তোকে চাই || সিজন -২ || Part_48 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
……. (সিজন-২)
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:48
.
🍁
.
বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আছি।।দৃষ্টি জানালার বাইরে।মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে কিন্তু কোনো শব্দই আসছে না কানে।কি অদ্ভুত!!বৃষ্টি মানেই তো রিমঝিম শব্দ….কিন্তু এখানে কোনো শব্দ নেই।হয়তো এই শহরে,হাজারো দালানের ভীরে বৃষ্টি হারিয়েছে তার নিজস্বতা।।এমন অগোছালো চিন্তা যখন মন ভরে ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো শুভ্র।।বামহাতে খাবারের প্লেট নিয়ে দরজা বন্ধ করে মিষ্টি হেসে বসে পড়লো আমার পাশে।আমি তাকাতেই প্লেটটা ধরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো –
.
খাইয়ে দাও!হাত ব্যাথা, খেতে পারবো না।
.
উনার কথায় ভ্রু কুঁচকে এলো আমার।সারা দুনিয়ার সকল কাজ করছেন আর ভাত খাওয়ার সময়ই হাতে ব্যাথা?কি অজুহাত!!আমি একবার উনার দিকে তাকিয়ে প্লেটটা হাতে নিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলাম।উনি চুপচাপ খাচ্ছেন আর লেপটপে কিছু একটা করছেন। আমি একাধারে উনার চোখে মুখে তাকিয়ে আছি।ব্যান্ডেজেও কি সুন্দর মানিয়েছে উনাকে।সাদা ধপধপে মুখ তাতে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি…কপালে পড়ে থাকা সিল্ক চুলগুলো দিয়ে ঢাকা পড়ে আছে অর্ধেকেরও বেশি ব্যান্ডেজ।ডার্করেড ঠোঁটগুলো খাওয়ার তালে তালে নড়ছে তারসাথে নড়ছে থুতঁনির ওই কালো তিল।।উনি লেপটপের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন –
.
তুমিও খাও রোদপাখি।আজ আমি খাইয়ে দিতে পারবো না ….হাতটা সত্যি ব্যাথা করছে।পেইনকিলার খেয়েও ব্যাথা কমছে না।।কাল ভার্সিটি শেষে ডক্টরের কাছে যেতে হবে।এমনি কতো কাজ জমে আছে এই হাত ব্যাথা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।
.
আপনি কালই ভার্সিটি যাবেন?একদিন না গেলে হয় না?ঠিকমতো হাঁটতেই তো পারছেন না।এতো কাজ কাজ কেনো করেন শুনি?(মুখ ফুলিয়ে)
.
উনি হাসলেন।লেপটপ অফ করে পাশে রেখে আমার দিকে ঘুরে বসলেন।ব্যাড সাইড টেবিল থেকে পানি নিয়ে হাত ধুয়ে প্ল্যাটটা টেনে নিয়ে আমার মুখে খাবার তুলে দিলেন।।আমি অবাক চোখে বললাম –
.
আপনার না হাত ব্যাথা?ছাড়ুন প্ল্যাট!আমি খেয়ে নিচ্ছি।
.
সমস্যা নেই ছাড়ো।
.
সমস্যা নেই মানে?অবশ্যই সমস্যা আছে… ছাড়ুন তো আমি খেয়ে নিচ্ছি বললাম তো।
.
আরে বাবা!এটুকু পারবো।কাজ না করে অলস বসে থাকলে ব্যাথা আরো বেশি করবে।।তবে একটা জিনিস ভালোই হয়েছে….ওই ইন্সিডেন্টের জন্য তুমি একদম শশুড় বাড়িতে চলে এসেছো।বিয়ের পর এটাই শশুড়বাড়িতে তোমার প্রথম রাত।তারমানে আজ আমাদের বাসর!!ওয়াও আই এম সো এক্সাইটেড… (চোখ টিপে)
.
কিহ!বাসর রাত কেনো হতে যাবে?
.
কেন হবে না?শশুড়বাড়িতে বউয়ের প্রথমরাতই হলো বাসর রাত।ওই হিসেবে আজ আমাদেরও বাসর রাত। বাহ বাহ….বাইরে বৃষ্টি,, ভেতরে খাট আর খাটের উপর কম্বল আর কম্বলের নিচে…..(দুষ্টু হেসে)
.
ছিহ! আপনি তো দেখি ব্যাপক অসভ্য।(রাগী গলায়)
.
আহা!অসভ্যই তো হতে চাই রোদপাখি। কিন্তু পাখি তো ধরা দেয় না।এই দহন আর মনে মানে না….
.
আমি উনার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছি আর উনি হুহা করে হেসে চলেছেন।।উনার হাসির শব্দ যেনো দেয়ালে ধাক্কা লেগে প্রতিধ্বনিত করে উঠছে বারবার….সেই শব্দে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে আমার মন।বৃষ্টির শব্দের চেয়েও কি ভীষন সুন্দর এই শব্দ।।হৃদয়কে নিগড়ে দেওয়া একমুঠো আবেগ এই শব্দ।একগুচ্ছ কম্পন!!
.
🍁
.
ভার্সিটির বটতলায় বসে আছি আমি আর চিত্রা।আমার মুখে শয়তানী হাসি আর চিত্রার চোখে মুখে সন্দেহ।চিত্রা বারবার আড়চোখে আমাকে দেখছে আর পানি খাচ্ছে। অবশেষে থাকতে না পেরে বোতলটা পাশে রেখে আমার পাশে আরেকটু ঘেষে বসেই বলে উঠলো –
.
এই? তুই এভাবে হাসছিস কেন?তোর এই হাসি মানেই ভয়ংকর কিছু।কি করতে চাইছিস বলতো…
.
আমি চিত্রার দিকে তাকিয়ে ভুবন ভুলানো হাসি দিলাম।এবার যেনো কেঁদেই উঠবে সে।।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে আবারও বলে উঠলো চিত্রা-
.
দেখ রোদু?তুই একদম আমার দিকে এভাবে তাকাবি না।আমার হার্ট দুর্বল যেকোনো টাইম আট্যাক ফ্যাটাক করে ফেলতে পারি।এমন মধুর হাসি তোর জামাইকে দেখা গিয়ে।তোর এই হাসি আমার সহ্য হয় না …..শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।দয়া করে হাসি অফ কর মেরি মা।
.
ছিহ!তোর বাপের সাথে আমার বাপ -মেয়ের মতো সম্পর্ক। এসব বিশ্রী অপবাদ আমায় দিস না…..তাহলে আমি নিজেই হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাবো।রাস্তাঘাটে অনেক মানুষ আছে মা ডাকার জন্য তাদের রেখে আমায় কেন ডাকছিস?
.
তুই… তুই আসলেই অসহ্য।কিছু বলবোই না আমি।যায় বলি টেনে হিঁচড়ে নেগেটিভ দিকেই নিয়ে যাস…..ভাল্লাগেনা।(মুখ ফুলিয়ে)
.
ভাল্লাগবে গো বান্ধবী ভাল্লাগবে….ওই দিকে তাকাও ভালো লাগবে।।তোর জামাই সরি তোর হাফ জামাই এদিকেই আসছে।বি রেডি জানু….(দুষ্টু হেসে)
.
ম ম মানে?কককিসের রেডি?
.
কেন মনে নাই?সেদিন ছাদে কি কথা হয়েছিলো?শর্তটা কিন্তু এখনও পালন করিস নি।নেভারমাইন্ড আজ করবি।চল উঠ।
.
ররররোদদ পপ্লিজজ!!
.
প্লিজ টিজ কাল বলিস এবার উঠ তো…
.
কথাটা বলেই চিত্রাকে টেনে উঠিয়ে স্যারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।মুখে অমায়িক হাসি টেনে নিয়ে বলে উঠলাম –
.
আসসালামু আলাইকুম স্যার!!
.
ওয়ালাইকুম আসসালাম।(মুচকি হেসে)কেমন আছো তোমরা?
.
ফাস্ট ক্লাস আছি স্যার….তাই না চিত্রা??(চোখ টিপে)
.
কথাটা বলেই কনুইয়ের নিচে চিমটি কেটে দিলাম আমি।।সাথে সাথেই চিত্রা তুমুল গতিতে মাথা নাড়াতে লাগলো।।আমি আবারও চিমটি কেটে চোখের ইশারা দিতেই করুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়েই কাঁপা-কাঁপি শুরু করে দিলো সে।।পুরো দুই মিনিটের চেষ্টায় বহুত কষ্টে বলে উঠলো –
.
কককককেমন আআছো শশশশিশির!!
.
চিত্রার কথায় শিশির স্যার চরম অবাক।নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না উনি।কিছুক্ষণ শক লাগা চোখে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন –
.
সরি?কি বললে?
.
চিত্রা যেনো এখনই দৌড় লাগাবে এমন ভাবসাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমি ওর হাত শক্ত করে চেপে ধরে পায়ে একটা পাড়া দিতেই আবারও বলে উঠলো সে-
.
বববলছিলাম কককেমন আছো শশশিশির….
.
কথাটা বলেই আমাকে নিয়ে উল্টো দিকে দিলো এক দৌড়।আমি পারলে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাই।শিশির স্যার বিহ্বলিত চোখে তাকিয়ে আছেন।এতোবড় শক হজম করতে পারছেন না বেচারা।স্যারের নজরের আড়ালে এসে থামলো চিত্রা।ঘাসের উপর বসে হাঁপাতে লাগলো।ব্যাগ থেকে বোতল বের করে একদমে পুরোটা পানি খেয়ে আমার দিকে ফিরে তাকালো সে।মুখ চোখ লজ্জা আর ঘামে লাল হয়ে এসেছে।আমিও মুচকি হেসে ওর পাশে বসতেই কোথা থেকে সাকিব ভাই এসে বললো-
.
গুড মর্নিং চিতল সুন্দরী। কতোদিন দেখি না তোমায়।
.
চিত্রার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে এবার চরম বিরক্ত।পারলে এই বোতল দিয়েই মাথা ফাঁটিয়ে দেয় সাকিব ভাইয়ের।আমি মুচকি হেসে সাকিব ভাইয়ের উদ্দেশ্য বললাম-
.
সাকিব ভাইয়া?আপনার সুন্দরী তো গভীর জলের মাছ।সে এখন শিশিরে ভিজে টুইটম্বুর…তার এখন অন্যদিকে মন নাই।
.
মানে?বুঝলাম না ভাবি।
.
পেছনে তাকান!ওই যে সুদর্শন পুরুষ অর্থাৎ আমাদের শিশির স্যারকে দেখতে পাচ্ছেন… আপনার সুন্দরী তার হাফ বউ।
.
আমার কথায় সাকিব ভাই যেনো আকাশ থেকে পড়লো।চোখ বন্ধ করে আবারও খোলে ড্যাবড্যাব করে তাকালো চিত্রার দিকে।।তারপর আমার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো –
.
আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিশির স্যার?
.
আমি মাথা নাড়তেই একটা ঢোক গিলে “এবার আমি শেষ” কথাটা বলেই পেছন ফিরে হাঁটা দিলো।আমি আর চিত্রা একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকেই হুহা করে হেসে উঠলাম।।হঠাৎ ই ফোন বেজে উঠায় হাসি থামিয়ে ফোন কানে নিতেই ওপাশ থেকে শুভ্রর উত্তেজিত কন্ঠ ভেসে উঠলো-
.
রোদপাখি…রোদপাখি…জলদি পার্কিং এ আসো ফাস্ট।
.
কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিলেন উনি।আমি কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ বসে থেকেই চিত্রাকে রেখে দৌড় লাগালাম পার্কিং এ।।পার্কিং গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি পার্কিং একদম ফাঁকা।আরেকটু এগিয়ে যেতেই কেউ একজন হেঁচকা টানে কোলে তুলে নিলো আমায়।আমি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে আবারও চোখ মেলে তাকালাম।চোখের সামনে শুভ্রর হাসি হাসি মুখ ফুটে উঠলো।।উত্তেজনায় ফর্সা মুখটা যেন লাল হয়ে আছে।আমি উনার গলা জড়িয়ে ধরতেই আমাকে নিয়ে ঘুরতে লাগলেন উনি।আমি চাপাস্বরে বললাম-
.
নামান!আপনার হাতে ব্যাথা তো…
.
থাকুক ব্যাথা।।টুডে আই এম সো হ্যাপি রোদপাখি।এই খুশির সামনে তো এই ব্যাথাটা কিছুই না….
.
আমি অবাক চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।কিসের এতো আনন্দ তার?
.
#চলবে…🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *