তোকে চাই || সিজন -২ || Part_50 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
……. (সিজন-২)
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:50
.
🍁
.
হহহাত সরান,প্লিজ!
.
কেনো?(অস্পষ্ট স্বরে)
.
অস্বস্তি লাগছে।
.
কোমরে হাত রাখতেই অস্বস্তি? কিন্তু অস্বস্তি লাগলেও তো কিছু করার নেই সোনা….এই মুহূর্তে হাত সরানোর কোনো মোড নেই আমার।
.
কথাটা বলে কোমরটা আরো শক্ত করে চেপে ধরে খানিকটা এগিয়ে এলেন উনি।উনার চোখে নেশা….আর আমার মনে একঝাঁক ভয়।উনাকে আমার মুখের উপর ঝুঁকে পড়তে দেখেই চোখ-মুখ কুঁচকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম উনাকে।অনেকসময় ভয়ই নির্ভয়ের কাজ করে।দূর থেকে যে জিনিস দেখে ভয়ে আত্মা কাঁপে সেই জিনিসটির খুব কাছে চলে গেলে অদ্ভুতভাবেই ভয়টা অনেকটায় কমে আসে।।আমার ক্ষেত্রেও তাই।শুভ্রর চোখের নেশাটা যতোটা ভয়ঙ্কর তার বুকটা ততটায় নির্ভয়ের।।শুভ্রকে হঠাৎ এভাবে জড়িয়ে ধরবো হয়তো ভাবতে পারেন নি উনি।হুট করে করা আমার এই কাজে উনি যেনো বোকা বনে গেলেন।কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে বলে উঠলেন-
.
এটা ঠিক নয় রোদপাখি।আমি তোমাকে পানিশমেন্ট দিতে চেয়েছিলাম। সোজা হয়ে দাঁড়াও!
.
উনার কথায় গুটিসুটি হয়ে একদম উনার বুকের ভেতর ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা চালালাম আমি।উনি আমাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আলতো হাতে জড়িয়ে নিলেন আমায়….কানের কাছে একটা চুমু দিয়েই ঝুঁকে এসে কাঁধে শক্ত একটা কামড় বসিয়ে দিলেন।সাথে সাথেই ছিঁটকে সরে গেলাম আমি।।কাঁধে হাত বুলাতে বুলাতে উনার দিকে তাকাতেই হুহা করে হেসে উঠে একটানে নিজের কাছে এনে ঠোঁটে ঠোঁট রাখলেন।।ঘটনার আকস্মিকতায় আমি স্তব্ধ…. চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছি।।চোখের পাতা ধীর গতিতে একবার বন্ধ করে মেলে তাকাতেই দরজায় কাশির শব্দ শোনা গেল।।দরজার বাইরে থেকে কেউ একজন বলে উঠলো –
.
শুভ্র?ভাই রুমের ভেতর কি করিস?
.
অভ্র ভাইয়ার কথা কানে যেতেই ছিঁটকে সরে গেল শুভ্র।একবার আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট মুছে দরজা খুলতেই হুরমুর করে ভেতরে ঢুকে গেলেন অভ্র ভাইয়া। শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে চরম বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো –
.
ফুটবল খেলি।তাতে তোর কি?
.
ফুটবল খেলছিলি??ওওওও আমি আরো ভাবলাম আগ্নেয়গিরির প্ল্যানিং করছিস কি না…হে হে হে।
.
ভাই?যাবি তুই?(রাগী গলায়)
.
অবশ্যই যাবো। তবে আমার একমাত্র শালিকাকে নিয়ে যাবো।
.
না।ও কেন যাবে?যাবে না ও তবে তুই যাবি…এবং এক্ষনি যাবি!!(দাঁতে দাঁত চেপে)
.
ঠিক আছে।চলে যাচ্ছি…আমি তো এসেছিলাম রোদকে আইসক্রিম দিতে।।তিন কার্টুন আইসক্রিম এনেছি…নিচে অলরেডি কাড়াকাড়ি লেগে গেছে।সাব্বির,রোহান,নীলি সবাই এসেছে।আমি তো আর ওদের মতো নির্দয় নই…একমাত্র শালিকাকে রেখে কখনোই খেতে পারি না…তাই ওকে ডাকতে এলাম।পরে যদি শেষ হয়ে যায়?(নিরীহ ভঙ্গিতে)
.
আইসক্রিমের কথা শুনেই মনটা নেচে উঠলো আমার।দুই লাফে উনাদের কাছে গিয়ে বললাম-
.
ওয়াও?আইসক্রিম!! আগে বলেন নি কেনো আমায়??
.
শুভ্র এবার করুন চোখে অভ্র ভাইয়ার দিকে তাকালেন।তারপর আমার দিকে ফিরে বলে উঠলেন-
.
ওগুলো ওদের খেতে দাও।তোমাকে পরে ওর থেকেও বেশি কিনে দিবো রোদ।
.
উনার কথায় ভ্রু কুঁচকে এলো আমার।ডিরেক্ট জানিয়ে দিলাম আমি এখনই খাবো এবং ওদের সাথেই খাবো।আমার কথা শুনেই দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠলেন অভ্র ভাইয়া।শুভ্র পারে তো চিবিয়ে খেয়ে ফেলে উনাকে।অভ্র ভাইয়া হাসিমুখেই বলে উঠলেন –
.
আহা কি শান্তুি!এটস কল্ড রিভেঞ্জ মেরি ভাই।তুই আর সাহেল মিলে কি জ্বালাতনই না করেছিস আমায়।রুমের বিভিন্ন জায়গায় ফোন লুকিয়ে রেখে সারারাত কল দিয়ে দিয়ে ডিস্টার্ব করেছিস।প্রতিবার ফোনের রিংটোনে আত্মা কেঁপে ওঠেছে আমার।বউকে টাচ করার সাহস পর্যন্ত পাইনি।এবার বুঝো ঠেলা….তোর ভাতিজাকে শুধু পেট থেকে বেরুতে দে।আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি সে তার চাচ্চু বলতে অজ্ঞান থাকবে…তার তোমার রোমাঞ্চের বারোটা বাজবে।।ইশশ…এতো সুখ সুখ লাগছে কেনো??
.
এটুকু বলতেই শুভ্র “দাঁড়া তুই” বলেই তেঁড়ে গেলেন… ততক্ষণে অভ্র ভাইয়া পগারপার।। দুজনেই বাচ্চাদের মতো ছুটছেন আর উচ্চস্বরে হাসছেন।।দেখে মনেই হচ্ছে না এরা দুই ভাই…একদম বন্ধুর মতো ব্যবহার।।আমি কিছুক্ষণ উনাদের দিকে তাকিয়ে থেকেই দ্রুত নিচে নেমে গেলাম।আইসক্রিম যদি শেষ হয়ে যায় তবে?
.
🍁
.
বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছি আমি।।আমার ঠিক সামনে বসে আছে চিত্রা।আমি কয়েক সেকেন্ড পর পর ওর দিকে তাকিয়ে একটা ক্লোজ আপ হাসি দিচ্ছি আর ও কাঁদো কাঁদো মুখে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।।তার মুখ ফুলানোর প্রধান কারণ শিশির স্যার।চিত্রার মুখে তুমি ডাক শুনেই নাকি তার মনে বিয়ের ঘন্টি বেজে গেছে।ভার্সিটি থেকে সোজা চিত্রাদের বাসায় গিয়ে বাবা-মা নিয়ে একসপ্তাহের মধ্যে বিয়ের ডেইট ফিক্সড করে এসেছেন উনি।চিত্রার ভাষ্যমতো সব দোষ আমার…আমার জন্যই আজ সে নদীতে ভেসে যাচ্ছে।।আমি আবারও দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলাম –
.
এভাবে মুখ ফুলিয়ে রেখেছিস কেন চিতা বাঘ??স্যার চুমু দিয়েছে বুঝি?
.
তুই একদম কথা বলবি না আমার সাথে।।তোর জন্যই সব হচ্ছে….কি দরকার ছিলো এতো ন্যাকামো করে কথা বলতে বলার??(মুখ কালো করে)
.
চিত্রার কথায় ভ্রু কুঁচকে এলো আমার।কপালে এসে পড়া চুলোগুলো কানের পেছনে ঠেলে দিয়ে বললাম-
.
এই এদিকে আয়??
.
কেন??
.
ওর কথায় কিছুটা এগিয়ে গিয়ে গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বললাম “এইজন্য” চিত্রা কিছুক্ষণ “হা” করে তাকিয়ে থেকে মুখ গোমড়া করে বলে উঠলো –
.
মারলি কেন?
.
তুই চড়টা ডিজার্ব করিস তাই মেরেছি।ইউ ফুল!!তুই কোন সাহসে আমাকে দোষ দিস??তোকে আমি একটা শর্ত দিয়েছিলাম তুই পালন করেছিস ব্যস।।তোর কাছে সেকেন্ড অপশন ছিলো….তবু তুই রাজি হয়েছিস তারমানে সব দোষ তোর।এনিওয়ে ওসব ছাড়….(একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে) এটা তোর হাফ জামাইকে দিয়ে দিস।
.
এটা কি?(অবাক হয়ে)
.
এটা লিস্ট।তোর বিয়েতে আমি যা যা পড়বো তার লিস্ট।তোর সাথে সেই স্কুল লাইফ থেকে ডিল করা…তোর বিয়েতে যা কিছু পড়বো সবকিছু তোর জামাই দিবে।।কি রে ভুলে গেছিস??(ভ্রু নাচিয়ে)
.
চিত্রা এবার কেঁদেই দিলো।আমি ভ্র কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে থেকে টিস্যু বাক্সটা এগিয়ে দিয়ে বলে উঠলাম –
.
এমন ফেচফেচ করে কাঁদছিস কেন??
.
আমি বিয়ে করবো না।
.
কেন?বিয়ে কেন করবি না?চিরকুমারী থাকার প্লেন আছে নাকি?কাহিনীটা কি?
.
কোনো কাহিনী নেই।।আমার খুব ভয় লাগছে রোদু।।বিয়ের পর কি হবে কে জানে??
.
তুই বিয়েটাকে যতটা ভয়ঙ্কর ভাবছিস সেটা কিন্তু ততটা ভয়ঙ্কর নয় ।খুবই সিম্পল একটা বিষয়। তোকে আমি বলেছিলাম না?টুস করে কবুল বলে ঠুস করে বাসর ঘরে ঢুকে যাবি।তুই বরং এই ট্রিকটায় অবলম্বন কর তাহলে দেখবি সব একদম পানির মতো সহজ লাগছে….আর বাকি সব তোর হাফ জামাইয়ের উপর ছেড়ে দে… নো চাপ বেবি!!
.
তুই এমন ভাবে বলছিস যেনো বাসর ঘর নিয়ে সেঞ্চুরি করে এসেছিস।
.
তুই এমন ভাবে ভয় পাচ্ছিস যেন ডাবল সেঞ্চুরি করে এসেছিস।। এমন ভাবে ভয়ে কাঁপছিস যেন কতো শত সংসার করে এসেছিস তার সব ভয়াবহতা তুই জানিস।।শোন বেশি ঢং না করে বিয়েটা করে নে….. শিশির স্যার অসাধারণ একটা মানুষ….উনাকে রিজেক্ট করার কোনো মানেই হয় না।।
.
তুই তো ম্যারিড… বল তো শাশুড়ী মাকে কিভাবে ইম্প্রেস করা যায়?শাশুড়ী নামটা শুনলেই ভয়ে বুক কাঁপে আমার….ছেলে সামনে এলে ৬ ডিগ্রীতে কাঁপা-কাঁপি শুরু হয় আর মা সামনে এলে ১০ ডিগ্রিতে….(মুখ ফুলিয়ে)
.
নিজেকে এখনও ম্যারিড ফিলই হয় না আবার শাশুড়ী।। আমার শশুড় বাড়ি বাপের বাড়ি সব এক। নো ডিফারেন্স ইয়ার….
.
চিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠলো তার।।স্ক্রিনে বাংলা ফন্টে ভেসে উঠলো “অসভ্য”। লেখাটা দেখেই চোখ বড় বড় হয়ে এলো আমার।।সাথে সাথেই লজ্জায় রাঙা হলো চিত্রার মুখ।।বিছানা থেকে ওঠে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে কথা বলতে লাগলো সে।।ঠোঁটে লাজুক হাসির ছোঁয়া।।আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি….লজ্জা রাঙা মুখে চিত্রাকে বড্ড মায়াবি লাগছে…. কোনো এক বিকেলের মিষ্টি আলোয় এই মায়াতেই হয়তো জড়িয়ে গেছেন স্যার।।আমি বালিশে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আবারও তাকালাম…. বেশ প্রেম প্রেম ভাব নিয়েই কথা বলছে ও….যা আমি ৬ মাসের বিবাহিত জীবনেও পারলাম না….এই মুহূর্তে একটা কথায় মনে আসছে বার বার হাও আনরোমান্টিক আই এম!!
.
#চলবে..🍁

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *