক বসে,,,চাইলে পা উঠিয়ে বসে থাকুক,,কার কি যায় আসে,,,হুহ।।।কিন্তু আমার রুমে কেউ এভাবে কেনো বসে থাকবে??তার উদ্দেশ্য কি হতে পারে??এত্তোসব চিন্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে,, রহস্য উদঘাটনের জন্য,,,চোখদুটো পুরোপুরি খুলে লোকটির মুখের দিকে তাকালাম।।।আর তাকিয়েই খেলাম বাঁশ।।।একি এ তো শুভ্র!!!””

আ,,,আপনি এখানে কি করছেন??(ভয়ে ভয়ে)

ঘুম ভেঙেছে?? এবার চলো।।

ক,,কোথায়??

যেখান থেকে এসেছো।।(রাগী চোখে)

দেখুন,,,আমি যা,,যাবো না

কিন্তু কেনো??(ভ্রু কুঁচকে)

সত্যি তো কেনো যাবো না??কারনটা তো এই মুহুর্তে মাথায়ই আসছে না,,,,

পাঁচ মিনিট টাইম দিলাম,,গেট রেডি।। ফাস্ট….

কথাটা বলেই উনি বেরিয়ে গেলেন।।আর আমি??বিছানায় পা ছড়িয়ে মুখ গোমরা করে বসে আছি।।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম,,,মাত্র ৬ টা বেজে ৪ মিনিট।।কোনো ভদ্রলোককে আমি আদৌ সকাল ৬টায় মুখ উঠিয়ে শশুড় বাড়ি আসতে দেখি নি।।।এনিই পৃথিবীর সেই প্রথম মহামান্য ব্যাক্তি,,,,


খাবার টেবিলে মুখ গোমরা করে বসে আছি।।আমার একপাশে শুভ্র,,আর অন্যপাশে ভাইয়া বসে গোপাগোপ খেয়েই চলেছেন।।ইচ্ছে করছে জগের পানিটুকু এই দুটোর মাথায় ঢেলে দেই,,হুহ।।

কি ব্যাপার রিদু??খাচ্ছিস না কেন??

আমি খাচ্ছি না,,,তো তোমার কি হয়েছে??খাও না,,,বেশি বেশি খাও।।খেয়ে খেয়ে বলুন হয়ে উড়ে যাও,,,,(রাগী চোখে)

আরেহ,,,এভাবে,,,,,

কি হয়েছে রোদ মা?? এতো হাইপার হচ্ছিস কেন??

আমি যাবো না,,,(মুখ গোমরা করে)

কিন্তু কেনো???(ভ্রু কুচঁকে)

আমি এডমিশন পর্যন্ত এখানে থাকবো ব্যস,,,,

রোদ,,,শুভ্র এসেছে তোমাকে নিতে,,,সো ইউ হেব টু গো,,

হ্যা,,এখন তো এটা আর আমার বাড়ি না তাই না??বোঝা হয়ে গেছি তো,,,,(কান্না করতে করতে)

বাবা,,,থাকুক না কিছুদিন,,,,শুভ্র??এডমিশনের তো আর মাত্র দেড় থেকে দুমাস বাকি।।।রেখে যাও না প্লিজ।।।ওর তো আমাদের থেকে দূরে থেকে অভ্যাস নেই,,,(করুন চোখে)

অভ্যাস না থাকলেও অভ্যাসটা গড়ে তুলতে হবে,,,আর তাছাড়া ওর কোচিং টা আমাদের বাসা,থেকেই কাছে হবে।।আর আমি নিজে ওকে ড্রপ করবো,,,সো টেনশন ফ্রিও থাকতে পারবো,,,এখান থেকে ও একা একা,,,

আমি পারবো ম্যানেজ করতে,,তাছাড়া ভাইয়া তো আছেই,,ও দিয়ে আসবে,,,এই ডাফার??বল দিয়ে আসবি না??

হ্যা হ্যা,,,তুমি একদম চিন্তা করো না,,,আই উইল ম্যানেজ।।

সরি ভাইয়া,বাট ওকে রেখে যেতে পারছি না।।প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট,,,,

উনার এই কথাটুকু শুনেই আমি দৌড়ে গিয়ে রুমে দরজা দিয়ে বসে পড়লাম,,,আমি কিছুতেই যাবো না।।কেনো জানি মনটা সায়ই দিচ্ছে না,,, বাবা-মা,ভাইয়া,শুভ্র সবাই দরজা ধাক্কিয়েও দরজা খুলতে না পারায়,,, বাবা আর ভাইয়ার রিকুয়েস্ট আর মার ইমোশনাল ব্ল্যালমিলের বশবতী হয়ে উনি একাই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলেন।।।”উনি চলে গেছেন” কথাটা শুনে আবার মনটা ভার হয়ে এলো।।।মন যে কখন কি চায়,,,সে হয়তো নিজেই জানে না।।দেখতে দেখতে দু সপ্তাহ কেটে গেলো,,,উনি একটা বার ফোন পর্যন্ত দেন নি।।।দেওয়ার কথাও না,,আমার ফোন নাম্বারই তো উনার কাছে নেই।।।আগের ফোনটা তো উনিই ভেঙে টুকরো টুকরো করেছেন,,এখানে আসার পর ভাই ফোন কিনে দিয়েছে,,,,যদিও এই নাম্বারটা মামানির কাছে আছে,,,উনি চাইলে তো মামানির কাছ থেকে ফোন নাম্বারটা নিতেই পারতেন,,,,আজকে মনটা অনেক বেশিই খারাপ লাগছে,,,উনাকে একটিবার দেখতে পারলে!!!! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ দুটো বুজে নিলাম,,,হয়তো ঘুমেরা ধরা দিবে না,,,তবু ব্যর্থ চেষ্টাটা করতে দোষ কি??

আলসেমীর চরম পর্যায় বলতে একটা কথা আছে,,এই মুহূর্তে আমি সেই চরমে অবস্থান করছি।।কম্বল আর বইয়ের স্তুপ সরিয়ে,, বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়ার মতো তুচ্ছ জিনিসটা আমার কাছে রীতিমতো মহামারী বলে বোধ হচ্ছে।।।তারউপর দিনটি যদি শুক্রবার হয় তাহলে তো কথায় নেই।।কিন্তু তবুও আমায় উঠতে হলো,,,এবং চরম অনিচ্ছা সত্যেও বাসার দরজা পেরিয়ে রাস্তায় পা ফেলতে হলো।।।গন্তব্য আফরান স্যারের বাসা।।ভদ্রলোক খুব কড়া হুকুম জারি করেছে,,, আমাকে তার বাসা থেকে সিট কালেক্ট করতে হবে,,,,আর আমি তো বরাবরই ভদ্র মেয়ে,, তাই চুপচাপ মাথা হেলিয়ে নাচতে নাচতে উনার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।।।৫ মিনিট যাবৎ আমি স্যারের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।।এই পর্যন্ত দুবার কলিংবেল চেপেছি,,,তৃতীয়বার চাপবো কিনা ভাবছি।।কলিংবেল দুবারের বেশি চাপা উচিত না,,,এটা নাকি ম্যানারের মধ্যে পড়া না,,,,এই মুহূর্তে আমি নিজেকে কোনোমতেই ম্যানারলেস প্রুব করতে রাজি নই,,,আমাকে আর বেশিক্ষণ ভাবতে হলো না তার আগেই একজন বৃদ্ধা মহিলা দরজা খুলে দিলো।।মহিলাটির মুখে একটা চাকর চাকর ভাব আছে,,,উনাকে দেখেই মনে হচ্ছে উনি এবাড়ির কাজের লোক,,,,তাও যেই সেই কাজের লোক নয়,,,যারা সারাদিন মালিকের তোষামুদে ব্যস্ত থাকে তেমন কাজের লোক।।

জি,,স্যার বাসায়,আছে?

জে স্যার আছে,,,আপনি ভিতরে আহেন,,

আরে,,ব্যস কি মারাত্মক শুদ্ধভাষা,,,,(মনে মনে) না আমি ঠিক আছি,,স্যারকে একটু ডেকে দিবেন??স্যার আসতে বলেছিলো(হালকা হেসে)

আচ্ছা,,,

মহিলাটি মাথা হেলিয়ে স্যারকে ডাকতে চলে গেলেন,,,যাওয়ার আগে পুরো দরজাটা আম্মুর ভাষায়”হা” করে খুলে রেখে গেলেন।।।আমি চোর হলে এটাই হতো আমার জন্য সুবর্ন সুযোগ।।আমাকে এই সুবর্ন সুযোগের অধিকারী করে মহিলাটি ভিতরে ডুকেই চেঁচিয়ে উঠলেন,,,

আব্বা??তোমার ইস্টুডেন্ট এসেছে।।

“ইস্টুডেন্ট”,, বাহ দারুন উচ্চারন।।ইংরেজির ভুল উচ্চারণ করাটাও রীতিমতো একটা আর্ট।।সবাই কিন্তু পারে না,,,কলেজের ইংরেজি প্রফেসর কখনোই স্টুডেন্ট কে ইস্টুডেন্ট উচ্চারন করতে পারবেন না,,,মূলত এই উচ্চারণ করাটা ওদের এবিলিটির মধ্যেই পড়ে না।।ওপাশ থেকে স্যার কি জবাব দিলো তা আমার কান পর্যন্ত পৌছালো না,,,তার উত্তরটা হয়তো এমন হবে,,” ওয়েট করতে বলো”।।হ্যা আমিও ওয়েট করছি,,বেশ উৎসাহ নিয়েই ওয়েট করছি,,,একজন প্রফেসর তার ছাত্রীকে ওয়েটিং লিস্টে না রেখে দেখা করবে তা তো হতে পারে না,,,,তাতে প্রফেসর প্রফেসর ফিলিংস আসবে না।।।প্রায় দশমিনিট পর স্যার বাইরে বেরিয়ে এলেন।।ভদ্রলোককে বড্ড ইম্বারেসড্ বলে মনে হচ্ছে,,,,তার অস্বস্তির কারনটা হলো তার লুঙ্গি।।।একজন সম্মানীয় প্রফেসর তার স্টুডেন্টের সামনে লুঙ্গি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাপারটা সত্যিই অস্বস্তিকর,,, আর স্টুডেন্টটা যদি মেয়ে হয় তো কথায় নেই।।উনি এমন ভাবে লুঙ্গি চেপে ধরে দাড়িয়ে আছেন যেন,,এখনি খুলে গিয়ে কেলেংকারী হয়ে যেতে পারে,,,

আসসালামু আলাইকুম স্যার,,,

ওয়ালাইকুমুস আসসলাম,,,রোদেলা এই নাও দুটো সিট আর বাকি সাজেশনটা কোচিং থেকে নিয়ে নিও,,,ওখানে গিয়ে আমাকে ফোন দিও,, আমি বলে দিলেই হবে,,,(হালকা হেসে)

ওকে স্যার।।

স্যারকে সালাম জানিয়ে বেরিয়ে এলাম।।।বেশ বিরক্ত লাগছে,,ইচ্ছে করছে নিজের চুল ধরে টানি।।ভাইয়ার এতো বলা সত্তেও ফোনটা যে কেনো সাথে নিলাম না,,,উফফ্,,,যে সাজেশনের জন্য এতোকিছু সেটা না নিয়েই এবার বাড়ি ফিরতে হবে,,,সব সব নষ্ট,,,গাড়ি ভাড়া,,দেড় ঘন্টা সময় দুটোই ওয়েস্ট,,,চরম বিরক্তি নিয়ে সিএনজিতে বসে আছি,,,রাস্তায় একটা সাইনবোর্ড দেখে বিরক্তিটা আরো কয়েক ধাপ উপরে উঠে গেলো,,,,বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটে বড় বড় করে বাংলায় লেখা “বার্থ রুম”।।। কি সব আজগুবি ওয়ার্ড,,,বার্থ রুমটা আবার কি??একেই হয়তো বলে আধুনিক বাংলার শুদ্ধ প্রয়োগ,,মূর্খরা হঠাৎ ঞ্জানী হয়ে গেলে যা হয় আর কি।।।সব কটাকে ধরে চড়ানো উচিত,,,,লিখতে না জানলে লিখতে যায় কেন এরা,,যত্তোসব।।।বার্থ রুম টপিকস হয়তো আরো কিছুক্ষণ চলতো,,,কিন্তু হঠাৎ ব্রেক কষায়,,” “বার্থ রুম” টপিকস ও ব্রেক কষলো।।।

কি মামা??সমস্যা কি??মার্ডার করতে চান??এখনি তো মুখ থোবড়ে রাস্তায় গিয়ে পড়তাম(রাগী চোখে)

আমি কি করুম আফা,,,সামনে এমন কইরা গাড়ি দাঁড় করাইলে তো আমার আর কিছু করার নাই,,,,

কিহ,,,কোন শালায় রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করায়,হ্যা??গাড়ি থাকলেই কি কলিজায় উঠায় দিতে হবে নাকি???

কথাগুলো বলতে বলতে সিএনজি থেকে নেমে এলাম,,ব্যাপক মোডে আছি,,,,গাড়িওয়ালার কলার ধরে বড়দের মতো একটু ঝেড়ে দিবো,,,কিন্তু তা আর হলো কই??উল্টো নিজেই চুপসে গেলাম,,,শুভ্র গাড়ির দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে,,,এই ব্যাটার এক্চুয়াল প্রবলেমটা যে কি তাই বুঝতে পারছি না।।।সেদিন রিক্সার সামনে তো আজ সিএনজি,,,উফফফ।।।মাথা থেকে সব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে উনার দিকে তাকালাম,,,,উনাকে খুব উশকোখুশকো লাগছে,,,মনে হচ্ছে কতোদিন ধরে ঘুমোয় না,,,এখন আমার মনে হচ্ছে মামানি হয়তো ঠিকই বলেছিলো,,,,,এই তো সেদিন মামানি ফোনে বলেছিলো,,

রোদ???

কেমন আছো মামানি?

ভালো,,চলে আয় না মা,,,

এডমিশনের পরই চলে আসবো,,,

আজই চলে আয়,,আই থিংক,,শুভ্র তোকে অনেক মিস করছে রে,,,আমার ছেলেটার চোখ-মুখ একদম শুকিয়ে গেছে,,,আগের মতো কেমন যেনো শুধু ঘরের মধ্যেই থাকে,,,

তেমন কিছুই না হয়তো কাজের চাপে আছে তাই ওমন লাগছে,,,


কারো ছোঁয়ায় ঘোর কাটলো,,,শুভ্র তার দুহাতে আমার দু’গাল জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে আছেন।।আমি উনার দিকে তাকাতেই এক ঝটকায় কোলে তোলে নিলেন আমায়।।।আমি কিছুই বললাম না,,,শুধু উনার দিকে তাকিয়ে আছি,,,উনার চোখদুটো টলমল করছে,,,চুলগুলো এলোমেলো,, দাড়ি বেড়ে গেছে অনেক,,,তবুও কি সুন্দরই না লাগছে।।।আমাকে গাড়িতে বসিয়ে সীট ব্যাল্ট লাগিয়ে দিলেন,,,
।।
আমাকে গাড়িতে কেন বসালেন??আমি সিএনজি করেই যাবো।।

বলেই গাড়ীর দরজা খুলতে গিয়েই বুঝলাম দরজা লকড।।

কি সমস্যা??দরজা লক করেছেন কেন??খুলুন বলছি,,,,(রাগী চোখে)

উনার কোনো ভাবান্তর হলো না,,,উনি চুপচাপ গাড়ি চালাতে লাগলেন,,,,আমি উনাকে ক্রমাগত গাড়ি থামাতে বলছি,,তার উত্তরে উনি শুধু একটা কথায় বলেছেন,,,,

উইথআউট রিজন যে আমার থেকে এতোদিন দূরে থাকলে তার জন্য ইউ ডিজার্ব আ পানিশমেন্ট,,,, আর তোমার পানিশমেন্ট হলো,,আগামী একবছর বাপের বাড়ির নাম মুখেও নিবে না,,,

হোয়াট???বললেই হলো,,,

হুম,,বললেই হলো,,তোমারও বুঝা উচিত দূরে থাকাটা কতো কষ্টের,,,,

কষ্ট??আমি না থাকাতে আপনার কষ্ট হয়েছে??আর ইউ কিডিং উইথ মি???

চলবে।,…

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *