তোকে চাই। পার্ট_১৯ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 19

তোকে চাই সকল পর্ব

গায়েনী ডক্টর সুলতানা পারভীনের চেম্বারের সামনে একটা চেয়ারে পা দুলিয়ে বসে আছি,,,, ভ্রুটা হালকা কুঁচকানো,,যার কারণ বিরক্তি।।বিরক্তির বেশকিছু কারণ আছে,,তারমধ্যে দুটো কারনের একটি হলো শুভ্র অন্যটি একটি অপরিচিত জলহস্তি,,,আমার সামনে পেটকু একটা লোক বসে আছে।।বসে থাকতেই পারে,,,শুধু বসে কেন,,চাইলে শোয়েও থাকতে পারে তাতে আমার বিন্দুমাত্র সমস্যাও নেই,,,সমস্যা থাকার কথাও নয়,,,,,কিন্তু সমস্যাটা হলো লোকটার বিহেভিয়ার,,,মহোদয়,,তার পান খেয়ে লাল করে রাখা দাঁত বের করে সারাক্ষণ কুচসিৎভাবে হেসেই চলেছে,,,বাবা বলতো পৃথিবীর সবার হাসিই নাকি সুন্দর,,সবার হাসিতেই অন্যরকম একটা সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে,,,কিন্তু আমি আধঘন্টা যাবৎ ট্রাই করেও লোকটার হাসিতে সৌন্দর্যদায়ক কিছু খুঁজে পেলাম না।।শুধু হাসলেও মেনে নেওয়া যেতো কিন্তু লোকটি এর থেকেও বিশ্রী কিছু করছে,,,একহাত দিয়ে তার প্রেগন্যান্ট স্ত্রীর পেটে হাত বুলাচ্ছে,,অন্যহাতে নাকে আঙ্গুল ডুকিয়ে নাকের চুল ছেঁড়ার চেষ্টা করছে,,,ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর,,,যা দেখার সাথে সাথে অটোমেটিক আমার কপাল আর ভ্রু কুঁচকে গিয়ে,, তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছে,,,,অন্যদিকে আমার প্রাণপ্রিয় স্বামী,,,বারবার অস্বস্থি নিয়ে নাড়াচাড়া করছে,,তাকে দেখে মনে হচ্ছে তাকে একটা উত্তপ্ত ফ্রাইং প্যানে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে যার উত্তাপে উনি এমনভাবে নাচানাচি করছেন।।।

কি সমস্যা??এভাবে নাচতেছেন কেন??সোজা হয়ে বসতে পারেন না??(ভ্রু কুচঁকে)

আমি কি বাঁকা হয়ে বসে আছি নাকি??(শার্টের ডান হাতা দিয়ে ঘাম মুছে)

তা নয়তো কি??আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনার লেভার পেইন উঠেছে আর আপনি যন্ত্রনায় ছটফট করছেন,,,,

জাস্ট শাট আপ রোদ।।অলওয়েজ ফালতু কথা,,,,চুপচাপ বসে থাকো,,নয়তো ঠাডিয়ে দিবো একটা,,,

আজিব,,রাগছেন কেন??(মুখ গোমরা করে)

তো কি করবো??তোমার কোনো ধারনা আছে,,, হাউ টেন্সড আই এম??

এতো টেনশনের কি আছে??ডাক্তারই তো দেখাতে আসছি অন্য কিছু তো নয়,,,

সেটা তুমি বুঝবে না,,,বউ তো আমার প্রেগন্যান্ট,,তোমার না,,, তোমার বউ প্রেগন্যান্ট হলে বুঝতা কেমন লাগে,,তারওপর যদি বউ নিজেই বাচ্চা থাকে তাহলে তো কথায় নেই,,৷

আমি আহাম্মকের মতো উনার দিকে তাকিয়ে আছি,,,এটা কি বললেন উনি?যত্তসব গাঁজাখুরি কথাবার্তা উনার মুখে,,আমার আবার বউ কেমনে হবে,,হলে জামাই হতে পারে,,,হুহ।।বসে বসে বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই আমার ঠিক অপোজিটে বসে থাকা কারো কথা কানে এলো,,,,ছেলে কন্ঠটা হালকা পরিচিত,,,যেনো কোথাও শুনেছি,,,পেছন ফিরে তাকিয়েই আমার চোখ ছানাবড়া,,সাহিল ভাইয়া??উনাকে সেদিনের পর থেকে আর দেখি নি।।প্রায় ৬/৭ মাস পর দেখা।।উনি পাশে বসা মেয়েটির কপালে জ্বর চেক করছেন,,,আর মেয়েটি খিলখিল করে হাসছে যেনো তার কাতুকুতু লাগছে,,,মেয়েটি নিঃসন্দেহে সুন্দরী,,,বিশেষ করে হাসিটা,,,,আমি অবাক চোখে উনাদের দিকে তাকিয়ে আছি,,,হঠাৎ সাহেল ভাইয়ার সাথে চোখাচোখি হওয়ায় উনিও অবাক হলেন তবে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠলেন,,,,

হেই রোদ, তুমি??

কেমন আছেন?(হালকা হেসে)

আলহামদুলিল্লাহ,,,, তো তুমি কেমন আছো??আর এখানে কিভাবে??আর শুভ্রই বা কোথায়??

একসাথে এতো প্রশ্ন করায় আমি হেসে দিলাম,,,তখন পাশে বসে থাকা মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বললেন,,

তুমিই বুঝি রোদ?বাহ সত্যিই দেখতে অনেক কিউট,,,

এতোক্ষণে শুভ্রও পেছনে ফিরে তাকিয়েছে,,,সাহেল ভাইয়া আর মেয়েটাকে দেখে সেও বেশ অবাক হলো বলে মনে হচ্ছে,,,

আরে?নাবিলা,,তুই এখানে??আর এই বলদের সাথে কি করিস??(অবাক হয়ে)

শালা চুপ কর,,,এক তো নাবিলাকে ভাবি না ডেকে তুই তাই করছিস,,,আবার আমাকে বলদও বলছিস,,,,(পেটে ঘুষি দিয়ে)

ভাবি??কিসের ভাবি??(ভ্রু কুচকে)

আরে আমার বউকে ভাবি বলবি না তো বেবি বলবি??

তোর বউ???(চেঁচিয়ে)শালা তুই বিয়ে করলি কবে??

শুধু বিয়ে,,,মাম্মা আম সো ফাস্ট,,,,বাচ্চার বাবা হয়ে যাচ্ছি(চোখ টিপে)

কথাটা শুনে শুভ্র যে বেশ অবাক হয়েছে তা বেশ বুঝতে পারছি,,,সাথে আমিও অবাক।।এতো তাড়াতাড়ি??

বলিস কি??দাওয়াত ও তো দিলি না,,আর নাবিলা বিয়ে করার জন্য,এই আহাম্মকই ছিলো?? আর কাউকে পাস নাই??

কি করবো বল??আমাদের ব্রেঞ্চের সবাই বিয়ে করে নিয়েছে,,,রুহান,,, সাব্বির,,,,ইশাতা,,,শুশমিতা,,মিথিলা ইভেন তুইও।।বাকি শুধু আমি আর সাহেল।।তাই ভাবলাম,,, দুজনেই যখন সিংগ্যাল তাহলে আর এতো খুঁজাখুঁজি করে টাইম ওয়েস্ট করে কি লাভ??(মুচকি হেসে)

তাই বলে দাওয়াতও দিলি না??এতো তাড়া??(অসহায় মুখে)

তো,,,তুই আমাকে দাওয়াত দিছিলি??জানিস না,, তুই আর আমি সেইম টাইপ,,তাই আমিও হুটহাট বিয়ে করে নিয়েছি,,,ভেবেছি বাচ্চার জন্মদিনে এক্কেবারে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবো,,,এক ঢেলে দুই পাখি,,খরচ কম হবে,,,(চোখ টিপে)

উনার কথায় সবাই হেসে উঠলো,,,,

কিন্তু তোরা এখানে কেন??গায়েনী বিভাগে??(ভ্রু কুচকে)

কেন বউ কি তোর একার আছে??নাকি বাপ হওয়ার অধিকার তোর একার আছে??(বাঁকা হাসি দিয়ে)

তারমানে রোদ??(অবাক হয়ে)

জি হ্যা,,,রোদ,,,

বাহ,,দারুন তো,,,রোদ কতদিন হলো তোমার??(গালে হাত দিয়ে মুচকি হেসে)

জি,,,একমাস আপু।।(লজ্জামাখা হাসি দিয়ে)

কিহহহ???(চিৎকার করে)

সাহেল ভাইয়ার হঠাৎ চিৎকারে আমরা সবাই প্রথম দফায় চমকে এবং পরবর্তীতে অবাক হয়ে উনার দিকে তাকালাম,,,

কি বলছো??মাত্র একমাস??এখন কি হবে??নাবিলার তো চারমাস চলে,,,(মুখ গোমরা করে)

সাহেল ভাইয়ার কথার আগাগোড়া কিছুই বুঝতে না পেরে সবাই একসাথে বলে উঠলাম,,,”তো?”

আরে তো মানে?তাহলে তোর ছেলে আমার মেয়ের থেকে ছোট হয়ে যাবে না??প্রেম কেমনে করবে??আমি বিলেন কেমনে হবো??

উনার কথায় আমরা একে অপরের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়েই হুহা করে হেসে উঠলাম,,,শুভ্র তো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি অবস্থা,,,,কোনো রকম থেমে বলে উঠলেন,,,

আমার মনে হয় কি সাহেল??ব্যাপারটা উল্টে যাবে,,,আমার মেয়ে হবে,,,আর তোর ছেলে,,ভাবতে পারছিস??আবার ছেঁকা(দাঁত কেলিয়ে)

বললেই হলো,,এমন হলে ছেলের সাথে আমি নিজে গিয়ে পুত্রবধূকে তোলে আনবো,,,এবার নো ছাড়,,,(হালকা হেসে)

উনাদের সাথে কথা বলতে বলতেই আমাদের ডাক পড়লো,,

ডাক্টরের সামনে বসে আছি,,,একবার ডক্টর তো আরেকবার শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছি,,,আমার ধারনা ঠিক হলে যেকোনো টাইম শুভ্র সেন্স হারাবেন,,,তার কারন হলো কিছুক্ষন আগে ডক্টরের বলা কথা।।।ডক্টর সরল মনে বলে দিয়েছেন,,,আমার বয়স মাত্র ১৮ এই বয়সে আমার কনসিভ করা উচিত হয় নি,,,এই টাইমে মা হওয়াটা রিস্কি,,,আমি ফিজিক্যালি ম্যাচিয়ুর না,,,এইটুকুতেই যে শুভ্র কপোকাত তা আর বলতে??শুভ্রর হাত-পা রীতিমতো কাঁপছে,,,ডক্টরের সাথে কথা বলে চুপচাপ বেরিয়ে গেলেন,,আমার দিকে একটাবার তাকালেন না পর্যন্ত,,,আমার ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে,,,ভয়টা শুভ্রকে নিয়ে উনি আমাকে অবর্শোন করতে বলবেন না তো??আমার ভয়ঙ্কর স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে না তো??এসব ভাবতে ভাবতেই কাঁপাকাঁপা পায়ে গাড়িতে গিয়ে উনার পাশে বসলাম,,,উনা সিটে গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন,,,উনার ঠোঁট কাপঁছে,,গলা বারবার উঠানামা করছে,,,ফরসা মুখটা একদম বিবর্ন হয়ে আছে,,,আমি কাঁপাকাঁপা হাতে উনার কাঁধে হাত রাখলাম,,কিন্তু উনার মধ্যে কোনো রিয়েকশন হলো না,,,আগের মতোই চুপচাপ বসে রইলেন,,,এবার আমার কান্না পাচ্ছে,,খুব ভয় লাগছে,,,

শুনুন??আপনি প,,প,,প্লিজ টেনশন করবেন না,,,দ,,দেখুন ৫০ বছর আগে ১৩/১৪ বছরের মেয়েরাও বাচ্চার জন্ম দিয়েছে এখনো দেই,,,তখন বাচ্চা জন্ম হতো সনাতনী পদ্ধতিতে আর এখন কতো নিউ টেকনিক ইউজ করা হয়,,,আপনি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছেন,,,

তবুও উনি চুপ,,,চোখটা মেলেও তাকালেন না,,,যেনো শুধু শরীরটাই পড়ে আছে,,মাঝের মানুষটা নেই,,,আমি এবার ফুঁপিয়ে উঠলাম,,,

প,, প,,,প্লিজ এবোর্শন করতে বলবেন না,,,প্লিজ।।আই কান্ট ডু ইট।।।

উনি এবার চোখ মেলে তাকালেন,,আমার দিকে তাকিয়ে দুর্বল হাসি দিয়ে বলে উঠলেন,,,”আমি মানুষ রোদ,,খুনী না।।নিজেকে বাঁচাতে আমার বাচ্চাটাকে মেরে ফেলবো এতোটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠি নি এখনো,,,তোমার কিছু হবে না রোদ,,,বেস্ট ডক্টরের আন্ডারে রাখবো তোমায়,,,আর বাকিসব ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছি,,,তবে হ্যা,,,তোমাকে ছাড়া একটা মিনিটও নিশ্বাস নিতে চাই না আমি,,,তুমি আর আমি একদিনেই না হয় শেষ হবো,,ভয় নেই আমার প্রিন্সেস বেঁচে থাকবে,,,

উনার মুখের ওই দুর্বল হাসি আমার হৃদয়টাকে খন্ড বিখন্ড করে দিচ্ছে বারবার।।আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আজানের ধ্বনি কানে এলো,,,উনি আমাকে বসতে বলে নামাযে চলে গেলেন,,,যাওয়ার সময় একগাদা চিপস,,,চকলেট হাবিজাবি কিনে দিয়ে গেলেন।।।আমি বসে বসে উনার কথায় ভাবছি,,,যে মানুষটাকে আমি জুমার নামায ছাড়া অন্যকোনো সময় নামায পড়তে দেখি নি সে মানুষটা এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে,,তার প্রতিটি দোয়ায় যে আমি মিশে আছি,,তা কেউ বলে না দিলেও আমি জানি।।এইতো সেদিন,,ঘড়িতে দুটো কি তিনটা বাজে,,হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ায় চোখ মেলে দেখি উনি নামায পড়ছেন আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদঁছেন,,,উনার কান্নার আওয়াজে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয়েছিলো,,,সেই সাথে মনে হয়েছিলো,,,”আমি কতোটা ভাগ্যবতী,,,” উনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না,,ফজরের নামাযের সময় আবারোও ঘুম ভেঙে গেলো,,,,কনসিভ করার পর একটা ঝামেলা হয়েছে ঘুম প্রচন্ড বেড়েছে সাথে ঘুমটা হালকাও হয়ে এসেছে,,অল্পতেই ভেঙে যায়।।উনি এখনো নামায পড়ছেন,,,নামায শেষ করে জায়নামাজ গোছিয়ে রেখে আমার দিকে তাকাতেই চোখ বন্ধ করে নিয়েছিলাম,,,থাকুক না কিছু গোপন ভালোবাসা গোপনভাবে,,,সব ভালোবাসার প্রকাশের প্রয়োজন কি আছে? ,উনি আমার পাশে বসে,, আমার শরীরে ফু দিয়ে,,,কপালে গভীর চুমু দিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন,,,এটা যে তার প্রতিদিনের কাজ ,,,তা আমি মুহূর্তেই বুঝে গিয়েছিলাম,,,,গাড়ির দরজা খোলার শব্দে ভাবনার জগৎ কাটিয়ে পাশে তাকালাম,,,উনার চোখে মুখে স্নিগ্ধতার ছাপ,,,খুব ইচ্ছে হচ্ছে উনাকে ছুঁয়ে দিতে,,,তাই তাড়াহুড়ো করে বেল্ট খুলে,,সোজা উনার কোলে বসে পড়লাম,,,উনি অবাক চোখে আমায় দেখছেন,,,দেখলে দেখুক তাতে কি??

কি ব্যাপার??কোলে বসলে কেন?নেমে বসো,,,(ভ্রু কুচকে)

না নামবো না,,,আমার এখানেই ভালো লাগছে,,,

কথাটা বলেই উনার বুকে মাথা রাখলাম,,,উনিও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলতো হাতে জড়িয়ে নিলেন আমায়,,,

আমি ড্রাইব করবো তো রোদ,,তুমি এভাবে থাকলে কিভাবে হবে???(মাথায় হাত বুলিয়ে)

আমি কি জানি??সেটা আপনার ব্যাপার তবে আমি নামছি না ব্যস,,,

উনি কিছু বলতে যাবেন তার আগেই ফোন বেজে উঠলো,,,ফোনটা কানে দিতেই উনার মুখটা কালো হয়ে গেলো,,অনেক বলার পর যা শুনলাম তাতে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো,,,আপুকে হসপিটালে নেওয়া হয়েছে,,ওর লেভার পেইন শুরু হয়েছে,,,কিন্তু ওর ডেলিভারি ডেটের তো আরো দুই মাস বাকি।।। এতো তাড়াতাড়ি পেইন শুরু হওয়ার কারন কি??কোনো অশুভ কিছু হবে না তো?


ওটির সামনে বসে আছি,,পাশে মামু আর মামানি।।অভ্র ভাইয়া আর শুভ্র ক্রমাগত পায়চারী করছেন,,,সবার মুখেই চিন্তার ছাপ ,,,আম্মু তো রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।।আর আমি তো নিঃশ্বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে আল্লাহকে ডাকছি,,,মনে ভয়গুলো যেনো ঝেঁকে বসে আছে,,কে জানে কি হবে??অভ্র ভাইয়াকে আমি কখনো বিশেষভাবে তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখি নি,,,যেমনটা শুভ্র করে প্রতিটি কাজকর্মে ভাইয়া তার ঠিক উল্টো কখনো এক্সপ্রেস করে না ভালোবাসাগুলো,,দাবিয়ে রাখে নিজের মধ্যে,,কিন্তু আজ যেনো তা না চাইতেই প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে,,,সত্যিই ভালোবাসাগুলো খুব অদ্ভুত হয়,,,এর রং ভিন্ন,,প্রকাশ করার ধরন ভিন্ন।।একেক জনের কাছে এর সঙ্গাও ভিন্ন।।ভাইয়াকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে,,উনার ভেতরটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে,,,কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না,,,বড়ছেলেদের এতো ইমোশনাল হওয়া যে মানায় না,,,তাদের তো স্ট্রং থাকতে হয়,,সবাইকে সামলাতে হয় নিজে যতই অসহায় ফিল করুক না কেন,,এটাই তো নিয়ম।।আর অভ্র ভাইয়া সেই নিয়মটা বেশ নিয়ম করেই মেনে চলে,,,কিন্তু আজ হয়তো নিয়মটা তার কাছে পাত্তায় পাচ্ছে না,,,চোখদুটো চরম রকম লাল হয়ে আছে উনার,,,মুখটা ফ্যাকাশে,,,,উনার অসহায় দৃষ্টি আপুর প্রতি উনার ভালোবাসাটা প্রকাশ করে চলেছে প্রকটভাবে।।

ভাই??তুই একটু বস এখানে,,,এতো টেনশন করিস না,,বউমনি ঠিক হয়ে যাবে দেখিস,,,(কাঁধে হাত রেখে)

তিন তিনটা ঘন্টা হয়ে গেছে শুভ্র,,,উফফ,,ও কিভাবে সহ্য করছে,??,ওর খুব কষ্ট হচ্ছে রে,,,খুবব,,

ভাই এই সময় সবারই কষ্ট হয়,,,জাস্ট কাম ডাউন,,তুই যেভাবে টেনশন করছিস,, নিজেই না অসুস্থ হয়ে যাস,,প্লিজ ভাই শান্ত হো,,

কি করে শান্ত হবো বল,,,আমি ওকে একটুও হেল্প করতে পারছি না,,,আমার সামনে ও কষ্টে চেঁচাচ্ছে আর আমি তাকিয়ে শুধু দেখছি,,নিজেকে কতোটা,অসহায় লাগছে,,, বোঝতে পারছিস??নিজেকে একজন ব্যর্থ স্বামী বলে মনে হচ্ছে,,,,

ওদের কথার মাঝেই ওটির লাইট নিভে গেলো,,,সাথে সাথেই বেরিয়ে এলেন ডক্টর।।ডক্টরের মুখের ভাব দেখে কিছুই আঁচ করা যাচ্ছে না।।ডাক্তারকে দেখেই সবাই দৌড়ে গেলাম,,,হৃৎপিণ্ডটা যেনো বেরিয়ে আসতে চাইছে,,কে জানে কি শুনতে হবে,,,

ডক্টর??

কনগ্রাচুলেশন মিষ্টার আহমেদ,,,আপনার ওয়াইফের ছেলে হয়েছে,,,

ডক্টর মাই ওয়াইফ???

বেবিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের কাছে দেওয়া হবে,,,

শাট আপ ডক্টর,,,বাচ্চার কথা পরে শুনবো আগে আমার বউয়ের কথা বলুন,,,,রুহি কেমন আছে???

এক্চুয়েলি,,,

হোয়াট দ্যা হেল,,,বনিতা না করে বলবেন প্লিজ,,,হাউ ইজ মাই ওয়াইফ??(চিৎকার দিয়ে)

ভাই শান্ত হো,,ডক্টর তো বলছে,,রিল্যাক্স,,,,ডক্টর বউমনি কেমন আছে??

বেবির পজিশন সরে গিয়েছিলো,,,বেবিকে বের করে আনতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে,,,,উই আর থেংকফুল টু গড যে বেবি ঠিক আছে,,,

ডক্টর আপনি বলবেন প্লিজ রুহি কেমন আছে,,,আর কিছু শুনতে চাচ্ছি না আমি,,,গট ইট???

অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ায়,এখনো আমরা সিউর হতে পারছি না,,,ব্লিডিং কমে আসলে উনি বিপদমুক্ত বাট এখনো আমরা গ্যারেন্টি দিতে পারছি না,,সো সরি।।

হোয়াটট???আপনি বুঝতে পারছেন কি বলছেন??শী ইজ মাই ওয়াইফ ওকে??যদি ওর কিছু হয়,,আপনাদের কাউকে ছাড়বো না আমি,,,,আপনাদের এই সো কল্ড হসপিটাল ধুলোয় মিশিয়ে দিবো,,,মাইন্ড ইট(কলার চেপে)

অভ্র?? ছাড়ো উনাকে,,,

ভাই লিভ হিম,,বউমনির কিচ্ছু হবে না,,,,শী উইল বি ফাইন,,,তুই শান্ত হো প্লিজ,,

আম্মু এই পর্যন্ত চারবার সেন্সলেস হয়েছে,,,আব্বু আম্মুকে সামলাতেই ব্যস্ত,,,মামানির প্রেসার আবারো ফল করছে,,,মামু নিশ্চুপ হয়ে বসে আছেন।।।অভ্র ভাইয়ার পাগলামী সহ্য না করতে পেরে ওনাকে রুহি আপুর কেভিনে বসিয়ে রাখা হয়েছে,,আপুর কেভিনে ডুকেই উনি একদম শান্ত হয়ে গেছেন,,,শুধু চোখদুটো শান্ত হচ্ছে না,,অবিরাম জল গড়িয়ে পড়ছে,,,,শুভ্র হসপিটালের এক কোনায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে শূন্য দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে আছে,,,আমাদের কারোর মনে নতুন কেউ আসার আনন্দ নেই,,,বরং পুরাতন কে হারানোর ভয়ে আমরা আড়ষ্ট,,,, আনন্দটা চিন্তার রেখায় চাঁপা পড়ে গেছে নিখুঁত ভাবে,,,আমি ধীর পায়ে শুভ্রর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম,,,উনার কাঁধে হাত রাখতেই উনি কেঁপে উঠলেন,,

রোদ??দেখো বউমনিরই কি অবস্থা,,তোমার কথা ভাবতেই আত্মা শুকিয়ে আসছে আমার,,,,ভাইয়া তবু সহ্য করে নিচ্ছে আমি সহ্য করতে পারবো না,,,একদম মরে যাবো,,একদম মরে যাবো,,,

উনার কথার প্রতিউত্তরে কি বলা উচিত জানি না,,,তবে অজানা আশঙ্কায় কেঁপে কেঁপে উঠছি আমিও,,,,নতুনকে বরন করে নিতে কতো কষ্টের প্রহর পেরোতে হয় আমাদের,,,কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় নতুনকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার সূক্ষ্ম আশা পূরনে।।।

#চলবে,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *