পিচ্ছি বউ পার্ট-৮ | পিচ্চি বউয়ের ভালবাসার গল্প

 

পিচ্ছি বউ পার্ট-১

পিচ্ছি বউ পার্ট-২

পিচ্ছি বউ পার্ট-৩

পিচ্ছি বউ পার্ট-৪

পিচ্ছি বউ পার্ট-৫

পিচ্ছি বউ পার্ট-৬

পিচ্ছি বউ পার্ট-৭

পিচ্ছি বউ পার্ট-৮

পিচ্ছি বউ পার্ট-৯  অন্তিম পর্ব

♥♥♥#পিচ্চি_বউ।♥♥♥
♥♥♥পর্ব-৮♥♥♥

অনুভব করতে পারছি, কেউ বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আমায় আর বলছে, ক্ষমা করে দাও আমায় আমি তোমার কথা, তোমার কিছুই হবে না! আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারো না। কেউ কি শুনছেন, প্লিজ আমার স্বামীকে বাঁচাও। আল্লাহ্ আমার স্বামীকে হেফাযত করো।
কে আছো তোমরা আমার স্বামীকে হসপিটালে নিয়ে যাও!
চোখ দুটি বন্ধ হয়ে আসছে, শত চেষ্টা করেও চোখদুটি খুলতে পারছি না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, কানে ভেসে আসছে কথার আহাজারি! বার বার কপালে চুমু খাচ্ছে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে! তারপর আর কিছু মনে নেই। অন্যদিকে একদল লোক এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

.

এদিকে কথাকে আজ পাগল পাগল লাগছে। ফোনটা বের করে রাজের বাবার কাছে ফোন দিয়ে কাঁদতে লাগল!

.

কিরে, মা কাঁদছিস কেন? কথা বলছিস না কেন?( বাবা)

. বাবা, রাজ একসিডেন্ট করেছে। বাবা ওকে ছাড়া বাঁচবো না। ওকে বাঁচান বাবা। আমার মেয়েটার কি হবে মা?
আপনি প্লিজ সদর হসপিটালে আসেন।

.

কথার মুখে, রাজের বাবা রাজের দুর্ঘটনার কথা শুনে তাঁর পায়ের নিঁচের মাটি সরে গেল! কই গো রাজের মা চলো, হসপিটালে যেতে হবে আমাদের রাজ একসিডেন্ট, কথাটা বলতে গিয়ে গলাটা ধরে গেল!

.
কি হয়েছে , আমার বাবার, তোমাকে বলেছিলাম আমার ছেলেটাকে আর কষ্ট দিয়ো না। কিন্তু তোমরা সবাই মিলে, আমার ছেলেটাকে প্রতিরাতে কাঁদিয়েছো।

.

এদিকে হসপিটালে এসে দেখে, রাজকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেছে।

.

কথা কাঁদছে, রফিক সাহেব ও আসছে! কথাকে বুঝাচ্ছে। কথা রাজের মা’কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো” মা ও কোন কথা বলছে না। ওকে ছাড়া সত্তি আমি মরে যাবো। ওই যে আমার নিঃশ্বাস। আমি বাঁচবো না মা রাজকে ছাড়া। ওকে চিরদিনের জন্য পাওয়ার জন্য কত কিছুই না করেছি, এখনো প্রতিরাতে তাঁর দেওয়া শেষ অবলম্বন রাইসাকে বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।

.

হঠাৎ, অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার বেরিয়ে আসতেই কথা দৌড়ে গেল। প্লিজ ডাক্তার বলেন, আমার স্বামী কেমন আছেন? ওর কিছু হবে না তো? প্লিজ ডক্টর চুপ করে থাকবেন না!

.

ডাক্তার চোখ থেকে পানি ছেড়ে দিয়ে বললো” আমাদের সর্বাত্মাক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আমাদের করার কিছু নেই, আল্লাহ্কে ডাকেন। তিনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে বাঁচতে পারেন। রোগী ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছে ( ডাক্তার)

.

ডাক্তারের কথা শুনে কথার পায়ের তলার মাটি সরে গেল! চোখ থেকে টুপ- টাপ করে পানি ঝরছে। ডাক্তার আমি কি রাজের সাথে দেখা করতে পারি?

.

হুম জান তবে কোন কথা বলবেন না ( ডাক্তার)

.

এদিকে, কথা ডাক্তারের কথা মতো রাজের কেবিনে ঢুকতেই বুকটা হুহু করে কেঁদে দিল।

.

সারামুখ বেন্ডেজ করা। মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগানো। খুব কষ্ট লাগছে। কথার কাছে , রাজের মায়াবী মুখটা বারবার ভেসে ওঠছে। কথা কিছু না ভাবতে পেয়ে, রাজের মা দুটি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।কাঁদতে কাঁদতে বলল” রাজ প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও,আমায় ছেড়ে কোথাও যেয়ো না। তোমার পায়ের নিচে থাকতে দিয়ো। তোমার পায়ের নিচের যে আমার সবসুখ। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, প্লিজ আমায় ছেড়ে দিয়ো না। তুমি না বলেছো, তোমার যদি কখনো মেয়ে হয় নাম রাইসা রাখবে! তুমি জানো না, রাইসা তোমার আর আমার মেয়ে! জানো তোমার মেয়ে জানে, তুমি ওর বাবা! তোমাকে কতবার বাবা ডেকে বুকে জড়িয়ে নিতে চেয়েছিল! কিন্তু আমি তোমাকে বাবা বলে ডাকতে দেয়নি! তুমি তোমার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিবে না। ওই আমার জীবন আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন! তোমাকে ছাড়া যে আমি আমাকে কল্পনা করতে পারি না! ( কথাগুলো বলতে বলতে, পা দুটো বুকের সাথে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো, সমানে পায়ে চুমু খাচ্ছে কথা)

.

এদিকে পিছন থেকে এসব নার্স দেখে, নিজের অজান্তেই কেঁদে দিয়েছে। বোন, প্লিজ এভাবে কান্না করো না! আল্লাহকে ডাকো। রোগীর ক্ষতি হবে!( নার্স)

.

নার্সের কথা শুনে রাজের। পা ছেড়ে দিলাম! কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে।

.

বাসা থেকে ফোন দিল, রাইসা নাকি কাঁদছে। তাঁর বাবার জন্য, কেউ তাঁর কান্না থামাতে পারছে না। রাইসা শুনেছে রাজ নাকি একসিডেন্ট করেছে!

.

বাবাকে বলে, বাসায় যাওয়ার জন্য বের হতেই এক লোক বললো” ম্যাডাম হসপিটালে আসার সময়, আপনার হাতে ডাইয়িটা ছিল!

.

কথা ডাইরিটা হাতে নিয়ে বাসায় আসতেই,

.

তুমি আমার বাসায় আসবে না। তুমি বাবাইকে কষ্ট দিয়েছো! আমি সব শুনেছি, আঙ্কেলকে যখন ফোনে বলেছো,যে বাবাই একসিডেন্ট করেছে তাও তোমার জন্য। তুমি আমাকে বাবা ডাকতে দাওনি। আমার বাবা অনেক ভালো, সেদিন আমার জন্য কান ধরেছিল। আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছিল! আমার গালে-মুখে পাপ্পি দিয়েছিল। আমি বাবাই ডাকতে চেয়েও বাবা ডাকতে পারিনি! তুমি ডাকতে নিষেধ করেছিল বলে। ছোটবেলা থেকেই বাবাই এর ছবি দেখিয়ে বলেছো ওটা তোর বাবা। যেদিন বাবাইকে প্রথম দেখলাম, সেদিন দৌড়ে বাবার কুলে গিয়ে বলতে পারিনি, বাবাই তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। কিন্তু পারিনি, স্কুলে যখন সব ছেলে – মেয়েরা বাবার কুলে চড়ে, তাঁদের বাবা জড়িয়ে ধরে আদর করে, তখন আমি তাঁদের দিকে চেয়ে থাকি। আমার খুব কষ্ট হতো তখন। ( কান্না করে করে কথাগুলো বলল)

.

রাইসা মামনি বাবাই ভালো হয়ে যাবে। মা আমার তুমি কেদোনা!

.

তুমি আমায় মা ডাকবে না! তুমি আমার কেউ না , তুমি বাবাই কে কষ্ট দিয়েছো। আমার বাবাইকে বাবাই বলে ডাকতে দাওনি! ( কাঁদতে কাঁদতে রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল)

.

আমি কি করবো, রাইসার কথাগুলো শুনে কলিজা ফেঁটে যাচ্ছে। সত্তিতো তাঁর বাবা থেকে রাইসাকে আমি দূরে রেখেছি। বার বার রাজের কথা মনে পড়ছে। রফিক ভাইয়া, কিছু বলছে না। শুধু বললো, মানুষটাকে বড্ডবেশি কষ্ট দেওয়া হয়ে গেছেরে কথা!

.

আমি দরজাটা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে, বালিশে মুখটা লাগিয়ে কাঁদতে লাগলাম। হঠাৎ মনে পড়ল, রাজ একটা ডাইরি দিয়ে গেছে। টেবিলের উপর থেকে ডাইরিটা তুলে বুকে জড়িয়ে নিলাম।

ডাইরিটা খুলতেই চমকে গেলাম,

.

“আমার এই হৃদয়ে লিখিলাম তোমারি নাম”

ডাইরির পরের পাতা উল্টাতেই,

.
ওগো হৃদয়রাঙিনী,

জানিনা কিভাবে শুরু করবো, আমি যে অনেক বড় অপরাধী! তোমার অবুঝ ভালবাসাকে অবহেলা করেছি। জানো যেদিন তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি, সেদিন বুঝেছি তুমি কতটা জুড়ে আমার জীবনে ছিল।

জানো, প্রতিদিন তোমার জন্য কেঁদেছি। মাঝরাতে উঠে আল্লাহর কাছে চাইতাম যেন, তোমাকে আমার করে দাও।
প্রতিরাতে তোমার ছবিটা বুকে নিয়ে ঘুমাতাম।
তোমার ছবি বুকে নিয়ে কাঁদতাম। জানো, মানুষ মারা গেলে নাকি তারা হয়ে যায়। তাই প্রতি সন্ধায় আকাশের তারাদের সাথে কথা বলতাম। বলতাম, যেন আমার হৃদয়রাঙিনীকে তারা যেন কষ্ট না দেয়। রাতের আকাশের সব চেয়ে উজ্জল তারাকে তুমি মনে করে, কাঁদতাম আর বলতাম, অভিমান ভেঙে এসো না, জড়িয়ে নাও না তোমাতে আমি যে আর পারছি না তোমার বিরহে। এসব বলে কাঁদতাম। কিন্তু তুমি এতটাই আমার প্রতি অভিমান করেছিলে, যার জন্য আমার সাথে কথা বলো না, শুধু করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে। সত্যি কি তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না? জানো খুব ইচ্ছা করে তোমাকে এই মরুরবুকে জড়িয়ে নিয়ে, শান্ত করতে আমারি প্রাণ।

.

জানো আজ একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখে তোমার কথা বড্ড বেশি মনে পড়ছে। বাচ্চাটা দেখতে ঠিক তোমার মতই। আমি এতটাই হতভাগী নিজের বাচ্চাকে নিজের হাতে নষ্ট করেছি। জানো এখনো সেই রাতের কথাগুলো ভুলতে পারি না। তোমাকে দেওয়া প্রতিটা চড়ের আঘাত আমার কলিজাতে লেগেছে!

.

জানো পরের দিন যখন বাচ্চাটাকে ব্ল্যাড দিলাম, সেদিন মনে হয়েছে, আমার খুব কাছের কাউকে রক্ত দিচ্ছি।

.

বাচ্চাটার জন্মদিনে বাচ্চাটাকে বুকে জড়িয়ে নিতেই, তোমার শরীরের গন্ধ পেলাম। কিন্তু যখনি সিড়িতে তোমার মতোই কাউকে দেখলাম, তখন সত্যি ভেবে নিয়েছিলাম, আল্লাহ্ আমার ডাক শুনেছে। আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন শুনেছিলাম, তুমি কথা নও, আমাকে চিনো না, তখন আমার কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছিলো। যখন রফিক সাহেব এসে হাত ধরল, আমার কাছে তখন মনে হয়েছিল, কেউ যেন কলিজাটা ধুমড়ে মুচড়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে!

.

জানো তুমি নেও যেনেই নিজের অজান্তে পাগলামী করেছি। আর বাসায় এসে কেঁদে বুক ভাসিয়েছি! পরের দিন ঠিক করলাম, তোমার জন্য লেখা ডাইরিটা তানিয়া আপুকে দিয়ে তোমার কাছেই চলে আসবো,।

.

আমি যে আর পারছিনা, মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই! তোমাকে ছাড়া যে এখন আমার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, কষ্টটা আরো বেশি হয় যখন তোমারি মতো তানিয়া নামক মেয়েটা তাঁর স্বামীর হাত ধরে আমারি সামনে দিয়ে হেঁটে যায়। জানো তখন বড্ড বেশি তোমার কথা মনে পড়ে। কি করবো, আমি তোমাকে ছাড়া আর যে বাঁচতে পারছি না। তোমাকে নিয়ে লেখা শেষ অবলম্বনটা তোমাকে মনে করে তানিয়া আপুকেই দিয়ে গেলাম। জানো খুব কষ্ট হচ্ছে লেখাগুলো লিখতে।

.

ডাইরিটা পড়তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরলো। আজকে কথার একটা মিথ্যার জন্যই রাজ মৃত্যুর কিনারায়। খুব কষ্ট হচ্ছে কথার, রাজের মুখটা বার বার কথার সামনে ভেসে ওঠছে। কথার কানে বার বার বাজছে, রাজের শেষ কথাগুলো।

.

হঠাৎ, বাহিরে কিছু ভাঙার শব্দ পেল!

.
কথা রুমের বাহিরে এসে দেখে,

রাইসা কাঁদছে, খাবারের প্লেট ফেলে দিয়েছে।

.

মা রাগ করে না, খেয়ে নাও!

.

আমাকে মা বলবে না, আমাকে বাবাই এর কাছে নিয়ে যাও! আর তুমি আমার বাবাইকে কষ্ট দিয়েছো, আমার সাথে কথা বলবে না।

.

প্লিজ রাইসা মা আমার, তোমার বাবার কিছুই হবে না, প্লিজ কান্না করো না! খেয়ে নাও। ( কান্না চেপে

.

আমাকে বাবাই এর কাছে নিয়ে যাও!
বাবাইকে না দেখে খাবো না।

.

হঠাৎ, সবুজ কে আসতে দেখেই কথা ভাইয়া বলে কেদে দিয়ে বলল” ভাইয়া রাজ বাঁচবেনা, রাজকে ছাড়া আমিও যে বাঁচবো না।

.
সবুজ কথাকে বুকে নিয়ে বলল, কান্না করিস না বোন, আল্লাহ তায়ালায় সব ঠিক করে দিবেন।

.
তোর কান্না যে দেখতে পারি না। মা – বাবাকে তো ছোটবেলায় হারিয়েছি। তানিয়াটাকেও প্রথম দেখাতেই হারিয়ে ফেলেছি। তুকে খুন করার জন্য, সাথী নামের মেয়েটা কন্টাক্ট করেছিল। তোকে খুন করতে এসে তোর গলার লকেট দেখেই চিনে ফেলি তুই আমার ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন কথা । কিন্তু সেসময়, তানিয়াকে গাড়ির নিচে পিস্ট হতে দেখি। তোর চেহেরা তানিয়ার মতোই ছিল, তাই যখন দেখলাম, তানিয়া রাস্তায় পাশে পড়ে আছে, দৌঁড়ে বুকে টেনে নেই! সন্ত্রাসী ছিল, মানুষের রক্ত দেখলে হাসি পাইতো, কিন্তু যখন নিজের বোনটার রক্ত আমার শার্ট ভেজে যাচ্ছিল, তখন বুঝেছি, আপন মানুষদের রক্ত শুধু তাঁদের শরীর থেকে ঝড়ে না, অাপন মানুষটির কলিজা থেকেও ঝড়ে। তোকে আর তানিয়াকে পেয়ে, অন্ধকার রাস্তা থেকে সরে আসি।

.

তারপর রাজের বাবার প্ল্যান অনুযায়ী, তানিয়াকে কথা বানিয়ে রাজের বাড়িতে পাঠাই, আর রিচি পায় তাঁর মাকে।

.

রিচির বাবার রফিক ভাইয়ার সাথে সব প্ল্যান করি। কিন্তু এ জন্য যে রাজ আজকে মৃত্যুর মুখামুখি হবে, তা জানলে কখনো, এতটা মিথ্যার আশ্রয় নিতাম না!

.

হঠাৎ রাইসা দৌড়ে এসে, কথাকে জড়িয়ে ধরে বলল” মম চলো না বাবাই এর কাছে, আমার সাথে বাবাই কথা বলবে, তোমাদের সবার সাথে রাগ করে থাকলেও আমার সাথে বাবাই রাগ করে থাকতে পারবে না। বাবাই জানে আমার সাথে, অভিমান করলে, তাকে কান ধরে উঠবস করতে হবে!

.
কথাকে কিছু বলতে দেওয়ার আগেই রাইসা কথাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গাড়ি চালাতে বলল! কথা রাইসাকে নিয়ে হসপিটালে আসতেই, রাজের বাবার সাথে দেখা হয়।

.

মা’রে কেমন আছিস!

.

বাবা আমি সত্যি অনেক বড় অপরাধী হয়ে গেলাম। নিজের স্বামীকে কোন স্ত্রী এতটা কষ্ট দিতো না। বাবা সত্যি রাজকে ছাড়া বাঁচবো না।

অন্যদিকে রাইসা তার বাবার রুমে গিয়েই বলতে লাগল” ও বাবাই, বাবাই কেমন আছো তুমি?
কথা বলবে না আমার সাথে বাবাই? জানো বাবাই তোমাকে মম কষ্ট দিয়েছে বলে, মমের সাথে আড়ি দিয়েছি! ঠিক করেছি না বাবাই। বাবাই তুমি আমাকে বুকে নিবে না, আমাকে জড়িয়ে ধরে আম্মু ডাকবে না!

.

হঠাৎ একটা নার্স এসে বললো” মামনী এখানে কথা বলা যাবে না!

.
আপনি চুপ করেন তো, দেখছেন না? আমি আমার বাবাই এর সাথে কথা বলছি! কথা বলবেন না, বাবাই রাগ করবে ।

ও বাবাই তুমি জানো? মা তোমার জন্য কতো কান্না করে। তুমাকে আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি, মায়ের সাথে একটি ছবিতে। বাবাই স্কুলের সব মেয়েরা তাঁর বাবাই এর সাথে ঘুরে বেড়ায়। তাঁদের বাবাই, চকলেট আইসক্রিম কিনে দেয়, আমি এসব কিচ্ছু চাই না। তুমি কথা বলো বাবাই তাহলেই হবে। কথা বলছো না কেন? দেখছো না, তোমার রাইসা কাঁদছে। প্লিজ বাবা কথা বলো, আর চুপ করে থেকো না। আমাকে বুকে নাও, তোমার বুকে যেতে খুব খুব ইচ্ছে করছে। ও বাবাই এত্তো অভিমান কিসের তোমার। মা কাঁদছে বাবাই, বাবা মা তোমার জন্য রাতে কান্না করে। আমাকে বুকে নিয়ে তোমার নাম বলে ঘুমের ঘরেও কান্না করে। তুমি দেখো, দাদুভাই কাঁদছে। কথা বলবে না আমার সাথে? আমি কিচ্ছু খাইনি! তুমি খাইয়ে দিবে আমায়? তুমি খাইয়ে না দিলে আমি কিন্তু খাবো না । ও বাবা কথা বলছো না কেন? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বাবাই,আমার বুকের মাঝে ব্যাথা করছে বাবাই। কথা গুলো বলছে আর কাঁদছে।

.

এদিকে রাইসার কান্না দেখে, সবাই কাঁদছে। কথার কাছে মনে হচ্ছে, তাঁর কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর রাজ কেমন জানি করতে লাগলো। ডাক্তার এসে দেখতেই রাজ কেমন যেন নড়াচাড়া বন্ধ করে দিল।

.

রুম থেকে বের হয়ে ডাক্তার চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল, সরি!

” কথাটা শুনেই কথা হসপিটালে ফ্লরে পড়ে গেল।

চলবে”””””””””””

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *