তোকে চাই || সিজন -২ || Part_10 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই❤ (সিজন -২)

writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
part: 10

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

আপু আর আমি তৈরি হচ্ছি বাইরে যাবো।আজকে আইসক্রিম,, ফুসকা,,চটপটি যা সামনে পাবো সব খেয়ে পেট ভরবো।।আপুর সাথে বের হওয়ার একটা প্লাস পয়েন্ট হলো আপু কখনো না বলে না।।দুই তিন প্লেট ফুসকা সাবাড় করে দিলেও আপু হাসিমুখে বিল পে করে দেই।।কি সুইট বোন আমার।।কালকে আপু চলে যাবে।।ভার্সিটির ছুটি শেষ তার।তাই আজকে এতো আয়োজন করে ঘুরতে যাওয়া।। নীল শাড়ি,, নীল চুরি একদম এলাহি কান্ড।।দুজনে তৈরি হয়ে বের হতেই দেখি মামু আর অভ্র ভাইয়া বসে আছে।।কাল তাদের বাসায় দাওয়াত।।আমাদের দেখেই মামু হাসি হাসি মুখে বলে উঠলেন….
.
রোদ মা কোথায় যাচ্ছিস?
.
মামু ঘুরতে যাচ্ছি।।আজ ফাটিয়ে খাবো।।আপু তো কাল চলে যাচ্ছে তাই।।তুমি আবার সাথে যেতে চেয়েও না।।তোমায় নেওয়া যাবে না।।।এখানে শুধু ইয়াংস্টারস দের কতৃত্ব।।বুড়োদের নেওয়ার নিয়ম নেই।।
.
মামু আমার কথায় হুহা করে হেসে উঠলেন।।হাসি মুখেই বলে উঠলেন…
.
আচ্ছা যাবো না।।তবে তুই কিন্তু ভুল বললি।।আমি এখনো যথেষ্ট ইয়াং ।।দেখ তো অভ্র আর আমার মধ্যে কাকে বেশি স্মার্ট লাগছে?অবশ্যই আমাকে।।
.
কথাটা বলে মামু নিজেই হেসে দিলেন সাথে আমরাও।।তারপর হঠাৎই হাসি বন্ধ করে বলে উঠলো…
.
রুহি মা?তোমার কাল না গেলে হয় না?
.
কেন মামু?
.
কাল একটু কাজ ছিলো তুমি কালকের দিনটা ম্যানেজ করে থেকে যাও।।হবে না?
.
ঠিক আছে মামু।।থাকবো। আপনি চিন্তা করবেন না।।
.
দেন গ্রেট।(মুচকি হেসে)
.
তাহলে আমরা যায় মামু।।তুমি বসে বসে চা খাও আর বয়স বাড়াও!!!
.
তবে রে…দিন দিন দুষ্টু হচ্চিস তুই রোদ।।আচ্ছা,, তোরা একা না গিয়ে অভ্র কে নিয়ে যা।
.
না আমরা একাই যাবো।
.
আরে বডিগার্ড হিসেবে নিয়ে যা।।হা হা হা হা।
.
বডিগার্ড?? আইডিয়া খারাপ না।।এইযে ভাইয়া হবেন নাকি বডিগার্ড?? ফ্রী বডিগার্ড,, নো প্যামেন্ট।(কোমরে হাত রেখে)
.
বাবা বলে সুন্দরী মেয়েদের বডিগার্ড হওয়া দোষের কিছু না বরং সৌভাগ্যের বিষয়।।এসব বিষয়ে না বলতে নেই।। ফটাফট নির্লজ্জের মতো হ্যা বলে দিতে হয়।।আমি আবার খাঁটি বাঙালী না বলতে পারি না,,আর সুন্দরী মেয়েদের তো কোনো কালেই না।।
.
অভ্র ভাইয়া কথাটা যে আপুকে উদ্দেশ্য করে বললো তা বেশ বুঝতে পারছি।।আমি আড়চোখে আপুর দিকে তাকাতেই দেখি সে লজ্জায় লাল,নীল, গোলাপী হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।।বাহ!!মাইয়া,দেখি লজ্জাবতী লতিকা।।অভ্র ভাইয়া আর আমি পাশাপাশি হাঁটছি,,,হাতে আইসক্রিম।। দুজনেই নানা গল্পে মুশগোল।।আপুর একটা কল আসায় সে পেছনে পড়েছে,,,আমাদের দাঁড়াতে নিষেধ করে মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সে।।তাই আমরাও আর অপেক্ষা না করে হাঁটা দিয়েছি।।হঠাৎই কোথা থেকে শুভ্র ভাইয়া এসে হাজির।।একদম আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন উনি।।আমি আর ভাইয়া দুজনেই অবাক।এভাবে সামনে দাঁড়ানোর মানে কি??ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
কি সমস্যা??
.
শুভ্র ভাইয়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো -“অনেক সমস্যা।” এটুকু বলেই ঘুরে হাঁটা দিলো।।কিছুটা গিয়ে আবারও ফিরে এসে আমার হাত থেকে আইসক্রিমটা ছু মেরে নিয়ে পাশের ড্রেনে ফেলে দিয়ে আবারও হাঁটা দিলো।।আমি তো অবাক।।অভ্র ভাইয়া আরও অবাক।।এবার আমার অভ্র ভাইয়ার প্রতি রাগ লাগছে উনি কিছু বললেন না কেন??হুয়াই??এই সাদা বিলাইটাকে কেন এভাবে ছেড়ে দিলেো?
.
ভাইয়া??উনি আমার আইসক্রিম নিয়ে চলে গেলো আর আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন??
.
হুট করে এভাবে নিয়ে নিবে আমি জানতাম নাকি??আধ খাওয়াটা নিয়ে কি লাভ হলো বুঝলাম না।।আমাকে বললে তো নতুন দেখেই কিনে দিতাম
.
আশ্চর্য তো উনি ডাকাতি করে নিয়ে গেলেন।।কোনো ডাকাত কি ডাকাতি করার আগে আপনাকে বলবে??স্যার আমি ডাকাত,,ডাকাতি করবো।।পারমিশন পাওয়া যাবে??ডাকাত তো হুটহাটই ডাকাতি করবে এটাই নিয়ম।।এদের উপর আমাদেরও হুটহাট কারে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।।আর এখানে আপনি??আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে আমার আইসক্রিম যে নিয়ে গেলো তাতে আপনার মাথা ব্যথা নেই।।আপনি তো উনাকে আইসক্রিম কিনে দিতে পারেন নি এই দুঃখে কাতর??(রাগী গলায়)
.
আরে তা নয়।।আসলে..
.
আসলে কি??আপনি উনাকে কিছু বললেন না কেন??দুই তিনটা ঘুষিও তো দিতে পারতেন।।দিনে দুপুরে ডাকাতি করে গেলো।।হুহ।।আমি মামুকে বলবো ইউ আর আ ভেরি বেড বডিগার্ড।
.
সরি বইন।দোষ হয়ে গেছে মাফ করে দেন।।নেক্সট টাইম এমন করলে দিবো এক চড়।প্রমিস।
.
মাত্র একটা?
.
তো কয়টা??
.
দশ বারোটা।
.
আচ্ছা পাঁচটা দিবো।।(আমি তাকাতেই)মানুষকে আঘাত করা মহা পাপ তো।।আল্লাহ পাপ দেয়,, জানো না??
.
উনার কথার ভঙ্গি দেখে দুজনেই হেসে দিলাম।।
.
.
🍁
.
.
ভার্সিটি শেষে গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।।দাঁড়িয়ে থাকার কারণ হলো অভ্র ভাইয়া।।আজ উনাদের বাসায় যাওয়ার কথা।।সবাই সকালেই চলে গেছে।। শুধুমাত্র আমিই রয়ে গেছি ভার্সিটিতে ক্লাস ছিলো বলে।।মামু ফোন দিয়ে বলে দিয়েছেন অভ্র ভাইয়া যাবেন একা যেনো না আসি।।তাছাড়া এর আগে যেহেতু যাই নি চিনিও না।।চিত্রাও আমার পাশে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওর এক অভ্যাস মন খারাপ থাকলেই মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে।। একটা কথাও বলবে না এমনকি হু হা ও না।।সারাদিন তাই করেছে এখনও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।।
.
চিতা বাঘ??তোর জামাই আই মিন উডবি,,,কেমন দেখতে রে??উত্তর না দিলে তোর বিয়া তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে,, আমিন।।
.
দেখি নি।।শুধু পেট দেখেছি মুখ দেখি নি।।
.
হায় আল্লাহ কস কি??মুখের আগেই পেট?তোরা তো দেখি হেব্বি ফাস্ট।।কিন্তু দোস্ত আমি যতটুকু জানি ছেলেরা শাড়ির ফাঁকে ফুঁকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে মেয়েদের পেট দেখে।।কিন্তু দোস্ত তুই তোর পেট মোটা জামাইয়ের পেটে কি এমন সম্পদ খুঁজে পেলি বুঝলাম না।।কাহিনী কি?
.
কোনো কাহিনী না।।আমি লজ্জায় মাথা উঠাতে পারি না,,মাথা নিচু করে রাখায় চোখ উনার পেট পর্যন্তই পৌঁছেছে,,অবশ্যই পাঞ্জাবীতে ঢাকা পেট।। আর উনার পেট মোটা নয় স্লিম।।
.
তোর কথা শুনে তো মনে হচ্ছে তুই ব্যাটার পেট দেখেই প্রেমে পড়ে গেছিস।।
.
একদম না।।
.
ঢং কমায় মার।।আর এই তুই না বিয়ে করতে চাস না??তাহলে লজ্জাবতী লতিকা হয়ে বসে ছিলি কেন??
.
বিয়ে করতে না চাইলেই কি আমি লজ্জা পাবো না??এতোগুলো মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর আমি লজ্জা পাবো না?
.
না পাবি না।।কেনো পাবি।।তোর বাড়ি,,তোর ঘর ইভেন সোফাটাও তোর।।খাচ্ছেও তোদের খাবার।।লজ্জা তো ওদের পাওয়া উচিত তুই কেন পাবি??বিয়ের জন্য রাজি থাকলে না হয় লজ্জাটা মানাতো।।যেহেতু রাজি নস সেহেতু কেনো লজ্জা পাবি। বরং এমনভাবে তাকাবি ছেলে যেনো ভয় পেয়ে মায়ের আচঁল ধরে বলে..””মাম্মাম মাম্মাম আমি বিয়ে করবো না।।””তা না করে লজ্জায় লাল হয়ে সেজে বসেছিলি।।ছেলে যে তোকে স্টোবেরি ভেবে খেয়ে ফেলে নি এটাই তো তোর ভাগ্য।।
.
আমার লজ্জা লাগলে আমি কি করবো?(মুখ ফুলিয়ে)
.
আমি লজ্জা লাগলে আমি কি করবো??ঢং,, যা তো এখান থেকে।।দাঁড়িয়ে আছিস কেন??সে আসবে নাকি?
.
জি না।।আমার না তোর সে আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।। হুহ।
.
আমার “সে ” না ভাইয়া আসবে।।যা তো ভাগ।।
.
চিত্রা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অভ্র ভাইয়া এলো পাশে আপুও আছে।।আমাকে দেখেই হাসিমুখে গাড়িতে উঠতে বললেন উনি।।আমিও হাসি হাসি মুখে পেছনের সিটে গিয়ে বসে পড়লাম।।আমি বসার দুইমিনিট পরই আরেকজন হুরমুর করে ঢুকে গেলো গাড়িতে।।চমকে গিয়ে পাশে তাকাতেই দেখি শুভ্র ভাইয়া।।আমি তো উনাকে দেখে অবাক।।কিন্তু উনার মধ্যে কোনো রিয়েকশন হলো বলে মনে হচ্ছে না।।খুব স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে লাগলো….
.
তাড়াতাড়ি চালাও ক্ষুধা লাগছে ব্যাপক।।এই তুমি নিশ্চয় রুহি??(আপুর দিকে তাকিয়ে)
.
জি ভাইয়া।
.
কেমন আছো রুহি?
.
আলহামদুলিল্লাহ, আপনি?
.
এইতো ভালো বাট আপাতত ক্ষুধায় কাতর।।এনিওয়ে তুমি তো এবার ফাইনাল ইয়ার রাইট?
.
হ্যা ভাইয়া।
.
গুড।।আমার একবছর জুনিয়র।।ভাইয়ার থেকে চারবছর জুনিয়র তুমি।।
.
আপনি মাস্টার্স করছেন??
.
হ্যা।তোমার নামটা বেশ সুন্দর।।তুমিও বেশ মিষ্টি মেয়ে।।কিন্তু একটা বিষয় বুঝতে পারছি না।
.
কি বিষয় ভাইয়া?(কৌতুহলী হয়ে)
.
এর মতো ঝগড়ুটে মেয়ে তোমার বোন কি করে হলো??স্ট্রেঞ্জ!!কুড়িয়ে পেয়েছিলে বুঝি??
.
ভাইয়া??আপনি কিছু বলছেন না কেনো??কে না কে গাড়িতে এসে বসে গেলো আর আপনি কিচ্ছু বলছেন না??আর এখন তো আমাকেও অপমান করছে।কাল আইসক্রিমও কেড়ে নিয়েছিলো।।আপনি কিছু বলবেন না আমি নেমে যাবো?
.
এই না না।।দাঁড়াও আমি ওকে বকছি।।
.
এই শুভ্র ওকে জ্বালাচ্ছিস কেন বল তো??মার দিবো একটা।
.
আমি কই জ্বালাচ্ছি ভাইয়া,, ও নিজে নিজে জ্বললে কি করতে পারি বলো তো!!
.
“ভাইয়া” কথাটা শুনেই আমি হ্যাং।।তারমানে মামু যে “ছোট মহাশয়” “ছোট মহাশয়” বলতেন ওটা ইনি??হায় আল্লাহ!! এতো দেখি সোজা বাঘের গোহায় গিয়ে পড়লাম।।কিন্তু আমায় কেউ বলে নি কেন?উনার কথা শুনেও তো বুঝা যাচ্ছে উনি আগে থেকেই জানতেন যে আমি উনার ফুপ্পির মেয়ে।।তবুও কতো বাজে বিহেভ করেছে আমার সাথে।।কি ফাজিল।।
.
#চলবে🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *