তোকে চাই || সিজন -২ || Part_49 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
……. (সিজন-২)
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:49
.
🍁
.
আচ্ছা এবার তো নামান।আর কি হয়েছে সেটা বলুন….এতো খুশি কেন?
.
রোদপাখি আমি চাচ্চু হচ্ছি…..আর তুমি কাকিমনি।
.
কিহহ!!সত্যি?
.
হ্যা সত্যি।আমার এতো খুশি লাগছে যে আমি সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। দেখো হাত-পা কাঁপছে আমার।তুমি ভাবতে পারছো রোদু আমাদের বাড়িতে আমার থেকে ছোট কেউ আসবে…এই ছোট্ট চিকন চিকন হাত থাকবে।খিলখিল করে হাসবে।।পাতলা ঠোঁটে আমায় চাচ্চু ডাকবে।ইশশ রোদপাখি তোমায় আমি বোঝাতে পারছি না….!!জানো?ছোট থেকে আমি মার পেছনে ঘুরঘুর করতাম আর বলতাম আমাদের বাসায় ছোট বাবু নেই কেন?ছোট বাবু এনে দাও….মা তখন বলতো আমিই নাকি ছোট বাবু।।ফাইনালি এতোদিন পর সেই ছোট্ট পা গুলো আসছে।।আচ্ছা রোদপাখি বউমনিকে একটা গিফ্ট দিলে কেমন হয়??আমার তো মনে হচ্ছে পুরো মার্কেটই কিনে দিই উনাকে…
.
উনার মুখ রকেটের গতিতে ছুটছে।বাচ্চাদের মতো লাফালাফি করছেন।আমি অবাক চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।উনার আনন্দ দেখে আমার নিজের আনন্দটুকু যেনো ভেতরে ফ্রিজড হয়ে গেছে।উনি আমাকে ঝাঁকিয়ে বললেন-
.
কি হলো?এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন?চলো বাসায় চলো।ফুপ্পিরাও আমাদের বাসায় আছেন….বউমনিকে একটা টাইট হাগ দিবো গিয়ে…এট লাস্ট তুমি কাকিমনি হচ্ছো…
.
কিসের কাকিমনি?আমি খালামনি হবো…..আপনার বউমনি আমার বোন।
.
তো?তুমি তো আমার বউ।
.
তাতে কি?আপনিও তো আমার বর।তাহলে আপনি ওর খালুমশাই হবেন।
.
অবশ্যই না।আমি চাচ্চু আর তুমি কাকিমনি।
.
নো
.
ইয়েস..
.
এভাবে খুনসুটি করেই বাসায় পৌঁছে গেলাম আমরা।গাড়িতে থাকাকালীন পুরো সময়টায় কোমর বেঁধে ঝগড়া করেছেন উনি।আনন্দের চোটে ঝগড়াটের রূপ ধারন করেছে শুভ্র।ভাবা যায়?আমরা বাড়িতে ঢুকতেই হাসির রোল কানে এলো।। সবার মাঝেই আজ অন্যরকম উচ্ছ্বাস। ভেতরে ঢুকে আপুকে দেখেই লাফিয়ে উঠলাম আমি।দৌড়ে গিয়ে আপুকে জড়িয়ে ধরেই চিল্লাতে লাগলাম।ঠিক তখনই শুভ্র এসে আমাকে ছাড়িয়ে দিয়ে বললো…
.
এই এই আমার বউমনি।দূরে থাকো..
.
উনার কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।আপুকে একটানে আমার কাছে এনে বললাম-
.
আমার বোনননন
.
উনিও কম যান না।আপুকে সফ্টলি নিজের দিকে টেনে নিয়ে বললেন-
.
এই পিচ্চি?গিয়ে ললিপপ খাও।বড়দের সাথে তর্ক করে না সোনা।এটা আমার বউমনি সো ফুটো।
.
আমি বলছি না এটা আমার আপু।।আপু আগে পরে বউমনি,,টউমনি,চউমনি….এখন ছাড়ুন ওকে…
.
আমাদের টানাটানিতে সবাই হাসিতে মেতে উঠেছে।আপু একবার আমার দিকে তো একবার শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছে।এমন সময় অভ্র ভাইয়া মাঝখান থেকে আপুকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে অাসহায় কন্ঠে বলে উঠলেন-
.
এটা আমার বউ!!এভাবে টানিস না রে…হালকা পাতলা মানুষ ছিঁড়ে যেতে পারে।
.
ভাইয়ার কথায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি আর শুভ্র।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আবারও ভাইয়ার দিকে ফিরে তাকালাম।তারপর একসাথেই হেসে উঠলাম সবাই।।আমি গিয়ে আম্মুর পাশে বসে পড়লাম…আর শুভ্র গিয়ে বসলো দিদার পাশে।দিদা উনার গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন –
.
এইযে ছোট নাতবউ!এইদিকে আয়…আমার পাশে এসে বস দেখি।
.
আমি উঠে গিয়ে দিদার পাশে বসতেই কপালে চুমু একে দিলেন উনি।তারপর কথায় কথায় বলে উঠলেন –
.
এবার তোমার পালা গো বউ।।কি গো ছোট সাহেব?(শুভ্রর দিকে তাকিয়ে)
.
একদম দিদা।তুমি এতো চাপ নিও না তো….দরকার পড়লে বছরে বছরে একটা করে গিফ্ট করবো তোমায়।তোমার বংশের প্রদীপ আর প্রদীপ থাকবে না একদম আগ্নেয়গিরি বানিয়ে দিবো….(চোখ টিপে)
.
উনার কথায় আমি মুখে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলাম।সবাই চুপচাপ নীরবে হাসছেন।পাশ থেকে মাধবি আর রাহেলা ফিক করে হেসে উঠতেই ধীরে ধীরে সবাই হুহা করে হেসে উঠলো।ইশশ….কি লজ্জা!!এই খাটাস টাকে ধরে ড্রেনের পানিতে চুবাতে ইচ্ছে করছে….লাগামহীন কথাবার্তা সবসময়…..তাও আবার সবার সামনে!!
.
সবার হাসি থামলে অভ্র ভাই ফুড়ন কেটে বলে উঠলেন –
.
তো শুভ্র?আগ্নেয়গিরির প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু কর….নয়তো লেইট হয়ে যাবে না?
.
এবার ইচ্ছে করছিলো মাটি ফাঁক করে ভেতরে ঢুকে যাই আমি।দুই ভাই এক টাইপ,, ঠোঁট কাটা।কই আপুকে নিয়ে মজা করবে তা না ইচ্ছে ইচ্ছে করে দুই ভাই আর দিদা মিলে আমায় পচাচ্ছে।। সাদা বিলাই কোথাকার…!!
.
🍁
.
সবাই ডায়নিং এ বসে আছে।সবার মনোযোগ খাবার দিকে।আমি কয়েকবার মুখে নিয়েই মাথা তুলে অভ্র ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম –
.
ভাইয়া?আমাকে গিফ্ট দিলেন না তো!!এটা কি ঠিক??এতো বড় ভুল কিভাবে করলেন আপনি?হাও?
.
আমার কথায় সবাই খাওয়া ছেড়ে আমার দিকে তাকালেন।অভ্র ভাইয়া আকাশ থেকে পড়ার মতো ভাব নিয়ে বলে উঠলেন –
.
গিফ্ট?কিসের গিফ্ট?
.
কিসের গিফ্ট?হায় আল্লাহ বলে কি?এই কথাটা শোনার আগে মরে গেলাম না কেন আমি?এতো কষ্ট করে আপনার বাচ্চার খালামনি,,কাকিমনি,,ফুপিমনি সবকিছুর রোল প্লে করতে চলেছি তো আমায় গিফ্ট দিবেন না??এতোটা অকৃতজ্ঞ আপনি??
.
অভ্র ভাইয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আপুর দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলাম –
.
দেখ আপু!তোর জামাই কিপ্টা।
.
আমার কথায় হেসে উঠলেন শুভ্র।সামনে রাখা গ্লাস থেকে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিয়ে হাসিমুখে বলে উঠলেন উনি-
.
সত্যি তো!ভাই?বাচ্চা মেয়েটার সাথে এমন অন্যায় করতে পারলি তুই??আমারটা নাহয় বাদই দিলাম…তুই এই পিচ্চিটাকে এভাবে ঠকাতে পারিস না।
.
তোরটা মানে??তোর আবার কি??আজব তো….আমার থেকে গিফ্ট চাচ্ছিস কেন তোরা?তোদের উচিত আমাকে গিফ্ট দেওয়া…. কতো কষ্ট করে বাবা হচ্ছি আমি।
.
তুই শুধু বাবা হচ্ছিস…আর তো কিছু হচ্ছিস না।আমি চাচ্চু,খালু,মামু সব হচ্ছি।তো তোর উচিত আমাকে গিফ্ট দেওয়া….যাহ্ আমার গিফ্টটা মাফ।।তার বদলে আমার পিচ্চিকে দিয়ে দিস গিফ্ট….(মুচকি হেসে)
.
উনার কথায় ঠোঁট উল্টালাম আমি।।এমন ভাবে পিচ্চি পিচ্চি করছেন উনি,,যেনো আমি ফিডার খাওয়া বাবু।আমি উনার দিকে তাকিয়েই মুখ ভেঙিয়ে বলে উঠলাম –
.
থেংকিউ শুভ্র ভাইয়য়য়য়য়া।।তো…গিফ্টটা আমাকেই দিন দুলাভাই,,ভাইয়া,,বাসুর জি।
.
আমার মুখে “ভাইয়া” শব্দটা শুনে বিষম খেলেন শুভ্র।তাড়াতাড়ি পানি খেয়ে চোখ কটমট করে আমার দিকে তাকালেন।আমি উনার দিকে তাকিয়ে অমায়িক হাসি দিলাম।অভ্র ভাইয়া পাশ থেকে বলে উঠলেন –
.
তোমার দ্বারাই সম্ভব রোদ।আমার তো মনে হয়…. তুমি শুভ্র থেকে নিজের বাচ্চার ফুপি হিসেবেও গিফ্ট নিবা।
.
অভ্র ভাইয়ার কথায় শুভ্র চোখ গরম করে উনার দিকে তাকালেন।অভ্র ভাইয়া সেদিকে পাত্তা না দিয়ে বলে উঠলেন –
.
যেভাবে ভাইয়া ডাকো আহা!!নিজের বোন বোন ফিলিংস হয়….একদম বুকে গিয়ে লাগে।এই খুশিতে হলেও তোমায় একটা গিফ্ট দিতেই হয় রোদ।
.
ভাইইই….বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!! চুপ কর নয়তো খবর আছে।
.
আরে?আমি কিছু বলেছি নাকি?শুধু শুধু আমায় শাসাচ্ছিস তুই।।আমি তো রোদকে বলছিলাম যে,,, যখন ও নিজের বাচ্চার ফুপি হবে(শুভ্র রাগী চোখে তাকাতেই) ওহ সরি মিসটেক…হে হে হে…আমি বলছিলাম যে যখন আমি কষ্ট করে ওর বাচ্চার জেঠো,মামু,খালু হবো… তখন একটা গিফ্ট দিবো ওকে….আপাতত আমার ভাইকে গিফ্ট করে দিলাম….নিয়ে যাও….কিন্তু প্লিজ দয়া করে তাকে ভাইয়া ডেকো না।হার্ট আট্যাক করতে পারে বেচারা।
.
উনার কথায় দাঁত কেলিয়ে একটা ক্লোজ আপ হাসি দিলাম আমি।।টেবিলে সবাই মিটিমিটি হাসছেন আর শুভ্র রাগে ফাঁটছেন।
.
.
দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছি আমি আর আমার ঠিক সামনে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছেন শুভ্র।।তার মুখে রাগী রাগী ভাব আর আমার মুখে কাঁদো কাঁদো ভাব।।উনার ভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই বুঝি টুপ করে গিলে ফেললেন আমায়।আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলাম –
.
এএভাবে তাকিয়ে আছেন কককেন?
.
উনি এবার কয়েক পা এগিয়ে এলেন।বামহাতটা পাশের দেয়ালে রেখে আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করলেন –
.
আমি তোমার কি হই?
.
মমমানে??
.
ভাইয়া হই তাই না?
.
ন ননা এএকদম না।
.
তাহলে বললা কেন?আমাকে দেখলেই কি ভাইয়া শব্দটা তোমার মুখ থেকে স্লিপ করে বেরিয়ে পড়ে?
.
আআমি ততো…মমানে হহলো যে….আপনি তো আগে ভাইই ছিলেন…তাই।অভ্যাস..
.
অভ্যাস??গ্রেট!ওকে দেন…আমাকে এবার এমন কিছু করতে হবে যাতে করে আমাকে দেখলে আর ভাই শব্দটা আসবে না।।আর ইউ রেডি ডেয়ার??(বাঁকা হেসে)
.
কথাটা বলেই বাঁকা হেসে ডানহাতটা আমার কোমরের উপর রাখলেন।সাথে সাথেই কেঁপে উঠলাম আমি।এবার চিত্রার কাঁপাকাঁপি আমার উপর ডাইবার্ট হওয়ার পালা….হে খোদা!রক্ষা করো আমায়।
.
#চলবে…🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *