তোকে চাই || সিজন -২ || Part_31 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 31
.
.
🍁
.
সারারাত গল্প মত্ত থেকে এখন সবার চোখই ঘুমে ঢুলুঢুলু। আমি ছাদের কার্নিশ ধরে দাঁড়িয়ে আছি আর আমার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন রহিমা খালা।অজানা কিছু কারণে রহিমা খালা আমায় খুব পছন্দ করেন।এ বাড়িতে এলো আমার আশেপাশে রহিমা খালার থাকা চাই-ই চাই এমনকি আমি ওয়াশরুমে গেলেও উনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন।অনেক ধমকেও উনাকে আমার পিছু ছাঁড়াতে পারি নি।। খেতে বসলে সবচেয়ে বড় মাছটা আমার প্লেটে এলো কি না তা নিয়ে তার ব্যাপক চিন্তা।এমন কিছু আনএক্সপেক্টেড ভালোবাসা বিরক্তিকর হলেও তৃপ্তিকর!!নিচে সাহেল ভাইয়া বিভিন্ন ফুলের ঢালি,, গ্রামের বাচ্চা মেয়ে এসবের ছবি তুলছেন।কি এতো মজা পাচ্ছেন কে জানে??শুভ্র ভাইয়াকেও এক কোণে বসে থাকতে দেখা গেলো… কাগজ হাতে বাজারের হিসাব দেখছেন হয়তো…মেরুন পাঞ্জাবিতে অসাধারণ লাগছে তাকে। আশেপাশে বেশকিছু মেয়ে আর বাচ্চারা কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে উনার দিকে।ব্যাপারটায় যেনো উনি চরম বিরক্ত….চোখ মুখ লাল করে সাকিব ভাইয়াকে কিছু একটা বললেন উনি। কথাটা শুনেই সাকিব ভাইয়া মেয়েদের দিকে এগিয়ে এলো…কিছু একটা বললো কিন্তু কাজ হলো না মোটে।শুভ্র ভাইয়ার এই বিষয়টায় ব্যাপক হাসি পায় আমার…কোনো মেয়ে উনার দিকে তাকালেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় উনার…যেনো সাত রাজার ধন নিয়ে যাচ্ছে তার!! হঠাৎই পেন্সিলটা ঠোঁটে চেপে ধরে পাশে দাঁড়ানো রাতুল ভাইয়ার গালে চড় বসিয়ে দিলেন উনি। রাতুল ভাইয়ার তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে।।এক দুইবার গালে হাত ঘষে সাহেল ভাইয়া দিকে তাকিয়ে ৩২ দাঁত বের করে ছবির মডেল হয়ে গেলেন তিনি…নীলি আপু,রাহি আপু আর চিত্রা আলপনা আকঁছে… চিত্রার পিঠ থেকে শাড়ি সরে গেছে সেদিকে খেয়ালই নেই তার।মেয়েটা এতো বেখেয়ালি কেনো?? নীলি আপুর ছোট চুলগুলো আটকে দেওয়ার দায়িত্ব রোহন ভাইয়ার…বেচারা পাশে চুলের কাটা হাতে বসে আছে… কিভাবে লাগাবে বুঝতে পারছে না নয়তো বা লজ্জা পাচ্ছে খুব।।আমিও খুশি মনে নিচের দিকে হাঁটা দিলাম…..আল্পনা আঁকতে ইচ্ছে করছে খুব!!সিড়ি শেষ করে আঙ্গিনায় পা রাখতেই সাহেল ভাইয়াকে চোখে পড়লো…উনার দিকে এগোতে নিতেই দেখি চিত্রা উনার পেছন ছুঁটছে আর তুমুল গতিতে ঢেকে চলেছে। সাহেল ভাইয়া তুমুল বিরক্তি নিয়ে পেছন ফিরে তাকালেন-
.
কি সমস্যা তোমার?? অলওয়েজ চেঁচাও কেন??
.
চেঁচালাম কই?? আমি তো আপনাকে ডাকলাম।(মুখ গোমড়া করে)
.
ডেকে উদ্ধার করেছেন আমায়!! এখন দয়া করে বলবেন?এই অনুগ্রহ করার কারণ?(হাত জোড় করে)
.
ভাইয়া দেখুন না সাকিব ভাইয়া আমাকে কাল থেকে ডিস্টার্ব করছে।।
.
চিত্রার কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালো সাহেল ভাইয়া তারপর বিরক্ত মুখে সাকিব ভাইয়াকে ডেকে উঠলেন।।সাকিব ভাইয়া পাশে এসে দাঁড়াতেই মুখ বাঁকালো চিত্রা।সাকিব ভাইয়া সেদিকে পাত্তা না দিয়ে বলে উঠলেন-
.
জি ভাই?কোনো দরকার?
.
তুই নাকি চিত্রাকে কাল থেকে ডিস্টার্ব করছিস?কেনো রে?প্রেমে টেমে পড়েছিস?(ভ্রু কুচঁকে)
.
না মানে আসলে ভাই…(মাথা চুলকে)
.
এতো তুতলানোর কিছু নেই। চিত্রা?(চিত্রার দিকে তাকিয়ে) ও তো তোমাকে পছন্দ করে…তোমাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করছে এটাকে ডিস্টার্ব বলতে পারো না।।বেচারা এতো ট্রাই করছে ইম্প্রেস হয়ে গেলেই তো পারো বোন…এই সাকিব?ওকে প্রোপোজ কর…মানা করে দিলে আর ট্রাই মারিস না…বুঝিসই তো সানশাইনের বান্ধবী…আর যদি রাজি হয়ে যা তো একটা ঠান্ডা কোক খাওয়াস তো আমায়….বড্ড গরম পড়েছে রে…
.
কথাটা বলেই ক্যামেরা চেইক করতে করতে উল্টো পথে হাঁটা দিলেন উনি।সাকিব ভাই মুচকি হাসছেন আর চিত্রা হতবাক।তাকে দেখে মনে হচ্ছে হৃদয়ভঙ্গ হয়েছে তার…এমটা আশা করে নি সে।।আমি একটু এগিয়ে গিয়ে গলা খাকারি দিয়ে ডেকে উঠলাম-
.
এই যে মিষ্টার..
.
সাহেল ভাইয়া পাশে তাকালেন। আমায় দেখে মুচকি হেসে পাশে দাঁড়িয়েই বলে উঠলেন-
.
হ্যালো সানশাইন।তোমার প্রকোপে আমি ঘেমে হয়রান….আজ এতো রোদ কেন গো??
.
উনার কথায় হালকা হাসলাম আমি।।উনি পাঞ্জাবির কলার ঝেড়ে আমার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন-
.
মাথা ব্যাথা নাকি তোমার সানশাইন??মুখটা শুকনো লাগছে!!
.
হ্যা হালকা!!
.
শুভ্রকে ডাকবো নাকি??সারিয়ে দিবে একদম(দুষ্টু হাসি দিয়ে)
.
উনার হাসিতে লজ্জা পেয়ে গেলাম আমি। কোনোরকমে বলে উঠলাম-
.
আমার মাথা ব্যাথায় উনার কি কাজ??
.
উনি হাসলেন।আমি আবারও বলে উঠলাম..
.
কাল থেকে দেখছি ছবি তুলছেন।এতো কিসের ছবি তুলছেন শুনি??
.
সবকিছুর ছবিই তো তুলছি।তোমার ছবিও তুলবো.?(কিছু একটা ভেবে) নাহ্ থাক।
.
কেনো??
.
উনি আমার কথার জবাব না দিয়েই বলে উঠলেন-
.
কয়েকবছরের জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছি তাই দেশটাকে আর কাছের মানুষগুলোকে ক্যামেরা বন্ধী করে নিয়ে চলেছি।।তাছাড়া আমি এমনিতেও ছবি তুলতে পছন্দ করি।ভার্সিটিতেও তো আমার হাতে,কাঁধে, ব্যাগে সবসময়ই ক্যামেরা থাকে…তুমি হয়তো খেয়াল করো নি।।শুভ্রকে রেখে আর আশেপাশের দিকে তাকানোর সময় আছে তোমার?(মুচকি হেসে)
.
ছি ভাইয়া!!আমি উনাকে দেখতে যাবো কেন??আর আপনি দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন মানে??
.
স্কলারশিপের জন্য এপ্লাই করেছিলাম হয়ে গেছে।তাই যাচ্ছি ঘুরে আসি।।তোমার জন্য একটা গিফ্ট আছে সানশাইন যাওয়ার দিন দিয়ে যাবো।নিবে তো??
.
জ..জি অবশ্যই।কিন্তু আমার জন্য কেনো?(অস্বস্তি নিয়ে)
.
উনি হাসলেন।প্রসঙ্গটা পাল্টে দিয়ে বলে উঠলেন-
.
পুকুরের পাশের ছবিগুলো অস্থির হয়েছে বুঝলে সানশাইন??সকালের প্রথম রোদের প্রতিফলন…ওদিকটায় ছবি তোলা হয় নি।।আমি যাচ্ছি তুমি থাকো!!
.
🍁
.
চারদিকে রমরমা পরিবেশ।আজ আপুর বিয়ে ভাবতেই ফুরফুরে লাগছে।লাল রঙের শাড়ি পড়েছি আজ…হাতে লাল চুড়ি। ঢালা ভর্তি ফুল নিয়ে আঙ্গিনায় বের হতেই থমকে গেলাম আমি।আমার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে পড়লো রহিমা খালাও।কৌতূহল নিয়ে বলে উঠলেন-
.
কি হইছে ছুডু আম্মা?খাড়ায় পড়লেন ক্যান?
.
সামনে দেখো ওই রাজপুত্র ছেলেটি…বুকটা ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে আমার।
.
রহিমাখালার হাতে ফুলের টুকরিটা দিয়েই বুকে হাত দিয়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগলাম আমি।শুভ্র ও লাল শেরওয়ানি আর ঘিয়া ধুতি পড়েছেন আজ।সিল্কি স্ট্রেট চুলগুলো পড়ে আছে কপালে…হাতে ব্র্যান্ডেড ঘড়ি।।এই অল্পতেই কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে আমার।বুকে চিনচিন ব্যাথা করছে যেনো।।মাথাটা ঝিমঝিম করছে।।রহিমা খালা ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলেন-
.
কি হয়ছে আম্মা? ঠিক আছেন গো?
.
নাহ..রহিমা খালা। একদম ঠিক নেই আমি।এই লাল পাঞ্জাবী পড়া ছেলেটি(বুকে হাত দিয়ে) আমার এখানটায় খুব ব্যাথা দিয়েছে গো।।
.
আমার কথায় আটকে উঠলেন রহিমা খালা…ফিসফিস করে বলে উঠলেন –
.
কন কি আম্মা?কাউরে কইছুন?
.
আমি উত্তর না দিয়ো বললাম। আমায় রুমে দিয়ে আসো তো রহিমা খালা।একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলবো।রহিমা খালা আমায় রুমে দিয়ে আসতেই দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম আমি।।মাথাটা ভনভন করছে আমার…. সবকিছু কেমন ফাঁকাফাঁকা লাগছে আমার।আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারি নি।যখন ঘুম ভাঙলো তখন চারদিকে নিস্তব্ধতা…. বিয়ে বাড়িও কি এতো নিস্তাব্ধ হতে পারে??বিয়ে পর্ব কি তাহলে শেষ?সবাই কি ঘুমিয়ে পড়েছে?কতক্ষণ ঘুমিয়েছি আমি?ইশশ…একটা ঘড়ি দেখতে পেলে বেশ হতো।।এসব ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে বাইরে বের হতেই আমি হতবাক।।বাড়ির আঙিনায় সবাই বসে আছে চুপচাপ।সবার চোখ-মুখে গম্ভীরতার ছাপ।শুভ্র ভাইয়ার মুখটায় শুধু রাগের চিন্হ আর এলাকাবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা।।আমাকে দেখতে পেয়েই সবাই গুঞ্জন শুরু করলো।।মা এসে টেনে মামুর পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন।মামু গম্ভীর শান্ত মুখে বলে উঠলেন-
.
রোদ মা?শুভ্র কি সত্যি তোমার সাথে অসভ্যতামো করেছে?রহিমা আর মজিদ আমাদেরকে ব্যাপারটা বলেছে তবু আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাইছি।
.
মামুর কথায় আমি হতবাক।শুভ্র ভাই অসভ্যতামো করেছে আর আমার সাথে?? কখন?? আমি কনফিউসড হয়ে বলে উঠলাম-
.
মামু?শুভ্র ভাইয়া আমার সাথে অসভ্যতামো করে….
.
এটুকু বলতেই রহিমা খালা হুংকার দিয়ে বলে উঠলেন-
.
কি কন সাহেব?মাইয়া মানুষ কি এসব মুখে কইবো?তাও এত্তোগুলান মানুষের সামনে?আমি আর মজিদ ভাই নিজে দেখছে এই পোলা রে ছুডু আম্মার বুকে হাত দিতে…ছুডু আম্মায় তো দুক্কুও পাইছে এইজন্যই তো এত্তোক্ষন দরজা বন্ধ কইরা বইসা আছিলো।শুধু আমরা ক্যান?এই কমলার মা তুমিও দেখছো না??(চোখ রাঙিয়ে)
.
হ আমিও দেখছি…
.
এরপরও আমাগো কথা বিশ্বাস হইতেছে না?? মাইয়ারে সবার সামনে এসব জিগানো কি ঠিক?
.
সাথে সাথে গ্রামের লোকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা দেখা দিলো।কেউ কেউ বলেও ফেললেন-“না ঠিক না।এইসব অইতো না।।সরকার বাড়ির মাইয়ার লগে পুন্টামী করবো আর ছাইড়া দিমু তা হয়তো না”
.
এদের কথায় আমি স্তব্ধ।কোথা থেকে কোথায় চলে গেছে এরা?আমার বুকে ব্যাথার কথাটাকে এতোটা বিশ্রীভাবে সবার সামনে আনা হবে জানলে…. আড়চোখে শুভ্র ভাইয়ার দিকে তাকালাম উনার চোখে পানি টলমল করছে…রাগে চোখমুখ লাল….আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন উনি-
.
রোদ?তুমি কিছু বলবে না?
.
উনার এই একটা কথায় চোখ ফেটে কান্না পেয়ে গেলো আমার।।কতোটা চাপা অপমান,,কষ্ট আর রাগ নিয়ে কথাটা বলেছেন উনি!! আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিলো…”উনাকে ঘিরে এসব কথা বলো না প্লিজ!! উনি ওমন নন” কিন্তু গলা দিয়ে স্বরই বের হচ্ছে না আমার।এই সাডেন শকটা শরীরে ঝিম ধরিয়ে দিয়েছে আমার।।চোখ দিয়ে পড়ে চলেছে কিন্তু গলা স্তব্ধ…. বড্ড তেষ্টা পেয়েছে আমার।ঠিক তখনই পাশ থেকে বলে উঠলেন রহিমা খালা-
.
সাহেব?ছুডু আম্মায় কানতাছে এইডা দেইখাও বিশ্বাস হইতাছে না আপনার??
.
আমি এবার সাহস নিয়ে কিছু বলতে যাবো তার আগেই আম্মু আমার হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে এলো।।ঘরে এনে বিছানায় ছুঁড়ে মারলো আমায়…আমি উঠে বসতেই গালে জোড়ে সোড়ে চড় বসিয়ে দিলো।আমি গালে হাত দিয়ে মার দিকে তাকাতেই প্রচন্ড রাগ নিয়ে বলে উঠলেন উনি-
.
শুভ্র এমন ছেলে নয় রোদ এটা আমি জানি।ও এমন কিছু করতেই পারে না…তবুও যদি কিছু করে থাকে তাতে তোর দোষই আছে নিশ্চয়।সুযোগ না দিলে সে এমনটা করবে কিভাবে শুনি??নির্লজ্জ মেয়ে…
.
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেলো মা।এবারও কিছু বলার সুযোগ পেলাম না আমি।।মা কি বাইরে থেকে দরজাটা লাগিয়ে দিলো??প্রায় একঘন্টা পর বাবার সাথে একজন বৃদ্ধ করে লোক এলেন…গায়ে সাদা পাঞ্জাবী… মাথায় টুপি।।তার কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারলাম লোকটি কাজি।।কি অদ্ভুত ভাবে কিছু বুঝে উঠার আগেই বিয়ে হয়ো গেলো আমার!! সামন্য ভুল বোঝাবুঝিতেই জীবনটা কোথায় গিয়ে আটকে গেলো আমার।।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ক্রমাগত।।একবার আপু আর চিত্রা রুমে ঢুকার চেষ্টা করেছিলো…তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে মা।।নিজেকে কোন নাটকীয় উপন্যাসের পটভূমি মনে হচ্ছে আমার!!এভাবেও বিয়ে হয়??এটা কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন??
.
#চলবে…

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *