তোকে চাই || সিজন -২ || Part_3 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই❤ (সিজন -২)

writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
part: 3

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

ভার্সিটির গেইটে দাঁড়িয়ে আছি।।উদ্দেশ্য শুভ্র ভাইয়াকে সরি বলা।।হুমায়ূন স্যার একটা কথা বলেছেন-” দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে নেই” আমিও ঠিক একই কাজ করতে চলেছি।।শুভ্র ভাইয়া এবং তার গ্যাং হয়তো ধুয়ে দিবে আমায় তবু এতে করে ব্যাপারটা কিছুটা শিথিল হলেও হতে পারে।।আপুর ধারনা দোষটা আমার,, অনেক ভাবার পর আমিও বুঝতে পারছি দোষটা আসলেই আমার সো সরি টা বলা উচিত।।আর এই উদ্দেশ্য কে সামনে রেখেই আধ ঘন্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি মেইন গেইটে।কিন্তু শুভ্র ভাইয়ার খবর নেই।।চিত্রা মুখ কাচুমাচু করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।।ওর মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে কিছু বলতে চায়।।নিচের ঠোঁটটা চেপে ধরে ভ্রু কুচঁকে ওর দিকে তাকিয়েই বলে উঠলাম-
.
কিছু বলবি??হাপাঁনির পেশেন্টের মতো এভাবে ছটফট করছিস কেন?
.
দোস্ত? শুভ্র ভাইয়া যদি বকা দেই তাহলে??আর ওর সাথে তো উনার হারামি ফ্রেন্ডগুলো আছেই।।এগুলো শুভ্র ভাইয়ার থেকেও ফাজিল।।শুভ্র ভাইয়া কখনো মেয়েদের সাথে মিসবিহেভ করে না।।তোর সাথেও করতো না আমি সিউর কিন্তু তুই উনার গালে চড়টা মেরেই ফেঁসে গেলি।।
.
এই শুভ্র ভাইয়ার চামচা চুপ থাক তো,, এতো ভ্যা ভ্যা করিস না।।বকা এমনিও দিবে ওমনিও দিবে। সো চিল মার।
.
আমাদের কথার মাঝেই বাইক ছুটিয়ে চলে এলেন শুভ্র ভাইয়া।।চিত্রা তো রীতিমতো “হা” করে তাকিয়ে আছে।আমারও সেই একই অবস্থা।।”পোলা তো নয় সে তো আগুনের গোলা রে” মমতাজ আন্টি এই লাইনটা উনাকে ডেডিকেট করার জন্যই হয়তো গেয়েছিলেন।।রেড কালার বাইকে ফুল ব্ল্যাক ড্রেসআপে বসে আছেন উনি।মনে হচ্ছে কোনো শোকসভায় এসেছেন।।তবে যায় বলি না কেনো উনাকে যে একদম চকলেট বয় লাগছে তা স্বীকার করতে আমি বাধ্য।।কোনোরকম নিজের চোখটা সরিয়ে নিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সব মাইয়াই যে যার জায়গায় হ্যাং মেরে দাঁড়িয়ে আছে।।মুখের “হা” এর সাইজ অনুযায়ী দুই তিন কেজি মশা ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে অনায়াসে।। শুভ্র ভাইয়া পার্কিং এ বাইকটা রেখেই চাবিটা পকেটে ঢুকিয়ে ধীর পায়ে আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।।এমন একটা ভাব যেনো আমাদের দেখতেই পান নি।। এটিটিউট দেখলে বাঁচি না।।নিজেকে কি জন আব্রাহাম মনে করে নাকি??যত্তোসব আবুল কোথাকার।।এদিকে চিত্রা আমায় গুতিয়েই চলেছে।।ওর গুতাগুতি দেখে মনে হচ্ছে আমার হাতের চামড়াগুলো তুলে ফেলায় ওর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।। বিরক্তিমাখা চাহনী দিয়ে তাকিয়েই বলে উঠলাম- “কি সমস্যা তোর?”
.
আরে ভাইয়া কে ডাক দে নয়তো সরি বলবি কেমনে??
.
আমি বললাম, “তাইতো”। চিত্রাকে নিয়ে হাঁটা দিলাম শুভ্র ভাইয়ার পিছু পিছু।।কিছুটা এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো শুভ্র ভাই।উনি উনার ওই হারামি বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে কিছু একটা নিয়ে হাসছেন।।আহা! কি মারাত্মক হাসি।।আবারও ক্রাশ খেলাম বলে মনে হচ্ছে।ছেলেরা এতো সুন্দট হয় নাকি??যায়হোক ক্রাশটা মুহূর্তেই হজম করে নিলাম।।হাজার মেয়ের ক্রাশের প্রেমে পড়া যাবে না।।তাতে ওয়েটিং লিস্টে থাকার চান্স আছে আর রোদ কখনও ওয়েটিং লিস্টে থাকতে রাজি নয়।।মন এবং প্রাণকে জোড় করে বোঝালাম সে আমার ভাই।।মনপ্রাণ কতটুকু বুঝলো জানি না।।সে নিয়ে মাথাও ঘামালাম না তেমন।।হালকা পায়ে উনাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।।ঠিক তখনই সাহেল ভাইয়া দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলেন-
.
আরে সানশাইন নাকি?বাহ দোস্ত! সকাল সকাল বাঁশ খেতে চলে এসেছে রে।
.
শুভ্র ভাইয়া ডেবিল হাসি দিয়ে কিছু একটা বলতে যাবেন তার আগেই চোখ মুখ খিঁচে বলে উঠলাম…
.
সরি ভাইয়া।।আই এক্সট্রেমলি সরি।।আমার তেমনটা করা উচিত হয় নি।।আই ওয়াজ রং।।বুঝে উঠতে পারি না।।না বুঝেই এমনটা করে ফেলছি সরি ভাইয়া।।(মাথা নিচু করে)
.
সামনে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চোখ তুলে তাকালাম।।শুভ্র ভাইয়া শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।।আরো একটা থাপ্পড় দিয়ে বসবেন কি না কে জানে???কিন্তু আমাকে অবাক দিয়ে উনি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…
.
ইটস ওকে।।
.
আমি তো চরম অবাক।কই কি পোলা??আমার সাথে কেউ এমন করলে তাকে আমি জিন্দিগিতে মাফ করতে পারতাম কি না সন্দেহ আর সে কি না একটা সরিতেই কুপোকাত?আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি।পাশ থেকে নিলি নামের মেয়েটি বলে উঠলো…
.
এতো সহজে মাফ করে দিলি শুভ্র??তোর এই দয়া দেখে আমার সুইসাইড করতে ইচ্ছে করে…
.
তো করে ফেল মানা করেছে কে?তবে নীলি আগে রোহানকে বিয়ে করার পর সুইসাইড টা করলে ভালো হয় না??আমরা তোর বিয়ের দাওয়াত আর চল্লিশার দাওয়াত দুইটাই খেতে পারি আরকি।।কি বলিস শুভ্র??
.
সাহেল ভাইয়ার কথায় মুচকি হেসে শুণ্ভ্র ভাইয়াও বলে উঠলেন..”একদম”
.
তোদের কি মনে হয়? আমার বিয়েতে তোদের দাওয়াত দিবো??ইম্পসিবল!!! রোহানকেও বলে দিবো যেনো সে তোদের এলাউ না করে।।দরকার হলে এক্সট্রা গার্ড রাখবো।। তবু তোরা এলাউড নস।।হুহ
.
কথাটা বলেই চোখ মুখ লাল করে উল্টো পথে হাঁটা দিলেন নীলি আপু।।বাকি সবাই ব্যাপারটাকে হেসে উড়িয়ে দিয়ে আমার দিকে ফিরে তাকালেন।
.
কি ব্যাপার?দাঁড়িয়ে আছো কেন ক্লাসে যাও।(আমি মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানাতেই) আর হ্যা দোষ করে সরি বলাটা দোষের কিছু নয় বরং দোষটা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটা দোষের।। আই থিংক ইউ ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড।।
.
কথাটা বলেই বন্ধুদের সাথে চলে গেলেন উনি।।আমি উনার যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছি একদৃষ্টে।।এদিকে চিত্রা ননস্টপ উনার সুনাম করেই যাচ্ছে।।কিন্তু কোনো কথায় যেন কানে ঢুকছে না আমার।।শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।।একটা মানুষের মধ্যে এতো ডিফারেন্ট টাইপ এটিটিউট থাকে কিভাব? কাল যতোটা রাগী শুভ্রকে দেখেছি।।আজ ততটাই শান্ত শুভ্রকে চোখে পড়লো আমার।।জাস্ট আ স্ট্রেঞ্জ পারসন।
.
.
🍁
.
.
ভার্সিটি লাইব্রেরীতে দাঁড়িয়ে বই দেখছি।।হাজারও বইয়ের সমারোহ চারদিকে।। তারমধ্যে থেকে একটা বই সিলেক্ট করলাম পড়বো বলে।।কিন্তু হায় নিয়তি! বই ধরে এতো টানছি বাট বইটা আমার হাতে আসছে না।।আজিব কারবার কাহিনী কি?বইটা হালকা কাত করে বইয়ের ফাঁক দিয়ে অপরপাশে উঁকি দিতেই একটা হাত চোখে পড়লো।।সেই ব্যাক্তিও সেইম বই ই নিতে চাচ্ছেন।।লোকটার চেহারা দেখার অসীম কৌতূহল নিয়ে বইটা ছেড়ে দিয়ে পাশের সারির দিকে ঝুঁকে পড়তেই কপালে কারো ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম।।চমকে উঠে অপরের দিকে তাকাতেই দেখি শুভ্র ভাইয়া।।দুজনেই চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছি।।ব্যাপারটা যে আনফরচুনেটলি হয়ে গেছে তা বেশ বুঝতে পারছি।।কিছুক্ষণ ওভাবে থেকে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই দুজন দুদিকে ছিটকে গেলাম।।লজ্জায় লাল হয়ে কোনো রকম ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে এলাম লাইব্রেরি থেকে।।কি ভয়ংকর অবস্থা।।ভাবতেই লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।।থেংক গড কেউ দেখে নি নয়তো কি হতো??
.
.
রিক্সায় চেপে বাড়ি ফিরছিলাম।।হাতে দুটো আইসক্রিম।। আজ আর ক্লাসে মনোযোগ বসবে না তাই এতো আয়োজন করে বাড়ি ফেরা।।মাঝরাস্তায় এসে একটা মধ্যবয়স্ক লোককে চোখে পড়লো।।লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন আর বারবার গাড়ির দিকে তাকাচ্ছেন হয়তো গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে।।কি মনে করে উনার কাছাকাছি এসে রিক্সা থামাতে বললাম।।লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম….
.
আংকেল লিফ্ট লাগবে??
.
লোকটি আমার দিকে তাকিয়েই যেনো চমকে উঠলেন।।কোনোরকম নিজেকে সামলে নিয়েই বলে উঠলেন..
.
অনেক দূরে যেতে হবে রে মা।।তোমার রিক্সায় হবে না।
.
কেনো জানি না উনার “মা” কথাটা আমার বেশ ভালো লাগলো।।বাবা-মা ছাড়া আর কারো মুখে মা ডাক শুনার ভাগ্য কখনো হয়নি আমার।।আমার জানা মতে মার কোনো ভাই বোন নেই।।বাবাও দাদু-দিদার একমাত্র সন্তান সো আত্মীয় স্বজন বলতে গেলে আমাদের কেউই নেই।।যায়হোক উনার মুখে মা ডাকটা শুনেই রিক্সা থেকে নেমে গেলাম।ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম…
.
চাচা? আপনি এই রিক্সা নিয়ে চলে যান একটু সামনেই গ্যারেজ আছে।।এখানে রিক্সা পাওয়া দুষ্কর।আপনি বরং গ্যারেজ থেকে কাউকে নিয়ে আসুন।।ততক্ষণ আমি এখানে ওয়েট করছি।।
.
ড্রাইভার লোকটির দিকে তাকাতেই লোকটি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো,, আর সাথে সাথে রিক্সায় উঠে গ্যারেজের পথে পাড়ি জমালো সে।।আমি মুচকি হাসি দিয়ে উনার দিকে আইসক্রিম বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠলাম,,,”নিন আইসক্রিম খান”।।
.
না রে মা আমি আইসক্রিম খাই না।
.
একটা খেলে কিছু হয় না।।নিন তো।
.
উনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।।আমার হাত থেকপ আইসক্রিমটা নিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
তোমার চেহারাটা একদম আমার ছোট বোনের মতো।
.
তাই নাকি??তাহলে তো দেখতে হচ্ছে।।কোথায় থাকে আপনার বোন?
.
(দীর্ঘশ্বাস ফেলে) জানি না।।
.
কেন??(অবাক হয়ে)
.
প্রায় ২৮ বছর হতে চললো বাবার সাথে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছি।। বাবাও খুব রাগী,, রাগ করেই ত্যাজ্য করে দিলেন আমায়।।চলে আসার সময় বলেছিলেন,,তার শেষ ইচ্ছে এ জীবনে যেন আমার মুখ আর না দেখতে হয়।।তাই আর ফিরা হয়ে উঠে নি কখনো।।বোনটা কোথায় আছে জানি না।।তবে যদিন চলে আসি সেদিন ওর বিয়ে ছিলো।।।কি কান্না করছিলো সেদিন।।কলিজার টুকরা ছিলো সে৷। খুব ভালোবাসতাম ওকে এখনও বাসি।।অনেক খুঁজেছি কিন্তু খুঁজে পাইনি ওকে।।হয়তো স্বামী সংসার নিয়ে ভালোই আছে।।(মুচকি হাসি দিয়ে)
.
হয়তো….দোয়া করি আপনার বোনকে খুব তাড়াতাড়ি খুজে পেয়ে যান।
.
আচ্ছা তোমার নাম কি??
.
রোদেলা।তবে সবাই রোদ বলেই ডাকে।আপনিও রোদ বলেই ডাকতে পারেন।।(মুচকি হেসে)
.
রোদ? সুন্দর নাম।।আর তুমি আমায় মামু ডেকো আমার ভালো লাগবে।।আচ্ছা তোমার মার নাম কি??
.
আম্মুর নাম আরিয়ানা আঞ্জুমান।
.
নামটা শুনেই চমকে উঠলেন উনি,,,আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েই বলে উঠলেন-“অরি”
.
অরি নামে তো নানুভাই ডাকতো মাকে।।কিন্তু আপনি কি করে জানলেন??
.
আমার কথার উত্তর না দিয়ে হুট করেই জড়িয়ে ধরলেন আমায়।।ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবাক।।
.
.
#চলবে🍁
কিশোরী বউ পর্ব-১। স্বামী স্ত্রীর অভিমানী ভালবাসার গল্প

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *