পাগলি মেয়ের ভালোবাসা । ভালোবাসার ছোট গল্প

গল্প ঃ পাগলি মেয়ের ভালোবাসা

সকাল বেলা কম্বল মোড় দিয় ঘুমাইতেছি। এমন সময় কে জেনো পানি মারলো। মেজাজটা গেলো খারাপ হয়ে মুখটা রে বান্দরের মতো বাঁকিয়ে টেলিসামাদ মার্কা ভাব নিয়ে বল্লাম
— কে কে..!
— বাবু ঘুম ভাঙ্গছে
— এই এই আপনি এখানে কেনো
— তো আমি না আসলে আর কে আসবে
— আপনি কেনো আসবেন শুনি?
— কয়েক দিন পর তো এটা আমার রুম হবে তো এখন আসলে সমস্যা কি..?
— কি বলেন..?
— ঠিকই বলি কারণ আমি আপনার……
— আপনি আমার কি..?
— যা আমার বুঝি লজ্জা লাগে না। বউ হবো আরকি..!
— আহারে কি শখ..!
— বুজতে হবেনা কার বউ হবো
— যান এখান থেকে
— আমি আমার future স্বামীর রুমে থাকবো আপনি বাহির করার কে..?

[ads2]

মা ও মা এই ডাইনীটা আমার রুমে কেনো…..। কেনো বাবা কি হইছে। আর ও থাকলে সমস্যা কি..?

— কিছু হলে এমন মাকে ডাকেন কেনো??
— প্লিজ এখান থেকে যান।
— যাবো তো আগে একটু আদর করি।
— এই এই আমার কাছে একদম আসবেন না.!
— টুট..টুট..টুট……..(Kiss)
— হায় হায় বাচ্চা ছেলেটা বুঝি বড়ই হয়ে গেলো

তারপর.. তারপর ও ছলে গেলো। আমি হা করে শুধু তাকিয়ে আছি বাচ্চা ছেলেটা এটা কি করলো।

ও আচ্ছা পরিচয় টা দি। আমি তানভীর বাবা মায়ের আদরের সন্তান। আর এতোক্ষন যার সাথে কথা বলছিলাম সে হচ্ছে আমার মায়ের বান্ধবীর মেয়ে। নাম শ্রাবন্তী দেখতে মাশআল্লাহ কিন্তু আমার উপর একটু attractive.

আমি আবার এতো কিছু বুঝিনা। বাচ্চা পোলা তো। আচ্ছা এখন কলেজ যাই।

কলেজ গেটে ডুকার পর কিছু মেয়ে আমাকে এসে বল্লো
— ভাইয়া আপনাকে অন্নেক সুন্দর লাগতাছে..!
— তাই বুঝি….!
–oh ভাইয়া আপনি তো অন্নেক সুইট..!
— পকেট থেকে মোবাইলটা বাহির কইরা বারবার মুখ দেখতে ছি। ওওওও আল্লাহ আমি এতো কিউট ক্যারে…..!
— ভাইয়া একটা গান বলবেন প্লিজ প্লিজ…!?
— তোমরা যেহেতু বলছো না বলে কি আর পারি……..
” লা……লা…..লা….
লি………লি…..লি….
লু……….লু………লু…
লে টাক্লু…………
আ……আ……আ…..

হায় হায় কি কোকিলের মতো কন্ঠ আমার। এখনো মনে আছে একবার স্কুল লাইপে ক্লাসে গান গাইছিলাম আর আমার গান এতো সুন্দর হইছে যে উপস্থিত সবাই জুতা মারছিলো

— সবাই দেখি কানে হাতদিয়ে রাখছে। মনেয় ভালো হইতাছে। আবার দিলাম টান…
” আ…….আ………আ……..
” লালালা…লিলিলি….লুলুলু…

— ভাইয়া থামেন থামেন…!
— আর একটু আছে তো…

এমন সময় শ্রাবন্তীর আগমন। এই এই তোমরা যাও আর এখানে কি হচ্ছে হ্যা।

— দিলেতো রোমান্টিক মোডটি নষ্ট করে
— ঠাসসসসসসসসস…………..! মেয়ে দেখলেই রোমান্টিকতা আসে
— আপনি আমাকে মারলেন কেনো??
— রাগ করছো..!
— যান এখান থেকে। যত্তসব আজাইরা পাইল..টুট…টুট….. টুট

এবলে ছলে আসলাম। শ্রাবন্তী এখনো সেখানেই দাড়িয়ে আছে হয়তো আমার ছলে যাওয়া দেখছে।
আসলে ওর সাথে এভাবে খারাপ ব্যাবহার করাটা ঠিক হয় নি। এখন নিজের কাছেও খারাপ লাগছে।

রাত্রি বেলা বাসায় এসে শুয়ে আছি। শুধু বার বার শ্রাবন্তীর কথায় মনেপড়ে। হঠাৎ মা এসে বল্লো তুই শ্রাবন্তীকে কি বলেছিস মেয়েটা নাকি সারাদিন কান্না করেই যাচ্ছে।
এমন সময় আন্টির ফোন বাবা তানভীর একটু আমাদের বাসায় আসবি ওতো কিছুই খাচ্ছে না।
— আচ্ছা আন্টি আমি দেখতেছি

[ads1]

তারপর ওদের বাসায় গেলাম সারাদিন মনেহয় অনেক কান্না করছে এখনো চোখ ফুলে আছে। আমাকে দেখার পর…

— তুই কেনো আসলি….?
— আমি আসতে পারিনা..!
–না পারস না…!
— ও আমি ভাবছিলাম পারি আচ্ছা আমি যাই..!
— কই যাস আমাকে নিবিনা (হাত ধরে)
— কিন্তু তুই যে বল্লি….!
— আচ্ছা আমি কি দেখতে অনেক খারাপ অনেক পছা..?
— কই নাতো..?
— আচ্ছা আমাকে কি ভালোবাস যায়না। সত্যি আমি তোমায় অনেক ভালোবাসবো (কান্না জড়িত কন্ঠে)
— আরে পাগলী কান্দস ক্যান আমিতো আসি..
— তাহলে জড়িয়ে ধর..
— ধরলাম
— আর কক্ষন ঐ মেয়ে গুলোর সাথে মিশবে না। তুমি জানো আমি ভাবছিলাম হয়তো তোমায় হারিয়ে ফেলছি। আর বাবু আমি মারছি যে তুমি ব্যাথা পাইছো আমি সরি তো..!

আমি কিছুই বল্লাম না কেনো জানি ওর বোকা বোকা কথা গুলো আজ খুব ভালো লাগে।

— আচ্ছা সারাদিনতো কিছুই খাও নাই এখন খাও।
— তুমি খাইয়ে দিবে তো..?
— হায়রে পাগলী আমারেও এখনো আম্মু খাইয়ে দেয় আর আমি……..
থাক হয়তো এটাই ভালোবাসা।

গল্পঃ পাগলী

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *