তোকে চাই। পার্ট_৬ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 6

তোকে চাই সকল পর্ব


উনি আমাকে উনার মুখের কাছে দেখেই 5G স্পিডে উঠে বসলেন,,,ভ্যাবাচ্যাকা ভাবটা কাটিয়ে,,, চোখে -মুখে রাগ ফুটিয়ে বলে উঠলেন,,,

এই মেয়ে??কি করছিলে আমার উপর???

আ,,,মি আ,,,মি(ভয়ে ঢোক গিলে)

কি আমি আমি করছো??টেল মি,,কি করছিলে??(রাগী চোখে)

দে,,দেখছিলাম,,দেখছিলাম,,,(জোর করে হাসার চেষ্টা করে)

কি দেখছিলে??(ভ্রু কুঁচকে)

আপনাকে,,,

হোয়াটটটটটট????(চেঁচিয়ে)

ন,,না মা,,মানে আপনি জেগে আছেন কি না,,, সেটা দেখছিলাম,, (দাঁত বের করে একটা হাসি দিয়ে)

জেগে আছি কি না সেটা দেখার জন্য কি কলিজার উপর উঠে বসতে হয়??(তীক্ষ্ণ কন্ঠে)আর কেনই বা এতো দেখাদেখি???আমি ঘুমিয়ে থাকলে কি প্রতিশোধ নিতে নাকি???(ভ্রু নাচিয়ে)

ছি ছি,,কি যে বলেন না।।আমি প্রতিশোধ নিতে যাবো কেন??আমি তো আরো সরি বলতে চাইছিলাম,,,তাই চেক করছিলাম,,, আপনি জেগে আছেন কি না।।।সকাল সকাল আপনাকে সরি বললে দিনটা ভালো যাবে,, তাই ভাবলাম……(ডাহা মিথ্যা কথা)

কেনো??তুমি কেনো সরি বলবা?(সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

না মানে,,,কাল গাড়িতে আপনাকে কি না কি বলেছি তাই,,,হাজার হলেও আপনি আমার কত্তো বড় ভাইয়া,,,ওহহ, সরি সরি জামাই,,বুইড়া জামাই।।(ইনোসেন্ট মার্কা ফেস নিয়ে)

তুমি আমাকে আবার বুইড়া বললা??(ভ্রু কুচঁকে)

সেজন্যই তো সরি বলবো,,,আপনি একটু চোখটা বন্ধ করুন আমি সরি বলে চলে যাই,,,,আজ কোচিং-এর ফাস্ট দিন,,আমি লেট করতে চাই না।।প্লিজজ….

এক মিনিট,,, এক মিনিট,,,,তুমি সরি বললে আমাকে চোখ বন্ধ করতে হবে কেন??

আমার লজ্জা লাগে,,,(নিচের দিকে তাকিয়ে)

কিহহ,,,তোমার লজ্জাও আছে??(অবাক হয়ে)এনিওয়েস,,সরি বলতে কারো লজ্জা লাগে বলে আমার জানা ছিলো না।।

আমার লাগে,,করুন না একটু চোখটা বন্ধ,,প্লিজজ

উফফফ,,,ওকে করলাম চোখ বন্ধ,,,তাড়াতাড়ি সরি বলে উদ্ধার করো,,,

উনি বিরক্তি নিয়ে চোখ বন্ধ করলেন,,আমিও কম কিসে??উনি চোখ বন্ধ করা মাত্রই উনার ঠোঁটে জোড়ে একটা কামড় দিয়ে বসলাম,,,আর কামড় দিয়েই দৌড়।।এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম।।দরজা লাগানোর সময় দেখলাম উনি হ্যাং মেরে বসে আছেন।।।আমার এই মুহূর্তে অনেক হাসি পাচ্ছে,,,বেশ করেছি,,,কেনো করবো না??কত্তো কিউট করে একটা কিস করতে চাইলাম আর মহাশয় দিলেন আমায় বাঁশ।।।এখন বুঝো মজা,,,কামড় খেতে কেমন লাগে??ওয়াশরুমে আগে থেকেই কাপড় রাখা ছিলো,,তা দিয়ে গোসল করে রেডি হয়ে নিলাম,, কিন্তু বের হওয়ার সাহস পাচ্ছি না,,,,,উনি আমার সাথে ঠিক কি কি করতে পারেন এসব নিয়েই ভাবছি।।ক্ষুধাও পেয়েছে ব্যাপক আর কোচিং এর জন্যও লেট হচ্ছে,,,বের তো হতেই হবে।।।আল্লাহ,, আল্লাহ করে দরজা খুলে,,, একটা পা দরজার বাইরে রাখতেই,,,কেউ একজন আমার হাত টেনে ধরলো,,,কিছু বুঝে উঠার আগেই দেয়ালের সাথে শক্ত করে চেঁপে ধরলো আমায়,,,, ভয়ে আমি চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম।।আমার মুখের উপর কারো গরম নিশ্বাস অনুভব করতে পারছি,,,ধীরে ধীরে চোখ খুলে সামনে তাকাতেই,,,উনার ফর্সা মুখটা চোখে পড়লো,,তারসাথে একজোড়া রাগী চোখ।।ভয়ে আমি ঢোক গিলে যাচ্ছি বারবার।।কি করে এবারের মতো বাঁচা যায় এই চিন্তায় চালছে মাথায়।।

কি করলা এটা??(দাঁতে দাঁতে চেপে)

ক,,কি করছি??(ভয়ে ভয়ে)

কি করছো,, জানো না তুমি???(পাশের দেয়ালে ঘুষি দিয়ে)

উনার কাঁধের উপর দিয়ে দরজার দিকে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে বললাম,,,,”মামানি তুমি??এ,,,এখানে??”,,,তাতেই কাজ হলো,,উনি আমার মুখের রিয়েকশন আর কথা শুনে একরাশ ভয় নিয়ে পিছনে তাকাতেই দিলাম দৌড়।।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না,,দরজা পর্যন্ত যাওয়ার আগেই উনি আমার হাতটা জোড়ে চেপে ধরে উনার বুকের সাথে আমার পিঠ লাগিয়ে,,দাড় করালেন।।হাতটা ভীষন জোড়ে চেপে ধরে বলে উঠলেন,,,”খুব বুদ্ধি মাথায়,, তাই না??”,,উনার প্রতিটি নিশ্বাস আমার ঘাড়ে পড়ছে,,,আর আমি কেঁপে কেঁপে উঠছি,,,উনাকে এভাবে কখনো এতো কাছে পাই নি,,,কিন্তু এখন অনুভব করার সময় নয়,,,নিজেকে বাঁচাতে হবে।।নয়তো এই খাটাশটার হাতে নির্ঘাত মৃত্যু।। এসব ভেবেই উনার পায়ে দিলাম এক লাথি,,,আকস্মিক ঘটনায় উনার হাতটা একটু ঢিল হয়ে আসতেই আমি ছুটে পালালাম,,,এবার আমায় পায় কে??সোজা মামানি আর মামুর সাথে খাবার টেবিলে বসে গেলাম।।।প্রায় ১০ মিনিট পর উনি ডাইনিং এ আসলেন।।এতো তাড়াতাড়ি কেমনে রেডি হলেন আল্লাহ জানে,,,১০ মিনিটে আফিসের জন্য পার্ফেক্টলি রেডি হয়ে আসছেন,,,হোয়াইট শার্ট আর ব্ল্যাক ব্লেজারে একদম ড্যাশিং লাগছে,,কিন্তু ঠোঁটের কোনে একটু কালচে হয়ে আছে,,,মনে হচ্ছে কেটে গেছে,,,তাহলে কি আমার কামড়ে??বাহ্ রোদ,,,তোর দাঁতের পাওয়ারও তো হেব্বি।।😁মামুর ডাকে ভাবনার প্রহর কাটিয়ে মামুর দিকে তাকালাম,,,,

রোদ মা?

জি মামু?

আজ তো ফাস্ট ক্লাস,,,মন দিয়ে পড়াশুনা করবে।।

আমি মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানাতেই মামু বলে উঠলেন,,,

সবাই শুনে রাখো,,আজ থেকে রোদ মাকে কেউ কোনো কাজ করতে বলবে না।।এখন ওর পড়ার সময়,,,কোনো ডিস্টার্বেন্স আমি টলারেট করবো না,,,আর রোদ মা??

হুম,,?

তোকে যদি কেউ ডিস্টার্ব করে তাহলে শুধু আমাকে বলবি,,ওর ক্লাস নেওয়ার দ্বায়িত্ব আমার,,

মামুর কথাটা শুনেই মনে লাড্ডু ফুটে গেলো,,,এতো বড় সুযোগ এই জন্মে আবার পাবো বলে তো মনে হয় না।।।এই জামাই নামক হনুমানটাকে হানিমুনে পাঠানোর এটাই উপযুক্ত সুযোগ।।

তোমার ছেলেই তো আমাকে বিরক্ত করে,,,(মুখ গোমড়া করে)

আমার ছেলে?(অবাক হয়ে),,শুভ্র ভাইয়াও আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো,,,

এই যে,,এই যে,,দেখো,,,,কিভাবে তাকাচ্ছে আমার দিকে।।উনার এই চাহনীর অর্থ কি জানো??রুমে চলো তারপর বুঝাচ্ছি মজা।।।(কাঁদো কাঁদো হয়ে)

শুভ্র?তুমি রোদ মা কে চোখ দিয়ে তাই বুঝাতে চাইছো??(ভ্রু কুচঁকে রাগী গলায়)

না বাবা,,,ওর কথা তুমি বিশ্বাস করছো??যত্তসব ফালতু কথা,,

কি আমি ফালতু কথা বলছি??এখন তো ফালতুই হবে,,,মামু তুমিও নিশ্চয় ওনার কথা বিশ্বাস করবে??করবেই বা না কেন,,নিজের ছেলে বলে কথা,,,আমি তো পরের মেয়ে(ন্যাকা কান্না করে)

মামু এবার পড়লেন মহাবিপদে,,উনি যে কনফিউজড এটা উনার চোখে মুখে স্পষ্ট।।আগুনে ঘি ঢালার জন্য আমার হাতটা মামুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম,,,

বিশ্বাস হচ্ছে না তো??এই দেখো,,আমার হাতটা কেমনে কালচে হয়ে গেছে,,

এটা কিভাবে হলো??(উদ্বিগ্ন কন্ঠে)

আমি উনাকে ডেকে তুলেছি বলে হাত মুচড়ে দিয়েছেন।।।

এবার মামানি চেঁতে গেলেন,,,রাগী দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,

ছি শুভ্র,,,তুই নিজের বউয়ের সাথে এমন ব্যবহার করিস??আমি তোর থেকে এমন কিছু আশা করি নি,,,আজ থেকে রোদ যা বলবে তাই করবি,,,যদি আবার এমন কিছু শুনি তো আমি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যতে দুবার ভাববো না।।।

এই কথা বলেই মামানি দাঁড়িয়ে পড়লেন,,,মামানি যে এতো সিরিয়াস হয়ে যাবে ভাবি নি,,,উনার দিকে তাকাতেই দেখি,,উনি পুরো আগ্নেয়গিরি চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন,,,কি ভয়ানক ব্যাপার।।তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে মামুর দিকে তাকালাম,,,মামুও ব্যাপারটা হজম করতে পারে নি,,,তবে মামানির কথায় হতবাক হয়েছেন ঠিক।।

যে বাড়িতে আমার বউমাদের রেসপেক্ট থাকবে না,,,সেই বাড়িতে আমি এক মুহূর্ত থাকবো না,,মনে থাকে যেনো।। বলেই রান্না ঘরে চলে গেলেন মামানি।।।এবার মামু শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,,,

কারো জন্য যদি আমার একটা মাত্র বউ বাড়ি ছেড়ে যায়,,তাহলে আমি তাকে তেয্যপুত্র করবো,,,,,

ব্যাপারটা যে বেশ খারাপ দিকে এগিয়েছে তা বুঝতে পারছি,,,তবে একদিকে ভালোই হয়ছে,,,এবার মিষ্টার “আবরার শুভ্র” বুঝবে “নৌশিন রোদেলা” কি জিনিস।।।

শুভ্র?রোদ মা কে যাওয়ার সময় কোচিং এ নামিয়ে দিয়ে যাবে।।।রোদ মা যাও,,,,

উনি কোনো কথার উত্তর না দিয়েই উঠে চলে গেলেন,,,উনি যে ভয়ানক রেগে আছেন,,তা উনার চোখে মুখে ষ্পষ্ট,,,আমিও মামুর দিকে তাকিয়ে শুকনো একটা হাসি দিয়ে,,,ভয়ে ভয়ে উনার পেছন পেছন উঠে চলে এলাম।।ক্রমাগত দোয়া-দরুদ পড়ছি,,,,,বাড়ির বাইরে এসে দেখলাম উনি গাড়িতে বসে আছেন,,রাগে চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে।।আমি আর কোনো ঝামেলা না করে গাড়িতে উঠে বসলাম,,,


রাত ১১ টা,,, বিছানায় বই খাতা ছড়িয়ে,, পা মেলে দিয়ে বসে আছি৷ একটা টপিক কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকছে না।।তাই খুব মনোযোগ দিয়ে কলম কামড়ে চলেছি।।হঠাৎই উনি ফোনে কথা বলতে বলতে রুমে ঢুকলেন।।রুমে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালেন,, কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফোনটা কেটে পকেটে রাখলেন,,,তারপর আমার দিকে তাকিয়ে দিলেন এক ধমক,,,

বিছানার কি অবস্থা করেছো তুমি??এভাবে বই-খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছো কেন??(রাগী চোখে)

আমার মাথায় পড়া না ঢুকলে আমি এমনি করি,,(মুখ গোমড়া করে)

তারমানে এই মুহূর্তে তোমার মাথায় পড়া ঢুকছে না??(ভ্রু কুঁচকে)

নাহ,,,এই টপিকটা বুঝতেই পারছি না,,(ঠোঁট উল্টে বাচ্চাদের মতো ফেস করে)

উনি আমাকে অবাক করে দিয়ে মুচকি হেসে আমার পাশে বসে বইটা নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলে উঠলেন,,,”আসো,,আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি”।।।উনি আমাকে পড়া বুঝাচ্ছেন আর আমি একদৃষ্টে উনার দিকে তাকিয়ে আছি,,,আচ্ছা,,মানুষটাকে এতোটা সুন্দর হওয়ার কি দরকার ছিলো??উনাকে দেখলে যে আমার হার্ট আট্যাক হওয়ার অবস্থা হয়,,তা কি উনি জানেন??উনার শরীর থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ আসছে,,,,এই গন্ধটাই আমাকে পাগল করার জন্য যথেষ্ট।।। উনি আমাকে পড়া বুঝিয়ে,,, উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলেন।।যাওয়ার সময় বিছানা ঠিক করতে বললেন উনি ঘুমাবেন,,, আমি মন খারাপ করে বসে আছি,,কি এমন ক্ষতি হতো??যদি আরেকটু সময় আমার সাথে বসতেন,,হুহ।।উনি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েই অবাক হলেন,,,আমাকে আগের মতোই বসে থাকতে দেখে,,,

কি ব্যাপার??বিছানা ঠিক করো নি কেন??

এমনি(মুখ ফুলিয়ে)

কি হয়েছে??এভাবে মুখ ফুলিয়ে আছো কেনো??(ভ্রু কুঁচকে)

আইসক্রিম খাবো,,

কিহ??আর ইউ মেড??কয়টা বাজে জানো??১২ঃ৩০।।এত্তো রাতে তুমি আইসক্রিম খাবা??লাইক সিরিয়াসলি??

ইয়াহ,,আম সিরিয়াস,,,(বলেি এক লাফে উনার,সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিলাম)

আরে,,আরে,,কি সমস্যা তোমার??এভাবে হাত ধরে টানছো কেন??ছাড়ো বলছি,,,, (রাগী গলায়)

না ছাড়বো না।।।আপনি এখন আমার সাথে আইসক্রিম খেতে যাবেন ব্যস,,তাও হেঁটে হেঁটে,,হুহ

ইম্পসিবল,,,, আমি এখন কোথায় যাবো না,,সরো সামনে থেকে,,

যাবেন না তো??

না,,

ওকে,,আমি যাচ্ছি,,মামুর কাছে,,(মুখ ভেঙিয়ে)

এই এই,,বাবার কাছে কেনো যাবা??(ভ্রু কুঁচকে)

বিচার দিতে,,,আমি উনাকে বলবো যে,,আপনি আমাকে…..

আমি তোমাকে কি??(রাগী চোখে)

ওটা আমার আর মামুর ব্যাপার,,নান অফ ইউর বিজনেস,,হুহ

এই এই দাড়াও,,,

কি??

যাবো,,

কই যাবেন??

আইসক্রিম খেতে(দাঁতে দাঁত চেপে)

দ্যাটস লাইক আ গুড বয়।।(দাঁত কেলিয়ে)হেঁটে যাবো কিন্তু,,,কার ইজ নট এলাউড,,

ওকে(রাগ চেপে)এবার চলো?

শুভ্র আর আমি পাশাপাশি হাঁটছি,,, আমি খুব ইনজয় করছি,,উনি কেমন ফিল করছেন,, জানি না।।হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন।।হলে হলো,,,তাতে আমার কি??আমার স্বপ্ন তো পূরন হচ্ছে।।।আমার ছোট্ট বেলা থেকে ইচ্ছা,,আমি আমার বরের সাথে,,,হাতেহাত রেখে রাতের আকাশ দেখবো।।আমাদের হাতেহাত না থাকলেও আমি খুশি উনি পাশে তো আছেন,,,এটাই তো অনেক,, তাই নয় কি??আমি নিজের মতো বকবক করে যাচ্ছি আর উনি নির্বাক শ্রোতার মতো আমার পাশাপাশি হাঁটছেন,,,

হঠাৎ একটা আইসক্রিম পার্লারের সামনে উনি দাড়িয়ে পড়লেন,,আমাকে ভিতরে যেতে বলতেই আমি মানা করে দিলাম,,যে আমি আইসক্রিম পার্লারে যাবো না।।উনি অবাক চোখে জিগ্যেস করলেন,,,


ঢুকবে না তো আইসক্রিম খাবে কেমনে??

কেনো রাস্তায়,,

এসব পাগলামোর মানে কি রোদ??(বিরক্ত হয়ে)

আপনি আইসক্রিম আনুন,,আমরা হাঁটতে হাঁটতে খাবো,,,(মুখ গোমরা করে)

হোয়াট ননসেন্স?

আপনি যাবেন??নাকি আমি মামুকে বাসায় গিয়ে বলবো?

যাচ্ছি,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

উনি আইসক্রিম আনতে গিয়েছেন প্রায় দশমিনিট হতে চললো,,,এখনো আসছেন না,,এদিকে আমার বড্ড অস্বস্তি লাগছে,,, ভয়ও লাগছে ব্যাপক।।আমার ভয় আর অস্বস্তির প্রধান কারন হলো,,আমার থেকে একটু ডিসটেন্সে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটে ছেলে।।ছেলেগুলো খুব বিশ্রীভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।।ব্যাপারটা আমার হজম হচ্ছে না,,ছেলেগুলোকে আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখেই আমার হাত -পা কাঁপতে লাগলো,,বার বার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি,,যদি উনাকে দেতে পাই,,কিন্তু না,,তার তো কোনো খোঁজ খবরই নেই।।।ছেলেগুলো আমার কাছাকাছি এসে থেমেগেলো,,,তাদের মধ্যে লম্বা করে ছেলেটা বলে উঠলো,,

মাম্মা,,,এ তো একদম বম্বে মরিচ রে,, সেইরম হট,,(দাঁত কেলিয়ে)

আরে মামা,,মরিচ না রে এ তো পুরাই স্ট্রবেরী আইসক্রিম,,,

ওদের ভঙ্গিমা আর কথায় আমার রীতিমতো কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে,,চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পড়ছে,,মনে হচ্ছে শেষ রক্ষা বুঝি হলো না,,,উনি কোথায়??প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন প্লিজজজ,,মনে মনে শুধু একটা দোয়াই করছিলাম।।মন বলছিলো উনি পাশে থাকলে আমি সবচেয়ে বেশি সেফ,,,, ওদের একজন আমার দিকে আরেকটু এগিয়ে এসে বললো,,

আরে চুপপপ কর তোরা,,,,বোম্বে চিলি না আইসক্রিম,, সেটা তো টেস্ট করেই বুঝা যাবে,,,,কি বলো গো ফুলটুশি??(বিশ্রী একটা হাসি দিয়ে)

আমি দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলছি,,,,ব্রেন ক্রমাগত বলে চলেছে,,,,রোদ পালা,,,রোদ পালা।।।কিন্তু বেহায়া পা তাতে সাড়াই দিচ্ছে না।।ছেলেটা আমার দিকে আরেকপা এগিয়ে এলো কিন্তু আমি একচুল নড়লাম না,,আসলে নড়তে পারছিলাম না,,,মনে হচ্ছে কেউ আমার পা দুটো মাটির সাথে সেটে দিয়েছে।।

এই তোরা কিসবের কথা বলছিলি,,,আমার তো একে পুরাই লাল গোলাপ লাগছে রে,,,,শরীরটাও মনে হচ্ছে ফুলের মতো নরম,,,,,আর ঠোঁট,,(বলেই হাত এগিয়ে দিলো)

আমি ভয়ে আর ঘৃনায় সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করে নিলাম।।কয়েক সেকেন্ড পরও সব নিশ্চুপ,, কোনো আওয়াজ না আসায়,,ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালাম,,,ছেলেগুলো ভয়মিশ্রিত চোখে আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে দেখছে,,আমিও ভয়ে ভয়ে তাকালাম,,,শুভ্র দাড়িয়ে আছে,,,একহাতে আইসক্রিমের মাঝারি সাইজ বাক্স আর অন্য হাতে আমার দিকে এগিয়ে আসা ছেলেটির হাত চেপে ধরে রেখেছে শক্ত করে,,,,চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট,,,,তবু মুখে একটা বাঁকা হাসি টেনে নিয়ে বললেন,,,

কি রে ভাই??তোরাই না বলছিলি যে দেখতে নাকি পুরাই গোলাপ ফুল,,,তো এটা কেমনে ভুলে গেলি যে গোলাপ ফুলের সাথে কাটা থাকে,,,ফুল পেতে হলে তো কাটার ব্যাথাও সহ্য করতে হবে(ছেলেটির হাত মোচড়াতে মোচড়াতে)তাই না??(দাঁতে দাঁত চেপে)আর এই ফুলের কাটা হলাম আমি,,,এবার কাঁটার গুতা খাওয়ার পালা বস।।।

ছেলেগুলো হয়তো উনাকে আগে থেকে চিনে,,,আবার নাও হতে পারে কিন্তু ওদের মুখের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা ব্যাপক ভয় পেয়েছে,,,একজন তো রীতিমতো কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেই উঠলো,,,

ভাই সরি ভাই,,,মাফ করে দেন ভাই।।।আসলে ভুল করে একটু মাল খেয়ে ফেলছিলাম তাই টাল হয়ে,,, এমনটা করে ফেলেছি,,সরি ভাই।।।

সরি??শালা তোর সরি দিয়ে কি জুস বানায় খাবো,,,,যে ফুলের গায়ে ভ্রমর বসলেও আমার সহ্য হয় না সেই ফুলকে দুমড়ে -মুচড়ে দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছিস তোরা,,,এতো সহজে ছেড়ে দিবো??হাত কেটে রেখে দিবো(চিৎকার করে)

আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি,,,উনি এভাবে রিয়েক্ট করবেন ভাবি নি,,উনাকে দেখামাত্রই সব ভয় গুলো যেনো পাখা মেলে উড়ে গেছে।।আচ্ছা?উনি কি আমার জায়গায় অন্য মেয়ে থাকলেও এমনটাই করতেন??হয়তো,,,,, কথাটা ভেবেই মন খারাপ হয়ে গেলো,,উনি আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে হাতের আইসক্রিমের বক্সটা এগিয়ে দিলেন।।।দিতে দিতে বললেন,,,,

রোদ,,,আইসক্রিম খাবা বলছিলা,,,টেক ইট।।।বেশ কিছু আইসক্রিম আছে এতে,,,একটা বের করে খেতে খেতে লাইভ ড্রামা ইনজয় করো,,,,

আমি বক্সটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি,,উনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন,,
কি হলো খাও,,,

পাগল নাকি লোকটা??এমন একটা সিচুয়েশনে কেউ আইসক্রিম খায় নাকি??আজিব।।।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছি আর উনি ওদের ইচ্ছামতো কেলাচ্ছেন।।প্রায় পনেরো মিনিট পর ওদের ছেড়ে দিয়ে আমাকে নিয়ে হাটা ধরলেন,,এতোক্ষণে আমি দুইটা আইসক্রিম ফিনিশ করে ফেলেছি।।উনাকে আইসক্রিম এগিয়ে দিতেই উনি জানালেন উনি আইসক্রিম খান না,,,,বুঝতে পারছি মিথ্যা কথা তবু কিছু বললাম না,,,,উনাকে দেখে মনে হচ্ছে,,ওদের মেরে উনি শান্তি পান নি।।আরেকটু মারতে পারলে খুশি হতেন।।।আমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক করার জন্য বললাম,,,

দেখছেন ছেলেগুলো আমাকে কেমন কেমন কমেন্ট করছিলো,,

হুমম,,,ইডিয়টদের মেরে তক্তা বানাতে পারলে শান্তি পেতাম,,,,বাচ্চা মেয়েদের দিকেও বাজে নজর দেই,,,শালা পশু কোথাকার,,,

এতো কিছুর পরও আপনার মনে হচ্ছে আমি ছোটো??

তো??

তো মানে??ওরা আমাকে হট বলছিলো,,আরো কত কি বলছিলো,,আর আপনিই একমাত্র জীব যে এখনো আমাকে বাচ্চাটি মনে করেন হুহ,,,,

বাচ্চাদের বাচ্চায় মনে করা উচিত,,ওদের আবার পেলে আবার মারবো,,সাহস কেমনে হয় তোমার দিকে হাত বাড়ানোর(চোখ মুখ শক্ত করে)

তাই??ওকে মাইরেন,,,মারতে মারতে তক্তা বানিয়ে দিয়েন,,,,আপাতত আমাকে কোলে নেন,,,বাচ্চাদের কোলে নিয়ে হাটা উচিত,,জানেন না??,,,এখন কোলে নেন আমায়।।

হোয়াট রাবিশ??(রাগী চোখে)

আপনি আমাকে কোলে নিবেন ব্যস,,নয়তো আমি এক পা ও এগুবো না,,,,

ওকে ফাইন,, থাকো এখানে(বলেই উনি এগিয়ে গেলেন)

আমি চুপ করে দাড়িয়ে আছি,,,যাবো না আমি,,,যা ইচ্ছে হোক আমার,,তাতে উনার কি??আমি তো আর উনার নীলি না,,,,যে কোলে তোলে নিবে।।।নীলিমা আপু হলে তো বলার আগেই কোলে তুলে নিতো,,,,আর আমার বেলায় হুহ,,এতো অবহেলা সহ্য হবে না,, ঠাডা পরবে ঠাডা,,,শালা খাটাস,,,,আমার ভাবনা -চিন্তার জগৎ উল্টে পাল্টে দিয়ে,,,উনি ফিরে এসে হুট করেই আমাকে কোলে তোলে নিলেন,,,,আমি তো পুরাই “হা”

#চলবে…..

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *