তোকে চাই। পার্ট_২০ শেষ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 20_ End

তোকে চাই সকল পর্ব


পুরো বাড়িতে সাজ সাজ রব,,,আর হবেই না বা কেন,,আমাদের পুচকো যে আসতে চলেছে,,,আমাদের দুটো ফ্যামিলির প্রথম পুচকুসোনা,,,আমার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে,,,ইচ্ছে করছে পুরো বাড়িটা নিজের হাতে ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিই কিন্তু শুভ্রর জন্য তা আর হওয়ার নয়,,,নিজে তো ভাতিজা আসার খুশিতে সারাবাড়ি নেচে বেড়াচ্ছেন,,,আর আমি উঠে দাঁড়ালেই ধমক দিয়ে বসিয়ে দিচ্ছেন,,,এটা কি মানা যায়??বাড়ির বাইরে গাড়ির শব্দ শুনেই দিলাম এক দৌড় এবার আমায় আর পাই কে??আপু নিশ্চয় চলে এসেছে,,সাথে আমার গুলোগুলোটা,,,,দরজায় দাড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছি ঠিক তখনই অভ্র ভাইয়া গাড়ি থেকে নামলেন,,আর নেমেই আপুকে কোলে তোলে নিলেন,,,ইসস কি সুইট মোমেন্ট,,ভাইয়ার কোলে আপু,,আর আপুর কোলে বেবি,,,এই সময়টাকে ক্যামেরায় বন্ধী করতে পারলে কতই না ভালো হতো,,বাট আমার কাছে ক্যামেরা তো দূরের কথা ফোনটাও নেই।।ধেৎ।।ভাইয়া আপুকে ধীরেসুস্থে সোফায় বসিয়ে দিলেন,,আপুর শরীর এখনো বেশ দুর্বল,,,

আপুইইই,,,,বুঝছিস,,,আমার এতো এতো খুশি লাগছে,, আই কান্ট এক্সপ্রেস,,,ইচ্ছে করছে লুঙ্গি ডান্স দেই,,,তোর মনে আছে??আগে তোকে বলতাম,,তোর বেবি পালার দায়িত্ব আমার,,,তুই তো আমাকেই ঠিক মতো খাওয়াতে পারিস না,, বেবি কে কি খাওয়াবি,,,,(আপুকে জড়িয়ে ধরে)

হুমমম,,,এখনো তাই বলি,,ওর দায়িত্ব তোর,,,

ইয়াপপপ,,,আমার বেবিটা,,,দে দে,,আমার কোলে দে,,,মাশাল্লাহ আমার আব্বুটা কি কিউট হইছে,,,,(বাবুকে কোলে নিতে নিতে)

আস্তে,,,বেবি উড়ে যাবে না,,, সো রিলাক্স,,,আর তুমি কেন,,,আমার কাছে দাও বেবিকে,,আমি ওর চাচ্চু,,,তুমি ওর খালামনি,,অনেক দূরের সম্পর্ক,,বুঝছো??

একদম টাচ করবেন না,,,এহহহহ আসছে দূরের সম্পর্ক,,, আপনি জানেন না,,,”মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি”,,,কোনোদিন শুনছেন “বাবার চেয়ে চাচ্চুর দরদ বেশি”??? আসছে ঢং দেখাতে,,,(মুখ ভেঙিয়ে)

আরে,,,বললেই হলো??ওর চেহারাতেই আমি আমি ছাপ আছে,, দেখো ঠিক আমার মতো,,,

একদম না,,,,আপনি,,,,

তোরা থাম তো,,বাবুর নামটা ঠিক করা লাগবে তো নাকি??কালকেই আকিকার আয়োজন করা হয়েছে,,এদিকে নামই ঠিক করা হয় নি।।

আমি বলি?? আমি বলি??

বাবুকে আপুর কাছে দিয়েই লাফিয়ে উঠলাম,,,আর সাথে সাথেই পড়লো এক ধমক,,,আমি সাধারনত এমন করি না বাট আজ যেনো কিছুতেই বাঁধ মানছে না,,,

রোদ??সাবধানে,,তুমি এখনো বাচ্চা না,,,কিছুদিনপর বাবুর মা হয়ে যাবে,,নিজের জন্য না হলেও বেবির জন্য হলেও সেফলি চলাফেরা করো,,, প্লিজ (রাগী গলায়)

সরি,,বাট নামটাতো বলতে দিন,,,(মুখ গোমরা করে)

রোদ তুমি বলো,, আমিও শুনি আমার শালী সাহেবা কী নাম ভেবেছে??(মুচকি হেসে)

R তে রাফসান,,,এন্ড A তে আফসান,,,,এবার আপনারা ডিসাইড করুন কার নামের সাথে মিলিয়ে রাখবেন,,

রুহির নামের সাথে মিলিয়েই আমি বাবুর নামটা রাখতে চাই,,,কারন বাবুকে আমার লাইফে এনে দেওয়ার জন্য রুহিই সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছে,,থেংকিউ রুহি,,,

ওকে তাহলে রাফসান ইজ ডান??(সবার দিকে একনজর তাকিয়ে)

আমি কি একটা নাম সাজেস্ট করতে পারি??

কি যে বলেন ভাইজান,,,ফর্মালিটি না করে বলুন তো,,আপনার নাতি,,আপনার তো অগ্রাধিকার,,,,

হ্যা,, বলো,,অরি তুমিও বলো কোনো নাম,,

হ্যা বাবা,,বলো বলো,,

তৌফিক,,আমার মেয়ে তার ছেলে ও স্বামী সংসার নিয়ে সবসময় সুখে থাকুক,,আল্লাহ তার তৌফিক দান করুন।।আমার নাতি আমার মেয়ের জীবনে আল্লাহর দেওয়া একটি উপহার,,তাই আমি ভাবছি তৌফিক রাখলে কেমন হয়??

ফুপা,,বেস্ট হয়।।কোনো আর্গুমেন্ট নেই,,,জাস্ট ফাইনাল,,

আমি বলি কি,,,রোদও যেহেতু একটা নাম দিয়েছে তো দুটো নামই রেখে দিলে কেমন হয়??রাফসান আহমেদ তৌফিক।।।

অস্থির মামানি,,,লাভ ইউ(দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে)


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছি,,,পূর্ন চাঁদটা যেনো তার আলোয় আমার মন ভুলানোর প্রয়াশ চালিয়ে যাচ্ছে,,,সত্যি জীবনটা কতো অদ্ভূত,,একদিন আগেও যে মানুষগুলো কাউকে হারানোর ভয়ে দিশেহারা ছিলো আজ সেই মানুষগুলোই হাসিতে আনন্দে,,নতুনের আগমনে পাগলপ্রায়।।সবার মাথায় একটাই চিন্তা,,এই ছোট্ট জানটাকে কিভাবে আগলে রাখবে,,,কিভাবে তাদের খুশিটা প্রকাশ করবে,,,কিভাবে তাদের এতো এতো ভালোবাসাগুলো ছোট্ট জানটাকে উপলব্ধি করাবে,,,সত্যি একটা বাচ্চায় পারে নতুন উদ্যমে বাঁচার উৎসাহ দিতে ,,”এইযে বাবার প্রিন্সেস,,,তুমিও কি খুশিতে আত্মহারা??জানো তোমার একটা কিউট ভাইয়া হয়েছে,,তোমায় অনেক ভালোবাসবে,,তুমিও তাড়াতাড়ি চলে আসো তো,,আমাদের খুশিটাকে দ্বিগুণ করতে তোমার আগমনই যথেষ্ট,,, লাভ ইউ বেবি,,””হঠাৎ ই পেটে কারো স্পর্শে ভাবনার প্রহর কাটলো,,,স্পর্শটা যে শুভ্রর তা বুঝতে আর বাকি রইলো না,,,উনার ছোঁয়ায় আমার শরীরে অটোমেটিক কাঁপুনি শুরু হয়ে যায়,,,উনি আমার কাঁধে মুখ ঢুবিয়ে বলে উঠলেন,,,

কি করছো??

কিছু না,,,আকাশ দেখছিলাম,,,কোথায় ছিলেন আপনি??(ঘুরে উনার দিকে তাকিয়ে)

উনি আমার কথায় মুচকি হেসে সামনে থেকে আমার কোমর জড়িয়ে নিলেন,,,

বাবুর কাছে ছিলাম,,কি কিউট তাই না??আমার মামুনিটা আরো কিউট হবে,,,আমার ঘরে থাকবে দুই পরির বসবাস,,(নাক টেনে)

যদি ছেলে হয় তো??(ভ্রু নাচিয়ে)

আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে,, প্রিন্সেসই আসবে,,জানো আমি নামও ভেবে রাখছি,,,

তাই??আপনার এসব ভাবারও সময় আছে নাকি??(অবাক হয়ে)

আমার বউ আর বাচ্চার জন্য আমার অফুরন্ত সময়,,বাট বউ তো তা বুঝে না,,,(চোখ টিপে,,শয়তানী হাসি দিয়ে)

আহারে,,,বেচারা,,,আপনার বউ দেখি বড্ড নির্দয়,,,(মুচকি হেসে)

বাচ্চা তো,,,বুদ্ধি কম,,,বর তারসাথে রোমান্স করতে গেলে সে ভাবে তাকে কাতুকুতু দেওয়ার চেষ্টায় আছি,,,আর রোমান্স না করলে ভাবে আমি আমার জাস্ট ফ্রেন্ডদের সাথে মাখামাখির চেষ্টায় আছি,,,(মুখ ভার করে,,হাত উল্টে)

উনার কথায় আমি খিলখিল করে হেসে উঠলাম,,,কোনোরকম হাসি থামিয়ে বলে উঠলাম,,

তাই বুঝি??ইসসস কি কষ্ট,,

হুমম,,খুব,,,বাট কষ্টটা আমি পুষিয়ে নিতে পারি,,(চোখ টিপে)

কথাটা বলেই উনি আমাকে কোলে তুলে নিলেন,,,আমিও চুপচাপ উনার বুকে মুখ গুজলাম,,,কারন আমি জানি,,আমি এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করলেও উনি আমায় ছাড়বেন না,,,,সো শুধু শুধু এনার্জি ওয়েস্ট করে কি লাভ??

আচ্ছা,,,বেবির নামটা তো বললেন না,,,

আমার প্রিন্সেসের নাম হবে,,,রোধৌশী আহমেদ শুভ্রতা,,,তুমি আমি মিলেই তো সে,,,

আর ছেলে বেবি??

সেটা তো ভাবি নি সোনা,,(গালে ঠোঁট ছুইয়ে)

এটা তো ঠিক না,,,আপনি ছেলে বেবির নামটাও এখন বলবেন ব্যস,,,(মুখ গোমরা করে)

ভেবে বলি??(করুন চোখে)

না এখনি এখনি এখনি,,,(মুখ ফুলিয়ে)

ওকে ফাইন,,,ওর নাম হবে,,রেদুয়ান আহমেদ শুভ্রব,,হ্যাপি??

হুমমম,,অননননেক,,,(দাঁত কেলিয়ে)

উফফ,,তোমার দাঁতগুলোও হেব্বি কিউট গো,,,,তুমি পুরোটাই একদম মাথা নষ্ট টাইপ,,,

মাথা নষ্ট টাইপ মান?(ভ্রু কুঁচকে)

মানে হলো,,,,দেখলেই মাথা নষ্ট হয়ে যায় এমন টাইপ,,ইচ্ছে করে,,,না থাক পরে আবার লজ্জায় লজ্জায় টমেটো হয়ে যাবে,,,(ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে)



চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারো না??এতো নড়াচড়া কেনো করছো??(ভ্রু কুচঁকে)

দেখুন,,আপনার দ্বারা সম্ভব হবে না,,,সো সরুন আমি নিজেই করে নিবো,,,সরুন তো,,,

একদম না,,,এটা আমার প্রেস্টিসের ব্যাপার,,,প্লিজ তুমি চুপচাপ দাঁড়াও আই উইল ম্যানেজ,,,

একঘন্টা ধরে তো তাই করছি,,,(মুখ গোমরা করে)

আর একটু প্লিজ,,,আমার এভিলিটি সম্পর্কে তোমার কোনো ধারনাই নেই বেবি,,,দেখে নিও ফার্স্ট আমিই হবো,,,

হুহ,,,এতো ক্ষনে আপনার এভিলিটি সম্পর্কে ফুল ধারনা হয়ে গেছে আমার,,,(বিরবির করে)

আজ তৌফিকের আকিকা,,,এই উদ্দেশ্যে বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে,,,দিদার তো আনন্দ আর ধরে না,,,উনি পরদাদি হয়েছেন বলে কথা,,দিদার খুশির ঠেলা এখন সামলাতে হচ্ছে আমাকে,,,দিদা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন,,,আজ সব ছেলেরা যার যার বউকে সাজাবে,,,কার বউকে কে সবচেয়ে সুন্দর করে সাজাতে পেরেছে তা ডিসাইড করবে দিদা আর রাহাত ভাইয়া,,,কারণ ওরা দুজনেই সিংগেল।।দিদার সেই এককথায় শুভ্র আমাকে একঘন্টা যাবৎ দাঁড় করিয়ে শাড়ি পড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে,,,আর বারবারই ফলাফল জিরো নিয়ে আবারো নতুন উদ্যমে শুরু করছে,,,প্রায় দেড় ঘন্টা পর উনি শাড়ি পড়ানো কমপ্লিট করলেন,,,তবে বেশ সুন্দর করেই পড়িয়েছেন,,কিন্তু ততক্ষণে আমি অঞ্জান,,,জীবনের তেরোটা বাজিয়ে দিয়েছেন উনি,,,

কি হলো শোয়ে পড়লে কেনো??(ভ্রু কুচঁকে)

আমি টায়ার্ড দাঁড়ানোর শক্তি নেই আর,,,,,

কিন্তু সাজতো এখনো কমপ্লিট হয় নি,,,

না হোক লাগবে না,,,আই নিড রেস্ট,,আমি এমনি সুন্দর সো নো সাজাসাজি,,,

ওকে তুমি রেস্ট নাও,,,

কথাটা বলেই আমাকে কোলে তোলে নিয়ে ড্রেসিনটেবিলের সামনের টোলে বসে পড়লেন,,,আমি তো পুরাই “হা”

আরে,,,মাত্রই তো বললেন রেস্ট নাও,,আর এখনি তোলে নিয়ে আসলেন কেনো??(রাগী গলায়)

কেনো,,তুমিই তো বলো আমার কোলে তোমার সব ক্লান্তির অবসান হয়,,,,এখন তো কোলে নিয়ে বসে আছি,,,তোমার রেস্টও হয়ে যাবে আর আমার কাজও,,,(গালে ঠোঁট ছুইয়ে ,, মুচকি হেসে)

আমি আর কিছু বললাম না,,,উনার কোলে বসে থাকতে খারাপ লাগছে না বরং বেশ ভালোই লাগছে,,,উনি আমার চোখে খুব সাবধানে কাজল লাগিয়ে দিলেন,,,,কপালে ছোট্ট কালো টিপ,,ঠোঁটে হালকা গোলাপী লিপস্টিক।।কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকেই,,,খোঁপা করে রাখা চুলগুলো একটানে খুলে দিলেন,,, দুহাতে শক্ত করে কোমর চেপে ধরে চুলে মুখ ডুবিয়েই বলে উঠলেন,,,

আমার বউকে এইটুকু সাজেই মারাত্মক লাগে,,,,তাকে আর সাজানো যাবে না,,তাহলে আমিই না হার্ট এ্যাটাক করে বসি,,,

সোফায় বসে তৌফিকের সাথে খেলছিলাম,,,হঠাৎ উপরে তাকিয়েই চোখ স্থির হয়ে গেলো,,,বর আমার লাল পাঞ্জাবী পড়েছেন,,,গলা থেকে শুরু করে বুকের একপাশে সোনালী সুতোয় কাজ করা,,,হাতাগুলো কুনুই এর নিজ পর্যন্ত উঠানো,,,সিল্কিচুলগুলো কপালে এসে পড়েছে,,ডানহাতে ঘড়ি,,,আর ঠোঁটে পাগল করা হাসি,,,,আমারই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম,,, দিদাকে দ্বিধায় ফেলে দিয়ে মা,,মামানি,,আপু সবাইকেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে,,,কাকে যে বেস্ট বলবে তাই নিয়ে চিন্তায় অস্থির উনি,,,অবশেষে আমাকেই দেওয়া হলো বেস্টের তাজ,,,দিদা স্ট্রংলি বলে দিয়েছেন,,,ময়দা সুন্দরীদের এই সম্মান দেওয়া,যেতে পারে না,,,আর যেহেতু রোদ কোনো মেকআপ ইউজ করে নি সো সম্মানটা রোদেরই প্রাপ্য,,,,শুভ্রর খুশি দেখে কে?অভ্র ভাইয়ার,সাথে কমপিটিশনে উনি জিতে গেছেন,,এর থেকে খুশির আর কি হতে পারে???


হাসি-আনন্দে কেটে গেলো ৯ টি মাস,,,কিভাবে যে এতোটা দিন কাটিয়ে দিলাম বুঝতেই পারি না,,,রাত দুটো আমি বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আছি,,,মুখ গোমরা করে তাকিয়ে আছি পাশে শুয়ে থাকা শুভ্রর দিকে,,,কি আরামে ঘুমুচ্ছে,,,এদিকে ক্ষুধায় পেটে ইদুঁর নাচছে,,,”এই শুনছেন?” কথাটা বলার সাথে সাথেই উনি লাফিয়ে উঠলেন,,

কি কি হয়েছে??পেইন শুরু হয়েছে??হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে??বেশি ব্যাথা করছে??ওয়েট আমি সবাইকে ডাকছি,,,,(বলেই বিছানা থেকে ধরফরিয়ে নামতে গেলেন,,)

আমার ক্ষুধা লেগেছে,,,(শার্টের হাতা টেনে ধরে)

আমার কথাটা শুনেই উনি অবাক চোখে আমার দিকে তাকালেন,,,

খাবা??(অবাক চোখে)

হুম,,(মুখ গোমরা করে)

মাত্র একঘন্টা আগেই তো উঠে খাওয়ালাম তোমায়,,,

আপনি এখন খাওয়া নিয়েও খোটা দিবেন??লাগবে না আমার খাবো না,,,,বেবি তোর বাবা,, তোকে আর আমাকে পেটুক বলছে,,,দেখেছিস??

আরে তা কখন বললাম??আচ্ছা বলো কি খাবে??ভাত আনবো??(ঘুম ঘুৃম চোখে)

এই রাতে কেউ ভাত খায়??আমি আইসক্রিম খাবো,,,কেক খাবো,,,ফুসকা হলে তো আরো ভালো হয়,,টক আর ঝাল টা একটু বাড়িয়ে দিয়ে,,,

এসব এখন কোথায় পাবো??তাও এতো রাতে??(করুন চোখে)

তো সেটা আমি কিভাবে জানবো??যান নিয়ে আসুন ব্যস,,,

রোদ,,সোনা,, অন্যকিছু খাও ফ্রুটস বা সাম হেল্থি ফুড?

না আমার ওসবই লাগবে ব্যস,,,

রোদ জেদ করো না তো,,

আপনি আমাকে বকছেন??সামান্য খাবারের জন্য??এই আপনার ভালোবাসা??(কাঁদো কাঁদো মুখে)

আচ্ছা বাবা যাচ্ছি,,,ফ্রিজে আইসক্রিম আছে মে বি,,,আর আমি কেক বানানোর ট্রাই করছি,,বাট ফুসকা হবে না,,,ওকে??

ওকে,,(দাঁত কেলিয়ে)

হুম,,,আম কামিং,,

উনি আমার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দুর্বল একটা হাসি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন,,,উনাকে দেখে আমি অবাকই হই,,,এই নয়টা মাস ধরে উনাকে এভাবেই জ্বালিয়ে আসছি আমি,,,কিন্তু উনার মুখে বিরক্তি প্রকাশক,, “উফ” শব্দটাও কখনো শুনি নি,,,,কতোবার যে বমি করে উনার গা ভাসিয়েছি তার ইয়াত্তা নেই,,সবসময়ই হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন সব।।হঠাৎই পেটে মুচোড় দিয়ে উঠলো,,বেবি কিক করলেও ব্যাথা লাগে কিন্তু এমনটা তো নয়,,,ধীরে ধীরে ব্যাথা বাড়তে লাগলো,,,নিশ্চয় লেবার পেইন শুরু হচ্ছে,,,,এদিকে শুভ্ররও কোনো দেখা নেই,,,,ব্যথায় শরীর কুঁচকে আসছে,,,শরীর ঘেমে একাকার,,,মনে হচ্ছে জীবনটা এখনি বেরিয়ে আসবে,,,গলা দিয়ে স্বর বেরুচ্ছে না,,,শুভ্র কে যে ডাকবো সেই অবস্থাও আমার নেই,,,কোনোরকম হাত বাড়িয়ে বেডসাইট ল্যাম্প আর ফুলদানিটা ফেলে দিলাম,,,সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার,,,কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভ্র দৌড়ে রুমে এলো,,,তার পিছুপিছু একে একে সবাই।।।

হসপিটালের বেডে শুয়ে আছি,,,আমার পাশে শুভ্রর তথাকথিত প্রিন্সেস,,,মামনির মুখটার দিকে তাকালেই প্রশান্তিতে মনটা ছেঁয়ে যাচ্ছে,,,আমি যেনো নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না,,এমন একটা ভয়ঙ্কর কষ্টকে উপেক্ষা করে আমি আমার মামনিটাকে জন্ম দিয়েছি,,মাতৃত্ব যে সব ব্যাথাকে ভুলিয়ে দেয় তা আজ আমার কাছে স্পষ্ট।।সবাই আমার কেভিনে দাঁড়িয়ে আছে,,সবার মুখেই উপচে পড়া আনন্দ,,কিন্তু আশেপাশে শুভ্রকে দেখতে পাচ্ছি না,,,আপুকে জিগ্যেস করতেই আপু হেসে হেসে গড়িয়ে পড়বে অবস্থা,,,কোনোরকম হাসি থামিয়ে যা বললো তাতে কাহিনী টা হলো এরকম,,,,আমাকে ওটিতে ঢুকানোর সাথে সাথেই শুভ্র টেনশনে সেন্সলেস হয়ে গেছে,,,আমার যেহেতু নরমাল ডেলেবারি হয়েছে,,সো আধাঘন্টায় আমি ফিট,,বাট আমার স্বামী মহোদয় এখনো বেহুঁশ,, ভাবা যায় এগুলো???আপুর কথা শেষ হতেই শুভ্র কেভিনে ঢুকলো,,আমাকে একনজর দেখেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন,,,উনি ঢুকতেই একে একে সবাই বেরিয়ে গেলেন,,,শুভ্র একটা বাঁকা হাসি দিয়ে আমার পাশে বসে পড়লেন,,,

দেখছো,,প্রিন্সেস এসেছে,,,আমাদের শুভ্রতা,,,

আমিও মুচকি হাসলাম,,,মজার ছলে বলে উঠলাম,,

হুমম শুভ্রতা,,,দুইবছর পর শুভ্রবও আসবে ঠিক না??

তোমার মাথা,,,আবার চিন্তা করে দেখো ঠাডায় যদি না দিছি,,এবারেই সেন্সলেস হয়েছি,,,নেক্সট টাইম হলে সোজা উপরে(চোখ ও আঙ্গুল দিয়ে উপরে ইশারা করে)


আজ শুভ্রতার জন্মদিন,,তিনবছর পুরো হতে চলেছে,,,,শুভ্র ঠিকই বলতো,,একদম আমার মতো হয়েছে,,,ওর আতো আতো কথাগুলো যেনো আরো মন কাড়ে,,,

পুতকি মাম্মাম,,পুতকি মাম্মাম,,

এই কিসের পুচকি??মাম্মাম আবার পুচকি কিভাবে হয়??(কোমরে হাত রেখে রাগী গলায়)

বাবাই বলেতে,,তুমি পুতকি মাম্মাম,,,

কিহ??এসব শেখায় তোর বাবাই তোকে??অসভ্য লোক একটা,,,তোর বাবা তোকে এটা বলে নি যে,, তোর বাবাই হলো,,বুইড়া বাবাই??(নিচু হয়ে ভ্রু কুচঁকে)

শুভ্রতা কিছুক্ষণ অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থেকেই ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো,,,

বুলাই বাবাই??

বুইড়া কে এই মেয়ে দেখি বুলাই বানিয়ে দিছে,,,বাবার মতো হেব্বি ক্রেটিবেটি প্রকাশ করে চলেছে অনবরত,,,আর আমি মুখ চেপে হাসছি,,,এই ছোট্ট বাচ্চাটা আমার অস্তিত্ব ভাবলেই সারাটা শরীর শিউরে উঠতে চাই,,,

ছি রোদ,,,আমার প্রিন্সেস কে এসব কি শেখাচ্ছো??ভেরি বেড,,,

হ্যা পুচকি মামনি,,,তুৃমি বোনকে কি শেখাচ্ছো???আমিকেও শেখাও,,,,

এই তৌফু,,,মামনির সাথে আবার পুচকি লাগিয়েছিস কেন??(ভ্রু কুচকে)

চাচ্চুই তো বললো তোমায়,পুচকি মামনি ডাকতে,,,তাহলে আমায়,অনেকগুলো চকলেট দিবে,,,

এবার আমি শুভ্রর দিকে রাগী চোখে তাকালাম,,,সাথে সাথেই উনি ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে উঠলেন,,,এই হাসিটাই আমি হাজার বার মরতেও রাজি,,আমি রাগ ভুলে একদৃষ্টে উনার দিকে তাকিয়ে আছি,,,উনি তৌফুর হাত ছেড়ে দিয়ে ধীর পায়ে আমার পাশে এসে দাড়ালেন,,,,

মাই প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস,,,,ক্লোজ ইউর আইস,,,,দিস ইজ ম্যাজিক টাইম,,,ফাস্ট ফাস্ট,,,পুচকো-পুচকিও দ্রুত চোখ বন্ধ করে নিলো,,,এটা ওদের কাছে নতুন কিছু না,,,ওরা চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু একে দিলেন,,,

এই রোদবালিকা,,,,তুমি ৮০ বছরের বুড়ি হয়ে গেলেও আমি তোমায় পুচকিই বলবো,,,,শুধু আমার পুচকি,,,আর আমার প্রতিটি দোয়ায় থাকবে একটি শব্দই,,,”তোকে চাই”,,,”তোকে চাই”…..শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত শুধু তোকেই চাই,,,,

হ্যা আমিও চাই উনাকে,,,প্রতিটা মুহূর্তে চাই,,,খুব বেশি করেই চাই,,,

বাবাই,,,খুইবো তোক??

শুভ্রতা,,,খুইবো না,,বল খুলবো,,,আর তোক না ওইটা চোখ হবে,,,,তুই সবসময় ভুল করিস বনু,,,

হ্যা,,,এবার চোখ খোলো,,,

ওরা চোখ খুলতেই চকলেটে ওদের হাত বুঝাই করে দিলো শুভ্র,,,দুজনের খুশি দেখে কে??যেনো রাজ্যের সব খুশি এখন ওদের হাতে,,,,,ভালোবাসা,,আনন্দ,,হাসি সব যেনো এভাবেই থেকে যায় নীরবে,,,,,

💖💖💖  সমাপ্ত … 💖💖💖

(উফফ,,,অবশেষে শেষ হলো গল্পটা,,,,আমি নিজেই অনেক মিস করবো গল্পটাকে,,,,বাট ব্যস্ততার আড়ালে নিজের ইচ্ছেটাকে হারিয়ে দিতে হলো,,টানতে হলো সমাপ্তী,,,শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরীক ধন্যবাদ,,, ভালো থাকবেন,,,অবিরাম ভালোবাসা রইলো❤)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *