তোকে চাই || সিজন -২ || Part_17 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 17
.
.
🍁
.
ব্রেকফাস্ট করার হলে ক্যান্টিনে যাবো আপনি আমায় গাড়িতে আনলেন কেন??আর এভাবে আনার মানে কি?সবাই কেমন করে তাকিয়ে ছিলো দেখেছেন?
.
আই ডোন্ট কেয়ার।এখন ওড়না টা খুলো…
.
হোয়াটটটটটট???কি বলছেন এসব।(অবাক হয়ে)
.
আমি ওড়নাটা মাথা থেকে সড়াতে বলছি জাস্ট,,অন্য কিছু না।।আর কারো সামনে এভাবে মাথায় ওড়না দিয়ে আসবে না।।
.
কেনো??
.
সবগুলো ছেলে কেমন আহাম্মকের মতো তাকিয়ে ছিলো।।স্কার্ফ পড়তে পারতে।।এভাবে অগোছালো চুলে,,,ঘুমো ঘুমো চোখে মাথায় লাল ঘোমটা এঁটে ছেলেদের হার্ট অ্যাটাক করাতে চাও??
.
লিসেন?ছেলেরা আমাকে নয় শ্রেয়াকে দেখছিলো ওকে?
.
হুহ…এজন্যই তো সাহেলের মুখে মাছি ঢুকে যাচ্ছিলো।।ও তোমায় চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিলো।।
.
ওয়াও…সাহেল ভাইয়া আমায় দেখছিলো??রিয়েলি?
.
এতো খুশি হচ্ছো কেন??(ভ্রু কুঁচকে)
.
তো খুশি হবো না??আম রিয়েলি ক্রাশড অন হিম।ইউ নো হোয়াট??উনি কি কিউট এন্ড সুইট।।অন্নেক ড্যাশিং…
.
আমার কথাটা হয়তো উনার হজম হলো না।।হঠাৎই আমার দিকে এগিয়ে এলেন।।আমি গাড়ির দরজার সাথে মিশে বসে আছি।।শুকনো গলায় বারবার ঢোক গিলে উনার দিকে তাকাচ্ছি কে জানে আবার কি ভুল বলে ফেললাম।উনি একহাত সিটে এবং অন্যহাত গাড়ির দরজায় রেখে আমার উপর ঝুঁকে পড়লেন।।নীরবে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছেন।।কি অস্বস্তিকর ব্যাপার।।আমি নড়েচড়ে উঠতেই উনি আরো এগিয়ে এসে বলে উঠলেন…
.
সাহেল ড্যাশিন?কিউট?সুইট? তো আমি কি?
.
আপনি তো পুরাই স্টোবেরি আইসক্রিম (মনে মনে) আপ আপনি ভাইয়া…!!
.
আমার কথাটা শুনেই হতাশ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন।।আমি উনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগলাম।।উফফ আরেকটু হলেই তো মরে যেতাম।।শ্বাস নিতে নিতে সামনের দিকে তাকাতেই সাহেল ভাইয়াকে দেখতে পেলাম কারো সাথে হেসে গল্প করছেন।।আমার অবচেতন মন বলছে শুভ্র ভাইয়া সাহেল ভাইয়ার প্রতি জেলাস।।কারণ না জানলেও এই জেলাসনেসটা বাড়িয়ে দিলে কেমন হয়?যেমন ভাবা তেমন কাজ।।শুভ্র ভাই চোখ মুখ লাল করে বসে আছেন।উনাকে শুনিয়ে বলে উঠলাম-
.
লুক ভাইয়া? সাহেল ভাইয়াকে নেভিব্লু শার্টে কি কিউট লাগছে।।উফফ…আমি তো আহত।আচ্ছা ভাইয়া?(উনার দিকে তাকিয়ে) সাহেল ভাইয়া তো আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড,,তাহলে একটা কাজ করি আমি উনাকে পটিয়ে বিয়ে করে ফেলি।।তাহলে আপনাদের রিলেশন আরো ক্লোজ হবে।।আপনার বোনের হাজবেন্ড বলে কথা।।তাইনা??আচ্ছা আমি সাহেল ভাইয়ার কাছে যাই ওকে??
.
কথাটা বলে গাড়ির দরজায় হাত দিতেই উনি আমার হাতটা জোড়ে টেনে ধরে চোখ মুখ লাল করে বলে উঠলেন-
.
খবরদার..গাড়ি থেকে নামবে তো।।লুক এট মি ডেমেট।।কি পেয়েছো ওর মধ্যে?? বলো কি পেয়েছো??
.
কথাটা বলেই গাড়ির সামনের দিকটায় খুব জোড়ে আঘাত করলেন উনি।।এমন কিছু হবে ভাবি নি।।আমি চমকে উঠে উনার হাতের দিকে তাকাতেই অবাক হলাম।।ব্যান্ডেজ ভিজে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।।এটুকু রক্ত তেমন কোনো ব্যাপার না কিন্তু আমার চোখে ভাসছে সেই রাতের ঘটনা।।অনেক রক্ত,,,চারপাশে অনেক রক্ত।।আমি কোনোরকম বলে উঠলাম…”রররক্ত!!!” উনি আমার কথায় হাতের দিকে ফিরে তাকালেন।।হাতের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়েই ডান হাতে দিয়ে আমাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে মাথাটা চেপে ধরলেন বুকে।।স্লো ভয়েজে কানে কানে বলতে লাগলেন….
.
রিলেক্স রোদ।। টেক আ ডিপ ব্রেথ।।কিচ্ছু হয় নি,,কিচ্ছু না।।চোখ বন্ধ করো।।আমার সাথে কথা বলো।।
.
আমি কিছুই বলছি না চুপ করে উনার বুকে মাথা গুঁজে খামচে ধরে আছি উনার শার্ট।উনি আমাকে ধরে রেখেই রক্তমাখা হাতে সাহেল ভাইয়াকে কল করলেন…
.
হ্যালো সাহেল?তোর সামনেই আমার গাড়ি।।প্লিজ গাড়ির কাছে আয় ইমার্জেন্সি!!!
.
কিছুক্ষণ পরই সাহেল ভাইয়ার কথা শুনা গেলো।।
.
কি রে শুভ্র ডাক…(হঠাৎ থেমে গিয়ে) সানশাইনকে এভাবে জড়িয়ে ধরে আছিস কেন??
.
লুক এট মাই হ্যান্ড।ব্লিডিং হচ্ছে। আর ওর ব্লাড ফোবিয়া আছে।।প্লিজ ব্যান্ডেজ টা চেঞ্জ করে দে।।আমি একহাতে পারবো না।।
.
ওহ..ওকে।বাট এমনটা হলে কিভাবে?শুভ্র তোর রাগটা বেশি বেড়ে গেছে।।সেদিন ফারুককে মেরে নিজের ইচ্ছেতে হাতটা কেঁটে বেহাল দশা করলি।।আজ আবার?(ব্যান্ডিজ খুলতে খুলতে)
.
আজ ইচ্ছে করে করি নি।।হয়ে গেছে।
.
উনি আমার চুলে হাত ভুলিয়ে বলে উঠলেন-
.
রোদপাখি??ভয় পাচ্ছো?
.
আমি মাথা নেড়ে সায় জানালাম হ্যা পাচ্ছি।।উনি মুচকি হেসে আমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলেন-
.
আমার বুকের বা পাশে মাথা রাখো একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আছে ওখানে।।রাখো..
.
আমি বাধ্যমেয়ের মতো উনার বা পাশে মাথা রাখলাম।।ধুপধুপ ধুপধুপ শব্দ হচ্ছে ক্রমাগত।।অনেক ফাস্ট বিট করছে উনার হার্ট।।আমার কাছে সাউন্ডটা মিউজিকের মতো লাগছে।।আচ্ছা এই সাউন্ডে কি কোনো গানের মিউজিক হতে পারে?? হঠাৎ উনি কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠলেন…” এখনো ভয় করছে??” আমি খেয়াল করলাম আমার আর ভয় লাগছে না।।একটুকুও ভয় লাগছে না।।আমি মাথা নেড়ে না বলতেই উনি বলে উঠলেন-
.
মাথা নাড়ো কেন??মুখে বলো…. আর বোবা হয়ে যেও না প্লিজ।।স্পিক আপ।।
.
ভয় পাচ্ছি না।
.
আমার কথায় শুভ্র হাসলো।।সাহেল ভাইয়ার মুখের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারছিলাম না৷ কারব্ণ উনি কারের বাইরে আমার অপজিটে দাড়িয়ে আছেন।সাহেল ভাইয়া কাজ শেষ করে যেতে নিলেই শুভ্র তাকে খাবার পাঠানোর কথা বলে দিলেন।।সাহেল ভাইয়াও মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে চলে গেলেন।।আমিও সোজা হয়ে বসলাম,,খুব লজ্জা লাগছে আমার।।এতোক্ষণ আমি উনার এতো কাছে ছিলাম ভাবা যায়??কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা ছেলে এলো খাবার নিয়ে।।খাবারটা এগিয়ে দিয়েই হাসিমুখে বলে উঠলো…
.
সরি ভাই লেইট হয়ে গেছে।।(আমার দিকে তাকিয়ে) আসসালামু আলাইকুম ভাবি!!ভালো আছেন??
.
আমি জবাব দেওয়ার আগেই শুভ্র বলে উঠলো…”ও ভালো আছে।।তুই এখন যা রাতুল।।” কিন্তু বাদ সাধলাম আমি।।ছেলেটাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলাম…
.
এক মিনিট এক মিনিট!!!এই শুভ্র ভাই আপনার কি হয়??
.
জি ভাই লাগে।।
.
তাহলে শুভ্র ভাইয়ার বোন আপনার কি লাগবে??(ভ্রু নাচিয়ে)
.
বোন লাগবে।।
.
বোন লাগলে আমায় ভাবি ডাকেন কোন এংগেল থেকে??আমি উনার বোন হই৷ সো নেক্সট টাইম ভাবি ডাকলে খবর আছে যান।।
.
জি ভাবি।(মাথা নিচু করে)
.
আবার ভাবি??(রাগী চোখে)
.
সরি ভাবি!!
.
আবার??
.
এই রাতুল তুই যা তো…গো
.
ছেলেটা দুই সেকেন্ড না দাঁড়িয়ে দিলো দৌড়।আমি উনার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে উঠলাম-
.
ওকে যেতে দিলেন কেন??
.
তো বেঁধে রাখতাম??তোমাকে তো জাস্ট ভাবিই ডাকছে।এমন ভাব করছো যেন,, ওর ভাবি ডাকাতে তুমি ওর ভাইয়ের বাচ্চার মা হয়ে যাচ্ছো।।স্টুপিড।।
.
ইচ্ছে তো করছে একে খুন করে ফেলি।।তবু চুপ করে গেলাম।।আপাতত ক্ষুধা লাগছে,, একে পড়ে দেখা যাবে।।
.
.
আমি খাচ্ছি।। আর উনি গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে গেমস খেলছেন।।নিচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরে কপাল কুঁচকে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন।।আমি উনার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলাম-
.
শ্রেয়াকে আজ কেমন লাগছিলো??
.
আমার কথায় ভ্রু কুচঁকে আমার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন- “শ্রেয়া কে?” উনার কথায় আমি চরম অবাক।।একটু আগে নাম পরিচয় শুনে এখনি ভুলে গেছেন।।আজব।।আমি উনার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলাম-
.
একটু আগে যে মেয়েটার সাথে কথা বলছিলেন।।তার নাম শ্রেয়া।।
.
ওহ।।
.
উনার “ওহ” শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।।তবু নিজেকে শান্ত রেখে বলে উঠলাম- “শাড়িতে অস্থির লাগছিলো না??পুরাই কিউটের ডিব্বা”
.
শাড়ি পড়েছিলো নাকি??(গেইম খেলতে খেলতে)
.
আপনি এটাও খেয়াল করেন নি ও কি পড়েছিলো??এতোক্ষণ কথা বলেও আপনি ওর ড্রেস খেয়াল করলেন না??
.
ওর ড্রেস খেয়াল করে আমার কি লাভ বলো তো??কোনো দরকার আছে??ও জামা পড়ুক,,শাড়ি পড়ুক,,চাইলে কিছুই না পড়ুক।।আই ডোন্ট কেয়ার।।
.
উনার কথা শুনে আমি ফিট।।থেংক গড শ্রেয়া এখানে নেই।। নয়তো মেয়েটা সুইসাইড করতো।।যার জন্য এতো সাজুগুজু সে নাকি তাকে খেয়ালই করে নি কি পড়েছিলো।।ভাবা যায়??আমি খাওয়া থামিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম-
.
মিস করলেন…এতো সুন্দর মেয়েকে চোখের সামনে রেখেও দেখলেন না।।কি সুন্দর লাগছিলো….
.
হুমম অনেক সুন্দর লাগছিলো…এলোমেলো চুল,,ঘুমু ঘুমু চোখ।।মাথায় জড়ানো ওড়নার লাল আভা….পাগল যে হয়ে যাই নি।।সেটাই তো অনেক রোদপাখি…(আনমনে)
.
কি বললেন??(ভ্রু কুচকে)
.
ক..কই কিছু না তো??(থতমত খেয়ে)
.
আমি তো শুনলাম…আপনি বললেন এলোমেলো চুল।।ওর চুল গোছানো ছিলো।।এলেমেলো ছিলো নাহ….
.
চুপচাপ খাও তো।।আমার যাকে দরকার তাকে দেখতে পেলেই হলো।।শ্রেয়া প্রেয়া কে দিয়ে কি করবো??
.
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি।।তারমানে মেয়েটা শ্রেয়া নয়।।তাহলে কি চিত্রা???নো নো….অবশেষে চিত্রা??চিত্রা ঠিকই বলেছিলো…জামাই হতে কতোক্ষন??সত্যিই তাই জামাই হতে কতক্ষণ? দীর্ঘশ্বাস!!!
.
#চলবে🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *