তোকে চাই || সিজন -২ || Part_5 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই❤ (সিজন -২)

writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
part: 5

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

সরি?
.
মমমাননে… এএএক্চুয়েলি আআমি না সব গুলিয়ে ফেলছি।।যা ববলতে চাচ্ছি না ততাই বলে ফেলছি।।আর যা বলতে চাচ্ছি সেগুলো সেগুলো কি বলবো ভুলে গেছি(অসহায় মুখ করে)
.
তা তোমার কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছে।।নয়তো এমন উদ্ভট সব কথাবার্তা কোনো স্বাভাবিক সেন্সের মানুষের দ্বারা পসিবল না।চুমু?লাইক সিরিয়াসলি?(বিরবির করে)
.
জি কিছু বললেন?
.
নাহ.. বলছিলাম এভাবে হাঁপাতে হাঁপাতে এলে কিছু বলবে??(মুচকি হেসে)
.
জি মানে… থেংকিউ!!
.
কেনো?(ভ্রু কুঁচকে) চুমু দেওয়ার জন্য?(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
উনার লাস্ট কথায় আমি একদম থতমত খেয়ে গেলাম।ব্যাটা তো দেখি মিসকা শয়তান ইচ্ছে করে আমায় লজ্জায় ফেলতে চাইছে।।অসভ্য একটা।।আমি কোনোরকম মুখ কাঁচুমাচু করে বলে উঠলাম।।
.
না না… আপনার জন্য আমার ২৮ বছরের হারিয়ে যাওয়া মামাকে খুঁজে পেয়েছি।।সো থেংক্স।
.
তোমার মামার বয়স মাত্র ২৮?(অবাক চোখে)
.
এমা ২৮ হতে যাবে কেন??৫০ /৫৫ বছর হবে।।
.
তাহলে ২৮ বছরের মামা বলছো কেন??এনিওয়ে আমার জানা মতে আমি কোনো মামা টামাকে চিনি না তাহলে আমার মাধ্যমে পেলে কিভাবে??খুবই অদ্ভুত বিষয়।।নাকি চুমুর জোড়ে পেয়ে গেছো??কোনটা??(ভ্রু নাচিয়ে,,মুখ টিপে হেসে)
.
উনার কথা শুনে আমি বিষম খেলাম।।ব্যাটা লুইচ্চা লজ্জা শরমের বালাই নেই এরমধ্যে।।কেমন বেশরমের মতো কথা বলছে।।লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।।কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।।কি বলা যায়,,কি বলা যায়,,এমনটায় ভাবছিলাম ঠিক তখনই উনি বলে উঠলেন….
.
তো পিচ্চি??পথটা কি ছাড়বে? আমার তো যেতে হবে খুকি নাকি আরেকটা চুমু চায়??চাইলে আসো দিয়ে দিই তবু পথ ছাড়ো।।
.
কথাটা বলে উনি আমার দিকে এগিয়ে আসতেই দিলাম এক দৌড়।।আল্লাহ বাঁচিয়েছে।।কি ভয়ঙ্কর ছেলেরে বাবা!!প্রথমে ভেবেছিলাম ব্যাটা একটু লাজুক টাইপ হবে।।কিন্তু এর মধ্যে লাজুকলতার শাখা পর্যন্তও নেই।।বেশরমের কোনো এওয়ার্ড থাকলে এই ব্যাটাই ফার্স্ট প্রাইজ পেতো।।সুন্দর ছেলেদের যে ক্যারেক্টারে সমস্যা থাকে সেটা আজ প্রোভড।।এই চিত্রার বাচ্চাকে দেখানো উচিত ছিলো এর লুইচ্চামো।।শুভ্র ভাইয়া,,শুভ্র ভাইয়া করে তো অঞ্জান।।হুহ বদ মেয়ে।।নিজের মনে বিরবির করে হাটছিলাম তখনই পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো…
.
কেমন আছো সানশাইন??
.
বিরক্তি নিয়ে পেছন ফিরে তাকালাম।।এই ব্যাটায় আবার কই থেকে এলো আল্লাহ জানে।।ইচ্ছে করছে ঘুষি দিয়ে উড়িয়ে দিই।ব্যাটা আমি কেমন আছি তোকে কেন বলতে যাবো??তোর বন্ধু তো এখনই আমার আত্মা উড়িয়ে দিয়েছিলো।।এখন আরেকজন আসছে ম্যা ম্যা করতে।।কোনোরকম মনের বিরক্তি দমন করে মুখটা হাসি হাসি করে বলে উঠলাম…
.
আলহামদুলিল্লাহ সুবহানাল্লাহ ভালো আছি।।আপনি ভালো আছেন তো ভাইয়া??
.
হ্যা ভালো আছি।।এক্চুয়েলি তোমার সাথে একটু কথা ছিলো।।(সাহেল)
.
বলে ফেলুন।(বিরক্তি নিয়ে)
.
এখানে?তারচেয়ে ক্যান্টিনে বসে বলি?(সাহেল)
.
জি না।।এখন ক্যান্টিনে বসা যাবে না।।আপনি বরং কথাটা কাল বলেন আজ আমি আসি।
.
কথাটা বলেই কেটে পড়লাম।।কে জানে এই হারামিগুলো মিলে আবার কোন প্ল্যান বানিয়েছে।।করিডোরে পা রাখতেই দেখি ছেলে মেয়েদের ভীর তারমধ্যে থেকে চিত্রা ছুটে এসে বললো।।
.
দোস্ত?ওরিন্টেশনে ফাস্ট ইয়ারদেরও পার্ফোম করতে হবে।।নোটিশ বোর্ডে যার যার ক্যাটাগরি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।।নিজেরে সিলেক্ট করার কোনো চান্স নেই।।আমাকে গানের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে আর তুই নাচে।।(মুখ কাচুমাচু করে)
.
কিহহহহ্(চিৎকার করে)
.
চিত্রার কথা শুনে দিলাম এক চিৎকার সবাই চমকে আমাদের দিকে তাকালো।।কিন্তু সেদিকে আমার খেয়াল নেই।।ওর কথায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো আমার।।বলে কি?আমি আর নাচ?ইম্পোসিবল!! এই ভার্সিটিটাই আমার জন্য অলক্ষুণে সব উলটপালট হচ্ছে এখানে এডমিট হওয়ার পর থেকে।।চিত্রা আবারও বলে উঠলো….
.
আমার রিহার্সাল কাল থেকে আর তোরটা আজ থেকেই।।আধাঘন্টা পরই তোর রিহার্সাল অডিটরিয়ামে চলে যা।।শুভ্র ভাইয়ার পুরো গ্যাং ই নাচের ক্যাটাগরিতে আছে।।
.
চিত্রার কথায় গলা শুকিয়ে গেল আমার।।আবার সেই শুভ্র ভাইয়া।।উফফ কি ঝামেলা রে বাবা!! এই বুড়ো বুড়ো ছেলে নাচবে নাকি??কি আশ্চর্যের ব্যাপার।
.
আচ্ছা উনারে নাচবে?
.
না হয়তো ওরা শুধু রিহার্সাল করাবে।।একটা দুটো নাচে থাকলেও থাকতে পারে ঠিক বলতে পারছি না।।তো তুই যা আমি বরং বাসায় যাই।। অল দ্যা বেস্ট বেস্টি।
.
চিত্রা দাঁত কেলিয়ে চলে গেলো।।ওর দাঁত কেলানোর কোনো কারনই আমি খুঁজে পেলাম না।।খুঁজার চেষ্টাও করলাম না।।একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অডিটোরিয়ামের দিকে হাঁটা দিলাম কথায় আছে না?যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।।তিনতলায় অডিটোরিয়াম।। দরজার কাছে গিয়ে উঁকি দিতেই শুভ্র ভাইয়াকে দেখতে পেলাম।। শুভ্র ভাইয়ারা সব ফ্রেন্ড মিলে আড্ডা দিচ্ছেন।কিছু জুনিয়রও আছে ওরা ডান্স প্রেকটিস করছে।।এদের সাথে আমার ডান্স করতে হবে ভাবতেই বিরক্ত লাগছে।।সব ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে ভেতরে ঢুকে টেবিলের উপর ব্যাগটা রাখতেই পেছন থেকে শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলো…
.
এই মেয়ে তুমি এখানে কেন?(ভ্রু কুচঁকে)
.
শুভ্র ভাইয়ার কথায় পেছন ফিরে বলে উঠলাম-
.
ডান্স প্রেকটিস করতে আসেছি ভাইয়া।।
.
ডান্স??ডান্সের “ডি” জানো যে ডান্স করতে আসছো??
.
কি বলতে চান আপনি??
.
জাস্ট একটা কথায় বলতে চাই,, গেট লস্ট।।সাব্বির?কিসব ফাউল পোলাপানদের সিলেক্ট করেছিস??তোদের দিয়ে আসলেই কিছু হবে না।।অনুষ্ঠানের সব দায়িত্ব আমাদের উপর আর তুই কি চাচ্ছিস এদের সিলেক্ট করে আমার ইমেজ নষ্ট হোক??(রাগী গলায়)
.
শুভ্র ভাইয়া যে আমাকে অপমান করছে তা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি।।উনার প্রত্যেকটা কথায় মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমার।।খাটাস একটা!!নিজেকে অনেক শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বলেই উঠলাম-
.
এইযে মিস্টার নিজেকে কি মনে করেন হ্যা?? কারো এভিলিটি না জেনে কথা শুনানো কোনো ভদ্রলোকের কাজ নয়।।সো ডোন্ট আন্ডারেস্টিমেট মি।।(রাগী চোখে)
.
ওহ রিয়েলি?এক্চুয়েলি আমি তোমার সাথে কোনো কথায় বলতে চাচ্ছি না।।জাস্ট গো বেক অন ইউর পজিশন।।
.
রাগে গা জ্বলছে আমার।।আমাকে পজিশান দেখাচ্ছে।।ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট হয়ে কি মাথা কিনে নিয়েছে নাকি??বললেই হলো গো বেক??ডান্স তো আমি করবোই।।আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রাহা নামের মেয়েটা এসে গাল চেপে ধরলো আমার।।মনে হচ্ছিলো গালের হারটাই ভেঙে ফেলতে চাইছে এই মেয়ে।।এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।।মেয়েটার হাতটা চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলাম-
.
ডোন্ট টাচ মি…. নয়তো হাতটা কেটে রেখে দিবো।।এন্ড মিষ্টার সাদা বিলাই… ভার্সিটি কি আপনার শশুড়ের নাকি??যে যা বলবেন তাই হবে?যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছি এখানে কারো দয়ায় নয়।।ভার্সিটির সব কারিকোলামে পার্টিসিপেট করার অধিকার আমার আছে সো মিষ্টার শুভ্র আবরার অর আবরার শুভ্র হোয়াটএভার,,এটাকে নিজের শশুড়ের প্রোপার্টি ভাববেন না মাইন্ড ইট(চোখ রাঙিয়ে)
.
তোমার সাহস কিভাবে হয় আমার সাথে চোখ রাঙিয়ে কথা বলার?আমি যখন বলেছি তুমি রিজেক্টেট দেট মিনস্ তুমি রিজেক্টেট।।
.
শুভ্র ভাইয়া যদি ভালোভাবে বলতো তাহলে হয়তো খুশি মনে সরে আসতাম বাট ব্যাটার এই এটিটিউট দেখার পর পৃথিবী উল্টে গেলেও ডান্স আমায় করতেই হবে নয়তো রাতে ঘুম হবে কি না সন্দেহ।।অবশেষে আমাদের গন্ডগোলের অবসান ঘটালেন রাজ্জাক স্যার।।আমার পার্ফোমেন্স দেখা হলো।।সবার পছন্দ হলেও আমায় রিজেক্ট হতে হলো শুভ্র ভাইয়ার জন্য।। তিনি স্যারকে বুঝালেন আমি সিনিয়রদের সাথে বেয়াদপি করেছি।।আর স্যারও নাচতে নাচতে উনার কথা বিশ্বাস করে আমাকে রিজেক্ট করে দিলেন।।।ইচ্ছে করছিলো এই স্যার সহ সব কটাকে উষ্টা মেরে উগান্ডা পাঠিয়ে দিই।।এই সাদা বিলাইকে তো আমি দেখে নিবো।।আমাকে অপমান করার মজা তুমি এবার হারে হারে টের পাবে বাচ্চু জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।।
.
.
🍁
.
.
চোখের পানি আটকে রাখার তুমুল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সফল হতে পারছি বলে মনে হচ্ছে না।।আমার এই এক সমস্যা অতিরিক্ত রেগে গেলেই নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যায়।।আমারও এখন ঠিক এক অবস্থা।।একহাতে চুল ঠিক করছি তো অন্যহাতে চোখের পানি মুছতে মুছতে করিডোর দিয়ে হাঁটছি উদ্দেশ্য বাসায় যাওয়া।।কিন্তু হঠাৎই একটা ফাঁকা ক্লাসের মাঝ থেকে একজোড়া হাত আমার চোখ মুখ চেপে ধরে ভেতরে টেনে নিলো আমায়।।আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে কিছু একটা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে হাত দিয়ে আমার দুইহাত পেছনের দিকে চেপে ধরলো সে।চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার দেখছি।।নিজেকে ছাড়ানোর হাজারও চেষ্টা করে চলেছি ক্রমাগত কিন্তু সামনে দাঁড়ানো শক্তির সাথে পেড়ে উঠছি না।।বেশকিছুক্ষন এভাবে থাকার পর গালে কারো ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম।।অজানা ভয়ে গলা শুকিয়ে আসতে লাগলো আমার।।আবারও শুরু করলাম ছুটাছুটি কিন্তু সামনের শক্তিটাকে বিন্দুমাত্র নাড়াতে পারলাম বলে মনে হলো না।।সে নিজের মতোই গাল ছেড়ে নেমে এলো গলায়।।সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিলো আমার।।গলায় একটা কামড় দিয়েই হাতদুটো ছেড়ে দিলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি।।ভয়ে রীতিমতো কাঁপছিলাম আমি।।শুকনো গলায় বারবার ঢোক গিলছিলাম,,কাঁপা কাঁপা হাতে চোখের কাপড়টি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেখলাম একটা ফাঁকা ক্লাসে আমি একা দাঁড়িয়ে আছি।।দৌঁড়ে দরজার কাছে গিয়ে উঁকিঝুঁকি দিয়েও কাউকে খুঁজে পেলাম না।। রাগ, ভয়, বিরক্তি সব কিছু নিয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছিলো আমার।।হঠাৎ হাতের কাপড়টার উপর চোখ পড়লো।।সাদা কাপড়টাতে লাল কালিতে কিছু লেখা।।কৌতূহল নিয়ে কাপড়টা চোখের সামনে মেলে ধরতেই অবাক হলাম আমি….
.
#চলবে…🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *