তোকে চাই || সিজন -২ || Part_18 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 18
.
.
🍁
.
কফি হাতে ছাদের দোলনায় বসে আছি।। মাথা ধরেছে।এই মুহূর্তে মাথা ধরা ভাবটা হালকা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করবে।তাই আগে থেকেই আয়োজন করে বসে আছি। মাথা ব্যথার কারণটা না জানলেও এর লক্ষণটা স্পষ্ট।। প্রথমে বিনা কারণে মন খারাপ হবে…. মন খারাপ ভাবটা চূড়ান্ত আকার ধারণ করলে শুরু হবে মাথা ব্যাথা।।যাকে বলে প্রচন্ডরকম মাথা ব্যাথা।।দোলনায় মাথা ঠেকিয়ে একদৃষ্টে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।।রাতের আকাশটাকে উজ্জল করে ফুটিয়ে তুলেছে ওই চাঁদ।।সবার থেকে সুন্দর,,প্রাণবন্ত…ঠিক শুভ্র ভাইয়ার মতো।।আচ্ছা? উনি কি সত্যিই চিত্রাকে পছন্দ করেন?করারই কথা না করে যাবেন কোথায়??চিত্রা যে অসম্ভব রূপবতী একটা মেয়ে।।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে বসে কফির কাপে চুমুক দিলাম।।চিত্রাকে শুভ্র ভাইয়ার বউ হিসেবে খারাপ লাগবে না বরং অসাধারণ মানাবে।আমার ভাবি হিসেবে তো পার্ফেক্ট।।কি মনে করে কল দিয়ে বসলাম চিত্রাকে….
.
হ্যালো!!
.
শুভ্র ভাইয়া শ্রেয়াকে নয় তোকে পছন্দ করে চিত্রা!!
.
আমার মুখে হঠাৎ এমন কথা শুনে অবাক হলো চিত্রা।।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে উঠলো…
.
আর ইউ মেড??আমাকে কেন পছন্দ করতে যাবে বল তো।।
.
তুই যে সুন্দরী পছন্দ না করে কই যাবো?(,হালকা হেসে)
.
শোন রোদ??এসব ফাউল কথা বাদ দে।।ভাইয়া যদি ভার্সিটিতে আমাদের চিনা পরিচিতদের মাঝে কাউকে ভালোবাসে তাহলে সেটা তুই,, নয়তো কেউ না।।ভাইয়া তোর কতো কেয়ার নেই দেখেছিস?
.
শাট আপ চিতা বাঘ।তুই কেয়ার কই দেখলি?অপমান ছাড়া কিছু করেছি উনি??যত্তসব!!
.
তুই কি জানিস? ফারুক নামের ছেলেটা ১০ দিন যাবৎ আইসিইউ তে।এখনো নাকি কোমায়….বুঝতে পারছিস ওর এই পরিনতির কারণ?
.
হুমম…নিশ্চয় শুভ্র ভাই মেরেছে।ঠিকই করেছে,, সাকিবকে মারার সাজা।
.
তোর কি মনে হয় না?শুধু সাকিব না অন্যকারো দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাজা দেওয়া হয়েছে তাকে।
.
উনি মেয়েদের রেস্পেক্ট করেন।আমার জায়গায় অন্যকেউ থাকলেও তাই করতেন….
.
রোদ?কেউ ইচ্ছে করে বুঝাতে না চাইলে তাকে বুঝানো সম্ভব নয়।।কোনো কালেই নয়।।তুই কেনো মানছিস না হি লাইকস ইউ।
.
আজগুবি কথা মানা উচিত না চিত্রা।।আমার মধ্যে এমন কিছুই নেই যাতে শুভ্র ভাইয়ের মতো ছেলে আমার প্রেমে পড়বে।।এনিওয়ে কথা বলতে ভালো লাগছে না বাই!!
.
আরে..কিন্তু!!
.
চিত্রাকে কিছু বলতে না দিয়েই ফোনটা কেটে দিলাম আমি।।ওর এসব অবিশ্বাস্যকর কথা শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার।।একটুকুও না।।কেন ভাবছি আমি এতো??গোল্লায় যাক সব…যাকে ইচ্ছে ভালোবাসুক শুভ্র ভাই…যাকে ইচ্ছে বিয়ে করুক।আমার তো কোনো যায় আসে না।।তবু কেনো বুকে চাপা কষ্ট হচ্ছে… মনে হচ্ছে সব ভেঙে গুড়িয়ে ফেলি।।চিৎকার করে কান্না করি…তাতে হয়তো কষ্টটা একটু হলেও লাঘব হবে!!হঠাৎ ছাদের দরজায় পায়ের শব্দে ফিরে তাকালাম….বাবা!! বাবা আমার দিকে হাসিমুখে এগিয়ে এসে দোলনার একধারে বসে বলে উঠলো…
.
মামনি?তুই কি বড় হয়ে গেছিস?
.
বাবার এমন উদ্ভট প্রশ্নে অবাক চোখে তাকালাম।।বাবা হাসিমুখে আবারও বলে উঠলেন-
.
মেয়ে বিয়ে দেওয়ার মতো কষ্টের আর কিছু এই দুনিয়াতে নেই বুঝলি।মনে হয় কলিজাটা কেটে অন্যকাউকে দান করে দিচ্ছি।তবুও দিতে হয়….মেয়ের বাবারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অসহায়!!
.
এভাবে বলছো কেন বাবা??
.
এমনি ইচ্ছে হলো…এনিওয়ে মামনি..? তোর মামু এসেছে।।রুহির বিয়ের কথা হবে মে বি।দেখতে দেখতে কিভাবে বড় হয়ে গেলো বুঝতেও পারলাম না।তুইও হুট করে বড় হয়ে যাবি নিশ্চয়?(মাথায় হাত রেখে)
.
আমি একদম বড় হবো না বাবা….আর কারো সাথে যাবোও না।। তোমার সাথেই থাকবো(কাঁদো কাঁদো হয়ে)
.
হা হা হা হা রাজপুত্র এলে কি আর রাজকন্যার সে খেয়াল থাকবে মামনি??দেখবে উড়ে চলে গেছো।।আমিও চাই আমার এই মায়াবতীটিকে একটা রাজপুত্র জয় করে নিয়ে যাক।।যে রাজপুত্র রাজকন্যাকে রাজার চেয়েও বেশি ভালোবাসবে….আচ্ছা চল নিচে যাই..সবাই খুঁজবে তো।
.
তুমি যাও বাবা!!আমি একটু পরই আসছি।একটু একা থাকতে চাই।
.
আর ইউ ওকে প্রিন্সেস?
.
হ্যা বাবা….আই এম ওকে..জাস্ট কোথাও একটা জ্বলছে।।(আনমনে) প্লিজ তুমি যাও তো।।
.
ওকে বাবা..যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি চলে আসিস মা…
.
🍁
.
হাতের কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে একদম।। মুখে দিতেই মুখটা কুঁচকে উঠছে তবু মুখে নিচ্ছি বারবার।।অদ্ভুত এক কারণে শুভ্র ভাইয়াকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে আমার।।অসহ্য লাগছে উনাকে।।মনে হচ্ছে উনি আমার সাথে বড়সড় অপরাধ করেছেন যার জন্য শুধু ঘৃণাটায় উনার প্রাপ্য।।এতোদিন তো এমন লাগে নি তাহলে আজ কেন লাগছে??কেন উনাকে ভেঙেচুরে শেষ করে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্চে করছে,, হুয়াই? আমার ভাবনার জগৎ কাঁপিয়ে…দোলনাটা দুলিয়ে কেউ বসে পড়লো পাশে।।বিরক্তি নিয়ে তাকাতেই অবাক হলাম আমি…
.
আপনি??এখানে??
.
উনি হাসি হাসি মুখে গা এলিয়ে বসে বলে উঠলেন-” তো?অন্য কাউকে এক্সপেক্ট করেছিলে নাকি??লাইক সাহেল?”
.
করলেই বা ক্ষতি কি??
.
তোমার প্রত্যেকটা কথায় জ্বালা ধরানো।
.
তাহলে শুনেন কেনো আমার কথা??প্লিজ আপনি এখান থেকে চলে যা।।আমি আপনাকে নিতে পারছি না।
.
কেনো?নিতে না পারার রিজন?(উঠে বসে)
.
আপনাকে দেখলেই আমার কান্না পায়।।ভীষন রকম কান্না।আর এই মুহূর্তে কাঁদতে চাইছি না আমি।।সো প্লিজ গো নাও।
.
উনি আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।কিছুক্ষণ পর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবারও গা এলিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন-” যাবো না ” আমার রাগ লাগছে।মারাত্মক রাগ লাগছে। ইচ্ছে হচ্ছে উনাকে ধাক্কা দিয়ে দোলনা থেকে ফেলে দিই।অসভ্য!! উনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন… ধবধবে সাদা শার্ট গায়ে তারসাথে যোগ হয়েছে চাঁদের মায়াবী আলো…অগোছালো চুলগুলোও যেনো বেশ নিয়ম মেনে অগোছালো হয়ে আছে।ব্ল্যাক জিন্স।।হাতের ঘড়িটাও চমৎকার।। সারাটা শরীর যেনো চকচক করছে উনার।।থুতনির কাছের তিলটাও কতো নিঁখুত।উনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আমার।।নাহ্ এখানে বসে থাকা যাবে না।।কিছুতেই না।।কথাটা ভেবে যেই না উঠতে যাবো ঠিক তখনই একটা কথা মনে পড়ায় আবারও বসে পড়লাম।।উনার দিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধ স্বরে বললাম-
.
আচ্ছা?আপনার ক্রাশ আইকনের আরেকটু ডিটেল বলবেন?শুনতে ইচ্ছে করছে।।
.
আমার কথায় চোখ খুললেন উনি।।আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে সোজা হয়ে বসলেন উনি-
.
ডিটেইল?যেমন?ওর জুতার নাম্বার,,জামার নাম্বার এসব শুনতে চাইছো?
.
একদম না।। কোয়ালিটি জানতে চাচ্ছি।।আই মিন বিহেভিয়ার….
.
ওর কথা বলতে গেলে এক সেকেন্ডে যা বলা যায় তা হলো…সে চরম বোকা।
.
বোকা??(অবাক হয়ে)
.
হ্যা বোকা।এইযে আমি….ভদ্র শান্ত একটা ছেলে ওর জন্য টোটালি ডেস্পারেট হয়ে গেছি।।সেটা ওর চোখে পড়ে না।।কদিন পর যখন আমি ওর জন্য পাগল হয়ে যাবো…পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো তখনও তা তার চোখে পড়বে না।।দুনিয়ার সব কিছু সে বুঝে সব যুক্তি তার কাছে আছে।।শুধু আমার বেলায় বুদ্ধির ঘট তার খালি।।আমার বেলায় সে বাচ্চা অবুঝ….কেনো বুঝে না ভালোবাসি…মারাত্মকরকম ভালোবাসি।।
.
বুঝবে না কেন?,আপনি ওকে সরাসরি বলে দিলেই তো পারেন।।তাহলে সে বুঝতে বাধ্য..
.
সে তবুও বুঝবে না…ওকে যদি সরাসরি বলি(আমার হাতটা টেনে নিয়ে চোখে চোখ রেখে) “ভালোবাসি” অনেক ভালোবাসি।তোমার দেওয়া যন্ত্রণায় দেখো মরে যাচ্ছি আমি।।তোমাকে পাওয়ার লোভে দেখো কতটা লোভী হয়েছি আমি।।তোমার এই চাহনীতে দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।।খালি বুকটা ব্যাথা করে উঠে প্রতিটা রাতে।।একটু কি ভালোবাসা যায় না আমায়??প্লিজজ একটু বাঁচাও আমায়…..নয়তো মরে যাবো।।আমার বাঁচার উপায় তো তুমিই(হাতটা ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে)তখন সে বলবে জানো??,,রিহার্সেল করছেন??শীঘ্রই কাউকে প্রোপোজ করবেন বুঝি??
.
উনার কথায় হুহা করে হেসে উঠলাম আমি। সত্যিই কি মেয়েটা এতো বোকা??উনি আমার দিকে মুগ্ধচোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন,,তৃষ্ণার্ত তার দৃষ্টি।।আমি হাসিটা কোনোরকমে চেপে বলে উঠলাম-
.
আপনি এই বোকা মেয়ের জন্য পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবেন??
.
হুমম ঘুরবো।।এভাবে জ্বালালে শীঘ্রই পাগল হবো আমি।।ভালোবাসার মতো জ্বালা আর কিছুতে নেই রোদপাখি।।নিজেকে ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এই ভালোবাসা।।মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ওকে মেরে ফেলি নয়তো নিজে মরে যাই।।তবুও যদি একটু শান্তি পাই।
.
এমন হয়??(অবাক হয়ে)
.
হুম হয়।।আমি ডিসিশন নিয়ে নিয়েছি।।এই বোকা মেয়েটাকে খুব শীঘ্রই জোড় করে তোলে নিয়ে বিয়ে করে ফেলবো।।
.
জোড় করবেন??(অবাক হয়ে)
.
হ্যা জোড় করবো।।ওর আশায় বসে থাকলে আমায় চিরকুমার থাকতে হবে।তাছাড়া ওকে ছাড়া আমার চলবেও না।।আই নিড হার… আমার প্রতিটি মুহূর্তে আমার ওকে চাই।। আমি তো চিন্তা করেই রেখেছি বিয়ের পর ওকে নিজের হাতের সাথে বেঁধে রাখবো।।কোথাও যেতে দেবো না।।সামনে বসিয়ে শুধু দেখবো তাকে।।ইশশশ…
.
উনার কথায় মন খারাপ লাগছে খুব।।সাথে সাথে মেয়েটার প্রতি জেলাস।।কতো লাকি মেয়েটা যে তাকে শুভ্র ভাই এত্তো ভালোবাসে….আবারও কান্না পাচ্ছে আমার।।উফ্ কি অসহ্য যন্ত্রনা।
.
#চলবে🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *