তোকে চাই। পার্ট_৪ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

#তোকে চাই❤
#writer: রোদেলা❤
#part: 4

তোকে চাই সকল পর্ব


আমার দিকে কৃতজ্ঞতা মাখা চাহনী দিয়ে দরজার পাশ থেকে সরে গেলেন মামনি,,,,ধীরে ধীরে সড়ে গেলো সবাই।।।শুভ্র এখনো হাসছে,,,হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাচ্ছে এমন অবস্থা।।।মানুষটা এতো হাসতে পারে,,তবু হাসিগুলোকে যে কি ভাবে চেপে রাখে সেটাই বুঝতে পারছি না??৪/৫ মাস পর আজ প্রথম, আমি উনাকে মন খুলে হাসতে দেখছি।।হঠাৎই উনি হাসি থামিয়ে দিলেন,,,হয়তো নিজের পরিবর্তনটা বুঝতে পেরে নিজেই অবাক হচ্ছেন।।আমার দিকে একনজর তাকিয়ে আবার গম্ভীর মুখে বলে উঠলেন,,,”চলো”।।।আমিও বাধ্য মেয়ের মতো উনার পেছন পেছন মামুর রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।।।আজ খুব করে মনে হচ্ছে,,,খুব কি ক্ষতি হয়?যদি উনি নীলিমা আপুকে ভুলে আবার হাসতে শিখেন,,,,বন্ধুদের আড্ডায় আবারও মধ্যমনি হয়ে উঠেন,,,আবার একটু ভালোবেসে আগলে রাখতে শিখেন।।কিন্তু প্রকৃতি সবকিছুকে এতো সহজ করে দেয় নি,,,একটা জীবনের সাথে খুব গোপনভাবে জড়িয়ে দিয়েছে আরো কয়েকটা জীবন।।।নীলিমা আপুর সাথেও জড়িয়ে ছিলাম আমরা।। তাইতো তার চলে যাওয়াতে,,, কেউ রেহাই পাইনি,,,না আমি,,না শুভ্র,,না আপুর বাবা-মা,,,সবাই তার অগোছালো জীবনটাতে ক্লান্ত শুধু একটা নীলিমার অপেক্ষায়।।মামু বিছানায় আধশোয়া হয়ে বই পড়ছিলেন,,,আমরা রুমে ঢুকতেই উঠে বসে আমাদেরও বসতে বললেন।।।

বাবা,,ডেকেছিলে??কোনো সমস্যা?? (উদ্ধিগ্ন হয়ে)

তোদের কোনো সমস্যা ছাড়া ডাকতে পারি না বুঝি?(হালকা হেসে)

না,,তেমন টা না আসলে,,,

থাক ওসব কথা,,,,তোদের ডাকার প্রধান কারণ হলো রোদ মা।।

আমি অবাক হয়ে মামুর দিকে তাকালাম,,,শুভ্রও হয়তো অবাক হয়েছে,,সে আমার দিকে একনজর তাকিয়েই মামুর চোখে চোখ রেখে বললেন,,,

রোদ মানে??

রোদ মা??তোর সাথে অনেক অন্যায় আমি করেছি,,তোর স্বপ্নগুলো আমার জন্য ঝাপসা হয়ে গেছে কিন্তু না,,,তুই তোর স্বপ্ন পূরন করবি,,,কালই একটা এডমিশন কোচিং এ ওকে এডমিট করিয়ে দিবে শুভ্র,,,ভালো করে পড়াশোনা করো,,,আমার বউমাকে আমি উচ্চশিক্ষিত হিসেবে দেখতে চাই।।(আমার মাথায় হাত রেখে)

না ম,,মামু,,,তার কোনো প্রয়োজন নেই,, আমি বাসায় পড়েই এডমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে নিবো।।কোচিং এ ভর্তি হওয়ার দরকার নেই।।

একদম কথা না।।।আমি যা বলছি,,,যেভাবে বলছি তাই হবে,,,তুমি ভর্তি হবে মানে হবে।।।শুভ্র তোমার কোনো সমস্যা আছে?

না বাবা,,,,আমি এক্ষুনি খোঁজ নিয়ে দেখছি কোন কোচিংটা ব্যাটার,,,,

বলেই বেরিয়ে গেলেন,,,,উনার চোখে মুখে খুশির একটা ঝিলিক ছিলো,,হয়তো উনি এমন কিছুই চাইছিলেন।।। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে আসতে নিলেই মামু আমার হাত চেপে ধরলেন,,,,আমি তাকাতেই,, ছলছল চোখে পাশে বসতে ইশারা করলেন,,,,আমি অবাক হলাম।।মামুর এই ছলছল চোখের রহস্য খোঁজে পাচ্ছিলাম না।।মামু আগের থেকেও শক্ত করে আমার হাত চেপে ধরে বলে উঠলেন,,,

মা রে,,,বড্ড অন্যায় করে ফেলেছি তোর সাথে,,,পারলে ক্ষমা করিস।।কিন্তু জানিস?এই অন্যায়ের জন্য আমার আপসোস হচ্ছে না।।সন্তানের জন্য স্বার্থপর হওয়া তো অন্যায় নয়,, তাই না??আমি জানি শুভ্র নীলিমাকে ভালোবাসে,,,ভালোবাসা অন্যায় না কিন্তু ভালোবাসার জন্য তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়াটাও তো কোনো সমাধান নয়,,,নিজের ছেলেকে চোখের সামনে শেষ হয়ে যেতেও দেখতে পাচ্ছিলাম না।।এভাবে থাকলে ও মরে যেতো মা,,,মরে যেতো।।।আমি শুধু আমার ছেলেটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি ব্যাস।।

আমি মামুর দিকে তাকিয়ে আছি তীক্ষ্ণ চোখে,,,তার চোখে ছেলেকে হারানোর ভয়,,,অশ্রুজল মাখানো আর্তনাত,,,,হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে,,,একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলতে শুরু করলেন উনি,,,

তুই নিশ্চয় ভাবছিস,,,ছেলেকে বাঁচাতে যদি বিয়েটা খুব ইম্পর্টেন্ট ছিলো তাহলে তুই ই কেনো???তোর মতো বাচ্চাকেই কেনো বেছে নিলাম??কোনো এডাল্ট মেয়েকে কেনো নয়??

আমি মাথা ঝাঁকালাম,,,উনি মুচকি হেসে বলে উঠলেন,,

এর পেছনে দুটি কারণ আছে,,প্রথমত,,আমি তোর চোখে শুভ্রর জন্য একটা গভীর মায়া দেখেছিলাম।।যা শুধু শুভ্রর মায়ের চোখেই ফুটে ওঠে বারবার।।আমার মনে হয়েছিলো এই মায়া শুভ্রকে বাচাঁর একটা স্কোপ তৈরি করে দিবে,,,তাই তোকে বিয়েটা করতে বাধ্য করেছি,,,

আর দ্বিতীয় কারন??(কৌতূহলী চোখে)

দ্বিতীয় কারণটি হলো তুই দেখতে তোর মায়ের মতো আর তোর আচার-ব্যবহারও তার মতোই,,,

এর সাথে বিয়ের কি সম্পর্ক?? (ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে)

মামু এবার হুহু করে হেসে উঠলেন,,,আমি এবার আরো অবাক হলাম,,,কি ব্যাপার??উনি হাসছেন কেনো??

দেখেছিস??,এই যে ভ্রু কুঁচকে তাকালি,,,তোর মাও ঠিক এভাবেই তাকায়।।তোর মা আমাকে বাঁচার আশা দিয়েছিলো,,,আর তুই দিবি আমার ছেলেকে,,,কি পারবি না??

মানে??মা বাঁচার আশা দিয়েছিলো মানে??আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না,,,,(কনফিউজড হয়ে)

এতো বুঝতে হবে না,,, তোকে অন্যদিন না হয় সব খুলে বলবো।।।

না,,না,,প্লিজ আজই বলো না,,নইতো আমার রাতে ঘুমই হবে না আমার।।(ঠোঁট উল্টিয়ে)

তুই বায়নাও করিস তোর মায়ের মতো,,,আমার ছেলেটাকেও তোর মায়ের মতো সামলে নিস মা,,,,,এবার যা এক কাপ চা নিয়ে আয় তো,,,

বুঝতে পারলাম মামু কথা ঘুরাতে চাইছে,,তাই আমিও আর জোড় করলাম না,,বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে ফিরতেই শুভ্রকে দেখতে পেলাম,,দরজায় দাড়িয়ে আছেন।।উনার চোখ -মুখ দেখে বুঝতে পারছিলাম না যে,,,উনি কি আমার আর মামুর কথা শুনেছেন নাকি শুনেননি???উনি আমার দিকে একনজর তাকিয়েই চোখ সরিয়ে নিলেন,,,,,আমাকে পাশ কাটিয়ে মামুর পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন,,, আমিও চা আনতে নিচে চলে গেলাম।।।মামুর কথা শুনে বুঝতে পারছি,, উনি আমাকে কোচিং এ ভর্তি করিয়েই ছাড়বেন,,,কিন্তু টাকা???আমি এতো টাকা কোথায় পাবো??ভর্তি ফি,,বই-খাতা বাবদ ১৫/২০ হাজার টাকা তো এটলিস্ট লাগবে।।।মামু বা শুভ্রর টাকায় আমি কোচিং এ ভর্তি হবো না,,,শুভ্রর মুখে শুনা লোভী পদবীটা এখনো আমার কানে বাজে,,,নাহ,,নিজের আত্মসম্মানের সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ নয়।।।একটা মানুষের আর কিছু থাকুক বা না থাকুক সেল্ফরেসপেক্ট থাকা উচিত,,,যা আমার রক্তের কণায় কণায় মিশে আছে।।।টাকা আমায় জোগার করতেই হবে কিন্তু কিভাবে??বাবাকে বলা যাবে না তাহলে বাবা মামুকে ভুল বুঝবে,,এসএসসি পাশ করার সার্টিফিকেটও হাতে পাইনি তো চাকরি করাটা নেহাত কল্পনা,,,ওসব শুধু গল্প-নাটকেই হয়,,,রিয়েল লাইফে নয়।।।কিন্তু কিছুতো করতে হবে।।।এসব ভাবতে ভাবতে মামুর রুমে গিয়ে মামুর হাতে চায়ের কাপটা ধরিয়ে দিয়েই নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালাম,,শুভ্র হয়তো রুমেই আছে,,উনার থেকে টাকার এমাউন্ডটা জেনে নিতে হবে
।।।তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকেই আমি” হা”,,,,উনি এর মধ্যে শাওয়ারও নিয়ে নিয়েছেন,,,হাউ ফাস্ট,,,হবেই না বা কেন??দেখতে হবে না কার বর,,,,ইচ্ছা করছে কাজলের টিপ দিয়ে দিই উনাকে,,এত্তো কিউট কে হতে বলছে??ভিজা চুল থেকে টুপটাপ পানি ঝরছে,,বুকে লেপ্টে থাকা লোমগুলোও কি আকর্ষনীয়,,,,ইচ্ছা করছে উনার বুকে জমে থাকা ফোঁটা ফোঁটা পানিগুলো ছুঁয়ে দিই আলতো হাতে,,,হঠাৎ ই দুষ্টুবুদ্ধি খেলে গেলো মাথায়,,চটপট বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম,,,,উনি আমাকে দেখে যেনো অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন,,,তাড়াহুড়ো করে আলমারির দিকে এগিয়ে গেলেন,,,হয়তো ড্রেস বের করবেন।।ঢং দেখলে,,, মেজাজ বিগড়ে যায়,,,নেকামো,, আগে তো খালি গায়েই হুটহাট সামনে চলে আসতো আর আমি লজ্জায় লাল হয়ে যেতাম আর এখন??বিয়ে হয়ে গেছে,,, সাথে সাথে সাহেবও দেখি লজ্জার কারখানা দিয়ে বসে গেছেন,,,হুহ।।।উনি তাড়াহুড়ো করে বিছানার পাশ দিয়ে আলমারির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ওমনি উনার পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দিলাম।।তারপর যা হওয়ার তাই হলো,,আমায় নিয়ে বিছানায় গিয়ে পড়লেন,,কই ভেবেছিলাম স্টার জলসার হিরো-হিরোইনের মতো ৫/১০ মিনিট দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হারাই যাবো,,,কিন্তু তা আর হলো কই??ওই যে আমার বর বলে কথা,,,,ব্যাটা এতো আনরোমান্টিক,,,,আমার মনে হলো পড়ার আগেই উনি উঠে গেলেন।।।আর আমি উঠে বসতে বসতে উনি টি-শার্ট নিয়ে ওয়াশরুমেও ঢুকে গেলেন,,যাওয়ার সময় ছোট্ট করে বললেন “সরি,,,এটা ইন্টেনশনালি ছিলো না”।।।। মেজাজটা আমার চরম খারাপ হচ্ছে,,ব্যাটা খচ্চর একটা,,,জীবনে রোমান্টিক মুভি দেখিস নি???ইচ্ছা তো করছে তোর সবগুলো চুল টেনে টেনে ছিঁড়ে ফেলি,,,ফাজিল পোলা,,কতো আশা করেছিলাম,, কতো সুন্দর রোমান্টিক সিন ক্রিয়েট হবে,,,আর এই ব্যাটায় সব নষ্ট করে দিলো।।শালা আবাল,,,তোর ঘাড়ে নীলামার ভূত এসে চাপপে দেখে নিস,,,,😠😠😠


উনি ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই লেপটপ নিয়ে বসলেন,,,,এজ ইউজাল আমার দিকে ফিরেও তাকালেন না,,,,আমি উনার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম,,,এবার উনি ভ্রু কুচঁকে আমার দিকে তাকালেন,,,

হোয়াট??এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন??

আমার ইচ্ছা,,,,

তাহলে ওদিকে গিয়ে দাঁড়াও,,আমি কাজ করছি।।

তো??(উনি এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন)আপনি কাজ করছেন ভালো কথা করেন,,,আমি তো আপনাকে ধরে রাখি নি,,, আপনি কাজ করেন আমি এখানেই দাড়িয়ে থাকবো এবং আপনার দিকে তাকিয়ে থাকবো,,হুহ

হোয়াট রাবিশ??বাচ্চাদের মতো কথা না বলে সরো এখান থেকে,,,,(রেগে গিয়ে)

আমি তো বাচ্চায়,,,,এই জুনের ১ তারিখে ১৮ হবে,,,১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু।।।তাই আমিও শিশু,,,,

বলেই চট করে উনার কোলে বসে গেলাম,,,হঠাৎ করে যে আমার কি হলো বুঝতে পারছি না,,আমার এমন আচরণের কারণ আমি নিজেও খুঁজে পাচ্ছি না,,,,শুভ্র প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন,,বিষয়টি বুঝতে পেরেই রাগী চোখে আমার দিকে তাকালেন,,,

আরে এভাবে তাকান কেন??জানেন না?শিশুদের কোলে নিতে হয়,,,বলেই উনার গলা জড়িয়ে ধরলাম।।।

স্ট্যান্ড আপ,,,(চিৎকার করে)আই সেইড স্ট্যান্ড আপ ডেমেড,,,,

ভয়ে আমি কেঁপে উঠলাম,,কিন্তু নড়লাম না।।মা বলে,,যদি ভয় পাও,,,তো ভয়কে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করবে,,,হয়তো সে ভয় পাবে না কিন্তু কনফিউজড অবশ্যই হবে,,আর সেটাই বেস্ট সুযোগ নিজেকে বাঁচানোর।।আমিও সেই ট্রিক ইউজ করলাম,,,

চুপপপপপ,,,,,একদম চুপপপ,,,চেঁচাবেন না একদম।।(চিৎকার করে)আপনার কি মনে হয়?? আমি আপনার সাথে রোমান্স করতে এসেছি??বয়েই গেছে,,,আপনার মতো আনরোমান্টিক পারসনের সাথে রোমান্স করার চেয়ে কচু গাছের সাথে রোমান্স করা ভালো,,হুহ

বুঝতে পারলাম উনি ভড়কে গেছেন,,,আমার কথার ধরন হঠাৎ পাল্টে যাওয়ায় উনি একটু কনফিউজড,,, এই সুযোগে ঝট করে উনার কোল থেকে উঠে গেলাম,,,উনার সামনে কোমরে হাত দিয়ে দাড়ালাম,,,,

তোহ,,,কোচিং ঠিক করেছেন??

আমি এভাবে প্রসঙ্গ পাল্টাতেই,,, উনি এবার আরো অবাক হলেন,,কোনো রকম বললেন,,,, হুমমম

ভর্তি ফি যাবৎ কত টাকা লাগবে??

কেনো??(ভ্রু কুঁচকে)সেটা দিয়ে তুমি কি করবে??

বলতে তো আর সমস্যা নেই,,,বলুন না প্লিজ।।

সব মিলিয়ে ২০ হাজারের মতো লাগতে পারে,,,

ওহ্,,থেংক্স।।

বলেই ফোন হাতে ব্যালকনিতে চলে এলাম।।।এতোক্ষণে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম,,,কোচিং এর কথা না তুললে উনি আমাকে দিতেন একটা কানের নিচে লাগিয়ে,,,,এই মুহূর্তে আম্মুকে একটা পাপ্পি দিতে ইচ্ছে করছে,,,আম্মুর আইডিয়াটার জন্য আজ একটুর জন্য বেঁচে গেছি,,,উফফফ্,,,,,,এসব ভাবতে ভাবতেই ভাইয়াকে ফোন দিলাম,,,ভাইয়াই এখন একমাত্র ভরসা আমার,,,

রিদু,,,কেমন আছিস বোন?

একদম কথা বলবা না,, আমাকে একবারও ফোন দিছো তুমি??

ফোন চেক করছিস তুই??কতোবার ফোন দিছি তুই তুলছিস??

না মনে আসলে,,,,(কি বলবো বুঝতে পারছি না)ভাইয়া?????(ন্যাকা কান্না করে)

কি হয়েছে???কাঁদিস কেন??(চিন্তিত হয়ে)

আমার ল্যাপটপ লাগবে,,,উনি কিনে দিতে চাইছিলো বাট আমি উনার থেকে নিবো না,,,তুমি তো বলছিলা যে,, আমার ফার্স্ট ল্যাপটপ তুমি কিনে দিবা,,,,(গোমরা মুখে)

আমি তোকে মানা করলাম কবে??আজই কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি,,,

এই না,, না,,

কি হলো?(অবাক হয়ে)

না মানে বলছিলাম কি,,তুমি টাকা পাঠিয়ে দাও,,,আমি নিজের পছন্দমতো কিনে নিবো,,,

কিন্তু,,,

কোনো কিন্তু না, প্লিজ ভাইয়া,,,,নয়তো দরকার নেই হুহ,,,

আচ্ছা বাবা,,আমি তোকে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি তুই কিনে নে,,,আপাতত বেশি টাকা নেই আমার হাতে,, ৬০ হাজার পাঠাচ্ছি বোন,,,(মন খারাপ করে)

আমারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো,,,বাবা রিটায়ার নিয়েছেন,,,ভাইয়ার টাকায় সংসার চলে,,এত্তোগুলো টাকা দিতে গিয়ে নিশ্চয় মাসের খরচে টানাটানি পড়বে,,,নিজেকে কেমন অসহায় লাগছে,,

ভাইয়া?আমার এতো লাগবে না,,,ল্যাপটপ তো ল্যাপটপই তুমি আমাকে ৩৫ হাজার টাকায় পাঠিয়ে দাও,,,ওতেই হয়ে যাবে,,,

কি যে বলিস,,,একদম না,,,আমি তোকে,,

না,, না,,না,,আমি যা বলছি তাই হবে,,,নয়তো আমার চাই না।।

এত্তো জেদি কেন তুই,,,,আচ্ছা ঠিক আছে।।

সো সুইট বুইড়া,,,

ভালো থাকিস বুড়িটা,,,,নিজের খেয়াল রাখিস,,,

হুমম,,তুমিও,,,


ভাইয়ার সাথে কথা বলে পিছে ঘুরতেই দেখলাম শুভ্র দাড়িয়ে আছেন,,,আমি তাকাতেই বলে উঠলেন,,,

ল্যাপটপ চাই আমাকে বললেই তো হতো,,,ভাইয়াকে ডিস্টার্ব করার কি দরকার ছিলো??

আমার ভাইয়া আমাকে কখনো ডিস্টার্ব বলে মনে করে না।।এনিওয়ে আজ আমাকে কোচিং এ এডমিট করতে যাবেন নাকি?

ডিস্টার্ব ফিল না করলেও তুমি আর এখন উনার রেসপন্সিবলিটি নও,,আর হ্যা,, বিকালে তোমাকে নিয়ে যাবো কোচিং এ তৈরি থেকো।।

ওহ,,,তাহলে বের হওয়ার আগে মনে করে আমার থেকে ভর্তি ফি টা নিয়ে নিয়েন প্লিজ,,সবার সামনে আমি পে করলে ব্যাপারটা খারাপ দেখায়।।

মানে?(অবাক হয়ে)

মানে সিম্পল,,, কোচিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য তো টাকার প্রয়োজন হবে,,,,আর টাকাটা নিশ্চয় আপনি দিবেন না?

অবশ্যই আমি দিবো,,,আর এটাই স্বাভাবিক,,,

কেনো দিবেন?

কজ আই এম ইউর হাজব্যান্ড এন্ড ইউ আর মাই রেসপন্সিবিলিটি।।

হাহা,,হাসালেন আমায়,,,হাজব্যান্ড??কখনো হাজব্যান্ডের মতো কোনো আচরন করেছেন এখন পর্যন্ত??যে আজ হাজব্যান্ডের কথা বলছেন,,,,আর রেসপন্সিবিলিটির কথা বলতে গেলে,,আমি কোনো নামমাত্র সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে কারো ঘাড়ে বোঝা হিসেবে চেপে থাকতে চাই না।।।তাছাড়া আমি আপনাকে প্রথম দিনই বলেছিলাম,,,আই ডোন্ট ওয়ান্ট ইউর মানি।।।

রোদ,,,,,তুমি এভাবে কেনো বলছো??

কিভাবে বলেছি??আমি তো জাস্ট আমার কথাগুলো আপনার সামনে তুলে ধরলাম ,,,নাথিং ইল্স।।তাছাড়া আমি আপনার তথাকথিত মিডিলক্লাস ফ্যামিলির লোভী মেয়ে,,,এমন টাইপের মেয়ের রেসপন্সিবিলিটি নেওয়া আপনার মতো মানুষের শোভা পায় না,,,,(তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)

রোদ,,প্লিজ,,,আমি ওগুলো রাগের মাথায় বলেছিলাম।।।প্লিজ লেট ইট গো,,,আমি তখন নিজের মধ্যে ছিলাম না রোদ।।।

ইট’স টুটালি ইউর পারসোনাল প্রবলেম,,,,

বলেই উনার সামনে থেকে চলে আসলাম,,,আমার কথায় উনি মুখটা কালো করে ফেলেছেন।।।আমারও খারাপ লাগছিলো,,কিন্তু কিছু করার নেই।।উনার বোঝা উচিত কাউকে এভাবে হার্ড করলে,,,তা মানুষকে কতেটা ক্ষতবিক্ষত করে।।।


বিকাল ৩ টা,,,
রোদ??রোদ?তোমার এখনো হয় নি?আমরা লেট হচ্ছি।।

হুমম,,শেষ চলুন।।

হুমম,,, চলো,,

একটু শুনুন?

কি?(ভ্রু কুঁচকে)

টাকাগুলো রাখেন।।(টাকাগুলো উনার দিকে এগিয়ে দিয়ে)

উনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হাত দুটি পকেটে ঢুকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন,,,আমি অবাক হলাম,,উনি হাত না বাড়িয়ে হাত গুটিয়ে নিলেন কেন?উনার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই,,,উনি বলে উঠলেন

তুমি আমার টাকা নিবে না ভালো কথা,,,,কিন্তু বিয়ের পর ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের আত্মসম্মানের ফালুদা কেন বানাচ্ছো??(ভ্রু নাঁচিয়ে)

ভাইয়ার থেকে টাকা নিলে আত্মসম্মান কমবে কেন??আমারই তো ভাইয়া,,,

তুমি এখনো ছোট তাই বুঝতে পারছো না কিন্তু এর চেয়ে অসম্মানজনক বিষয় আর হতেই পারে না।।আশেপাশের মানুষ বলবে,,ওই দেখো,,,মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে তবু ভাইয়ের টাকা উড়াচ্ছে,,,ব্লা,, ব্লা।।।তুমি যেহেতু এ বাড়ির বউ,,আমার রেসপন্সিবিলিটি হলো তোমার সম্মান রক্ষা করা।।তাই কি না বলো??

আমি বোকার মতো মাথা নাড়লাম,,,কারন বিষয়টা সত্যিই চিন্তার ,,,আমি তো এভাবে ভাবি নাই।।এবার আমি বেশ টেনশনে পড়ে গেলাম,,,”তাহলে আমি কোচিং এ ভর্তি হওয়ার টাকা কই পাবো??”বলেই মুখ গোমরা করে বিছানায় বসে পড়লাম।।

আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে,,,তুমি চাইলে, তুমি আইডিয়াটা ইউজ করতে পারো,,,(গম্ভীর কন্ঠে)

কি আইডিয়া??(কৌতূহল নিয়ে)

তুমি আপাতত আমার থেকে টাকা নাও,,,পরবর্তীতে দিয়ে দিবে,,সিম্পল…

মানে?(ভ্রু কুঁচকে)আমার কাছে তো টাকায় নাই,, আমি আপনাকে দিবো কিভাবে??

আরে দেখো,,তুমি এডমিশন কোচিং এ ভর্তি হচ্ছো,,,ভালো পড়াশুনা করবে,,,ভালো ভার্সিটি চান্স পাবে।।একসময় গ্রেজুয়েট কমপ্লিট করবে,,,নিজের পায়ে দাড়াঁবে,,,তখন না হয় দিয়ে দিও,,,,এতোদিন আমার থেকে লোন হিসেবে নাও,,,আমি হিসেব রাখবো,,,,

কিন্তু,,,(কনফিউজড হয়ে)

ওকে,,তোমার কাছে বেটার অপশন থাকলে,,ইউ ক্যান ইউজ(ভাব নিয়ে)

উনার আইডিয়াটা আমার বেশ ভালোই লাগছে,,,তাই আর ঝামেলা না করে উনার কথায় রাজি হয়ে গেলাম,,আর বললাম আমি অবশ্যই তার টাকা রিটার্ন করবো,,উনি যেনো মনে না করেন,,আমি উনার টাকা একবারে নিয়ে নিচ্ছি,,,আমার কথা শুনে উনিও মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলেন,,

অবশ্যই,,,দিবা,,না দিলে তোমার নামে কেস করবো।।আমি তো টাকা ছাড়ার মানুষ নই।।।আচ্ছা যাও এক কাপ কফি নিয়ে আসো,,,

এখন??(অবাক হয়ে)

হুমম,,,এতো সুন্দর আইডিয়া দিলাম,,ট্রিট দিবা না??আমি ফ্রিতে কিছু করি না,,,গো নাও।।

আমিও আর কিছু বললাম না,,মুখ ভেঙিয়ে নিচে চলে গেলাম।।কিন্তু ফিরে এসে যা দেখলাম,,তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না,,,যে শুভ্র মুচকি হাসতেও ঠোঁটের কাছ থেকে ট্যাক্স নেয়,,,সেই শুভ্র বিছানায় শুয়ে রীতিমতো গড়াগড়ি খাচ্ছেন আর পেট চেপে ধরে হাসছেন ,,,উনাকে দেখে মনে হচ্ছে হাসির চোটে উনার পেটে রীতিমতো ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে,,কিন্তু উনার হাসি থামছে না,,,।।আমার জানা মতে হাসির মতো তো কিছুই হয় নি,,তাহলে উনি এভাবে হাসছেন কেনো??হঠাৎ করে এমন কি হলো যার জন্য হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে যেতে হবে??নীলিমার ভূত সত্যি সত্যি ঘাড়ে চাপেনি তো??😱আমার দোয়া যে এতো তাড়াতাড়ি গ্রেন্ডেট হয়,,তা তো জানা ছিলো না…..……

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *