পিচ্ছি বউ পার্ট-৩ | পিচ্চি বউয়ের ভালবাসার গল্প

পিচ্ছি বউ
#পর্ব:: ৩

সাথীর মুখে সুসাইডের কথা শুনে, থমকে গেলাম! মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার বুক থেকে কলিজাটা বের করে নিচ্ছে। কি বলব কিছু ভাবতে পারছি না। সাথীকে বললাম কীভাবে মালার সাথে বিয়ে হয়েছে আমার! সাথীকে বললাম ওই মেয়েকে কাবিনের ছয়লক্ষ টাকা দিয়ে আগামী ছয়মাসের মাঝেই ডির্ভোস দিয়ে দিব বলে সাথীকে একটা পাপ্পি দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম।

.

পিছন দিকে তাকাতেই দেখি, পিচ্চিটা আমার পিছনে দাঁড়ানো! চোখ থেকে অশ্রু গাল গড়িয়ে পড়ছে। আমি ফিরে তাকাতেই দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা লক করে দিল! যাবার আগে বলে গেল সে এ জীবন রাখবে না!

‘ আমি যাওয়ার আগেই দরজা লক করে দিল পিচ্চিটা,,

.

খুব ভয় হচ্ছে, দরজার কাজে গিয়ে বললাম” প্লিজ আমার পিচ্চি বউ দরজা খুলো, আর ওমন কথা বলবো না খুব কষ্ট হচ্ছে “!

.
মনে মনে ভাবলাম,মা-বাবাকে ডাক দিব। পিচ্চিটা যদি কিছু করে ফেলে। যখনি মা’কে ডাক দিব, তখনি পিচ্চিটা দরজা খুলে বলল” কী বললা? আমি তোমার পিচ্চি বউ।তুমি কি করে ভাবলে আমি সুসাইড করমো, আর ওই শাকচুন্নিটা তোমার সাথে ঘর করবে। আমি তোমায় ছাড়ছি না। তবে আমি সব শ্বশুর কে বলে দিবো।

.

বলবো, তুমি এক শাকচুন্নিকে বলছো, যে তুমি তাকে বিয়ে করবে। আমাকে ডির্ভোস দিবে।

.

আরে না মজা করছি, আমার বউটা কত্তো কিউট!

.

অ্যা অ্যা, মিথ্যা গুছিয়ে বলতে হয়। আমাকে ঢপ দিচ্ছো। আমি বাবাকে ঠিকই বলে দিব।

.

প্লিজ মালা বল না!

.

হুম বলবো না তবে একটে শর্ত আছে।

.
কিসের শর্ত?

.
আমাকে পাঁচমিনিট কিস করতে হবে।
.
হোয়াট কিস?

.

নাহ্ লিপ কিস!

.

সম্ভব না, প্লিজ পাগলামী করো না।

.

কি করবো? আমি না তোমার বউ বাসর রাতে কিছু করছো? না বিড়াল মারছো? না কি অন্য কিছু। একটা বিড়াল ধরে মারলে কি এমন ক্ষতি হতো। ভাবী তো বলে দিল ঠিকমতো বিড়াল মারতে।এখন আবার লিপ কিস ও করতে চাচ্ছো না। আমি ছোট বলে ঠকাচ্ছো! আমি বাবাকে সব বলে দিব। বলবো যে তুমি,।আচ্ছা বলছি, বাবা ও বাবা
কথাটা বলার আগেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে বাঁচাতে পিচ্চিটার ঠোঁটের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে দিলাম।চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে আছে। পিচ্চিটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আমায়। আমি ছাড়াতে চেয়েও ছাড়াতে পাচ্ছিনা।

.

হঠাৎ দরজার বাহিরে থেকে জান্নাত ডাকছে। জান্নাত দরজা ধাক্কা মেরে খুলার সাথে সাথেই , মালাকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিলাম।

.

জান্নাত বলল যে, বাবা আমাকে আজ অফিসে যেতে বলছে।

.

জান্নাত কে বললাম বাবাকে বল আমি অফিসে যাচ্ছি।

.

বাসা থেকে বের হয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম। পিচ্চিটার হাত থেকে বাচঁলাম।

.
গাড়িতে থাকা অবস্থায়, একটা ম্যাসেজ আসলো।’ ম্যাসেজে লেখা” ইমুতে আসো’। ইমুতে গিয়ে দেখি, সাথী হাঁত কেটে পিক দিয়েছে। সাথে সাথেই ফোন দিলাম। কতক্ষণ রিং হওয়ার পর ফোন ধরলো সাথী!

.

এই পাগলী এমনটা কেউ করে? আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমি যে তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।

.

কি করবো? তোমার বউ হয়ে তোমার বাড়িতে আমার যাওয়ার কথা ছিল। নিজের ভালবাসার মানুষ অন্যের বুকে।। যাকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসলাম আজ সে আমার না। কেন যে আল্লাহর আমাকে এসব দেখার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি সত্যি বাঁচতে চায় না বাদশাহ্ । যে জীবনে তোমাকে পাব না সে জীবন রেখে লাভ কী বলো?

প্লিজ থামবে তুমি! আমার যে আর সহ্য হচ্ছে না।

তুমি আজ বিকেলে প্লিজ আমার সাথে পার্কে দেখা করো। ( আমি)

.
আচ্ছা ৪ টায় দেখা করবো ( সাথী)

.

এদিকে অফিস শেষ করে ৪ টায় পার্কের দিকে রওয়ানা দিলাম। পার্কে গিয়ে দেখি, সাথী নীল শাড়ি পড়ে বসে আছে।

.

সাথীর পাশে গিয়ে বসলাম।বাতাসে সাথীর চুল থেকে মাতাল হাওয়া আসছে। আমার বসা দেখে সাথী আমার দিকে চেয়েই কেঁদে দিলো।

.

সাথীর চোখ থেকে টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। মনে হচ্ছে আমার হৃদপিন্ডে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সাথীর কাজল কালো চোখজোড়া চোখের পানিতে লিপ্টে যাচ্ছে। চোখ গুলি ফুলে গিয়েছে। হাতের দিকে তাকাতেই কলিজাটা কেঁপে ওঠলো। সাথী হাতে ব্যান্ডেজ বুঝতে বাকি রইল না যে এটা সাথীর পাগলামী। চোখ দিয়ে অনবরত পানি আসছে। কিভাবে ভূলব তিন বছরের ভালবাসা।

.

এই তুমি কাঁদছো কেনো? তুমি না আমার প্রাণ। আর কত কষ্ট দিবে। জানো যখন শুনেছি তোমার বিয়ে হয়ে গেছে মনে হয়েছে প্রাণটা কেউ বের করে নিচ্ছে। কত স্বপ্ন দেখেছিলাম তোমাকে নিয়ে। সব আজ শেষ। আমায় একটু বুকে নিবে! কাঁদতে কাঁদতে কথাটা বলল ( সাথী)

.

সাথীর বলতে দেরি হয়েছে পাগলামীটাকে শব্ত করে জড়িয়ে নিতে দেরী হয়নি। বুকটা কেমর যেন ভিজা ভিজা লাগছে পাগলীটার চোখের পানিতে গায়ের শার্টটা ভিজে যাচ্ছে। পাগলীটা এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে আছে? মনে হচ্ছে ছোট্ট বাচ্চা ভয় পেলে যেভাবে আকড়ে ধরে থাকে সেভাবে জড়িয়ে আছে আমায়। এভাবে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকার পর বললাম” কি হলো আর কতক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকবে আমায়?” সবাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।

.

কি করবো? তোমার বুকটাকেই যে আমার ঠাঁয়। জানো বাদশাহ্ , প্রতিরাতে স্বপ্নে দেখতাম তোমায় নিয়ে। কতটা ভালবাসতাম তোমায়। কিন্তু আজ তুমি অনেক কাছে থেকেও অনেক দূরে! বাদশাহ্ আমার কপালে একটা চুমু দিবে। খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করছে তোমায় দাও না? ( সাথী)

.

আবারো বুকে টেনে নিয়ে কপালে আলতো করে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম।

.

” আচ্ছা বাদশাহ্ তুমি না বলোছো, ওই মেয়েকে ডির্ভোস দিবে ”

” হ্যা ”

‘ তাহলে আমার মাথা ছুঁয়ে কসম করো ওকে ডির্ভোস দিবে। যদি ডির্ভোস না দাও তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে”

.

সাথীর কথাটা যেন কলিজাতে গিয়ে বিধঁলো। নিজের অজান্তেই সাথীর মাথায় হাত রেখে ওয়াদা করলাম মালাকে ডির্ভোস দিবো। কথাটা বলার সময় পিচ্চির মুখটা বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছিল!

.

এদিকে সাথীকে ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে। ফোনটা বের করে দেখি,৭৩ টা মিসকল। ফোন সাইলেন্ট ছিল তাই বুঝতে পারিনি।

.

এদিকে সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখি, মালা কোথাও নেই। মা বলল ফ্রেশ হয়ে আসতে।

.

ফ্রেশ হওয়ার জন্য যখনি, বার্থরুমের দরজা ধাক্কা দিয়েছি তখনি এক চিক্কার!

ওমাগো ভূত!!!!! মালার চিক্কার মালার দিকে তাকাতেই দেখি, পিচ্চিটা গোসল করতেছে শরীরে কাপড় নেই এক দৌঁড়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে সোজা রুমে গিয়ে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর দেখি পিচ্চিটা ভেজা চুলে, আয়নার সামনে গিয়ে বসলো। শাড়িটা কোনরকম শরীরে পেঁচিয়েছে। আমার শরীরটা রাগে ফাটতেছে! বার্থরুমের ঘটনার কথা মনে করে তাই গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ” ওই পিচ্চি মেয়ে, বাথরুমে গোসল করলে দরজা লর্ক করে নিতে হয় না?”

.

হুম নিতে হয় তো, আমি তো জান্নাতকে বলেই দিয়েছি, আমি দরজা বন্ধ করে গোসল করতে পারি না ভয় হয়। আর ওকে পাহাড়া দিতে বলেছি,যেন কেউ না আসে। মনে মনে বলছি, এই জনই তো ডেবিল বোনটা ওয়াশরুমে যেতে দেখে মুচকু মুচকি হাসলো। এদিকে পিচ্চিটার দিকে চেয়ে দেখি,পিচ্চিটা চোখে কাজল দিতে গিয়ে চোখের নিচে লেপ্টে ফেলেছে। যতটা না রাগ হচ্ছে তাঁর চেয়ে বেশি হাসি পাচ্ছে।

.

এই গোমরামমুখো হাসো কেন? আমি কি করবো কখনো কোনদিন সাজিনি। কিন্তু তুমি আমাকে আদর করো না, ভালবাসনা, তাই আমার লক্ষী ননদিনীটা আমাকে এভাবে সাজতে বলেছে। কিন্তু আমি তো কাজল দিতে পারি না। দিয়ে দাও না। সেদিনের মতো শাড়ি পড়িয়ে দাও না।

.

পিচ্চিটার কথা শুনে খুব রাগ হচ্ছে। বাবা যে কি দেখে পিচ্চিটাকে আমার ঘাড়ে চাপিয়েছে।এই পিচ্চি আরেকবার শাড়ি, এবং কাজল দিয়ে দেওয়ার কথা বললে ঘর থেকে বের করে দিবো।

.
পিচ্চিটা, কথাটা শুনে কান্না করে দিলো। হেঁচকি দিতে দিতে বলল” আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না, তুমি তাঁড়িয়ে দিলে আমি কোথায় যাবো? আমার যে কেউ নেই তুমি ছাড়া”?

.

আমি রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। মা খাবার বেড়ে দিলে যখনি খাবার মুখে দিবো তখনি বলল ” বাদশাহ্ বাবা, মালা মা টা খায়নি, মালা বলছিল, তুই আসলে খাবে! ” জানিস বাবা ছোট মেয়ে তো সারাদিন এত করে বলার পরও কিছু খায় নি” মেয়েটার মুখের দিকে তাকানো যায় না। ওকে নিয়ে একসাথে খা”

মা’র কথা শুনে, অজান্তেই মনটা খারাপ হয়ো গেল।পিচ্চি মেয়ের পাগলামী দেখে। আচ্ছা মা তুমি বসো আমি মালাকে নিয়ে আসছি।

এই বলে রুমে গিয়ে দেখি পিচ্চিটা ডেসিং টেবিলের সামনে বসে এখনো কাঁদছে।

.

এই মালা তুমি খাওনি কেন?

.

স্বামীকে ছাড়া স্ত্রী খায়?

.
আচ্ছা চলো একসাথে খাব। আর হ্যাঁ আজকের পর খাওয়ার সময় হলে খেয়ে নিবে, আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

.

নাহ্ আমি খাবো না। তুমি একটা পঁচা, আমাকে আদর করো না। খেতে পারি, তাঁর আগে আমার চোখে কাজল দিয়ে দিবে। কালকের মতো শাড়ি পড়িয়ে দিবে। জানো তোমার স্পর্শ আমার অঙ্গজুড়ে থাকে। তুমি বুঝোনা তোমার স্পর্শে আমি কতটা শিহরিত।

.
নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিচ্চিটার চোখে কাজল, এবং শাড়ি পড়িয়ে দিলাম। রাতে একসাথে খেয়ে, একটা বালিশ আর চাদর নিয়ে ফ্লরে ষুয়ে পড়লাম পিচ্চিটাকে খাটে শুতে দিয়ে।

.

এদিকে পিচ্চিটা খাটে শুয়ে থাকবার জন্য বললেও ধমক দিতেই আর কিছু বলেনি। এদিকে রাতে ঘুমিয়ে গেছি হঠাৎ বুকটা ভারী ভারী লাগছে চোখ খুলতেই ভূত দেখার মতো ভয় পেলাম। কারণ মালা আমার বুকে শুয়ে আছে, চাঁদের আলো জানালার কাচ ভেদ করে পিচ্চিটার মুখে পড়ছে। এতো মায়াবতী লাগে কোন মেয়েটাকে চাঁদের আলোয়। না দেখলে অজানায় থেকে যেতো। হঠাৎ সাথীর কথা মনে হতেই পিচ্চিটাকে বুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ধাক্কা দিতেই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

.

এই কি করছো, ওঠো বলছি।

মালা ঘুমের মাঝেও চুখ খুলতে খুলতে বললো আমার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে আছি। এতে খারাপের কি আমার অধিকার আমি আদায় করে নিবো।

.

বুক থেকে ছাড়িয়ে কষে একটা খাপ্পর দিয়ে বলতে লাগলাম” তোকে বলেছি না, আমাকে স্বামী না ভাবতে, কেন জড়িয়ে ধরে থাকিস, আমি বলছি না তোকে ডির্ভোস দিব। কথাটা বলতেই খাটে চলে গেল মালা। আমি আবার গভীর ঘুমে হারিয়ে গেলাম।

.

এদিকে ঘড়ির কাটা ১ টা বাজতেই মালা ঘুম থেকে ওঠে, সুন্দর ভাবে ওযূ করে দু’ রাকাত নামায শেষ করে, মোনাজাত ধরে বলতে লাগল

. হে পরওয়ার দেগার, আমার আল্লাহ্। তুমি তো সর্বশক্তিমান, তোমার হুকুম ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না, তুমি ছাড়া তো আমার কষ্ট বোঝার মতো কেউ নেই। এই মধ্যরাতে পৃথিবীর সবাই যখন গভির ঘুমে, তখন তোমার অভাগী বান্দীটা তোমার দরবারে দুটি হাত তুলে ধরেছে তুমি কি দেখ না আল্লাহ। আমি আমার স্বামীকে কতটা ভালোবাসি। আমার বুক থেকে আমার স্বামীকে তুমি কেঁড়ে নিয়ো না। তোমার পবিএ কালাম পড়ে বিবাহ নামক পবিএ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, এ বাঁধন ছিন্ন করো না। বাঁচবো না আল্লাহ্। ও আল্লাহ আমার স্বামীর পায়ের নিঁচের জায়গা টুকু আমাকে ভিক্ষা দাও। কথাটা বলে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতো লাগল।

পরের দিন সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। বাবা আজকে অফিসে যেতে না বলে মালাকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিতে বলল! আমি বাবার কথায় না করতে পারি না, তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও মালাকে নিয়ে বাইকে করে রওয়ানা দিলাম! কলেজের গেটে বাইক দাঁড় করানোর সাথে সাথেই যা দেখলাম তা দেখার একে বারে প্রস্তুত ছিলাম নাহ্ “”” এখন আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছি না কিছু “””””

চলবে………
n

গল্পটা আপনাদের কাছে কেমন লাগে কমেন্ট করে জানাবেন আপনাদের উৎসাহ পেলে আরও রোমান্টিক করে লিখবো

 

পিচ্ছি বউ পার্ট-৪

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *