তোকে চাই || সিজন -২ || Part_56 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

#তোকে চাই❤
……. (সিজন-২)
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:56

🍁

দু’জনেই পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি হলের বড় পর্দায় সাহেল ভাইয়ার ছবি। গাঢ় খয়েরী রঙের পাঞ্জাবী পড়েছেন উনি। আমরা তাকাতেই মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে উঠলেন, “কনগ্রাচুলেশন!” আমি অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকেই মুচকি হাসলাম। শুভ্রর চোখদুটো চিকচিক করছে, পারলে হয়তো জড়িয়ে ধরতেন উনাকে। সাহেল ভাইয়া কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা নিচু করে জোড়ে একটা নিশ্বাস ছেড়ে মাথা তুলে সরাসরি শুভ্রর মুখের দিকে তাকালেন। হাসিমুখে বললেন,

— ওই কি ভাবিস তুই আমায়? আমার লাইফের সবচেয়ে ভালোবাসাময় মানুষ দুটোর এমন একটা স্পেশাল দিনে আমি থাকবো না, তা কি হয়? তোদের দু’জনকেই খুব সুন্দর লাগছে আজ।

শুভ্র এতোক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেও হেসে উঠলেন এবার। ঠোঁটে হাসির রেখা টেনে নিয়ে বললেন,

— অনেক মিস করছি রে। কবে আসবি তুই?

সাহেল ভাইয়া কিছু বলতে যাবেন তার আগেই পাশ থেকে রোহুন ভাইয়া বলে উঠলেন,

— শালা তুই টিঙ্গে বসে আছিস আর এদিকে শুভ্র আমাদের আধাজল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছে। জানিস কাল আমরা সব ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাইছি। তুই থাকলে দলটা ভারি হতো বুঝলি। কিসের স্কলারশিপ কিসের কি,, এই চলে আয় তো।

সাহেল ভাইয়া হাসলেন, কিছু বললেন না। সবার সাথে টুকিটাকি কথা বলে আমাদের দু’জনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন উনি,

— তোদের দু’জনকে কি গিফ্ট দেওয়া যায় বল তো? দেওয়ার মতো কিছুই তো নেই আমার কাছে। আচ্ছা একটা গান গাই, তোদের দু’জনকে ডেডিকেট করে। কি গাইবো?

সাথে সাথেই শুভ্র বলে উঠলেন, ” শালা! পারমিশন চাস কার থেকে?”

সাহেল ভাইয়া হালকা হেসে পাশ থেকে গিটার নিয়ে গান ধরলেন। সাথে সাথেই উনার ছবিটা কোণায় চলে গিয়ে পুরো পর্দায় ভেসে উঠলো আমার ঘুমন্ত সেই ছবি। উনার গানের তালে তালে ছবিগুলো চেঞ্জ হতে লাগলো…


বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…( মাথায় লাল উড়না দিয়ে দাঁড়িয়ে হাসিময় ছবি)

চলতে গিয়ে মনে হয় দূরত্ব কিছু নয়
তোমারই কাছেই ফিরে আসি ( চিত্রার পিঠে ধুমধাম মারার সময়কার আকস্মিক ছবি)

তুমি,,তুমি,,তুমি শুধু এই মনের আনাচে কানাচে
সত্যি বলো না কেউ কি প্রেম হিনা কখনো বাচে??( নীল শাড়ি পড়ে কারো দিকে তাকিয়ে হাসছি আমি, কিছুটা দূরেই শুভ্র অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন সেই মুহূর্তের ছবি)

তুমি,,তুমি,,তুমি শুধু এই মনের আনাচে কানাচে
সত্যি বলোনা কেউ কি প্রেম হিনা কখনো বাচে??( ভার্সিটির বাগানে আমার হাত ধরে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শুভ্রর ছবি)

বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…( গাড়ির উপর চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন শুভ্র হাতটা রক্তে লাল)

মেঘের খামে আজ তোমার নামে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিও,,তুমি মিলিয়ে নিও খুব যতনে তা লিখেছিলাম।।( এটুকু গাইতেই রোহুন ভাইয়া আর সাব্বির ভাইয়া আমাদের দুজনের হাতে দুটো পার্সেল ধরিয়ে দিলেন। যার উপরে লেখা, ” ফ্রম সাহেল “)

মেঘের খামে আজ তোমার নামে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিও,,তুমি মিলিয়ে নিও খুব যতনে তা লিখেছিলাম।।

ওওওও চাই পেতে আরো মন পেয়েও এতো কাছে( সাদা রুমালে চোখ বাঁধা অবস্থায় আমি আর আমার ঠিক সামনে হাতদুটো চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র! ছবিটা দেখেই শুভ্রর দিকে রাগী চোখে তাকালাম । উনি হালকা কেশে ঝটপট অন্যদিকে চোখ ঘুরালেন)

বলতে যেয়ে মনে হয় বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতোটা তোমায় ভালোবাসি…( উনাদের বাগানের ধারে আমার চুল টেনে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন শুভ্র, আর আমার মুখ কালো)

মন অল্পতে প্রিয় গল্পতো কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে
ভুলক্রুটি আবেগী খুনসুটি সারাক্ষণ তোমায় ছুঁয়ে রাখে
মন অল্পতে প্রিয় গল্পতো কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে
ভুলক্রুটি আবেগী খুনসুটি সারাক্ষণ তোমায় ছুঁয়ে রাখে….

গান শেষ হতেই চারদিকে তালির বহর ছুটলো। সাহেল ভাইয়া হেসে দিয়ে বলে উঠলেন,

— এগুলো হঠাৎ তোলা কিছু ছবি। হাতে ক্যামেরা থাকায় বাজে একটা অভ্যাস তৈরি হয়েছে। তবে থেংক গড তুলেছিলাম। আজ কেমন অসাধারণভাবে কাজে লেগে গেলো দেখো। এনিওয়ে এবার বাই বলার সময় চলে এসেছে। সবসময় হাসি খুশি থাক এই দোয়ায় করি। (আমার দিকে তাকিয়ে) সানশাইন? মুখের হাসিটা কখনও হারাতে দিও না প্লিজ! আল্লাহ হাফেজ।

কথাটা বলেই স্ক্রিনকালো করে উদাও হয়ে গেলেন উনি। সাথে সাথেই মন খারাপ হয়ে গেলো শুভ্রর। মন খারাপ ভাবটা খুব খারাপ একটা অসুখ। কারো মন খারাপ দেখলে সেই ভাবটা মুহূর্তেই অন্যের শরীরে এসে ভর করে। কি অদ্ভুত! জমকালো রিসেপশন একসময় শেষ হলো। ভার্সিটির স্যাররাও এসেছিলেন বলে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিলো আমায়। তবে সব ছাড়িয়ে চিত্রা আর শিশির স্যারের জোড়পূর্বক নাচটা বেশ ইঞ্জয় করেছি আমি। রাতে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় পা তোলে বসলাম। উদ্দেশ্য সাহেল ভাইয়ার গিফ্টটা খোলা। র্যাম্পিং পেপারটা খুলতেই হাতে এলো একটা চিঠি তার সাথে একটা আলব্যাম আর একটা চমৎকার সুন্দর শাড়ি। চিঠিটা মেলে ধরতেই ভেসে উঠলো সেই পরিচিত গুটি গুটি অক্ষরের লেখা,

❤ হেই সানশাইন?
কেমন আছো বলো তো? এই শুভ্র তোমায় জ্বালায় না তো? একদম পাগলাটে টাইপ ছেলে ও। ওর যা চায় তা ওর চায়ই চায়। একটু পাগল হলেও এই পাগল ছেলেটা কিন্তু ভীষণ ভালোবাসে তোমায়। একটু সামলে নিও ওকে। তুমি অনেক লাকি যে ওকে পেয়েছো। ওর মতো ছেলে এখন হয় না বললেই চলে। একটা ছেলে তার প্রেয়সীকে যতটা ভালোবাসতে পারে ও তোমাকে হয়তো তার থেকেও বেশি ভালোবাসে সানশাইন। ওর কাছে তুমি যেমন নিশ্চিন্ত, ওর কাছে তুমি আছো বলে আমিও নিশ্চিন্ত। এনিওয়ে কনগ্রাচুলেশন। তোমাদের কি গিফ্ট দেওয়া যায় ভাবতে ভাবতে চুল পেকে গেছে আমার। দেওয়ার মতো তো কিছুই নেই আমার। আমার খুশিটুকুও অনেক আগে তোমাদেরকেই দিয়ে দিয়েছি। এবার তাহলে কি দিই? তারপর তোমাদের তোলা ছবিগুলোর কথা মনে পড়লো। তারসাথে মনে পড়লো শাড়িটার কথা। তোমাকে প্রথম শাড়িতে দেখার পর ওটা তোমার জন্যই কিনেছিলাম। আমার জীবনের প্রথম নিজে পছন্দ করে কেনা শাড়ি। যদিও শাড়ি সম্পর্কে কোনো ধারনা নেই আমার তবু আমার মনে হয় এই শাড়িটা তোমার মতোই একটা বেস্ট চয়েজ ছিলো আমার। তোমার নামে কেনা শাড়ি অন্যকাউকে দিতে পারবো না তাই তোমাকেই দিলাম। এবার তোমার পালা….এর থেকেও চমৎকার একটা শাড়ি কিনে রিটার্ন গিফ্ট করবে আমায়। আমার জীবনসঙ্গীকেও বেস্টটাই দিতে চাই আমি। কিন্তু আমার বেস্টটা তো তোমার কাছে। তাই বলছি কি? তোমার বেস্টটা এবার আমায় দিও প্লিজ। শুভ কামনা সবসময়। ভালো থেকো আর সবসময় হাসিটাকে আঁকড়ে রেখো।

সাহেল❤

চিঠিটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম আমি। “সাহেল” নামক মানুষটিকে অনেকসময় ভিনগ্রহের কোন প্রাণী মনে হয় আমার। কিভাবে পারেন উনি?

হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে ঘুম ভেঙে গেলো আমার। মনে হচ্ছিলো ভারি কিছু দিয়ে কেউ একজন শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলতে চাইছে আমায়। চোখদুটো খুলে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই অবাক হলাম আমি। শুভ্র শরীরের সম্পূর্ণ ভর দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছেন আমায়। আমি অনেক চেষ্টা করেও নড়তে না পেরে হালকা গলায় ডাকলাম,

— শুনুন? শুনুন না? ছাড়ুন আমায়।

উনি হালকা নড়েচড়ে আরো একটু জোড়ে চেপে ধরে বলে উঠলেন, “উঁহু!”

— উঁহু! কিসের উঁহু? সরুন, দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার….

#চলবে…

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *