তোকে চাই || সিজন -২ || Part_16 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 16
.
.
🍁
.
বেডে পা ঝুলিয়ে বসে আছি।শুভ্র ভাইয়া ঔষধের ডেট চেইক করছে সব ঠিক আছে কি না।।হঠাৎ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এলো সেই নার্স।।নার্সটাকে দেখেই চোখদুটো চিকচিক করে উঠলো আমার।উহহো… এখন হবে বাংলা সিনেমা।।শুভ্র দরজায় শব্দ শুনে পেছন ফিরে তাকিয়েই ভ্রু কুঁচকালো।নার্সটি কাঁপা কাঁপা গলায় বললো….
.
স স্যার আমি উনাকে ঔষধ খাইয়ে দিচ্ছি।। আপনার কষ্ট করতে হবে না।
.
আপনাকে আমি আসতে বলেছিলাম??আর আপনার কি মনে হয়?ওকে ঔষধ খাওয়ানো আমার জন্য কষ্টের ব্যাপার?? নট এট অল।।আর আমার রোদের জন্য….আই মিন আমাদের রোদের জন্য এতো নার্স বা এসিসটেন্ট লাগবে না।।আম এনাফ ফর হার…সো ইউ জাস্ট গেট লস্ট…
.
ইচ্ছে করছে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে হাসি বাট চেপে গেলাম… ঠোঁট চেপে মুচকি হাসছি।।শুভ্র আমার দিকে তাকিয়েই ধমকে উঠলো..” হাসছো কেন??হাসবে না একদম। আর আপনি এখনও দাঁড়িয়ে আছেন কেন??বিরক্ত না করে যান তো।।”
.
নার্সটা এখনও দাঁড়িয়ে চুপচাপ তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।।শুভ্র ভাই যে সেইরকম অস্বস্তিতে আছে তা উনাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে।উনি এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
রোদ একে যেতে বলবা প্লিজ??হা করে তাকিয়ে থাকার কি আছে?আমি কি এলিয়েন??যার তাকানোর কথা তার তাকানোর খবর নাই,,,আসছে আরেক পাগল….হেই ইউ? জাস্ট গো না…(ধমক দিয়ে)
.
এবার নার্সটা ছুটে বেরিয়ে গেলো।। ধেৎ এতো এতো বিনোদন মিস করে যাচ্ছি জাস্ট বিকজ আমি কথা বলতে পারি না বলে।।উনি তো রেগে মেগে শেষ।।আমি হাত নেড়ে উনাকে আমার দিকে তাকাতে বললাম।।তারপর হাত আর মুখের ইশারায় কথা বলতে লাগলাম।।আশ্চর্যের ব্যাপার উনি আমার কথা বুঝতে পারছেন।।আচ্ছা উনি কি লিপ রিডিং জানে নাকি??আমি কথা বলার মতো করেই ধীরে ধীরো সাউন্ডহীন ভাবে বললাম…
.
শী ইজ ক্রাশড অন ইউ।।
.
আই নো,, বাট আম ক্রাশড অন আনাদার ওয়ান।
.
কথাটা শুনেই চোখ বড় বড় করে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে বলে উঠলাম…
.
রিয়েলি??
.
ইয়াহ্
.
আমি উনার হাত ধরে ঝাঁকাচ্ছি।।মেয়েটা কে শুনবো বলে।।উনি মুচকি হেসে বলে উঠলেন..”শুনতে চাও?” আমি মাথা নাড়িয়ে হ্যা জানালাম।।উনি আমার মুখের দিকে এগিয়ে এসে বললেন..”সিউর??” আমি আবারও মাথা নাড়লাম যে আমি শুনতে চাই।উনি এবার আরো কাছে এসে আমার কানে কানে ফিসফিস করে বলে উঠলেন…”আমার বলতে ইচ্ছে করছে না।” এই কথা শুনার পর ইচ্ছে করছিলো চুল সব টেনে ছিঁড়ে ফেলি।।পাশে কাপড়ের ব্যাগ থাকায় ওটা হাতে নিয়েই মারতে লাগলাম উনাকে।।বলবি না তো জিগ্যেস করলি কেন শুনবো কি না।।উনি রুম কাঁপিয়ে হাসতে লাগলেন।।আমার হাতদুটো শক্ত করে ধরে বলে উঠলেন…
.
এভাবে মারে?মরে যাবো তো।।আচ্ছা বাবা বলছি তবু মারামারি স্টপ রাখো।।
.
এবার আমি চুপচাপ শান্ত হয়ে বসলাম।।আজ উনি আমাকে আবার টাচ করেছেন কিন্তু কোনো ফিল আসে নি।।ওই আননোন পারসোনের স্পর্শ আমার শরীরের স্নায়ু আর ধরে রাখতে পারে নি।।স্পর্শ টা ভুলে গেছি নয়তো চেক করা যেতো।।উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চেয়ার টেনে বসলেন।।তারপর উনার ঘন চুলোগুলোতে হাত চালাতে চালাতে বলে উঠলেন…
.
মেয়েটা আমাদের ভার্সিটিতেই পড়ে।কি মারাত্মক মায়া তার চোখে মুখে।।হাঁটতে হাঁটতে যখন ও পাশ ফিরে তাকিয়ে হঠাৎই হেসে উঠে উফফ…বিশ্বাস করো বুকটা কেঁপে উঠে আমার।ধমকা হাওয়ায় ওর লম্বা চুলগুলো যখন ঝাপটে পড়ে মুখে ইচ্ছে করে সামনে দাঁড় করিয়ে আলতো হাতে চুলগুলো গুঁজে দিই কানে।তারপর কপালে এঁকে দিই গভীর এক চুমু,পরম আদরে।।ওর ভেজা ভেজা ঠোঁট আর সেই কালো গভীর তিলটা আমাকে বেসামাল করে দেই মুহূর্তেই।ওর কৌতূহল মাখা দুটো চোখ,,নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে দুষ্টুমি মাখা সেই হাসি উফফফ…ক্ষতবিক্ষত করে দেয় (বুকে হাত দিয়ে) এখানটায় বড্ড নিষ্ঠুরভাবে।।আর ওর চোখ-মুখ লাল করে সেই রাগী রাগী চাহনী!!সে জানেই না…যখন সে রেগে মেগে একের পর এক তর্কে লিপ্ত হয়, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা তার প্রেমে হাবুডুবু খায় ক্রমাগত।।ইচ্ছে করে জাস্ট জাস্ট খেয়ে ফেলি ওকে।।মাঝে মাঝে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে পুরো পৃথিবীর সামনে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে…”তোকে চাই,, তোকে চাই,, আমার তো শুধু তোকেই চাই রে পাগলী।।কি হয় আমায় একটু বুঝলে??
.
আমি চোখ বড় বড় করে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।।এই খাটাসটার মনেও এতো আবেগ??বাট মেয়েটা কে??একে পেলে খুন করে ফেলতাম…অসভ্য মেয়ে।।উনি আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললেন…” কেমন বুঝলে??” আমি জোড়পূর্বক একটা হাসি দিলাম।।যায় হোক,, এই মেয়েটাকে তো খুঁজে বের করতেই হবে।।হুহ!!
.
🍁
.
ভার্সিটির মাঠে বসে আছি।।চিত্রা পাশে বসে বকবক করে চলেছে।।ওকে থামিয়ে দিয়ে হঠাৎই বলে উঠলাম…
.
এই চিতা বাঘ?আমাদের ভার্সিটির বেষ্ট সুন্দরী কে রে??তুই?
.
নাহ…শ্রেয়া নামের মেয়েটাকে দেখেছিস?ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের?অসম্ভব সুন্দরী।আমার থেকেও সুন্দর।।সিনিয়র ভাইরা তো লাইন লাগিয়ে দিয়েছে।।
.
তাই নাকি??(ভ্রু কুচঁকে)
.
হুমম,,…ওইতো দেখ আসছে।নেভিব্লু কালার ড্রেস পড়েছে যে ওই মেয়েটা।।
.
ওহ্ দেখতে তো সুন্দরই।।ডাক তো ওকে।।কথা আছে!”
.
ওর সাথে তোর কি কথা??(অবাক হয়ে)
.
আরে ডাক তো দে।।পরে বলছি কি কথা।।
.
কিন্তু কি কথা সেটা তো বল।
.
তুই কি খেয়াল করেছিস?শুভ্র ভাইয়া ওর দিকে প্রেম প্রেম নজরে তাকিয়ে থাকে।।
.
কিহহ??কি বলছিস তুই?শ্রেয়াকে?? ইম্পসিবল!!শুভ্রভাই কোনো মেয়ের দিকেই ওভাবে তাকায় না। আমি যতোবার দেখেছি,, উনি রাগী চোখে হোক,,খুশি খুশি চোখে হোক…যতরকম চোখেই তাকাক..ঘুরেফিরে তোর দিকেই তাকাতে দেখেছি।।
.
চুপপ… কিছু বুঝিস তুই??তোর চোখ তো শুধু ছেলেদের পেট পর্যন্তই পৌছায় চোখের ভাষা কেমনে বুঝবি??আরে..শুভ্র ভাই আমার দিকে ভাই ভাই নজরে তাকায়।।আমরা তো কাজিন তাই।।আর শ্রেয়ার দিকে তাকায় প্রেম প্রেম নজরে।।শুভ্র ভাই নিজে আমায় বলেছে…. তাছাড়া আমার মধ্যে প্রেম নজরে তাকানোর মতো কিছু নাই বুঝছিস??
.
এটা তোর ভুল ধারনা।।তোর মধ্যে কিছু নাই সেজন্যই তো ছেলেরা প্রোপোজের ঢালি সাজায় তাই না???
.
তুই থামবি??ফাউল পেঁচাল বাদ দিয়ে ওকে ডাক।।শুভ্র -শ্রেয়া দেখছিস নামটাও মিলে যায়…
.
.
শ্রেয়া মেয়েটা আমাদের সামনে বসে আছে।।সত্যিই মেয়েটা অসম্ভব রূপবতী।।ছেলেদের প্রেমে পড়ার জন্য উপযুক্তও বটে।।শুভ্র ভাইয়ের জন্যও পারফেক্ট।।আমি মুচকি হেসে বলে উঠলাম..
.
কেমন আছো শ্রেয়া?
.
ভালো তুমি?
.
আমিও ভালো।আচ্ছা শুভ্র ভাইকে চেনো??
.
আবরার শুভ্র??কে না চিনে উনাকে?উনি তো ভার্সিটি ক্রাশ।।
.
তোমারও ক্রাশ??
.
অবিয়েসলি।।
.
ওহ্..বলছিলাম কি?তুমি কি জানো শুভ্র ভাইয়া ইজ ইন লাভ উইথ ইউ।
.
হোয়াট??(অবাক হয়ে)
.
আমার তো তাই ই মনে হয়।।উনি তোমার দিকে কেমন করে তাকায় তুমি খেয়াল করো নি??সেদিন তুমি শাড়ি পড়প এসেছিলে ভাইয়া তো তোমার থেকে চোখই সরাতে পারছিলো না।।আমি নিজের চোখে দেখেছি।।চিত্রাও তো দেখেছে৷ জিগ্যেস করো ওকে…এই চিত্রা বল দেখেছিস না??(ধাক্কা দিয়ে)
.
হ্যা হ্যা দ..দেখেছি তো।।দেখেছি।।
.
তারপর আমরা যখন উনাদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলাম,, উনি সাহেল ভাইয়াকে বলছিলেন…” মাশাআল্লাহ!! মেয়েটাকে কি কিউট লাগছে।।”” চিত্রা?ভাইয়া বলেছিলো না??
.
হ,,হুমম ব বলেছিলো তো..
.
ওহ মাই গড।।আমি পাগল হয়ে যাবো।।কিন্তু উনি আমায় বলেন নি কেন??
.
আরে বুঝো না?ক্রাশ আইকন।। নিজে থেকে বলবে নাকি??তোমায় বলতে হবে… একটু কাছাকাছি যাও…হাতেহাত ধরো।। তবেই না হবে….
.
কিভাবে কি করবো?কিছুই তো বুঝতে পারছি না।।
.
রিলেক্স,, আমি আছি কেনো??শুনো… কাল তুমি শাড়ি পড়ে আসো।।উনি বলেছেন শাড়িতে তোমায় নাকি হট লাগে।।তারপর সামনের রিইউনিয়নের জন্য যে বলেন্ডিয়ার নেওয়া হচ্ছে। সেটা নিয়ে ভাইয়ার সাথে কথা বলতে যাবে।।তাহলেই কাহিনী ঘটবে।।শাড়িতেই “আর” ফর রোমান্স শুরু হবে এবার।।(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
🍁
.
ঘুম থেকে উঠতে উঠতে নয়টা।।একদম সময় নেই হাতে।।কোনোরকম মুখে চোখে পানি দিয়ে ড্রেসটা চেঞ্জ করে নিলাম।চুল আচড়ানোর সময় নেই হাতে… তাই লাল উড়নাটা দিয়ে মাথা ঢেকেই ব্যাগ নিয়ে রৌণা দিলাম ভার্সিটি।।লেইট হলে সব প্ল্যানিং ভেস্তে যাবে।।চিত্রাও আছপ আমার সাথে,,কিন্তু তার মুখ অফ।।তারকাছে ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগছে না।।তার ধারনা খুব শীঘ্রই আমরা শুভ্র ভাইয়া প্রদত্ত বাঁশ খাবো।।অবশেষে শ্রেয়া এলো মেজেন্টা শাড়িতে মারাত্মক সুন্দরী লাগছে ওকে।।ছেলে হলে নগদে প্রোপোজ করে দিতাম ওকে।।এখন বুঝতে পারছি শুভ্র ভাইয়া যেন তেন মেয়ের প্রেমে পড়ে নি।।আমরা অনেক খুঁজে শুভ্র ভাইকে খুঁজে বের করে অডিটোরিয়ামে এসে দাঁড়ালাম।।শ্রেয়াকে দেখে সব ছেলেরা “হা” করে তাকিয়ে আছে।।শুভ্র ভাইয়া আমাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে উঠলেন…” কিছু বলবে??”
এবার উনার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম…শ্রেয়া উনার সাথে কথা বলছে।।আমি এদিক ওদিক দেখছি কে কি করছে।।হঠাৎ চিত্রার হাতের খোঁচায় ওর দিকে তাকলাম।।ও ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো….” দেখ… শুভ্র ভাইয়া তোর দিকেই তাকিয়ে আছে।।” আমিও আড়চোখে তাকালাম,,, হ্যা উনি আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন।আমাকে তাকাতে দেখেই শ্রেয়াকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন…” তুমি ব্রেকফাস্ট করেছো সকালে??” এটা কি খাবার কথা জিগ্যেস করার সময়??শ্রেয়া উনাকে কতো ইম্পোর্টেন্ট কথা বলছে আর উনি?উনি আবারও বলে উঠলেন…”কিছু জিগ্যেস করছি আমি।।খেয়েছো সকালে??আর ঔষধ??” আমি ঢোক গিলে নিয়ে বলে উঠলাম-“ভাইয়া?শ্রেয়ার কথাটা বেশি ইম্পোর্টেন্ট।।”” কিন্তু কে শোনে কার কথা।।উনি সাব্বির ভাইকে ডেকে শ্রেয়ার সাথে এই বিষয়ে ডিসকাশন করতে বলে আমার কাছে এসে বললেন…”চলো খাবে..” লও ঠেলা!!প্ল্যানের ১২ টা বাজিয়ে ভাই আমাকে খাবার অফার করছে।।ভাবা যায়??অসহ্য!!
.
#চলবে🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *