তোকে চাই || সিজন -২ || Part_15 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 15
.
.
🍁
.
অবজারভেশনের লাস্ট অাধাঘন্টায় জ্ঞান ফিরেছে সাকিবের।।এখন সে সুস্থ!!কথাটা শুনেই আনন্দে মনটা ভরে উঠেছিলো আমার।।হসপিটাল জিনিসটা আমার কোনো কালেই ভালো লাগে না।।তবুও থাকতে হচ্ছে আমায়।বেডের উপর পা ছড়িয়ে বসে গেইমস খেলছি।।আশেপাশে কেউ নেই….সবাই বাসায় গেছে।।হঠাৎ করে কোথা থেকে শুভ্র ভাইয়া এসে ধুপ করে বেডে শুয়ে পড়লেন।।আমি “হা” করে তাকিয়ে আছি।উনি হুট করে আমার হাতের ফোনটা নিয়েই বলে উঠলেন…”কি গেইম খেলো??” আমি “এঞ্জেলা” খেলছিলাম।।মাত্রই গোসল করাইছি খাওয়াতেও দিলো না খাটাসটা।।উনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড়বড় করে বলে উঠলেন….
.
ওহ মাই গড…লাইক সিরিয়াসলি??তুমি এসব বাচ্চাদের গেইমস খেলো??আরে..আজকে তোমার বিয়ে হলে কালকেই তো বাচ্চার মা হয়ে যাবা…তখনও এসব খেলবা??
.
আমি কিছু বলছি না।।চুপ করে টুকুরটুকুর চোখে তাকিয়ে আছি।।কথা বলতে পারলে কিছু কড়া কথা শুনানো যেতো উনাকে।।কিন্তু আপাতত ইচ্ছেটা চাপা দিতে হচ্ছে।।উনি ফোনটা পাশে রেখে হতাশ গলায় বলে উঠলেন….”তোমার বেবি হওয়ার পর তুমি আর প্রিন্সেস মোবাইল নিয়ে কোমড় বেঁধে ঝগড়া করছো।। তাও জাস্ট বিকজ এই ফালতু গেইম খেলবে বলে।।ভাবা যায়??আমি তো কল্পনা করেই শিহরিত। ” আমি এবারও চুপ।। উনি হুট করে উঠে একদম দাঁড়িয়ে গেলেন।।পকেটে হাত দিয়ে পা হালকা ফাঁক করে টানটান হয়ে দাঁড়িয়েই বলে উঠলেন…
.
ওই?সাকিবকে দেখতে যাবা??
.
আমি উনার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।।কথা বলার এভিলিটি থাকলে প্রথম যে কথাটা উনাকে বলতাম তা হলো….আচ্ছা আপনি তো মাত্র গেলেন বিশ মিনিট হলো।।এখান থেকে বাসায় যেতে লাগে ১০ মিনিট….যদি গাড়ি খুব জোড়ে চালানো হয় তবে।।এই বিশ মিনিটে আপনি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে আসলেন কেমনে??উনার চুল ভেজা… তারমানে গোসল করেছেন।।পড়নে লাল রঙের টি-শার্ট আর এ্যাশ থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট,,পায়ে একজোড়া চটি জুতা।।কি অদ্ভুত ড্রেস পড়ে এসেছেন উনি।।তবু মনে হচ্ছে…উনি এই ড্রেসটা না পড়লে মারাত্মক একটা ভুল করতেন।।এই পরিবেশে যেনো শুধুমাত্র এই পোশাকই মানায়।।লেপ্টে থাকা ভেজা ভেজা পায়ের লোমগুলো গিয়ে আকর্ষনীয়।।উনি আমার দিকে ঝুকে এসেই বলে উঠলেন…”কি যাবা??” আমি উনার চোখের দিকে তাকালাম।।উনি ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলেন যাবো কি না। আমিও ফটাফট নেমে পড়লাম বেড থেকে।।যেই না দরজার দিকে পা বাড়ালাম উনি গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন…”দাঁড়াও” আমি পেছনে ফিরে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই বেডের উপর রাখা আমার কাপড়ের ব্যাগ থেকে একটা ওড়না বের করে জড়িয়ে দিলেন আমার গায়ে।।সঙ্গে গা জ্বালানো একটা কথাও বললেন…”ওড়না ছাড়াই দৌড়াচ্ছো।।পারলে বুঝি জামাটাও রেখে যেতে??” এই কথা শোনার পর মনে প্রথম যে কথাটা উদয় হয়েছিলো তা হলো…” ব্যাটা তোর বউ মেথরের সাথে ভাইগা যাবো,, দেইখা নিস।।” আমি রাগী চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।।উনি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে বলে উঠলেন…
.
এতো ফুস ফুস করে লাভ নেই…কথা নাই তবু তেজ ষোল আনা।।চলো..(ধমক দিয়ে)
.
আজ কথা বলতে পারি না বলে এভাবে অপমান??এই সাদা বিলাইকে যদি আমি না কাঁদাইছি তো আমার নামও রোদ না।।হুহ!!
.
.
সাকিব বেডে শুয়ে আছে।।বাম হাত আর ডান পা প্লাস্টার করা।মাথায় ব্যান্ডেজ।।শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিন্হ।আমাদের দেখেই হাসিমুখে বলে উঠলো সাকিব…
.
ভাবি ভালো আছেন??
.
আমি মুচকি হাসলাম মাত্র।।সাথে সাথেই পাশ থেকে বলে উঠলো শুভ্র….” সাকিব? তোর ভাবির ব্যাটারি ডাউন হয়ে গেছে।।আপাতত কথার স্টক শেষ।” আমি রাগী চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছি আর সাকিব অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।।শুভ্র এবার একটু গম্ভীর হয়ে সাকিবের ডান হাতে হাত রাখলেন…অন্যহাত রাখলেন মাথায়।।সাকিব উনার দিকে তাকিতেই বলে উঠলেন…
.
থেংক্স রে….জান বাঁচাই দিছিস তুই। এই পিচ্চিটা আমাদের ফ্যামিলির জান।।সেই হিসেবে আমাদের জানটা বাঁচিয়ে দিয়েছিস রে ভাই।।ওর কিছু হলে জাস্ট পাগল হয়ে যেতাম..(আমি তাকাতেই) আই মিন বাবা,,ফুপ্পি একদম পাগল হয়ে যেতো।।থেংক্স আ লট।।
.
সাকিব মুচকি হেসে বলে উঠলো…” ভাই?ধন্যবাদের জন্য আমি এসব করি নি।করেছি মানবতার খাতিরে।।কাল চমি সেখান থেকে পালিয়ে আসলে… মেয়েদের মনে ছেলেদের জন্য একটা ঘৃণা একটা অবিশ্বাসই তৈরি হতো।।যদিও ছেলেদের প্রতি মেয়েদের বিশ্বাস এখন নাই বললেই চলে।।কিন্তু সব ছেলে তো এক নয়।।এখনও অনেক ছেলেরা কাপুরুষের সমাজে মা-বোনকে বাঁচাতে বীরত্ব দেখায়।।আমার তো কিছুই হয় নাই ভাই।।দুদিনেই ফিট হয়ে যাবো।ওখান থেকে পালিয়ে আসলে মনটা একদম আনফিট হয়ে যেতে ভাই।।নিজের চোখেই নিচে নেমে যেতাম।।কিছুদিন আগে আপনিই বলছিলেন ভাই-” জীবন নয় আত্মসম্মান টা আগে।।আত্মসম্মান হারিয়ে মরে মরে বাঁচার চেয়ে।।আত্মসম্মান নিয়ে মরে গিয়ে বেঁচে যাওয়া অনেক ভালো” আমিও সেটাই মানছি।।ঠিক করছি না ভাই???
.
একদম ঠিক করেছিস।। আম প্রাউড অফ ইউ ছোটে।
.
আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনে যাচ্ছি।।ছেলেটার প্রতি এক অদ্ভুত শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছে আমার মাঝে।।সাকিব আমার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠে শুভ্র ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আবারও বলে উঠলো…”ভাই?ভাবি কি আর কথা বলতে পারবে না??”
.
আরে না…তোর ভাবি সাময়িক ভাবে চুপ করে আছে।।পৃথিবীর মানুষকে একটু শান্তি দিচ্ছে আরকি।।ক্ষনিকের শান্তি!! দুদিন পর আবারও বকবক পকপক শুরু হয়ে যাবে নো টেনশন।।(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
ব্যাটা বজ্জাতটা সুযোগের সৎ ব্যবহার বেশ ভালোই করছে।।কিন্তু আমিও কম কিসে দিলাম উনার পায়ে জোরে এক পাড়া…এখন বুঝো ঠেলা।।উনি লাফিয়ে উঠে বলে উঠলেন…”উফফ..পাড়া দিলে কেন??” আমি নাক মুখ খিঁচে উনার পকেট থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে একটা ম্যাসেজ টাইপ করে উনার সামনে ধরলাম…” আমাকে তোর ভাবি তোর ভাবি বলছেন কেন??” ম্যাসেজটা দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন উনি-
.
আরে..সাকিবের যেনো বুঝতে সুবিধা হয় তাই বললাম আরকি।।বাচ্চা মানুষ না ও??তারউপর মাথায় আঘাত পাইছে বুঝোই তো….ডেঞ্জারাস ব্যাপার স্যাপার।
.
এবার আমি আরেকটা ম্যাসেজ টাইপ করে সাকিবের সামনে দড়লাম…”আমাকে ভাবি ডাকেন কেন??হুয়াই?”
সাকিব ম্যাসেজটা পড়ে মুচকি হেসে বলে উঠলো…
.
আসলে কি ভাবি।।আপনাকে দেখলে আমার মন আর মুখ দুটোই খালি ধাক্কায় বলে- ভাবি বল,,ভাবি বল।।তাই ভাবি বলে ফেলি।।মা বলে মনের কথা শুনতে হয়।।মনের আওশ অপূর্ণ রাখতে নাই।।বুঝেনই তো…মায়ের আদেশ।
.
আমি আবারও কিছু লিখবো তখনই একটা নার্স দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।।এই নার্সই সেই নার্স,, যে শুভ্র ভাইয়াকে দেখে হ্যাং মারে বারবার।।এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।।কি বলতে এসে সেটা ভুলে অপলক তাকিয়ে রইলো শুভ্রর মুখের দিকে।।আমি একবার শুভ্র তো একবার নার্সের মুখের দিকে তাকাচ্ছি।আহা!! বেচারী ক্রাশ খাইছে।কিন্তু শুভ্র ভাইয়ের সেদিকে পাত্তা নাই।।সে এদিক ওদিক তাকিয়ে এটা সেটা দেখছে।।কখনো বা আমার দিকে তাকাচ্ছে।।আমার খুব ইচ্ছে করছে শুভ্র ভাইয়াকে বলি।।””ভাইয়া?? নার্স বেচারী কেরাশ খাইছে।।একটু তারদিকে মুখ তুলে তাকান”” কিন্তু বলা হলো না।।অতঃপর অন্য একটি নার্স এসে বললো রুম ফাঁকা করতে এবং আমার ঔষধের টাইম হয়ে গেছে যুবতী নার্সটা আমায় ঔষধ খাওয়াবে আমি যেনো কেবিনে যাই।।কথাটা বলা শেষ হতেই শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলেন…..
.
নো নো…এই ভদ্রমহিলাকে নিয়ে যান।।উনাকে খাওয়াতে হবে না ঔষধ।।উনাকে দেখে মনে হচ্ছে না।। উনি এই দুনিয়ায় আছেন।।পরে উল্টাপাল্টা কিসব ঔষধ খাইয়ে দিবে।।আমি ওকে নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চাই না।।আমার টার যত্ন আমি নিতে পারবো…ইউ মে গো নাও।।
.
বাট স্যার?এটা ওর ডিউটি…
.
ডিউটি মাই ফুট। কি ডিউটি করছেন দেখতেই পারছি।।উনার ফলিস ডিউটি করতে গিয়ে আমার পেসেন্ট মরে যাক,,তাই না??দেখুন আপনারা আপনাদের কাজে যান।।ওর জন্য আমি একাই যথেষ্ট।।গো নাও…
.
নার্সদুটো বেরিয়ে যেতেই আমরাও বেরিয়ে এলাম।।গাল ফুলিয়ে হাঁটছি….আমার কতোগুলো কথা মিস হয়ে যাচ্ছে উফফ…ভাল্লাগে না।।হুহ….হাঁটতে হাঁটতেই উনি বলে উঠলেন…
.
এভাবে গাল ফুলিয়ে রেখো না প্লিজ।(বুকে হাত দিয়ে) এখানে ব্যাথা লাগে।।
.
উনার কথা শুনে কি রিয়েকশন দিবো বুঝতেছি না।।উনি কি মিন করলেন??আমার গাল ফুলানোর সাথে উনার বুকের ব্যাথার সম্পর্ক কি??
.
#চলবে..🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *