পিচ্চি বউ ( সিজন-2 ) part-8

#পিচ্ছি বউ-পর্ব-৮
#কাব্য আহম্মেদ

আপনাকে না হারিয়ে ফেলি।
হাউমাউ করে কেঁদে দিলো।
– আরে পাগলী হারিয়ে ফেলবি মানে?
– মানে, আপনি যদি কখনো অন্যকারো হয়ে যান বা হারিয়ে যান।
– মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না। আর আমার এতো কিউট পিচ্ছি বউকে ছেড়ে আমি কার কাছে যাবো। হ্যা।
আমি জরিয়ে ধরলাম তিথিকে।
– আচ্ছা, এখন আমি অফিসে যাই?
– না, আপনি কোথাও যাবেন না।
– মানে!
– মানে, আজ আপনি সারাদিন আমার সাথে থাকবেন। আমি কোত্থাও যেতে দিবো না আপনাকে।
– ওকে, ওকে। শুধু কি দিন? রাতে কার সাথে থাকব?
– মানে!
– মানে, তুমিতো বললে সারাদিন তোমার সাথে থাকব। তাহলে রাতে কার সাথে থাকব?
– অবশ্যই আমার সাথে থাকবেন।
– ওও।
তিথি কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর চেঁচিয়ে উঠল,
– একমিনিট একমিনিট। আমি ছাড়া আপনার আর কয়টা বউ আছে যে, রাতে অন্যকারো সাথে থাকবেন।
– কয়টা বউ মানে! আমার বউতো একটাই..
– তাহলে, যেহেতু আপনার বউ একটা সেহেতু তার সাথেই থাকবেন। তাহলে আমাকে প্রশ্ন করলেন কেনো যে কার সাথে থাকবেন?
– আরে, তুমিই তো বললে সারাদিন তোমার সাথে থাকব। তাই আমি বললাম রাতে কার সাথে থাকব।
– আচ্ছা, সত্যি করে বলেন তো। আপনার আর বউ টউ নাই তো..
আমি তিথিকে জরিয়ে ধরলাম,
– আমার আরেকটা বউ থাকলে কি তোমাকে একাই এতো ভালোবাসা দিতাম?
– ওও, তাহলে আপনার আর দু-একটা বউ থাকলে আমাকে কম ভালোবাসতেন বুঝি।
মুখ ঘোমড়া করে বলল।
– তোমার মতো পিচ্ছিকে না এমনিতেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে বুঝলে।
– বুঝলাম।
তখনই আম্মু কাব্য, কাব্য ডাকতে ডাকতে রুমে এলো। আমি তাৎক্ষণিক তিথিকে ছেড়ে দিলাম। তিথি ও নিজেকে গুটিয়ে নিলো,
– কিরে তোরা ফিরে এলি যে? ( আম্মু )
– এমনি আম্মু। তিথির ভালো লাগছিল না তাই নিয়ে এলাম।
– বুঝলাম। তাহলে তুই বসে আছিস কেনো? যা অফিসে যা।
আমি বসা থেকে উঠতে গেলে তিথি আঠকালো,
– আম্মু, একদিন অফিসে না গেলেই তো হয়। আমিই উনাকে আঠকিয়েছি। আসলে আমার ভালো লাগছিল না..।
– তোর শরীর খারাপ নাকি?
তিথিকে উদ্দেশ্য করে বললেন আম্মু।
– নাতো, এমনিই।
– ওও, ভালোতো। কাব্য আজ তাহলে বাসায়ই থেকে যা।
আম্মু চলে গেলো। তিথি উঠতে গেলে আমি জরিয়ে ধরলাম। ওর কাধে থুতুনি রাখলাম। হাত পেটে স্লাইড করতে লাগলাম। তিথি বারবার কেপে কেপে উঠছিল।
– কিক কি করছেন?
চোখ বন্ধ অবস্থায় বলল।
– কেনো? আদর করছিল।
– ইশ! ছাড়ুন তো। আমার কাজ আছে।
– উহু, আমি জানি তোমার কোনো কাজ নেই।
– ছাড়ুন না। আমার কাতুকুতু লাগছে। খুব সুড়সুড়ি করছে পেটে।
আমি কোনো কথা বললাম না। তিথির ঘাড়ে মুখ ঘসতে লাগলাম। তিথি ঘন ঘন নিশ্বাস নিতে লাগল। চুল সরিয়ে ঘাড়ে চুমু একে দিলাম। তখনি আম্মু ডাকলো তিথিকে,
– তিথি, তিথি এদিকে আয়তো একটু..।
আমি ছেড়ে দিলাম তিথিকে। তিথিও ছাড় পেয়ে দিলো দৌড়।
( বিকেলে )
সারাদিনে একবারও তিথি আমার কাছে আসলো না। আমাকে অফিস যেতে দিলো না। বলল আজ সারাদিন আমার সাথে থাকবে। আর এখন কি না ওর দেখাই মিলছে না।
যাক বেশ ভালো হয়েছে। পাশে থাকলে তো শুধু আদর করতে ইচ্ছে করে পরী বউটাকে। কখন যে কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি কে জানে?
,
তিথি মিসেস সাবিনার পাশে বসে গল্প করছে। বারবার সকালের কথা মনে পড়ছে তিথির। ইশ! উনি কি বেশরম? আমার পেটে হাত দিয়েছেন। খুব সুড়সুড়ি করছিল তখন। বেশ ভালোও লাগছিল। তিথি একটু লজ্জা পেলো। গালদুটো গোলাপি হতে গেলো। রহিমা খালা (কাজের লোক) ডেকে গেলেন তিথিকে,
– তিথিমনি, ছোট সাহেব তোমাকে ডাকছেন।
তিথি যাবে কি না ভাবছে? গেলেইতো আবার জরিয়ে ধরবেন। আগেরবার ছাড় পেলেও এখন তো ছাড় দিবে না বুড়োটা। বুড়ো বয়সেও এতো রোমান্টিকতে কই থেকে যে আসে।
– কিরে তিথি কি ভাবছিস? যা কাব্য তোকে ডাকছে।
– হ্যা, হুম যাচ্ছি।
তিথি আস্তে আস্তে হেটে রুমের দিকে গেলো। দরজা ফাক দিয়ে থাকিয়ে দেখল কোথায় আছেন উনি? উঁকিঝুঁকি মেরে দেখল,
– নাহ, মনে হয় ওয়াসরুমে আছেন উনি ।
দরজা ঠেলে রুমে ডুকতেই ধাক্কা খেলো তিথি। পড়েই যেতেই আমি ধরে ফেললাম।
তিথি চোখ বন্ধ করে আছে। আমি তাকিয়ে আছি তিথির মুখের দিকে। কি বাচ্চা বাচ্চা আভাস মুখে? এতো কিউট। তিথি একটু একটু করে তাকাল,
– উফ! আপনি?
– হ্যা, আমিইতো। আর কেউ থাকবে নাকি?
তিথিকে সোজা করে দাড় করিয়ে বললাম।
– হ্যা, আমিতো ভেবেছিলাম অন্যকেউ।
– মানে!
তিথির দিকে এগিয়ে গেলাম রাগী লুক নিয়ে।
– আরে এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো? আমিতো ভেবেছিলাম দেয়াল। আমি ভাবলাম এই বুঝি আমার কপালে ফেটে গেলো।
– আমাকে তোমার দেয়াল মনে হয়।
– হ্যা।
বলেই জিভ কাটল তিথি। আমি এগিয়ে গেলার তিথির দিকে।
– না, মানে। একটা কথা বলার ছিল।
– বলো।
– এভাবে, এগিয়ে আসবেন না প্লিজ। আমার ভয় করে।
বাচ্চাদের মতো কাচুমাচু হয়ে বলল।
– ওকে, এগুবো না। বলো..
হাসি দিয়ে বললাম।
– আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন?
– আচ্ছা। চলো তাহলে রেডি হয়ে যাও।
– সত্যি, থ্যাঙ্কু। উম্মাহ।
বলে আমার গলা জরিয়ে ধরে চুমু খেলো। আমি তিথির দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিথি আমতাআমতা করে বলল,
– আসলে বেশ কয়দিন পর ঘুরতে যাচ্ছিতো তাই খুশি হয়ে ওটা করে ফেললাম। আপনি আগেতো ঘুরতে নিয়ে যেতেন। এখনতো বিজি থাকেন আপনি।
– ওকে, যাও রেডি হয়ে নাও। আর শুনো একটা শাড়ি পড়ে নাও।
তিথির মুখ মলিন হয়ে গেলো। মাথা নিচু করে বলল,
– আমি শাড়ি পড়তে পারি না।
– সমস্যা নেই। আমি পড়িয়ে দিবো।
তিথি অবাক হয়ে তাকাল আমার দিকে।
– মানে! না, না আমি আম্মুর কাছে গিয়ে পড়ে নিবো।
আলমারি থেকে একটা মেরুন কালারের শাড়ি নিয়ে তাড়াতাড়ি বের হতে গেলে। আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াল,
– বউদেএ স্বামী কথা শুনতে হয়। তুমি জানো না?
– না, আসলে
– কোনো আসলে টাসলে নাই। আমি পড়িয়ে দেবো ব্যাছ।
তিথিকে ঠান মেরে বুকে নিয়ে এলাম। দরজা লাগিয়ে নিলাম। তিথি মাথা নিচু করে রইল লজ্জায়।
,
শাড়ি পড়িয়ে দিতে লাগলাম তিথিকে। তিথি চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল।
আমি পেটের কাছে বসে কুচি ঠিক করতে লাগলাম। আমার নিঃশ্বাস তিথির পেটে পড়ছিল। তিথি কেপে কেপে উঠছিল। চোখের সামনে তিথির নাভি দেখে ঠিক থাকতে পারলাম না। চুমু খেয়ে নিলাম পাশে। তিথি আমার মাথা চেপে ধরল।
আমি উঠে পড়লাম। কুচি ডুকিয়ে দিলাম। হাত লাগল পেটে। তিথি হাত আকড়ে ধরল। নখ বসিয়ে দিলো।
আমি আচলটা তিথির কাধের উপর রাখলাম। তিথির থুতুনি উপরে তুলে তিথির দিকে তাকালাম। তিথি চোখ খুলল। আমাকে জরিয়ে ধরল লজ্জায়। বেশ কিছুক্ষণ পর,
– আচ্ছা, আপনি শাড়ি পড়ানো শিখলেন কোথা থেকে?
অবাক হয়ে প্রশ্ন করল আমাকে।
– ইউটিউবে দেখে।
– তাই।
তারপর কিছুক্ষণ কি যেন ভাবল তিথি?
– তার মানে, তুমি নিশ্চয়ই ঐ মেয়েটার পেট দেখেছিলে তাই না।
– হুম।
মুচকি হেসে বললাম।
– ইউ চিটার। তুমি খুব খারাপ, বদ লোক একটা ।
আমাকে মারতে লাগল। কয়েকটা কিল ঘুসি বসিয়ে দিলো বুকে। তিথি কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলো। চলে যেতে চাইলে আমি ঠান মেরে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম,
– আমার বউ কি জেলাস?
তিথি কান্না করতে লাগল। আমি তিথির চোখ মুছে দিলাম,
– আরে পাগলি। ওটাতো পুতুল ছিলো।
– সত্যি।
– হুম।
তিথি জরিয়ে ধরল আমাকে।
– আপনি শুধু আমার। আমার সব দেখবেন। আর কারো কিচ্ছু দেখবেন না।
– তাই।
– হুম।
– তাহলে দেখাও।
– কি?
– এই না বললে আমি শুধু তোমার সব দেখব আর কারো কিচ্ছু দেখবেন না।
তিথি বুঝতে পারল আমি কি বলছি? লজ্জা পেলো একটু,
– যাহ, খবিশ..
– এখন আমি খবিশ হয়ে গেলাম।
– আরে বুঝেন না কেনো আমার লজ্জা করেতো।
– আচ্ছা, এখন চলো যাওয়া যাক।
– হুম।
,
আম্মুর পার্মিশান নিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তিথি পাশেই বসে ছিল। আমি বারবার তিথির দিকে তাকাচ্ছিল,
– আচ্ছা, আপনি এই শার্ট পড়েছেন কেনো?
– মানে, কেনো? ভালো লাগছে না।
– উফ! আপনাকে না বললাম এসব হট হট শার্ট না পড়তে।
মুখ-কপাল কুঁচকে বলল।
– শার্ট আবার হট হয় কি করে?
হাসি আঠকিয়ে বললাম।
– আপনি জানেন। আপনাকে কি হ্যান্ডসাম লাগছে এই শার্টে?
– ওহ, ধন্যবাদ।
– ধন্যবাদ বললে হবে না। আপনাকে না বলেছি এরকম শার্ট না পড়তে। সব মেয়েতো তাকিয়ে থাকবে আপনার দিকে।
– তো।
– তো মানে।
তিথি চেঁচিয়ে উঠল।
– আরে চেঁচাচ্ছ কেনো?
– স্বামী আমার তাকাবে কেনো ওরা? মেরে ফেলবো শাঁকচুন্নিদের।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।
– তিথিমনি, কি বলেছিলাম মনে নেই? আমি শুধু তোমারই থাকবো। কারো হবো না।
– সত্যিতো..
– হুম, সত্যি।
– তাহলে, নাক ধরে প্রমিস করুন।
আমি ফিক করে হেসে দিলাম।
– নাক ধরে কেউ প্রমিস করে নাকি?
– কেউ করে না তাই আপনাকে দিয়ে করাচ্ছি।
অতঃপর নাক ধরে প্রমিস করতে হলো । গাড়ি নিয়ে থামালাম একটা পার্কে গিয়ে। পার্কটার পরিবেশ খুব সুন্দর। নেই কোনো কোলাহল। চারপাশের পরিবেশ মনকে মুগ্ধ করে দেয়।
পার্কে ডুকে তিথি চারপাশ দেখতে লাগল। আর প্রশংসা করতে লাগল। সাথে ফ্রিতে একটা পাপ্পি দিলো।
পার্ক থেকে বের হয়ে ব্রিজে নিয়ে গেলাম তিথিকে। পাশের রেলিংয়ের কাছে উঁচু স্থানে দুজন হাঠছিলাম। তিথি আমার ধাক্কা মেরে নিচে নামাল। তারপর হাইট মাপল,
– এখন ঠিক আছে। সমান সমান। একেবারে পার্ফেক্ট।
আমি হেসে দিলাম। হাওয়াই মিঠাই দেখে তিথির সেকি খুশি। তাকে কিনে দিতেই হবে। ঝাল দিয়ে ফুসকাও খেলো। চুখ দিয়ে পানি পড়ছে তবুও খাচ্ছে। বুঝিনা এতো ঝাল দিয়ে খাওয়ার দরকার কি? তাহলে।
আইসক্রিম ওয়ালাকে দেখে দাঁড়িয়ে রইল। তাকিয়ে রইল আইসক্রিমের গাড়িটার দিকে।
– কি হলো তিথি?
– নাহ, কিছু না।
মন খারাপ করে রইল তিথি। আমি বুঝে নিলাম তিথি কি চাইছে?
– আইসক্রিম খাবে?
খুশিতে তিথির চোখ জ্বলমল করে উঠল। আবার মুখ ঘোমড়া করে নিলো,
– আপনি বকবেন।
– আমি কখনো বকি তোমাকে?
– একটু আগেওতো বকলেন। ফুসকা খাওয়ার সময়।
– তখন বকেছি। বেশ করেছি। এতো ঝাল দিয়ে কেউ ফুসকা খায়।
– আচ্ছা, এখন তাড়াতাড়ি যান না। আইসক্রিম নিয়ে আসুন।
– আরে যাচ্ছিরে বাবা।
তিথিকে আইসক্রিম এনে দিতেই খপ করে নিয়ে নিলো। বাচ্চাদের মতো খেতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর আমার মুখের সামনে ধরল আমি একটা কামড় দিলাম। তিথি হেসে উঠল,
– এতো বড়ো কামড় দিয়ে কেউ আইসক্রিম খায়।
আমিও হেসে দিলাম।
( পরদিন)
তিথিকে দিয়ে আমি অফিসে এলাম। ফাইলগুলো দেখতে দেখতে লাঞ্চের সময় হয়ে গেলো। তখনি উপস্থিত নীরার। নীরা আমার কলেজ ফ্রেন্ড। আমাকে পেয়েই জরিয়ে ধরল। তারপর অনেক কথা।
দরজায় তাকাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। এ যে তিথি দাঁড়িয়ে। হাত এটা কি? টিফিন বক্স।
,
(তিথি)
লাঞ্চে উনার জন্য খাবার নিয়ে গেছিলাম উনার অফিসে। গিয়ে যা দেখলাম। আমার খুব কান্না পাচ্ছে। একটা মেয়ে উনার গলা জরিয়ে ধরে আছে পিছন থেকে। আর উনি হেসে হেসে লেপটপে কি যেন দেখাচ্ছেন?
চলবে…….

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *