পিচ্চি বউ ( সিজন-2 ) part-11 end

#পিচ্চি বউ- অন্তিম পর্ব
#কাব্য আহম্মেদ

তিথির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। তারপর হাতের শার্ট ফেলে ঘটঘট করে চলে গেলো।
আমি হেসে দিলাম। পিচ্ছি জেলাসবতী বউ আমার।
– কাব্য, চলো যাওয়া যাক।
– হুম, চলো।
নিচে গিয়ে দেখলাম তিথি বস আছে মুখ ফুলিয়ে। তিথির মুখ ফুলানো দেখে আমি হেসে দিলাম। তিথি আমার দিকে তাকিয়ে দেখল নিশির চুজ করা শার্ট পড়েছি। রাগে হাত শক্ত করে মুটো করে রইল।
– কি হলো তিথি? তুমি যাবে না? (আমি)
তিথি চুপ করে বসে রইল। কোনো কথা বলছে না। সোফার কাপড় আঁকড়ে ধরল রাগে।
– আরে তিথি তাড়াতাড়ি চলো। আর তুমি সাজগোজ করোনি কেনো? জাষ্ট একটা শাড়ি পড়ে আছো। (নিশি)
আমি তিথির দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিথি একটা পিঙ্ক কালারের শাড়ি পড়েছে। মুখে নেই কোনো সাজ। তবুও পরীর মতো লাগছে। আর সাজলে তো আমি শেষ।
– তিথি, চলো… (আমি)
হেসে বললাম।
– হ্যা, চলুন।
দাতে দাত কটমট করে বলল। তিথি আমার পিছুপিছু আসছিল। নিশ্চয়ই পিছন থেকে আমাকে বকাবকি করছে। আমি এক পা পিছিয়ে গেলাম। তিথির কানে কানে বললাম,
– না, সেজে ভালোই করেছো। না জানি কখন নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি।
অন্য দিকে তাকিয়ে বললাম লাষ্ট কথাটা।
– ওহো তাই, ঐ ঢঙীটাতো সেজেছে। তো ওর কাছে যান। কন্ট্রোল করা লাগবে না। গিয়ে চেপে ধরুন। যতসব কন্ট্রোল শুধু আমার বেলায়।
রেগে গিয়ে বলল।
– ছিঃ ছিঃ কি বলো এসব? আমার বউতো আছেই। তাহলে ওর কাছে যাবো কেনো?
– তাই, এতো ভদ্র আপনি? বদ লোক একটা। বাসায় বউ থাকতে অন্য মেয়ের সাথে ঘেসাঘেসি করতে লজ্জা করে না ।
– ছিঃ কি বলো এসব? আমি মোটেও এরকম না।
সামন থেকে নিশি বলে উঠল,
– কি হলো কাব্য? আসছ না যে।
– হ্যা, হ্যা। আসছি তো ।
সামবে এগিয়ে গেলাম নিশির পাশে। পিছনে তাকিয়ে দেখলাম তিথি রাগে কটমট করছে।
– আচ্ছা, আমাকে কেমন লাগছে কাব্য?
– হট লাগছে।
– যাহ! তুমি তো ভারী দুষ্ট।
– হ্যা, আমার সাথেও সারাক্ষণ দুষ্টুমি করে।
পিছন থেকে বলে উঠল তিথি। দুই-পা এগিয়ে এসে আমার আর নিশির মাঝে ডুকে পড়ল। আমি কোনোরকমে হাসি আঠকালাম। তিথি বেশ জ্বলছে। নিশিকে হট বলায় থাকতে পারল না আর। নিশিকে জেলাস করানো জন্যই যে, কথাটা বলেছে সেটা আমি বুঝতে পারছি।
,
( তিথি )
দাড়াও দেখাচ্ছি মজা। খুব হট লাগছে ঐ মেয়েটাকে তাই না। তোর ইতরামি আমি বের করছি। বেশরম একটা। লজ্জা করে না বউয়ের সামনে অন্য একটা মেয়েকে হট বলতে। আর নিশি ঢঙ্গীটাও এমন ভাব করছে যেন, বরটা উনার। কুত্তি, শাঁকচুন্নি তোকে যদি এই বাসা থেকে বিদায় না করছি তাহলে আমার নাম তিথি না।
রাগে ফুঁসতে লাগল তিথি।
– কি হলো তিথি? তোমার কি শরীর খারাপ? তাহলে বাদ দাও ঘুরতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
( আমি)
– মানে! ( তিথি)
– মানে, তোমাকে কেমন যেনো দেখাচ্ছে। আজ সাজগোজও করোনি। ব্যাপার কি?
– বেশ করেছি। সাজগোজ করতে আমার ভালো লাগেনি তাই করিনি।
– নাহ, আমি ভাবলাম তোমার ঘুরতে যেতে ভালো লাগছে না। তুমি বরং বাসায় যাও আমি আর নিশি ঘুরে আসি।
( আমি)
– হ্যা, কাব্য ঠিক বলেছে তিথি। ( নিশি)
তিথি মনে মনে ভাবল, বেশ শখ ঐ ঢঙ্গীটাকে নিয়ে একা একা ঘোরার। সেটাতো হতে দিবো না আমি।
– জ্বি না। আমার বেশ ভালো লাগছে ঘুরতে। এখন চলুন। আর একটা কথা আমার মন খারাপ না আমি ভিষণ এক্সাইটেড ঘুরতে যাওয়ার জন্য।
– তাই। (আমি)
– হুম।
আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন খেয়েই ফেলবে।
গাড়িতে বসতে গেলেই নিশি আবদার করে বসল,
– কাব্য, তোমার সাথে কি সামনের সিটে বসতে পারি। ( নিশি)
আমি একটু ভেবে বললাম,
– হ্যা, অবশ্যই।
– মানে! উনি সামনের সিটে বসবেন কেনো? তুমি জানো না আমি সিটে বসি।
( তিথি)
– আরে তিথি, একদিনেরই ব্যাপার তো। তুমি আজ না হয় পিছনের সিটে বসো। আমি আর নিশি সামনেই বসি।
তিথি কিছু বলতে যাবে তখনি নিশি বলে উঠল,
– আরে তিথি কাব্য সত্যিই তো বলেছে। ওর যখন আপত্তি নেই তাহলে তোমার আপত্তি কোথায়?
( নিশি)
– আপত্তি তো আমারই। কারন ঐ লুচ্চা বরটাও আমার।
( মনে মনে)
গাড়িতে উঠে বসলাম। তিথি পিছনেই বসল। সামনের সিটে আমি আর নিশি । লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিথি মন খারাপ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বোধ হয় কষ্ট পেয়েছে। আমারও খারাপ লাগলো।
( তিথি)
এতক্ষণ খারাপ লাগলেও এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। একটা মেয়ের জন্য উনি আমাকে পিছনের সিটে বসালেন। ঐ ডঙ্গীটা কি হয় উনার? ওও সামনের সিটে বসবে কেনো? বসব তো আমি। আমি উনার বউ। ঐ ঢঙ্গীটা না। খুব কান্না পাচ্ছে। এতোটা ইনসাল্ট আর অবহেলা করছেন আমাকে উনি।
,
– তিথি, আর ইউ ওকে? (আমি)
– ইয়াহ, আই এম ওকে। ( তিথি)
– সামনের সিটে বসবে।
– নাহ, ইট’স ওকে। থ্যাঙ্কস।
বুঝলাম তিথি রাগ করেছে সেই সাথে কষ্টও পেয়েছে। এতদিন আমি কষ্ট পেয়েছি এখন তুমি এর কিছুটা কষ্ট অনুভব করে দেখো কেমন লাগে? প্রিয় মানুষটা যখন কষ্ট দেয় কেমন লাগে তখন। মানলাম ভুল করো তুমি। বাসর ঘরেও তুমি আমাকে তোমার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলেছি। হ্যা, মানা না করলেও আমি সেদিন তোমাকে ছুঁয়েও দেখতাম না। পিচ্ছি একটা মেয়ে তুমি। কিন্তু, নিজের অজান্তেই বারবার কষ্ট দিয়ে ফেলেছো তুমি আমাকে।
– কি ভাবছো কাব্য? ( নিশি)
– নাহ, কিছু না। (আমি)
– তোমাকেতো বেশ হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে। তোমাকে দেখে মনে হয় না তোমার বয়স ২৮+। যা বডি।
– ধন্যবাদ, নিশি। ইউ লুকিং অলসো প্রিটি & হট। ( টেডি স্মাইল দিয়ে বললাম)
তিথিতো না পারছে গাড়িতে বসে থাকতে। গালদুটোতো ফেটে যাবে বোধ হয়। আমি কোনো রকমে হাসি আঠকিয়ে রাখলাম।
– বাই দ্যা ওয়ে, তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম না। স্লিভলেস শাড়িতে। কি যে বলব। মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো একটা সিন ছিল। ( আমি)
– স্টপ..
পিছন থেকে চেঁচিয়ে উঠল তিথি।
– কি হলো তিথি? (আমি)
– গাড়ি থামাতে বলেছি। ( তিথি)
– কেনো? গাড়ি থামাবে কেনো? ( নিশি)
– আমি আইসক্রিম খাবো। দুটো আইসক্রিম এনে দেন।
আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল তিথি। আমি বেশ বুঝতে পারছি তিথির এখন আইসক্রিম খাওয়ার কোনো শখ নেই। আমাকে আঠকানো জন্য এটা করেছে জাষ্ট। আমি গাড়ি থেকে বেরুলাম,
– নিশি, তুমি আইসক্রিম খাবে?
– নাহ,এসব বাচ্চাদের খাবার আমি খাই না।
নিশি বিরক্তি নিয়ে বলল।
– ওহ।
আমি দুটো আইসক্রিম নিয়ে এলাম তিথির জন্য। তিথি সেগুলো হাতে নিয়েই গলাচ্ছিল। আমি আর নিশির হেসে হেসে কথা বলা দেখে তিথি যেই ভয়ংকর মুখ বানিয়েছিল না। মনে হয় চোখ দিয়ে গুলি করে দিবে।
অনেক জায়গায় ঘুরলাম। নিশি বারবার আমার হাত ধরছিল। সেটা দেখে তিথি ফুঁসছিল। কিন্তু, কিছু বলতে পারছিল না।
,
তিথি একটা ছেলের সাথে বেশ হেসে হেসে কথা বলছে। আমার তো সেই লেভেলের রাগ উঠল,
– এক্সিউজ মি…
বলে তিথির হাত ধরে তিথিকে টেনে নিয়ে এলাম,
– কি হচ্ছে এখানে? ( আমি)
– কি?
তিথি না বুঝার ভান করে বলল।
– বুঝতে পারছো না কি বলছি? ঐ ছেলেটার সাথে এতো কথা কিসের?
তিথির হাত চেপে ধরে বললাম।
– আহ, লাগছে ছাড়ুন।
– লাগুক। ঐ ছেলেটার সাথে এতো কথা কিসের তোমার?
– ওও, আমার ছোট ভাই।
হাত ছাড়ামোর বৃথা চেষ্টা করে বলল। একটু জোরেই ধরেছিলাম তাই তিথির চোখে পানি ঠলমল করতে লাগল।
– মানে!
– স্কুলে আমার জুনিয়র ছিল। এখন এখানে পেয়ে কথার জুড়ি বসিয়ে দিয়েছে। স্কুলে থাকাকালীন ওও আমাকে আপু বানিয়েছিল।
ছল ছল চোখে বলল। আমি তিথির হাত ছেড়ে দিলাম।
– ওহ, সরি তিথি। আমি আসলে বুঝতে পারিনি।
( আমি)
– ইট’স ওকে, আমি কিছু মনে করিনি।
– সত্যি।
– হুম। আপনি আমার স্বামী হোন। যেকোনো কিছু করতে পারেন আমার সাথে।
আমি অবাক হয়ে তাকালাম তিথির দিকে। এমনভাবে কথা বলছে কেনো তিথি? যেনো খুব বড় হয়ে গেছে।
বাসায় ফিরে এলাম। এখন তিথি বেশ স্বাভাবিক। আগের মতোই দেখলাম কথা বলছে। কিন্তু, বিকেলে ঐ রকম এডাল্ট ভাব নিয়ে কথাটা বলল কেনো? দূর এমনিই বলেছে বোধ হয়।
( পরদিন)
– আমাকে একটু কলেজে ড্রপ করে দিন না। আজ ফলাফল দিবে। ( তিথি)
আমি লেপটপে কাজ করছিলাম। তখনই তিথি কথাটা বলল।
– তিথি, তুমি বাসার গাড়িতে চলে যাও। আমি একটা দরকারি কাজ করছি।
তিথি কিছু না বলে মন খারাপ করে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর কাজ শেষ হতেই তিথির কথা মনে পড়ল। ইশ! মেয়েটা বোধ হয় মন খারাপ করে চলে গেছে। একটু ড্রপ করে দিলেই তো পারতাম। যাই একটু দেখে আসি এসেছে কি না?
রুম থেকে বেরুতেই হাতে ঠান অনুভব করলাম।
( তিথি)
আজ আমি খুব খুশি। পরীক্ষায় প্রথম হতে পেরেছি। সব উনার জন্যই। উনি পাশে থাকায় হয়তো সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। উনাকে জানাই গিয়ে খবরটা।
তিথি দৌড়ে গেলো খবরটা জানানো জন্য কিন্তু গিয়ে যা দেখল।
আমি হাতে ঠান অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখলাম নিশি,
– কি হলো নিশি? (আমি)
– কাব্য, আই লাভ ইউ। ( নিশি)
জরিয়ে ধরে বলল। আমি নিশিকে ছাড়িয়ে নিলাম,
– আর ইউ ম্যাড নিশি। তুমি জানো আমি বিবাহিত। আমার বউ আছে। তারপরও…
– হ্যা, জানি। কিন্তু, তোমার বউ অতিরিক্ত পিচ্ছি। তোমার সাথে ওর যায় না। ওও তোমাকে ভালোবাসতে পারবে না কাব্য। তোমাকে সুখ দিতে পারবে না। আমাকে এক্সেপ্ট করে দেখো। আমি যতটা আনন্দ দিবো তোমাকে ঐ পিচ্ছি মেয়েটা তোমাকে তা দিতে পারবে না। ( নিশি)
তিথি এসে নিশির লাষ্ট কথাগুলো শুনতে পেলো। কান্না আঠকে রাখতে পারল না। কান্না করে দিলো। এক দৌড়ে রুমে ডুকে পড়ল।
আমি পিছনে তাকিয়ে দেখলাম তিথি কান্না করতে করতে দৌড় দিয়ে রুমের দিকে গেছে। পিছনে ডাকলাম কিন্তু তিথি শুনলই না।
সজোরে একটা চড় মারলাম নিশিকে।
– তুমি একটা বাজে মেয়ে। আরেকটা মেয়ের সংসার ভাঙতে চাচ্ছো। লজ্জা করে না তোমার। হ্যা, জানি তিথি বাচ্চা। বিছানায় হয়তো তোমার থেকে বেশী সুখ দিতে পারবে না আমাকে। কারন ওও এসব বিষয়ে এডাল্ট না। কিন্তু, তিথি বউ হয় আমার। আমি ওর পবিত্র মনকে ভালোবাসি। শরীরকে না। আর ও আমাকে মন থেকে যতটা ভালোবাসবে তুমি আমাকে ততটা ভালোবাসতে পারবে না। ইউ আর ভেরি বেড গার্ল রিয়েলি.. আই হেট ইউ। আই জাষ্ট হেট ইউ…
,
তিথিকে খুঁজতে খুঁজতে রুমে গেলাম। দেখলাম তিথি ফ্লোরে বসে কাঁদছে। আমাকে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়ল ঝাপিয়ে পড়ল আমার উপর,
– আমাকে ছেড়ে যাবেন না প্লিজ। আমি ভালোবাসি আপনাকে। আমাকে একবার ছোঁয়ে দেখুন আমি আপনাকে সুখের পর্যাপ্ত সীমায় নিয়ে পৌছাবো।
গা থেকে ওড়নাটা ফেলে দিয়ে বলল। আমি ওড়নাটা তুলে তিথির গায়ের উপর দিলাম। দুগাল চেপে ধরলাম,
– তিথি, তোমার মুখ থেকে এই ভালোবাসি শব্দটা শুনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম আমি। আজ আমি সেটা শুনে নিয়েছে। এখন আমার নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ মনে হচ্ছে বুঝলে।
– আমাকে একবার ছোঁয়ে দেখুন প্লিজ। আমি আপনাকে ঐ নিশির থেকে বেশী সুখ দিবো। মানছি আমি পিচ্ছি। কিন্তু,আমি যতটুকু পারি আপনাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করব।
হাউমাউ কাঁদতে কাঁদতে বলল।
– তিথি, ডোন্ট ক্রাই। আমি তোমার ভালোবাসাকে ভালোবাসি। তোমার মনকে ভালোবাসি। ভালোবাসি তোমার পিচ্ছি পিচ্ছি কাজকর্ম গুলোকে। তোমার শরীরকে নয়। আমি চাই না তোমার শরীর। আমার পিচ্ছি বউয়ের ভালোবাসা চাই।
তিথিকে জরিয়ে ধরে বললাম।
– আমাকে ছেড়ে যাবেন না প্লিজ। তাহলে মরে যাবো আমি।
তিথিকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম,
– ঐ কথা আর মুখেও আনবি না। মেরে ফেলবো একদম।
– তাহলে, বলুন আমাকে ছেড়ে যাবেন না?
– এই যে, নাক ধরে প্রমিস করলাম।
তিথি খানিকটা হেসে দিলো।
– তাহলে, ঐ ঢঙ্গীটার প্রপোজ এক্সেপ্ট করেননিতো?
– অবশ্যই না। আমিতী তোমাকে জেলাস করানোর জন্য এসব করছিলাম। আমি কি জানতাম নাকি নিশি এমনটা করে বসবে?
– সত্যি ভালোবাসেন তো আমায়।
– ডাউট আছে।
– নাহ।
আমার বুকে মাথা রেখে বলল তিথি।
– আচ্ছা, তোমার রিজাল্টের খবর কি? কয় সাবজেক্টে ফেল করেছো?
মুচকি হেসে বললাম।
তিথি আমাকে মারতে লাগলা,
– কুত্তা, আমি ১ম হয়েছি।
– রিয়েলি, আই নো। মাই বউ অলয়েজ ফাষ্ট গার্ল।
– এহ! মিথ্যুক।
– রেডি থাকো।
– কেনো?
অবাক হয়ে বলল তিথি।
– কেনো আবার? আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাচ্ছো না। আরেকটু বড় হয়ে গেলেইতো, আমাদের একটা ফেমিলি প্লানিং করতে হবে না।
দুষ্টুমি হেসে বললাম।
– মানে! ( তিথি)
– বাবু চাই না তোমার…
তিথি লজ্জা পেলো
– যাহ খবিশ।
আহা! আমার লজ্জাবতী বউ। পিচ্ছি বউটা আরেকটু বড় হোক তারপর না হয় সব রোমান্স সম্পূর্ণ করব।
গল্পটা এখানেই সমাপ্ত। শারীরিক মিলনের দ্বারা গল্পের সমাপ্ত হয় না। মাঝে মাঝে দুটি মনের মিলনের মাধ্যমে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। বাকিটা না হয় #সিজন_3 তে হবে।
,
,
( হ্যা, #সিজন_3 বের করব। যদি আপনারা বলেন। সিজন 3 তে পিচ্ছি তিথি বড় হয়ে যাবে। আর পিচ্ছি তিথি বড় হয়ে গেলে কাব্য কি করবে সেটার ধারনা নিশ্চয়ই আছে আপনাদের। কারন, কাব্য সেটারই অপেক্ষা করছে। বেচে থাকুক তাদের ভালোবাসা সিজন 3 আসা পর্যন্ত)
,
চলবে সিজন 3 তে, আর এই সিজন 2
সমাপ্ত

Related Posts

One thought on “পিচ্চি বউ ( সিজন-2 ) part-11 end

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *