তোকে চাই || সিজন -২ || Part_9 ❤ নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

তোকে চাই❤ (সিজন -২)

writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
part: 9

তোকে চাই সিজন ১ সকল পর্ব

তোকে চাই সিজন ২ সকল পর্ব 

💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔💔

সকাল প্রায় ৬ টা।তীক্ষ্ণ কোনো শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো আমার।শব্দটা কোথা থেকে আসছে বুঝার জন্যই মাথাটা তুলে চোখদুটো জোড় করেই মেলে ধরলাম।।কয়েকসেকেন্ড পর বুঝলাম শব্দটা বালিশের নিচ থেকে আসছে।। আমার ফোনটাই বেজে চলেছে এতোটা নিষ্ঠুর ভাবে।।ফোনটা হাতে নিয়ে আছাড় মারতে ইচ্ছে করছিলো তবু রিসিভ করে কানে নিলাম।।সাথে সাথে ওপাশ থেকে উদ্ধিগ্ন কন্ঠে গাঁধার মতো বলে উঠলো চিত্রা…
.
রোদ?এবার আর আমার নিস্তার নেই রে।
.
কেনো?খুন টুন করেছিস নাকি?(শান্ত গলায়)
.
দুপুর দুটোয় পাত্র পক্ষ আসছে। মার ছেলেটাকে বেশ পছন্দ।। মনে হচ্ছে বিয়েটা এবার হয়েই যাবে রে।এবার আমার কি হবে??আজ ভার্সিটিতে সিটি(ক্লাস টেস্ট) আমি পড়বো নাকি টেনশন করবো বল তো?
.
অবশ্যই পড়বি।।বিয়ে নিয়ে এতো টেনশন করার কি আছে বুঝলাম না।।হুট করে কবুল বলে ঠুস করে বাসর ঘরে ঢুকে যাবি৷ এখানে এতো কাঁপা-কাঁপি হাঁপাহাঁপির কিছু দেখছি না আমি।।তার পরের টা তোর বরের উপর ছেড়ে দে।।একবছর পর হসপিটালে তোর বাচ্চা নিয়ে দোলা দুলি।।খেলা-খেলি আমার উপর ছেড়ে দে,,, নো চাপ।।
.
তুই মজা করছিস??আর ইউ কিডিং উইথ মি?
.
নো আম সিরিয়াস।মজা ফজার টাইম নাই।এখন সব সিরিয়াস চলবে….মজা ফজার দিন শেষ।তুই বরং এক কাজ কর…পড়ার টেবিল থেকে উঠে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়।।
.
কেন?(অবাক হয়ে)বিছানায় শুয়ে কি হবে?
.
বিছানায় শুয়ে কি হবে আবার… দৌড়াবি।। ডাফার….বিছানায় শোয়ে মানুষ কি করে?অবশ্যই ঘুমাবি।।
.
এই টাইমে এই টেনশনের মধ্যে আমি ঘুমাবো??
.
অবশ্যই ঘুমাবি।দরকার পড়লে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাবি।।হুমায়ুন স্যার একটা কথা বলেছেন।এক্চুয়েলি বলেন নি লিখেছেন আমি এই ব্যাপারে তার সাথে একমত।।তুই কি শুনবি কি লিখেছেন?
.
হুম বল..(গোমড়া মুখে)
.
উনি লিখেছেন-

“””বিয়ে কোন আনন্দময় ব্যাপার না।মোটামুটি ভাবে ভয়ংকর ব্যাপার।নিজের চেনা বিছানা ফেলে একজন পুরুষ মানুষের গায়ের ঘামের গন্ধের মাঝখানে শুয়ে থাকা – ভাবতেই গা গুলায়।

… হুমায়ূন আহমেদ (রোদন ভরা এ বসন্তে)।।””
বুঝলি? ব্যাপারটা সত্যিই ভয়ংকর।তাই আমি ভাবছি তোর বিয়েতে বেশি করে পার্ফিউম আর রুমস্প্র গিফ্ট করবো।।আইডিয়াটা সুন্দর না??
.
তুই এমন সিরিয়াস টাইপ ব্যাপারে দায়সারা ভাবে কথা বলতে পারছিস রোদ?
.
পারবো না কেনো অবশ্যই পারছি।।তুই এখন এসব ভ্যানভ্যানানি আর প্যানপ্যানানি বাদ দিয়ে ভার্সিটি চলে আয়।।ক্লাস করেই মার্কেট থেকে এক্সপেন্সিভ সিসি টিভি ক্যামেরা কিনবো,,বুঝলি।।তো ফটাফট চলে আয় তো।
.
সিসি টিভি ক্যামেরা দিয়ে কি করবি?(অবাক হয়ে)
.
তোর বাসরঘরের খাটের কোনায় লাগাবো।।একদম লাইফ চলবে।।নাহ্ থাক বাদ দে তোর ওই পেট মোটা জামাই রে দেখা যাবে না।।গা ঘিনঘিন করবে আইডিয়া ক্যান্সেল।।অন্যকিছু ভাবতে হবে।।
.
রোদদদদদ….তুই..
.
আমি ফোনটা খট করে কেটে দিলাম।। এখন সে ননস্টপ আমায় গালি দিবে যা শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই।।আবারও কাঁথা টেনে শুয়ে পড়লাম বাট লাভ হলো না।।ঘুমটা কেটে গেছে।।কোনোরকম ফ্রেশ হয়েই কফি হাতে দাঁড়িয়ে গেলাম ব্যালকনিতে।।সত্যি কি চিত্রার বিয়েটা হয়ে যাবে?একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছি আর ভাবছি….চিত্রাকে ছাড়া আমি কতোটা অসহায়।।ওর উপর বিরক্ত হয়েও শান্তি আছে।সেই শান্তিটার জন্যই আল্লাহর কাছে রোদ প্রার্থনা করি।।ও ভালো থাকুক,,হ্যাপি থাকুক আর সারাটা জীবন আমায় বিরক্ত করুক।।বিয়ে হয়ে গেলে কি ও চেঞ্জ হয়ে যাবে?হতেও পারে,,মানুষের মন বুঝা দায়!!!
.
.
🍁
.
.
ভার্সিটির গার্ডেনের পাশের রাস্তাটায় হেঁটে চলেছি এদিকটা খুব নীরব।।চিত্রা একটু আগেই চলে গেছে।আন্টির কড়া হুকুম ১ঃ৩০ টার আগে বাসায় ফিরবে ছেলে আসবে দেখতে।চিত্রার মুখটা শুকনো ছিলো ওর শুকনো মুখটা দেখে কেনো জানি মন খারাপ লাগছে বেশ।।তাই এই নির্জন পথে হেঁটে মন শান্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।।হঠাৎই কিছু ছেলেকে দেখতে পেলাম ভার্সিটির পেছনের দিকে দিনের বেলাও ছেলেরা নেশা করে জানা ছিলো না।।ওদের দিকে চোখ পড়তেই ফিরে হাঁটা দিলাম।।কিন্তু যা হওয়ার তাই হলো সবাই মিলে পথ আটকে দাঁড়ালো আমার।।নারী দেহের নেশা নাকি বড় নেশা!!!তারাও এখন সেই নেশায় আসক্ত।।ওরা কোনা কথা বলছে না হেলেদুলে একে অপরকে ইশারা করছে।।আমি কি করবো বুঝতে পারছি না,,কোনো ফিলিংসই কাজ করছে না।।একটা ছেলে হুট করেই আমার হাত চেপে ধরলো আমি চিৎকার দেওয়ার আগেই ছেলেটিই চাপা আর্তনাদের মতো শব্দ করে ছিটকে পড়লো।।বাকিরা এমনি এমনি সরে গলে অসম্ভব রকম ভয়ে।।আমি ওদের চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করতেই শুভ্রকে দেখতে পেলাম।।ফরসা মুখটা লাল টগবগে হয়ে আছে।।হাত মুষ্টিবদ্ধ।। চোখদুটোতে যেনো কেউ সূর্য এঁটে দিয়েছে।উনি আমাকে না দেখার ভাব করে ওদের দিকে এগিয়ে গিয়েই কয়েকটা চড় বসিয়ে দিলো গালে….
.
তোদের সাহস কিভাবে হয় আমার ভার্সিটিতে মেয়েদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে??হাউ ডেয়ার অল অফ ইউ।।
তোরা বুঝতে পারছিস তোদের অবস্থা এক্চুয়েলি কি হতে পারে??(রাগী গলায়)
.
সরি ভাই।।আর হবে না।।আমরা বুঝতে পারি নাই।।
.
কি বুঝতে পারিস নাই??বল কি বুঝতে পারিস নাই??
.
কথাটা বলে আবারও মারতে গিয়েও আমার দিকে একনজর তাকিয়ে থেমে গেলো।।কাউকে ফোন করে কিছু একটা বলতেই একদল ছেলে এসে ওদের নিয়ে গেলো।।উনি উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।আমার দিকে তাকাচ্ছেন না।।আমি বুঝতে পারছি না কি করবো।আমার কি উনাকে থ্যাংক্স বলা উচিত??নাকি এভাবেই চলে যাওয়া উচিত??অনেক ভেবে মানবতার খাতিরেই বলে উঠলাম….”থেংক্স”
উনি কথাটা শুনেই আমার দিকে তাকালেন।।রাগের উনার চোখ জ্বলছে।এই চোখে তাকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি মাটির দিকে তাকিয়ে আবারও বলে উঠলাম….
.
আমাকে সেইভ করার জন্য থেংক্স ভাইয়া।
.
সাথে সাথেই দৌড়ে এসে হাত চেপে ধরলেন আমায়।।দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন….
.
তোমার এই সস্তা থেংক্স তোমার কাছে রাখো।।আই ডোন্ট ওয়ান্ট ইট। এখানে কেন এসেছিলে?নিজেকে বিলিয়ে দিতে?তোমার দ্বারা সবই সম্ভব।।
.
আমি কিছু বলছি না।।উনার কথা আমার কানে ঢুকছে বলে মনে হচ্ছে না।।আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি উনার হাতের দিকে যে হাতে উনি আমাকে চেপে ধরে আছেন।।ভার্সিটির প্রথম দিনের পর আজই উনি প্রথম টাচ করলেন আমায়।।কিন্তু মনে হচ্ছে!!!উনি আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে হাতের দিকে তাকাতেই তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নিলেন।।আমি উনার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলাম…..”আবার একটু ধরবেন প্লিজ??কেনো জানি মনে হচ্ছে আপনার স্প….”আর কিছু বলতে দিলেন না উনি তার আগেই ধমক দিয়ো চলে গেলেন সেখান থেকে।।আর আমার মনে রেখে গেলেন সন্দেহ…..
.
.
#চলবে…
.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *