তোকে চাই || সিজন -২ || Part_39 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই
……. (সিজন-২)
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা
#part:39
.
🍁
.
হালকা রোদের ঝিলিকে ঘুম ভেঙে গেলো আমার।তবু চোখ বুজে পড়ে রইলাম বিছানায়….কেমন যেনো সুখী সুখী পরিবেশ চারদিকে।।রুমের প্রতিটি কোণায় এক অচেনা সুগন্ধ…..আমার পাশের বালিশটা থেকেও যেনো সুগ্ধটা বেরিয়ে আসছে নিঃসংকোচে।একটা লম্বা শ্বাস টেনে চোখ মেলে তাকালাম।জানালাটা খোলা।খোলা জানালার গোলাপী পর্দা ভেদ করে এক টুকরো রোদ এসে পড়ছে বিছানার ওই কোনোটাতে…এলোমেলো চুলগুলো কোনোরকম খোঁপায় গুঁজে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।।বাইরে কি ঝকঝকে রোদ….আকাশের মনটা বুঝি খুব ভালো আজ??নীল রঙে চোখ ঝলসে দিয়ে তার কি আনন্দ….হঠাৎ কি ভেবে কপাল কুঁচকে এলো আমার…শুভ্র!! শুভ্রর কথা মনে পড়তেই চোখ ঘুরিয়ে চারপাশে দেখতে লাগলাম…কোথাও নেই…ওয়াশ রুম,,,ড্রয়িংরুম কোথাও না….তাহলে গেলো টা কই??একজন জ্বলজ্যান্ত মানুষ তো এভাবে উদাও হয়ে যেতে পারে না….তারওপর উনি অসুস্থ!! এসব ভাবতে ভাবতে কপালটা হালকা কুঁচকে মার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।। মা ডাইনিং এ খাবার দিচ্ছিলেন…আমাকে এভাবে সামনে দাঁড়াতে দেখেই ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন –
.
কি রে? এভাবে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে পড়লি কেন??সর সামনে থেকে….
.
মার কথায় পাত্তা না দিয়ে টেবিলে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েই বলে উঠলাম –
.
উনি কোথায় মা?
.
মা আবারও ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।।মার চাহনী দেখে মনে হচ্ছে এমন অদ্ভুত কথা এ জীবনে দ্বিতীয়বার শুনেন নি তিনি।
.
উনিটা কে?
.
তোমার ভাতিজা….(বিরক্তি নিয়ে)
.
ওহ শুভ্র?ও তো চলে গেছে…
.
চলে গেছে মানে??(চেঁচিয়ে) ও চলে গেলো আর তুমি যেতে দিলে??কাল ডক্টর কি বলেছে শুনো নি??ইউ আর সো ইরেসপন্সিবল আম্মু।(বিরক্ত হয়ে)
.
তুই তো খুব রেসপন্সিবল তাই না??সাড়ে এগারোটা বাজতে চললো এখনও পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছিস….ডক্টর কি বলেছে খুব মনে আছে আমার…কিন্তু তোরা আমার কথা শুনলে তো??ভার্সিটিতে কাজ আছে…অফিসে মিটিং আছে কতো কাজ তার।।ছেলেটা কাজ করতে করতেই মরে যাবে দেখিস….রেস্ট নিতে তো ভুলেই গেছে…কোনো কথা শুনে না….শুধু কাজ কাজ আর কাজ।।আরে বেঁচে না থাকলে কাজ দিয়ে কি করবে শুনি??
.
মার কথাগুলো এই মুহূর্তে খুবই বিরক্ত লাগছে আমার।।তাই কোনোরকম কথা না বলে রুমের দিকে হাঁটা দিলাম,,, মার এই ভাঙা টেপরেকর্ডার আজ সারাটা দিনই যে চলবে তা বেশ বুঝতে পারছি আমি।।বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছি….. নিজের উপরই রাগ লাগছে এবার…কি দরকার ছিলো এতো ঘুমানোর??ঘুমিয়ে কি দুনিয়া অধিকার করে নিয়েছি??নেই নি…তাহলে কেনো এতো ঘুমালাম?হুয়াই?আর উনিও বা কেমন??আমাকে একটিবার ডাকবেন না??আমাকে ডাকা কি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না??অবশ্যই পড়ে!!হঠাৎ বালিশের নিচে চোখ যেতেই দেখি,,, ভাজ করা একটা কাগজ।।অসীম আগ্রহ নিয়ে কাগজটা মেলে ধরতেই অবাক হলাম আমি…..পরিষ্কার সুন্দর গোটা গোটা অক্ষরে লেখা-
.

এইযে রোদেলা দুপুর,
আজকের সকালটা কিন্তু তোমারই রঙে রেঙেছে,,দেখেছো তো??তোমার মতোই প্রাণবন্ত চারপাশ…খুব ইচ্ছে ছিলো ডেকে তুলি তোমায়…কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোমার এই ঘুমন্ত মুখটার মায়ায় পড়ে আর ডাকা হয়ে উঠলো না।।সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমায় পাশে পেয়ে বেশ অবাক হয়েছিলাম আমি।।ভেবেছিলাম তুমি কিভাবে??তারপর বুঝলাম তুমি নয় আমিই ছুটে এসেছি তোমার কাছে…জ্বরের ঘোরে খুব বেশি পাগলামো করেছি বুঝি??কিচ্ছু মনে করতে পারছি না….এখানে যে কিভাবে এসেছি তাই ভুলে গিয়েছি আমি।।ফুপ্পির সামনে কতোটা লজ্জায় পড়তে হয়েছে জানো ??ছিহ কি ভাবছেন উনি….সবকিছু তোমার জন্য…কেনো এতো পাগল করেছো আমায়??আমার পাগলামোটা আর না বাড়িয়ে ভার্সিটি এসে মহারানীর এই মিষ্টি হাসিটা দেখার সুযোগ করে দাও না প্লিজ!!
শুভ্র
.
🍁
.
ভার্সিটি চত্তরের বটতলায় বসে আছি আমি আর চিত্রা।।ভ্যাপ্সা গরমে দু’জনেই অস্থির প্রায়…চিত্রার চোখে-মুখে চরম হতাশা….দেবদাস পারুকে না পেয়ে যতটুকু হতাশ হয়েছিলো তার থেকেও বেশি হতাশা চিত্রার বুকে।।ফুস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো সে-
.
দোস্ত?এই ভার্সিটিতে কি কোনো হ্যান্ডসাম ছেলে অবশিষ্ট নাই?বিশ্বাস কর দোস্ত এই এক ঘন্টা যাবৎ যে মনোযোগ দিয়ে আমি গেইটের দিকে তাকিয়ে ছিলাম লেকচারেও তেমন মনোযোগ দিই না কিন্তু ফলাফল শূন্য একটা কিউট ছেলেও নাই সব বাদাম্ম্যা….
.
তুই কি হ্যান্ডসাম ছেলেদের নিয়ে জরিপে নেমেছিস নাকি??হ্যান্ডসাম ছেলে দিয়ে কি করবি?(অবাক হয়ে)
.
কি করবো মানে?ছেলে দিয়ে মেয়েরা কি করে??বিয়ে করে….সো আমিও বিয়ে করবো।।শালার এপর্যন্ত যত পোলাদের চোখে পড়ছে সব বুকড।।এসেই ক্রাশ খাইলাম শুভ্র ভাইয়ের ওপর…ক্রাশ খাওয়ার লাস্ট স্টেজে এসে…ভাইয়য়য়য়া থেকে সুন্দর করে হয়ে গেলো দুলাভাই।।আহ্ কি কষ্ট!!(বুকে হাত দিয়ে)তারপর সাহেল ভাই…পুরাই চকলেট বয়…মাশাআল্লাহ একদম চকলেটের ডিব্বা।।বাট সেই চকলেটও কোন আইসক্রিমের টানে চলে গেলো ইউএস….রোহন ভাই তো নীলি নীলি করেই বাঁচে না।।সাব্বির ভাইও দেখি রাহি আপুর সাথে ফুসফুস করে….সব কটার জিএফ আছে….আমিই একমাত্র হতভাগী রে রোদু!!আমায় সান্ত্বনা দে…
.
চিত্রার আহাজারিতে পেট ফেটে হাসি পাচ্ছে আমার।।কিন্তু হাসলে তো চলবে না….আমার মুখ থাকতে হবে দুঃখী দুঃখী….. ফ্রেন্ডের সিংগেল জীবনের কষ্টে দুঃখিত হওয়া আমার কর্তব্য।।আপাতত কর্তব্যটা সাইডে রেখে দুষ্টু হাসি দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠলাম আমি-
.
দোস্ত?সাকিব ভাই কিন্তু এক্টিব…আই মিন উনি এখনো সিংগেল….তুই যদি বলিস ত…

.
আমি এটুকু বলতেই চিত্রা যেনো লাফিয়ে উঠলো।। রাগী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো –
.
ওই বলদ??চড় না খেতে চাইলে ওই পোলার নাম মুখে নিবি না আমার সামনে….কি বিশ্রী করে ডাকে আমায়….চিতল সুন্দরী!!এটা কোনো নাম??আস্ত বিরক্তির ডিব্বা একখান…দেখলেই শুট করে দিতে মন চাই…উফফ!!
.
চিত্রার কথায় খিলখিল করে হেসে উঠলাম আমি…ঠিক তখনই পাশ থেকে কেউ একজন ভাবি বলে ডেকে উঠলো।।আমি পাশ ফিরতেই সাকিব ভাইকে চোখে পড়লো…উনি হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন …. হাতে দুটো কোল্ড ড্রিংকের ক্যান….আমাকে দেখে আবারও বলে উঠলেন উনি-
.
আসসালামু আলাইকুম ভাবি..
.
ওয়ালাইকুমুস সালাম ভাইয়া…কেমন আছেন?
.
আলহামদুলিল্লাহ ভাবি। আরে চিতল সুন্দরী না?কেমন আছো?
.
সাকিব ভাইয়ের কথায় মুহূর্তেই অগ্নিমূর্তি ধারন করলো চিত্রা।।রাগী চোখে উনার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙিয়েই অন্যদিকে তাকালো সে….চিত্রার রিয়েকশনে হেসে উঠলো সাকিব ভাইয়া।।আবারও আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন –
.
ভাবি?ঠান্ডা খান…আজকে তো প্রচুর গরম..
.
না ভাইয়া লাগবে না…ঠিক আছি..(মুচকি হেসে)
.
ভাই দিতে বলছে…ভাই এখন ওই চারতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে….আপনি না নিলে স্ট্রেট থাপ্পড় পড়বে আমার গালে…প্লিজ ভাবি!!
.
আমি একটা ছোট্ট নিশ্বাস ফেলে ক্যানটা হাতে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম…কোথায় উনি??জ্বর কমেছে কি উনার??সাকিব ভাইয়ের কথায় ঘোর কাটলো আমার…. উনি চিত্রাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন-
.
চিতল সুন্দরী?দিস ইজ ফর ইউ….
.
আমার লাগবে না…আপনি যান তো এখান থেকে…(বিরক্ত হয়ে) আর খবরদার চিতল সুন্দরী ডাকবেন তো এই ইট তুলে মাথা ফাটিয়ে দিবো বলে দিলাম।
.
আরে নাও না…ভাই ই কিনে দিছে…আমি কিনি নাই…
.
আপনি যাবেন???(রাগী গলায়)
.
ওহহ চিতল সুন্দরী চেতলে তোমায় সেই লাগে…
.
কথাটা বলে আমার দিকে তাকিয়েই থতমত খেয়ে গেলেন উনি।জোড় করে হাসার চেষ্টা করে আমার হাতে দ্বিতীয় ক্যানটি দিয়েই বলে উঠলেন…
.
ভাবি যাই!!
.
কথাটা বলেই দুই সেকেন্ড দেরি না করে দৌড় লাগালেন উনি…এদিকে চিত্রা দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে চলেছে ক্রমাগত….ওকে নিয়ে ক্যাফিটেরিয়ার দিকে এগিয়ে যেতেই হুট করে সামনে এসে দাঁড়ালেন শিশির স্যার।।স্যারকে এভাবে সামনে আসতে দেখে দুজনেই চমকে উঠলাম।।এই ব্যাটার আবার কি চায়??চিত্রার চোখে মুখেও বিরক্তি স্পষ্ট…. স্যার আমাদের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসলেন…আমিও জোড়পূর্বক হাসি দিয়ে বললাম-
.
আসসালামু আলাইকুম স্যার..
.
ওয়ালাইকুমুস সালাম।কেমন আছেন আপনারা?
.
জি স্যার ভালো!
.
কিছুক্ষণ নিরব থেকে আবারও বলে উঠলেন উনি-
.
আপনারা কি ফ্রি এখন?আই মিন ক্লাস নেই?
.
না স্যার…আজ আর ক্লাস নেই…
.
ওহ গ্রেট!!(খুশি হয়ে)
.
উনার মুখের এতো খুশি খুশি ভাব আমাদের ঠিক হজম হলো না।।দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে আবারও স্যারের দিকে তাকালাম-
.
জি??
.
না মানে…আ..আসলে আজ আমার বার্থডে…
.
তো?আপনার বার্থডে তো আমরা কি করবো??আমাদের রোদের মাঝে দাঁড় করিয়ে পুড়িয়ে মারছেন কেন?? হুয়াই?আপনি কি চাচ্ছেন এই রোদের মধ্যে গোটা ভার্সিটির সামনে আমরা দুটোই মিলে নাচানাচি করি??কথাগুলো বলার চরম ইচ্ছেটাকে প্রশয় না দিয়ে মুচকি হেসে বললাম-
.
ওয়াও…হ্যাপি বার্থডে স্যার।।
.
চিত্রাও মিনমিন করে বললো… “হ্যাপি বার্থডে”
.
স্যার লাজুক হেসে মাথা দুলিয়ে ধন্যবাদ জানালেন।।চরম অস্বস্তি নিয়ে বলে উঠলেন-
.
এখানে আমার কাছের কেউ থাকে না…সবাই রাজশাহীতে থাকে…ফ্রেন্ডস্ রাও…তাই বার্থডে সেলিব্রিট করতে পারছি না।জন্মদিনের দিনটাতে খুবই একা লাগছে নিজেকে…আপনারা কিছু মনে না করলে আমি কি আপনাদের ট্রিট দিতে পারি??পুরো ভার্সিটির পক্ষ থেকে আপনারা দুজন।প্লিজ…
.
স্যারের এমন কথায় আমরা দুজনেই হতবাক।।কেউ যেচে যেচে ট্রিট দেয় নাকি?অদ্ভুত!! হুট করে মানাও তো করা যায় না… বেচারা যেভাবে বললো…তারপর কি করে বলি না যাবো না….নিজের রাস্তা মাপুন….দুজনে চোখে চোখে মত বিনিময় করে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েই গেলাম।।স্যার খুশিতে গদগদ হয়ে বললেন “থ্যাংক্স”
.
🍁
.
ভার্সিটির পাশের একটা রেস্টুরেন্ট বসে আছি।।চিত্রা সেই কখন থেকে ছটফট করছে….বারবার আমার হাত খামচে ধরে বলছে… ” চল চলে যাই…প্লিজজ!!” চিত্রার ছটফটানো দেখে স্যার ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন –
.
আর ইউ অলরাইট মিস?
.
হ্যা হ্যা…ঠিক আছি।
.
আমার মনে হয় আপনি ঠিক নেই…ওয়াশ রুমটা ওদিকে…চাইলে চোখে-মুখে পানি দিয়ে আসতে পারেন।।ততক্ষণে আমি নাহয় মিস.রোদেলার সাথে কিছু কথা বলবো…ইটস পার্সোনাল।
.
পার্সোনাল!!কথাটা শুনেই আমি আর চিত্রা দুজন দুজনার দিকে তাকালাম।।এই ব্যাটা আমার সাথে কিসের পার্সোনাল কথা বলবে ঠিক বুঝতে পারছি না।।চিত্রাকে যে উনি একরকম জোড় করেই এখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইছেন তাও বুঝতে পারছি আমি।।চিত্রার কোনো চলন না দেখতে পেয়ে আবারও বলে উঠলেন উনি-
.
মিস চিত্রা?আপনি কি যাচ্ছেন?এক্চুয়েলি মিস রোদেলার সাথে আমার কিছু পার্সোনাল কথা আছে….জাস্ট পাঁচ মিনিট লাগবে…আপনি কি ততক্ষণে ওয়াশরুম থেকে ঘুরে আসবেন প্লিজ?
.
চিত্রা অনিচ্ছা সত্বেও উঠে দাঁড়ালো। ওর চোখে-মুখে রাগ স্পষ্ট। স্যারের কথাগুলো যে ওর পছন্দ হয় নি তা বেশ বুঝতে পারছি।।আমি মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি…কে জানে শুভ্র ভাইয়ের তিন নম্বর চোখটা আমায় কোন দিক থেকে ফলো করছে।।এই আহাম্মক মার্কা স্যারের পার্সোনাল কথার বেড়াজালে আমিই যে শহীদ হতে চলেছি তা কে বোঝাবে উনাকে??চিত্রা চলে যাওয়ার পর গলা খাঁকারি দিয়ে কিছু একটা বলতে যাবেন ঠিক তখনই কোথা থেকে রাতুল ভাই এসে হাজির।।আমাদের টেবিলের পাশে মাথা চুলকাতে চুলকাতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।।স্যার ভ্রু কুঁচকে উনার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন –
.
রাতুল তুমি এখানে??(অবাক হয়ে) কিছু বলবে??
.
জি জি.. মানে হ্যা স্যার বলবো…(থতমত খেয়ে)
.
হ্যা বলো…
.
রাতুল ভাইয়া একটা ঢোক গিলে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন –
.
দুলাভাই ভাবি আপনাকে ডাকে থুক্কু ভাবি দুলাভাই আপনাকে ডাকে….উনার ক্লাস শেষ হবে দুটোয় এখন ১ঃ৪৫ বাজে…
.
উনার কথায় শিশির স্যার চরম অবাক…কোনোরকম নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠলেন-
.
তুমি ওকে ভাবি ডাকছো কেন?আর তোমার দুলাভাই ই বা ওকে ডাকতে যাবে কেন?অদ্ভুত!!
.
জি আসলে স্যার…উনি তো দুলাভাইয়ের বউ তাই ডাকছে…কিন্তু কেনো ডাকছে সেটা তো জানি না…(মাথা চুলকে)
.
কিহহ??দুলাভাইয়ের বউ??ও তোমার দুলাভাইয়ের বউ হলে তুমি ওকে ভাবি ডাকছো কেন??(কনফিউজড হয়ে)
.

#চলবে🍁

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *