তোকে চাই। পার্ট_৯ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 9

তোকে চাই সকল পর্ব

উনি আমাকে বসিয়ে আমার কোলে খুব যত্নসহকারে একটা বালিশ রাখলেন,,,তারউপর বই রেখে বললেন,,”পড়ো”।।আমি তো পুরাই “হা”,, এমনিই আমি অসুস্থ আর উনি কি না বলছেন পড়ো,,এটা কোন ধরনের টর্চার??

কি হলো পড়া শুরু করো,,,কিছু জায়গা আমি মার্কস করে দিসি,,ওগুলো কমপ্লিট করে দেন ঘুমাবে,,,স্টার্ট।।

আমি উনার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে আছি,,কিন্তু তাতে তার কোনো ভাবান্তর হলো বলে মনে হচ্ছে না।।।আরেকটা ধমক দিয়ে সোফায় লেপটপ নিয়ে বসে পড়লেন।।বুইড়া জামাই হলে এই এক সমস্যা,,,আর কিছু খুঁজে না পেলে বই-খাতা নিয়ে টর্চার করতে চলে আসে।।।ছোকরা টাইপ কাউকে বিয়ে করলে নিশ্চয় রোমান্টিক টর্চার করতো,,,ওটাই ভালো হতো,,,এই সুযোগে এটলিস্ট রোমান্সটা তো হতো।।।কিন্তু এখানে তো,,,

কি হলো???তোমার পড়া আমার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না কেন??(ধমক দিয়ে)

শালা খাটাস,, পড়লে তো পৌঁছাবে,,বা পড়লে কেমনে পৌঁছাবে??হুহ(বিরবির করে)

কিছু বললে??(ভ্রু কুঁচকে)

নাহ,,পড়,,ছি,,পড়ছি(শুকনো হাসি দিয়ে)

ওহ,,,,আচ্ছা পড়ো।।

উনি আবার লেপটপের মধ্যে ডুবে গেলেন আর আমি বিরক্তিকর বই-খাতায়।।পড়তে পড়তে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিলো বুঝতেই পারি নি,,,হঠাৎ কারো ধাক্কায় চোখ মেলে তাকালাম,,,শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে,,,তার ঠোঁট ক্রমাগত নড়ছে,,,বুঝতে পারছি উনি কিছু একটা বলছেন কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভাঙায় মাথা যেনো হ্যাং মরেছে যার কারনে আমার কান পর্যন্ত কিছু পৌঁছাচ্ছেই না।।।চোখটা আবার বন্ধ করে মাথায় হালকা একটা চাটি দিয়ে,, চোখ খুলতেই দেখলাম শুভ্র আমার দিকে একটা কাপ এগিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,,,কাপ থেকে ধোয়া উড়ছে ক্রমাগত,,,

এই যে মিসেস,,,কফিটা খাও,,ঘুম কেটে যাবে,,এন্ড আবার স্টার্ট করো।।।

আজ ঘুমিয়ে পড়ি,,কাল থেকে পড়বো(মুখ কালো করে)

জি না,,,আজ কমপ্লিট করেই ঘুমাবা,,নয়তো ঘুম নাই।।।

মুখ গোমরা করে কফি কাপে চুমুক দিলাম,,বাহ,,বেশ টেস্টি তো।।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে বারোটা বাজে,,,এতো রাতে কফি কে বানালো?আরিফ চাচা তো ঘুমিয়ে পড়ার কথা।।।

আচ্ছা?এতো রাতে কফি কে বানালো??(কৌতুহল নিয়ে)সবাই তো ঘুমিয়ে পড়েছে,,

কে বানিয়েছে সেটা ইম্পর্টেন্ট নাকি খাওয়াটা ইম্পর্টেন্ট??(ভ্রু কুঁচকে)

দুটোই ইম্পর্টেন্ট,,বলুন না প্লিজজ,,কে বানালো কফি??

আমি,,

হোয়য়য়াটটট?(চিৎকার করে)

কেনো কি হয়েছে??চেঁচালে কেন??(অবাক হয়ে)

আপনি এত্তো ভালো কফি বানান??(অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে)কিভাবে??

নীলিকে বানিয়ে খাওয়াতে খাওয়াতে শিখে গেছি,,,ও কফি খুব বেশি পছন্দ করতো।।আমাকে তো রীতিমতো শর্ত দিয়েছিলো,,,যদি ওর জন্য স্পেশাল কফি বানানো শিখতে পারি তবেই ও আমার প্রোপোজাল একসেপ্ট করবে,,নয়তো টাটা বাই বাই,,,এই জন্য পুরো একমাস রান্না ঘরে মাকে কতই না বিরক্ত করেছি আর আম্মুর চামিচের দাগ পিঠে নিয়ে নিজেকে কতোবার যে ধন্য করেছি তার ইয়াত্তায় নাই,,,

বলেই উনি ঘর কাঁপিয়ে হুহু করে হেসে উঠলেন,,আমিও হেসে দিলাম।।উনি হাসলে খুব প্রানবন্ত লাগে,,,কি সুন্দর একটা হাসি,,, হঠাৎই উনি হাসি থামিয়ে দিয়ে আমাকে পড়তে বলেই বারান্দায় চলে গেলেন।।।হয়তো বুকের কষ্টটা আবারও চাড়া দিয়ে উঠেছে।।।আর কিছু না ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পড়তে শুরু করলাম।।


কোচিং -এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি,,,মাত্রই ছুটি হলো।।।কালকের এক্সিডেন্টের পর মামুর কঠিন নির্দেশ শুভ্রর সাথেই আসা-যাওয়ার ব্যাপারটা সম্পন্ন করতে হবে।।।আর আমি তো বরাবরই বাধ্য মেয়ে,,,তাই ঘাড় দুলিয়ে মেনেও নিয়েছি।।ডানের রাস্তার দিকেই আমার নজর,,,ওইদিক থেকেই শুভ্র আসবে,,,চোখদুটো অপেক্ষার প্রহর গুনছে,,এই অপেক্ষা জিনিসটা কিন্তু খুবই বাজে,,,হঠাৎই কারো ডাকে পাশ ফিরে তাকালাম,,,

হেই,,রোদ??

জি,,আপনি??

হুমম,,আজও রিকশার জন্য ওয়েট করছো??(মুচকি হেসে)

না ভাইয়া,,আজ আপনার বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছি।।(শুকনো হাসি দিয়ে)

আচ্ছা,,কাল শুভ্র ওভাবে রেগে গিয়েছিলো কেনো??মনে হলো রাগের কারনটা আমিই,,,

আমি একটা হালকা হাসি দিলাম,,কিছুই বললাম না,,,কিছু বলারও নেই,,,

তোমার হাসিটা খুব সুন্দর।।আচ্ছা,,শুভ্রর সাথে,,

উনার আর কিছু বলার সুযোগ হয়ে উঠলো না।।তার আগেই শুভ্র গাড়ি নিয়ে এসে সামনে দাঁড়ালেন,,,সাহেল ভাইয়াকে দেখে যে উনি রেগে গেছেন তা উনার চেহারায় স্পষ্ট।।।তবু ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠলেন,,

কি রে,,,সাহেল??তুই এখানে??

ওহ,,রাহুল ভাইয়ের,সাথে দেখা করতে আসছিলাম৷।। রোদকে দেখে থেমে গেলাম।।।বেচারী একা দাঁড়িয়ে ছিলো,,,তাই ভাবলাম একটু কোম্পানি দেই,,

খুব ভালো ভাবনা,,তবে ওকে নিয়ে কম ভাবলেও চলবে,,,রোদ উঠে আসো।।ভালো থাকিস সাহেল,,,

সাহেল ভাইয়া উনার কথাটা হয়তো ঠিক ধরতে পারলেন না।।।আমাদের দিকে “হা” করে তাকিয়ে থাকলেন বেশ কিছুক্ষন।।।গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে,,,উনাকে দেখে খুব মনমরা লাগছে,,, কিছু জিজ্ঞেস করার সাহসও হয়ে উঠছে না।।।গাড়িতে উঠার পর থেকে এই পর্যন্ত শুধু এটাই বলেছেন,,,”সাহেল থেকে দূরে থেকো,,আই থিংক হি লাইকস ইউ,,,বাট ইউ আর নট ফর হিম।।”ব্যস তারপর থেকে চুপপ।।।গাড়িটা একটা পার্কের সামনে এসে থামলো।।আমাকে নামতে বলেই উনি হাঁটা দিলেন,,,শত শত প্রেমীযুগলদের প্রেমলীলাকে না দেখা করে পার্কের এক কোনায় এসে দাঁড়ালাম,,,ভাবছিলাম এখানে আসার কারন কি হতে পারে??তখনই একটা মেয়ে বিদ্যুৎ বেগে ছুটে এসে উনাকে জড়িয়ে ধরলেন,,মেয়েটা কাঁদছে,,দেখে মনে হচ্ছে জামাই মরে গেছে,, হুহ যত্তোসব আজাইরা,, ,আমি রীতিমতো বরফ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।।এসব কি??আমার জামাই আরেকজনের সাথে প্রেম করার জন্য আমাকে সাথে এনেছে???কি অদ্ভুত ব্যাপার।।

উনাদের দুজনকে এই অবস্থায় দেখে ভেতরটা বড্ড জ্বলছে,,তারসাথে পাল্লা দিয়ে জ্বলছে আমার চোখদুটো।।চোখের পলক পড়লেই ঝরে পড়বে একরাশ অবহেলা মাখানো বৃষ্টি।।নীলিমা আপুকে উনি ভালোবাসেন,,কথাটা শুনলে এখন আর খারাপ লাগে না,,,ওটা আমার জানা কথা।।।আর প্রথম ভালোবাসাকে মানুষ এতো ইজিলি ভুলতে পারলে ভালোবাসা নামক জিনিসটা এতো কষ্টের হতো না,,,না হতো এতো আবেগময়।।সত্যি বলতে,, আমি নিজেও কখনোই চাই না উনি নীলিমা আপুকে ভুলে যাক।।।নীলিমা আপু থাকুক তার মনে,, অনুভূতি আর স্মৃতির পাতায়,,,কিন্তু তারপাশে আমারও যে ঠাঁই চাই,,,,একটুকু ঠাঁই।।আমি উনাদের দিকে টলমল চোখে,,, তাকিয়ে আছি,,শুভ্র আমার চোখের দিকে একপলক তাকিয়েই,,,মেয়েটাকে ঝটপট নিজের থেকে ছাড়িয়ে একটু ডিস্টেন্সে দাঁড় করিয়ে দিলেন।।।হয়তো আমার চোখের আকুতি উনি বুঝতে পেড়েছিলেন।।মেয়েটি এখনও কেঁদেই চলেছে,,,বিরতিহীন কান্না যাকে বলে,,,আমি ভ্রু কুচঁকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটিকে পর্যবেক্ষন করছি।।কেমন ফাজিল মেয়ে,,অন্যের বরের গায়ে এমনভাবে ঢলে পড়ছে যেনো বরটা আমার না ওর নিজেরই।।।ইচ্ছে করছে,,মেয়েটার প্রতিটি চুল টেনে টেনে ছিঁড়ি।।। অসভ্য,,,

এই মেয়ে,,এভাবে কাঁদিস না প্লিজজ।।দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে।।এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে বল??(মেয়েটির কাঁধে হাত রেখে)

আরে,,মেয়েটা ভেঙে পড়ুক,, ইচ্ছা হলে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাক তাতে তোর কি রে???আবার কাঁধে হাত রাখা হচ্ছে,,,ইচ্ছা করছে এই খাটাস টার হাত,, এই মাইয়ার কাঁধের সাথে স্টেপলার দিয়ে লাগিয়ে দিই হুহ।।।মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে,,,অতিরিক্ত রেগে গেলেই আমার মাথায় যন্ত্রনাটা তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়।।এখনোই তাই হচ্ছে,,,

কি ঠিক হয়ে যাবে শুভি??কিভাবে ঠিক হবে??ইজ ইট পসিবল??নো শুভি,,,নট পসিবল

কিহহহ্,,,শুভি??হায়রে প্রেমের ডাক,,,শুভি মাই ফুট।।।আল্লাহ এই দিনটা দেখানোর জন্য আমাকে বাঁচায় রাখছো??ক্যারেক্টারলেস হাজবেন্ড আমার।।।নীলি আপু,,তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো,,,নয়তো এই কাহিনী দেখে হার্ট আট্যাক করতে।।।(বিরবির করে)

দেখ,,জানি তোর সাথে যা হয়েছে,,তা কোনোভাবেই সুধরানো যাবে না,,, কিন্তু জানিস তো,, যা হয় ভালোর জন্যই হয়।।এটাও হয়তো ভালোর জন্যই হয়েছে,,,নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিস।।

বলাটা কতো সহজ শুভি,,,আচ্ছা তুই পেরেছিস মেনে নিতে??

উনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ঠোঁটে শুকনো হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠলেন,,

এইতো বেঁচে আছি,,,মানতে না পারলে হয়তো বাঁচতেও পারতাম না।।

আমার তো সব শেষ হয়ে গেলো রে,,সব স্বপ্ন,, আশা,,আকাঙ্খা সব।।বাবা আজ জিতে গেলো,,,আর আমি বরাবরের মতো পরাজিত।।।নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে,,,বাবা-মাকে দেওয়া কষ্ট আর অপমানকে পুঁজি করে সুখের ঠিকানায় ছুটেছিলাম,,,,কিন্তু দেখ,,, শাস্তিটাও পেয়ে গেলাম

ভুল যা করেছিস,,তো করেছিস।।সেটা শুধরাতে পারবি না,,,,কিন্তু নিজেকে একটা সুযোগ দে।।আর কান্নাটা থামা।।।কাল আমার অফিসে আয়,,আমি সব ঠিক করে রেখেছি,,একদম টেনশন নিস না।।আমি তো আছি,,ডাফার।।।এখন এবার একটু হেসে দেখা।।(চোখ মুছে দিয়ে)

মেয়েটি শুকনো একটা হাসি দিয়ে চোখ মুছে নিয়ে আমাকে ইশারা করে বলে উঠলো,,,

ও কে??

ও রোদ,,(মুচকি হেসে)

রোদ??বাহ,,দেখতে তো বেশ মিষ্টি।।।নীলি ঠিকই বলতো,,,একদম পুতুলের মতো।।

আমি শুকনো একটা হাসি দিলাম,,,উনিও মুচকি হাসলেন।।এমা,, এটা কি হলো??এই মেয়েটা আমাকে চিনে??

তোদের দুজনকে কিন্তু বেশ মানিয়েছে,,,নীলিকে সেকেন্ড চয়েজ দেওয়া হলে,,নীলিও হয়তো তোর জন্য রোদকেই সিলেক্ট করতো।।।

উনি অনেকটা জোর করেই একটা হাসি দিলেন ,,,হয়তো নীলি আপুর নামটা বুকে আঘাত করছে বারবার,,,

এইযে রোদ,,,তোমার বর তো পরিচয় করিয়ে দেবেই না,, আমি নিজেই ইন্ট্রোডাকশনটা শেষ করে নিই,,কি বলো??,(হালকা হেসে)আমি মিথিলা,,,শুভ্রর ফ্রেন্ড

আমিও হালকা হাসলাম,,,”আমি রোদ,,আই মিন রোদেলা”

শুভ্রর বউ তাই তো??

আমি মাথা নিচু করে নিলাম,,,উনার মুখে,,”শুভ্রর বউ” কথাটা একদম বুকে গিয়ে লাগলো।।।

আচ্ছা,,মিথি,, এবার আমাদের যেতে হবে।।।কাল অফিসে চলে আসিস,, বাকি কথা ওখানেই কমপ্লিট করবো,,ওকে??

কথাটা বলেই আমাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে গেলেন।।।আমিও মুখ ফুলিয়ে বসে আছি,,,দুজনেই চুপচাপ।।হঠাৎ নীরবতা ভেঙে উনিই বলে উঠলেন,,,,

কি ব্যাপার??এভাবে মুখ ফুলিয়ে বসে আছো কেন??এমনিতে তো মুখে খই ফুঁটে।।(ভ্রু কুচঁকে)

আমি কিছু না বলে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম,,,

কি হলো??কথা বলছো না কেন??

ভাবছি,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

লাইক সিরিয়াসলি?? তুমি ভাবছো??

তো??(ভ্রু কুচকে)

না,,,তুমিও ভাবো??শুনে অবাক না হয়ে পারলাম না,,,(বাঁকা হাসি দিয়ে)তো কি ভাবছিলে??

এক্সকিউজ মি?,আপনাকে বলতে হবে কেন শুনি??

না,,মিসেস নৌশিন আবরার,,,কি ভাবছে,,জানার খুব কিউরিওসিটি হচ্ছে,,,জানিয়ে ধন্য করবেন প্লিজ??

হুহ,,,ভাবছি,,আমি কার পাকা ধানে মই দিয়েছিলাম যে,,, আল্লাহ আমার জন্য এমন ক্যারেক্টারলেস হাজবেন্ড চুজ করলো?? ভাবনার বিষয়,,তাই না??

হোয়াট???আমি ক্যারেক্টারলেস???(রাগী চোখে)

তো??এতে কি কোনো সন্দেহ আছে??আমার তো নাই।।।আপনার বয়স কতো??মাত্র ২৫, তাইতো??এই ২৫ বছরে অলরেডি দুই বিয়ে করে ফেলছেন,,,আর একজনের সাথে পার্কের কোনে দাঁড়িয়ে মাখামাখি করছেন,,,এরপর আর কোনো প্রমানের প্রয়োজন আছে কি??

উনি আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন,,যেনো এখনি গিলে খেয়ে ফেলবেন।।।আমিও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে রইলাম,,,

আমি মাখামাখি করছিলাম??এমন বাচ্চা মেয়ের মুখে এসব ফালতু ওয়ার্ড আসে কই থেকে??(গাড়ি থামিয়ে)

বাচ্চা মেয়ের বুইড়া হাজবেন্ড যখন এসব অসামাজিক কর্মকান্ড করে বেড়াই তখন এসব ওয়ার্ড অটোমেটিক চলে আসে বুঝলেন??

আমি অসামাজিক কর্মকান্ড করছিলাম??(চোখ গরম করে)

তা নয়তো কি??এমনভাবে মেয়েটার সাথে চিপকে ছিলেন দেখে তো মনে হচ্ছিলো হানিমুন করতে গেছেন।।হুহ

হোয়াট??লাইক সিরিয়াসলি?? এসব বাজে চিন্তা শুধু তোমার মাথায়ই আসতে পারে,,,রিডিকিউলাস রোদ,,মিথি আমার জাস্ট ফ্রেন্ড,,

হুহ,,জাস্ট ফ্রেন্ড??জাস্ট ফ্রেন্ড হলেই গলায় ঝুলে পড়তে হবে নাকি??আজিব,,,,তাহলে আমিও কাল কোচিং এ গিয়ে আসিফের গলায় ঝুলে পড়বো,,আসিফও তো আমার জাস্ট ফ্রেন্ড,,হুহ

হোয়াট??ঠাডিয়ে দিবো একটা,,,আমার সাথে তোমার তুলনা??

তুলনা কেন হবে না??অবশ্যই হবে।।মামার বাড়ির আবদার নাকি??পাবলিক প্লেসে অন্য মেয়ের সাথে জড়াজড়ি করবেন আর আমি মেনে নিবো বুঝি??কখনো না,,,হুহ

আমি মোটেও জড়াজড়ি করছিলাম না।।সো মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ,,স্টুপিড গার্ল(দাঁত চেপে)।।ওয়েট,,ওয়েট,,আর ইউ জেলাস রোদ??(ভ্রু কুঁচকে)

অবিয়েসলি,, আম জেলাস ফিল করছি,,,এটা এতো মোড নিয়ে বলার কি আছে বুঝলাম না।।মেয়েরা তার স্বামীকে ভালোবাসোক বা না বাসোক।।পছন্দ করুক বা না করুক,,,তবুও তারা জেলাসি ফিল করবেই।।।এটা বাঙ্গালী মেয়েদের নেচার।।কবুল বলার সাথে সাথে তাদের মধ্যে জেলাসির প্রকাশ ঘটে।।।সেই হিসেবে আমার জেলাস ফিল করাটা স্বাভাবিক,,,, এটা আকাশ থেকে পড়ার মতো আহামরি কিছু নয়।।।আর শুধু মেয়েরা কেন??আপনি,,মিষ্টার আবরার শুভ্র,,যে আমাকে দু’চোখে দেখতে পায় না,,সেই আপনিও সাহেল ভাইয়ার,সাথে আমাকে দেখলে তো,, জ্বলে ছাড়খার হয়ে যান,,,হুহ।।।

ক,,,কে বললো তোমায়,, আমি জেলাসি ফিল করি??জেলাসি আর তোমার জন্য,, ইম্পসিবল।।। (মোড নিয়ে)

ওহ,,তাই নাকি??ওকে।। সাহেল ভাইয়া কাল উনার সাথে লং ড্রাইবে যাওয়ার জন্য রিকুয়েষ্ট করেছিলো ,,,ভাবছি কালকে রাজি হয়ে যাবো।।।সাহেল ভাইয়ার মতো ড্যাশিং এন্ড কেয়ারিং একটা ছেলের সাথে লং ড্রাইভ!!! ভাবতেই খুশি খুশি লাগছে।।।(ডাহা মিথ্যা কথা)

পা ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখবো,,এতো শখ লং ড্রাইভে যাওয়ার??(দাঁতে দাঁত চেপে)

পা চাইলে ভাঙতে পারেন,,,আমার জন্য আরো সুবিধা হবে,,,(খুশি খুশি গলায়).।

মানে???(অবাক হয়ে)

সুবিধায় তো,,সাহেল ভাইয়া আমাকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাবে,,,একদম বুকের সাথে লাগিয়ে,,উনার শরীরের মাতাল করা গ্রান আমার নাকে আসবে,,আমি উনার শার্ট,,,,,

শাট আপ।।।।(চিৎকার করে)

আরে শুনুন তো,,

আই সেইড,,,জাস্ট শাট আপ।।নো মোর ওয়ার্ডস্।।

কেন কেন??কি সমস্যা??আপনি ওই মিথিলা,,তিথিলার সাথে ওসব প্রাকটিক্যালি করতে পারবেন আর আমি বলতেও পারবো না??আমিও,,,

চুপপ,,,তুমি দেখো নি,,,মিথি কিভাবে কাঁদছিলো।।মেয়েটা কতোটা মানসিক চাপে আছে তোমার ধারনা আছে???মেয়েটার ডিবোর্স হয়ে গেছে,,আর….

ওহহো,,,কেমন চিপ গার্ল,,,নিজের ডিবোর্স হয়ে গেছে তো এসে গেছে অন্যের বরের উপর ডাকা ঢালতে,,,

রোদদদদ(ধমক দিয়ে,,)তুমি যে এমন চিপ মনমানসিকতা ক্যারি করো আমার জানা ছিলো না।।।তুমি জানো,,ও ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে?? মেয়েটা সব ছেড়েছুড়ে যে মানুষটার হাত ধরে চলে এসেছিলো,,আজ সেই মানুষটিই মাঝ রাস্তায় তার হাত ছেড়ে দিয়ে,,অন্য একটা মেয়ের নেশায় মত্ত হয়ে পড়েছে।।।ছিহ্,,,,ভাবতেও ঘৃনা হয় আমার,,একটা মানুষ এতোটা নিচে কি করে নামতে পারে??ভালোবাসা কি ফুরিয়ে যাওয়ার জিনিস??যে সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যাবে??ওই শালাকে হাতে পেলে আমি ওকে খুন করে ফেলতাম,,নেহাৎ মিথি রিকুয়েষ্ট করেছে,,নয়তো ওকে পুঁতে রেখে দিতাম,,

উনি রাগে ফুঁসছেন।।চোখদুটো লাল হয়ে আছে।।।আমি ভয় আর খারাপ লাগা দুটোর সংমিশ্রণে গড়া একটা অনুভূতি নিয়ে বসে আছি।।সত্যি তো,,আপুটা খুবই ভয়ানক পরিস্থিতিতে আছেন,,,আর যায় হোক,,ভালোবাসার মানুষটি থেকে ধোঁকা পাওয়ার মতো কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।।।লোকটাকে যদিও আমি দেখিনি,,,তবু ইচ্ছা হচ্ছে উনার সাথে সাথে আমিও তাকে দুই/একটা কিল-ঘুষি দিয়ে দিই।।

আচ্ছা উনার বাবা -মা কোথায়??

নেই,,

আমি বিস্ফারিত চোখে উনার দিকে তাকালাম,,,নেই মানে??

মিথি ওর বাবা-মার অমতে বাড়ি ছেড়ে চলে আসে।।।শেষ বয়সের একমাত্র মেয়ে ছিলো মিথি,,খুব বেশিই ভালেবাসতেন,,তাই হয়তো ধাক্কাটা সামলাতে পারেন নি,,,সেইদিনই হার্ট আট্যাকে মারা যান ওর বাবা।।তার মাস ছয়েক পরে মিথির মা।।।মিথি বড্ড অন্যায় করে ফেলেছে,,,,তাই হয়তো শাস্তিও পাচ্ছে,,,,

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,,,,এই মুহূর্তে কে দোষী আর কে নির্দোষ,,, ভাবতে ইচ্ছা করছে না।।তাই চুপচাপ গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে নিলাম,,,,উনি আবারও বলে উঠলেন,,,

কাল রাতে যখন ব্যাপারটা জানতে পারলাম,,,তখন ভীষন ধাক্কা খেয়েছিলাম,,,মিথি প্রেগনেন্ট জেনেও,,ছি,,শেম অন দেট গাই,,,,তাই তোমাকে বেশি করে পড়তে বলছি।।তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।।।সেল্ফ ডিপেন্ডেট হতে হবে,,,পড়াশোনাটা ছেলেদের থেকে মেয়েদের আরো বেশি প্রয়োজন,,,আমি চাই না তুমি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়ো,,

আমি উনার দিকে অবাক চোখে তাকালাম,,,এই লোকটার মাথায় তাহলে ভালো চিন্তাও আছে।।বাহ,,,শুনে শান্তি পেলাম।।।তাহলে,,,এইজন্যই বুঝি উনি কাল রাতে আমার উপর বই-খাতা টর্চার চালিয়েছেন,,,জামাই আমার এতোটাও খারাপ না,,,উনার গালে একটা কিস করে দিতে ইচ্ছে করছে।।।উনি সামনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন,,হয়তো কিছু ভাবছেন।।আমি ধীরে ধীরে ড্রাইভিং সিটের দিকে এগিয়ে গেলাম,,,উনার খুব কাছাকাছি বসে আছি,,,উনার গালে একটা মিষ্টি চুমু এঁকে দেওয়ার আশায় মুখটা এগিয়ে নিতেই উনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন,,,আর আমার ঠোঁট গিয়ে পৌঁছোলো উনার ঠোঁটের উপর।।।আমি এতোটাও আশা করি নি ,,,আনএক্সপেক্টেট এই ব্যাপারটাতে আমাদের দুজনেরই চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম।। অবাকের মাত্রা এতো বেশি ছিলো যে,,দুজনের ঠোঁট যে এখনো একে অপরকে ছোঁয়ে আছে সেদিকে খেয়ালই নেই।।।।কিছুক্ষণপর পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েই উনি রাগী চোখে তাকালো,,,আমিও অসহায় দৃষ্টিতে একবার উনার দিকে তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিলাম,,,আজকে নিশ্চয় উনি আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খাবেন,,,,ব্যাপারটা কি বিশ্রী,,ভাবতেই কান্না পাচ্ছে।।এদিকে উনি রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছেন,,,উনি কিছু বলতে যাবেন তার আগেই আমি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে উঠলাম,,,

দেখুন,,এবার আমাকে বকলে আমি কান্না করে দিবো।।আমি মোটেও ইচ্ছে করে এমনটা করি নি।।।আপনিই তো হঠাৎ করে আমার দিকে ফিরে তাকালেন,,নয়তো এমনটা কখনো হতো না।।।আমি তো জাস্ট ওই পাশের দোকানের নামটা দেখার জন্য,এগিয়ে গিয়েছিলাম।।।নার্ভাসনেসে কি বলতে যে কি বলছি,,আল্লাহ মালুম,,,তবে কাজ যে হয়েছে সেই অনেক।।।উনি আর কিছু না বলে,,দাঁত কটমট করতে করতে গাড়ি স্টার্ট দিলেন,,আমিও হাফ ছেড়ে বাচঁলাম।।।উনার,সাথে বিয়ে হয়ে জীবনটা মরুভূমি হয়ে গেছে,,,মাঝেমাঝে মরীচিকার দেখা মিললেও,,উনার রাগী চোখের তাপে ওগুলোও হাওয়া হয়ে যায়,,,ধেৎ


রাত ১১ টা বাজে,,,আমি ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে আছি।।শুধু শুধু দাড়িয়ে আছি,,ব্যাপারটা মোটেও তেমন না।।।আমি আসলে শুভ্রকে খুঁজছি।।আমাকে পড়তে দিয়ে সেই ১০ টায় রুম থেকে বেরিয়েছেন,,আর এখন বাজে ১১ টা।।।গত একঘন্টা ধরে মানুষটা হাওয়া।।।বাড়ির প্রতিটি ঘর চেক করে উনার টিকিটির সন্ধান না পেয়ে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি।।হঠাৎ মামানিকে দেখতে পেলাম,,,একটা ট্রে তে,,তিন কাপ কফি আর কিছু হালকা খাবার নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগুচ্ছে,,,ব্যাপার কি??সবার ডিনার কমপ্লিট,,এখন এসব কে খাবে??আর কিছু না ভেবে মামানির কাছে চলে গেলাম,,যদি শুভ্রর কোনো খবর পাওয়া,যায়।।

মামানি,,,এসব কার জন্য গো??

সাব্বির আর রোহান এসেছে,,শুভ্রর সাথে ছাঁদে আড্ডা দিচ্ছে,,এগুলো ওদের জন্যই।।।

ওহ,,এই ব্যাপার।।সাহেব তাহলে আড্ডায় মজেছে।।

আচ্চা,,মামানি,,দাও আমি দিয়ে আসছি।।তুমি ঘরে যাও।।

মামানি প্রথমে মানা করলেও একপ্রকার আমার কথা রাখতেই আমার হাতে ট্রেটা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।।আমি মনের সুখে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছি।।কিন্তু ছাঁদের দরজার কাছে এসে,,আমার পা যেনো অটোমেটিক থেমে গেলো,,,উনাদের কথাগুলো আমার কানে স্পষ্ট,,,

#চলবে,,,

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *