তোকে চাই || সিজন -২ || Part_23 or 24 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 23
.
.
🍁
.
চিত্রার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম।হঠাৎ গিটারের টুনে ফিরে তাকালাম।স্টেজের দিকে উঁকি দিয়ে দেখি শুভ্র ভাইয়ার হাতে গিটার।।ফোনটা কেটে স্টেজের একটু কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম… সোনালী সুতোর কাজ করা কালো পাঞ্জাবী পড়েছেন উনি…হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত গুটানো।।সিল্কি চুলগুলো কপালে পড়ে আছে।।হাতে সবসময়ের মতো ব্র্যান্ডেড ঘড়ি আর ব্রেসলেট।।ফর্সা শরীরে কি মারাত্মক লাগছে এই কালো রং।।ঠোঁটের কোণে ঝুলে আছে সেই দুষ্টামীভরা হাসি।।ইশশশ!!উনি ফ্রেন্ডদের দিকে তাকিয়ে অমায়িক হাসি দিয়েই গেয়ে উঠলেন-
.
বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…(আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে)
চলতে গিয়ে মনে হয় দূরত্ব কিছু নয়
তোমারই কাছেই ফিরে আসি (মুচকি হেসে অন্যদিকে তাকিয়ে)
.
উনি এতোটুকু গাইতেই চারপাশ থেকে ছেলেরা চেঁচিয়ে উঠলো।।সবার মুখে এক কথা-” দিস ইজ ফর ভাবি!!” “দিস ইজ ফর ভাবি”” সাহেল ভাইয়া তো রীতিমতো টেবিলের উপর উঠে শিষ বাজাচ্ছেন।।
ওদের অবস্থায় আমি লজ্জায় লাল।।শুভ্র ভাইয়াও হেসে চলেছেন ওদের কথায়।।হাসিমুখে আবারও গিটার বাজিয়ে গেয়ে উঠলেন উনি…
.
তুমি,,তুমি,,তুমি শুধু এই মনের আনাচে কানাচে
সত্যি বলো না কেউ কি প্রেম হিনা কখনো বাচে??
তুমি,,তুমি,,তুমি শুধু এই মনের আনাচে কানাচে
সত্যি বলোনা কেউ কি প্রেম হিনা কখনো বাচে??
বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…(উনি লাজুক হেসে আমার দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ঘুরিয়ে নিলেন।)
.
মেঘের খামে আজ তোমার নামে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিও,,তুমি মিলিয়ে নিও খুব যতনে তা লিখেছিলাম।।
মেঘের খামে আজ তোমার নামে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিও,,তুমি মিলিয়ে নিও খুব যতনে তা লিখেছিলাম।।
.
এটুকু গাওয়ার সাথে সাথেই একটা পিচ্চি মেয়ে দৌড়ে এসে একটা টিস্যু পেপার আর একটা গোলাপ ধরিয়ে দিলো আমার হাতে।।টিস্যু পেপারে লাল কালিতে লেখা-
.
“❤এই?এতো লজ্জা পেয়ো না প্লিজ।।মরে যাবো,, একদম খুন হয়ে যাবো।।তোমার লজ্জা রাঙা মুখটা দেখতে একদম রসগোল্লার মতো লাগে।।ইশশ..ভুল করে খেয়ে ফেলবো তো।।এই ভুলটা কিন্তু আমি করবোই…আজ নয় কাল।।সো সাবধান!!❤”
.
আমি চোখ বড় বড় করে উনার দিকে তাকাতেই… মুচকি হেসে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়েই গেয়ে উঠলেন উনি-
.
ওওওও চাই পেতে আরো মন পেয়েও এতো কাছে
বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…
মন অল্পতে প্রিয় গল্পতো কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে
ভুলক্রুটি আবেগী খুনসুটি সারাক্ষণ তোমায় ছুঁয়ে রাখে
মন অল্পতে প্রিয় গল্পতো কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে
ভুলক্রুটি আবেগী খুনসুটি সারাক্ষণ তোমায় ছুঁয়ে রাখে….
.
উনি গান গেয়ে নেমে গেলেন স্টেজ থেকে।।আমি লজ্জায় কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছি এক কোনে।।ইশশ কি লজ্জা।।আমার মধ্যেও যে লজ্জা নামক জিনিসটা এতো ভরপুর ভাবে আছে জানায় ছিলো না।।কি অসভ্য ছেলে….একটা গান দিয়েই লজ্জার সাগরে ঢুবিয়ে দিলো আমায়??এখন উনার সামনে কি করে যাবো?ছেলেরা সবাই যে ব্যাপারটা জানে তা ওদের ভাবি ডাকেই স্পষ্ট।।কি লজ্জা…
.
#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 24
.
.
🍁
.
টানা তিনটা ক্লাস করে টায়ার্ড হয়ে চিত্রাকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম। আর ক্লাস করা যাবে না…কিছুতেই না।।চিত্রাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে-চোখে পানি দিলাম।ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে খুবই অদ্ভুত একটা বিষয় দেখলাম। চিত্রা লেডিস ওয়াশরুমের পাশের কোণাটায় দাঁড়িয়ে আছে।সাথে একটা ছেলেও ছিলো যে আমায় দেখেই নিজেকে আড়াল করে নিলো।।অদ্ভুত!! চিত্রার কি কোনো ছেলের সাথে রিলেশন চলে??চললেও আমাকে বলেনি কেন??এসব ভাবছি আর হাঁটছি।চিত্রা ক্যান্টিনে গেছে কোল্ডড্রিংক্স আনতে।।হঠাৎ পাশের মেয়েদের ফিসফিস কথায় দাঁড়িয়ে পড়লাম।।কান খাড়া করে যা শুনলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি।।
.
এই জানিস?আইআর ডিপার্টমেন্টের চিত্রার সাথে আমাদের ক্রাশ বয়ের রিলেশন চলে।
.
কিহ?আমাদের ক্রাশ বয়..মানে শুভ্র ভাই??কেমনে কি?আর তুই কিভাবে জানলি?
.
আরে..আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।ওখানে ওয়াশরুমের কোনায় দাঁড়িয়ে উনারা রোমান্স করছিলেন।।শুভ্র ভাইয়া তো ফ্লার্টিং করার মতো ছেলে না।নিশ্চয় সিরিয়াস।
.
তুই সিউর??(অবাক হয়ে)
.
অবশ্যই!! এই দেখ লুকিয়ে পিকও তুলেছি।
.
কথাটা শুনেই দ্রুত ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।। গলা শুকিয়ে আসছিলো আমার।।মাথাটা ভো ভো করছে।তবু যথেষ্ট শক্তি নিয়েই বলে উঠলাম-
.
এক্সকিউজ মি আপু?কিছু না মনে করলে পিকটা কি আমি দেখতে পারি?প্লিজ?
.
হ্যা অবশ্যই…এইতো দেখো…
.
ফোনটা হাতে নিয়েই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।
যা দেখছি তা কি সত্যি?দেয়ালের সাথে ঠেকে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রা।।শুভ্র একহাত দেয়ালে আরেকহাত চিত্রার কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে আছে।।এর বেশি কিছু দেখার বা বোঝার প্রয়োজন কি আছে?নেই?কিচ্ছু দেখার প্রয়োজন নেই।।কাঁপা হাতে ফোনটা ফিরিয়ে দিয়েই হাঁটা দিলাম।।তখনই চিত্রা এলো….সরাসরিই জিগ্যেস করলাম ওকে….
.
ওই আপুর কাছে তোর আর শুভ্র ভাইয়ার পিক দেখলাম।।সো মাচ ক্লোজ পিক।
.
কি বলিস?(অবাক হয়ে)
.
হুম..ওয়াসরুমের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছিস।
.
ওহহো..সেটা?দেখ মেয়েরা কি ফাজিল!!এদের যন্ত্রনায় দেখি চিপায় চুপায়ও শান্তি নাই।আরে শোন….
.
আমি আর দাঁড়ালাম না।ওদের রোমান্সের বর্ননা শুনার শক্তি এটলিস্ট আমার নেই।।দুদিন আগে হলেও সম্ভব ছিলো কিন্তু এই দুদিনে অনেক কিছুই বদলে গেছে…আমি উনাকে আমার ভালোবাসার অনুভূতি গুলোর সাথে মিশিয়ে ফেলেছিলাম।।যা এখন ভেঙে টুকরো।চিত্রাকেই যদি ভালোবাসেন তাহলে আমার সাথে এতোকিছু কেন??রিভেঞ্জ?? প্রথম দিনের চড়টার রিভেঞ্জ নিলেন হয়তো।।কি ভয়ানক প্রতিশোধ!! সবাই এতোটা নিষ্ঠুর!! মনটা কুঁকড়ে যাচ্ছে ঘৃণায়।চরম ঘৃণা…যে ঘৃণায় একটা মানুষ পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যেতে পারে তেমন ঘৃণা।এতোটা আমার সাথে না করলেও পারতেন উনি।।শুধু শুধু আমার ঘৃণার খাতায় নাম উঠালেন উনি।।ঘৃণা করতে না জানা মেয়েটাকে ঘৃণা করতে শেখালেন।।তার চরম মূল্য দিতে হবে উনাকে…ভয়ানক মূল্য!!! এসব ভাবতে ভাবতেই সামনে শুভ্র ভাইয়াকে দেখতে পেলাম।।হাসিমুখে আমায় কয়েকবার ডাকলো…. কিন্তু উনার ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো রুচি আপাতত আমার নেই…বিন্দু মাত্র নেই।।হঠাৎ করেই আমার হাত চেপে ধরলেন উনি।। এবার আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না আমি।।ঘুরে দাঁড়িয়েই উনার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলাম।।উনি গালে হাত দিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে…..উনার বিস্ময়কে আরো বাড়িয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলাম-
.
সমস্যা কি আপনার?কতোবার বলবো হাত ধরবেন না আমার….ভার্সিটির সিনিয়র বলে যা ইচ্ছে তাই করবেন নাকি?আপনি ভার্সিটির সব মেয়েদের চোখে হিরো হতে পারেন বাট আমার চোখে না।।so stay away from me….এসব লুচুগিরি নিজের প্রেমিকাকে দেখান আমাকে নয়।।
.
কথাটা বলেই হাতটা ঝারি দিয়ে ছাঁড়িয়ে আবারও হাঁটা দিলাম।।বুকটা ভারি লাগছে খুব।। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।।কিন্তু কাঁদবো না আমি,, কেনো কাঁদবো??কার জন্য কাঁদবো??এটা আমার ভুল ছিলো যে আমি উনার আচরণগুলোকে আমার প্রতি পজিটিভ ভেবেছিলাম….উনি তো নিজের মুখে বলে নি৷। তাহলে ওই চিরকুট কেন??নিজের বোকামীর জন্য কারো খেলার অংশ হয়ে গেলাম আমি।।আর মারাত্মকভাবে হেরেও গেলাম।।বাসায় এসেই রুমের দরজা দিয়েছি।।কিচ্ছু আস্ত রাখবো না আমি…সব ভেঙে গুড়িয়ে দিবো আজ।।আমার মনটা যেভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে ঠিক তেমনেই চুরমার হবে সবকিছু।।টেবিলের বই,,আলমারির কাপড়,,বিছানার চাদড়,কম্বল,কোশন সব কিছু ছুড়াছুঁড়ি করেও মন ভরলো না আমার।রাগ কমছে না কিছুতেই।।খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে আমার…সবাইকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে।।ফুলের বাজ…একুরিয়াম সব ভেঙে একাকার।কিন্তু রাগ কমছে না।।এই ভয়ানক রাগ জ্বালিয়ে শেষ করছে আমায়।।দরজায় ধাক্কার শব্দ…কিন্তু সেদিকে আমার নজর কই??আমার নজর তো টেবিলের কোনে পড়ে থাকা ওই ব্লেটটার দিকে।।ব্লেটটা হাতে নিয়েই আঁচড় কাটতে লাগলাম হাতে।।নাহ্… মৃত্যুর আশায় নয়…রাগ কমানোর আশায়।স্বার্থপর চোখের জল তো আসছে না তাই রক্তের সাথেই ধুয়ে যাক সব রাগ।।একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকলো ভাইয়া।।অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।।এসবও আমার দ্বারা সম্ভব??ভাইয়া যেনো বরফের মতো দাঁড়িয়ে আছে।।আপু এসে হাত বেঁধে দিলো আমার।।বাবা-মা কিছু বললো না।।বলার মতো খুঁজেই পেলো না কিছু।।মা-বাবা রুম থেকে বের হতে নিতেই বলে উঠলাম আমি-
.
মা?এই রুমের ভেতরের কথাগুলো যেনো তোমার ভাইয়ের বাড়ি পর্যন্ত না পৌঁছায়।যদি কারো থ্রুো ওরা ব্যাপারটা জানতে পারে তাহলে খুব ভালো করে জানো আমি কি কি করতে পারি।
.
আমার এমন শক্ত কথায় আম্মু বিস্মিত।।কি অদ্ভূত!! আজ আমার সব কথাতেই সবাই বিস্মিত হচ্ছে।।আমার কথায় কি বিস্ময়ের কোনো মেডিসিন মেশানো আছে??
.
🍁
.
দুদিন যাবৎ ভার্সিটি আসছিস না।।কেন আসছিস না?শুভ্র ভাইয়া খুঁজ করছিলো… তোর কি কিছু হয়েছে??
.
হ্যা হয়েছে…দুইটা মেয়ে হয়েছে।।আরেকটা ছেলে হবে…প্রক্রিয়া চলছে…আর কোনো প্রশ্ন??
.
কি বলছিস এসব??
.
সিম্পল বাংলায় তো বললাম।।সাধু ভাষায় তো কিছু বলি নি।
.
তোর কি মন খারাপ রোদ?
.
নাহ…মন খারাপ হবে কেন??কখনো না…রোদের মন খারাপ হয় না কখনো গট ইট??(চিৎকার করে)
.
ওকে ওকে…চেঁচাচ্ছিস কেন?
.
চেচিয়ে আমি বুঝাতে চাচ্ছি আমি বিরক্ত।।এইযে তুই ফোন দিয়েছিস তাতে আমি বিরক্ত।।এই যে একটু আগে শুভ্র ভাইয়ের কথা বললি তাতেও আমি চরম রকম বিরক্ত।।
.
তোর কি শুভ্র ভাইয়ার সাথে কোনো ঝামেলা হয়েছে?ঝগড়া টগড়া কিছু?
.
ওই?শুভ্র কি আমার জামাই??নাকি আমার দশ বাচ্চার বাপ?? ওই ব্যাটার সাথে আমার কিসের ঝামেলা হবে??সব আজগুবি আলাপ আমার সাথে করতে আসবি না।।ফোন রাখ।আর শুন.…আগামী ২ দিন তুই আমার বাসার ত্রিশ সীমানার মধ্যেও আসবি না…কজ আমি আপাতত তোর সাথে কথা বলতে চাচ্ছি না।।
.
কথাটা বলেই ফোনটা কেটে অফ করে দিলাম।তখনই দরজায় কড়া নড়লো।।বিরক্তির সাথে বলে উঠলাম-
.
কে??
.
সাথে সাথেই ওপাশ থেকে আপু বলে উঠলো…
.
শুভ্র এসেছে।।তোর সাথে ইম্পোর্টেন্ট কথা আছে নাকি।।দরজা খোল।
.
আপু?আমি কোনো প্রেসিডেন্ট নই যে আমার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকবে।।আমি সাধারণ একটি মেয়ে।।সাধারণ ভাবেই বলছি…তোমার বর্তমান মামাতো ভাই আর হবু দেবরকে বলো উনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা শোনার ইচ্ছা বা আকাঙ্খা আমার নেই।।সো জাস্ট লিভ।।
.
.
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মুড়ি চিবোচ্ছি…আর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।ঠিক তখনই আবারও দরজায় টোকা পড়লো।ওপাশ থেকে আপু তৈরি হতে বললো।। শপিং এ যাবে।।আমি মানা করেও লাভ হলো না।।তাই বাধ্য হয়েই কালো রঙের একটা জামা নিলাম পড়বো বলে….কি মনে করে জামা রেখে নীল শাড়ি জড়ালাম গায়ে।।আজ সাজবো…মন ভরে সাজবো।।এভাবে নিজেকে ঘরে আটকে রাখার মতে ট্রেজেডি তো হয় নি আমার।।নীল শাড়ি,,নীল চুরি,,কপালে কালো টিপ….চুলগুলো হাত খোঁপা করে বেরিয়ে এলাম রুম থেকে।।সোফায় অভ্র আর শুভ্র ভাইয়া বসে আছেন।আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই উনাদের সাথে বসলাম।।শুভ্র ভাইয়া তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে আমায় গিলে খাচ্ছেন।।এভাবে তাকিয়ে থাকার হলো, আজব!! অভ্র ভাইয়ার সাথে কথা বলতে বলতে প্রায় দশ মিনিট পর উনার দিকে আড়চোখে তাকালাম….উনি এখনও আগের মতো আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন।।যেনো পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কিছু নেই।। গাড়িতে উঠতে যাওয়ার সময় শুভ্র ঘোষনা করলো আজ গাড়ি নয় রিক্সায় যাবেন তারা।।আপু আর অভ্র ভাইয়া খুব খুশি…বিকেলের নরম আলোই প্রেয়সীর সাথে রিক্সায় চলা মানেই রোমাঞ্চকর বিষয়।কিন্তু আমার জন্য তা বিরক্তির ।। কারণ আমার পাশের মানুষটি আমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নয়।। রিকশায় পাশাপাশি বসে আছি….মাঝে আরেকজন বসতে পারবে অনায়াসে !!প্রায় দশমিনিট পর উনি বলে উঠলেন-
.
এদিকে চেপে বসো পড়ে যাবে তো রোদ….
.
কেনো?যেনো শরীর স্পর্শ করতে সুবিধা হয় তাই??
.
রোদদ!!
.
কি? রোদ কি?সত্যি বলছি বলে গায়ে লাগছে বুঝি?
.
রোদ প্লিজ স্টপ।।তুমি ভালো করে জানো আমি ওই টাইপের ছেলে নই।
.
হ্যা আমি জানি আপনি কোন টাইপের ছেলে।।সাচ আ রিভেঞ্জার,,যে রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য কাউকে ভেঙে টুকরো করতেও ভাবে না।।এই যে আমি আপনার পাশে বসে আছি।।জানেন কেমন ফিলিংস হচ্ছে আমার??ঘৃণা লাগছে…প্রচন্ড পরিমান ঘৃনা।।আই জাস্ট হেইট ইউ।।আপনার সাথে কোনোভাবে আমার রক্তের সম্পর্ক আছে ভাবতেই গা গুলাচ্ছে আমার।।
.
আমার কথায় চোয়াল শক্ত হয়ে এলো উনার।।এক ঝটকায় আমার কোমর চেপে ধরলেন উনি।।আমি ছাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছি ক্রমাগত কিন্তু পারছি টা কই??উনি দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন-
.
এত্তো ঘৃনা?? এতো ঘৃনা কি আমার প্রাপ্য?কেনো করছো এমন?কি করেছি আমি?কোন দোষে এমনভাবে পুড়াচ্ছো আমায়?উফফফ…আর সহ্য হচ্ছে না আমার।।দুদিন পরপর তোমার এসব পাগলামো তে আমি অতিষ্ঠ।।তুমি বাচ্চা নও বোঝার ক্ষমতা তোমার আছে….তবু তুমি অবুঝ…আমার যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে সেটা তুমি বুঝো না।।আমার যে মরে যেতে ইচ্ছে করে সেটা তুমি বুঝো না।আর তুমি যা বুঝো সেটা দুনিয়ার আর কেউ বুঝে না।। একটু বুঝতে চেষ্টা করো না কেন তুমি??দম বন্ধ করে মেরে ফেলতে চাও?তাহলে একবারেই মেরে ফেলো না…এতো বনিতা করছো কেন??
.
#চলবে…

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *