তোকে চাই || সিজন -২ || Part_1 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই❤ (সিজন -২)

writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
part: 1

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔
ভার্সিটির প্রথম দিনেই যে কোনো ছেলের হাতে দাবাং মার্কা চড় খেয়ে মানসম্মান খোয়াতে হবে ভাবি নি কখনো।আমি নৌশিন রোদেলা।।পরিবারের ছোট মেয়ে হওয়ায় চড়,থাপ্পড় নামক বস্তুগুলো আমার কপালে খুব কমই জুটেছে।যেখানে বদ্ধ ঘরে একটা থাপ্পড়েই আমার মুখ চোখ লাল হয়ে ওঠে সেখানে ভার্সিটির মেইন গেইটে কোনো ছেলের হাতে থাপ্পড় খেয়ে এভাবে সং এর মতো দাঁড়িয়ে আছি ভাবতেই কান্না পাচ্ছে আমার। শুধু কান্না নয় ভীষনরকম কান্না।।সেই সাথে রাগও হচ্ছে ব্যাপক,,ইচ্ছে হচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার চুলগুলো টেনেটুনে ছিঁড়ে ফেলি, অসভ্য ছেলে একটা।। এসব ছেলের জন্যই আজ বাংলাদেশ রসাতলে।।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলেই উঠলাম….
.
এই এই আপনি আমায় মারলেন কেন??হাউ ডেয়ার ইউ??
.
আপনি আমায় মারলেন কেন সেটা আগে বলুন। তারপর না হয় আমি বলছি।
.
কথাটা বলেই নির্বিকার ভঙ্গিতে প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়ালো ছেলেটা।ছেলেটার ভাব ভঙ্গি দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে ব্যাপক মুডে আছে। দরকার পড়লে আরেকটা চড়ও বিনা দ্বিধায় বসিয়ে দিতে পারে আমার গালে।কিন্তু আমিও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নই…আমাকে চড় মেরে চলে যাবে তা আমি কিছুতেই হতে দিতে পারি না ইম্পসিবল।। কিন্তু কি বলবো সেটাও বুঝতে পারছি না,,পেটে কথার পসরা সাজানো থাকলেও গলার কাছে এসে অদ্ভুত ভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে কথাগুলো।।ব্যাপারটা ব্যাপক বিরক্তিকর।।এবং আমিও তাতে চরম রকম বিরক্ত।আমার বান্ধবী চিত্রার সাথে গল্প করতে করতেই ভার্সিটির গেইটে পা রেখেছিলাম কিছুক্ষণ আগে।কিন্তু ভাগ্য নামক জিনিসটা যে এভাবে বেইমানি করবে বুঝতে পারি নি।। তাইতো ভাগ্যের চক্রান্তে নিজের প্লাজুর সাথেই পা লেগে উল্টে পড়লাম মুহূর্তেই।।শুধু উল্টে পড়লেও মানসম্মান কিছু বাঁচলেও বাঁচতো কিন্তু পড়লাম তো পড়লাম কোথায়?? একদম এই খাটাসটার উপর।। আর সে আমায় সামলাতে না পেড়ে আমাকে নিয়ে একদম নিচে।।বিনা টিকেটে সবাইকে বাংলা রোমান্স দেখিয়ে উঠে দাঁড়িয়েই ব্যাটাকে দিলাম এক থাপ্পড়।।ছেলেটা গালে হাত দিয়ে অবাক চোখে আমার দিকে তাকাতেই আমার হার্টবিট মুহূর্তেই হাজার গতিতে ছুটতে লাগলো।।চোখগুলো যেনো আটকে গেছে ছেলেটার চোখে মুখে।।ছেলেটা কি সত্যিই এতোটা সুন্দর নাকি আমার কাছেই এতোটা সুন্দর লাগছে ঠিক বুঝতে পারছি না।।তবে এটা ঠিকই বুঝতে পারছি ১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে আজ আমিও কারো উপর ক্রাশড।।কিন্তু এই ক্রাশ বেশিক্ষণ টিকলো না।।উনার হাতের ভুবন কাঁপানো থাপ্পর খেয়ে ক্রাশটা হজম হয়ে গেলো মুহূর্তেই।।পাশের ছেলেটার বাজখাঁই গলায় ভাবনার প্রহর কাটিয়ে ভ্রু কুচঁকে তাকালাম…..
.
ভাই?আপনি যান…এই মাইয়ারে আমরা দেখতাছি।।দেইখ্যা তো মনে হয় ফার্স্ট ইয়ার।।আগে তো কখনও দেখি নাই ভার্সিটি চত্তরে।
.
কথাটা শুনে মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলো ছেলেটি।।হাজার সাহস দেখালেও উনাকে এগিয়ে আসতে দেখে পিছিয়ে গেলাম কয়েক পা।গেইটের গায়ে লেগে দাঁড়াতেই একহাতে পথ আটকে আমার উপর ঝুঁকে পড়লেন উনি।।এতোক্ষণে বুঝতে পারছি মারাত্মক রকমের ভুল করে ফেলেছি আমি।এরা নিশ্চয় ভার্সিটির সিনিয়র ভাই।।ভার্সিটির রেগিং এর কথা আগেই শুনেছি আর এতো কাহিনীর পর আমার উপর কত ডিগ্রী অত্যাচার করা হবে তাও বেশ আন্দাজ করতে পারছি।।উনি আমার দিকে আরো ঝুঁকে এসে বলে উঠলেন-” ফাস্ট ইয়ার তবু এতো তেজ?” আরো কিছু বলতে যাবেন তারআগেই পেছন থেকে একটা ছেলে বলে উঠলো…
.
শুভ্র?তোকে প্রিন্সিপাল স্যার ডাকে….
.
কথাটা কানে যেতেই ঘাড়টা হালকা বাঁকিয়ে ভ্রু কুচঁকে বলে উঠলো সে…” কেন??”
.
নবীনবরনের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু বলবে মে বি।।
.
ওহ্ হ্যা।।রাজ্জাক স্যার বলেছিলো আমায়।।ওকে চল।।
.
কথাটা বলে আমার দিকে তাকিয়ে বাম হাতে রাখা সানগ্লাসটা পড়তে পড়তে একটা ডেবিলমার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…”তোমায় তো আমি পরে দেখে নিবো…জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ”
.
.
🍁
.
.
ক্যান্টিনের এককোনে বসে পা দুলাচ্ছি আর কফি খাচ্ছি।।আশেপাশে যে আমায় নিয়ে ফিসফাস হচ্ছে তাও বুঝতে পারছি।।এদিকে চিত্রা গালদুটোকে কলা গাছের মতো ফুলিয়ে অফ মেরে বসে আছে।।এমন ভাব করছে যেন তার সদ্য বিবাহিতা জামাই বাসরের আগেই ভেগে গেছে….
.
ওই তোর কি হইছে?এভাবে গাল ফুলিয়ে বসে আছিস কেন??(ভ্রু কুচঁকে)
.
তো কি করবো শুনি??এটা তুই কি করলি বল তো?
.
আমি আবার কি করলাম??(অবাক হয়ে)
.
কিছুই করিস নি??সকালে এমন একটা ঘটনা ঘটিয়ে এখন নিশ্চিন্তে কফি খাচ্ছিস??কেমনে পারিস তুই??
.
আরে…কি এমন করেছি বল তো??একটা থাপ্পড়ই তো মারছি।।শোন…ওই ছেলেকে গণদোলাই দিতে পারলে শান্তি পেতাম।ভেবে দেখ, কতো এতো বড় সাহস আমায় মারে??হুহ
.
তার আগে নিজে গণদোলাই থেকে বাঁচ,, তারপর নাহয় উনাকে নিয়ে ভাবিস।।
.
মানে??
.
মানে সিম্পল।।উনি কে জানিস??(ভ্রু নাচিয়ে)
.
কেন রে উনি কি প্রধানমন্ত্রীর পোলা?
.
না…তবে তার থেকে কমও না।।উনি হলেন পলিটিক্যাল লিডার তারসাথে ক্লাস টপার।।(একটু নড়েচড়ে বসে)উনার ডিপার্টমেন্টে এই ৩৫ বছরে উনিই একমাত্র সিজিপিএ ৪ পেয়ে গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন।।পয়ত্রিশ বছরের রেকট ভেঙে চুরমার করে নতুন ইতিহাসটা তিনিই তৈরি করলেন এবার।।পলিটিক্স, পড়াশোনা দুটো একসাথে কিভাবে কভার করেন কে জানে??এখন মাস্টার্স করছেন।।যেকেনো সময় এই ভার্সিটিতেই টিচার হয়ে যেতে পারেন।।প্রফেসরদের ফেবরিট স্টুডেন্ট।।ছেলেদের ফেবরিট বড় ভাই।।আর মেয়েদের ক্রাশ আইকন।। বন্ধুদের কথা না হয় বাদই দিলাম।।সো এবার বল….গণদোলাই কে খাবে তুই নাকি সে??(দাঁত কেলিয়ে)
.
চিত্রার কথায় এবার চিন্তা বাবাজি আমার মাথায় বেশ কড়াকড়িভাবে চড়ে বসলেন৷।সত্যি তো।।ভার্সিটি পপুলার ছেলেকে চড় মেরেছি ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে ভয়ানক দুঃসাহস।।কিন্তু আমি কি করে জানবো যে সে এত্তো পপুলার।।একটা সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে ঘুরলেই তো পারে।।যত্তসব।। ।।কিছুক্ষণ চুপ থেকে শুকনো গলায় একটা ঢুক গিলে নিয়েই বলে উঠলাম…
.
তুই জানলি কিভাবে এতো সব কাহিনী??(ভ্রু কুচঁকে)
.
আপুর কাছে শুনেছি।।আপু তো এই ভার্সিটিতেই পড়ে আর উনি আপুরও ক্রাশ।।আম অলসো ক্রাশড অন হিম রোদ।।
.
আমি চিত্রার দিকে একবার অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়েই কফি খাওয়ায় মন দিলাম।।ঠিক তখনই সেই সাদা বিলাই আই মিন আমাদের শ্রদ্ধেয় শুভ্র ভাইয়া এসে চেয়ার টেনে,ঠিক আমার মুখ বরাবর বসে পড়লেন।।তারসাথে আরো সাত আটজন ছেলেমেয়ে ঘিরে বসলো আমাদের।।এরমধ্যে পাঁচজন ছেলে আর দুজন মেয়ে।।এদের হাবভাবে দেখেই বুঝা যাচ্ছে… এরা আমায় বাঁশ দিতেই এসেছে।। আমি শুকনো গলায় কয়েকটা ঢুক গিলে চারপাশে তাকাতে লাগলাম,,উদ্দেশ্য কোনো ফাঁকফুকুর পেলেই দৌড় লাগাবো।।কিন্তু সেটা যে নিতান্তই নিরাশা তা বুঝতে বাকি রইলো না আমার।চিত্রার দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখও ফ্যাকাশে হয়ে এসেছে।।দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেচারী ব্যাপক ভয় পেয়েছে।।আমিও যে কম পেয়েছি তা না,,,কিন্তু এদের কাছে নিজের ভয়টাকে কিছুতেই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।।তাই অসীম সাহস নিয়ে বলে উঠলাম…”কি ব্যাপার?”
.
#চলবে🍁

তোকে চাই। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প, 💔 সিজন ১

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *