তোকে চাই || সিজন -২ || Part_12 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 12
.
.
🍁
.
সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছি।আড্ডায় মেতে উঠেছে মহল।কিন্তু সেখানে আমার কোনো যোগসূত্র নেই।।চুপচাপ এককোনায় বসে আছি আমি।।ভালো লাগছে না মোটেও,,শুভ্র ভাইয়ার ওই সব বিষাক্ত কথা শোনার পর ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক মূলত ভালোলাগাটাই অস্বাভাবিক ।।শুভ্র ভাইয়া আমার বাম পাশের সোফায় চিৎ হয়ে শোয়ে ফোনে গেম খেলছেন আর ডানপাশে বসেছেন মামু।।তাই চাইলেও উঠে যেতে পারছি না এখান থেকে।।ব্যাপারটা আমার হাতে থাকলে এই মুহূর্তে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতাম।।কিন্তু ব্যাপারটা যেহেতু আমার হাতে নেই তাই চুপচাপ বসে বাড়ির প্রতিটি জিনিসে চোখ বুলাচ্ছি।।মামুর বাড়িটা রাজমহলের মতো বড় নয় আবার খুব ছোটও নয়।।মাঝারি আকারের ডুপ্লেক্স বাড়ি।আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় লেগেছে বাগানটা।।বিভিন্ন ধরেনের ফুলে ভর্তি।।বাড়িতে ঢুকার সময় ছাদের এক কোনে কবুতরের ঝাঁকও চোখে পড়েছে,,নিশ্চয় ছাদে কবুতরের ঘর আছে।।চোখদুটো চারদিকে ঘুরে আবারও আটকে গেলো দেয়ালে টাঙানো ওই ছবিটাতে।।আম্মুর ছবি।হঠাৎ দেখলে মনে হয় আমিই হয়তো দাঁড়িয়ে আছি…মুখের হাসিটাও কেমন দুষ্টুমী মাখা।।মা নিশ্চয় বেশ দুষ্টু ছিলো….হওয়ারই কথা এখনো মাঝে মাঝে বাবা-মার রুমের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে বাবাকে দেওয়া মায়ের অদ্ভূত সব শাস্তি।।কখনো কফিতে লবন তো কখনো বাবার পাঞ্জাবীতে জুস!!মায়ের ছবিটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি হঠাৎ কোথা থেকে এক মহিলা এসে হাজির।।মুখে গদগদ হাসি।। মা উনাকে চিনতে না পেরে মামুকে জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই মামুর কথাটা কেড়ে নিয়ে নিজেই বলে উঠলেন…
.
আমাকে চিনবেন না আপা!!আমি হলাম অভ্রর বড় খালার দেবরের বউয়ের ছোট ভাইয়ের বউ।।
.
উনার পরিচয় শোনে আমার মাথা ঘুরে গেলো।।ভ্রু কুঁচকে হিসেব মেলানোর চেষ্টা করছি… তাহলে মহিলাটা আমার সম্পর্কে কি হতে পারে??ঠিক তখনই শুভ্র মোবাইলটা পকেটে রেখে সোজা হয়ে বসে বলে উঠলেন…
.
আন্টি পরিচয়টা একটু শর্ট কাট হয়ে গেলো না??নো প্রবলেম আমি বলে দিচ্ছি।।এক্চুয়েলি ফুপ্পি?উনি হলেন আমার আর ভাইয়ার বড় খালামনির একমাত্র দেবরের একমাত্র বউয়ের দুইমাত্র ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জনের দুইমাত্র বউ।।আই মিন টু ছে….সেকেন্ড ওয়াইফ।।বড়ই আদরের ওয়াইফ।।ঠিক বলেছি না আন্টি??
.
হ্যা হ্যা একদম।(বেক্কল হাসি দিয়ে)
.
একটু আগে সম্পর্কের সুতোটা যতোটা খুলছিলাম শুভ্র ভাইয়া তার ইন্না-লিল্লাহ করে দিলেন।।আমার দ্বারা এতো চিন্তা হবে না দেখে সকল ভাবনা-চিন্তা বাদ দিয়ে মহিলাটার দিকে চোখ দিলাম।।মহিলাটা যে আস্ত একটা আহাম্মক তা উনার হাসি দেখেই বুঝা যাচ্ছে।।উনার এই হাসিটাই যেনো চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে যাচ্ছে,,”আই এম আ আহাম্মক।।ভেরি বিগ আহাম্মক” আম্মু সম্পর্কের পেঁচ কতোটুকু বুঝতে পেরেছে তা উনার মুখ দেখে ঠিক বলা যাচ্ছে না।।তবুও হাসি হাসি মুখে বলে উঠলেন…”ও আচ্ছা!!ভাবি ভালো আছেন?” আমি বেশ খেয়াল করে দেখেছি…মহিলাদের এইদিক দিয়ে ব্যাপক সুবিধা।।মধ্যবয়স্ক সব মহিলায় তাদের হবে ভাবি নয়তো আপা….সম্পর্কে হাজার পেঁচ থাকলেও ঘুরেফিরে ভাবি-আপা।আর আমাদের ক্ষেত্রে?? খালা,ফুপু,মামি,কাকি,দাদি,নানি,আপি, ভাবি আরো কতো কি।।একটার সাথে একটা ঘুলিয়ে ফেললেই বাঁশ!!যায়হোক মহিলাটা মার কথার উত্তর দিয়েই খুশিতে গদগদ হয়ে আমাদের দুবোন কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন-
.
ওমা!!আপা এরা আপনার মেয়ে বুঝি?কি মিষ্টি দেখতে।যদিও বড়টা বেশি সুন্দর…ছোট জনের গায়ের রংটা একটু..
.
উনার কথায় আমার তেমন খারাপ লাগলো না।।এটা এর আগেও শুনেছি নতুন কিছু না।।নতুন কিছু হলেও এর জন্য কেঁদে গাঁ ভাসানোর কোনো কারণ দেখছি না।।তাই চুপচাপ বসে রইলাম..কিন্তু উনি কথা শেষ হবার আগেই শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলেন…
.
আন্টি?গায়ের রং তোমার টাও আহামরি সুন্দর না।।তবু আমাদের মামু মশাই কিন্তু তোমার উপর ফিদা…কি বলো??(চোখ টিপে)সো ওর গায়ের রং নিয়ে কথা বলেও লাভ নাই।যার গরজ পরবে সে দেখেই নিবে।।তুমি তো আর ওকে বিয়ের পিড়িতে বসাতে যাচ্ছো না?
.
শুভ্রর বলা “মামু তোমার উপর ফিদা” কথাটা শুনেই খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেন উনি।।তারপর চোখ মুখ নাড়িয়ে বলে উঠলেন-
.
শুভ্র তুইও না কি যে বলিস।আর বিয়ের পিড়িতে বসালেই দোষ কি?আমারই তো ভাগ্নি,, তাই না আপা?(মাকে উদ্দেশ্য করে)
.
মা শুকনো হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…”হ্যা হ্যা তাই তো…তাই তো!” মার কথায় মহিলাটা যেনো দ্বিগুণ উৎসাহ পেলো মামুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন….
.
দুলাভাই?বলছিলাম কি?অভ্রর জন্য একটা ভালো পাত্রীর সন্ধান পেয়েছি।।খুবই লক্ষী একটা মেয়ে।।আমি বলি কি?ওদের দুজনকে দেখা করার সুযোগটা দিলে ভালো হয় না??মেয়ে খুব মর্ডান।।অভ্রর পর না হয়, আপনার ভাগ্নি দুটোরও বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবো।
.
মহিলাটির কথায় শুভ্র কিছুটা নড়ে চড়ে বসলেন।।তারপর শান্ত দৃষ্টিতে মহিলাটির তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
আন্টি ভাইয়ার ওভার মর্ডান মেয়ে পছন্দ না।।এ পর্যন্ত তো কম মেয়ে দেখাও নি।।তো এবার গিভ আপ করো।।আমাদের কাছে মেয়ে আছে এখানেই হয়ে যাবে ক্রস কানেকশন। তাই না বাবা??(মামুর দিকে তাকিয়ে)
.
মানে??(অবাক হয়ে)মেয়ে আছে মানে কি?
.
বাবা?এতোদিন পরে ভাগ্নি খুঁজে পেলে এখনিই আবার অন্য লোকের ঘরে দিয়ে দিবে??কই না কই থাকবে কে জানে?বছরেও দেখা হবে কি না আল্লাহ মালুম।।তাই বলছি…ভাইয়ার বিয়ে দেওয়ার হলে নিজের ভাগ্নির সাথেই দাও৷। তাহলে ভাগ্নিও পেলে,,বউমাও পেলে,,ঘরে শান্তিও পেলে।।ভেবে দেখো…!!
.
মামুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে শুভ্রর কথা তার বেশ মনে ধরেছে। তিনি খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠলেন…
.
বাহ্ শুভ্র। তোর কূটনৈতিক বুদ্ধি আছে বলতে হবে।।ব্যাপারটা ভুল বলিস নি।।অরি?রাদিব?তোদের কোনো সমস্যা না থাকলে রোদের সাথে…(আমার দিকে তাকিয়ে)
.
মামু এটুকু বলতেই আমি চট করে অভ্র ভাইয়া আর আপুর দিকে তাকালাম।।আপু ভাবলেশহীনভাবে স্থির হয়ে বসে আছে,, অভ্র ভাইয়াকে দেখে মনে হচ্ছে সে চরম বিরক্ত।।অভ্র ভাইয়ার বিরক্তিটা যেনো আমাকেও হানা দিলো মুহূর্তে সাথে যোগ হলো চরম অস্বস্তি।। মামু এসব কি বলছে?মাথা ঠিক আছে তো?আমি আর অভ্র ভাইয়া??ছি ছি।।আমার ভাবনার মাঝেই শুভ্র ভাইয়া হঠাৎ বলে উঠলেন..
.
বাবা?তুমি ওর দিকে তাকাচ্ছো কেন??হোয়াই??
.
কথাটা বলে হুট করে উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে উনার জায়গায় বসতে বলে আমার জায়গাটা ছেড়ে দিতে বললেন।।আমিও চুপচাপ উঠে গেলাম।।উনি সাথে সাথেই আমার ঠিক সামনে বসে পরে মামুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন…
.
এদিকে নয়।।ওদিকে তাকাও বাবা!!(আপুর দিকে ইশারা করে)এখানে কিছু নেই।।ওখানে পরীর মতো একটা মেয়ে বসে থাকতে তুমি এই পুচকি মেয়েটার দিকে কি করে তাকাও বলো তো??রোদ নয় রুহি ইজ পার্ফেক্ট ফর ভাইয়া।।
.
শুভ্র ভাইয়ার কথায় কাজ হলো বলেই মনে হলো।।মামু কিছুক্ষণ শুভ্রর দিকে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন….”ওকে!!আমার এই নিয়ে পড়ে কথা বলবো।।তার আগে না হয় রুহি আর অভ্র নিজেদের মধ্যে কথা সেড়ে নিক।।অরি?রাদিব?তোদের কোনো প্রবলেম নেই তো??আমার মা দের আমার ঘরে দিতে আপত্তি নেই তো??অনেক তো থাকলাম আপনজনদের ছাড়া এখন না হয়…
.
মামুর কথা শেষ না হতেই বাবা বলে উঠলেন…
.
আমাদের আপত্তি থাকার প্রশ্নই আসে না ইকবাল। তুই আমার আর অরিয়ানার জন্য যা করিছিস তার কাছে এতো কিছুই না।।রুহি রাজী থাকলে আমাদের আর কোনো প্রবলেম নেই।।
.
আমি যেনো এতোক্ষণে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।।মামু তো আমায় ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো।।শুভ্রর এই কাজের জন্য তাকে হালকা ক্ষমা করা যেতে পারে।।আমি তার বিরুদ্ধে কঠিন একটা দোয়া করেছি,,উনার শাস্তিমূলক দোয়া।।দোয়াটা হলো তার বউ যেনো দশজনের সাথে পরকীয়া করে।।এখন বিরাট আফসোস হচ্ছে… নাহ্… তার বউ যেনো পরকীয়ায় না জড়ায় আমিন!!উনার বউ সম্পর্কিত শাস্তি মৌকুফ করা হলো।।তবে হ্যা…এই সামান্য কারনে তাকে সম্পুর্ন ক্ষমা করা যায় না…সো সেই উছিলায় উনার সাথে কথা অফ!!কে জানে,, তাতে তার কোনো যায় আসবে কি না??আবারও আমার ভাবনার ছেদ ঘটলো ওই মহিলা কথায়।উনি বিস্ময় মাখা গলায় বলে উঠলেন…
.
দুলাভাই?এই ছবির মেয়েটাই কি আপনার বোন??মানে এই আপা?
.
মামু মাথা দোলালো।।সাথে সাথেই মহিলাটি চেঁচিয়ে বলে উঠলেন…
.
ওমা!!আপার চেয়ে তো উনার ছোট মেয়ের চেহারার সাথে বেশি মিল মনে হচ্ছে ছবিটার।।
.
মামু হাসলেন।।তারপর চশমাটা পরিষ্কার করতে করতে বলে উঠলেন…
.
অরি কিশোরী বয়সে অনেকটা রোদের মতোই দেখতে ছিলো।।জানিস অরি?ছোটবেলায় তোর ছবি দেখে শুভ্র রোজ বলতো…”বাবা? ফুপ্পি কি কিউট।ফুপ্পির যদি ফুপ্পির মতো দেখতে কোনো মেয়ে থাকে তাহলে আমি তাকে তোলে এনে বিয়ে করে ফেলবো।।” হা হা হা হা
.
মামুর কথায় শুভ্র ভাইয়া বিষম খেলেন।।আমার দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়েই জোড়পূর্বক একটা হাসি দিয়ে ফোনের বাহানা দিয়ে উপরে চলে গেলেন।।উনার ফর্সা গালে লজ্জাগুলো স্পষ্ট আকার ধারণ করেছিলো।।বাহ্…এই খাটাসেরও তাহলে লজ্জা আছে??
.
#চলবে❤❤

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *